Home Blog Page 290

আমেরিকান বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘এ্যসেন্ড’-এর উদ্বোধন | প্রবাসী বাংলাদেশি

ডেস্ক রিপোর্ট: নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হচ্ছে প্রতিদিনই। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা নিউইয়র্ক সিটিতে সুনামের সাথে ব্যবসা করছেন। তারা আমেরিকার মূলধারার সাথেও সম্পৃক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশী আমেরিকান নতুন প্রজন্ম ব্যবসা-বাণিজ্যে সফলতার সাথে এগিয়ে আসছে। নতুন প্রজন্মের আমেরিকান বাংলাদেশীরা মেধাবী এবং দেশপ্রেমিক। তারা আমেরিকায় জন্ম নিয়েও বাঙালি ভাষা-সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেয়।

বাংলাদেশী-আমেরিকান পরিচালিত আরও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন হলো কুইন্সের কিউগার্ডেন এলাকায়। এটি মেডিকেল থেরাপি, স্পা সহ যাবতীয় স্কিন কেয়ারের অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান। সূর্য তালুকদারের মালিকানা ও পরিচালনায় এই প্রতিষ্ঠানের নাম এ্যাসেন্ড। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে এই এ্যাসেন্ড ওয়েলনেস এন্ড মেডিকেল স্পা’র উদ্বোধন করা হয়।

ফিতা কাটেন এই প্রতিষ্ঠানের সিইও সূর্য তালুকদার। এই সময় সূর্য তালুকদারের সাথে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট এসেম্বলিম‍্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, এসেম্বলির‍্যনা জেনিফার রাজকুমার সহ নিউইয়র্ক সিটির স্মল বিজনেস সার্ভিস ও অন্যন্য অফিসের প্রতিনিধিবৃন্দ। তারা এই প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশীরা যে দক্ষতার সাথে তাদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তার জন্য ধন্যবাদ জানান। ডেভিড ওয়েপ্রিন ও জেনিফার রাজকুমার সূর্য তালুকদারের হাতে সাইটেশন তুলে দেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদারও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সূর্য তালুকদার, রতন তালুকদারের একমাত্র পুত্র।
IMG 20251024 WA0011
IMG 20251024 WA0009
IMG 20251024 WA0012
IMG 20251024 WA0010 1

ছোটবেলা থেকেই মানুষ আমায় ‘লালনকন্যা’ বলে ডাকে: সালমা

বিনোদন জগতের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সালমা দীর্ঘ ৯ বছর পর কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়ির মূলমঞ্চে গান গাইলেন। লালন শাহের তিরোধান দিবসের আয়োজনে গত শনিবার রাতে তিনি পরিবেশন করেন ‘মিলন হবে কত দিনে’সহ লালনের চারটি গান। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে লালন শাহের আখড়া মঞ্চে গান গাওয়া প্রসঙ্গে কথা বললেন সালমা। অনেক দিন পর আখড়াবাড়িতে গান গাওয়া প্রসঙ্গে সালমা বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর পর গান করলাম। অনেক ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছে— বাড়ির মেয়ে ঘরে ফিরেছি। সবাই জানত আমি আসছি, লালন একাডেমি আগেই জানিয়েছিল। এবার দর্শকদের ভিড় ছিল অসাধারণ। নিজের এলাকার মানুষ যখন এভাবে ভালোবাসা দেখায়, সেটি অন্য রকম এক অনুভূতি।

গুরু বা সহশিল্পী—পুরোনো কারও সঙ্গে দেখা হলো কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, গুরুভাইদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। গুরুজি বাউল শফি মণ্ডলের দুই শিষ্য তফি ভাই আর শাহাবুদ্দীন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এ সংগীতশিল্পী বলেন, তাদের সঙ্গে প্রায় ২৫ বছর আগে থেকে কাজ করছি। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল, যেন আবার সেই ছোটবেলায় ফিরে গেছি। কত স্মৃতি আমাদের। যেখানেই গান করেন, মৌলিক গানের পাশাপাশি লালনের গান করেন, কিন্তু কেন? এর জবাবে সালমা বলেন, আমি কুষ্টিয়ার মেয়ে, তাই এটা আমার দায়বদ্ধতা। ছোটবেলা থেকেই মানুষ আমাকে ‘লালনকন্যা’ বলে ডাকে। আমি নিজে বলি না, মানুষই বলে। জানি না লালন সাঁইজির ‘নাতিপুতি’ হওয়ার যোগ্য কিনা। এ সংগীতশিল্পী বলেন, আমি মনে করি, ফরিদা পারভীনই ছিলেন লালন ফকিরের আসল কন্যা। তিনি সাঁইজির বাণীকে এক জীবনের সাধনায় ধারণ করেছেন। তার অবদান অপরিসীম। যত দিন লালনের বাণী থাকবে, ফরিদা পারভীন ম্যাডামও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

আগামীতে ছেঁউড়িয়ার আয়োজনে আপনাকে দেখা যাবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে সালমা বলেন, অবশ্যই। শুধু লালন উৎসব নয়, কুষ্টিয়াবাসীর যে কোনো অনুষ্ঠানে ডাক পেলে আসতে চাই। তবে আমি চাই, আয়োজকরা যেন সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনেক সময় বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়, তখন বাজেট নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়। তিনি বলেন, এলাকার বাইরে একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসেবে অনুষ্ঠান করে যে টাকাটা ইনকাম করি, তৃতীয় পক্ষ কিন্তু সেই বাজেটটা বলেন। তখন কিন্তু রাগ–অভিমান করে এলাকার আয়োজকরা আমাকে ফোন করা বন্ধ করে দেন। আমি চাই, তারা সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলুন, জানুন আমি কেমন আছি, কী ভাবছি।

দেশের মাটিতেই অবসর নেওয়ার আশা সাকিবের

রাজনীতির ঝড়, নিজেকে বাণিজ্যিকীকরণসহ নানাকিছু নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ে না সাকিব আল হাসানের। তবে সবকিছু সত্ত্বেও তিনি নিজের মতোই খেলে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মাইনর লিগ ক্রিকেটে (এমআইএলসি) আটলান্টা ফায়ারের প্রথম শিরোপা জয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

সম্প্রতি ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের সঙ্গে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সাকিব। তিনি বলেন, জুলাইয়ের সময় কিছু ঘটনা আমার বিরুদ্ধে চলে গেছে। হয়তো দেশের মানুষ আমার থেকে ভিন্ন কিছু আশা করছিল, আর আমি ওই পরিস্থিতিতে তা করতে পারিনি।

অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন অবসর নিয়েও। প্রত্যাশা করেছেন, দেশে খেলে বিদায় নেওয়ার। যদিও ২০২৪ সালে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন সাকিব। ভারতের বিপক্ষে কানপুরে টেস্টে মাঠে নামার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এখনো কোনো ফরম্যাট থেকে অবসর নেননি। শেরই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে শেষবারের মতো বিদায় নিতে চান।

দেশে খেলে বিদায় নেওয়ার সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, শতভাগ প্রত্যাশা করি। এটা আমার চেয়ে বেশি চাই আমার ভক্তদের জন্য। যদি সেটা সম্ভব হয়, তাহলে সেটিই হবে আমার আর আমার সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।’

শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, ডিএসইতে দাম বেড়েছে ২৪৯ কোম্পানির

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার লেনদেন ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারা। দিনের শেষে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে।

ডিএসইতে আজ মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৬টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। এ সময় ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজারের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল ৪৬৮ কোটি ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯২ টাকা।

ডিএসইতে আজ ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের চেয়ে সূচক ৫৫.২০ পয়েন্ট বেড়ে ৫,১৪৯.৮৯ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। ডিএসইএস সূচক ১০.৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৮৮.৫৪ পয়েন্টে এবং ডিএস-৩০ সূচক ২৩.৯২ পয়েন্ট বেড়ে ১,৯৯৮.১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে আজ মোট ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৯টির দর বেড়েছে, ৮০টির দর কমেছে, এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেন শেষে ডিএসইর মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইক্যুইটি ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৬ কোটি ৯ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৯ টাকা, মিউচুয়াল ফান্ড ২ হাজার ৫৭৭ কোটি ৪৯ লাখ ১৪ হাজার ৪৬৫ টাকা এবং ডেবট সিকিউরিটিজ ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৩ টাকা।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ২১৯টি কোম্পানির মধ্যে ১৪২টির দর বেড়েছে, ৫১টির কমেছে এবং ২৬টি অপরিবর্তিত ছিল।

‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৯টি কোম্পানির মধ্যে ৫৭টি বেড়েছে, ১৩টি কমেছে ও ৯টি অপরিবর্তিত ছিল। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৯৫টির মধ্যে ৫০টির দর বেড়েছে, ১৬টির কমেছে ও ২৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘এন’ ক্যাটাগরিতে আজ কোনো কোম্পানির লেনদেন হয়নি।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টির মধ্যে ১৬টির দর বেড়েছে, ৪টির কমেছে ও ১৪টি অপরিবর্তিত ছিল। করপোরেট বন্ডের (সিবি) ৩টি ইস্যুই দরপতনের মুখে পড়ে। অন্যদিকে, সরকারি সিকিউরিটিজ খাতে একমাত্র লেনদেন হওয়া ইস্যুটির দর বেড়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১২৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৮টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা নিয়ে সৌদির গোপন পরিকল্পনা ফাঁস

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব দিতে চায় সৌদি আরব। হামাসকে নিরস্ত্র ও প্রভাবহীন করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে পুনরায় শক্তিশালী করতে চায় রিয়াদ। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক গোপন প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের হাতে এসেছে। সেখানেই এই পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব গাজায় একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগকে সমর্থন করবে। এমন একটি বাহিনীতে সৌদি আরবসহ অন্য আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ অংশ নিতে পারে।

এতে বলা হয়, গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সৌদি আরব নিজের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে চায়। এটি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গাজার শাসনব্যবস্থায় হামাসের ভূমিকা কমানো এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে এমনভাবে সংস্কার করা হবে, যাতে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়।

সৌদি আরব মনে করে, হামাস শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং বিভাজনকে আরো গভীর করছে, তাই গোষ্ঠীটির প্রভাব কমানো জরুরি। হামাসকে নিরস্ত্র করার কাজটি হবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে ধাপে ধাপে, যা নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে।

ধীরে ধীরে গাজায় প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিলে হামাসের প্রভাব কমবে। এই প্রক্রিয়াকে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো উদ্যোগটি মিসর, জর্ডান ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মানাল বিনতে হাসান রাদওয়ান।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সালের পর থেকে গাজায় কোনো উপস্থিতি বজায় রাখতে পারেনি। সে সময় হামাসের নির্বাচনী বিজয়কে কেন্দ্র করে ফাতাহ ও হামাসের সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি মোকাবিলা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে সৌদি আরব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার আনতে চায়। সৌদি ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তাও দেবে। এ ছাড়া ‘ফিলিস্তিনি জাতীয় সংলাপের’ আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিভিন্ন গোষ্ঠী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। সৌদি আরব এই সংলাপকে সহায়তা করতে আঞ্চলিক কর্মশালা ও সম্মেলনের আয়োজন করবে।

তবে হামাসকে এই সংলাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। পুরো প্রতিবেদনে ইসরাইলের নাম একবারও আসেনি।

কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

প্রতিবেদনটিতে যে তারিখ উল্লেখ ছিল, এর আগের দিনই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

গ্রীষ্মকালে সৌদি আরব ও ফ্রান্স যৌথভাবে গাজার জন্য একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে, যা চলমান গণহত্যা বন্ধ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংলাপ পুনরায় চালুর আহ্বান জানায়।

তবে অক্টোবরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করেন, যেখানে কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র সহযোগিতা করে। ওই চুক্তিতে সৌদি-ফরাসি প্রস্তাবের অনেক অংশই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বন্দি বিনিময় ও আংশিক ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ঘটে। হামাস নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয় চুক্তিতে। তবে হামাস নেতারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসরাইলি দখল শেষ হয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণ সম্ভব নয়।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার ও মিসরসহ বিভিন্ন আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনে এসব দেশের সেনা পাঠানোর আহ্বান জানান।

পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে মিসরের শারম আল শেখে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক শীর্ষ বৈঠক ডাকা হয়। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বৈঠকে অংশ নেননি।

মিসর, সৌদি ও আমিরাতি সূত্রগুলো মিডল ইস্ট আইকে জানায়, তাদের অনুপস্থিতির কারণ ছিল চুক্তিতে প্রত্যাশিত প্রভাব ও ভূমিকা না পাওয়া নিয়ে অসন্তুষ্টি।

অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই গাজার মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠনের মূল ব্যয় বহন করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া

এদিকে বৃহস্পতিবার ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেছেন, সৌদি আরব যদি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়, তবে ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করবে।

ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে এনসিপি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি প্রতিনিধি দল। শনিবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এনসিপির প্রতিনিধি দলে থাকবেন—দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন, খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।

বৈঠকে এনসিপির প্রতিনিধি দল জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ, আইনি ভিত্তিসহ সনদের নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

হ্যাকার গ্রুপ ‘মিস্টিরিয়াস এলিফ্যান্টের’ টার্গেটে বাংলাদেশ

এ বছরের শুরুর দিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ‘মিস্টিরিয়াস এলিফ্যান্ট’ নামে এক নতুন হ্যাকার গ্রুপের কার্যক্রম শনাক্ত করেছে ক্যাস্পারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম (জিআরইএটি)।
এই হ্যাকার দলটি মূলত এ অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও পররাষ্ট্র সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে। এদের টার্গেট দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও আশপাশের আরও কয়েকটি দেশ।
এসব সাইবার হামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে অফিসের নথি, ছবি, আর্কাইভ ফাইল ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য চুরি করা। দলটি হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যও চুরির চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে ক্যাস্পারস্কি।
২০২৫ সালের এই নতুন সাইবার হামলায় নিজেদের কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে ‘মিস্টিরিয়াস এলিফ্যান্ট’। এবার টার্গেটেড সাইবার হামলার জন্য নিজস্বভাবে তৈরি টুলের পাশাপাশি ওপেন সোর্স টুলও ব্যবহার করছে দলটি।
‘মিস্টিরিয়াস এলিফ্যান্ট’ মূলত ‘পাওয়ারশেল স্ক্রিপ্ট’ ব্যবহার করে কমান্ড চালানো, ম্যালওয়্যার পাঠানো ও বৈধ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিস্টেমে নিজেদের স্থায়ীভাবে প্রবেশাধিকার ধরে রেখেছে।
হ্যাকার দলটির অন্যতম প্রধান টুল ‘বাবশেল’, যা একটি রিভার্স শেল হিসেবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে সরাসরি সিস্টেমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে তারা।
‘মেমলোডার’ ও ‘হিডেনডেস্ক’ মডিউল ব্যবহার করে হ্যাকাররা এমনভাবে আক্রমণ চালায়, যাতে তাদের ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার মেমরিতে গোপনে কাজ করে এবং সিকিউরিটি সফটওয়্যার যেন তা শনাক্ত করতে না পারে।
এ ছাড়া এ সাইবার অভিযানের আরেকটি দিক হচ্ছে ব্যবহারকারীদের হোয়াটসঅ্যাপ ডেটা চুরি, যেখানে বিশেষ মডিউল ব্যবহার করে শেয়ার করা ফাইল, ছবি ও ডকুমেন্ট সংগ্রহ করছে হ্যাকার দলটি।
ক্যাস্পারস্কি’র জিআরইএটি টিমের প্রধান সিকিউরিটি গবেষক নৌশিন শাবাব বলেছেন, এই হ্যাকার দলটির বিভিন্ন অবকাঠামো, যাতে তা গোপনে কাজ করতে পারে ও সহজে ধ্বংস না হয়। একাধিক ডোমেইন ও আইপি ঠিকানা, ওয়াইল্ডকার্ড ডিএনএস রেকর্ড, ভিপিএস ও ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করছে তারা। বিশেষ করে ‘ওয়াইল্ডকার্ড ডিএনএস রেকর্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি রিকোয়েস্টের জন্য নতুন সাবডোমেইন তৈরি করতে পারে হ্যাকার দলটি, যা তাদের কার্যক্রমের পরিসর বাড়াতে ও নিরাপত্তা টিমের পক্ষে তাদেরকে ট্র্যাক করা কঠিন করে তোলে।
ব্যবহারকারীদের সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ক্যাস্পারস্কি। এ বিষয়ে তাদের নিজেদের তৈরি ক্যাস্পারস্কি নেক্সট, কম্প্রোমাইজ এসেসমেন্ট, ম্যানেজড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স, ইনসিডেন্ট রেসপন্স ও ক্যাস্পারস্কি থ্রেট ইন্টেলিজেন্স-এর কথা বলেছে এ নির্মাতা।

বাংলাদেশ দলে সব সিদ্ধান্ত কি সালাউদ্দিন নেন? জানালেন মিরাজ

জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এ ছাড়া ফিল সিমন্স আছেন প্রধান কোচের ভূমিকায়। তবে নানা সময়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা থাকে বলে অনেকেরই ধারণা সালাউদ্দিনই দল চালাচ্ছেন। তিনিই সব সিদ্ধান্ত নেন কি না সেই প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে। তিনি জানালেন, সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘অবশ্যই হেড কোচ শুরুতে সিদ্ধান্ত নেয়। এটা সবার ধারণা– মনে হয় ক্যাপ্টেন ও কোচ সালাউদ্দিন স্যার (সব সিদ্ধান্ত) নিচ্ছে, আসলে এমন না। সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সবাই একসঙ্গে মিলেই সিদ্ধান্ত নিই। ফিল সিমন্স কথা বলেন, পরামর্শ করেন, সালাউদ্দিন স্যার এবং আমার সঙ্গেও কথা বলেন।’
‘প্রধান কোচের সঙ্গে আমরা অনেক সময় এগ্রি-ডিসএগ্রি করি। তখন উনি সবার কথা শোনেন। আমি একটা কথা বললাম, সালাউদ্দিন স্যারও বললেন। এভাবে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হয়। এমন না যে আমি একাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি বা সেটাই হবে। সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, কেউ একা নিচ্ছে না’, আরও যোগ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বাংলাদেশ দলে সব সিদ্ধান্ত কি সালাউদ্দিন নেন? জানালেন মিরাজ
স্কোয়াডে ক্রিকেটার বাছাই নিয়ে মিরাজ জানান, ‘আপনি হয়তো দেখছেন ১৫ জনের স্কোয়াড। আসলে ওয়ানডেতে ২৫ জনের স্কোয়াড আছে। ২৫-২৭ জন আছে, যাদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানো হচ্ছে। সৌম্য আগের ২ সিরিজে ছিল না। এবার খেলেছে। ২৫-২৭ জন যারা আছে তাদের এভাবেই খেলানো হচ্ছে। আমরা বিশ্বকাপের আগে এভাবে খেলাতে চাই, যেন বোঝা যায় কোন পজিশনে কে ভালো করছে। দিনশেষে পারফরম্যান্সটা তো খুবই জরুরি।’
মিরপুরের উইকেট আগের মতোই আছে উল্লেখ করে মিরাজ বলেছেন, ‘আমরা তো সবসময়ই জানি মিরপুরের উইকেটটা কেমন হবে। এটা তো আমাদের কাছে নতুন কিছু না। আমি ৯ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি। অভিষেকেও এখানেই খেলেছি। পার্থক্য সেরকম কিছু না। আগে একটু ঘাস দিত, এখন ঘাস নেই, জিনিসটা এটাই। ঘাস থাকলে বল অনেক সময় স্কিড করে। এ ছাড়া আর পার্থক্য মনে হয় নাই।’
বিশ্বের সব দলই হোম এডভান্টেজ নেয় বলেও পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন এই তারকা অলরাউন্ডার, ‘পৃথিবীর যেখানেই খেলতে যান, তারা কিন্তু হোম এডভান্টেজটা নেয়। আমরা নিউজিল্যান্ডে খেলেছি, সেখানে হোম এডভান্টেজ দেখেছি। কোনো দল বাংলাদেশে আসলে আমরা হোম এডভান্টেজ নেব। হয়তো বিশ্বকাপে ভালো করিনি (২০২১ সালে), সেটা আলাদা প্ল্যানিং। ৩ মাস আগে থেকে আলাদাভাবে প্ল্যান করা উচিত। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আমার মনে হয় হোম এডভান্টেজ অনেক জরুরি। অবশ্যই ৩ ম্যাচ জিতলে ভালো জায়গায় থাকতাম। শেষ ম্যাচটায় (দ্বিতীয় ম্যাচ) অনেক এক্সাইটমেন্ট ছিল।’

 

ফটোগ্রাফারের আবদার শুনে চটে গেলেন সোনম বাজওয়া

বলিউড অভিনেত্রী সোনম বাজওয়া। শুক্রবার সকালে মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা যায় তাকে; তারই কিছু স্থিরচিত্র ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল।
এদিন সকালে করিডোর ধরে বিমানবন্দরের ভেতরের দিকে এগোচ্ছিলেন অভিনেত্রী। ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করতেই অভিনেত্রীকে দেখে শোরগোল শুরু করে ফটোগ্রাফাররা। আর সে সময় অভিনেত্রীকে ‘পোজ’ দেওয়ার আবদার করে বসেন তারা।
এরপরই নিজের প্রতিক্রিয়া দেন সোনম, পেছন ফিরে খানিকটা বিরক্তের দৃষ্টিতে তাকান, এরপর খানিক চটে গিয়ে বলে ওঠেন, ‘সকাল ৭টার সময় আপনাদের কী ছবি দেব আমি?’
যদিও সোনম মাস্ক থাকায় তার মুখের অভিব্যক্তি পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে কণ্ঠস্বর থেকে বিরক্তি বোঝা যায়। এরপর পরিস্থিতি আর ঘোলাটে করেননি তিনি, হাত নাড়িয়ে ভেতরে চলে যান।
সোনম বাজওয়া বর্তমানে হর্ষবর্ধন রানের সঙ্গে জুটি বেঁধে আলোচনায় রয়েছেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাদের ছবি ‘দিওয়ানে কি দিওয়ানিয়ত’।

 

ব্রয়লারের কেজি ১৭০, পাঙাশ ১৮০!

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজারে মুরগি ও মাছের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও সাধারণ ক্রেতার জন্য তেমন স্বস্তি আসেনি। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, আর পাঙাশ মাছ ১৮০ টাকায়।
বিক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লারের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় সামান্য কমলেও দেশি মুরগি ও অন্যান্য মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে বাজারে সামগ্রিকভাবে দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজার এবং মালিবাগ-বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০-১৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩২০ এবং দেশি মুরগি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পাতিহাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।
বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম সামান্য কমেছে, খুচরা বাজারে এর প্রভাবও পড়েছে। তবে দেশি ও সোনালি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আজমপুর বাজারের বিক্রেতা সালেক ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লারের পাইকারি দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৮০ টাকার ওপরে। এখন সেটা ১৫৫–১৬০ টাকায় নেমে এসেছে। তাই খুচরায় আমরা ১৭০ টাকায় বিক্রি করছি। তবে খাবার আর পরিবহন খরচ না কমলে দাম আরও নামবে না।
মালিবাগ এলাকার বিক্রেতা সাইদুর রহমান বলেন, দেশি আর সোনালি মুরগির দাম অনেক দিন ধরেই একই জায়গায় আছে। ক্রেতারা এখন ব্রয়লারের দিকেই ঝুঁকছে কারণ সেটা তুলনামূলক সস্তা।
আর ক্রেতারা বলছেন, অতিরিক্ত দামের কারণে এখন ব্রয়লার মুরগিতেই ভরসা রাখতে হচ্ছে। কারণ, ব্রয়লার ছাড়া অন্য সোনালি কিংবা পাকিস্তানি ছোট মুরগির দামও হয়ে যায় দ্বিগুণ।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা আজম খান বলেন, ব্রয়লার ছাড়া অন্য মুরগির দাম তো এখন হাতের নাগালে নেই। একটা ছোট সোনালি মুরগিই নিতে ৩৫০ টাকা লেগে যায়। সাধারণ মানুষ এখন শুধু ব্রয়লারেই ভরসা রাখছে। আবার মাসের শেষ। কোনো রকমে বাকি দিনগুলো চালিয়ে নিতে পারলেই হয়।
অন্যদিকে মাছের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে কেজিপ্রতি রুই মাছ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, কাতল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, শিং ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, চাষের মাগুর ৫০০ টাকায়, কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় এবং তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পরিবহন খরচ ও খামার পর্যায়ের মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
এমন অবস্থায় বিক্রেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই খুচরা বাজারে মাছের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে।
মালিবাগ বাজারে মুরগি ও মাছ কিনতে আসা ক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, এখন তো ব্রয়লার আর পাঙাশের দাম প্রায় এক হয়ে গেছে। আগে মুরগি তুলনামূলক সস্তা ছিল, এখন দুটোর দামই ১৭০-১৮০ টাকার মধ্যে। বাজারে গেলে বোঝাই যায়, সব কিছুর দামই এক লেভেলে উঠে গেছে।