Home Blog Page 301

প্রিয় রঙে নুসরাত ফারিয়া

০
ঢালিউডের অন্যতম দাপুটে নায়িকা নুসরাত ফারিয়া। অভিনয় থেকে শুরু করে গ্ল্যামার, উপস্থাপনা কিংবা আইটেম গানে নাচ; সবখানেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পর্দার ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও সরব ফারিয়া; প্রায়ই ভক্তদের সঙ্গে নিজের নতুন নতুন লুক ও মুহূর্ত শেয়ার করেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় নতুন সাজে হাজির হলেন নুসরাত ফারিয়া। বুধবার দুপুরে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন একগুচ্ছ ছবি, যেখানে তাকে দেখা গেছে হালকা পিস্তাচিও সবুজ শাড়িতে। শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ, গলায় ভারী রুপালি চোকার, কানে তার সঙ্গে মিলিয়ে পরা দুল; নরম ওয়েভি হেয়ারস্টাইলে ধরা দিয়েছেন আবেদনময়ী এক লুকে। পোস্টের ক্যাপশনে ফারিয়া লিখেছেন, ‘এই মৌসুমে আমার প্রিয় রঙ।’
পোস্টটিতে ভক্তদের ভালোবাসায় ভরে গেছে মন্তব্য ঘর। কেউ লিখেছেন, ‘অসাধারণ লুক!’, কেউ আবার জানিয়েছেন, ‘আপনি প্রতিনিয়তই ঝলমলিয়ে উঠছেন’। এছাড়াও অনেকেই হৃদয়ের আর আগুনের ইমোজি দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন কমেন্ট বক্স।
অনেকদিন ধরেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন নুসরাত ফারিয়া। এর ফাঁকেই একেকদিন একেক সাজে ভক্তদের সামনে হাজির হচ্ছেন তিনি। কখনো ওয়েস্টার্ন, কখনো ফিউশন লুকে, আবার কখনো একেবারেই ক্যাজুয়াল ভঙ্গিমায়। প্রতিবারের মতো এবারও তার নতুন লুক ভক্তদের মধ্যে আলাদা সাড়া ফেলেছে।

 

রেকর্ডের বন্যা বইয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

০
ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে দাপুটে এক পারফরম্যান্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের জোড়া ফিফটি, এরপর নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেনদের ঘূর্ণিঝড়ে ক্যারিবিয়ানদের ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল টাইগাররা।
বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে আবারও হাসির ঝলক। ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সিরিজ জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ। মিরপুরের সবুজ গ্যালারি সাক্ষী হয়ে রইল রইল একঘূর্ণি নৈপুণ্যের, যেখানে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে স্বাগতিকরা ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই জয় শুধু সিরিজ জয়ের নয়, মিরাজের অধিনায়কত্বের প্রথম মুকুটও বটে।
দুপুরে টস জিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। প্রথম উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১৭৬ রানের জুটি—যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় শুরুতেই। সৌম্য ৮৬ বলে ৯১ ও সাইফ ৭২ বলে ৮০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মাঝের সারিতে হৃদয় (২৮) ও শান্ত (৪৪) দলকে ২৯৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন।
প্রতিপক্ষের বোলারদের মধ্যে একমাত্র আকিল হোসেনই কিছুটা সফল ছিলেন; ১০ ওভারে ৪১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের লজ্জা কিছুটা কমান তিনি।
কিন্তু এরপর যা হলো, তা ছিল একতরফা ঘূর্ণি উৎসব। স্পিনারদের সামনে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণ। শুরুটা করেন নাসুম আহমেদ—দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে ৬ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন তানভির ইসলাম (২/১৬) ও রিশাদ হোসেন (৩/৫৪)। নেতৃত্বে থেকেও নিজের ছাপ রাখেন মিরাজ, নেন ২ উইকেট।
পুরো ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিকেছিল মাত্র ৩০.১ ওভার। তাদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১১৭ রানে। কেবল আকিল হোসেন কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন—১৫ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলে। বাকিরা কেউই ঘূর্ণি সাম্রাজ্য ভেদ করতে পারেননি।
এ জয় বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় (১৭৯ রানে) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়।

 

৪৪৬ কোটি টাকায় এক লাখ টন চাল কিনবে সরকার

০
আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ও জি টু জি ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার। এর মধ্যে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ও ৫০ হাজার টন আতপ চাল রয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৪৬ কোটি ২৩ লাখ ০৮ হাজার ৫৭০ টাকা।
বুধবার (২২ অক্টোবর) ভার্চুয়ালি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ-০২ এর আওতায় ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মেসার্স ক্রেডেন্টওয়ান এফজেডসিও থেকে এই চাল আনতে ব্যয় হবে ২১৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ টাকা। প্রতি টন চালের দাম পড়বে ৩৫৫.৯৯ (তিনশত পঞ্চান্ন দশমিক নয় নয়) মার্কিন ডলার।
এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে ৫০ হাজার টন আতপ চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
মিয়ানমার রাইস ফেডারেশন থেকে এই চাল আনতে ব্যয় হবে ২২৯ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি টন চালের দাম পড়বে ৩৭৬.৫০ মার্কিন ডলার।

 

বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৬ কারখানা পেল আন্তর্জাতিক ‘সবুজ’ সনদ

০
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আবারও বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। টেকসই উৎপাদনে নেতৃত্ব ধরে রেখে ২০২৫ সালে ৩৬টি কারখানা অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পরিবেশবান্ধব সনদ—যা এক বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্জন।
এর আগে ২০২২ সালে ৩০টি কারখানা এ সনদ পেয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে গার্মেন্ট শিল্প।
বিজিএমইএর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২২টি কারখানা পেয়েছে সর্বোচ্চ ‘প্লাটিনাম’ সনদ, যা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে এ পরিবেশবান্ধব সনদ দেওয়া হয়। এ সনদ পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ শর্তের কিছু পরিবর্তনও হয়। পাশাপাশি সনদের আলাদা সংস্করণও থাকে। মোট ১১০ নম্বরের মধ্যে কোনো কারখানা ৮০-এর বেশি পেলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ পেলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ দেওয়া হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ২৬৮টি লিড সার্টিফায়েড কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ১১৪টি প্লাটিনাম ও ১৩৫টি গোল্ড সনদপ্রাপ্ত। অর্থাৎ বাংলাদেশের কারখানাগুলো সর্বোচ্চ মানের পরিবেশবান্ধব কারখানার শর্ত পূরণ করতে পারছে। বাকি ১৯টি কারখানার মধ্যে সিলভার সনদপ্রাপ্ত কারখানা ১৫টি ও সার্টিফায়েড সনদপ্রাপ্ত কারখানা ৪টি।
বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি উচ্চ রেটিং পাওয়া লিড সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৬৮টিই বাংলাদেশের। এই অর্জন বাংলাদেশের পোশাক খাতকে টেকসই উৎপাদনে বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এই অর্জন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমরা এখন বিশ্বের কাছে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
মহিউদ্দিন রুবেল বর্তমানে ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকার এখন থেকেই পুরোপুরি ‘কেয়ারটেকার’ মুডে চলে যাক: আমীর খসরু

০
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নিরপেক্ষতার স্বার্থে অন্তবর্তী সরকারকে অবিলম্বে ‘কেয়ারটেকার’ সরকারের আদলে যেতে হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকারই অন্তবর্তী সরকার হিসেবে আগামী নির্বাচনে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করবে- তাহলে এখন থেকেই সেই ভূমিকা পালন শুরু করা উচিত। অন্তবর্তী সরকার এখন থেকেই পুরোপুরি কেয়ারটেকার মুডে চলে যাক।
বুধবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, সরকারের ভেতরে বা বাইরে যারা নিরপেক্ষতাকে ভঙ্গ করার সুযোগ রাখে, তাদের রেখে নিরপেক্ষতা রক্ষা সম্ভব নয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো পদায়ন, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ব্যক্তি এসব প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। তাই আমরা বলেছি- যারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, কিংবা নিজেদের সেই দলের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তারা সরকারে থাকলে কেয়ারটেকার সরকারের ভূমিকা পালন করতে পারবেন না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের চরিত্র ও কাঠামো সংবিধানে নির্ধারিত আছে। তাই এই সরকারকে এখন থেকেই সংবিধানে বর্ণিত কেয়ারটেকার সরকারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আচরণ করতে হবে। তাদের এখন আর গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়; বরং ধীরে ধীরে কেবল দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। কারণ, বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নানা ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগোতে গিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নানা তৎপরতা আমরা মাঠে দেখতে পাচ্ছি। বিএনপি চাইলে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে রাস্তায় নামতে পারত, কিন্তু আমরা তা করিনি। আমরা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করছি। জোর করে কিছু আদায় করার চেষ্টা করিনি, কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিটি দলেরই ম্যান্ডেট নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু নানা দাবি তুলে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা ঠিক নয়। রাস্তায় যাওয়ার দিন শেষ- এখন যেতে হবে জনগণের কাছে।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ ট্রানজিশন হোক। যারা সরকারে আছেন, বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে- তিনি যেন সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব শেষ করতে পারেন, সেটাই আমরা চাই। কিন্তু কিছু লোকের কর্মকাণ্ডে তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আমরা বলেছি, অন্তবর্তী সরকার এখন থেকেই পুরোপুরি কেয়ারটেকার মুডে চলে যাক।
ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, প্রয়াত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ হোসেন আলমগীরসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

 

গণভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুযোগ নেই

০
গণভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, বিষয়টি জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং তা গণভোটের পরেই নির্ধারিত হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্মিলিত কমিশন ইতোমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে, সেখানে ভিন্নমত নোট বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত আছে। সুতরাং, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেবল গণভোটের পরই কার্যকর হবে। এই পর্যায়ে এর কোনো বাস্তব সুযোগ নেই।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, তারা (সম্মিলিত কমিশন) আমাদের স্বাক্ষরের জন্য আহ্বান জানিয়েছে এবং আমাদের উদ্বেগগুলো বিবেচনা করবে বলেছে। কমিশন তাদের সুপারিশ দিলে উপদেষ্টা পরিষদ সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, আমরা সনদটিকে শুধু কাগজের দলিল হিসেবে দেখি না। বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পেলে তবেই স্বাক্ষরের বিষয়ে বিবেচনা করবো। যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আমাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, তাই আমরা সরকারের ও সম্মিলিত কমিশনের কাছে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।
নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিতে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক আদেশ জারির প্রস্তাব দিয়েছে। জুলাই গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে, রাষ্ট্রপতির নয়।
জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকের বৈঠকে জুলাই গণহত্যার বিচার অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। আমরা দেখেছি, কিছু সামরিক কর্মকর্তা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আদালতে আনা হয়েছে। আমরা এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই এবং বিচার অগ্রগতির জন্য সরকার ও ট্রাইব্যুনাল উভয়কেই ধন্যবাদ জানাই।
তবে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মামলার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাহিদ বলেন, আইসিটি ছাড়া শহীদ পরিবারের দায়ের করা অসংখ্য মামলা রয়েছে। আমরা পত্রিকায় দেখছি, অভিযুক্তদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে এবং তারা শহীদ ও জীবিত পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা ন্যায়বিচারের একটি রূপরেখা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি। এই রূপরেখা নির্বাচনের আগেই প্রকাশ করা উচিত।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত সরকারেরই।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, সরকার একটি সমতল ক্ষেত্র ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যাতে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়।

 

পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও যুদ্ধ নয়’— ট্রাম্প-মোদির ফোনালাপে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে কথা বলেছেন এবং সেখানে দুজনের মধ্যে ‘পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ না করার’ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একইসঙ্গে চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রই থামিয়েছে বলে আবারও দাবি করেছেন ট্রাম্প। বুধবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
হোয়াইট হাউসের দীপাবলি অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে তিনিই ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে ভারত তা অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপের কারণে নয়, বরং কূটনৈতিক কারণেই যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
মঙ্গলবার এই দীপাবলি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমি মোদির সঙ্গে দারুণ এক ফোনালাপ করেছি। আমরা মূলত বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেছি, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ না করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বাণিজ্য ও শান্তি- দুটো বিষয় নিয়েই কথা বলেছি। এখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ নেই, যা সত্যিই দারুণ ব্যাপার”। মোদিকে “অসাধারণ ব্যক্তি” বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “বছরের পর বছর ধরে তিনি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠেছেন।”
ট্রাম্প আরও জানান, মোদি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চাচ্ছেন। আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। তিনি রাশিয়া থেকে খুব বেশি তেল কিনছেন না, বরং ক্রমে তা কমিয়ে আনছেন। তিনি চান যুদ্ধটা দ্রুত শেষ হোক, যেমনটা আমিও চাই।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, তার প্রশাসন বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা আমেরিকাকে প্রথমে রাখছি, কিন্তু সবাইকেও একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে চলতে উদ্বুদ্ধ করছি।
তিনি দাবি করেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমরা ‘পূর্ণ শান্তি’ প্রতিষ্ঠা করেছি, যা কেউ কল্পনাও করেনি। আগে যারা একে অপরকে ঘৃণা করত, এখন তারা বন্ধু।”

ইসরায়েল আমেরিকার আশ্রিত রাজ্য নয়: নেতানিয়াহু

ইসরায়েল আমেরিকার কোনো আশ্রিত রাজ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, তার দেশ নিজেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।
গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকের আগে একথা বলেন তিনি। বুধবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যকে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর বিষয়ে ইসরায়েলের আপত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর ওই পরিকল্পনা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে।
বুধবার নিজ কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রটেক্টরেট (আশ্রিত রাজ্য) নই। ইসরায়েল নিজেই নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”
এদিকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স স্বীকার করেন, শান্তির পথে এখনো অনেক বড় বাধা রয়ে গেছে। বৈঠক শেষে নেতানিয়াহু ও ভ্যান্স একসঙ্গে বলেন, ইসরায়েল কোনো “মার্কিন ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র” নয়। বরং ওয়াশিংটনের গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব রয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা ইসরায়েলে কোনো ভাসাল (কারও অধীনস্ত বা নিয়ন্ত্রিত) রাষ্ট্র চাই না, আর ইসরায়েল তেমন কিছু নয়ও। আমরা চাই অংশীদারিত্ব, মিত্র।”
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে কাজ করছে বলে যে ধারণা রয়েছে তা ভুল। নেতানিয়াহু বলেন, “এক সপ্তাহ বলা হয় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে, পরের সপ্তাহে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দুটোই বাজে কথা।”
এদিকে ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফর করবেন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ফেব্রুয়ারিতে উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সরকার সব কিছু করছে: প্রধান উপদেষ্টা

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার জন্য সরকার সম্ভাব্য সব কিছু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২২ অক্টোবর) জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এমন মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টা জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি এখানে অবস্থানকালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বৈঠক চলাকালীন, রাষ্ট্রদূত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আরো বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছে, এটা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।’ তিনি সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টার, বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসে কথা বলতে দেখে ভালো লাগছে। নির্বাচনের পরও দেশের এসব সংস্কার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদে সই করার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করে একটি চমৎকার কাজ করেছে।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা ঐক্য এবং পরিবর্তনের জন্য একটি অভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছিল। এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে আস্থা তৈরিতে সহায়তা করে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে সরকার সম্ভাব্য সব কিছু করছে।’
রাষ্ট্রদূত জার্মানিতে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ক্রমবর্ধমান সংখ্যার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত উভয়েই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগকে স্বাগত জানান।
তারা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি এবং এ ক্ষেত্রে জার্মানির সহায়তার বিষয়েও আলোচনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জার্মানি ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং নতুন রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

 

বাতিল ইভিএম, ফিরল ‘না ভোট’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। আরপিওতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইভিএম ব্যবহার বাতিল, ‘না ভোট’ পুনর্বহাল, প্রার্থীদের দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা।
আজ বৃহস্পতিবারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আরপিও সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকের পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ২০২৫ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আরপিওতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী হলো—ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত বিধান বাতিল করা। পাশাপাশি ‘না ভোট’ পুনর্বহাল করা হয়েছে, যাতে কোনো নির্বাচনী আসনে কেবল একজন প্রার্থী থাকলে ভোটাররা তাকে ভোট না দেওয়ার সুযোগ পান।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের সাজানো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এই বিধান আনা হয়েছে। একজন প্রার্থী থাকলে ভোটাররা যদি তাকে পছন্দ না করেন, ‘না ভোট’ দিতে পারবেন। তখন সেই আসনে পুনরায় নির্বাচন হবে।
নতুন সংশোধনীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পলাতক আসামিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জেলাভিত্তিক নির্বাচন অফিসগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রার্থীদের দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে আয় ও সম্পত্তির বিবরণ হলফনামায় দিতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। জনগণ যেন সহজেই জানতে পারেন তাদের প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা কী।
সংশোধনীর মধ্যে আরও রয়েছে, নির্বাচনী জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলকে ৫০০ টাকার বেশি অনুদান বা চাঁদা দিতে হলে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং অনুদানদাতার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটার ও নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ডাক ভোটে ভোট দিতে পারবেন। ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম হলে পুরো এলাকার ভোট বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা জানান, জোটের প্রার্থীদের প্রতীক ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনতে বিধান যোগ করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা সহজেই বুঝতে পারেন—কোন দল থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।