কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপব্যবহার এখন একটি বৈশ্বিক মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন ডাক্তার যেমন এটি ব্যবহার করতে পারেন, তেমনি একজন ছিনতাইকারীও ব্যবহার করতে পারে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এআইয়ের অপব্যবহার রোধ করতে এটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা চলছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নির্বাচন কমিশন আয়োজিত ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এআই অপব্যবহার প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একত্রে চিন্তা করলে আরো অনেক ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে। তাই এই কর্মশালাটি একত্রে চিন্তা করে একটি সুনির্দিষ্ট সমাধান নিয়ে আসার একটি সুযোগ। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এআইয়ের অপব্যবহার মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরির জন্য কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে মৌলিক সুপারিশ চাই। শুধুমাত্র নীতিগত নির্দেশিকা নয়, বরং বাস্তবায়নযোগ্য খুটিনাটি জানতে চাই। আমি এই কর্মশালা থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ চাই।’
২৪ ঘণ্টার নজরদারি ও ফ্যাক্ট চেকিংয়ের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন, বিশেষ করে গভীর রাতেও বহু কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই ভুল তথ্য বা মিথ্যা তথ্যের দ্রুত মোকাবিলায় গঠিত সেলকে অবশ্যই ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। এই কাজের জন্য কী ধরনের লোকবল নিয়োগ দিতে হবে তা নিশ্চিত করতে হবে।’
ফ্যাক্ট চেকিংয়ের বিষয়ে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ফ্যাক্ট চেকিংয়ের পদ্ধতি কেমন হবে, কত দ্রুত তথ্য যাচাই করা যাবে এবং কোন কোন সংস্থাকে এর জন্য কাজে লাগানো হবে—এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান দরকার। ফ্যাক্ট চেকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল সংখ্যা কত হবে, তারও ধারণা দিতে হবে।’
পাহাড়ি অঞ্চল বা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ভুল তথ্য ছড়ানোর চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ধরুন পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চল বা সমুদ্র উপকূলের অফশোর আইল্যান্ডগুলো থেকে অস্বাভাবিক বা মিথ্যা তথ্য আসতে পারে। সেই তথ্য বা মিথ্যা তথ্যের কাছে পৌঁছানো এবং সেগুলোকে মোকাবিলা করার উপায় কী? এ জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সেলের সংযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে প্রতি শিফটে কতজন কর্মী নিয়োগ করতে হবে এবং তাদের শিক্ষাগত পটভূমি বা অভিজ্ঞতা কেমন হতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সুপারিশ দিতে হবে।’
স্থানীয় সংযোগের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে কারা আমাদের হয়ে কাজ করবে এবং এই মিথ্যা তথ্যগুলো সম্পর্কে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে—এই সব খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে পরামর্শ দিতে হবে। এই কর্মশালাটি অত্যন্ত কার্যকর হবে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে তার যাত্রাপথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’
নির্বাচনের সময় এআইয়ের অপব্যবহার রোধে সমন্বিত সেল করা হবে: সিইসি
আরব আমিরাতে ‘মাটির টানে রঙের বৈশাখ’
সফলভাবে সম্পন্ন হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অর্জনের সাথে সাথে প্রবাসীদের সমৃদ্ধি-প্রবৃদ্ধি, কনটেন্ট ক্রিয়েটরস, ব্যবসায়ী এবং মিডিয়া প্রফেশনালসদের এর সমন্বয়ে এক জমকালো আয়োজন। প্রথমবারের মতো সবচেয়ে বড় সোস্যাল কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে আত্মপ্রকাশ করা বাংলানেক্সট এর বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে আয়োজনটি ছিল ‘মাটির টানে রঙের বৈশাখ’।
পহেলা বৈশাখ সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে ‘সেভেন সিস’ পাঁচ তারকা হোটেলে এক অনাড়ম্বর আয়োজনে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরাব খান, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আকবর আশা, প্রতিষ্ঠাতা কার্যনির্বাহী সদস্যগণ, আগত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে ৫০০ ও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণ করেন।
ইভেন্টে বৈশাখী খাবার, আন্তর্জাতিক বুফে, লোকনৃত্য ও সংগীত, সম্মাননা প্রদান, সরাসরি আলাপচারিতা, মিডিয়া সংযোগসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিলো এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনবদ্য পারফরম্যান্স এবং পরে উপস্থিত গণ্যমান্য সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন। কমিউনিটির পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ ও গণ্যমান্য সকলের উপস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে সভাপতি আরব খান, সহ-সভাপতি শেখ রায়হান আব্দুল্লাহ, সহ-সভাপতি বাঁধন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আলী একবার আশা, সহ- সাধারণ সম্পাদক মামুন ইসলাম, কোষাদক্ষ রাসেল রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল আকন্দ, সি. সহ-সভাপতি ও প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান, নারী বিষয়ক সম্পাদক ফারহানা আফরিন ঐশী, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শুভ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম শাওন।
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মরক্কো
আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছে মরক্কো। সোমবার চিলির সান্তিয়াগো ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দারুণ লড়াইয়ে জয় তুলে নেয় আফ্রিকার এই উদীয়মান দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে মরক্কোর তরুণ ফুটবলাররা। ১২তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ইয়াসির জাবিরি।
প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন একই খেলোয়াড়, ২৯তম মিনিটে ওথমান মামার নিখুঁত পাস থেকে গোলটি করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও মরক্কোর রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দুর্দান্ত ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে ইতিহাস রচনা করে ‘অ্যাটলাস কাবস’ নামে পরিচিত মরক্কোর এই অনূর্ধ্ব-২০ দল। এর আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল মরক্কো। অন্যদিকে, কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে নবমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু মরক্কোর তরুণদের কাছে হেরে নিজেদের সপ্তম শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো- ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এই জয়ে মরক্কো ২০০৯ সালের পর প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতল। সর্বশেষ আফ্রিকার কোনো দল হিসেবে ঘানা সেই কীর্তি গড়েছিল। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কলম্বিয়া ১-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে তৃতীয় হয়। পুরো ম্যাচজুড়ে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিল মরক্কোর হাজার হাজার সমর্থক। পতাকা উড়িয়ে, গান গেয়ে ও চিৎকারে তারা দলকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। প্রায় দুই দশক পর অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ফিরে এসে মরক্কো প্রথম প্রচেষ্টাতেই শিরোপা জিতে লিখেছে স্বর্ণাক্ষরে নাম।
আমি নিখুঁত নই: সামান্থা
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু এবার নিজের জীবনের লড়াইয়ের গল্প বললেন। সাফল্যের ঝলমলে আলোয় থেকেও তার জীবন যে সংগ্রাম আর আত্মঅনুসন্ধানে ভরা, তা উঠে এসেছে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটের মঞ্চে। সেখানেই নিজের জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী।
জীবনের প্রতিটি উত্থান-পতন এসেছে ‘বাস্তব থাকার’ সিদ্ধান্ত থেকেই বলে জানিয়েছেন সামান্থা রুথ প্রভু। তিনি বলেন, আমি সবসময় চেষ্টা করেছি নিজের প্রতি সৎ থাকতে। আমার মায়োসাইটিস রোগের খবর আমি নিজেই প্রথম জানিয়েছিলাম। কারণ আমি চেয়েছিলাম মানুষ সত্যিটা জানুক। কিন্তু বাস্তব থাকা যে সবসময় সহজ নয়, সে কথাও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী।
স্বামী নাগা চৈতন্যের সঙ্গে চার বছরের দাম্পত্যজীবনের আকস্মিক বিচ্ছেদ একসময় পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
এ নিয়ে সামান্থা রুথ প্রভু বলেন, আমার জীবনের যারা অনুসারী, তারা জানেন-আমার বিচ্ছেদ, আমার অসুস্থতা- সবই প্রকাশ্যে এসেছে। আর সেই খোলামেলা আলোচনাই আমার জীবনে এনেছে প্রচুর ট্রলিং ও সমালোচনা। আমি হয়তো দুর্বল হয়েছিলাম, কিন্তু কখনো ভেঙে পড়িনি বলে জানান অভিনেত্রী।
সামান্থা বলেন, আমি নিখুঁত নই। আমি ভুল করি, হোঁচট খাই; কিন্তু আমি চেষ্টা করছি আরও ভালো মানুষ হতে। এখন তিনি শুধু অভিনয় নয়, নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করে নিতে চান অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে। যদি আমার গল্প শুনে কেউ সাহস পায়, তবে সেটাই আমার সাফল্য বলে জানান অভিনেত্রী।
আমাদের পরিচালকরা সত্যিকারের শিল্পীকে নিয়ে বাজি ধরতে রাজি নন: জয়া
ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটাচ্ছেন জয়া আহসান। কারণ, চলতি বছর দুই বাংলা মিলে মুক্তি পেয়েছে হাফ ডজন সিনেমা। ‘তাণ্ডব’, ‘উৎসব’-এর পর জুলাই ও আগস্টে কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত দুই সিনেমা ‘ডিয়ার মা’ ও ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’। এসব সিনেমা অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। সম্প্রতি আরআরকে পটকাস্টে উপস্থিত হয়ে ওপার বাংলায় কাজের সুযোগ ও দেশের সিনেমাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
কলকাতায় কাজ শুরুর বিষয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘আমি শিল্পী, আমাকে তো কাজ করতে হবে। অভিনয় ছাড়া তো আমি কিছু করিনি বা পারি না। তখন বাংলাদেশে আমি করতে পারি, সে রকম কাজ পাচ্ছিলাম না। সেই কষ্টের জায়গা থেকে এবং শিল্পের প্রতি আমার প্যাশনের কারণেই কলকাতায় যাওয়া।’
দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে কাজ করতে হলে পরিচালকের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকতে হয়। সেটি তার পক্ষে সম্ভব না বলেও উল্লেখ করে জয়া। তিনি বলেন, ‘যে পরিচালকদের জন্য আমি সবসময় হাজির ছিলাম, তারা আমাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করেননি বা করতে পারেননি। বাংলাদেশে একটা সমস্যা, পরিচালকের বান্ধবী, না হয় স্ত্রী থাকে। এটা তো আমার পক্ষে সম্ভব না; এসবে আমি যাইনি, যাবও না। এসব কারণে আমি কর্নারড হয়েছি, এতটা নিবেদিত থাকার পরও। যা কলকাতায় হয়নি। বাইরের আর্টিস্ট হওয়ার পরও ওরা আমাকে মূল্যায়ন করেছে। আমাকে ভালো চরিত্র দিয়েছে। আমাকে নিয়ে ভেবেছে এবং আমাকে কেন্দ্র করে গল্প বানিয়েছে।’
জয়া আরও বলেন, ‘এখনও বাংলাদেশে নারীকে কেন্দ্র করে কাজ করতে ভয় পান অনেক পরিচালক। করলেও এমন কাজে হয় তার বান্ধবীকে নেবেন, না হয় স্ত্রীকে নেবেন। অথবা মেগাস্টার, সুপারস্টার কাউকে নেবেন। একজন পিওর আর্টিস্টকে নিয়ে বাজি ধরতে রাজি নন তারা। তবে এর বাইরেও অনেক নির্মাতা কাজ করছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, অনেক ডায়নামিক পরিচালক আছেন, যারা আমার কাছ থেকে বা আরও গুণী অভিনেতাদের থেকে ভালো কাজ বের করতে পারতেন। কিন্তু তারা করেননি।’
গেল বছর বলিউডে অভিষেক হয়েছে জয়ার। এরপর বলিউডের প্রযোজক করণ জোহরের ‘ধর্মা প্রোডাকশন’ থেকে মুক্তি পাওয়া ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাবও পেয়েছিলেন জয়া। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটা ছাড়তে হয়েছে তার।
জায়া বলেন, ‘এটা অন্যরকম প্রজেক্ট ছিল। বিভিন্ন কারণে তখন সিনেমাটা করা হয়নি। যেটা ভাগ্যে থাকবে সেটা হবেই। এটা নিয়ে আফসোসের কিছু নেই।’
সবশেষ জয়াকে দেখা গেছে ‘ফেরেশতে’ সিনেমায়। বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি। পরিচালনা করেছেন ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ। জয়া ছাড়াও দেখা গেছে শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহেদ আলী, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুমন ফারুককে।
রাজনৈতিক অনৈক্যে দেশ গড়ার বড় সুযোগ নষ্ট হচ্ছে
দেশ গড়ার বড় সুযোগ রাজনৈতিক অনৈক্যের কারণে নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা কর্তৃক এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন৷
মির্জা ফখরুল বলেন, বড় একটা অভ্যুত্থানের পর বড় একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলবার। অথচ আমরা দেখছি রাজনীতিবিদরা ঐক্য হারিয়ে ফেলছেন। আমরা চারদিকে দেখছি অনৈক্যের সুর। এতে হতাশ হয়ে পড়ছি।
রাজনীতিকে সুন্দর করতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির মধ্যে যদি সৌন্দর্য না আনা যায়, সততা না আনা যায়, রাজনীতির মধ্যে যদি স্বপ্ন পূরণ করবার ও লক্ষ্যে দৌড় দেবার ইচ্ছা তৈরি করা না যায় -রাজনীতি কখনোই সুন্দর হবে না।
তিনি বলেন, রাজনীতি যদি হয় ব্যক্তিগত স্বার্থে সম্পদ তৈরি করা-তাহলে মানুষের ঘৃণা ছাড়া আর কিছু যুক্ত করতে পারবে না। আর সেটা রাজনীতি সুন্দর করতে পারে না।
অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাব সভাপতি প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আলম, মোশাররফ হোসেন পুস্তি, মো. মফিজুর রহমান প্রমুখ।
ভারতকে কড়া হুমকি ট্রাম্পের
রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে ভারত, আবারও এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, যদি ভারত তা না করে, তাহলে ‘বিপুল’ শুল্ক দেওয়া থেকে নিস্তার নেই।
‘আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেন, রুশ তেল কেনার বিষয়টি আর থাকবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে বসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে এ ধরনের কথোপকথন সম্পর্কে তারা অবগত নয়। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি সেটি বলতে চায়, তাহলে বিপুল হারে শুল্ক দিতে হবে, যেটা তারা নিশ্চয়ই দিতে চাইবে না।
মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার তেল। ট্রাম্পের অভিযোগ, ভারত-রাশিয়ার তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়ন করছে। ভারতের পণ্যে ট্রাম্প যে ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ করেছেন, তার অর্ধেকই এই তেল কেনার শাস্তি।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করার পর পশ্চিমা দেশগুলো রুশ তেল কেনা বন্ধ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে রাশিয়া অনেক ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি শুরু করে। সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত।
গত বুধবার ট্রাম্প বলেন, মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন, ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সেদিন দুই নেতার মধ্যে কোনো টেলিফোন আলাপের বিষয়ে তারা অবগত নয়। মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের প্রধান উদ্বেগ হলো- ‘দেশের ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।’
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার জানান, রাশিয়ার তেল কেনা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে ভারত; কিন্তু ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, তাতক্ষণিকভাবে রাশিয়ার তেল কেনায় কমতি দেখা যায়নি।
ভারতের সূত্র জানিয়েছে, দেশটির তেল পরিশোধনাগারগুলো ইতোমধ্যে নভেম্বর মাসের জন্য কার্যাদেশ দিয়েছে, যার মধ্যে কিছু তেল ডিসেম্বর মাসেও আসবে। ফলে ডিসেম্বর বা জানুয়ারির হিসাবে তেল আমদানি কমতে পারে।
পণ্যবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি ২০ শতাংশ বাড়তে পারে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রুশ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাশিয়া রপ্তানি বাড়িয়েছে। সে কারণে এই বৃদ্ধির সম্ভাবনা। তাতে এ মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দৈনিক ১৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাবে।
তেহরান পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত তেহরান পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও চীন। এতে ইরানের পারমাণবিক বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষণও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত শনিবার দেশ তিনটি একযোগে জাতিসংঘকে এসব তথ্য দিয়েছে।
শনিবার ইরান, রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদ বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, রেজল্যুশন ২২৩১-এর আওতাধীন বিধিনিষেধগুলোর মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রেজল্যুশনটির ১০ বছরের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। রেজল্যুশন ২২৩১-এর মধ্য দিয়ে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) তথা ইরান পারমাণবিক চুক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিন দেশের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ইথ্রি দেশগুলো (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি) চুক্তিটি পুনর্বহালের যে চেষ্টা করছে, তা আইনগত ও প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ইউরোপীয় দেশগুলো যেহেতু জেসিপিওএ এবং ২২৩১ রেজল্যুশনের আওতায় নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করার কাজ বন্ধ করেছে, তাই তারা আর এ ধারাগুলো প্রয়োগের অধিকার রাখে না।
একপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞা, হুমকি বা উত্তজনা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার জন্য ওই চিঠিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মূল চুক্তির সময়সূচি অনুযায়ী রেজল্যুশনের মেয়াদ শেষ হওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই তারিখ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি–সংক্রান্ত সব শর্ত, বিধিনিষেধ ও প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।’
নির্বাচনে এআই অপপ্রচার ও ড্রোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সুসংহত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এবার নির্বাচনে এআই অপপ্রচার ও নির্বাচনি এলাকায় গোপনীয়তার স্বার্থে ড্রোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে।
এছাড়া, নির্বাচনকালীন পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সহযোগিতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ভুল তথ্য প্রচার রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৈঠকে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা কাঠামো, ৩ পর্যায়ের নিরাপত্তা কৌশল
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মূলত তিনটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তফসিল ঘোষণার পূর্বে : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী ও নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ধাপে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।
তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচন পর্যন্ত : অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। সকল প্রার্থীর নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আমর্ড পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার, কোস্টগার্ড এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।
নির্বাচন পরবর্তী কার্যক্রম : নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে নির্বাচনের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা বা ২ দিন পর্যন্ত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। এই সময়ে আইনগত নির্দেশনা প্রদানের জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংক্ষিপ্ত বিচার কাজের জন্য জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও বিশেষ পদক্ষেপগুলো বর্তমানে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত এবং ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠান বাছাই।
এছাড়াও, ইসি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার কর্মপরিকল্পনা : তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটগ্রহণের কয়েক দিন পর পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমন্বয় সাধন ও সুসংহতকরণ : নির্বাচনে সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পল্লী এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে গ্রাম পুলিশ/চৌকিদার/দফাদার নিয়োগের পাশাপাশি ইউপি সচিবদেরও সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা : সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অন্তর্ঘাতমূলক বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রোধে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ : সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ব্যবহারকারীদের দমনের লক্ষ্যে যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর বৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশনা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।
এআই নির্ভর ভুল তথ্য প্রচার রোধ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বা অন্য কোনোভাবে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার রোধে কার্যকর কৌশল নির্ধারণের প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিরলসভাবে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা : নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বিদেশ থেকে আগত পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা যাতে নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তার জন্য সব প্রকার আইনানুগ সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থাপনা : প্রবাসী ও পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে যোগ্যদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পেপার নিরাপত্তার সঙ্গে ডাকবিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশে প্রেরণ এবং ফেরত আসার সময় নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রেরণ করতে হবে।
সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন পরিকল্পনা : In Aid to the Civil Power অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যেও ভোটকেন্দ্রে ও নির্বাচনি এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনসহ এ বিষয়ক বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ : নিরাপত্তার ঝুঁকি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং অননুমোদিত ব্যবহারের কারণে নির্বাচনি এলাকায় ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন হবে।
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ।
আজ (সোমবার) বিকেলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে এই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কোন ধরনের অনিশ্চয়তা নেই।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের ওপর কোন ধরনের চাপ নেই। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে কোন গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে সরকারের সমালোচনা করছে।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে জার্মান দূতাবাসের রাজনৈতিক ও প্রেস অফিসার শারনিলা নুজহাত কবির উপস্থিত ছিলেন।


