Home Blog Page 291

মির্জা আব্বাস-ইশরাকসহ ঢাকার ১৪ আসনে ধানের শীষ পেলেন যারা

ঢাকার ২০ আসনের মধ্যে ১৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ঢাকা-৬ থেকে ইশরাক হোসেন ও ঢাকা-৮ আসন থেকে লড়বেন মির্জা আব্বাস।

গতকাল সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে সারাদেশে ধানের শীষের ২৩৭ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি জানান, ঢাকা-১ আসন থেকে খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২ আসনে আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ বাবু গয়েশর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা-৫ নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা-৬ ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা-১১ এম এ কাইয়ুম, ঢাকা-১২ সাইফুল আলম নিরব, ঢাকা-১৪ সানজিদা ইসলাম তুলি, ঢাকা-১৫ শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৬ আমিনুল হক, ঢাকা-১৯ ড. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ঢাকা-২০ আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন মঞ্জুরুল করিম রনি।

এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে দলীয় প্রার্থীদের নামের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে অন্যরা সাড়া দিলে আমরাও আলোচনায় বসতে রাজি: তাহের

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তবে সরকার উদ্যোগী না হলে রেফারির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে- এমন আশঙ্কাও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার আট দলের সাথে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় দলগুলোর নেতারা আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন৷ সমাবেশ ও গণমিছিলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা৷

দাবি আদায়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ে জরুরি সভা করেন আন্দোলনরত দলগুলোর প্রতিনিধিরা৷ সভা শেষে করা হয় যৌথ সংবাদ সম্মেলন৷

যৌথ সংবাদ সম্মেলন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘উচ্চকক্ষে পিআরের ব্যাপারে আট দলের সবাই, জনগণ ও সরকার একমত। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এ চাওয়া পূরণ হবে না। প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে অন্যরা সাড়া দিলে আমরাও আলোচনা বসতে রাজি৷’

তাহের আরও বলেন, ‘যদি উপদেষ্টা পরিষদ কিছু না করে আমাদের ওপরই ছেড়ে দেয়, তবে রেফারির দায়িত্ব পালন করবে কে?’

তাহের বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা করে একমত হওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারকে রেফারির ভূমিকা পালন করতে হবে। সমমনা আটদল সব রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করতে চায়।’

বিএনপির এক এক নেতা এক এক বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন-এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট হলে সেই ভোটের কোনো মূল্যায়ন থাকবে না৷

বিএনপির একেকজন সংস্কার নিয়ে একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন-সনদের জন্য গণভোট অপরিহার্য বলেও জানান তিনি। একই অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, ‘জুলাই সনদ আইনি ভিত্তি না পেলে পরবর্তী নির্বাচন বৈধতা পাবে না৷ একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন হলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হুমকির মুখে পড়বে। একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনের ইতিহাস নেই।’

আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৭

উত্তর আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে ৬.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বালখ প্রদেশের মাজার-ই-শরীফ শহরের কাছে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৫০ জন আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত রাতে মাজার-ই শরীফের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল ২৮ কিলোমিটার।

মাজার-ই শরীফের সামাঙ্গান এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র সামিম জয়ান্দা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সোমবার সকাল পর্যন্ত মোট ১৫০ জন আহত এবং সাতজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে জানানো হবে।

নীল মসজিদের কথা উল্লেখ করে বলখ প্রদেশের মুখপাত্র হাজি জায়েদ বলেছেন, ভূমিকম্পে পবিত্র মাজার-ই-শরীফের কিছু অংশও ধ্বংস হয়ে গেছে।

প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার জনসংখ্যার শহর মাজার-ই-শরীফ। অনেক বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার ভয়ে মধ্যরাতে রাস্তায় ছুটে আসেন।

আফগানিস্তানে এত বেশি ভূমিকম্প হয় কেন?

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় মাজার-ই-শরিফ শহরের কাছে সোমবার ভোরে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। কয়েক মাস আগেই একই অঞ্চলে একাধিক ভূমিকম্প ও আফটারশকে ২ হাজার ২০০র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তাই প্রশ্ন উঠছে, আফগানিস্তানে এত বেশি ভূমিকম্প হয় কেন?

পাহাড়বেষ্টিত আফগানিস্তান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি। তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে ভূমিকম্পে। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫৬০ জনের মৃত্যু হয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮ কোটি মার্কিন ডলার। ১৯৯০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে পাঁচ মাত্রার বেশি শক্তিশালী অন্তত ৩৫৫টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূতাত্ত্বিকভাবে আফগানিস্তান ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের প্রান্তে অবস্থিত। এর দক্ষিণে রয়েছে ভারতীয় ও আরবীয় টেকটোনিক প্লেট। এই তিনটি প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চল তৈরি করেছে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প সক্রিয় এলাকা। ভারতীয় প্লেটের উত্তরমুখী গতি ও ইউরেশীয় প্লেটের সাথে সংঘর্ষ আফগানিস্তানে ঘন ঘন ভূমিকম্পের মূল কারণ।

কোন কোন এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?

দেশটির পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। রাজধানী কাবুলও ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাবুলে প্রতি বছর গড়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয় ভূমিকম্পে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও মারাত্মক, যা প্রাণহানি আরও বাড়িয়ে দেয়।

১৯০০ সাল থেকে দেশটিতে প্রায় ১০০ ‘বিধ্বংসী’ ভূমিকম্প হয়েছে। ২০২২ সালের ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজার মানুষ নিহত হন। ২০২৩ সালে এক মাসের ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্পে আবারও এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে মোট ৩৯৯ জন প্রাণ হারান।

১৯৯৮ সালে তিন মাসের ব্যবধানে দুটি বড় ভূমিকম্পে যথাক্রমে ২ হাজার ৩০০ ও ৪ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়।

ক্ষতি কীভাবে কমানো সম্ভব?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ভবন নির্মাণের সময় ভূমিকম্প-সহনশীল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পুরোনো স্থাপনা সংস্কার করলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো যাবে। পাশাপাশি উন্নত মনিটরিং ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ভূতাত্ত্বিক ফল্টলাইন চিহ্নিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনবসতি পুনর্বিন্যাস করাও জরুরি।

জোটেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত দল জোটগতভাবে ভোটে অংশগ্রহণ করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বিধান রেখেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ২০২৫ (আরপিও) জারি করা হয়েছে।

সোমবার (০৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়-এ অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একগুচ্ছ সংশোধন আনা হয়েছে আরপিও-তে।

গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করা হয়। এরপর জোটের প্রতীকের সংশ্লিষ্ট ২০ অনুচ্ছেদে সংশোধন নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুললেও জামায়াত ও এনসিপি সংশোধন বহাল রাখার দাবি তোলে।

অবশেষে জোট করলেও ভোট করতে হবে স্ব স্ব দলের প্রতীকে-এমন বিধান রেখেই অধ্যাদেশ জারি করা হলো। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একাধিক নিবন্ধিত দল জোট করলেও জোট মনোনীত প্রার্থী বড় দলের বা অন্য দলের প্রতীকে ভোট করতে পারবে না, নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে।

আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ জারির মধ্যে নির্বাচনী আইনের সব ধরনের সংস্কার কাজ শেষ হলো। এরইমধ্যে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংশোধন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, সাংবাদিক নীতিমালাসহ সব ধরনের আইন-বিধি সংস্কার করেছে ইসি। আরপিও সংশোধন হওয়ায় এর আলোকে দ্রুত দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা জারি করবে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।

আরপিও-এর অনুচ্ছেদ ২০ (প্রতীক বরাদ্দ) সংশোধন করে একটি বিধান যোগ করা হয়েছে, যা জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর একক প্রতীক বরাদ্দের সুযোগকে আরও স্পষ্ট ও বিস্তৃত করেছে।

জোটবদ্ধ দলের প্রতীক বরাদ্দ প্রসঙ্গে সংশোধিত আরপিও-তে বলা হয়েছে, যদি দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে যৌথ প্রার্থী দিতে সম্মত হয়, তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আবেদন সাপেক্ষে সেই প্রার্থী যে দলের অন্তর্ভুক্ত, সেই দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীকটি জোটবদ্ধভাবে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দিতে পারবে। এই আবেদনটি আর্টিকেল ১১ এর অধীনে তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে ইসির কাছে করতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোই ঠিক করবে গণভোটের সময়

জাতীয় ঐক্যমত কমিশন কর্তৃক প্রণীত জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জুলাই জাতীয় সনদের গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।
এ দিন দুপুর ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের করবী হলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ডাকা সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সভায় সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য এবং বহু বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ চূড়ান্তকরণ এবং এতে উল্লেখিত গণভোট আয়োজন ও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে লক্ষ্য করা হয় যে, ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘদিন আলোচনার পরও কয়েকটি সংস্কারের সুপারিশ বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়েছে, গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে ও এর বিষয়বস্তু কি হবে এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে সে জন্য সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই প্রেক্ষিতে গণভোটের সময় কখন হবে, গণভোটের বিষয়বস্তু কি হবে, জুলাই সনদে বর্ণিত ভিন্নমতগুলো প্রসঙ্গে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর আলোকে জরুরিভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে সভা অভিমত ব্যক্ত করে।
এসব ক্ষেত্রে ফ্যসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বীয় উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে (সম্ভব হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে) সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়। এমন নির্দেশনা পেলে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের যে কোনো সুযোগ নেই সেটাও আমাদের সবার বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

‘জায়েদ ভাই সব মেয়েদের ফেভারিট’

০
ঢাকাই সিনেমার গ্ল্যামারাস চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। তার স্টাইলিশ লুক এবং সাবলীল অভিনয় তাকে এনে দিয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। গত মাসে কানাডায় অনুষ্ঠিত ৩৯তম ফোবানার সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই গালা নাইটে পারফর্ম করেন।
ওই সফরেরই এক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সহকর্মী জায়েদ খানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী।
নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘জায়েদ ভাই মিষ্টি মনের মানুষ। দিন দিন তো অনেক হ্যান্ডসাম হয়ে যাচ্ছেন এখন। অনেক বেশি ওয়ার্কআউট-টর্কআউট করছেন। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের সব মেয়েদেরই এখন ফেভারিট হয়ে গেছেন তিনি।’
তার কথায়, ‘আগে তো ছিলই, এখন অনেক ফিট হয়ে গেছে। জায়েদ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই আনন্দের। তিনি এমন মনখোলা প্রাণবন্ত একটা মানুষ যে, কারো মন খারাপ থাকলেও উনার সাথে কথা বললে মন ভালো হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘উনার প্রোগ্রামে যখন উনি বলল, ‘চলো মন্ট্রিয়ালে হাঁটতে হাঁটতে আমরা শুটটা করে ফেলি’। তাই আমি সত্যি গভীর আগ্রহ এবং খুশিও হয়েছিলাম। পাশাপাশি আমি অনেক মজা করেছিলাম। ফান পার্টগুলো না আপনাদেরকে দেখাইনি, ওগুলো এডিট করে দিয়েছে।’

বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলল ভারত

০
পঞ্চান্ন বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটল ভারতের নারী ক্রিকেটে। রোববার (০২ নভেম্বর) নাভি মুম্বাইয়ের ড. ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে হারমানপ্রীত কৌরের দল। এর মধ্য দিয়ে তারা ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ল—অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পরেই ভারত এখন শিরোপাধারীদের তালিকায়।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা মিলে গড়েন ১০৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। মান্ধানা ৪৫ রানে ফিরলেও শেফালি খেলেন ঝড়ো ৭৮ বলে ৮৭ রানের ইনিংস, যার মধ্যে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। তার সঙ্গে জেমিমা রদ্রিগেজ যোগ করেন ২৪ রান।
মিডল অর্ডারে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর (২০) ও দীপ্তি শর্মা (৫৮) ইনিংসকে মজবুত করেন। দীপ্তি নিজের ১৮তম অর্ধশতক তুলে নিয়ে শেষ দিকে রিচা ঘোষের (৩৪) সঙ্গে মিলে ভারতের স্কোর দাঁড় করান ২৯৮ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। লরা উলভার্ট (১০১) ও তাজমিন ব্রিটস মিলে দেন ৫১ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ। তবে ব্রিটসের রান আউটেই ভাঙে সেই জুটি, এরপরই ছন্দ হারায় প্রোটিয়া ব্যাটাররা। সুনে লুস (২৫) ও আনরিরি ডেরকসেন (৩৫)-এর ইনিংস সামান্য লড়াই দিলেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দীপ্তি শর্মা। তার ঘূর্ণিতে লুটিয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
বল হাতে দীপ্তি ছিলেন অনবদ্য। ৯.৩ ওভারে মাত্র ৩৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫টি উইকেট—যা তাকে এনে দেয় ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। শেফালি ভার্মা নেন ২টি উইকেট, শ্রি চরানি ১টি।
এই জয়ে ভারতীয় নারী দল শুধু নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপই জিতল না, বরং নারী ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে এই জয় হয়ে থাকবে স্মৃতি মান্ধানা–শেফালি ভার্মা–দীপ্তি শর্মাদের সোনালি প্রজন্মের সেরা স্মারক হিসেবে।

কিছুটা কমেছে মুরগির দাম, গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত

গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩১০ টাকায়। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ৩২০ টাকায় বিক্রি হওয়া পাকিস্তানি মুরগি চলতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়। এছাড়া দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬০০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মুরগির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। বিক্রেতা ফরিদ বলেন, এ সপ্তাহে দাম কমেছে মুরগির, সাপ্লাই ভালো ছিল।
বাজারে আগত ক্রেতা মোস্তফা জামান বলেন, দাম কমলেও শেষপর্যন্ত ব্রয়লারেই ভরসা রাখতে হয়। অন্য মুরগির দাম কমলেও সেটা তো সামর্থ্যের মধ্যে আসেনি। আরেক ক্রেতা কাজী আসাদও বলেন, আপাতত ব্রয়লার কেনা ছাড়া উপায় নেই।
এদিকে মুরগির দাম কমলেও বাজারে গরু-খাসির দাম আগের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি গরু গত সপ্তাহের মতো ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়।

এফবিসিসিআই’র প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম

দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হিসেব দায়িত্ব গ্রহণ করলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান।
রোববার (০২ নভেম্বর) সকালে সংগঠনটির প্রশাসক হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে ট্রেড অর্গানাইজেশন অ্যাক্ট, ২০২২ এর ধারা ১৭ এর অধীনে মো. আবদুর রহিম খান এফবিসিসিআই’র প্রশাসক নিযুক্ত হন। ওই আদেশ অনুযায়ী, তিনি ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্নের মাধ্যমে নির্বাচিত বোর্ডের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ফেডারেশনের পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ দাবিতে সদস্যদের একাংশ তৎপর হন। সভাপতির পদ থেকে মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। ১১ সেপ্টেম্বর পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তাকে ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত পর্ষদে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ১৪ মাসেও নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হন। ফলে আজ নতুন করে আবার প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়োগ করা হয় মো. আবদুর রহিম খানকে।