Home Blog Page 303

হাসিনাকে হস্তান্তর করবে ভারত?

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত ডামি নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী খুনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেছে। রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবীরা ছাড়াও জুলাই আগস্টে নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
রায়ে আদালত বলেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্য দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার প্রায় ঘণ্টা তিনেক পর ভারত এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এ রায় তাদের নজরে এসেছে।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে লেখা হয়েছে – যা ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারত এই নামকরণের সঙ্গে একমত নাও হতে পারে।
ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত যে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকবে, বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে সে কথাও।
তবে ভারতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে আভাস দিয়েছেন, এ রায়ের ফলে শেখ হাসিনাকে নিয়ে দিল্লির অবস্থান আদৌ বদলাচ্ছে না এবং তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ারও কোনো প্রশ্ন উঠছে না।
বস্তুত শেখ হাসিনা এই পর্বে যে সময় থেকে ভারতে পা রেখেছেন, মানে সেই ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে আজ পর্যন্ত এদেশে তাকে আশ্রয় বা আতিথেয়তা দেওয়া নিয়ে ভারতের অবস্থান অবিকল একই রকম আছে।
আর সেই ঘোষিত অবস্থানটা হলো– একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে এদেশে ‘সাময়িক’ (ফর দ্য টাইম বিয়িং) আশ্রয় দেওয়া হয়েছে – এর বেশি কিছু নয়।
আজ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার পরেও ভারতের সেই অবস্থান অপরিবর্তিতই থাকছে।
এর অর্থ, তাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত– বা ভারতের মাটিতে তাকে আপাতত রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত – পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
তবে এখন এই প্রশ্ন উঠতেই পারে, দুই দেশের মধ্যেকার অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের যে দাবি বা অনুরোধ জানিয়েছিল – তার এখন কী হবে?
এর সহজ উত্তর হলো – সেই চিঠি পাওয়ার পর বছর ঘুরতে চললেও ভারত সেটি নিয়ে এতদিন একেবারে চুপচাপ বসেছিল, কিন্তু এবারে হয়তো তা নিয়ে মুখ খোলার জন্য তাদের ওপর চাপ বাড়বে।
প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে একটি কূটনৈতিক চিঠি বা ‘নোট ভার্বাল’ পাঠানো হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে।
তার মাত্র দুদিনের মধ্যে সেই নোট ভার্বালের প্রাপ্তি স্বীকার করা হলেও এরপর তারা সেই অনুরোধ নিয়ে কী ভাবছে বা কী অবস্থান নিচ্ছে– ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিয়ে আজ পর্যন্ত একটি শব্দও খরচ করেনি।
তবে একান্ত আলোচনায় ভারতের পররাষ্ট্র বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বারেবারেই বলেছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির হাজারটা ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে এ হস্তান্তরের অনুরোধ নাকচ করার বা দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রেখে কালক্ষেপণ করার অজস্র সুযোগ রয়েছে– প্রয়োজন হলে ভারত যে কোনো সময় সেই রাস্তাও নিতে পারে।
পরিস্থিতি এখন কতটা পালটাল?
গত বছরের ডিসেম্বরে যখন প্রথম শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ জানিয়ে ‘নোট ভার্বাল’ পাঠানো হয়, তখন তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা সবে শুরু হয়েছে।
তখনও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জও গঠন করেননি, রায় ঘোষণা তো অনেক দূরের কথা।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগ নেতামন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে হত্যা মামলা রুজু করা শুরু হয়ে গেছে– আদালত প্রাঙ্গণেই বর্ষীয়ান নারী নেত্রী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে হেনস্থা করার বা আনিসুল হক বা সালমান এফ রহমানকে কিল-চড়-ঘুসি মারার মতো ঘটনাও ঘটছে।
সেই সব ঘটনার দৃষ্টান্ত দিয়ে ভারতের কর্মকর্তারা তখন অনানুষ্ঠিকভাবে সব সময়ই বলতেন, শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হলে তিনি যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না বা তিনি ন্যায় বিচার পাবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণেই ঢাকার অনুরোধে সাড়া দেওয়া দিল্লির পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় আজকের পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা – কারণ শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের আদালতে গণহত্যার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী।
এমন একজন অন্য দেশের পলাতক (ফিউজিটিভ) ও দণ্ডিত অপরাধীকে ভারত কেন দিনের পর দিন ধরে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে, সেই কৈফিয়ত দেওয়ার জন্য ভারতের ওপর অবশ্যই এখন চাপ বাড়বে।
ফলে ধারণা করা যেতেই পারে, আজকেই না হোক – খুব শিগগিরই ভারতকে আবার এই ব্যাখ্যা দিতে হবে যে কেন তারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ উপেক্ষা করে যাচ্ছে।
সেই বিবৃতি বা বক্তব্য যখনই আসুক– তাতে অবশ্য এই প্রশ্নে ভারতের মৌলিক অবস্থান একেবারেই পালটাচ্ছে না।
অন্যভাবে বললে, শেখ হাসিনাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ভারতকে হয়তো এখন নানা সাফাই বা কৈফিয়ত দিতে হবে – কিন্তু তার পরেও শেখ হাসিনাকে আদৌ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
এদিকে রায় ঘোষণার পর কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, ‘হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় প্রত্যাশিত ছিল। তবে ভারত বাংলাদেশের এই পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণ করবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত কোনো অবস্থাতেই তাকে প্রত্যর্পণ করবে না। গত দেড় বছরে আমরা দেখেছি, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না এবং অনেক সময়ই তা ভঙ্গুর মনে হয়েছে।’
শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ‘হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাশিতই ছিল।’
তিনি বলেন, দেশের ভেতরের পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তার বেশ কঠিন বিচার হবে, এটা প্রত্যেকেই আশা করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুসারেই পরিচালিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা একমত হয়েছেন। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমন প্রমাণও রয়েছে।
জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি পালটা-বয়ান তৈরির চেষ্টা করবে। কিন্তু সার্বিকভাবে বাংলাদেশিরা মনে করেন, হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।

ট্রুডোর প্রেম নিয়ে এবার নীরবতা ভাঙলেন সাবেক স্ত্রী সোফি

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সাবেক স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ার জনসমক্ষে তার জীবন এবং ট্রুডোর নতুন প্রেম নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন। সম্প্রতি ‘আর্লিন ইজ অ্যালোন’ নামের একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন সোফি। সেখানে উপস্থাপিকা আর্লিন ডিকিনসন বলেন, গায়িকা কেটি পেরির সঙ্গে ট্রুডোর প্রেমের বিষয়টি যেভাবে প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে ৫০ বছর বয়সি সোফি যেভাবে নিজেকে ‘শান্ত’ রেখেছেন, তা প্রশংসার যোগ্য।
এর উত্তরে সোফি বলেন, দেখুন, আমরা সবাই মানুষ এবং বিভিন্ন ঘটনায় আমরা প্রভাবিত হই। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো ঘটনায় আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, সেটা সম্পূর্ণ আপনার সিদ্ধান্ত। তাই, আমি বাইরের কোলাহলের চেয়ে ভেতরের সঙ্গীতে মনোযোগ দিতেই পছন্দ করি।
সোফি গ্রেগোয়ার এবং জাস্টিন ট্রুডো ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। ২০০৫ সালে তারা বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের তিন সন্তান রয়েছে—জেভিয়ার, এলা-গ্রেস এবং হ্যাড্রিয়েন।
অন্যদিকে, ট্রুডো এবং কেটি পেরিকে প্রথমবার সেপ্টেম্বরে এক পথচারী আলিঙ্গনরত অবস্থায় ক্যামেরাবন্দী করেন। তবে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে মূলত অক্টোবরে, যখন প্যারিসের বিখ্যাত ক্রেজি হর্স ক্যাবারেতে কেটি পেরির জন্মদিনের কাছাকাছি সময়ে তাদের হাত ধরে ঘুরতে দেখা যায়।
পডকাস্টে সোফি আরও বলেন যে, তিনি খুব ভালোভাবে জানেন যে জনসমক্ষে আসা অনেক কিছুই অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
তিনি যোগ করেন, কিন্তু আমি এর সাথে কী করব, সেটা আমার সিদ্ধান্ত। এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমি কেমন নারী হয়ে উঠতে চাই, সেটাও আমারই সিদ্ধান্ত।
তবে তার মানে এই নয় যে, তিনি নিজের আবেগগুলোকে চেপে রাখেন।
সোফি বলেন, আমি নিজেকে কারো দ্বারা হতাশ হতে দিই, রাগ করতে দিই, দুঃখ পেতে দিই। একজন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আমি খুব ভালোভাবে জানি, এই আবেগগুলো অনুভব করা কতটা জরুরি।
পডকাস্টের শুরুতে উপস্থাপিকা যখন সোফিকে ‘সিঙ্গেল মম’ বলে উল্লেখ করেন, তখন তিনি তা শুধরে দেন।
সোফি বলেন, আমি মোটেও একা মা নই। আমার সাথে এমন একজন বাবার অংশীদারিত্ব আছে, যার তার সন্তানদের জন্য গভীর ভালোবাসা এবং অফুরন্ত সময় রয়েছে।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলা, যার রায় হলো আজ।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা শুরু করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বেলা সোয়া একটার দিকে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন জনের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোনে কথোপকথনগুলো পড়ে শোনানো হয়। এছাড়া গণহত্যার সংজ্ঞা এবং এই মামলায় বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য পড়ে শোনানো হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা প্রথম অভিযোগে তার মৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। তার বিরুদ্ধে আনা দ্বিতীয় অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, অভিযুক্ত শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলার রায়। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন।এই মামলায় একমাত্র আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে তাকে বিমর্ষ মুখে চুপচাপ রায় শুনতে দেখা গেছে। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় সকালে কারাগার থেকে তাকে আদালতে আনা হয়।

দেশে মোট ভোটারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।
আজ (মঙ্গলবার) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
খসড়া তালিকা অনুযায়ী ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন।
চূড়ান্ত তালিকায়, পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। এ ছাড়া ১ হাজার ২৩৪ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলে কোনো অনিয়ম হয়নি: বিসিবি

০

গেল সেপ্টেম্বরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তরফ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। যেখানে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলে অনিয়মের আশঙ্কা করেছে এনএসসি এবং বোর্ডকে এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে।

এনএসসির চিঠির প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত শনিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিবৃতিতে বিসিবির তরফ থেকে জানানো হয়, এনএসসির অভিযোগগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা করেও কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিসিবি জানিয়েছে, চিঠিটি এমন সময়ে পাওয়া যায় যখন বোর্ড সাধারণ পরিষদ গঠন ও নতুন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত ছিল। সে সময় অধিকাংশ বিভাগ নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করায় দৈনন্দিন কার্যক্রম সীমিত ছিল। সাধারণ পরিষদ গঠন, পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন ও কমিটির সভাপতি নিয়োগের পর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন-সংক্রান্ত সব নথিপত্র খতিয়ে দেখে বিসিবি। পর্যালোচনায় অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের স্কোয়াড বাছাইয়ে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করে বোর্ড।

এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অলরাউন্ডার রিয়া আক্তার শিখা কর্তৃক এনএসসিকে পাঠানো চিঠির অতিরিক্ত বিষয় এবং সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের সাক্ষাৎকারে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিসিবি জানায়, স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতার প্রতি বোর্ড সদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

 

ফারিণ এবার শাকিবের নায়িকা

০

একসঙ্গে দুটি সুখবর। একটি তাসনিয়া ফারিণ নিজেই জানিয়েছেন, অন্যটি একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পোস্টের সূত্রে জানা গেছে।

হঠাৎই গত শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তাসনিয়া ফারিণ জানান, তার নামের আগে এবার যোগ হচ্ছে নতুন পরিচয়। তিনি এখন আর শুধু অভিনেত্রীই নন, প্রযোজনায়ও নাম লেখাচ্ছেন। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ফড়িং ফিল্মস’। ভক্তদের সুখবরটা জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফারিণ লিখেছেন, ‘নতুন অধ্যায়ের শুরু। ‘ফড়িং ফিল্মস’ আমার প্রোডাকশন হাউস। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ প্রযোজক হিসেবে ফারিণকে শুভকামনা জানিয়েছেন সহকর্মীরা।

এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরুতে কী নির্মাণ করতে যাচ্ছেন, ফোনে জানতে চাইলে আপাতত কিছুই বলতে চাইলেন না অভিনেত্রী। তবে ফড়িং ফিল্মসের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, ‘তাসনিয়া ফারিণের নতুন যাত্রা। সীমানা ছাড়িয়ে ওড়ার গল্প। এই মাসে প্রথম প্রযোজিত কাজ প্রকাশ পাবে।’ একটি সূত্র জানায়, একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার প্রযোজক হয়েছেন ফারিণ। ছোট থেকেই শুরু করতে চান। এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, ‘প্রিন্স’ সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন ফারিণ। চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন তারা। তবে এই নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কখনোই নিশ্চিত কিছু জানায়নি। অবশেষে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়েছে, ‘প্রিন্স’ সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ফারিণ। চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন এমন হাসিমুখের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ফারিণ লিখেছেন, ‘আমার নতুন যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। হৃদয় ভরা ভালোবাসা। তৈরি হচ্ছি ‘প্রিন্স’–এর জন্য।’

আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে সিনেমার শুটিং শুরু হবে। শুরু থেকেই সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবেন ফারিণ। সিনেমার পরিচালক আবু হায়াত বলেন, ‘সিনেমার একদম শুরু থেকেই শাকিব খান ও ফারিণের অংশ দিয়ে দৃশ্য ধারণ হবে। আমরা সিনেমার প্রিপ্রোডাকশনের কাজ প্রায় সব শেষ করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা টানা শুটিংয়ের আগপর্যন্ত রিহার্সাল করে যাব।’ ‘প্রিন্স’ আগামী ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ‘ইনসাফ’ সিনেমায় শরীফুল রাজের বিপরীতে সর্বশেষ ফারিণকে দেখা যায়।

ইসলামী ব্যাংকিং খাত শক্তিশালীভাবে গড়তে ভালো নিরীক্ষা প্রয়োজন: গভর্নর

০

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাত শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলতে ভালো হিসাবরক্ষণ, সুশাসন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম প্রয়োজন।

তিনি বলেন, উচ্চমানের নিরীক্ষা মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রচলিত ও ইসলামী-উভয় ধরনের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ইসলামী অর্থনীতির জন্য ভালো হিসাবরক্ষণ, সুশাসন এবং নিরীক্ষা প্রয়োজন।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ফিন্যান্স সামিট-২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়নে কাজ করছে এবং তারা সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘দেশে ইসলামী ব্যাংকিংকে শক্তিশালী করতে ভালো হিসাবরক্ষণ, সুশাসন ও প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়নে কাজ করছে এবং আমরা সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে চাই।’

গভর্নর আরও বলেন, ‘ভালো নিরীক্ষা বাংলাদেশের ইসলামী অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে।’

তিনি স্বীকার করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকিং খাত একটি অস্থির সময় পার করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, খাতটি কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী এবং এখনো বাজারে অনেক খাতের তুলনায় ভালো করছে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ইসলামী অর্থনীতি ভালো করছে। বাংলাদেশে আমরা আরও ভালো অবস্থানে থাকতে পারতাম যদি অস্থির সময় না আসত। তবুও আমরা খাতটির প্রতি আস্থা রাখি এবং আমানতকারীরাও ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে পাচ্ছেন।’

আহসান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকগুলো পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ব্যাংকটি ভালোভাবে চলছে এবং সবচেয়ে বড় গ্রাহকভিত্তিক রয়েছে, তবে অনিয়ম এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি একক পরিবারের মাধ্যমে আইবিবিএল থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল, যা ব্যাংকটির সম্পদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।

‘এই উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়ার পরও মানুষ আইবিবিএলের ওপর আস্থা রেখেছে’- উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আইবিবিএল তীব্র তারল্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল। কিন্তু এখন তা কাটিয়ে উঠেছে। এমনকি এ বছর ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা এই শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।

তিনি আরও বলেন, ‘তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।’

‘আমরা আশা করি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দায়িত্বশীল ও প্রতিনিধিত্বমূলক হবেন।’

খাতটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে গভর্নর বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং একটি সুশৃঙ্খল, সুশাসিত ও টেকসই পথে এগিয়ে যাক।

মোংলা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গম খালাস শুরু

০

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ৬০ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন গমের খালাস গাতকলা রোববার মোংলা বন্দরে শুরু হয়েছে। পরীক্ষাগারে গুণগত মান যাচাই শেষে খালাস কার্যক্রম শুরু হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মোংলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান সরদার জানান, জাহাজটি গত শুক্রবার বিকেলে মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় নোঙর করে। চালান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর গম খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, মোট আমদানি করা গমের মধ্যে ৩৫ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন মোংলা খাদ্য গুদামে সংরক্ষণ করা হবে। বাকি অংশ খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীতে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, জাহাজটি আকারে বড় এবং গভীর ড্রাফট থাকায় ফেয়ারওয়ে থেকেই খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নগদ ক্রয় চুক্তির আওতায় গমের এ চালান এসেছে।

মোংলা বন্দরে এ ধরনের বৃহৎ গমের চালান এই প্রথমবার সরাসরি এসেছে। এর আগে গমের চালান চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে মোংলায় পৌঁছাত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র জি-টু-জি ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করবে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে তিনটি চালানে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৩৬ মেট্রিক টন গম বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

ক্ষমতায় গেলে ভারতের দাদাগিরি বন্ধে গুরুত্ব দেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

০

ভারত ১৭ বছরে আমাদের কিছু দেয়নি, বরং নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ন্যায্য পানির হিস্যা ও আমাদের ওপর পার্শ্ববর্তী দেশের দাদাগিরি বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল ভারত। এ হিসেবে এ দেশকে তাদের ভালো কিছু দেওয়ার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য গত ১৭ বছরে তারা কিছু দেয়নি, বরং নিয়ে গেছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চাই, প্রতিবেশী দেশ ইচ্ছে করলেই আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারে এবং আমি মনে করি, যেহেতু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহায়তা করেছেন, তাই আরও বেশি করে আপনাদের বাংলাদেশকে সহায়তা করা দরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা গত সরকার ও মোদি সরকারের সময় দেখেছি, উল্টো তারা বাংলাদেশির চাপে ফেলেছেন, সব নিয়ে গেছেন, কিন্তু বিনিময়ে আমাদের কিছু দেননি। এটা ছিল আওয়ামী লীগ ও হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা- যে তারা কিছু নিতে পারেনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এটা আমাদের রাজনীতি। আমরা বাংলাদেশ নামে যে ভূ-অঞ্চলে বাস করি, এখানকার পুরো পানির হিস্যা, আমাদের সীমান্তে হত্যা, আমাদের ব্যালেন্স অব ট্রেডের সব কিছু ঠিক করা, এই জিনিসগুলোকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।
এ সময় বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প-বাণিজ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলামসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এক গণসমাবেশে জামায়াতের উদ্দশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলছি- আপনারা ভালো হয়ে যান। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিতো অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে। কেন মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন। আপনাদের যত বিলবোর্ড দেখলাম, অন্য কোনো দলের তো এত দেখলাম না। যত পোস্টার দেখলাম, অন্য কোনো দলের এতো দেখলাম না। তাহলে কেন মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন। আপনারাতো নির্বাচন করবেন। নির্বাচন না করলে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না। নির্বাচন করলে আপনারা পরাজিত হবেন, তাই নির্বাচন পেছাতে চান।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে, এই নির্বাচন হতে হবে। এই নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এই নির্বাচন দিতে যত দেরি হচ্ছে বাংলাদেশ তত দুর্বল হচ্ছে। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার সফলতার সঙ্গে দেশ চালাতে পারে না।

একই দিনে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সংলাপে বসছে ইসি

০

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ আয়োজন করে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সংলাপের অংশ হিসেবে ১৯ নভেম্বর (বুধবার) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিকালে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসবে কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), ইনসানিয়াত বিল্পব, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।

এদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সঙ্গে (বাসদ মার্কসবাদী) সংলাপে বসবে ইসি।