Home Blog

শর্ত না মানলে বাতিল হতে পারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা, সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে নিজের অধ্যয়ন কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ালে তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

Untitled%20design%20(99) 1787382445

দূতাবাস আরও বলেছে, সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সব সময় ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের বৈধ অবস্থান বজায় রাখার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করলে শুধু বর্তমান ভিসার ওপরই প্রভাব পড়বে না, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা পড়াশোনার জন্য ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে দূতাবাসের বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

কলকাতায় আগুন পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ নিয়ে বেনাপোলের পথে স্বজনেরা

কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার সকালে একজনের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। আর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্য এবং সাভারের জোবায়ের বাবুর মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা কলকাতা থেকে বেনাপোল সীমান্তের পথে রওনা দিয়েছেন।

কলকাতার পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড থেকে শনিবার ভোরে সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন। ভারতীয় সময় ভোর ৬টার দিকে রওনা হয়ে সকাল ১০টার মধ্যে সীমান্তের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার আরেক বাসিন্দা রেবতী সরকারের শেষকৃত্য শনিবার দিবাগত রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিমতলা শ্মশানঘাটে তার শেষকৃত্য করা হয়।

এদিকে শনিবার দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটের দিকে পিস ওয়ার্ল্ড থেকে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার পরিবারের সদস্য আকরাম আলী (৭৪), আফসানা শারমীন (২৭) ও স্বর্ণাশীষ দত্ত (২) এবং সাভারের জোবায়ের বাবুর (৩৭) মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে।

মরদেহগুলো নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশে ফেরার সময় পিস ওয়ার্ল্ডে উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ। এ সময় প্রথম সচিব (কনস্যুলার) মো. জিল্লুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) ওমর ফারুক আকন্দসহ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৯ আগস্ট কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ এলাকায় কলেরার টিকা শুরু

কলেরা প্রতিরোধে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪ উপজেলা ও থানায় দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা (ওসিভি) দেওয়া শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর প্রথম ধাপ চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা নেওয়া জরুরি। এক বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী সব সুস্থ ব্যক্তি বিনামূল্যে এ টিকা নিতে পারবেন। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র ও ইপিআই বুথে টিকা দেওয়া হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও অঞ্চল এবং মুন্সিগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায় এ কর্মসূচি চলবে।

হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, কলেরার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। এখন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকাই নিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুই ডোজ সম্পূর্ণ করার পর টিকাটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ইউরিকল প্লাস’ বর্তমানে প্রচলিত কলেরার টিকাগুলোর মধ্যে নিরাপদ এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম। কারও কারও ক্ষেত্রে হালকা বমি ভাব বা সাময়িক ডায়রিয়ার মতো মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ব্যাপকভাবে টিকাদানের সুফল ও ভবিষ্যতে মহামারি প্রতিরোধে এর প্রভাব কতটা কার্যকর হয়েছে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, কলেরার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। গ্যাভিও (টিকাদান বিষয়ক বৈশ্বিক জোট) অনেক আগে টিকার ব্যবস্থা করেছে। এখন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্যাভির তৈরি একটি বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে ‘প্রায়োরিটি এরিয়াস ফর মাল্টিসেক্টোরাল ইন্টারভেনশন’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধে মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে আগে সুরক্ষা দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলেরা প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু টিকার মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিরাপদ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও বলছে, দীর্ঘমেয়াদে কলেরা নির্মূলে বিশুদ্ধ খাবার পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পাশাপাশি এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রেফ্রিজারেটরের কনডেনসারে নতুন যুগ, কপারের জায়গা নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি

দীর্ঘদিন ধরে রেফ্রিজারেটরের কনডেনসার তৈরিতে কপার বা তামার ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। উচ্চ তাপ পরিবাহিতা, ক্ষয় প্রতিরোধ ও সহজে মেরামতের সুবিধার কারণে এটি ছিল বহুল ব্যবহৃত উপাদান। তবে সময়ের সঙ্গে রেফ্রিজারেটরের প্রযুক্তি ও চাহিদা বদলেছে। এখন শুধু কনডেনসারের তাপ পরিবাহিতা নয়; কম বিদ্যুৎ ব্যবহার, কম রেফ্রিজারেন্ট চার্জ, কম ওজন, ক্ষয় প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা ও পরিবেশগত প্রভাব কমানোর বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় কপারের প্রচলিত ব্যবহারের জায়গায় অ্যালুমিনিয়াম, কোটেড স্টিল, জিঙ্ক-অ্যালুমিনিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম কোটেড উপকরণ এবং অল-অ্যালুমিনিয়াম মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জারের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এটি শুধু একটি ধাতুর বদলে আরেকটি ধাতুর ব্যবহার নয়; বরং পুরো রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তির বিবর্তনের অংশ।

কেন বদলাচ্ছে কনডেনসারের প্রযুক্তি
আধুনিক রেফ্রিজারেটরের কর্মক্ষমতা শুধু কনডেনসারের উপাদানের ওপর নির্ভর করে না। টিউবের আকৃতি ও পুরুত্ব, পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল, ফিনের নকশা, বাতাস ও রেফ্রিজারেন্টের প্রবাহ এবং পুরো কুলিং সিস্টেমের নকশাও গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রজন্মের কম্প্রেসর, উন্নত ইনসুলেশন, ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ও পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট। ফলে পুরো সিস্টেমকে অপটিমাইজ করে কার্যকর কুলিং নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মাইক্রোচ্যানেল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন
আধুনিক কনডেনসার প্রযুক্তির অন্যতম উদাহরণ মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জার। এতে গোলাকার টিউবের পরিবর্তে বহু ক্ষুদ্র চ্যানেলযুক্ত সমতল অ্যালুমিনিয়াম টিউব ব্যবহার করা হয়। এই নকশায় কম জায়গায় বড় কার্যকর হিট ট্রান্সফার সারফেস তৈরি করা সম্ভব। ফলে কনডেনসার হয় তুলনামূলক হালকা ও কমপ্যাক্ট, পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণও কমানো যায়।

International Journal of Refrigeration-এ প্রকাশিত R600a রেফ্রিজারেটর বিষয়ক একটি গবেষণায় মাইক্রোচ্যানেল কনডেনসারের নকশা অপটিমাইজ করে মোট রেফ্রিজারেন্ট চার্জ প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, আধুনিক কনডেনসারে শুধু ধাতু নয়, হিট এক্সচেঞ্জারের নকশাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ZAM কোটিংয়ে ক্ষয় প্রতিরোধে নতুন সমাধান
স্টিল বা অন্য উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষয় প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে জিঙ্ক-অ্যালুমিনিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম বা ZAM কোটিং নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এ প্রযুক্তিতে স্টিলের ওপর বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করা হয়, যা আর্দ্রতা ও ক্ষয়কারী উপাদান থেকে মূল ধাতুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। Nippon Steel-এর সল্ট-স্প্রে পরীক্ষায় তাদের ZAM কোটিং সাধারণ হট-ডিপ জিঙ্ক কোটিংয়ের তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বেশি ক্ষয় প্রতিরোধী হওয়ার ফল দেখিয়েছে।

কপার সাধারণত অরক্ষিত স্টিলের তুলনায় বেশি ক্ষয়রোধী হলেও আধুনিক কনডেনসারে এই সরাসরি তুলনা সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। কারণ এখন স্টিলের ওপর ZAM-এর মতো উন্নত ক্ষয়রোধী প্রলেপ ও অতিরিক্ত পলিমার সুরক্ষা ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে আর্দ্রতা, লবণাক্ততা, দূষণ ও কিছু রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে কপারেও ক্ষয় হতে পারে। ফলে কনডেনসারের স্থায়িত্ব শুধু মূল ধাতুর ওপর নয়, কোটিং ও সুরক্ষা প্রযুক্তির ওপরও নির্ভর করে।

Corrosion Science সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাতেও সোডিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত পরিবেশে Zn-Al-Mg কোটিংয়ের উন্নত ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষায় আরও এক ধাপ
কিছু আধুনিক কনডেনসারে ZAM কোটিংয়ের ওপর হিট-শ্রিংক পলিমার স্লিভ বা অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক আবরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও লবণাক্ত বাতাসের সঙ্গে মূল ধাতুর সরাসরি সংস্পর্শ আরও কমানো যায়।

ফলে কনডেনসারের স্থায়িত্ব এখন শুধু মূল উপাদান দিয়ে নয়; বরং কোটিং, প্রতিরক্ষামূলক স্তর ও পুরো নির্মাণপ্রযুক্তির সমন্বয়ে বিচার করা হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্টেও বদলেছে নকশা
আধুনিক রেফ্রিজারেটরে R600a বা আইসোবিউটেনের ব্যবহার বাড়ছে। এর গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রভাব তুলনামূলক কম হওয়ায় পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেশনে এটি গুরুত্ব পাচ্ছে। ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় R600a ব্যবহার করে উচ্চ দক্ষতার রেফ্রিজারেটর তৈরিতে পুরো রেফ্রিজারেশন সাইকেল অপটিমাইজ এবং রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের কনডেনসারকে আলাদা যন্ত্রাংশ হিসেবে নয়, পুরো উচ্চ দক্ষতার কুলিং সিস্টেমের অংশ হিসেবে নকশা করা হচ্ছে।

মেরামতের চেয়ে ত্রুটি কমানোর চেষ্টা
কপার কনডেনসারের পরিচিত সুবিধা হলো মেরামতযোগ্যতা। তবে নতুন প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শুরু থেকেই ত্রুটির ঝুঁকি কমানোর ওপর। উন্নত উৎপাদনপ্রক্রিয়া, স্বয়ংক্রিয় ম্যানুফ্যাকচারিং, ক্ষয় প্রতিরোধী কোটিং, মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষা ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এমন কনডেনসার তৈরির চেষ্টা চলছে, যাতে দীর্ঘ সময়ে মেরামতের প্রয়োজন কম হয়।

উৎপাদন ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা
অ্যালুমিনিয়াম হালকা এবং মাইক্রোচ্যানেল প্রযুক্তিতে কমপ্যাক্ট হিট এক্সচেঞ্জার তৈরির উপযোগী। স্টিলও আধুনিক স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থায় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে পণ্যের ওজন কমানো, উৎপাদন সহজ করা এবং বিভিন্ন নকশায় রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ায় কম কাঁচামাল, কম রেফ্রিজারেন্ট ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে দীর্ঘস্থায়ী পণ্য তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত বাতাস রেফ্রিজারেটরের ধাতব যন্ত্রাংশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই এ দেশের বাজারে নতুন প্রজন্মের কনডেনসারের ক্ষেত্রে ক্ষয় প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ।

ZAM কোটিং ও অতিরিক্ত পলিমার সুরক্ষা আর্দ্রতা ও লবণাক্ত পরিবেশ থেকে ধাতুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রায় কার্যকর কুলিং নিশ্চিত করতে কনডেনসার, কম্প্রেসর, রেফ্রিজারেন্ট ও ইভাপোরেটরের সমন্বিত নকশাও গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রেতাদের মান যাচাইয়ের ধারণাও বদলাচ্ছে
দীর্ঘদিন ধরে কপার কনডেনসার অনেক ক্রেতার কাছে ভালো রেফ্রিজারেটরের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। তবে এখন শুধু কনডেনসারের উপাদান নয়; জ্বালানি দক্ষতা, উচ্চ তাপমাত্রায় কুলিং পারফরম্যান্স, ক্ষয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা, রেফ্রিজারেন্ট, কম্প্রেসর, ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

অর্থাৎ প্রশ্নটি এখন শুধু ‘কনডেনসার কী দিয়ে তৈরি’—এখানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ‘পুরো কুলিং সিস্টেমটি কতটা দক্ষ, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য’—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেশনের পথে শিল্পখাত
রেফ্রিজারেশন শিল্প এখন কম বিদ্যুৎ ব্যবহার, কম রেফ্রিজারেন্ট চার্জ, কম ওজন, উন্নত ক্ষয় প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা—এসব বিষয় একসঙ্গে নিশ্চিত করার দিকে এগোচ্ছে।

মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জার, অ্যালুমিনিয়াম, ZAM-কোটেড স্টিল, মাল্টি-লেয়ার করোশন প্রোটেকশন এবং R600a-এর মতো পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট এই পরিবর্তনেরই অংশ।

কপার দীর্ঘদিন ধরে রেফ্রিজারেশন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন তার পাশাপাশি এবং অনেক ক্ষেত্রে তার জায়গায় আসছে নতুন উপাদান, উন্নত হিট এক্সচেঞ্জার ডিজাইন ও সুরক্ষা প্রযুক্তি। তাই এই পরিবর্তনকে শুধু ‘কপার থেকে অন্য ধাতুতে যাওয়া’ নয়, বরং আরও হালকা, দক্ষ, ক্ষয়-প্রতিরোধী ও পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তিতে উত্তরণ হিসেবেই দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যেতেই পারেন, তা হতে হবে সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারাবিশ্বই সফর করতে পারেন। দেশ ভারত সফর করতেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার, বন্ধুত্বের। এখন এই দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। মানুষ চায় ভারতের সাথে সম্পর্ক হোক বন্ধুত্বের, সমমর্যাদার, সমতার ভিত্তিতে।

শুক্রবার রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সদস্য (রোকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলেই চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলেই এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কিনা এটাই বড় বিষয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জামায়াত দেশের মানুষের কাছে আদর্শিক সংগঠনের নাম। এই আস্থা অর্জন করতে এই সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে এদেশের মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ও আদর্শ সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

আগামী স্থানীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীদেরকে জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের নেতাকর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির কেরামত আলী এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এমপি। বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে বন্ধ সেবামূলক কাজ

খুলনার কয়রায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের বিরোধ ও সমন্বয়হীনতায় স্থবির হয়ে পড়েছে সরকারি নানা সেবামূলক কার্যক্রম। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি ভাতা, সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুই দলের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি চাপ ও প্রভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে স্বাভাবিক সরকারি সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর হওয়ায় তাঁর অনুসারী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই দলের এমন অনড় অবস্থানের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটছে।

আটকে গেছে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ
জানা গেছে, উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত টানা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে দুই রাজনৈতিক দলের বিরোধের কারণে দীর্ঘ সময় পার হলেও ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, দ্রুত ফলাফল ঘোষণার লক্ষ্যে গভীর রাত পর্যন্ত কষ্ট করে পরীক্ষা নেওয়া হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা ফলাফল প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছেন।
একইভাবে সম্প্রতি বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নির্বাচনেও দুই দল বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, প্রতিটি ইউনিয়নের ১৫টি মসজিদ বাছাই করে নামের তালিকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও দুই দলের নেতারা তাঁদের পছন্দের লোক ঢোকাতে অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন। ফলে নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বন্ধ খাবার পানির ট্যাঙ্ক বিতরণ
কয়রা উপজেলায় লবণাক্ততার কারণে খাবার পানির তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর থেকে ভূগর্ভস্থ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৩ থেকে ১৫ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার প্লাস্টিকের ট্যাঙ্ক বিতরণ কার্যক্রম চালু ছিল। দুই দলের দ্বন্দ্বের কারণে সুফলভোগীদের তালিকা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
কালনা গ্রামের ফরমান সরদার ও মমতাজ বেগম বলেন, ছয় মাস আগে ট্যাঙ্কির জন্য আবেদন করেছিলাম, পাইনি। অফিসে গেলে বলা হয় দুই দলের ঝামেলা মিটলে দেওয়া হবে। আমরা রাজনীতির হিসাব বুঝি না। অথচ নেতাদের টানাটানিতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ জানান, সংসদ সদস্যের কাছ থেকে নির্ধারিত তালিকা না পাওয়ায় বর্তমানে প্লাস্টিকের ট্যাঙ্ক বিতরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মহিলা বিষয়ক দপ্তর ও সমাজসেবা অফিসের নানাবিধ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগী নির্বাচনেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় পর্যায় থেকে একাধিক তালিকা আসার কারণে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নে কিছুটা বিলম্ব ঘটছে।’

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুই দলের নেতাদের টানাপোড়েনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেমন বিব্রত হচ্ছেন, তেমনি প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে রাজনীতি থেকে ঝরে পড়া অপশক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। দ্রুত সমাধান না হলে সার্বিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন বাবুল বলেন, ‘এ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাঁদের দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে একচ্ছত্র প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন; যার ফলে সরকারি সুবিধাভোগী নির্বাচনে বাধা তৈরি হচ্ছে। আমরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি।’
ইউএনও মো. আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ সরকারি নিয়মনীতি ও বিধিবিধান অনুসরণ করে কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সুপারিশ বা চাপ অনেক সময় আমাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এর ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।’

৮ বছর একসঙ্গে থাকার পর নতুন জীবনে অর্জুন রামপাল-গ্যাব্রিয়েলা

বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপাল ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী গ্যাব্রিয়েলা দেমেত্রিয়াদেস বিয়ে করেছেন। আট বছর একসঙ্গে থাকার পর শুক্রবার গোয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন ৫৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা।

উত্তর গোয়ার মাপুসার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বিকেল ৪টার দিকে বিয়ের জন্য হাজির হন অর্জুন ও গ্যাব্রিয়েলা। জমকালো পোশাক বা কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না। সাদামাটা পোশাকে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন।

সাব-রেজিস্ট্রার সুরজ ভেরনেকার জানান, গোয়ার ইউনিফর্ম সিভিল কোডের আওতায় তাদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে। স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় স্বাক্ষরের মধ্যে ১৫ দিনের অপেক্ষার বিধান রয়েছে। তবে বিশেষ অনুমতি নিয়ে সেদিনই প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন। বিয়ের ১৫ দিন পর মূল বিয়ের সনদ পাওয়ার কথা রয়েছে।

অর্জুন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মডেল গ্যাব্রিয়েলার সম্পর্কের শুরু ২০১৮ সালে। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রথম সন্তান অরিকের জন্ম হয়। ২০২৩ সালে জন্ম নেয় দ্বিতীয় সন্তান আরিভ।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও এতদিন তারা একসঙ্গেই সংসার করেছেন। ২০২৫ সালে অর্জুন প্রকাশ্যে জানান, গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে বাগদান হয়েছে। এরপর ২০২৬ সালে এসে সম্পর্ক পেল আইনি স্বীকৃতি।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্কের জন্য বিয়ের কাগজ খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। সম্পর্কের মূল বিষয় হলো দুজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও একে অপরকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করা। তিনি বিয়ের বিরোধী নন বলেও জানিয়েছিলেন।

গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে অর্জুনের বিয়ে হয়েছিল মডেল ও সাবেক মিস ইন্ডিয়া মেহর জেসিয়ার সঙ্গে। ১৯৯৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই মেয়ে মাহিকা ও মাইরা।

প্রায় ২১ বছর সংসার করার পর ২০১৯ সালেবিচ্ছেদ  হয়। বিচ্ছেদের পরও দুই মেয়ের সঙ্গে অর্জুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক ও নতুন সংসার শুরু করার পাশাপাশি আগের দুই মেয়ের সঙ্গেও বাবার দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

বর্তমানে অর্জুন ও গ্যাব্রিয়েলা গোয়ার পানাজির কাছে বসবাস করেন। দীর্ঘদিনের প্রেম, দুই সন্তান ও একসঙ্গে সংসার করার পর এবার আইনি স্বীকৃতিও পেল সম্পর্ক।

হেসেছি, কেঁদেছি, আবার কখনও আবেগে ভেসেছি: অপূর্ব

তারকা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জীবনের প্রথম একক কনসার্টে গান গেয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনায় আসেন তিনি। প্রথম কনসার্টের সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশে ফিরেছেন এই অভিনেতা। ফিরেই আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন অভিনয়ে। একদিকে বিদেশের মাটিতে গান গেয়ে দর্শকের প্রশংসা, অন্যদিকে দেশে ফিরে একের পর এক নাটকের কাজ–সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অপূর্ব।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় অপূর্বর জীবনের প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান। অভিনয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় হলেও গানেও যে তিনি দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারেন, সেই প্রমাণ মেলে ওই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। কনসার্টের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আরও একক কনসার্টে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। আপাতত সেসব প্রস্তাবে সম্মতি না দিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন।

প্রথম কনসার্টের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন, ‘যেহেতু এটা ছিল আমার জীবনের প্রথম কনসার্ট, তাই আমার ওপর অনেক চাপ ছিল। যেহেতু আমরা কোনো স্পন্সর নিইনি, সে জন্য চাপ এবং চ্যালেঞ্জটা অনেক বেশি ছিল। প্রথম দিকে একটু ভয়েই ছিলাম। পরে ঘোষণা দেওয়ার পর দেখলাম, একটু একটু করে আমার এই কনসার্ট দেখার জন্য সবার মধ্যে প্রবল আগ্রহের সৃষ্টি হয়।’

নিউইয়র্কের ওই কনসার্টে শুধু সেখানকার দর্শকই নন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকেও দর্শক উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অপূর্বর কয়েকজন সহশিল্পীও যোগ দেন। গান পরিবেশনের পাশাপাশি দর্শকের সঙ্গে কথোপকথনেও অংশ নেন তিনি।

নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে অপূর্ব বলেন, ‘শুধু নিউইয়র্ক থেকেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে আমার কনসার্ট উপভোগ করার জন্য দর্শক এসেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে আমার অনেক সহশিল্পীরাও এই কনসার্টে যোগ দেন। যেহেতু সবমিলিয়ে আমার জীবনের প্রথম গানের অনুষ্ঠান অবিশ্বাস্য এক স্মরণীয় সন্ধ্যায় পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি স্টেট থেকে গান গাওয়ার প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। আমি রেগুলার শো করতে চাই না। এটি করলে শ্রোতার প্রতি আমার আকর্ষণ কমে যাবে।’

কনসার্টে গান গাওয়ার পাশাপাশি নানা আবেগঘন মুহূর্তেরও মুখোমুখি হন অপূর্ব। কখনও গান গেয়েছেন, কখনও দর্শকের সঙ্গে কথা বলেছেন, আবার কখনও আবেগে ভেসেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। অপূর্ব বলেন, ‘গান গেয়েছি, গানের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলেছি, কখনও হেসেছি, কখনও কেঁদেছি, আবেগে ভেসেছি–আমি সবার ভালোবাসায় মুগ্ধ, অভিভূত। দিনটি জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

তবে বিদেশের মাটিতে গান গাওয়ার সেই ব্যস্ততা শেষ করে দেশে ফিরেই অভিনয়ের কাজে মন দিয়েছেন অপূর্ব। ইতোমধ্যে মাশরিকুল আলম ও মাহমুদুর রহমান হিমির নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। সামনে আরও কয়েকজন নির্মাতার নাটকে কাজ করার কথা রয়েছে তাঁর। সৈয়দ শাকিল, রুবেল হাসান, জাকারিয়া সৌখিন, মুরসালিন শুভ ও এস আর মজুমদারের নাটকে দেখা যাবে তাঁকে।

অপূর্ব জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই আটটি নাটকের কাজ শেষ করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে দীর্ঘ সময় দেশে থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ বিদেশের মঞ্চে গান এবং দেশে নাটকের শুটিং–দুই মাধ্যমেই আপাতত ব্যস্ত থাকছেন এই অভিনেতা।

দেশে ফিরে নাটকের কাজ শুরু করা প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন, ‘আমার প্রথম কনসার্টেরও রেশ কাটতে না কাটতেই দেশে ফিরেই কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছি। যাদের নাটকে কাজ করছি বা করব, প্রত্যেকের নাটকের গল্প এক কথায় অসাধারণ। বিশেষত, সৈয়দ শাকিল ভাইয়ের নাটকের গল্পটা জীবন থেকে নেওয়া। এ নাটকে আমি শার্লিনের বিপরীতে অভিনয় করেছি। তাঁর সঙ্গে আমার অনেক দিন পর কাজ হয়েছে। তাঁর সঙ্গে কাজ করে মনেই হয়নি অনেক দিন পর কাজ করেছি। মনে হয়েছে, আমারা দুজন প্রতিদিনিই কাজ করছি। আমাদের মধ্যে কাজের বোঝাপড়াটা ভালো ছিল বলে এমনটি মনে হয়েছে। নাটকের টিম ওয়ার্কটা ভালো ছিল বলে কাজ অনেক সহজ হয়েছে।’

আসন্ন নাটকগুলোতে সময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন অপূর্ব। নিজের দর্শকের প্রত্যাশার কথাও মাথায় রাখছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমার ভক্ত-দর্শকের কথা মাথায় রেখেই ভালো ভালো গল্পের নাটকে কাজ করছি। আশা করছি, প্রতিটি নাটকই দর্শকের ভালো লাগবে।’

অভিনয় তাঁর মূল পরিচয় হলেও নিউইয়র্কের প্রথম একক কনসার্ট অপূর্বর শিল্পীসত্তার আরেকটি দিক সামনে এনেছে। বিদেশের মাটিতে গান গেয়ে পাওয়া দর্শকের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়েই এখন দেশের নাটকের কাজে ফিরেছেন তিনি। ফলে সামনে তাঁর ব্যস্ততায় যেমন থাকবে অভিনয়ের গল্প, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সেই স্মরণীয় সংগীতসন্ধ্যার অভিজ্ঞতাও হয়ে থাকবে তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপ্রধান। এরপর তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

নতুন রাষ্ট্রপতি সেখানে পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণও করেন। রাষ্ট্রপ্রধান সেখান থেকে সরাসরি মিন্টু রোডের বাসায় ফিরবেন। তিনি রোববার বঙ্গভবনে উঠবেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে।

বঙ্গভবনে উঠবেন রোববার 
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার বঙ্গভবনে উঠবেন বলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে। সেদিন সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওয়ানা করবেন। রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোববার বঙ্গভবনে ২ নম্বর গেইটে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল ‘গার্ড অব অনার’ মঞ্চে নিয়ে যাবে। সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেবে। এ পর্ব শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে তাঁর কার্যালয়ে যাবেন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব সামলানো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।

২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। এরপর বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ

খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে টানা বৃষ্টিতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকা ও দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি ও ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে দীঘিনালা-সাজেক ও দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল।

খাগড়াছড়ি আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকস্মিক ভারী বৃষ্টির কারণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে।

পানি বেড়ে খাগড়াছড়ি শহরের কাঁচাবাজার, মুসলিমপাড়া, গরুর বাজার, শান্তিনগর ও খাগড়াছড়ি গেটসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চলও পানিতে তলিয়ে গেছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক এলাকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।

আকস্মিক বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশপাশের স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে, ভারী বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা থেকে সাজেক এবং দীঘিনালা থেকে লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই দুই রুটে চলাচলকারী মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।