Home Blog Page 315

বিএনপির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে যা বললেন মামুনুল হক

বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তবে এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের নিশ্চয়তা চান তিনি।
সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মামুনুল হক বলেন, বিএনপির সঙ্গে অতীতে আমাদের নির্বাচনি জোট ও সমঝোতা হয়েছে। কাজেই এ ধরনের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। তবে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো-প্রথমত, জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হওয়া এবং দ্বিতীয়ত, উচ্চকক্ষে অন্তত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির নিশ্চয়তা। এই দুটি ইস্যু আমাদের আগামী নির্বাচনের মেরুকরণ ও জোট নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি বা অন্য কোনো জোটে যাওয়ার বিষয়টি কিসের ওপর নির্ভর করবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শুধু হিসাব-নিকাশ নয়, আদর্শিক বিষয়টিই মুখ্য। ইসলাম এবং দেশের সার্বিক কল্যাণ এ দুটিকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। আবারও বলছি, জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন এবং উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির নিশ্চয়তা এই দুটি দাবি আমাদের আগামী নির্বাচনে অবস্থান নির্ধারণ করবে।
মামুনুল হকের কাছে প্রশ্ন ছিল- জামায়াতের সঙ্গে জোটের আলোচনা আসলেই কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠনগুলো বিশ্বাস ও আদর্শের জায়গা সামনে নিয়ে আসে। অথচ বিএনপির সঙ্গে জোটের আলোচনায় আদর্শের প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় না কেন?
এর উত্তরে আলোচিত এ ধর্মীয় রাজনীতিবীদ বলেন, বিএনপি যেহেতু কোনো ইসলামি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন নয়, কাজেই তাদের সঙ্গে জোট করলে আমাদের অনুসারীরা আদর্শিকভাবে বিভ্রান্ত হবেন বলে আমরা মনে করি না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী একটি সুসংগঠিত ইসলামি রাজনৈতিক দল। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সঙ্গে তাদের কিছু মতপার্থক্য আছে। তাই জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলে আমাদের জনশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে এবং এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই জায়গাটাই দুই দলের সঙ্গে জোট আলোচনার মূল পার্থক্য।

ডাকসুর ভোটের পর যে প্রতিক্রিয়া জানালেন জামায়াত আমির

গতকাল (৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদে বিজয়ী হয়েছে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। ভিপি পদে মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), জিএস পদে এসএম ফরহাদ ও এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান জয় পেয়েছেন। এছাড়া ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। বাকি তিনটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
ডাকসু নির্বাচন-পরবর্তী নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে বিজয়ীদের ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শফিকুর রহমান।
নির্বাচিতদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, তারা তাদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি আশা করি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘৯ সেপ্টেম্বর দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনের প্রার্থীরা ভোটে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করেন। এই নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন পরিচালনা করায় আমি অন্তর্বর্তী সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিকসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি ডাকসুর ইলেকশনে দায়িত্বপালনরত অবস্থায় চ্যানেল এস’র সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম শিবলী ইন্তেকাল করায় আমি তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার পরিবার-পরিজনদের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।’

হেলিকপ্টারের দড়িতে ঝুলে পালালেন মন্ত্রীরা!

সহিংসতায় ভেঙে পড়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি। সেনারা গতকাল থেকে রাজধানীর রাস্তায় টহল দিচ্ছে এবং মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কয়েকদিনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার পর দেশজুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার কয়েক হাজার তরুণ বিক্ষোভে যোগ দেয়। ‘জেন জি’ নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভকারীরা সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি ভাঙচুর করে এবং পার্লামেন্ট ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী পৃত্বি সুব্বা গুরুঙের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পোড়েলের বাসভবনে ইটপাটকেল ছোড়ে। এছাড়া নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংকের গভর্নর বিশ্ব পোড়েল এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাড়িতেও হামলা চালায়।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, অর্থমন্ত্রীকে রাস্তায় ধাওয়া করে বিক্ষোভকারীরা লাথি মেরে আঘাত করছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অর্জু রানা দেওবা এবং তার স্বামী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেস প্রধান শেরবাহাদুর দেওবার বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে জনতা। সেখানে শেরবাহাদুর দেওবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে সেনারা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার দিয়ে মন্ত্রী ও তাদের পরিবারকে উদ্ধার করা হচ্ছে। উদ্ধার ঝুলিতে ঝুলে থাকা অবস্থায় তাদের উড়তে দেখা যায় কাঠমান্ডুর একটি হোটেলের ওপর দিয়ে। একই সময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে থাকে।
কারাগারের ভেতরও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। বন্দিরা কারাগারের ভবনে আগুন লাগায় এবং প্রধান ফটক ভেঙে বাইরে আসার চেষ্টা করে। তবে সেনারা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং বন্দিদের অন্য কারাগারে সরিয়ে নেয়।
এই সহিংসতার সূচনা হয় সরকারের সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার পর। ফেসবুক, এক্স ও ইউটিউব বন্ধ করে দেওয়া হয়, কারণ সরকার দাবি করে এসব প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন ও সরকারি তদারকিতে আসতে রাজি হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তরুণরা অভিযোগ করে, রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করে অথচ সাধারণ তরুণরা চাকরি খুঁজে পাচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, গত বছর নেপালে যুব বেকারত্ব ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। সরকারের হিসাবে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি তরুণ কাজের সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্য বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে পাড়ি জমাচ্ছে।
বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন এবং দেশ ছেড়ে চলে যান। সেনারা এখন রাজধানীতে টহল দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

আগামী নির্বাচনে প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবে: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটার ও জাতীয় পরিচয়পত্রধারী (এনআইডি) বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ জন্য ‘পোস্টাল ব্যালট বিডি’ নামে একটি অ্যাপ তৈরির কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, টরন্টো আয়োজিত ‘স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং প্রবাসীদের ভোট প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ’ বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় প্রাপ্ত এক তথ্যবিবরণীতে এ বিষয় জানানো হয়।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি তুলে ধরেন। পাশপাশি প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা কীভাবে ভোট প্রদান করবেন সে বিষয়ে আলোচনা করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কানাডা সফরে এসে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজন করায় কনস্যুলেটের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
কনসাল জেনারেল মো. ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করে এবং প্রবাসীরা নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কানাডায় বসবাসরত ব্যবসায়ী, ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রবাসী বাংলাদেশি।

শেখ হাসিনার পূবালী ব্যাংকের লকার জব্দ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পূবালী ব্যাংক মতিঝিল শাখায় থাকা ১২৮ নম্বর লকার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবীব।
তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে পূবালী ব্যাংকের সেনা কল্যাণ ভবনে অবস্থিত একটি লকারের সন্ধান পাওয়া গেছে । এর দু’টি চাবির মধ্যে একটি শেখ হাসিনার কাছে আছে। আজ সকালে সিআইসির একটি টিম লকারটি জব্দ করেছে।
বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের ২ হাজার ৭১৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা।
এর মাধ্যমে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় উঠেছে স্বর্ণের দাম।
সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ৪ ও ২ সেপ্টেম্বর এবং ৩১ ও ২৭ আগস্ট স্বর্ণের দাম আর চার দফা বাড়ানো হয়। চার দিনের মাথায় এখন দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাজুস বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম বেড়েছে, তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ক্রেডিট কার্ড কেলেঙ্কারি: টাকা গায়েব, গ্রাহকের ক্ষোভ

সম্প্রতি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একাধিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। হঠাৎ করেই তাদের ফোনে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) মেসেজ আসার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ব্যাংক কার্ড থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা গায়েব হয়ে যায়। অথচ কোনো ব্যবহারকারীই ওটিপি শেয়ার করেননি, কিংবা সন্দেহজনক ওয়েবসাইট/অ্যাপ ব্যবহার করেননি। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এই ঘটনায় দায় স্বীকার না করে সরাসরি বলেছে, ব্যাংকের সিস্টেমসমূহ, যার মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত, কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। একইসঙ্গে এ ঘটনায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে (যেমন বিকাশ, নগদ) ডিজিটাল লেনদেনের ওপর দায় চাপিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

একই প্যাটার্নে টাকা উধাও
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে ২৬ আগস্ট। ভুক্তভোগী হাসিন হায়দার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন—“আমার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ভিসা কার্ড থেকে হঠাৎ ৫০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে বিকাশ অ্যাকাউন্টে। ফোনে ওটিপি এলেও আমি তা কারও সঙ্গে শেয়ার করিনি। তারপরও ২০ সেকেন্ডের মধ্যে টাকা স্থানান্তর হয়ে যায়। অথচ ব্যাংক বলছে, যেহেতু ওটিপি দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, তাই এটা গ্রাহকের দায়।”
হাসিন হায়দার তার ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আরও লিখেছেন, “২৬ আগস্ট রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে আমার কার্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। আমি ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার করিনি। আমার বিশ্বাস, এটা ব্যাংকের সিকিউরিটি ইস্যু।”
ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো
হাসিন হায়দার লিখেছেন, ‘‘আগস্টের ২৬ তারিখ রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে আমার ফোনে হঠাৎ দুটি ওটিপি আসে। এর ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই দেখি আমার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ভিসা ক্রেডিট কার্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে গেছে। অথচ—কেউ আমার কাছে ওটিপি চায়নি, ফোন বা কম্পিউটার কারও হাতে ছিল না এবং আমি নিজেও কোথাও এটি ব্যবহার করিনি। অর্থাৎ একেবারে চোখের সামনে আমার টাকা উধাও হয়ে গেলো।’’
ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের ‘যুদ্ধ’
হাসিন হায়দার লিখেছেন, ‘‘ঘটনার পরপরই কার্ড ব্লক করার জন্য আমি ব্যাংকের হেল্পলাইনে ফোন দিই। কিন্তু সেখানে ঢুকতে যেন যুদ্ধ করতে হলো—মিনিটের পর মিনিট ওয়েট করেও কেউ রিসিভ করছিল না। অবশেষে একজন এজেন্ট ধরলেন এবং বললেন, ট্রানজেকশন যেহেতু হয়ে গেছে, তাই এখনই কমপ্লেইন নেওয়া যাবে না। স্টেটমেন্ট আসা পর্যন্ত (২-৩ দিন) অপেক্ষা করতে হবে।’’
‘‘এরপর আবার ফোন দিলে আরেকজন এজেন্ট সঙ্গে সঙ্গেই আমার অভিযোগ নেন এবং কেস নম্বর দেন—২০২৫০৮২৬৯৭৮৫৪৩। এখানেই বোঝা যায়, ব্যাংকের কাস্টমার সার্ভিস কতটা অসংগঠিত।’’
ব্যাংকের দায়সারা তদন্ত
হাসিন হায়দার আরও লিখেছেন, ‘পাঁচ দিন পর ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হলো—যেহেতু ওটিপি ব্যবহার হয়েছে, তাই ব্যাংকের কিছু করার নেই। অথচ আমি স্পষ্ট জানালাম, আমার ফোন থেকে বা অন্য কোথাও থেকে কোনোভাবেই ওটিপি শেয়ার হয়নি। এটা স্পষ্টতই ব্যাংকের দিক থেকে নিরাপত্তা ভঙ্গ বা তথ্য ফাঁসের ঘটনা।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমি ২০০৯ সাল থেকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছি। এতদিনে এটাই আমার প্রথম ফ্রড কেস। আমি যথেষ্ট নিরাপত্তা সচেতন। অবিশ্বস্ত কোনও অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে কার্ড ব্যবহার করি না। তাই নিশ্চিতভাবেই এই ঘটনাটি গ্রাহকের নয়, ব্যাংকের দিকের নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে ঘটেছে।’’
আরও অনেকের একই অভিজ্ঞতা
হাসিন হায়দার আরও লেখেন, ‘‘এরপর খুঁজে দেখলাম—লিংকডইন ও ফেসবুকে আরও অনেক গ্রাহক ঠিক একই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তাদের কারও কাছ থেকেও ওটিপি শেয়ার হয়নি। অথচ তাদেরও টাকা একইভাবে উধাও হয়েছে এবং সবার ক্ষেত্রেই স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের কার্ড ব্যবহৃত হয়েছে। তাহলে কি এটা ব্যাংকের সিস্টেমেটিক নিরাপত্তা ত্রুটি নয়।’’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘আমি বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককেও জানিয়েছি। তাদের তদন্ত ও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’’
ব্যাংকের হেড অফিস থেকে যোগাযোগ
ঘটনার পর (সেপ্টেম্বর ৫ তারিখ বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে) স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের হেড অব রিটেইল ব্রাঞ্চেস আমাকে ফোন করেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সিরিয়াসলি নেওয়া হয়েছে। রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে বিকাশ/নগদসহ স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হবে।’’
শুধু হাসিন হায়দার নন, আরও অনেকে একই অভিযোগ করেছেন। সাদিয়া শারমিন বৃষ্টি জানান, সাত বছরের বেশি সময় ধরে কার্ড ব্যবহার করলেও প্রথমবার এ ধরনের জালিয়াতির শিকার হয়েছেন তিনি। তার কার্ড থেকেও ঠিক ৫০ হাজার টাকা নগদে ট্রান্সফার হয়েছে। অভিযোগ করলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে—“ওটিপি ভেরিফায়েড ট্রানজেকশন হওয়ায় এটাকে প্রতারণা ধরা হবে না।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন মেহেদী হাসান। তার ভাষায়—“৩০ আগস্ট আমার কার্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। জিডি করেছি, বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগও করেছি। কিন্তু এসসিবি জানালো, তাদের কিছু করার নেই। বরং সঠিক তদন্তও করছে না।”
ফারিহা কবির নামের আরেক গ্রাহক লিখেছেন, “২৯ আগস্ট আমার কার্ড থেকে অননুমোদিতভাবে ৫০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও নগদ উভয়েই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক বলছে, গ্রাহক গোপন তথ্য শেয়ার করেছেন, আর নগদ বলছে—লেনদেন যথাযথভাবে হয়েছে। অথচ আমি ওটিপি, পিআইএন, সিভিভি কিছুই শেয়ার করিনি।”
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু কয়েকজন নয়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও অন্তত কয়েকজন গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। সংখ্যাটা ১০০-এরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্যাংকের অবস্থান
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ— স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের হেল্পলাইন ও কাস্টমার সার্ভিসে সঠিক সহায়তা মেলেনি। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ নিতেই দেরি করা হয়েছে। গ্রাহকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, প্রথমে বলা হয়েছে স্টেটমেন্ট ছাড়া অভিযোগ গ্রহণ করা যাবে না। পরে অভিযোগ নেওয়া হলেও ব্যাংক দাবি করছে—ওটিপি ভেরিফায়েড লেনদেন হওয়ায় এটাকে জালিয়াতি ধরা যাবে না।
অর্থাৎ ব্যাংক সরাসরি গ্রাহকদের দোষারোপ করছে—ওটিপি, পিআইএন বা সিভিভি তারা নিজেরাই শেয়ার করেছেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা একবাক্যে তা অস্বীকার করছেন।
এমন অবস্থায় গ্রাহকদের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। তারা বলছেন—“একটি বৈশ্বিক ব্যাংক যদি দায় এড়িয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ব্যাখ্যা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সম্প্রতি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন- বিকাশ, নগদ ইত্যাদিতে ডিজিটাল ট্রান্সফার সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর ব্যাখ্যা দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ব্যাংকের হেড অব ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং, বাংলাদেশের  লুথফুল হাবিব জানান, গ্রাহকের আস্থা ও আর্থিক নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিযোগ করা লেনদেনগুলো বহিরাগত সিস্টেম থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং তা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) যাচাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের নিজস্ব সিস্টেম, যেমন- ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ও নিরাপত্তা প্রোটোকল কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
তিনি আরও জানান, গ্রাহকদের সতর্ক করা হয়েছে, যেন তারা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে প্রবেশাধিকার ও যাচাইকরণ পদ্ধতি যথাযথভাবে সুরক্ষিত রাখেন। এ ধরনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তদন্তের জন্য জানানো হয়েছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বলেছে, যেকোনও নতুন তথ্য পাওয়া গেলে গ্রাহকদের পাশে থেকে পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রকের মতামত
ব্যাংকিং ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ঘটনাগুলো নিছক ফিশিং নয়। ওটিপি ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়া মানে গ্রাহকের তথ্য সিস্টেম পর্যায়ে ফাঁস হয়েছে। এটি হয়তো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কোনও অসৎ কর্মী বা সাইবার সিকিউরিটি দুর্বলতার কারণে ঘটতে পারে।
তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা। প্রমাণিত হলে ব্যাংককে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ডিজিটাল ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা গ্রাহকদের জন্য কিছু করণীয়ও পরামর্শ দিচ্ছেন—কমপক্ষে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখা। একটি দৈনন্দিন অনলাইন লেনদেনের জন্য, আরেকটি অফলাইনে সঞ্চয়ের জন্য। অনলাইন সক্ষম অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত টাকা না রাখা। অনিয়ম ঘটলেই সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করা।
নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে কিছু অভিযোগ পেয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, শুধু তদন্ত নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “জালিয়াত চক্র সব সময় ওঁত পেতে থাকে। সুযোগ পেলেই তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায়।”
তিনি জানান, এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ব্যাংককে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রাহকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়—বিশেষ করে পিন বা পাসওয়ার্ড কখনও কারও সঙ্গে শেয়ার না করতে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, “আমরা নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করে থাকি। সাম্প্রতিক সময়ে জালিয়াত চক্র বিশেষভাবে এসএমই গ্রাহকদের টার্গেট করছে। তাই গ্রাহকদের সচেতনতা যেমন জরুরি, তেমনই ব্যাংকগুলোকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড অন্যতম শীর্ষ নাম। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাংককে তুলনামূলক নিরাপদ ও বিশ্বস্ত ধরা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক এ অভিযোগে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহক আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
ডিজিটাল ব্যাংকিং যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে সাইবার জালিয়াতির ঝুঁকি। গ্রাহকের প্রশ্ন—“আমরা যদি বিশ্বস্ত ব্যাংকেই নিরাপদ না থাকি, তাহলে টাকা রাখবো কোথায়?”

এশিয়া কাপ শুরু আজ, কবে কখন কার খেলা; একনজরে দেখে নিন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের ১৭তম আসর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর মাথায় রেখে এবারের টুর্নামেন্ট হবে ২০ ওভারের ফরম্যাটে। যাতে বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। স্বাভাবিকভাবেই এশিয়ার দলগুলোর কাছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সেরা মঞ্চ এশিয়া কাপ।
এর আগে ২০১৬ ও ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপ হয়েছিল। দু’বারই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাথায় রেখে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে আয়োজন করা হয় এশিয়া কাপ। এবারের এশিয়া কাপে অংশ নেবে ৮টি দল। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি (পূর্ণ সদস্য বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ২০২৪ সালে এসিসি প্রিমিয়ার কাপে শীর্ষ তিনের মধ্যে থাকা- স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং হংকং। অংশ নেওয়া ৮টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে এবারের এশিয়া কাপ মাতাবে।
গ্রুপ ‘এ’: ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান
গ্রুপ ‘বি’: বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ও হংকং

গ্লোবাল ব্র্যান্ডস বাংলাদেশ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪ অনুষ্ঠিত

রাজধানীর অন্যতম অভিজাত হোটেল রেডিসন ব্লুতে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ব্র্যান্ডস বাংলাদেশ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪’ পাওয়ার্ড বাই লিটিল স্টার।
এ আয়োজনে কর্পোরেট জগত, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের কৃতিমান ব্যক্তিদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ‌‌‌
‘বাংলাদেশ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২৪’ প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এম এন মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান কাজী নাজমুল হাসান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪ এর সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাজু আলীম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক তথ্য সচিব মার্গুব মোরশেদ।
এনটিভির পরিচালক নূরুদ্দিন আহমেদ । কর্নেল (অব.) এম আবদুল হক, চেয়ারম্যান, রাওয়া, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
আরো উপস্থিত ছিলেন জুরি বোর্ডর সদস্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অধ্যাপক ড. মতিন রহমান, জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান, আব্দুল আজিজ।
অনুষ্ঠানে সেরা চলচ্চিত্র ‌তুফান, সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফি ‌ (তুফান) , মিশুক মণি দেওয়ালের দেশ, অভিনেতা শাকিব খান (তুফান)’, সেরা অভিনেতা শরিফুল রাজ (দেওয়ালের দেশ), অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী চলচ্চিত্র (প্রিয় মালতি) , অভিনেত্রী শবনম বুবলী (দেওয়ালের দেশ) সিনেমার জন্য ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ডস বাংলাদেশ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪’ দেয়া হয়।

‘আ. লীগ কর্মীরা এক জায়গায় বলে জয়, দেড়মাইল পরে বলে বাংলা’

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস শুধু আওয়ামী লীগের উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তাদের কর্মীরা এক জায়গায় বলছে ‘জয়’, দৌড়াতে দৌড়াতে দেড়মাইল দূরে গিয়ে বলছে ‘বাংলা’… এই হলো তাদের অবস্থা। তারা যেন আর দাঁড়াতে না পারে, সে রাজনীতি করবে আগামীর নেতৃত্ব।
আজ রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে যার মাধ্যমে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে রমজানের একসপ্তাহে আগে অথবা তারও আগে নির্বাচন হতে পারে। এ পথে যারা কাঁটা বিছানোর চেষ্টা করছে, বিভিন্ন রকমের বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের সবার প্রতি নসিহত। দেশ এখন নির্বাচনী আবহে আছে, সারাদেশে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে।
এ সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক এবং বিভিন্ন বিষয়ে একমত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন মেজর ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত দিলে, আগামী নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে। যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছানে হবে, সেগুলোর বাস্তাবায়ন সংসদের মাধ্যমে হবে বলেও জানান তিনি।