Home Blog Page 283

রাজনৈতিক ভুলে ফ্যাসিস্টদের কবলে পড়া যাবে না: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সামনে সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। রাজনৈতিক ভুলে ফ্যাসিস্টদের কবলে পড়া যাবে না। আর ফ্যাসিস্ট দেখতে চাই না।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে সদর উপজেলা ও রুহিয়া থানা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন যত দ্রুত হবে দেশের সংকট তত দ্রুত কাটবে। দেশে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। গণতন্ত্রই গণতন্ত্রের বিকল্প। আগামী নির্বাচনের ওপর দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দানবীয় দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে একটা গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। অনেকে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। মিথ্যা মামলায় জেলে গেছেন। এখন মুক্তভাবে নিশ্বাস নিতে পারি। নেতাকর্মীরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন। যারা এ গণঅভ্যুত্থানে যোগ দিয়েছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঝিনাইদহে হলিধানী ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাটাডাড়ীয়া ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে নাটাবাড়ীয়া গ্রামে এই নির্বাচনী প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নাটাবাড়ীয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাঈদ হোসেন লাল্টুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনারুল ইসলাম বাদশা। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জাহিদুল ইসলাম। ঝিনাইদহ জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ সুমন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নাসের হোসেন সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক লিটন, হলিধানী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক ওহেদ সাদিক বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ হান্নান।

এছাড়াও সভায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবু নির্মল কুমার, সাংগাঠনিক সম্পাদক বাবুল হোসেনসহ ইউনিয়নের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ এ ভোট দিয়ে বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

এখন গাজাকে পুনর্গঠন করার সময়: ট্রাম্প

যুদ্ধ-সহিংসতার ভয়াল সময় পেছনে ফেলে এসেছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। এখন সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক উপত্যকা ভূখণ্ডকে পুনঃনির্মাণ ও পুনর্গঠন করার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনটাই মনে করেন। গতকাল মিসরের উপকূলীয় পর্যটন শহর শারম আল শেখের একটি রিসোর্টে আয়োজন করা হয়েছিল ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’। যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আজ আমরা এখানে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছি। একটি দীর্ঘ, ভয়াবহ, যন্ত্রণাদায়ক এবং ক্লান্তিকর দুঃস্বপ্নের অবসান হয়েছে। ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি— উভয়ের জন্যেই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে এ যুদ্ধবিরতি। তবে এটা এত চ্যালেঞ্জিং ছিল… আপনারা হয়তো বিশ্বাস করবেন না… এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য যে পরিশ্রম-প্রচেষ্টা আমাদের দিতে হয়েছে, তা তিন হাজার বছরের পরিশ্রমের সমান।”
“আমি এর আগেও বেশ কয়েকটি বড় সমস্যার সমাধান করেছি, কিন্তু এই যুদ্ধ ছিল সেগুলোর চেয়ে পুরোপুরি আলাদা। অনেক বাধা, বিবাদ, চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে অবশেষে আমরা কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে পেরেছি। ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব এই যুদ্ধবিরতিতে খুশি, তারা সবাই একে স্বাগত জানিয়েছেন।”
“এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাকে পুনর্গঠন ও পুনঃনির্মাণের সময়। আমি আশা করছি শিগগিরই তা শুরু হবে।”
২০২৩ সালের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় প্রায় ১ হাজার হামাস যোদ্ধা। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় যোদ্ধারা। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ইসরায়েলের ইতিহাসে ৭ অক্টোবরের হামলা ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের উদ্ধারে পরদিন ৮ অক্টোবর থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ভয়াবহ সেই সামরিক অভিযানে ২ বছরে গাজায় নিহত হয়েছেন ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার।
গত দুই বছরে বেশ কয়েকবার এই যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা চলেছে। সেসব চেষ্টার অংশ হিসেবে কয়েক দফা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিও ঘোষণা করে ইসরায়েল। সেসব যুদ্ধবিরতির সময় বেশ কিছু জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস।
কিন্তু সেসব যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় জিম্মিদের মুক্তি প্রক্রিয়াটি আটকে গিয়েছিল। এদিকে এই প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ায় আইডিএফের সামরিক অভিযানও অব্যাহত ছিল গাজায়।
হিসেব অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত হামাসের হাতে আটক ছিলেন ৪০ জন ইসরায়েলি জিম্মি। তবে তবে হামাস আগেই জানিয়েছিল, কাগজে-কলমে ৪০ জন থাকলেও এই জিম্মিদের মধ্যে বর্তমানে জীবিত আছেন ২০ জন।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব আকারে পেশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাস উভয়ে সেই পরিকল্পনায় সম্মতি জানানোর পর গত ১০ অক্টোবর শুক্রবার থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় গাজায়।
বিরতির তৃতীয় দিন ১৩ অক্টোবর অবশিষ্ট ২০ জিম্মির সবাইকে মুক্তি দেয় হামাস। তার বিনিময়ে একই দিন কারাগার থেকে ৩ হাজার ৭ শতাধিক ফিলিস্তিনি কয়েদিকে মুক্তি দেয় ইসরায়েল।
জিম্মি ও ফিলিস্তিনি কারাবন্দিদের মুক্তির দিনই শারম আল শেখে গাজা শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর। ট্রাম্প এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি ছাড়াও সেই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ ২, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যাৎর্স, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ ২০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান।

ব্যাটারি রিকশা নিবন্ধনে দুর্ঘটনা দ্বিগুণ বাড়বে: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন হলে সড়ক দুর্ঘটনা দ্বিগুণ বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো সেপ্টেম্বর মাসের দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে।
দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে সারাদেশে ৫০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০২ জন নিহত ও ৯৬৪ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৫০টি দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৩টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৫৬৭টি দুর্ঘটনায় ৫৬৫ জন নিহত এবং ৯৮২ জন আহত হয়েছেন।
এই সময়ে ১৯১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৯ জন নিহত ও ১৮৮ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৮৯ শতাংশ, নিহতের ৩৯.৬৪ শতাংশ ও আহতের ১৯.৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—১২৬টি দুর্ঘটনায় ১২২ জন নিহত ও ২১৬ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে—২২টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৭২টি যানবাহনের মধ্যে দেখা যায়, ২৯.০১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২.০২ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৬.৫৮ শতাংশ বাস, ১২.১৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭.৩৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৭.২৫ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৫.৫৬ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ৪৮.৮০ শতাংশ গাড়ি চাপায়, ২৮.৫৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৭.৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৩.৭৬ শতাংশ বিভিন্ন কারণে, ০.৩৯ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৫৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষে ঘটেছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ছিল—বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের গর্ত, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও নসিমন-করিমনের অবাধ চলাচল; রোড সাইন ও সড়কবাতির অভাব; মিডিয়ান না থাকা; মহাসড়কে গাছপালায় অন্ধ বাঁক সৃষ্টি; নির্মাণ ও যানবাহনের ত্রুটি; ট্রাফিক আইন অমান্য; উল্টোপথে চলাচল; চাঁদাবাজি; পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক; ফিটনেসবিহীন যান; অতিরিক্ত যাত্রীবহন; বেপরোয়া ও বিরামহীনভাবে যানবাহন চালানো।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ হিসেবে বলা হয়েছে— বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা; রাতের বেলায় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ ও যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস প্রদান; গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত তৈরি; সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা; চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা; রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন; আধুনিক প্রযুক্তিতে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ; সারাদেশে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা; নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি; নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা; ফিটনেসবিহীন যান স্ক্র্যাপ করা এবং মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করা।

 

ইউনূসের আমন্ত্রণে লুলা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাব’

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে তিনি তিনি আশা প্রকাশ করেন। রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের (ডব্লিউএফএফ) ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টের ফাঁকে সোমবার (রোম সময়) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট লুলা। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা লুলা দা সিলভাকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাব’। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তিনি বাংলাদেশ সফর করতে চান বলে জানান।
ফোরামে উভয় নেতা প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখার পর এফএও সদর দপ্তরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তারা পারস্পরিক আগ্রহের নানা বিষয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে ছিল সামাজিক ব্যবসা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং দারিদ্র্য মোকাবিলার কৌশল।
তিনি বলেন, ‌‘ব্রাজিল তার নাগরিকদের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করতে চায় এবং সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী।’ প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, ‘এটি হবে অসাধারণ’।
দুই নেতা গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস—বিশেষত টিকা পেটেন্টমুক্ত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ—এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পদক্ষেপ নিয়ে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ব্রাজিল সফরের স্মৃতিচারণ করেন, যার মধ্যে ছিল ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির বিভিন্ন শহর পরিদর্শন।
প্রেসিডেন্ট লুলা অধ্যাপক ইউনূসকে আগামী বছর অ্যামাজন অঞ্চলে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান, যাতে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য রক্ষার লড়াইয়ে বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। প্রধান উপদেষ্টা আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি হয়তো কপ৩০-এ অংশ নিতে পারবেন না, কারণ আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তিনি ব্যস্ত থাকবেন।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘বাস্তব ও ঐতিহাসিক’ মুহূর্ত। কারণ এটি হবে গত ১৬ বছরে দেশের প্রথম সুষ্ঠু নির্বাচন। তিনি বলেন, অতীতে স্বৈরশাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ছিল ‘ভুয়া ও কারচুপিপূর্ণ’।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্য এবং সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে দুই নেতা ফুটবলকে বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। অধ্যাপক ইউনূস হাস্যরসের সুরে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে ব্রাজিল ফুটবল দলের অসংখ্য সমর্থক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেই মানুষ ব্রাজিলকে সমর্থন করে।’
বৈঠকে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ব্রাজিলের কয়েকজন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

 

হানিমুনে শ্রীলঙ্কা-মালদ্বীপে শবনম ফারিয়া

অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া, কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবন; দুই নিয়েই ভক্তদের মাঝে থাকেন আলোচনার কেন্দ্রে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করলেন অভিনেত্রী; ছিমছাম আয়োজনেই সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ের আয়োজন। এই মুহূর্তে স্বামী তানজিব তৈয়বকে নিয়ে সুখের দাম্পত্য কাটছে অভিনেত্রীর। এমন সময়ে তাদের হানিমুন সফর নিয়ে আলোচনা ভক্তমহলে।
বিয়ের কিছুদিন পরই, শবনম ফারিয়াকে দেখা গেল দেশের বাইরে। গত ৭ অক্টোবর শ্রীলঙ্কা থেকে ধরা দেন তিনি। এদিন তার পরনে ছিলো কালো টি-শার্ট ও ছোট প্যান্ট। যদিও তা নিয়ে খানিক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন নেটিজেনদের।
ছুটিতে কিংবা ঘুরতে গেলে, আবার নিজের ভালো-মন্দ নানা মুহূর্ত অনুরাগীদের মাঝে ভাগ করে নেন শবনম ফারিয়া। অভিনেত্রীর বিয়ে পরবর্তী বিদেশ সফরেও ব্যতিক্রম হলো না। এবার শ্রীলঙ্কার পর এবার মালদ্বীপ থেকে নিজেকে ধরা দিলেন অভিনেত্রী। একাধিক পোস্টে জানিয়ে দিলেন, মালদ্বীপে যেন এক চমৎকার সময় কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী।
মালদ্বীপের আদারান ওশান ভিলাস, হুধুরান ফুশি এবং আদারান হুধুরানফুশি আইল্যান্ড রিসোর্ট থেকে ছবি পোস্ট করেছেন শবনম ফারিয়া। প্রথম ছবিতে, একটি কাঠের জেটির ওপর দাঁড়িয়ে হলুদ রঙের পোশাক পরে হাসিমুখে পোজ দিতে দেখা যায় তাকে।
অন্য একটি পোস্টে দেখা যায়, তিনি কালো টি-শার্ট ও সানগ্লাস পরে সমুদ্রের ধারে বসে আছেন। সেখানে তিনি একদল ডলফিন দেখার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন। অভিনেত্রীর এই পোস্ট থেকেই স্পষ্ট, মালদ্বীপের সৈকতে প্রকৃতির সঙ্গে বেশ উপভোগ করছেন তিনি।
শবনম ফারিয়ার এই পোস্টগুলো ভক্তদের নজরে আসতেই তৈরি হতে থাকে নানা জল্পনা। তারা রীতিমতো ভেবেই বসেন, স্বামীকে নিয়ে বোধহয় হানিমুন কাটাতেই এই সফর তার। এই জল্পনা আরও জোরালো হয়, যখন তার স্বামী তানজিব তৈয়ব অভিনেত্রীর পোস্টে এক আদুরে মন্তব্য করেন। তার মন্তব্যটি ছিলো, ‘আমার ক্রেডিট (ফটো ক্রেডিট) কোথায় বউ?’ অভিনেত্রী স্ত্রী উত্তর দেন, ‘তুমি কত ক্রেডিট চাও? আমার জীবনকে যে একটুখানি পরীদের জীবনের মত করে তুলল সে জন্য না কি আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ বানানোর জন্য?’
তাদের এই মন্তব্যেও ভক্ত-অনুরাগীরা ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন, শুভকামনা জানান এই নতুন দম্পতিকে।
উল্লেখ্য, প্রথম সংসারের ইতি টানার প্রায় পাঁচ বছর পর আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসেন শবনম ফারিয়া। প্রথম বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, বিয়ে নিয়ে তার অনুভূতি বরাবরই জটিল-আতঙ্কের চেয়ে কম নয়।
ফারিয়ার স্বামী তানজিম তৈয়ব রাজশাহীর বাসিন্দা। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস থেকে ফিন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত।

 

ফের বিয়ে করেছেন নারী উদ্যোক্তা তনি, স্বামী কে?

দেশের আলোচিত নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনির বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে স্বামীর নাম মো. সিদ্দিক। রোববার (১২ অক্টোবর) রাতে সিদ্দিক নিজের ফেসবুকে দুইজনের ছবি প্রকাশ করে স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরে রোববার মাঝরাতে স্বামীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছেন তনি।
এদিকে রেববার দিবাগত (১৩ অক্টোবর) রাতে সিদ্দিক তার ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘আরও একটি বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু মনটা এখনও তরুণ। আমার জন্মদিনকে বিশেষ করে তোলার জন্য আমার প্রিয় স্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তোমায় অনেক ভালোবাসি।’
আর তনি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তোমার মতো বিশেষ একজনের জন্মদিন উদ্‌যাপনের জন্য বছরে একটা দিনই যথেষ্ট নয়।’
তনির বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের আগ্রহ, কাকে বিয়ে করলেন তনি। জানা গেছে, উদ্যোক্তা তনির স্বামীর নাম মো. সিদ্দিক। তিনি মানসিব টেলিকমের মালিক এবং এমডি।
সিদ্দিকের ভেরিফায়েড ফেসবুক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাজ্যের ডি মন্টফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় ( ডিএমইউ) থেকে পড়ালেখা করেছেন। যুক্তরাজ্যেই বসবাস করছেন মো. সিদ্দিক। তার দেশের বাড়ি খুলনায়।
স্বামীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছেন তনি।
এদিকে সিদ্দিকও নিজের ফেসবুকে দুজনের ছবি প্রকাশ করে স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। রবিবার দিবাগত (১৩ অক্টোবর) রাতে সিদ্দিক তার ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘আরো একটি বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু মনটা এখনো তরুণ। আমার জন্মদিনকে বিশেষ করে তোলার জন্য আমার প্রিয় স্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তোমায় অনেক ভালোবাসি।’
তনি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তোমার মতো বিশেষ একজনের জন্মদিন উদযাপনের জন্য বছরে একটা দিনই যথেষ্ট নয়।’
গত বছরের ৭ অক্টোবর ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তনির দ্বিতীয় স্বামী ও ব্যবসায়ী শাহাদাৎ হোসাইন। তনি ও তাঁর প্রয়াত স্বামীর মধ্যকার বয়সের ব্যবধান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছেন তিনি। ফেসবুক লাইভে এলে নানারকম ট্রলের মুখে পড়তে হয়েছে এই নারী উদ্যোক্তাকে।

বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে বাংলাদেশের সামনে কঠিন সমীকরণ

বছর কয়েক আগেও ওয়ানডেতে বিশ্বের যেকোনো দলের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতো বাংলাদেশ। বাকি দুই ফরম্যাটের তুলনায় ৫০ ওভারের ক্রিকেটে জয়ের হারও বেশি ছিল টাইগারদের। তবে এখন সেই ওয়ানডেতেই জিততে ভুলে গেছে বাংলাদেশ। টানা হারে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের সেরা আট দল। পাশাপাশি স্বাগতিক তিন দল দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াও সরাসরি খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকা র‍্যাংকিংয়ে সেরা আটের মধ্যে থাকলে সরাসরি সুযোগ পাবে সেরা ৯ দল। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অন্তত সেরা ৯ এর মধ্যে থাকতে হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ আছে দশ নম্বরে। তাদের নামের পাশে আছে ৭৬ রেটিং পয়েন্ট। বাংলাদেশের উপরে রয়েছে ৮০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (নবম) এবং ৮৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড (অষ্টম)। ইংল্যান্ডকে টপকানো বেশ কঠিন হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলা এখনো সম্ভব।
কাগজে-কলমে সম্ভাবনা থাকলেও সমীকরণ অনেকটাই কঠিন। আফগানিস্তান সিরিজ শেষে এই মাসেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে ক্যারিবিয়ানদের টপকে নয় নম্বরে উঠে যাবে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এরপরও আরো বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলবে অন্য দলের বিপক্ষে। সেই ম্যাচগুলোতে ভালো করলে তখন আবারো বাংলাদেশে সামনে চলে আসবে তারা। তাই এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দুই দলের জন্যই বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস গড়ে ভারতকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

বিশ্বকাপে ম্যাচটা শুরু হয়েছিল ভারতীয়দের আশা নিয়ে, শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস দিয়ে। বিশাখাপত্তনমে রোববার এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় নারী ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত খুলে দিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি। তার বিধ্বংসী ১৪২ রানের ইনিংসে ৩৩১ রানের পাহাড় তাড়া করে ভারতকে তিন উইকেটে হারাল অস্ট্রেলিয়া — যা নারী ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড!
প্রথমে ব্যাট করে ভারত তো কম কিছু করেনি। স্মৃতি মান্ধানার ঝড়ো ৮০ আর প্রতীকা রাওয়ালের ধীরস্থির ৭৫ রানে ভারতের ওপেনিং জুটি তুলেছিল ১৫৫ রানের ভিত্তি। মান্ধানা তুলে নেন নিজের ৫০০০ রান—সবচেয়ে কম ইনিংসে এই মাইলফলকে পৌঁছানো ভারতীয় ব্যাটার তিনি। তাদের জুটি ভারতকে ৩৩০ রানের সম্ভাবনাময় সংগ্রহ এনে দেয়, যা বেশিরভাগ দিনই জেতানোর মতোই হতো।
কিন্তু আজকের দিনটা ছিল অ্যালিসা হিলির। উইকেটকিপার এই ব্যাটার নিজের ব্যাটে লিখে ফেললেন ইতিহাস। ১০৭ বলের ইনিংসে ২১টি চার আর ৩টি ছক্কায় ছিন্নভিন্ন করলেন ভারতীয় বোলিং আক্রমণ। এক ওভারে ক্রান্তি গৌড়কে মারলেন চার বলে চারটি বাউন্ডারি—একটা ছক্কা, তিনটা চার! তার ব্যাটিংয়ের স্রোতে গিয়েছিল নিখুঁত ছন্দে, প্রতিটি ফাঁকা জায়গা যেন আগে থেকেই মেপে রেখেছিলেন।
ফিফটি তুলে নিলেন মাত্র ৩৫ বলে—এবারের বিশ্বকাপে যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুততম। আশলি গার্ডনারের সঙ্গে ৯৫ রানের জুটি গড়ে দলের ইনিংস সামলে দেন। এছাড়া একবার চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে অপরাজিত ৪৭ রানে জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ এলিস পেরি।
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ভারতকে হারাল অস্ট্রেলিয়া
ছক্কা মেরে ইতিহাস গড়লেন স্মৃতি মান্ধানা!
ভারতের হয়ে একমাত্র উজ্জ্বল দিক ছিলেন শ্রী চরনী—১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেন, যার মধ্যে ছিল ফিবি লিচফিল্ড ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিকার। কিন্তু হিলির অগ্নিঝরা ইনিংসের সামনে শেষ পর্যন্ত সবই ম্লান হয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়া এদিন ভাঙল ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার করা ৩০২ রানের রেকর্ড, উঠে এল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। ভারতের অবস্থান এখন তৃতীয়। এক কথায়, ভিজাগের রাতটা হয়ে রইল হিলির—যেখানে ভারতের লড়াই প্রশংসনীয়, কিন্তু ইতিহাস লিখলেন তিনি একাই।

১১ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ১২ হাজার ২৪ কোটি টাকা

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনে ৯৮ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যা দেশিয় মুদ্রায় ১২ হাজার ২৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২১.৭৫ টাকা)।
রবিবার (১২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অক্টোবরেও প্রবাসী আয়ের উচ্চ ধারা অব্যাহত রয়েছে।
অক্টোবরের ১১ দিনে প্রতিদিন প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮২ হাজার ৭২৭ ডলার। আগের বছরের অক্টোবরে প্রতিদিন প্রবাসী আয় এসেছিল ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৩৬ হাজার ডলার। আর আগের মাস সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ৮ কোটি ৯৫ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৩ মার্কিন ডলার।
প্রবাসীদের পাঠানো ১১ দিনের প্রবাসী আয়ের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যেমে এসেছে ২০ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার ডলার; রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ডরার; বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৮ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর বাংলাদেশে ব্যবসারত বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩০ লাখ ৪০ হাজার ডলার।