Home Blog Page 282

বাংলাদেশিদের সুখবর দিল ভারত

০
বাংলাদেশের জন্য ব্যাবসায়িক ভিসা ইস্যু করার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনের আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত প্রক্রিয়ায় করা হচ্ছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময় অনুষ্ঠান ‘ফার্মা কানেক্ট’–এ তিনি এ কথা বলেন।
হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
তবে এখন সীমিত কর্মী দিয়েই প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভিসা ইস্যুর কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিজনেস ভিসা আবার ইস্যু করা হচ্ছে। জরুরি ভিসা আবেদনগুলো আমরা দ্রুত প্রক্রিয়ায় করার চেষ্টা করছি।’
ব্যাবসায়িক ভিসার প্রয়োজন হলে আবেদনকারীরা হাইকমিশনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সুবিধা পাবেন বলেও জানান হাইকমিশনার।
ভারতের বিশ্ববিখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যাল মেলা সিপিএইচআই-পিএমইসি ইন্ডিয়া ২০২৫-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সামনে রেখে ফার্মা কানেক্ট-এর আয়োজন করা হয়। আগামী ২৫-২৭ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রদর্শনী।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালে জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পাবে: জামায়াত

০
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রায়ের পর দুপুরে এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে দেশের জনগণের বহুল প্রতীক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং তারা ভোটাধিকার ফিরে পাবে।এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
দীর্ঘ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সবার মনে সন্তুষ্টি ও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দুপুর ২টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট জুবায়ের মামলাটির সঙ্গে জড়িত সব আইনজীবী, পক্ষভুক্ত ব্যক্তিরা এবং আদালতকে সহযোগিতা প্রদানকারী সবাইকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, ‘তাদের ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ তিনি অভিযোগ করেন– শেখ হাসিনা ২০১১ সালে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেশকে এক অন্ধকার যুগে ঠেলে দিয়েছিলেন। আজকের রায়ের মাধ্যমে জাতি সেই অন্ধকার থেকে পুনরায় মুক্তি লাভ করেছে।
জামায়াতের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালের ২০ নভেম্বর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমির জনাব আব্বাস আলী খান প্রথম কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি উত্থাপন করেন। বাস্তবে এই পদ্ধতির ধারণা উপস্থাপন করেন জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। পরবর্তীতে এই দাবিই পরিণত হয় গণদাবিতে। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর সব দলের সম্মতিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান করা হয়। তার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ-যা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়। এরপর দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯৬ সালে সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয় এবং কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। কেয়ারটেকার ব্যবস্থা বাতিল করার পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি ঘোষণা করা হয়, যা ছিল সরাসরি ভোটবিহীন নির্বাচন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের মাধ্যমেই ওই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। একইভাবে ২০১৮ সালে আগের দিন রাতে ব্যালটে সিল মেরে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনও ছিল– ‘আমি, তুমি ও ডামি’ নামে পরিচিত এক ভুয়া ভোটগ্রহণের নাটক, যা বিরোধীদলগুলো বর্জন করে।
জুবায়ের বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তোলে এবং ৫ আগস্ট সেই সরকারের পতন ঘটে। জুলাই বিপ্লবের পর কেয়ারটেকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। আজকের রায়ের মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়িত হলো। রায় অনুযায়ী ১৪তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে, ফলে জনগণ ফিরে পাবে তাদের ভোটাধিকার। এতে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন স্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে এবং দেশ উন্নতি ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে-এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন– দলটির কেন্দ্রীয় অফিস সেক্রেটারি মাওলানা আফম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান এবং প্রচার সহকারী আব্দুস সাত্তার সুমন।

ঢাকার যে আসন থেকে লড়বেন সেই রিকশাচালক সুজন

০
ঢাকা-৮ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেছেন জুলাইয়ের আলোচিত রিকশাচালক মো. সুজন। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের মো. সুজন বলেন, ‘যারা এতিমের টাকা মেরে, যাত্রাপালা করে সংসদে যেতে পারেন; আমি রিকশাচালক হয়ে কেন সংসদে যেতে পারব না?’
এসময় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এই আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন। আর স্বতন্ত্র থেকে এ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী।

মামদানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে সাক্ষাত করার ঘোষণা দিয়েছেন‍ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টর সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে ঘটবে উভয়ের সাক্ষাৎ।
গতকাল বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, “আমরা এই মর্মে একমত হয়েছি যে ২১ নভেম্বর শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আমাদের সাক্ষাৎ ঘটছে।”
মামদানি অবশ্য আগেই এই সাক্ষাৎ নিয়ে আভাস দিয়েছিলেন। সোমবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিউইয়র্কের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে আমার টিমের সদস্যরা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।”
তবে গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প পোস্ট দেওয়ার পর মামদানি এবং তার টিমের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সাংবাদিকরা। কিন্তু তারা কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানিকে আটকাতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প নিজে বলেছিলেন, মামদানি নির্বাচিত হলে নিউইয়র্কের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আটকে দেবেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, মামদানির বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণাবাবদ ২৪০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টি।
তবে এসব প্রচেষ্টা জোহরান মামদানির জয় ঠেকাতে পারেনি। মেয়র নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। আগামী ১ জানুয়ারি নিউিইয়র্ক সিটির মেয়রের শপথ গ্রহণ করার কথা আছে তার।

 

নির্বাচন উৎসবমুখর করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা দরকার: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দময় করে তুলতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কোর্স-২০২৫ গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
 অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ ২৪টি দেশের সামরিক বাহিনীর তরুণ অফিসারদের মধ্যে সনদ তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস বলেন, দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি।
এর আগে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, ‘সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এই কারণে আমি তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করি।’
এবারের কোর্সে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের ৩১১ জন তরুণ সামরিক অফিসার অংশগ্রহণ করেন। কোর্স সম্পন্নকারী অফিসাররা তাদের অর্জিত জ্ঞান ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে কাজে লাগিয়ে দেশের যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কোর্সে অংশ নেওয়া এক বাংলাদেশি অফিসার বলেন, ‘ডিএসসিএসসি-তে এই কোর্সে আমরা যে নেতৃত্ব, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছি, তা আমাদের দেশের এবং এর বাইরে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে। বিশেষ করে যে কোনো জাতীয় সংকটে আমরা আমাদের অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে প্রস্তুত।’
চীনের এক অফিসার বলেন, ‘বাংলাদেশের এই সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। ২৩টি দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাওয়ায় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমরা আশা করি, এই জ্ঞান ভবিষ্যতে আমাদের নিজ নিজ দেশকে নিরাপত্তা দিতে কাজে লাগবে।’
বাংলাদেশি আরেক অফিসার বলেন, ‘আমাদের প্রধান উপদেষ্টা যে কথাগুলো বলেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা আশা করি, আমরা যারা এই কোর্স সম্পন্ন করলাম, তারা দেশ রক্ষায় এবং প্রয়োজনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে, যেমন: একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকব।’

সারাদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
তাৎক্ষণিকভাব কোনো ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহত সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস), ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫, আর কেন্দ্রস্থল ঘোড়াশালের নিকটবর্তী এলাকা।
এদিকে ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ভূমিকম্পটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।

 

‘সিদ্ধার্থ’ নিয়ে টানা ৩ দিন দর্শকের সামনে নওশাবা

০

নাটক ও সিনেমায় কাজের পাশাপাশি মঞ্চেও নিয়মিত অভিনয় করেন অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদ। এবার টানা তিন দিন দর্শকের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন তিনি মঞ্চনাটক ‘সিদ্ধার্থ’ নিয়ে। শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হয়েছে নাটকটি। শেষ হবে ২১ নভেম্বর।

বিশ্বখ্যাত লেখক হেরমান হেসের উপন্যাস ‘সিদ্ধার্থ’কে নাট্যরূপ দিয়েছেন রেজা আরিফ। একই সঙ্গে নাটকটির নির্দেশনাও তার। নাট্যদল আরশিনগরের ব্যানারে প্রযোজিত এই নাটকটি এবার নতুনভাবে মঞ্চে উঠছে।

সূচি অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর ও ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নাটকটির প্রদর্শনী হবে। আর ২১ নভেম্বর বিকেল ৪টা এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দুটি শো দেখতে পাবেন দর্শক।

উপন্যাসটি মূলত মানুষের আত্মঅন্বেষণ, বোধ, জীবনদর্শন এবং মুক্তির পথ খোঁজার গল্প। কাহিনিতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণকুমার সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগী হয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সাধনার পরও মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন ও অস্থিরতা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। অবশেষে তিনি গৌতম বুদ্ধের সান্নিধ্যে যান, তবে সেখানেও খুঁজে পান না তার কাঙ্ক্ষিত উত্তর। এরপর তিনি পৃথিবীর মোহ, ভোগবিলাস ও প্রেমের টানে এগিয়ে যান এবং নগরের শ্রেষ্ঠ বারবনিতার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। জীবন তাকে ভেঙে দেয় এবং পুনরায় নদীর কাছে ফিরে এসে উপলব্ধি করেন। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর প্রকৃতির ভেতরেই রয়েছে।

নাটকটি সম্পর্কে কাজী নওশাবা বলেন, ‘সিদ্ধার্থ অসাধারণ একটি উপন্যাস। আত্মোপলব্ধির গল্প। যতবার পড়েছি, ততবারই মনে হয়েছে, এটি নিয়ে কাজ হয় না কেন? অবশেষে তা হলো এবং সেটির অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই সিদ্ধার্থ নামটি শুনলেই গৌতম বুদ্ধকে ভাবেন। তবে এই নাটকে হেরমান হেসের সিদ্ধার্থ বুদ্ধ নন; বরং বুদ্ধের ছায়ার আড়ালে থাকা একটি ব্যক্তিগত মানসিক জগতের গল্প। নির্দেশক রেজা আরিফ সেই অনাবিষ্কৃত সিদ্ধার্থকেই সামনে আনছেন।’

মঞ্চনাটকের প্রতি নিজের টান প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘একজন শিল্পীর কাজ করার অনেক মাধ্যম থাকলেও মঞ্চের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে হয়তো অর্থ পাওয়া যায় না, কিন্তু শেখার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। মঞ্চ আমাকে আমার ভেতরের অভিনেতাকে চিনতে সাহায্য করেছে।’

‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে নওশাবা ছাড়াও অভিনয়ে থাকছেন পার্থপ্রতিম, জিনাত জাহান নিশা, ওয়াহিদ খান সংকেত, নাজমুল সরকার নিহাত, মাঈন হাসান, শাহাদাত নোমান, প্রিন্স সিদ্দিকীসহ আরও অনেকে।

শুধু মঞ্চেই নয়, চলতি বছর চলচ্চিত্রেও ব্যস্ত সময় পার করছেন নওশাবা। কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’, আর ঢাকায় মুক্তি পেয়েছে তার আরেক চলচ্চিত্র ‘সাত ভাই চম্পা’।

দুই সিনেমাতেই তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায়ও ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় নির্মিত ‘দ্বিতীয় বিয়ের পর’ নাটকে।

ভারতকে হারিয়ে ফিরে গেলেন হামজা, শামিত যাবেন শুক্রবার

০

দীর্ঘ ২২ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতকে হারানোর প্রধান নায়ক হামজা দেওয়ান চৌধুরী। অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানো এই সুপারস্টার তার ক্লাব লেস্টার সিটিতে যোগ দিতে বুধবার সকালে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন।

আরেক প্রবাসী তারকা ফুটবলার শামিত সোম ফিরে যাবেন ২১ নভেম্বর। শামিত পরিবার-পরিজনের সাথে দুইদিন সময় কাটাতে সিলেটে থাকবেন। তারপর এই মিডফিল্ডার তার কানাডার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে যোগ দেবেন।

গত মঙ্গলবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ফুটবলামোদীদের উৎসবমুখর রাত উপহার দিয়েছেন হামজারা। ২০০৩ সালের পর ভারতকে হারিয়ে উদযাপন করেছেন লাল সবুজ জার্সিধারী ফুটবলাররা।

আগামী মার্চে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। ওই ম্যাচটি খেলার জন্য আবার আসবেন হামজা চৌধুরী। ম্যাচের পর হামজা সংবাদ সম্মেলন বলছিলেন, ‘আবার দেখা হবে মার্চে।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি সিঙ্গাপুরের মাটিতে। তাই হামজা কবে নাগাদ ঢাকায় এসে অনুশীলনে যোগ দিতে পারবেন, তা নির্ভর করবে লেস্টার সিটির ম্যাচ শিডিউলের ওপর।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে হামজা দেওয়ান চৌধুরীর অভিষেক হয়েছিল এ বছর ২৫ মার্চ শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে। মঙ্গলবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলে তার সপ্তম।

অন্যদিকে শামিত সোমের ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল। এ পর্যন্ত জাতীয় দলে হামজা দেওয়ান চৌধুরী সাতটি ম্যাচ খেলে ৪ গোল করেছেন। শামিত সোম পাঁচ ম্যাচে গোল করেছেন ১টি।

আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

০

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলায় যে রায় হয়েছে, তাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই বিচার অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়, কিন্তু এটি সামনের দিনের জন্য একটি উদাহরণ এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে এই রাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে না পারে, কেউ নিজে ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠতে না পারে, একনায়কতন্ত্র যাতে কায়েম না হয়। এটা ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষা। শুধু অতীতের জন্য বিচার নয়, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।’

সোমবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজকের এই আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে কয়েকটি জিনিস প্রমাণিত- ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার যত শক্তিশালী হোক, যত দীর্ঘদিন এই রাষ্ট্রক্ষমতা অবৈধভাবে পরিচালনা করুক, ক্ষমতা ভোগ করুক, তাদের একদিন না একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গুম, খুন, অপশাসন এবং বৈষম্যের যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করে শেখ হাসিনা একদলীয় রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে বাসনা চরিতার্থ করতে চেয়েছিল তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপশাসন এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের যাতাকলে এদেশের মানুষ পিষ্ট হয়েছে আমরা ভুক্তভোগী হয়েছি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই দেশ, এদেশের উন্নতি, অগ্রগতি বহু বছর পিছিয়ে গেছে। আমরা আর পেছনের দিকে তাকাতে চাই না। দেশে সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এর মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ হবে। এটাই হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। আমরা অবশ্যই এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, একটি ভারসাম্যমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও শাসন ব্যবস্থা কায়েম করব। এদেশের মানুষ ভবিষ্যতে যাতে ন্যায়বিচার পায় সে রকম রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করব। এজন্য আমরা অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আজকে এর একটি মাইল ফলক প্রতিষ্ঠিত হলো।’

 

‘দেশের মানুষ ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গত ১৫/১৬ বছর বিএনপি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেছে। দেশের মানুষ এখন ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ভবনে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাবি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার রূপান্তর: একটি কৌশলগত রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি জাতি ও দেশ তৈরি করতে হবে যাতে কোনো ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে। স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তবে স্বৈরাচারের দোসরদের বহাল রেখে স্বাধীন বিচার বিভাগ সম্ভব নয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী, লেখক ও মিডিয়াকর্মী ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভিনদেশি রাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্য থেকে বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বৃত্তায়ন’ ঘটেছে।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ্য নেতা বলেন, ‘অতীতে রাষ্ট্রীয় অন্যায়, নাগরিক নিপীড়ন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যেসব বুদ্ধিজীবীর কথা বলা উচিত ছিল, তারাই ভারতপন্থি রাজনৈতিক বয়ানের সুবিধাভোগী হয়ে নীরব থেকেছেন।’

দেশের বর্তমান শিক্ষা ও বুদ্ধিজীবী পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রিটিশ আমলের তুলনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, ব্রিটিশরা তাদের শাসন দীর্ঘায়িত করতে যেমন শিক্ষিত সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করত, তেমনি বিগত সময়েও কিছু বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া রাষ্ট্রের হেজিমনি (আধিপত্য) বজায় রাখতে বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা সীমিত করেছিল। ফলে গণতান্ত্রিক ও সৃজনশীল চেতনার বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আধুনিক যুগের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলা। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিকস, ডেটা সায়েন্স ও বায়োটেকনোলজির মতো ক্ষেত্রে মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্র হবে।’

তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভোকেশনাল শিক্ষা এবং পরবর্তী ধাপে জ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণামূলক শিক্ষা নিশ্চিতের ওপরও জোর দেন।

জুলাই সনদ ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যমত্যের নামে অনৈক্য তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তবে আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিষয়টিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। জাতীয় সার্বভৌমত্বকে কখনো কোনো আদেশ দিয়ে তো বাধ্য করা যায় না।

দিনের ভোট রাতে করতে রাষ্ট্রের ৮ হাজার কোটি টাকা লুট করেছিলেন শেখ হাসিনা: রিজভী

০

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করতে রাষ্ট্রের ৮ হাজার কোটি টাকা লুট করেছিলেন শেখ হাসিনা। বিনা ভোটে নির্বাচন করে টিকে থাকতে চেষ্টা করেছিলেন, কিছুই হয়নি। এত গুম–খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ব্যাংক থেকে হরিলুট—কোনোভাবেই টিকতে পারলেন না।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার শহীদ খোকন পার্ক প্রাঙ্গণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত দিনব্যাপী সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি করে না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি মানবতার জন্য, মানবকল্যাণের জন্য, মানবসেবার জন্য রাজনীতি করে। বিএনপির রাজনীতির মুখ্য উদ্দেশ্য মানবসেবা। বিএনপি সেই নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। আমাদের বিএনপি পরিবারের কার্যক্রম তার প্রমাণ।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্র যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লুটপাটের জায়গা হয়, সেই রাজনৈতিক দল লুটেরা, ডাকাত, দানব, রাক্ষস। এদের দ্বারা কখনো জনগণের কল্যাণ হতে পারে না। শেখ হাসিনা নিজের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী দিয়ে চাঁদা তুলেছিলেন, ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ, গোয়েন্দা আর ৫ হাজার কোটি টাকা নিজেরা ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন। ব্যাংকে কার টাকা ছিল? জনগণের টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা হাওয়া হয়ে গেল, কার টাকা ছিল? বেসিক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে গেল, কার টাকা ছিল?

‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম মাহবুবর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও আলী আজগর তালুকদার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম আর ইসলাম, শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, রক্তদান কর্মসূচি, হুইলচেয়ার বিতরণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ, কৃষকদের সার ও বীজ বিতরণ এবং শ্রমিকদের পোশাক বিতরণ করা হয়।