Home Blog Page 286

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না।

সম্প্রতি গাজা সফর শেষে শনিবার এক্স (সাবেক টুইটার)- এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সংঘাত-পরবর্তী সময়ের স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করতেই তার এ সফর।

এ সম্পর্কে ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘গাজা সফরকালে আমরা একটি সিভিল-মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার গঠনের বিষয়ে কথা বলেছি, যা ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।’

ওয়াশিংটনভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কুপারের এ সফর মূলত সংঘাত-পরবর্তী মানবিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছি-ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েন করার কোনো পরিকল্পনা নেই।’

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের পর গাজায় একটি টেকসই ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহল বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কিন সেনা মোতায়েন না করার ঘোষণাকে অনেকেই সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন।

হল্যান্ডের হ্যাটট্রিকে ইসরাইলকে উড়িয়ে দিল নরওয়ে

পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারলেও থামানো গেল না আর্লিং হল্যান্ডকে। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে তিনি নেতৃত্ব দিলেন নরওয়ের জয়ে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে ইসরাইলকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ইউরোপীয় বাছাইপর্বে গ্রুপ আই-এ শীর্ষে উঠে এসেছে দলটি।

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে নরওয়ে। সর্বশেষ তারা বড় কোনো টুর্নামেন্ট খেলেছিল ইউরো ২০০০-এ। এই জয়ের ফলে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইতালির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে আছে, যদিও ইতালির হাতে এখনও দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার এস্তোনিয়ার বিপক্ষে যদি জয় পায় নরওয়ে, আর ইতালি তাদের বাকি দুই ম্যাচের একটিতেও হারায়, তাহলে নিশ্চিত হয়ে যাবে নরওয়ের বিশ্বকাপ টিকিট।

ওসলোর উলেভাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে ভিন্ন চিত্র। শত শত মানুষ জড়ো হন ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে। গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিজ ক্লাভেনেসও সম্প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান।

ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই স্পটকিক পান নরওয়ে। কিন্তু হল্যান্ডের নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন ইসরাইল গোলকিপার ড্যানিয়েল পেরেটজ। পরে ‘এনক্রোচমেন্ট’-এর কারণে শটটি আবার নেওয়া হলেও দ্বিতীয়বারও সেভ করেন পেরেটজ।

তবে ১৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। ইসরাইল ডিফেন্ডার আনান খালাইলির আত্মঘাতী গোলে স্বাগতিকরা পায় প্রথম গোল। এরপর ২৩ মিনিটে হল্যান্ড গোল করে টানা নবম আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্কোরশিটে নাম তোলেন।

২৮ মিনিটে আবার আত্মঘাতী গোল। পেরেটজের কিক ডিফেন্ডার ইদান নাখমিয়াসের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। গোল ঠেকাতে গিয়ে তিনি পোস্টে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন।

বাকি দুই গোল আসে দ্বিতীয়ার্ধে। ৬৩ মিনিটে নুসার ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হল্যান্ড। ৭২ মিনিটে আরও একটি হেডে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক- যা তার বাছাইপর্বে সর্বমোট গোলসংখ্যাকে ১২-তে পৌঁছে দেয়, যা ইউরোপীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ।

কারিনার রাগ কীভাবে সামলান জানালেন সাইফ

বহু বছরের সফল দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন বলিউডের তারকা জুটি সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর খান। গ্ল্যামারের দুনিয়ায় থেকেও তাদের সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও বোঝাপড়া অনুপ্রেরণা জাগায় অনেকের মাঝে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাইফ খোলাসা করেছেন, স্ত্রী কারিনা রেগে গেলে তিনি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন।

সাইফ বলেন, ‘কারিনা যখন রেগে যায়, তখন আমি চুপ করে যাই। তাকে শান্তভাবে শুনি, কিন্তু কিছু বলি না। এটা আমার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।’

২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সাইফ ও কারিনা। বয়সে ১১ বছরের পার্থক্য থাকলেও তাদের সম্পর্কে কখনোই সেটি প্রভাব ফেলেনি। বরং সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

কারিনা আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বয়স নয়, সম্পর্ক টেকে বোঝাপড়া ও সম্মানের উপর। তার ভাষায়, ‘ভালোবাসা থাকলে যেকোনো সমস্যা সহজেই কাটিয়ে ওঠা যায়।’

দুই সন্তানের এই তারকা দম্পতি আজও বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী ও সমন্বিত জুটি হিসেবে বিবেচিত।

সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইতে বড় দরপতন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে (৫-৯ অক্টোবর) অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দরপতন হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চারদিনই সূচক নিম্নমুখী ছিল। এতে সবগুলো মূল্যসূচক ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। তবে গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টির দর বেড়েছে, ২৯৮টির কমেছে এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫,২৮৪ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫,৪১৬ পয়েন্ট। ডিএসই ৩০ সূচক ৪৯ পয়েন্ট কমে ২,০৩৩ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৩৮ পয়েন্ট কমে ১,১৩৪ পয়েন্টে নেমেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬৫৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। পাঁচ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ৩,২৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে তিন কার্যদিবসে ছিল ১,৮৬০ কোটি টাকা।
তবে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৭,৯৩৬ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।
অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই সময়ে সব সূচক কমেছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৪,৯৪৮ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স সূচক ৯,১৮৮ পয়েন্টে নেমেছে। সপ্তাহে সিএসইতে ৩২১ টি সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে এর মধ্যে ১০২টির দর বেড়েছে, ১৯৭টির কমেছে, আর ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের পরিমাণও সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে আসা জাহাজসহ ৫০টির বেশি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের পেট্রোলিয়াম ও তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রফতানিতে সহায়তার অভিযোগে ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাতেও চালান পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগীয় সংস্থা অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।
ওএফএসি জানায়, ইরানের নগদ অর্থ প্রবাহ কমানো এবং ওয়াশিংটন দ্বারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানের তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দুটি চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, চলমান পরিবহন কার্যক্রম সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের (চক্র) সহযোগিতায় ইরান বিলিয়ন ডলারের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করছে, যা দেশটির সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব সরবরাহে ভূমিকা রাখছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, নতুন এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো ইরানের জ্বালানি রফতানি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা। এটি ওয়াশিংটনের চলমান সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ নীতিরই অংশ।
বাংলাদেশে পৌঁছানো চালান : নতুনভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্তদের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্লোগাল এনার্জি ডিএমসিসি এবং মারকান হোয়াইট ট্রেডিং ক্রুড অয়েল অ্যাবরোড কোম্পানি এলএলসি। ২০২৪ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় ইরানের এলপিজি চালান পাঠাতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
ওএফএসি জানায়, একাধিক চালান অবশেষে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছেছে।
মার্কিন অর্থ বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে গ্যাস ডিওর নামের পানামা পতাকাবাহী জাহাজ—যা পানামাভিত্তিক এরিলিন শিপিং ইনক.-এর মালিকানাধীন—অকটেন এনার্জি এফজেডসিও নামের প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশে ১৭ হাজার টনেরও বেশি ইরানি এলপিজি সরবরাহ করে। ওই প্রতিষ্ঠানকেও এখন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে কোমোরোস পতাকাবাহী আরেক জাহাজ, আদা (আইএমও ৯০০৮১০৮)—পূর্বে যার নাম ছিল ক্যাপ্টেন নিকোলাস—বাংলাদেশের কিছু ক্রেতার কাছে ইরানি এলপিজি সরবরাহ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সি শিপ ম্যানেজমেন্ট এলএলসি-এর মালিকানাধীন ওই জাহাজটিকে সর্বশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ‘অবরুদ্ধ সম্পদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বিএলপিজি সোফিয়া নামের একটি ছোট জাহাজে এলপিজি খালাসের সময় ক্যাপ্টেন নিকোলাস-এ আগুন ধরে যায়। প্রায় ৩৪ হাজার টন এলপিজি বহনকারী জাহাজটি পরে আইনি জটিলতার কারণে কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর জাহাজটিকে পুনরায় গ্যাস স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়। ভেসেল-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এটি এখনও চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। যদিও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এসব চালানের কথা উল্লেখের মাধ্যমে বাংলাদেশকেও এখন ওয়াশিংটনের সম্প্রসারিত নজরদারি ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থার আওতায় দেখা হচ্ছে। মার্কিন আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ লেনদেনে জড়িত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এর ঝুঁকিতে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর মতো কঠোর পদক্ষেপও।
বর্ধিত বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা নেটওয়ার্ক : চলতি বছরে ইরানের তেল ক্রেতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ দফা নিষেধাজ্ঞা এটি। বিশেষ করে চীনভিত্তিক রিফাইনারিগুলোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যারা ইরান থেকে তেল কিনে থাকে। এর আগে জুলাই ও আগস্ট মাসেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন অর্থ বিভাগ জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইরানি তেলের উৎস গোপন করতে তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহর পরিচালনা করত। এসব কার্যক্রমের মধ্যে ছিল এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর এবং ছদ্ম কোম্পানির মাধ্যমে পণ্যের গতিপথ গোপন করার মতো কর্মকাণ্ড।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের তেল ও এলপিজি পরিবহন বা এর উৎস গোপনের কাজে ব্যবহৃত বহু জাহাজের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাক্স স্টার, গ্যাস ভিশন, সি অপেরা এবং টিউলিপ—যেগুলো সম্মিলিতভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শত শত মিলিয়ন ডলারের ইরানি জ্বালানি পণ্য পরিবহন করেছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত চালানগুলো বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশে পৌঁছেছে।
চীনা প্রতিষ্ঠানও নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় :  সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান—শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ ও রিজাও শিহুয়া ক্রুড অয়েল টার্মিনাল। মার্কিন অর্থ বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, ২০২৩ সাল থেকে তারা ওয়াশিংটনের নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত জাহাজ ব্যবহার করে ইরানের কোটি কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান চীনের বিভিন্ন বন্দরে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাকে বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল পরিবহন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সহায়তা করেছে। বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও এই সহযোগিতা ইরানের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ তৈরি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব : নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন আইনের আওতায় থাকা তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সব সম্পদ ও সম্পত্তি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, কোনো মার্কিন কোম্পানি বা নাগরিককে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ধরনের লেনদেনে সহায়তাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোতে, যারা স্পট মার্কেট থেকে এলপিজি কিনে থাকে। পাশাপাশি, এই নিষেধাজ্ঞা ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থানও স্পষ্ট করেছে—ইরানের সীমার বাইরে গিয়ে এখন তারা এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্বত্বভোগীদেরও নজরদারির আওতায় আনছে।
ওএফএসি জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং ‘আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা ছোট আমদানিকারকদের জন্য জ্বালানি সরবরাহ জটিল করে তুলতে পারে—বিশেষ করে যদি এই অঞ্চলে নিষিদ্ধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারী বা পরিবহন সংস্থাগুলো আগে থেকেই সক্রিয় থাকে।

সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষায় অপরাধের নির্মোহ বিচার গুরুত্বপূর্ণ : বিএনপি

গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষায় সংশ্লিষ্ট অপরাধের সুষ্ঠু ও নির্মোহ বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বিএনপি। দলটির যুক্তি- ন্যায়বিচার শুধু অতীতের ঘটনাগুলোর শাস্তির নিশ্চয়তা দেয় না, বরং ভবিষ্যতে যেন কেউ এমন অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটায়, সেই নিশ্চয়তাও দেয়। আইন ও মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণাঙ্গ শ্রদ্ধাই হতে পারে একটি শান্তিপূর্ণ, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি।
শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি দেশের চলা উচিত ‘ল অফ দ্যা ল্যান্ড’ অনুযায়ী। কিছু চিহ্নিত ব্যক্তির দায় যেমন কোনো প্রতিষ্ঠানের উপর চাপানো উচিত নয়, তেমনি তাদের অপকর্মের কারণে সেই প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করাও অনুচিত। একজন মানুষের কাজের ভালো-মন্দের দায়, বিশেষত গুরুতর অপরাধের শাস্তি, একান্তই তার নিজের।
এতে আরও বলা হয়, বিএনপি ফ্যাসিবাদের পুরো সময়জুড়ে সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার দল হিসেবে অবশ্যই সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের পক্ষে। এখানে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নয়, বিবেচ্য কেবল ব্যক্তির অপরাধ ও আইনের শাসন। কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিচ্ছিন্ন অপরাধের সঙ্গে একটি দেশপ্রেমিক বাহিনীকে ঘিরে জনগণের আবেগ, আস্থা ও সম্মানের কোনো সম্পর্ক নেই, থাকা উচিতও নয়।
সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য এই দেশের, এই মাটির গর্বিত সন্তান। আর তাই, অধিকাংশ সেনা সদস্য নিশ্চিতভাবেই মন থেকে চান, সীমা লঙ্ঘনকারীরা বিচারের মুখোমুখি হোক, যাতে কোনো সরকার আর কখনো সেনাবাহিনীর কাছে গুম-খুনের মতো অন্যায় নির্দেশ দিতে না পারে। সর্বজনীন এই আকাঙ্ক্ষার সাথে বিএনপি শতভাগ একমত।

গাজায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্প-সিসির সভাপতিত্বে বিশ্বনেতাদের বৈঠক

গাজায় দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আগামী সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিশরের পর্যটন শহর শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুপক্ষীয় একটি শান্তি সম্মেলন। সম্মেলনের যৌথ সভাপতিত্ব করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

মিশরের প্রেসিডেন্ট দফতর শনিবার (১২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ সম্মেলনে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের শীর্ষ নেতা অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং স্পেনের পেদ্রো সানচেজ।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গাজা উপত্যকার যুদ্ধ চূড়ান্তভাবে থামানো, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্থিতিশীল আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলা।

তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা হামাসের কোনো প্রতিনিধি এই সম্মেলনে থাকবেন কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

সম্মেলনের ঘোষণাটি এমন সময়ে এলো, যখন গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ঘরে ফেরার চেষ্টা করছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চালানো ইসরাইলি বোমাবর্ষণে অঞ্চলটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও যুদ্ধবিরতির পর অনেকেই তাদের পুরোনো বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি উপস্থাপন করেন একটি ২০ দফার শান্তি প্রস্তাব।

এই প্রস্তাবকে ঘিরেই গত সপ্তাহে শারম আল-শেখে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। তিনদিনের আলোচনা শেষে, বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে দুই পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রথম ধাপে সম্মত হয়।

অবশেষে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ইসরাইলি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করে। সেই রাত থেকেই গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানিয়েছে আইডিএফ (ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী)।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে-যদিও এতে সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

ঝিনাইদহে বিএনপির উদ্যোগে পূজা পুনর্মিলনী

ঝিনাইদহে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা পরবর্তি পূজা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেন।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ পৌরসভা এলাকার গিলাবাড়িয়া আয়েশা কমিউনিটি সেন্টারে এ পূজা পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়।

ঝিনাইদহ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক মিলন কুমার ঘোষ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ।

ঝিনাইদহ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব সমীর কুমার হালদার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান লাকী, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শেখর, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক তপন বিশ্বাস, সদস্য সচিব প্রহ্লাদ সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক চন্দন বসু মুক্ত, সদস্য সচিব অরুণ কুমার ঘোষ, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক গণেশ চন্দ্র বিশ্বাস, সদস্য সচিব অচিন্ত কুমার রায়, পৌর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রহ্লাদ বিশ্বাস, সদস্য সচিব রাহুল দেব সাহা (পাপ্পু)।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। অতিতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসররা সাম্প্রদায়িকতা কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টের পতনের পরে দেশের সকল ধর্মের মানুষ মিলে মিশে একে অপরের ধর্মীয় উৎসব উপভোগ করছে। বাংলাদেশে এখন ভয়হীন এক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসব দেশে শান্তিপূর্ণ ভাবে উদযাপিত হয়েছে। সকল ধর্মের মানুষ পূজার উৎসব আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীলতার মধ্যদিয়ে আগামীতেও দেশে শান্তিপূর্ণ ভাবে সব ধর্মের মানুষ তাদের আচার-উৎসব পালন করবে।

 

ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ১৫ কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে সেনাসদর। তবে মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদকে পাওয়া যাচ্ছে না।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসের মেস আলফাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
তিনি জানান, ৩টি মামলায় ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন, এলপিআরএ একজন, আর বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫ জন।
তিনি জানান, ৮ তারিখ চার্জশিট দাখিলের পর এলপিআর ও সার্ভিসে থাকা ১৬ জনকে সেনাসদরে সংযুক্ত করা হয়। তাদের ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনাসদরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি ১৫ জন রেসপন্স করেছেন। তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা ফ্যামিলি থেকে ডিটাচ আছেন।
কবীর আহাম্মদের বিষয়ে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, তিনি ৯ অক্টোবর সকালে বাসা থেকে বের হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি মিসিং।

 

মেজর জেনারেল কবিরকে নিয়ে যা জানাল সেনা সদর!

মেজর জেনারেল কবির আহমেদকে ‘ইলিগ্যালি অ্যাবসেন্ট (অবৈধভাবে অনুপস্থিত)’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সেনাবাহিনী। তিনি যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তাকে ধরতে সকল সীমান্তে সর্তকতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা সদর।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
মেজর জেনারেল কবিরের বিরুদ্ধে জয়েন্ট ইন্টেরোগেশন সেলে (জেআইসি) ভুক্তভোগীদের বন্দি রেখে নির্যাতনের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
তিনি বলেন, ‘মেজর জেনারেল কবির না জানিয়ে অবৈধভাবে ছুটিতে গেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’
মেজর জেনারেল কবির ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। গত বছর জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসের কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। সবশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্তরা কোনো অন্যায় করেননি; তবে বিভিন্ন বাহিনীতে প্রেষণে গিয়ে কিছু ব্যক্তি অপরাধে জড়ান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘ওয়ারেন্ট ইস্যুর বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে তাদের হাজির করার বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’