Home Blog Page 3

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে শিগগিরই হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে খুব শিগগির হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে।

চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ বলা যায় কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এটিকে ‘সামরিক সংঘাত’ বলতে পছন্দ করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না। আমিও এটিকে সামরিক সংঘাত বলি। কারণ, এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়। এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানে হামলার আগে কয়েক দিন সেখানে বড় ধরনের কোনো লড়াই হয়নি। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ‘বিরতি দিয়ে দিয়ে হামলা’ চালাচ্ছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালাচ্ছে। তার দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের সুরক্ষায় থাকা ইরানের রাডার, উড়োজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাইন অপসারণকারী জাহাজ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির মাইনও সরানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ তিনি দাবি করেন, পিকঅ্যাক্সসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে।

আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকঅ্যাক্স ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। পাহাড়ের শত শত মিটার পুরু গ্রানাইট স্তরের নিচে সেখানে দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা থাকতে পারে। তবে ইরানের দাবি, স্থাপনাটি উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হয়।

গভীর ভূগর্ভে অবস্থানের কারণে স্থাপনাটি ধ্বংস করা কঠিন বলে মনে করা হয়। এ কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রেখেছে। তার ভাষ্য, এর ফলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরও নিরাপদ হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আমরা সেটিই করেছি। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’

চলমান সংঘাত কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেননি ট্রাম্প। তবে তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয়টি অর্জন করেছি-ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরান থেকে সরে গেলেও দেশটির অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তেহরানের প্রায় ২৫ বছর সময় লাগবে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান? খাদ্যতালিকায় যোগ করুন ৫খাবার

সাধারণ খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ রাখে। দৈনন্দিন কিছু খাবার হজমতন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফার্মেন্টেড খাবার থেকে শুরু করে ফাইবারযুক্ত ডাল, নির্দিষ্ট কিছু ফল অন্ত্র-বান্ধব খাদ্যতালিকায় উপকারী সংযোজন হতে পারে।

ভারতীয় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য পাঁচটি খাবারের কথা জানিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছে দই, ফার্মেন্টেড খাবার, হালকা কাঁচা কলা, পেঁপে এবং ফাইবারযুক্ত ডাল। এসব খাবারের প্রত্যেকটিই অন্ত্রকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সহায়তা করে।

দই এবং অন্যান্য ফার্মেন্টেড দুগ্ধজাত খাবার

ডা. শেঠির প্রথম পছন্দ হলো দই এবং বাটারমিল্ক। তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রাকৃতিকভাবে গাঁজানো এই খাবারগুলিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করে। এই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের মতে, এসব খাবার বুকজ্বালা এবং পেট ফাঁপার মতো হজম সংক্রান্ত সমস্যা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের জন্য ফার্মেন্টেড 
টক দই, পান্তা ভাত, অতিরিক্ত তেল-মসলা ছাড়া ঘরোয়া আচার  ভালো ব্যাকটেরিয়ার উৎস। এছাড়া কিমচি ও সর্কআউট বাঁধাকপি বা অন্যান্য সবজি গাঁজন করে তৈরি এই খাবারগুলোতে প্রচুর মাইক্রোবিয়াল বৈচিত্র্য থাকে।

ডা. শেঠি বলেন, ফার্মেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়া শ্বেতসারকে আংশিকভাবে ভেঙে দেয়, যা নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োমকে সহায়তা করে।

হালকা কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ডা. শেঠির খাদ্যতালিকায় হালকা কাঁচা কলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পুরোপুরি পাকা নয়-এমন কলাগুলোতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে, যা কোলনের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন , এই প্রক্রিয়াটি বিউটিরেটের মতো শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে, যা কোলনের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পেঁপে হজমে সহায়তা করতে পারে

পেঁপেতে প্যাপেইন নামক একটি এনজাইম রয়েছে, যা প্রোটিন হজমের সাথে জড়িত। ডা.শেঠি বলেন, প্যাপেইন প্রোটিন হজমে এবং মলত্যাগকে সহজ করতে সাহায্য করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন,পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও সাহায্য করতে পারে।

আঁশযুক্ত শিম জাতীয় খাবার 
আঁশযুক্ত শিম জাতীয় খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। যার মধ্যে রয়েছে ছোলা, মসুর ডাল এবং শিম। ডা.শেঠির মতে, এই খাবারগুলো প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য যোগায়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো আবার অন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীরের কার্যকারিতাকে সহায়তা করে।

‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর ২৫০০তম অনুষ্ঠান উদযাপন

সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর ২,৫০০তম পর্বে পদার্পণ উপলক্ষে চ্যানেল আই ভবনে গত বৃহস্পতিবার এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় ২৫০০তম অনুষ্ঠানে পৌঁছানোকে ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা। তাদের মতে, দর্শকের আগ্রহ, আস্থা ও ভালোবাসাই অনুষ্ঠানটির দীর্ঘ পথচলার প্রধান শক্তি।

সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা, বিশ্লেষণ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের সামনে তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরছে ‘টু দ্য পয়েন্ট’। সময়ের সঙ্গে বিষয়বস্তু ও গণমাধ্যমের ধরনে পরিবর্তন এলেও প্রাসঙ্গিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দর্শকের কাছে তা উপস্থাপনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে অনুষ্ঠানটি।

‘ইউসিবি টু দ্য পয়েন্ট’-এর ২,৫০০তম অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ, আজিজুল বারি হেলাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল হক, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম, সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও মোশাররফ হোসেন ভুইয়া, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইকবাল হোসেন তাপস, এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার, ড. জাহেদুল বারী ও মনিরা পারভিন, ইউসিবি পিএলসি’র চিফ কমিউনিকেশন অফিসার জিসান কিংশুক হক, লে. ক. (অব.) শরিফ উদ্দিন, মেজর খোশরোজ সামাদ, দৈনিক যায়যায়দিন-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সজিব ওনাসিস এবং সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ।ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, হৃদয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে চ্যানেল আইয়ের সকল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশই প্রথম।

দীপ্তি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই সংবাদের চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খান, ইউসিবি টু দ্য পয়েন্ট-এর প্রযোজক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজু আলীম, জয়েন্ট অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর তারিকুল ইসলাম মাসুম, বিশেষ প্রতিনিধি রিজভী নেওয়াজ এবং উপস্থাপক তুহিনুর সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

২,৫০০তম অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আয়োজনে বক্তারা বলেন, একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানকে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিতভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ‘টু দ্য পয়েন্ট’ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২,৫০০তম অনুষ্ঠানে পৌঁছেছে। এর পেছনে রয়েছে অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরলস পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং দর্শকের ধারাবাহিক সহযোগিতা।

তারা আরও বলেন, ২,৫০০টি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা শুধু একটি সংখ্যাগত অর্জন নয়; এটি দর্শকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের একটি আস্থার সম্পর্কের প্রতিফলন। দর্শকের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই ‘টু দ্য পয়েন্ট’ ভবিষ্যতের পথচলা অব্যাহত রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এর দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সময়ে যুক্ত থাকা উপস্থাপক, সাংবাদিক, আলোচক, গবেষক, বিশ্লেষক ও কলাকুশলীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন সবাই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সময়ে টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের তথ্য গ্রহণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফলে দর্শকের চাহিদা ও তথ্য গ্রহণের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আরও তথ্যসমৃদ্ধ, প্রাসঙ্গিক ও বিশ্লেষণধর্মীভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ ও সময়োপযোগী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। দর্শকের আস্থা ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানান তারা।

রাউজানে যুবক খুন থানায় মামলা, পাঁচ দুর্বৃত্তকে শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ

চট্টগ্রামের রাউজানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল করিম নামে যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁর স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। এদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচ দুর্বৃত্ত এসে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

এদিকে করিম হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত রায়হান ফেসবুকে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
আবদুল করিমের (৩৫) বাড়ি উপজেলার হারপাড়া গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, করিমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচ দুর্বৃত্ত এসে কেরানীহাট বাজারের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা করিমকে প্রথমে চাপাতি দিয়ে কোপায়। পরে দুজন আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, করিমের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলাসহ ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের ১০টি মামলা রয়েছে।  করিম নিজেকে ‘যুবদল কর্মী’ পরিচয় দিতেন, এমন তথ্য নাকচ করেছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সাহিল।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক তথ্য পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এ উপজেলায় এ নিয়ে খুন হয়েছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী খুন হয়েছেন ২৪ জন।

ফেসবুকে রায়হানের গুলি ছোড়ার ভিডিও
রাউজানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল করিম হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মো. রায়হান। রায়হান বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সাজ্জাদ হোসেনের দলের আরেক সদস্য ডেভিড ইমনকে গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, রায়হান একটি নাইন এমএম পিস্তল হাতে নিয়ে পরপর তিনটি গুলি ছুড়ছেন। তবে ভিডিওটি কখন ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে তুরস্কের ব্যাংকসহ ৩ প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে তুরস্কের একটি বিনিয়োগ ব্যাংক ও এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে ইস্তাম্বুলভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি আনোনিম সিরকেতি, গোল্ডেন গ্লোবাল পোর্টফোলিও ইয়োনেতিমি আনোনিম সিরকেতি এবং গোল্ডেন গ্লোবাল ভার্লিক কিরালামা আনোনিম সিরকেতি।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, চীন ও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের মধ্যে বাণিজ্য সহজতর করতে এসব প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখেছে। ইরানের তেল বিক্রির অর্থ চীন থেকে তুরস্কে স্থানান্তর এবং পরে তা নগদ ও স্বর্ণে রূপান্তরের সুযোগ করে দিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেছে ট্রেজারি বিভাগ।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) তিন প্রতিষ্ঠানকে ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে তারা মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন গুটিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে ট্রেজারি বিভাগ একটি সাধারণ লাইসেন্সও জারি করেছে।

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান ও দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে বাণিজ্যে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই পদক্ষেপ একটি স্পষ্ট বার্তা। তিনি জানান, ইরানের আর্থিক যোগাযোগের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের অপরিশোধিত তেলের চালান চীনে পৌঁছাতে পারছে না। এতে বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়ছে এবং যুদ্ধ চালানোর জন্য তেহরানের প্রয়োজনীয় আয় কমছে।

তিনি আরও বলেন, প্রণালীর ভেতরে আটকা থাকা জাহাজগুলোতে অপরিশোধিত তেল জমে থাকায় নতুন করে মজুদ গড়ে তোলা যাচ্ছে না। ইরানের রপ্তানি ব্যবস্থার ‘জীবনরেখা’ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বেসেন্ট ‘আমেরিকাস ভয়েস নিউজ’-কে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে আরও একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

তুরস্কের ৩৫তম বৃহত্তম ব্যাংক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং এবং কমপ্লায়েন্সের সব শর্ত মেনে চলেছে। ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিবে।

ব্যাংকটির দাবি, ওএফএসি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহক ছিল না এবং তাদের সঙ্গে ব্যাংকটির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো লেনদেনও ছিল না। ‘দ্যব্যাংকস ডট ইইউ’ ডেটাবেস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন তুর্কি লিরা বা ৫১৬ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

‘ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস’-এর নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মিয়াদ মালেকি বলেন, তুর্কি ব্যাংকটি আকারে ছোট হলেও বর্তমান অভিযানের আওতায় কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ব্যাংক হিসেবে এটিই প্রথম নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অর্থ স্থানান্তরের পরবর্তী স্বাভাবিক গন্তব্য হতে পারে তুরস্ক। এ কারণে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সেখানে নজর রাখছে।

মালেকি আরও বলেন, যেসব বিদেশি ব্যাংক গোল্ডেন গ্লোবালের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তারাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো পরোক্ষ প্রভাব তৈরি করা, প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ওই ব্যাংকটি একা বড় বিষয় নয়।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চীন থেকে তুরস্কে তেল বিক্রির অর্থ স্থানান্তরে গোল্ডেন গ্লোবালকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তুরস্কে পৌঁছানোর পর মানি এক্সচেঞ্জারদের মাধ্যমে ওই অর্থ নগদ ও স্বর্ণে রূপান্তর করা সম্ভব হতো বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, গোল্ডেন গ্লোবাল জেনেশুনে ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এর ফলে কুদস ফোর্স ও তাদের সহযোগী বিভিন্ন পক্ষ নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ পায়। এসব সহযোগীর মধ্যে ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা তুর্কি ব্যবসায়ী সিটকি আয়ান ও তাঁর কোম্পানিগুলোও রয়েছে।

বেসেন্ট, যিনি গত মাসে বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, বলেছেন ওয়াশিংটন তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চাপ সৃষ্টি করছে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মিসরীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক মিসর’-এর শাখাগুলোর ওপর ‘প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট’-এর আওতায় বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেয়। ইরানের সঙ্গে লেনদেনের কারণে ব্যাংকটির মার্কিন ডলার লেনদেনে এই কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এতে ব্যাংক মিসরের প্রধান কার্যালয় বা অন্য দেশের শাখাগুলো প্রভাবিত হবে না এবং পদক্ষেপটি কার্যকর হতে ৩০ দিন সময় লাগবে।

নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ‘অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারস’-এর ম্যানেজিং প্রিন্সিপাল ব্রেট এরিকসন এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর ফলে তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ব্যবস্থা বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ আসতে পারে।

এরিকসন বলেন, গোল্ডেন গ্লোবালের ওপর নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর চাপ সামান্য বাড়াবে। তবে ইরানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং যুদ্ধের ফলাফল বদলে দেওয়া—দুটি ভিন্ন বিষয়।

তিনি আরও বলেন, এই চাপ যদি যুদ্ধের অর্থনৈতিক গতিপথ অর্থবহভাবে পরিবর্তন করতে না পারে, তাহলে ওয়াশিংটন ইরানকে এমন পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্ররোচিত করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সাত বছরের চাকরিজীবন শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আলিফ, সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আলিফ আহমেদ চন্দন (২৪) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দাম্মাম থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে একটি লরির সঙ্গে তাদের বহনকারী প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই আলিফসহ সাতজন নিহত হন। সাত বছরের চাকরি জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আলিফ।

আলিফ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার মরুরা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের একমাত্র ছেলে। কৈশোরেই পরিবারের হাল ধরতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। প্রবাসজীবনে একবার দেশে এসে বিয়ে করেছিলেন। এরপর আবার ফিরে যান সৌদি আরবে।

গত বৃহস্পতিবার দাম্মামে কর্মস্থল থেকে আলিফসহ বিভিন্ন এলাকার সাতজন একটি প্রাইভেট কারে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে একটি লরির সঙ্গে তাদের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে আলিফসহ গাড়িতে থাকা সাতজনই ঘটনাস্থলে মারা যান।

সৌদি আরবপ্রবাসী আলিফের মামা ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আলিফের মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারিবারিকভাবে চেষ্টা চলছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরেছেন। তিনি আলিফের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি পর্যায়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজ-উল আদিব বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনার বিষয়ে তার দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি।

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রতিবেশীরা জানিয়েছে ওই কক্ষের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ থাকত। নিহত নারী ও পুরুষ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। গতকাল রাতে কক্ষটি থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। এ কারণে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যরা গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত দুজন স্বামী-স্ত্রী। তাদের পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

র‍্যাবের সক্ষমতা বাড়াতে কেনা হচ্ছে আরও ১৬৭টি গাড়ি খরচ ১২০ কোটি টাকা

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন ১৬৭টি গাড়ি। এর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। র‍্যাবের অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে এসব যানবাহন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে গত মে মাসে র‍্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গত ২২ জুলাই র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদুল করিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৬৭টি গাড়ি কেনার বিস্তারিত চাহিদাপত্র পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ আগস্ট পুলিশ সদরদপ্তর এসব গাড়ি কেনার সুপারিশসহ প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময় ১৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কাছে এসব গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চায়।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় সরকারি নথিতে এখনও এলিট ফোর্সটির নাম ‘র‍্যাব’ হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বর্তমানে নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। গত ৮ জুলাই এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে। তবে ওই পরিপত্রের আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা শিথিলযোগ্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, র‍্যাবের কার্যক্রমের সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস দমন ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্পৃক্ত। তাই বিশেষ বিবেচনায় নতুন গাড়ি কেনার অনুমোদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
র‍্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল সেকশন ও মাঠ পর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় ১৬৭টি গাড়ির শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০টি প্যাট্রল পিকআপ, ৪৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস, ৫০টি প্যাট্রল কার, তিনটি ডগ ভ্যান, ১০টি ট্রাক, তিনটি জিপ, দুটি রিকভারি ভেহিকল, একটি মোবাইল ওয়ার্কশপ ভেহিকল এবং চারটি রায়ট ভ্যান।

মে মাসে কেনা হয়েছে ১৬৩ গাড়ি
র‍্যাবের যানবাহন বহর পুনর্গঠনে এটি নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। এর আগে গত ৭ মে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে র‍্যাবের জন্য আরও ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব গাড়ি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) সরবরাহের কথা রয়েছে।

প্রশাসনিক নথিপত্র অনুযায়ী র‍্যাবের জন্য অনুমোদিত যানবাহনের সংখ্যা তিন হাজার ১৪৫টি। এর বিপরীতে প্রকৃত ঘাটতি রয়েছে ৬৬৮টি। এর বাইরে ২৫৬টি গাড়ি অকেজো হিসেবে ঘাোষিত হয়েছে। আরও ৮৯টি গাড়ি অকেজো ঘোষণার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার কাজে আগুনে পড়ে ভস্ম সাতটি। এ ছাড়া ৯৪৩টি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ১০ বছরের বেশি পুরোনো। এসব গাড়ির গড় মাইলেজ লাখ কিলোমিটার অতিক্রান্ত হয়েছে। যা অভিযানে ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য।

২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। পরবর্তী সময় ব্যয় পুনর্মূল্যায়নের পর ২০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা কমিয়ে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৮২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

কেনাকাটার প্রস্তাবনায় বলা হয়, র‍্যাব একটি অপারেশনাল ফোর্সেস। এ ফোর্সেসের আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কিন্তু বিগত বছরগুলো অর্থ মন্ত্রণালয় যানবাহন ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন অবশিষ্ট রয়েছে।

ছয় দফা দাবিতে জামায়াত জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শুরু

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু করেছে। শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সোয়া ৮টার পর বিশাল গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।

লং মার্চে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষপর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

মতিঝিলের সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জোটের নেতারা।

জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।

এর আগে ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে লং মার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা ও ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লং মার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

ভ্যাকসিন রপ্তানিতে ১৫ বাধা

দেশে উৎপাদিত ভ্যাকসিন বিদেশে রপ্তানির পথে বড় বাধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার ঘাটতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ম্যাচিউরিটি লেভেল-৩ (এমএল-৩) অর্জনে ১৫টি ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ঘাটতি পূরণে আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে এমএল-৩ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি হবে। প্রস্তুতি শেষ করে ভ্যাকসিন রপ্তানির উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঔষধ শিল্প সমিতি ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে প্রধান করে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং টুল অনুযায়ী, এমএল-৩ অর্জনের জন্য জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওষুধ ও টিকার নিবন্ধন ও বাজারজাত অনুমোদন, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সিং ও পরিদর্শন, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষাগার সক্ষমতা, টিকার ব্যাচ ছাড়পত্র নেওয়া, বাজার-পরবর্তী নজরদারি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর সক্ষমতা থাকতে হবে। এর সঙ্গে প্রয়োজন দক্ষ জনবল, মানসম্মত নথি ও কার্যপদ্ধতি, তথ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা, জরুরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিতের ব্যবস্থা। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে টিকা উৎপাদন ২০১১ সালে শুরু হলেও এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে ইনসে্পটা, পপুলার ও হেলথকেয়ার এই তিন কোম্পানি মানব ও পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৫ থেকে ১৬ ধরনের টিকা উৎপাদন করছে। এর মধ্যে ইনসে্পটা সীমিত পরিসরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে টিকা রপ্তানি করছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমএল-৩ সনদ না থাকায় বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পরিসরে প্রবেশ করতে পারছে না।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার সমকালকে বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ডব্লিউএইচওর ম্যাচিউরিটি লেভেল-২ পর্যায়ে রয়েছে। এমএল-৩ অর্জনের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমাকে  টাস্কফোর্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছে। এমএল-৩ অর্জনের জন্য কর্মপরিকল্পনা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রণয়নের কাজ শেষ হবে। এর পর ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বাস্তবায়ন শেষে ডব্লিউএইচওকে মূল্যায়নের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

২০১৬ সাল থেকে এমএল-৩ অর্জনে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এটি করতে আইন করা জরুরি ছিল। তিন বছর আগে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ হলেও এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রস্তুত করতে পারেনি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। পাশাপাশি ডিজিডিএর সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন জরুরি হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান সমকালকে বলেন, আগামী বছরের মধ্যে দেশে উৎপাদিত ভ্যাকসিন রপ্তানির উপযোগী করতে একটি রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। রপ্তানির পথে ১৫টি বড় বাধা রয়েছে। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। আগামী বছর ডব্লিউএইচওর প্রধান মূল্যায়ন হওয়ার কথা। আইন, জনবল, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রস্তুতি চলছে। এমএল-৩ অর্জনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি লক্ষ্যের জন্য সময়সীমা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরির সময়ও ঠিক করা হয়েছে। ঢাকায় ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তা এ কাজে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এমএল-৩ অর্জন শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আন্তর্জাতিক মান পূরণ করতে হবে। দেশে বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের এক বা একাধিক কারখানা পরিদর্শন করতে পারে ডব্লিউএইচওর মূল্যায়নকারী দল। আগের পরিদর্শনে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছিল।

ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি মার্কিন ডলারের ভ্যাকসিন কিনেছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ ও নতুন টিকা যুক্ত হলে ২০৩০ সালে এই ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে। ডব্লিউএইচওর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। তবে ভ্যাকসিন রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সক্ষমতা অর্জন জরুরি।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ডব্লিউএইচওর ম্যাচুরিটি লেভেল-৩ অর্জনে শুধু গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) মানলেই হবে না; কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (সিজিএমপি) অনুযায়ী উৎপাদনব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসব কাজ এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, সক্ষমতা অর্জনে ওষুধের মান নিশ্চিত করতে পরীক্ষার পরিমাণ বেড়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুই দশক আগে একটি ওষুধে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করা হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ২০ ধরনের অমিশ্রণ পরীক্ষা করতে হয়। এসব পরীক্ষার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। বাজারজাতের পরও নমুনা দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ ও নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা করতে হয় এবং তা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সমকালকে বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক মানের টিকা উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমএল-৩ অর্জনের প্রচেষ্টাও চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা শিগগির ঢাকায় আসবেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হলে কাজ আরও দ্রুত এগোবে।