Home Blog Page 287

পুরান ঢাকার জীবনচিত্র নিয়ে ‘মহল্লা

পুরান ঢাকার বাহ্যিক আবরণ সময়ের সাথে সাথে বদলে যেতে থাকলেও এখনও পুরনো ঐতিহ্য স্পষ্ট রয়েছে পরতে পরতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আধিক্য থাকলেও বিভিন্ন কর্মসূত্রে বহিরাগতদের দীর্ঘদিন ধরে উপস্থিতি একদিকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে পুরান ঢাকাকে, ঠিক একইভাবে অস্তিত্ব সংকটেও ফেলেছে। সেসব গল্পই এবার পর্দায় তুলে আনছেন নাট্যনির্মাতা ফরিদুল হাসান।
পুরান ঢাকার গল্পে তার পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে তারকাবহুল ধারাবাহিক নাটক ‘মহল্লা’। এরই মধ্যে পুরান ঢাকা, সদরঘাট, উত্তরা ও ফার্মগেটের বিভিন্ন লোকেশনে ধারাবাহিকটির দৃশ্য ধারণ শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ রায়ের রচনায় এই দীর্ঘ ধারাবাহিকটি পহেলা নভেম্বর থেকে বেসরকারি টেলিভিশন বৈশাখী টিভিতে প্রচার শুরু হবে বলে নির্মাতা জানিয়েছেন।
ধারাবাহিকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন যাহের আলভী, ইফফাত আরা তিথি, আবদুল্লাহ রানা, রকি খান, রেশমি আহমেদ, সহীদ উন নবী, তন্ময় সোহেল, সিয়াম মৃধা, সিয়াম নাসির, আশরাফুল আলম সোহাগ, তানভীর রাহী, ইফতি, সাবা সুস্মিতা, অনন্যা ইসলাম, ইমরান হোসেন আজান, ওয়াহিদ ইকবাল মার্শাল, সাইকা আহমেদ, পলিন, উপমা আহমেদ, আঞ্জুমান মেহেজাবিন, জাবেদ গাজী, আয়েশা নাফিসা, অনুভব মাহবুব প্রমুখ।
নাটকটির বিশেষ একটি চরিত্রে রয়েছেন ঢালিউড সিনেমার দর্শকপ্রিয় চিত্রনায়িকা আইরিন সুলতানা। এতে তিনি নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
‘মহল্লা’ প্রসঙ্গে ফরিদুল হাসান বলেন, ‘এটি মহল্লার ভালো ও মন্দের গল্প। ব্যস্ত এই শহরে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মহল্লায় সমসাময়িক যেসব ঘটনা ঘটে তা হাস্যরসের মাধ্যমে পর্দায় তুলে ধরা হচ্ছে। এতে অনেক জনপ্রিয় শিল্পীরা অভিনয় করছেন। অস্থির সময়ে স্বস্তি দিবে মহল্লা। পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি গল্প। আমরা প্রায়ই শুনে থাকি পরিবারের গল্প হয় না। তা অনেকটাই ভুল। কারণ, পরিবারের গল্প হয় তবে তুলনামূলক কম। তবে আমি বরাবরই পারিবারিক গল্পকে গুরুত্ব দেই। বর্তমান সময়ের দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখেই মহল্লা নির্মাণ করছি।’
ধারাবাহিকটি নিয়ে আইরিন বলেন, ‘এতে আমি মধু চরিত্রে অভিনয় করেছি। মধু জনপ্রিয় একজন চিত্রনায়িকা। তাকে পুরান ঢাকার একটি মহল্লায় ঘুড়ি উৎসবে পারফর্ম করার জন্য নেওয়া হয়। এরপর ঘটতে থাকে নানা নাটকীয় ঘটনা। আশা করছি, ধারাবাহিকটি প্রচারে এলে সবার পছন্দ হবে।’
গল্পের প্রয়োজনে ‘মহল্লা’ ধারাবাহিকে ‘তানপুরা’ শিরোনামের একটি আইটেম গান রয়েছে। এটি গেয়েছেন মুহিন, পাশাপাশি গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন এই গায়ক। গানের কথা লিখেছেন বিদ্যুৎ রায়। মাইকেল বাবুর কোরিওগ্রাফিতে আইটেম গানটিতে পারফর্ম করেছেন চিত্রনায়িকা আইরিন। সাজসজ্জায় টিটু শিকদার।

শনিবার দেশে ফিরবেন শহিদুল আলম

বাংলাদেশি আলোকচিত্রী এবং মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম আগামীকাল (শনিবার) ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে শহিদুল আলম স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। যেখানে তাকে ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত জানান।

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আমানুর রহমান জানান, শহিদুল আলমের ঢাকায় ফেরার ফ্লাইট শুক্রবার তুর্কি সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইসরায়েল থেকে শহীদুল আলমের মুক্তি এবং নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শহিদুল আলমকে আটকের পর জর্ডান, মিশর এবং তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং তার মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে।

এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত : জ্বালানি উপদেষ্টা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফওজুল কাবির খান বলেছেন, দেশের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সিলিন্ডারের বাজার মূল্য ১২০০ টাকার বেশি হওয়ায় শিল্প ও গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না। অথচ এর দাম ১ হাজার টাকা মধ্যে হওয়া উচিত।

উপদেষ্টা বলেন, এলপিজির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো দাম। বর্তমানে ১২০০ টাকা দামের সিলিন্ডার কিছু ক্ষেত্রে বাজারে ১৪০০–১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই দামের নিয়ন্ত্রণ, লজিস্টিক উন্নয়ন এবং প্রাইভেট সেক্টরের কার্যকারিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মনোভাব ছাড়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি কোনো স্বাভাবিক সংকট নয়। এটি একটি পরিকল্পিত অবস্থার ফল, যা ক্ষমতাসীন কিছু রাজনীতিবিদ ও তাদের সহযোগী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কারণে তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাস লাইনের পরিকল্পনায় গ্যাস সরবরাহের চাহিদা উপেক্ষা করা হয়েছে, ফলে শিল্প ও গৃহস্থালিতে বিপুলসংখ্যক অবৈধ সংযোগও হয়েছে।

তিনি বলেন, এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তাই স্বল্পমেয়াদে ঘাটতি মোকাবিলায় এলপিজি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

জাকেরের সমস্যা কোথায় জানালেন সাবেক অধিনায়ক

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হার দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়ের ১০১ রানের জুটি ভাঙার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি টাইগার ব্যাটাররা। দৃষ্টিকটু শট খেলে ১৬ বলে ১০ রান করে ফিরে যান জাকের আলি অনিক। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দল সাফল্য পেলেও তেমন রান পাননি জাকের।
তারপরও জাকেরের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। সংবাদ সম্মেলনে সেদিন এমনটাই জানিয়েছিলেন ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। তবে হঠাৎ করে জাকেরের কি হলো প্রশ্ন জেগেছে সবার মনে। আজ (শুক্রবার) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন কিছুটা খোলাসা করলেন।
জাকেরকে নিয়ে বাশার বলেন, ‘জাকের আলী অবশ্যই আমাদের সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ খেলছিলেন। কিন্তু এই সিরিজে তার ব্যাটিং টেকনিকে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, কোনো এক কারণে। কারণ সে যা-ই করছে, সব কিছুই লেগ সাইডে খেলতে যাচ্ছে। আগে সে লং অন দিয়ে মারত, এখন তার শটগুলো বেশিরভাগই ফাইন লেগ আর স্কয়ার লেগ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু স্পিনের বিপক্ষে এটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অপশন। তাই এই জায়গাটায় সে একটু মিস করছে বলে মনে হয়।’
সবশেষ দুই সিরিজের আগে জাকেরকে দেখা গেছে স্পিনারদের বিপক্ষে ভালো খেলতে। তবে বর্তমানে স্পিনারদের বিপক্ষেই উইকেট দিয়ে আসতে হচ্ছে তাকে। রশিদ খানের বল একেবারেই যেন খেলতে পারছেন না জাকের। যে কারণে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন বাশার।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, জাকের আলী আগে যেমন ব্যাটিং করতেন, সে মূলত মিড অফ, লং অফ আর লং অনের দিকে শট খেলতেন। এতে স্পিনারদের বল পড়তে সুবিধা হতো। কিন্তু যখন একজন বোলার, যেমন রশিদ খান—ওর বোলিং তো অনেক দ্রুত আসে—সেই সময়টা ব্যাটসম্যানের পাওয়া যায় না। তাই সবসময় লেগ সাইডে খেলা একটা ঝুঁকিপূর্ণ, ডেঞ্জারাস অপশন হয়ে যায়।’

ব্রেইনে টিউমার, এখন কেমন আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন?

ভালো নেই ঢাকাই সিনেমার সোনালি যুগের জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত এই অভিনেতা এখন লন্ডনে চিকিৎসাধীন; নিচ্ছেন রেডিওথেরাপি।
সম্প্রতি নায়কের জামাতা আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানান, ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে লন্ডনে তাদের বাসায় আছেন। বলেন, ‘আব্বুর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। সপ্তাহে পাঁচ দিন রেডিওথেরাপি নিতে হচ্ছে, যাকে টার্গেট থেরাপি বলা হয়। পাশাপাশি তিনি ওরাল কেমোথেরাপিও নিচ্ছেন। এই চিকিৎসা চলবে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।’
তিনি আরও জানান, রেডিওথেরাপি শেষ হওয়ার এক মাস পরই তার শারীরিক অবস্থা বোঝা যাবে। আপাতত চিকিৎসা নিয়মিতভাবে চলছে; তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ এখনও ঢালিউডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। শুধু অভিনয় নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রেখেছেন বিশেষ ভূমিকা।

মাছ-মাংসের বাজারে অদৃশ্য সিন্ডিকেট, মধ্যবিত্তের হাঁসফাঁস

রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। কোনো এক পণ্যের দাম কিছুটা কমলেই, সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে যায় অন্যটির। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাছ-মুরগির বাজার হয়ে ওঠে একেবারে লাগামহীন। এই অস্থির বাজারে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজকের বাজারে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত এক মাস আগেও ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে। দেশি মুরগির দাম ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকার নিচে নেই। জনপ্রিয় মাছ যেমন রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও চিংড়ির দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪০–৫০ টাকা পর্যন্ত।
বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বলছেন, অদৃশ্য এক সিন্ডিকেট নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে দামের বিশাল ব্যবধান তৈরি করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।
রামপুরা বাজারের ক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, আগে মাসে কয়েকবার দেশি মুরগি কিনতাম, এখন সেটা স্বপ্ন হয়ে গেছে। মাছ কিনতে গেলেও গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দাম। বাজারের সঙ্গে আয়-রোজগারের কোনো মিল নেই। অসাধু চক্রের সদস্যরা অদৃশ্য থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
আরেক ক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, বাজারে আসলে দেখি কোন জিনিসের দাম একটু কম, সেটাই কেনার চেষ্টা করি। কখন যে কোনটার দাম বাড়ে, বলা যায় না। টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু পণ্য আনতে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি নেই।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের বাজার মনিটরিং দুর্বল হয়ে পড়ায় এই ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’ দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান কমাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।
বাজারে এসে ক্রেতারা—বলছেন গরু-খাসির মাংস অনেক আগেই নাগালের বাইরে গেছে; এখন মুরগি ও মাছও বিলাসী খাবারের তালিকায় ঢুকছে। বেসরকারি চাকরিজীবী ফারজানা হক বলেন, আগে সপ্তাহে একদিন বাজারে যেতাম, এখন দুই দিনে যাই। কারণ প্রতিদিন দাম বাড়ে। সংসার চালাতে এখন বুদ্ধি খাটিয়ে বাজার করতে হয়।
ব্যাংক কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামের লাগাম টানার মতো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। সরকারের নিয়মিত নজরদারি ও সিন্ডিকেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে অস্থিরতা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারাও দাম বৃদ্ধির দায় নিচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়েই প্রতিদিন দাম ওঠানামা করছে। খামারিরা ফিড, পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ানোর অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে খুচরা বিক্রেতাদেরও বাধ্য হয়ে সেই দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন, আগে ১৪০–১৫০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন ১৮০–২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা এক কেজির বদলে আধা কেজি নিচ্ছেন। আমরা পাইকারি দামে বেশি কিনে বেশি দামে বিক্রি না করলে লোকসান গুনতে হয়।
বনশ্রী এ ব্লকের মাছ বিক্রেতা মোদাসসের আলী বলেন, ঘাট থেকে সরাসরি মাছ কিনতে পারি না, আড়তের মাধ্যমে কিনতে হয়। ফলে দাম বেড়ে যায়। বাজারে এসে ক্রেতারা আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখান, কিন্তু আসলে দামের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই।

 

গণতন্ত্রে ফেরার একমাত্র পথ অবাধ নির্বাচন: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ফেরার একমাত্র পথ হলো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আর বিকল্প কোনো পথ নেই। তিনি বলেন, কয়েকজন মিলে আইন করলে গণতন্ত্র হয় না।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে শহীদ নাজিরউদ্দিন জেহাদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করেন নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, যতই সংস্কার করি বা বুদ্ধিজীবীরা মিলে কৌশল আবিষ্কারের চেষ্টা করি, নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত গণতন্ত্রে ফিরে যেতে পারব না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাকামী। তারা বারবার লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে এবং রক্ত দিয়েছে স্বাধীনতার জন্য। দুর্ভাগ্য হচ্ছে সেই লড়াইয়ে মানুষ বারবার হোঁচট খেয়েছে। তবে যতবার হোঁচট খেয়েছে, ততবারই উঠে দাঁড়িয়েছে এবং আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করেছে।
হাসিনাকে শুধু ‘হাসিনা’ বললে একটু সম্মান দেওয়া হয়ে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, দানব হাসিনা দেশের সমস্ত কিছুকে তছনছ করে দিয়েছে। দেশের বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, আমাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা- সমস্ত জায়গা সে তছনছ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু কিছু মানুষ বা সংগঠন জুলাই আন্দোলনকে নিজেদের আন্দোলন বলে দাবি করে। অথচ গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করেছে।
এনসিপিকে শাপলা মার্কা না দিলে ধানের শীষ বাতিল করতে হবে—দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ভাই, আমরা তো তোমাদের মার্কাতে বাধা দিইনি। কোন মার্কা তোমাদের দেবে, তা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। অযথা বিএনপির ধানের শীষকে নিয়ে টানাটানি কেন? কারণ ধানের শীষ অপ্রতিরোধ্য। সারা দেশে ধানের শীষের স্লোগান উঠেছে।
ধানের শীষকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ধানের শীষ জিতে গেলে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা চলে যেতে বাধ্য হবে।

 

নোবেল না পেলেও শান্তির জন্য কাজ করে যাবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার না দেওয়ায় নোবেল কমিটির সমালোচনা করেছে দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজ।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভেনেজুয়েলর বিরোধী দলের আপোষহীন নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ এর প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, শান্তির বদলে রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প নোবেল না পেলেও তিনি শান্তির জন্য কাজ করে যাবেন।
বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ বলেছে, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তি চুক্তি, যুদ্ধ বন্ধ, জীবন রক্ষার কাজ অব্যাহত রাখবেন। তার রয়েছে একটি মানবিক হৃদয়। তার মতো আর কেউ হবে না, যিনি তার নিজের ইচ্ছার শক্তিতে পর্বতকে নড়াতে পারেন। নোবেল কমিটি প্রমাণ করেছে তারা শান্তির বদলে রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছে।”
বার্তাসংস্থা এএফপিকে মারিয়া কোরিনার প্রেস টিম একটি ভিডিও পাঠিয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলার আরেক বিরোধী দলীয় নেতা এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়া নোবেলজয়ী মারিয়াকে ফোন করেছেন। ওই ফোনেই মারিয়া তার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
মারিয়া কোরিনো বলেছেন, ‘আমি অবাক’। জবাবে গঞ্জালেজ বলেন, ‘আমরাও অবাক এবং আনন্দিত’। এরপর ৫৮ বছর বয়সী মারিয়া বলেন, ‘এটি কি, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না’
ভেনেজুয়েলার সরকারের রোষানলের কারণে তিনি লুকিয়ে আছেন। এ কারণে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং দেশটিকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার আন্দোলনের জন্য তাকে নোবেল দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি।

 

ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার উৎসর্গ করলেন মাচাদো

ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো শুক্রবার ভেনিজুয়েলার জনগণকে ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন। তিনি তার দেশের গণতন্ত্র আন্দোলনে ‘সিদ্ধান্তমূলক সহায়তার’ জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করেন।
তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘আমি এই পুরস্কারটি উৎসর্গ করছি ভেনিজুয়েলার দুঃখভোগী জনগণকে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে, আমাদের আন্দোলনের প্রতি তার সিদ্ধান্তমূলক সহায়তার জন্য!’
তিনি আরো লেখেন, ‘আমরা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি এবং আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। আমরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, মার্কিন জনগণ, লাতিন আমেরিকার দেশসমূহ এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতার ওপর বিশ্বাস রাখছি।
বামপন্থী একনায়ক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কারচুপির অভিযোগে কলঙ্কিত নির্বাচনগুলোর পর থেকে এক বছর ধরে মাচাদো ভেনিজুয়েলায় আত্মগোপনে আছেন।
নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারলেও মাচাদো তার প্রতিনিধি সাবেক কূটনীতিক এডমুন্ডো গনজালেজ উরুতিয়ার পক্ষে প্রচার চালান, যাকে আন্তর্জাতিক মহলের বড় অংশ বৈধ বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
নোবেল কমিটি তার ‘ভেনিজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিরাম প্রচেষ্টা এবং একনায়কতন্ত্র থেকে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সংগ্রামের’ স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করেছে।
৫৮ বছর বয়সী মাচাদো ভেনিজুয়েলার উপকূলে বিশাল মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনের মতো মাদুরোর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক চাপকে ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ বলে সমর্থন জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এক্সে মাচাদোর সেই পোস্টটি শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি ট্রাম্পকে তার নোবেল উৎসর্গ করেন।
দুইবারের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হেনরিক ক্যাপ্রিলেসের মতো বিরোধী শিবিরের অন্যান্য নেতারাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ক্যাপ্রিলেস এক্সে লিখেছেন, ‘এই স্বীকৃতি যেন আমাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আরো উৎসাহ জোগায় এবং আমাদের ভেনিজুয়েলাকে দুঃখ-কষ্টের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনে, যার জন্য আমরা বহু বছর ধরে লড়ছি।’

 

ইসরাইল থেকে মুক্তি পেয়ে তুরস্কে পৌঁছালেন শহিদুল

গত ৮ অক্টোবর ফ্রিডম ফ্লোটিলার ‘কনশানস’ জাহাজ থেকে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছিল আলোকচিত্রী ও লেখক ড. শহিদুল আলমকে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেৎজিয়েত কারাগারে। অবশেষে আজ সে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। ইসরাইল থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে ৬৯২১ ফ্লাইটে করে কিছুক্ষণ আগে তুরস্কে পৌঁছেছেন এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে বিষয়টি। সেখানে বলা হয়, ‘তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ইসরায়েল থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমকে স্বাগত জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।’
ইসরাইল থেকে শহিদুলকে মুক্ত করার বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এর জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর শহিদুল আলমসহ ফ্রিডম ফ্লোটিলা নৌবহরের সব সাংবাদিক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও জাহাজের নাবিকদের অপহরণ করে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যায়। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ইসরাইলের কেৎজিয়েত কারাগারে পাঠানো হয়। ইসরাইলের সবচেয়ে বড় আটককেন্দ্র কেৎজিয়েত কারাগার নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত। এখানে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয় বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশেষে সে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন শহিদুল আলম। শিগগিরই তিনি দেশে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।