বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুহি লোরেন গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায়
সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ছাড়াল ২ লাখ
নির্বাচনের অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে গেছে, নির্বাচন হবে: মান্না
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি সভাপতি বুলবুল, সহসভাপতি ফারুক-সাখাওয়াত
পরিচালকদের ভোটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সভাপতি পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ।
বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে সবশেষ মেয়াদে (এখনো) বুলবুলই আছেন। এনএসসি থেকে মনোনয়ন পেয়ে অন্তর্বতী সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। এবার প্রথমবার বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাবেক এই ক্রিকেটার। এখন নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি।
ক্যাটাগরি-১ অর্থাৎ জেলা ও বিভাগ কোটায় নির্বাচিত হয়েছেন ১০ জন, ক্যাটাগরি-২ বা ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১২ জন। ক্যাটাগরি-৩ অর্থাৎ সাবেক ক্রিকেটার এবং বিভিন্ন সরকারি এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোটা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১ জন।
নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে নির্বাচিত করা হয় বিসিবি সভাপতি। তবে পরিচালকদের মধ্য থেকে বুলবুল ছাড়া আর কেউই সভাপতি পদের জন্য আগ্রহ না দেখানোয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হয়েছেন তিনি।
ক্যাটাগরি-১ অর্থাৎ জেলা ও বিভাগ কোটা থেকে যারা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আহসান ইকবাল চৌধুরি ও আসিফ আকবর, খুলনা বিভাগ থেকে আব্দুর রাজ্জাক রাজ ও জুলফিকার আলি খান, ঢাকা বিভাগ থেকে নাজমুল আবেদিন ফাহিম ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বরিশাল বিভাগ থেকে সাখাওয়াত হোসেন, সিলেট বিভাগ থেকে রাহাত শামস, রাজশাহী বিভাগ থেকে মোখলেসুর রহমান ও রংপুর বিভাগ থেকে হাসানুজ্জামান।
ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ঢাকার ক্লাব কোটা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ইশতিয়াক সাদেক, শানিয়ান তানিম, মেহরাব আলম চৌধুরী, ফারুক আহমেদ, আমজাদ হোসেন, মোকসেদুল কামাল, মঞ্জুরুল আলম, আদনান রহমান দিপন, আবুল বাশার শিপলু , ইফতেখার রহমান মিঠু, ফয়জুর রহমান ও নাজমুল ইসলাম।
ক্যাটাগরি-৩ অর্থাৎ সাবেক ক্রিকেটার এবং বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোটা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন খালেদ মাসুদ পাইলট।
এনএসসি কোটায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন এম ইসফাক আহসান ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক।
ইনশাআল্লাহ দ্রুতই দেশে ফিরে আসব : তারেক রহমান
দীর্ঘ দুই দশক পর গণমাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফেরাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির ও বিবিসি বাংলার সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দ্রতই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
কেন আপনি এখনো দেশে ফেরেননি– সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু সংগত কারণে হয়তো ফেরাটা হয়ে উঠেনি এখনো। তবে সময় তো চলে এসেছে মনে হয়। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই ফিরে আসব।’
সেটা কবে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দ্রুতই মনে হয়। দ্রুতই ইনশাআল্লাহ।’
নির্বাচনের আগে আপনি দেশে আসবেন এমন সম্ভাবনা বলা যায়? জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনীতি যখন করি, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে স্বাভাবিক, নির্বাচনের সাথে রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক কর্মীর একটি ওতপ্রোত সম্পর্ক। কাজেই যেখানে একটি প্রত্যাশিত, জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনের সময় কেমন করে দূরে থাকব? আমি তো আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, ইচ্ছা থাকবে, আগ্রহ থাকবে সেই প্রত্যাশিত যে প্রত্যাশিত নির্বাচন জনগণ চাইছে। সেই প্রত্যাশিত নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে জনগণের সাথে জনগণের মাঝেই থাকব ইনশাআল্লাহ।’
দেশে আসার বিষয়ে নিরাপত্তার শঙ্কার কথা বলছেন কেউ কেউ। আপনি কি কোনো ধরনের শঙ্কা বোধ করেছেন এর মধ্যে– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রকম শঙ্কার কথা তো আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তো শুনেছি। সরকারেরও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও তো অনেক সময় অনেক শঙ্কার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে, বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’
সাক্ষাৎকারের শুরুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘সময় তো স্বাভাবিকভাবে ব্যস্তই যাচ্ছে। ফিজিক্যালি হয়তো আমি এই দেশে আছি, বাট মন-মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে তো আমি গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশেই রয়ে গিয়েছি।’
গণমাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘদিন কথা না বলার বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যাপারটা বোধ হয় এরকম না, ব্যাপারটা বোধ হয় একটু ভিন্ন। আসলে আমি কথা ঠিকই বলেছি। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর এখানে আছি এই দেশে, প্রবাস জীবনে, তবে আমার উপরে যখন দলের দায়িত্ব এসে পড়েছে তারপর থেকে আমি গ্রামে-গঞ্জে আমার নেতাকর্মীসহ তাদের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষ যখন যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে, আমি সকলের সাথে কথা বলেছি।’
‘আপনারা নিশ্চয়ই জানেন বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় কোর্ট থেকে রীতিমতো একটা আদেশ দিয়ে আমার কথা বলার অধিকারকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমি যদি গণমাধ্যমে কিছু বলতে চাইতাম, হয়তো গণমাধ্যমের ইচ্ছা ছিল ছাপানোর, গণমাধ্যম সেটি ছাপাতে পারত না।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি একবার প্রেস ক্লাবে কথা বলেছিলাম। পরের দিন দেখলাম যে তখনকার প্রেস ক্লাবের যারা সদস্য ছিলেন বা কমিটি ছিল, তারা একটি মিটিং ডেকে একটি সভা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা তখন আমাকে আইনের দৃষ্টিতে ফেরারি বলা হয়েছিল যে, সেরকম কোনো ব্যক্তিকে তারা প্রেস ক্লাবে কথা বলতে দেবে না। এভাবে তারা চেষ্টা করেছিল আমার কথা বন্ধ করে রাখতে।’
তিনি বলেন, ‘আমি কথা বলেছি, সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন পন্থায় আমি পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি, আমি ইনশাআল্লাহ পৌঁছেছি মানুষের কাছে। কাজেই গণমাধ্যমে যে কথা বলিনি তা না। আমি কথা বলেছি হয়তো আপনারা তখন কথা নিতে পারেননি অথবা শুনতে পারেননি। ইচ্ছা থাকলেও ছাপাতে পারেননি, হয়তো প্রচার করতে পারেননি। কিন্তু আমি বলেছি, আমি থেমে থাকিনি।’
চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
চিকিৎসাবিদ্যায় অনবদ্য অবদান রাখায় চলতি বছর যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় সুইডেনের স্টকহোম থেকে ২০২৫ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট।
চিকিৎসায় এ বছরের নোবেল বিজয়ীরা হলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক মেরি ই. ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের শিমন সাকাগুচি। পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স নিয়ে গবেষণার জন্য চলতি বছর তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট বলেছে, মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমের কাজ হলো শরীরকে জীবাণু ও ভাইরাসের মতো বাইরের হুমকি থেকে রক্ষা করা। তবে কখনও কখনও এই ব্যবস্থা ভুলবশত শরীরের নিজস্ব টিস্যুকেই আক্রমণ করে বসে; যার ফলে দেখা দেয় অটোইমিউন রোগ।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মানবদেহের ‘সেন্ট্রাল টলারেন্স’ বা কেন্দ্রীয় সহনশীলতার ধারণার ওপর গবেষণা করে আসছিলেন। এতে টি-সেল নামের এক ধরনের প্রতিরোধক কোষ থাইমাসে গঠিত হওয়ার সময়ই শরীরের নিজস্ব উপাদানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও পরে তা ধ্বংস হয়ে যায়।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ওলে কাম্পে বলেছেন, মানবদেহের সব সেলফ-রিঅ্যাক্টিভ টি-সেল থাইমাসে ধ্বংস হয় না; কিছু কোষ রক্তে থেকে যায়। এই কোষগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শরীরের বাইরে (থাইমাসের বাইরের অংশে) আরও একটি প্রক্রিয়া কাজ করে; সেটিকে পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স বলা হয়।
চলতি বছরের নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানী এই প্রক্রিয়ার মূল রহস্য উদঘাটন করেছেন। গবেষণায় তারা দেখেছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখে বিশেষ এক ধরনের কোষ; যাকে রেগুলেটরি টি-সেল (Treg) বলা হয়। এসব কোষের বিকাশ ও কার্যক্রম নির্ভর করে ফক্সপিথ্রি (FOXP3) নামের একটি জিনের ওপর।
শিমন সাকাগুচি ১৯৯০-এর দশকে প্রথম প্রমাণ করেন, মানবদেহে এমন একটি রেগুলেটরি টি-সেল আছে, যা শরীরের নিজস্ব টিস্যুর বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় আক্রমণ রোধ করে। পরে মেরি ই. ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড র্যামসডেল ইঁদুর ও মানুষের শরীরে ফক্সপিথ্রি (FOXP3) জিনের ত্রুটি শনাক্ত করেন; যা এই টি-সেলের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
গবেষণায় তারা দেখান, ফক্সপিথ্রি (FOXP3) জিনই এসব কোষের বিকাশের মূল নিয়ন্ত্রক এবং এটি পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্সের ভিত্তি তৈরি করে। এই আবিষ্কারের ফলে এখন বিজ্ঞানীরা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, কীভাবে মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, কেন এই প্রক্রিয়া ভেঙে গেলে অটোইমিউন রোগ দেখা দেয় এবং কীভাবে ক্যানসার কোষ কখনও কখনও এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ইমিউন সিস্টেমের আক্রমণ থেকে বেঁচে যায়।
চিকিৎসাশাস্ত্রের এই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে একটি মেডেল, সনদপত্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা পাবেন।
এর আগে, গত বছর চিকিৎসাশাস্ত্রে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের দুই চিকিৎসাবিজ্ঞানী ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রাভকুনকে। মাইক্রো আরএনএ আবিষ্কার এবং পোস্ট ট্রান্সক্রিপশন জিন নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখায় তাদের ওই পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রতিবছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণা করে সুইডেনের স্টোকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেলবিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স।
১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল। এ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুসারে। ঊনবিংশ শতকের এই বিজ্ঞানী শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিলেন।
তিনি উইল করে গিয়েছিলেন যে তার যাবতীয় অর্থ থেকে যেন প্রতি বছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য—এই ৫টি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের নামকরণ হবে তার নামে। ১৯৬৯ সাল থেকে এই ৫ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনীতিও।
ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত : চট্টগ্রামে পরিদর্শন করবেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্প
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন।
রোববার (৫ অক্টোবর) ব্যারোনেস উইন্টারটনের ঢাকায় পৌঁছানোর তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ হাইকমিশন।
ব্রিটিশ হাইকমিশন জানায়, সফরকালে ব্যারোনেস উইন্টারটনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংস্কার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা। এসব বৈঠকে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশন আরও জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থানকালে বাণিজ্য দূত বিমান চলাচল, উচ্চশিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
চট্টগ্রামে তিনি যুক্তরাজ্য সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন, যেখানে এসব বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ এবং উভয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আনছে।
এ সফরে যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের গুরুত্বও তুলে ধরা হবে। এই বাণিজ্য সুবিধা কর্মসূচির আওতায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া, তিনি ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট, যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ও তাদের স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে সবুজ অর্থায়ন ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা গুরুত্ব পাবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশন বলছে, বাণিজ্য দূতের এই সফরের লক্ষ্য বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে সহায়তা করা এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করা।
এ সফর নিয়ে ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি গতিশীল ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বিদ্যমান। বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়ন যাত্রাকে সহায়তা করার এবং দুই দেশের জন্য উপকারী নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুযোগ অন্বেষণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতেই আমি এখানে এসেছি।
তিনি বলেন, আমি যুক্তরাজ্য-সমর্থিত বিনিয়োগগুলো সরাসরি দেখতে উদগ্রীব, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, সরবরাহ শৃঙ্খলকে মজবুত করছে এবং উভয় দেশের অর্থনীতিতে বাস্তব মূল্য যোগ করছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সফরটি যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ বাণিজ্য অংশীদারত্ব দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আমরা পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী।
চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হচ্ছেন ৬ জন
চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচনে ছয় পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। রোববার (৫ অক্টোবর) নির্বাচন বোর্ড থেকে প্রকাশিত বৈধ প্রার্থীর তালিকায় এই তথ্য জানা গেছে।
তালিকা অনুযায়ী, ট্রেড গ্রুপ থেকে মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, মোহাম্মদ আমিরুল হক ও এস এম সাইফুল আলম এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে আবসার হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে বাকি ১৮ পরিচালক পদে ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে অর্ডিনারি গ্রুপের ১২ পদে ৪১ জন এবং অ্যাসোসিয়েট মেম্বার গ্রুপের ৬ পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তালিকা অনুযায়ী অর্ডিনারি গ্রুপের বৈধ প্রার্থীরা হলেন— এএসএম ইসমাইল খান, এটিএম রেজাউল করিম, আবু হায়দার চৌধুরী, আহমেদ রশিদ আমু, আহমেদ-উল আলম চৌধুরী (রাসেল), মো. সালামত আলী, আমানুল্লাহ আল-সগীর, আসাদ ইফতেখার, এমাদ এরশাদ, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জাভেদ সিদ্দিকী, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, কাজী ইমরান এফ রহমান, মাসুদ আহমেদ, মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মো. আবদুল কাদের, মো. আবসার হোসাইন, মো. আবু হেননা ফারুকী, মো. আরিফ হোসাইন, মো. আশিক ইবনে সাফা, মো. দেলোয়ার হোসাইন, মো. গোলাম সরওয়ার, মো. হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, মো. জামাল উদ্দিন, মো. নাজমুল হুদা, মো. শওকত আলী, মো. ওয়াহিদ মুরাদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আজিজুল হক, মোহাম্মদ রাশেদ আলী, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ মুসা, মোহাম্মদ শফিউল আলম, রাকিবুল আলম চৌধুরী, রিয়াজ ওয়েজ, সালাউদ্দিন আহমেদ, সরতাজ মোহাম্মদ ইমরান, শহিদুল আলম, শাহজাদা মোহাম্মদ ফওজুল আলিফ খান ও তাওসিফ আহমেদ।
অ্যাসোসিয়েট সদস্য গ্রুপের প্রার্থীরা হলেন— মো. কামরুল হুদা, মো. নেজাম উদ্দিন, মো. পারভেজ ইকবাল শরীফ, মো. সেলিম নূর, মো. শওকত আলী, মোহাম্মদ মশিহুল আলম, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ আইয়ুব, মো. নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, এসএম কামাল উদ্দিন, এসএম নুরুল হক, সরওয়ার আলম খান, সৈয়দ খুরশিদ আলম ও সৈয়দ মোস্তফা কামাল পাশা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত নির্বাচন বোর্ড গত ১১ আগস্ট ২০২৫–২৬ এবং ২০২৬–২৭ মেয়াদের পরিচালকমণ্ডলীর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ১ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চেম্বারের ২৪ পরিচালক পদে ভোট গ্রহণ হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রাথমিক বাছাইয়ে ৩৫টি মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে অনেকে প্রার্থিতা ফিরে পান।
চেম্বারের সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ সদস্য ৪ হাজার ১ জন, সহযোগী সদস্য ২ হাজার ৭৬৪ জন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন সদস্য ৫ জন এবং ট্রেড গ্রুপের সদস্য ১০ জন।
বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হানিফের, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আগামী ১৪ অক্টোবর হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বাকি দুই সদস্য হলেন— অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিম, সহিদুল ইসলাম।
শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একইসঙ্গে ১৪ অক্টোবর হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গ রোববার হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউশন। এতে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
তিন আসামি হলেন— কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। তবে চারজনই পলাতক রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ছয়জন। একইসঙ্গে আহত হন বেশ কয়েকজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসানুল হক ইনু ও মাহবুবউল আলম হানিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।
এবার ১০ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে : সিইসি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দায়িত্ব পালন করা প্রায় ১০ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর ভোটের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ (সোমবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এ কথা জানান সিইসি। সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির উর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিইসি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদে ২১ লাখ মৃত ভোটার========= চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের অনেকেই আগে ভোট দিয়ে যেত।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশন জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজনে। গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নির্বাচনের অনূকূল পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়। এজন্য সকলের সহযোগিতা চাই। এআই-এর অপব্যবহার রোধে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকা রাখতে হবে। এ ছাড়া প্রবাসী, নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করেন, সেসব সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটের ব্যবস্থা আমরা করবো। প্রায় ১০ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে ভোটের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবার। সবাইকে সাথে নিয়ে স্বচ্ছভাবে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চাই। আয়নার মতো স্বচ্ছ করে এই নির্বাচন করতে চাই।
সকাল সাড়ে ১০টায় টিভি মিডিয়া এবং দুপুর আড়াইটায় পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে বসবে সংস্থাটি। দু’দফায় প্রায় ৫০ জনের মতো গণমাধ্যম প্রতিনিধির সংলাপে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভোটের সংলাপ শুরু করে ইসি। ওইদিন সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবি ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সংলাপ শুরুর দিন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অর্ধেকেরও বেশি সুশীল ও বুদ্ধিজীবী অংশ নেয়নি।


