Home Blog Page 305

লিবিয়া উপকূলে ২৬ বাংলাদেশিকে নিয়ে নৌকাডুবি, ৪ জনের মৃত্যু

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে ২৬ বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই উপকূলে অর্ধশতাধিক সুদানিসহ পৃথক আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।

দ্বিতীয় ঘটনায় অবশ্য হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-খোমস উপকূলে এই ঘটনা ঘটে। রোববার (১৬ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-খোমস উপকূলে প্রায় ১০০ জনকে বহনকারী দুটি অভিবাসী নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।

সংস্থাটি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে আল-খোমসের তীরের কাছে উল্টে যাওয়া দুটি নৌকার খবর তারা পায়। প্রথম নৌকাটিতে ছিলেন বাংলাদেশের ২৬ নাগরিক। তাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আর দ্বিতীয় নৌকাটিতে ছিলেন মোট ৬৯ জন। এর মধ্যে দুজন মিসরীয় এবং বাকি ৬৭ জন সুদানি নাগরিক। তাদের মধ্যে আটজন শিশু।

রেড ক্রিসেন্ট জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জীবিতদের উদ্ধার। এছাড়া মৃতদের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি সবাইকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও তারা করে।

মূলত অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার জন্য বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয় রুট হচ্ছে লিবিয়া। ২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি ইউরোপগামী অভিবাসীদের ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়। বর্তমানে সাড়ে ৮ লাখেরও বেশি অভিবাসী লিবিয়ায় অবস্থান করছে। গাদ্দাফির শাসনামলে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ায় কাজ পেত, কিন্তু তার পতনের পর থেকে দেশটি প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়াদের সংঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

অধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলো বলছে, লিবিয়ায় শরণার্থী ও অভিবাসীরা নিয়মিতভাবে নির্যাতন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে থাকে।

অবশ্য অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অর্থসহায়তা দিয়েছে। কিন্তু ওই কোস্টগার্ডের সঙ্গেই নির্যাতন ও অপরাধে জড়িত মিলিশিয়ার সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইউরোপের দেশগুলো রাষ্ট্রীয় উদ্ধার অভিযান ধাপে ধাপে বন্ধ করায় সমুদ্রযাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত দাতব্য সংস্থাগুলোও বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছ থেকে দমনমূলক পদক্ষেপের সম্মুখীন হয়েছে।

২০২৬ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানালো আরব আমিরাত

২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর শুক্রবার, ২০ মার্চ হতে পারে বলে জানিয়েছে এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি। সংস্থার চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, আরব আমিরাতে ১৪৪৭ হিজরির রমজানের চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেখা যেতে পারে। তবে সেদিন খালি চোখে চাঁদ দেখা কঠিন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, রমজান শুরু হতে পারে বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি। এই বছর রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে সরকারি ছুটির তালিকায় আরও এক দিনের বেশি ছুটি যুক্ত হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরব আমিরাতে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২২ মার্চ (রোববার) পর্যন্ত চার দিনের সম্ভাব্য ঈদ ছুটি থাকতে পারে। ছুটির পর ২৩ মার্চ সোমবার থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে।

চূড়ান্তভাবে রমজান ও ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করবে ইউএই মুন-সাইটিং কমিটি। তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০ মার্চই সবচেয়ে সম্ভাব্য ঈদের দিন।

গালফ নিউজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানায়, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র উৎসব হওয়ায় চাঁদ দেখার আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো তারিখ ঘোষণা করবে না আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ। ধর্মীয় অনুভূতি ও শারঈ বিধান মেনে চাঁদ দেখা নিশ্চিত হওয়ার পরেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

১২ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ সংলাপ শুরু হয়।

সংলাপে যোগ দিয়েছে গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির নেতারা।

একই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নেবে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীসহ ১২টি দলের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমলো, ভরি ২ লাখ ৮ হাজার টাকা

স্বর্ণ বিশ্বের অন্যতম লোভনীয় সম্পদ। যেকোনো দেশে ঝুঁকি এড়াতে সোনা মজুত করে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে সেই পরিমাণ বেড়ে গেলে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় কোনো দেশের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন ঘটে। সেক্ষেত্রে নিজেদের সম্পদ রক্ষার্থে স্বর্ণ বিনিয়োগ করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে তাদের কাছে ধাতুটির আকর্ষণ বাড়ে। সেই সঙ্গে দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়। আবার ডলারের দাম বাড়লে স্বর্ণের দর হ্রাস পায়। আবার ডলারের মূল্য নিম্নমুখী হলে স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়। এসব কারণে স্বর্ণের দাম কখনও বাড়ছে আবার কখনও কমছে। এবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কিছুটা কমানো হয়েছে।

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা। ফলে এখন এক ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। আজ রবিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ২০২ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৫৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮০৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৭ টাকা।

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ২৪৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ২৯২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ টাকা।

এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতনী এক ভরি রূপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভরা মঞ্চে রাশমিকাকে বিজয়ের চুম্বন!

০
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার প্রেমের গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় আছে। তবে এবার তারা প্রকাশ্যেই একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। যা আবার ক্যামেরাবন্দিও করেছেন পাপারাজ্জিরা।
সম্প্রতি হায়দরাবাদে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’-এর সাফল্য উদযাপন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হন এই তারকা জুটি। সেখানে মঞ্চে রাশমিকার হাত ধরে তাকে চুম্বন করেন বিজয়। দর্শক ও সাংবাদিকদের সামনেই ঘটে সেই মুহূর্ত।
এই ঘটনায় কিছুটা লজ্জা পেলেও হাসিমুখে প্রেমিকের প্রতি ভালোবাসার বার্তা দেন রাশমিকা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনে একজন বিজয় দেবেরাকোন্ডার মতো মানুষ থাকা উচিত। ওর মতো একজনকে পাশে পাওয়া সত্যিই আশীর্বাদ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিজু, তুমি শুরু থেকেই এই সিনেমার অংশ ছিলে। আজ এই সাফল্যের আনন্দে তোমাকে পাশে পেয়ে ভালো লাগছে।’
রাশমিকা জানান, ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ ছবির কাজের সময় থেকেই বিজয় তার পাশে ছিলেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই তাদের বিয়ের খবর আরও জোরালো হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আগামী ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরে রাজকীয় আয়োজনে বিয়ে করতে চলেছেন এই দুই তারকা। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই হবে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

তৃতীয় দিনেই জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

০
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনেই জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম ইনিংসে আয়ারল্যান্ডের করা ২৮৬ রানের জবাবে মাহমুদুল হাসান জয় (১৭১) ও নাজমুল হোসেন শান্তর (১০০) জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ উইকেটে ৫৮৭ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
৩০১ রানে পিছিয়ে থেকে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়ে যায় আইরিশরা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান। ৪ ও শূন্য রানে অপরাজিত আছেন অ্যান্ডি ম্যাকবার্ন  ও ম্যাথিউ হ্যাম্পার। ৪৩ রান করে রান আউট হয়েছেন ওপেনার পল স্টারলিং। ১৮ রান করে ফেরান হ্যারি টকার।

১৬৪ টাকায় সয়াবিন তেল ও ৯৪ টাকায় চিনি কিনবে সরকার

০
আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইস্তানবুল থেকে ১ লাখ ২০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল এবং ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পরিশোধিত চিনি কিনবে সরকার। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল ১৬৪.২১০ টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি কেনা হবে ৯৪.৯৪২ টাকায়। এতে মোট ব্যয় হবে ২৩৭ কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে উন্মুক্ত দরপত্র (আন্তর্জাতিক) পদ্ধতিতে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পরিশোধিত চিনি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠান হলো ইস্তানবুলের বেগালতা ড্যানিসমানলিক হিজমেটলেরি এ এস ওমের অবনি এমএইচ ইনোনু সিডি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এই চিনি কিনতে ব্যয় হবে ৭৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ৯৪.৯৪২ টাকা।
অপর এক প্রস্তাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১ লাখ ২০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠান হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রেডেন্টোন এফজেডসিও দ্য প্যালাডিয়াম। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এই তেল কিনতে ব্যয় হবে ১৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম পড়বে ১৬৪.২১০ টাকা।

সংকট রয়েই গেল কর্মসূচি চলবে: ড. ইউনূসের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত

০
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের আয়োজন করা হবে বলে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ঘোষণায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণায় সংকটমুক্ত স্বচ্ছ নির্বাচনের আশা করেছিলাম, কিন্তু সেখানে সেই সংকটটা রয়েই গেলো।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং আদেশের ওপর নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা গণদাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলমান ও ঘোষিত আট দলীয় কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় মগবাজার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাড. ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

 

প্রধান উপদেষ্টা জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন: সালাহউদ্দিন

০
জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের মাধ্যমে নিজের সই করা জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন।’
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকালে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কারণ জাতীয় সনদে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং এ ভাষণের মাধ্যমে তা তিনি লঙ্ঘন করেছেন। আপাতত এটুকুই আমার প্রতিক্রিয়া।
তবে জুলাই সনদ লঙ্ঘন কীভাবে হয়েছে- এই বক্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা দেননি এই বিএনপি নেতা।
দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপের পর সন্ধ্যা নাগাদ বিএনপির দলীয় প্রতিক্রিয়া জানা যাবে বলে জানান সালাহউদ্দিন।
তবে বিএনপি বলছে, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা নেই, তিনি শুধু অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
দুপুর আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ভাষণ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে এক সঙ্গে আয়োজনের ঘোষণা দেন।
এদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন, সেখানে গণভোট কী প্রশ্ন থাকবেন তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনোভাবেই সংস্কারের লক্ষ্য ব্যাহত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোটের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন উপযুক্ত সময়ে প্রণয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, গত ৯ মাস ধরে রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বিষয়ে একমত হয়েছে দলগুলো। এটি ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। এজন্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ড. ইউনূস আরও বলেন, জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করেছি। আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম : আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে। গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।
এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এই আদেশে স্বাক্ষর করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সন্ধ্যা ৭টায় এই বৈঠক হবে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে।
বৈঠকের বিষয়ে তথ্য দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরে দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

চুক্তি হলো না, ভেস্তে গেল পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি সংলাপ

ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের শান্তি সংলাপ ভেস্তে গেছে। কোনোপ্রকার চুক্তি বা লিখিত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়ে গেছে সংলাপ।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। পুরো ব্যাপারটিকে ‘অচলাবস্থা’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
“একটা পরিপূর্ণ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আমাদের সংলাপ অনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই”, সাক্ষাৎকারে বলেছেন খাজা মুহম্মদ আসিফ।
গত বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে তৃতীয় দফা সংলাপে বসেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি প্রতিনিধিরা। এই সংলাপের পর শান্তি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু আকাঙিক্ষত সেই চুক্তি হয়নি, সংলাপও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে।
পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে সংলাপের টেবিলে আনতে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে কাতার এবং তুরস্ক। সাক্ষাৎকারে দুই দেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসিফ বলেছেন, “আমরা সন্ত্রাসের মূলোৎপাটনের জন্য আফগানিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছিলাম এবং কাতার-তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। এজন্য তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। এমনকি আফগান প্রতিনিধিরাও আমাদের অবস্থানের সঙ্গে সম্মত হয়েছিলেন।”
“কিন্তু যখনই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ এলো, তখন তারা পিছিয়ে গেলেন। তারা চান, তাদের মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে যেন আমরা আস্থা রাখি। এটা কীভাবে সম্ভব? কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনা কী সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়া হয়?”
প্রতিবেশী এবং একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র আফগানিস্তানের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে তিক্ততা চলছে পাকিস্তানে। বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ২০২১ সালে তালেবান বাহিনী কাবুল দখল এবং সরকার প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে শুরু হয়েছে এ অবস্থা।