তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু নিয়ে গুজব!
উপদেষ্টাদের অনেকেই নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছেন: নাহিদ ইসলাম
‘ভারতকে যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের নিচেই কবর দেওয়া হবে
শিগগিরই সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে ঐকমত্য কমিশন
‘অসুরের মুখে দাড়ি’ চক্রান্তের পেছনে ফ্যাসিস্ট দোসরদের মদদ রয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
৩০০ টাকা ছাড়াল মরিচ, মাছ-মুরগি-সবজিতেও স্বস্তি নেই
ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করতে চায় না জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভাজিত করার পক্ষে নয় জামায়াত।
জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপি নেতাসহ ৪১ জন
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
৫ বল হাতে রেখেই জিতল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের ১৪৭ রান বাংলাদেশ পেরিয়ে গেল ৮ উইকেট হারিয়ে। ২ উইকেটের জয় বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে সিরিজও। তিন ম্যাচ সিরিজে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ট্রফি নিশ্চিত করেছে।
নাসুম আহমেদের পর রিশাদ হোসেনও যখন দ্রুত সাজঘরে ফেরেন, তখন হারের শঙ্কাটা জেঁকে বসেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। এরপর নুরুল হাসান সোহানের ছক্কায় আসে স্বস্তি। সেই স্বস্তির রেশ টেনে দারুণ ফিনিশিং করেন ১০ নম্বর ব্যাটার শরিফুল ইসলাম, খেললেন বিশেষজ্ঞ ব্যাটারের মতো।
শুক্রবার শারজাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিল টাইগাররা। আফগানদের দেওয়া ১৪৮ রানের লক্ষ্যে টাইগাররা পৌঁছে যায় পাঁচ বল হাতে রেখে।
আগের দিন দারুণ শুরুর পর হঠাৎ ব্যাটিং ধসে পড়া বাংলাদেশকে উদ্ধার করেছিলেন সোহান ও রিশাদ। এদিন শুরু থেকেই দোদুল্যমান অবস্থায় থাকা ম্যাচের শেষ দিকে এসে নায়ক বনে যান শরিফুল। ৬ বলে ২টি চারে খেলেন হার না মানা ১১ রান। ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন সোহান।
এর আগে সিরিজে টিকে থাকতে বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াকু পুঁজিই পেয়েছে আফগানিস্তান। দুই ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান ও সেদিকুল্লাহ অতলের সঙ্গে তিনে নামা রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাটে এই রান তোলে তারা। যদিও ভালো সূচনার পর শেষ দিকে টাইগারদের দারুণ বোলিংয়ে স্লগওভারের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি দলটি।
শুক্রবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৭ রান তুলে আফগানিস্তান। অর্থাৎ জিততে হলে ১৪৮ রান করতে হবে বাংলাদেশকে।
সেদিকুল্লাহ ও ইব্রাহিম খুব বেশি আক্রমণাত্মক না হলেও প্রায় আট ওভারে ওপেনিং জুটিতে ৫৫ রান এনে দেন। তাতে বড় পুঁজির স্বপ্নই দেখছিল দলটি। এরপর অবশ্য বাংলাদেশের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ান, বিশেষকরে দুই স্পিনার রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদ। তাতে রানের গতিতে লাগাম থাকে।
রিশাদ ও নাসুম দুইজনই পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। সেদিকুল্লাহকে ফিরিয়ে রিশাদ জুটি ভাঙার পর আরেক ওপেনার ইব্রাহিমকে তুলে নেন নাসুম। এরপর ওয়াফিউল্লাহ তারাখিলকে দ্রুত ফেরান রিশাদ। আর দাঁড়উইস রাসুলিকে ছাঁটাই করেন নাসুম।
তবে গুরবাজ এক প্রান্তে টিকে গিয়েছিলেন। দারুণ কিছু বাউন্ডারি আদায় করে হুমকি দিচ্ছিলেন টাইগারদের। তাকে দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে বোল্ড করেন শরিফুল ইসলাম। তাতে শেষ দিকের সুবিধা আদায় করতে পারেনি আফগানরা। পাঁচ উইকেট হাতে থাকলেও শেষ চার ওভারে ৩০ রান তুলতে পারে দলটি।
আফগানিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন ইব্রাহিম ৩৭ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় এই রান করেন। এছাড়া গুরবাজ ৩০ ও সেদিকুল্লাহ ২৩ রান করেন। শেষদিকে মোহাম্মদ নবি ১২ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন।
হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য টাইগারদের
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২ উইকেটে আফগানদের হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ, আজ শেষ ম্যাচে জিতলেই আফগানদের করা যাবে হোয়াইটওয়াশ। শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় ম্যাচেও হয়েছে বেশ ভালো লড়াই। আগে ব্যাট করতে নেমে ১৪৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় আফগানিস্তান। জবাব দিতে নেমে শুরুতে হোঁচট খেলেও জাকের আলী অনিক এবং শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ব্যাটে চড়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তবে শেষ দিকে আবারও দুজনের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। আরও একবার বাংলাদেশের ত্রাতা হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। শেষ দিকে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছিলেন শরিফুল ইসলামও। সোহান-শরিফুলের ব্যাটে চড়ে জয়ের বন্দরে চলে যায় বাংলাদেশ। ২ উইকেটের জয়ে নিশ্চিত হয়েছে সিরিজ জয়ও। ম্যাচ শেষে সোহানের ২১ বলে ৩১ রানের হার না মানা ইনিংসের প্রশংসায় মেতেছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সোহানের ইনিংস নিয়ে সিমন্স বলেছেন, ‘আজকে সে (সোহান) দারুণ ইনিংস খেলেছে। এমন জায়গায় যখন জাকের-শামীম ফিরে গেল, সে সেখান থেকে আমাদের হয়ে খেলাটা শেষ করে আসলো। ব্যাটারদের থেকে এটাই চাই আমি। যখনই সুযোগ আসবে যেন দায়িত্ব নিয়ে আমাদের ম্যাচ জেতায়।’
ম্যাচ নিয়েও সন্তুষ্টি ঝরেছে প্রধান কোচের কণ্ঠে, ‘প্রথমে বলব, ম্যাচ দুর্দান্ত ছিল। গতকালের ম্যাচ থেকে অনেক ভালো হয়েছে। আজকে উইকেট অনেক সময় ধরে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল। ফলে অনেক বেটার ম্যাচ হয়েছে।’
ফিল সিমন্স আরও বলেন, ‘আমাদের বোলিং ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করে যাচ্ছে। যে কম্বিনেশনেই যাই না কেন, আমরা আমাদের বোলিংয়ের উপর ভরসা করতে পারি, এটা আমরা জানি। বোলিং গত ৫-৬ সপ্তাহ ধরে অনেক ভালো হচ্ছে। এটা আমাদের গ্রোথের অংশ। বোলিং আমাদের ২ ম্যাচেই ভালো জায়গায় নিয়ে এসেছে। আজকে তারা ভালো শুরু পেলেও মাঝে এবং বিশেষ করে শেষ দিকে আমরা ভালো বোলিং করেছি। ভালো জায়গায় বল করে যেতে হবে। শারজাহতে উইকেট টু উইকেট বল করে যেতে হবে। আমাদের বোলাররা সেটাই করেছে। স্পিনাররা ভালো করেছে। গতকাল ওপেনাররা দেখিয়েছে তারা কী করতে পারে। আজকে লোয়ার মিডল অর্ডার নিজেদের দক্ষতা দেখিয়েছে। এক্সাইটিং, অ্যাগ্রেসিভ ক্রিকেট খেলতে চাই আমরা, এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
সিমন্স আরও বলেছেন, ‘স্পিনারদের (বিরুদ্ধে) ভালোই খেলি আমরা। এটা আমাদের শক্তি। আজকে ভালোই করেছি। গতকাল সেভাবে পারিনি, পারলে ভালো হত। আজ যেভাবে চেয়েছি তা করতে পেয়েছি।’
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই সমর্থকদের প্রায় হার্ট অ্যাটাকের দশা করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। এবারও একদম শেষ দিকে গিয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। ব্যাপারটা হার্টের জন্য ক্ষতিকর মানছেন প্রধান কোচ সিমন্সও। তবে এমন অভ্যাস থাকলে তা সামনে কাজে লাগবে বলেও মনে করেন কোচ। ফিল সিমন্স বলেন, ‘(হাসি) (এভাবে জেতাটা) আমার জন্যও ক্ষতিকর। ক্রিকেট এরকমই আসলে। যদি শুরুতে জেতার পর আরও ক্লোজ ম্যাচ জিততে পারেন পরে আবারও ক্লোজ ম্যাচ আসলে আত্মবিশ্বাস পাবেন। ফলে এই ব্যাপারটা আসলে ভালো। তবে আমাদের কারও (স্বাস্থ্যের) জন্যই জিনিসটা ভালো নয়, আমাদের হার্ট এতকিছু সহ্য করতে পারবে না।’
সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ আজ ৫ অক্টোবর, জিতলেই আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ।


