Home Blog Page 316

এশিয়া কাপের সুপার ওভারে ভারতের রোমাঞ্চকর জয়

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে ভারত-শ্রীলঙ্কা লড়াই যেন রূপ নিল এক রুদ্ধশ্বাস নাটকে। নির্ধারিত ২০ ওভারে সমতায় আটকে যায় ম্যাচ, গড়ায় সুপার ওভারে। আর সেখানেই জ্বলে উঠলেন বাঁহাতি পেসার আর্শদীপ সিং। হাতে তুলে নিলেন পুরো ম্যাচের নায়কোচিত দায়িত্ব—বল হাতে মাত্র দুই রান দিয়ে নিলেন দুই উইকেট, এনে দিলেন ভারতকে শ্বাসরুদ্ধকর জয়।

ম্যাচের সুপার ওভারে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব আস্থা রাখেন আর্শদীপের ওপর। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে প্রথম বলেই কুশল পেরেরাকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর শেষ দিকের ব্যাটার দাসুন শানাকাকে কাটিয়ে দেন ডিপ থার্ডম্যানের হাতে। মাত্র দুই রানেই থামে শ্রীলঙ্কার সুপার ওভার ইনিংস। জবাবে প্রথম বলেই হাসারাঙ্গার ডেলিভারিকে এক্সট্রা কভারে পাঠিয়ে তিন রান নেন সূর্যকুমার, আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের জয়।

তবে নাটকীয়তা শুরু হয়েছিল এর আগেই। শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ১২ রান। ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ম্যাচে টিকে ছিল তারা। কিন্তু ১০৭ রানের ইনিংস খেলা নিসাঙ্কা আউট হয়ে গেলে ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। শেষ বলে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৩ রান, স্ট্রাইকে শানাকা। হারশিত রানার বলে লং-অন দিয়ে দুটি রান নিতে সক্ষম হলেও তৃতীয় রান নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

এর আগে ব্যাট হাতে ভারতের ভরসা হয়ে ওঠেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩১ বলে ৬১ রানের দাপুটে ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া সঞ্জু স্যামসনের ৩৯, তিলক ভর্মার অপরাজিত ৪৯ ও অক্ষর প্যাটেলের ২১ রানে ভর করে ভারত দাঁড় করায় ২০২ রানের বিশাল লক্ষ্য।

জবাবে শ্রীলঙ্কা বেশ লড়াই করে। নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি (১০৭ রান, ৫৮ বল, ৭ চার, ৬ ছক্কা) আর পেরেরার ৩২ বলে ৫৮ রানের ঝোড়ে ২০০ রানে পৌঁছায় তারা। কিন্তু শেষমেশ সুপার ওভারের ভাগ্যনির্ধারণী লড়াইয়ে হার মানতে হয় লঙ্কানদের।

এই জয়ের ফলে অপরাজিত ভারত আত্মবিশ্বাসের শীর্ষে থেকে প্রবেশ করছে এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনালে, যেখানে অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান।

মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা? নীরবে লো প্রেশারে ভুগছেন না তো?

অনেকেই ভাবেন, একটু মাথা ঘোরাই তো বড় কিছু নয়। কিন্তু আপনি জানেন কি, এই সাধারণ উপসর্গগুলো হতে পারে লো ব্লাড প্রেশার বা কম রক্তচাপের ইশারা? অনেক সময় এটি নিঃশব্দ ঘাতকের মতো শরীরে কাজ করে, আর আমরা বুঝতেও পারি না।

অনেক সময় আমাদের মাথা হঠাৎ ঘুরে যায়, দুর্বল লাগে বা চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। আপনি কি জানেন, এসব হতে পারে লো প্রেশার (Low Blood Pressure) বা কম রক্তচাপের উপসর্গ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অবহেলা করলে লো প্রেশার হতে পারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রে সমস্যা বা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমার মতো গুরুতর বিপদের কারণ।

চলুন আজ জেনে নেই— লো প্রেশারের লক্ষণ, কারণ, ঘরোয়া করণীয় এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

লো প্রেশারের লক্ষণ

– মাথা ঘোরা বা ভারী অনুভব

– অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি

– ঝাপসা দেখা বা চোখে অন্ধকার

– বমি বমি ভাব

– মনোযোগ কমে যাওয়া

– হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

– ঠান্ডা-ঘাম, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস

– বিভ্রান্তি বা কনফিউশন

গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

লো প্রেশার কেন হয়?

– ভিটামিন বি১২ বা ফলেটের ঘাটতি

– পানিশূন্যতা বা রক্তস্বল্পতা

– গর্ভাবস্থা

– হৃদরোগ, ডায়াবেটিস

– কিছু ওষুধ (যেমন : বিটা ব্লকার, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট)

– দীর্ঘসময় শুয়ে থাকা

– অটোনোমিক নার্ভ সমস্যা

ঘরোয়া কিছু উপায়

লবণ খান (মেপে) : তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি লবণ খাবেন না।

প্রচুর পানি পান করুন : পানিশূন্যতা হলে রক্তচাপ কমে যায়।

ছোট ছোট ভাগে খাবার খান : একসাথে ভারী খাবার খেলে রক্তচাপ কমতে পারে।

কমপ্রেশন স্টকিং পরুন : পায়ে রক্ত জমা কমায়, রক্তচাপ ঠিক রাখে।

ধীরে উঠুন : বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ দাঁড়ালে মাথা ঘুরতে পারে।

ঘুমের সময় মাথা একটু উঁচু রাখুন : দিনে রক্তচাপ ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে।

ব্যায়াম করুন : হালকা ও নিয়মিত ব্যায়াম যেমন সাইক্লিং, হাঁটাহাঁটি উপকারী।

সুষম খাদ্য খান : ডিম, শাকসবজি, দুধ, দানাশস্য— সবই দরকারি ভিটামিন দেয়।

সতর্কতা

– নতুন ওষুধ খাওয়ার পর যদি মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা হয়— চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন

– বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ জরুরি চিকিৎসা দাবি করে

– সবসময় লো প্রেশার বিপজ্জনক নয়, কিন্তু উপসর্গ থাকলে তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়

মনে রাখবেন, লো প্রেশার থাকলেও যদি কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু উপসর্গ থাকলে তা আপনার জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে— সঠিক জীবনধারা ও চিকিৎসায় তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে নিজের শরীরকে বুঝতে শিখুন। মাথা ঘোরা মানেই সবসময় কিছু সাধারণ নয়— এটা হতে পারে লো প্রেশারের সতর্ক সংকেত।

ইসলামী ব্যাংকের বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নিতে বাধা নেই : বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। আলোচিত ও সমালোচিত এ পরীক্ষায় ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তার অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। তবে ইতোমধ্যেই একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ইসলামী ব্যাংকের বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নিতে বাধা নেই ।

ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ গত ১৪ আগস্ট পরীক্ষার তারিখ ২৯ আগস্ট নির্ধারণ করেছিল। পরে ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার মো. হানিফ ২৭ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করলে আদালত বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫ সেপ্টেম্বর জানায়, বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া না নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ার। এ সিদ্ধান্তে পরীক্ষা আয়োজনের পথে আর কোনো বাধা থাকেনি।

হাইকোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি মালিকানাধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি দেশের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও নিয়োগের শর্ত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেহেতু কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন কিংবা কাউকে রাখা-না রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত। তবে এ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে চলতে হবে বলে ব্যাংকটিকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন। এতে আট শতাধিক কর্মকর্তা অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে।

তারা বলেন, পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে চাকরি টিকবে না এবং ক্যারিয়ারে কোনো উন্নতির সুযোগ থাকবে না— নোটিশে এমন উল্লেখ করে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

মানববন্ধনে ব্যাংক কর্মকর্তা এসএম এমদাদ হোসাইন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ একই ব্যাচের অন্য অঞ্চলের কর্মকর্তাদের পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে না। পাঁচ থেকে সাত বছর চাকরির পর হঠাৎ এমন পরীক্ষা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং বৈষম্যমূলক। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে ফেরার পথে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

পারমাণবিক স্থাপনা বানাবে ইরান, নতুন চুক্তি সই

জাতিসংঘের পুরনো নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আসা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পারমাণবিক স্থাপনা বানানোর বিষয়ে চুক্তি করেছে ইরান। দেশটি নতুন চারটি পারমাণবিক স্থাপনার জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা পুনরারোপের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, ইরান ও রাশিয়া ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির আওতায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে চারটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম।

শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরে চারটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ইরানের হরমোজ কোম্পানি এবং রাশিয়ার রোসাটমের মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরানের কেবল একটি কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। বুশেহরে অবস্থিত এ কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র এক হাজার মেগাওয়াট। এটি দেশের মোট চাহিদার সীমিত অংশ পূরণ করে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, সিরিকে নির্মিতব্য প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হবে এক হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট। তবে এই প্রকল্পের নির্মাণ শুরু বা সমাপ্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়। তবে তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুই বেসামরিক এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানও ধীরে ধীরে চুক্তির শর্ত থেকে সরে আসে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হলেও, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের নজিরবিহীন সামরিক হামলার পর ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয় এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রও সাময়িকভাবে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।

ইরান আগেও ১৯৯৩ সালে রাশিয়ার সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি করেছিল। এ চুক্তির আওতায় বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর জার্মানি ওই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর পর রাশিয়াই দায়িত্ব গ্রহণ করে।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বেরিয়ে গেলেন অনেক প্রতিনিধি

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তার বক্তব্য শুরুর সঙ্গেই প্রতিবাদ জানিয়ে কক্ষ ত্যাগ করেন কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধি। হাতে গোনা কয়েকজনই তার ভাষণে হাততালি দেন। খবর রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অধিভুক্ত না করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর নেতানিয়াহুর এই ভাষণ বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গাজায় যুদ্ধ ও দখলদারিত্বের কারণে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই তিনি ফিলিস্তিন ও ইরানসহ শত্রুপক্ষকে একসাথে দায়ী করেন।

ভাষণের সময় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে হামাস, ইরান, হিজবুল্লাহ ও হুতি বিদ্রোহীদের ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগানের জন্য দায়ী করেন তিনি। এ সময় প্রতিনিধিদের মধ্যে হৈচৈ শুরু হলে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একই হুমকির মুখে রয়েছে বলে দাবি করেন।

নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, একসময় যেসব দেশ ইসরায়েলের পাশে ছিল তারাও এখন সমালোচনা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ১০টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা তিনি ‘নিছক পাগলামি’ বলে আখ্যা দেন।

এদিকে ইইউ ইসরায়েলের ওপর শুল্ক আরোপের চিন্তাভাবনা করছে, জার্মানি বন্ধ করেছে অস্ত্র রপ্তানি। যুক্তরাষ্ট্রেও ইসরায়েলবিরোধী জনমত বাড়ছে।

ভাষণ চলাকালে কক্ষ খালি হয়ে গেলেও বের হওয়ার সময় ব্যালকনি থেকে কিছু পর্যবেক্ষক তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান। ইসরায়েল তার ভাষণ গাজায় সম্প্রচার করেছে। সেখানে তিনি আবারও ঘোষণা দেন, ফিলিস্তিন কখনও রাষ্ট্র হবে না।

গুপ্ত রাজনৈতিক মহলের কাঁচা নাটক ব্যর্থ হয়েছে : তারিকুল ইসলাম

তুরাগ থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জুলাই-যোদ্ধা এম মামুনুর রশীদকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় যুবশক্তি।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ণ টাওয়ারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গুপ্ত মহলের কাঁচা নাটক ব্যর্থ হয়েছে। দায় চাপানোর অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাই। জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় যুবশক্তির গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার জন্য একটি গুপ্ত মহল অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নিখোঁজ হন তুরাগ থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জুলাই যোদ্ধা কে এম মামুনুর রশীদ। তার খোঁজে সর্বাশক্তি নিয়োগ করেন এনসিপি ও যুবশক্তির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা কয়েকবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরও তার বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ ঘটনার তিন দিন পর শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টার দিকে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়ক এলাকার একটি জামে মসজিদ থেকে তাকে উদ্ধার করে তুরাগ থানা পুলিশ।

মামুনুর রশীদের নিখোঁজের ঘটনার সঙ্গে এনসিপি ও জাতীয় যুবশক্তি জড়িত দাবি করে একটি অসাধু মহল সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে অপপ্রচার চালায়।

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোদী ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। অপতৎরপতাকারীদের খুঁজে বের করে জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি যারা এনসিপি ও যুবশক্তির মানহানি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মামলা করা হবে বলে জানান জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম।

গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন ফারুক হাসান

গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছেন ফারুক হাসান। নুরুল হক নুরের চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানের কারণে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গণঅধিকার পরিষদ উচ্চতর পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় গঠনতন্ত্রের ৩৬(১) ধারা অনুযায়ী দলের সভাপতি জনাব নুরুল হক নুরের চিকিৎসাজনিত কারণে বিদেশে অবস্থান করায় সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান সভাপতির রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।’

এর আগে গণঅধিকার পরিষদে মুখপাত্র (উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদমর্যাদায়) হিসেবে যোগ দেন ফারুক হাসান। দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান তাকে এই পদে মনোনীত করেন।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণঅধিকার পরিষদে (জিওপি) যোগ দেন ফারুক হাসান।

জাতিসংঘে ড. ইউনূসের সফরসঙ্গীর সংখ্যা জানালেন প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর সংখ্যা নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং যাচাই-বাছাইবিহীনভাবে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গীদের সংখ্যা নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক দাবি ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং যাচাই-বাছাইবিহীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট থেকে নেওয়া।’

প্রেস সচিব উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার বর্তমান প্রতিনিধি দল অতীতের হাসিনা আমলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট এবং অনেক বেশি মনোযোগী, কর্মঠ ও ফলাফলমুখী।’

হতাশাজনক উল্লেখ করে শফিকু আলম বলেন, ‘টিআইবি দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতার পক্ষে কাজ করছে এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক সমাজ সংগঠন। তবে যাচাই করা তথ্যের পরিবর্তে গুজব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে জনসম্মুখে বিবৃতি দেওয়া হতাশাজনক।’

প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ৬২, যা টিআইবির দাবি করা ১০০-এর বেশি নয়। গত বছর প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিল ৫৭ জন, তবে এতে প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে ভ্রমণ করা ছয়জন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলেও তিনি পরিষ্কার করেন।

শফিকুল আলম জানান, এবারের সফরসঙ্গীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, যারা প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছেন। ‘আওয়ামী লীগের সমর্থকদের পক্ষ থেকে আসা প্রকাশ্য হুমকির কারণে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। অনেক কর্মকর্তা প্রতিদিন টানা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, গত পাঁচ দিনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অন্তত এক ডজন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে, যার মধ্যে ছয়টির বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অন্তর্ভুক্ত।

প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আসরে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ তুলে ধরা, যেখানে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’

তিনি উল্লেখ করেন, এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, এমন সময়ে যখন ‘বিভিন্ন মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

প্রেস সচিব অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে এবং বিদেশে লবিং করছে, যেখানে কিছু আন্তর্জাতিক মহলের নীরব সমর্থনও রয়েছে।

তিনি জানান, সফরসঙ্গী তালিকায় এমন ব্যক্তিরাও আছেন, যারা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রোহিঙ্গা সম্মেলনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। এটি প্রমাণ করে যে জরুরি মানবিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ঢাকা নেতৃত্ব অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়া কয়েকজন উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দলের বাইরে থেকেও বৈশ্বিক সমকক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি দেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদেরও এ সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাদের সহায়তায় বেশ কিছু কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রেস সচিব বলেন, ‘এই অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

নেতারা গানকে গুরুত্ব না দিলে শিল্পীর কিছু করার থাকে না

সংগীত নিয়ে রাষ্ট্রের ভূমিকায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রনেতারা যদি সংগীতকে না বোঝেন কিংবা গানকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে শিল্পীদের তেমন কিছুই করার থাকে না। জোর করে ভালোবাসা আদায় করা যায় না। গত মঙ্গলবার এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে শিল্পীদের কখনওই যথাযথ কদর করা হয়নি উল্লেখ করে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়েও ক্ষোভের কথা জানান সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘অনেক গুণী শিল্পী স্বীকৃতি পাননি। রাষ্ট্রের অবহেলার শিকার তারা। কাউকে কাউকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। জীবিত থাকতে যদি সম্মাননা না পাওয়া যায়, মরে গিয়ে তো সম্মাননা পেয়ে লাভ নেই। এ বিষয়টি রাষ্ট্রের গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।’ সংগীতাঙ্গনের অবস্থা নিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমাদের দেশে শিল্পী বা তাদের শিল্পকর্মকে কখনওই যথাযথভাবে মর্যাদা দেওয়া হয়নি।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, লতা মঙ্গেশকরের প্রতি সম্মান জানাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রণাম করেছেন। সে দেশে শিল্পীদের প্রতি সম্মান রাষ্ট্রীয়ভাবেই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বাংলাদেশে তো সে রকম দৃশ্য আমরা পাইনি। বড় বড় শিল্পী চলে গেলেন- সুবীর নন্দী, এন্ড্রু কিশোরসহ অনেকেই। অথচ তাদের গান আর্কাইভ করার উদ্যোগও দেখা যায়নি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফরিদা পারভীনের মতো শিল্পী নিভৃতে চলে গেলেন। তারা যে ধরনের শিল্প রেখে গেছেন, সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হতো। দুর্ভাগ্যজনক, আমাদের এখানে তা হয়নি।’

এর আগে বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুর পর শিল্পীদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী কনকচাঁপা। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যখন একজন শিল্পী মারা যায়, তখন পাপ-পুণ্য, বেহেশত-দোজখ নিয়ে এত কথা বলে যে, সেই কমেন্টগুলো দেখলে আমরা খুব ভীত হয়ে যাই। আমাদের খুব খারাপ লাগে।’ তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘একজন শিল্পী মারা যাওয়ার পর তার লাশ দাফন করার আগেই তিনি দোজখের কয় নম্বরে যাবেন, সেগুলো নিয়ে কথা বলা শুরু করে মানুষ।’

সাবিনা ইয়াসমিন শিল্পীদের রয়্যালটি ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই গুণী শিল্পীর ভাষায়, বহু দেশে গানের রয়্যালটি শিল্পী ও তাদের পরিবারকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেয়। আমাদের এখানে সে ব্যবস্থা নেই। রয়্যালটি পেলে শিল্পীরা আর্থিকভাবে ভালো থাকতেন।

নওগাঁর বদলগাছীতে পাঁচ দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী’র বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল

মোঃ ফেরদৌস হোসেন, উপজেলা প্রতিনিধি বদলগাছী, নওগাঁ। তাং ২৬-০৯-২০২৫ ইং।

জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা শাখা।

২৬-০৯-২০২৫ ইং তারিখ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় বদলগাছী বাজার মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চারমাথা সংলগ্ন বাজার মোড়ে সমাবেশের জন্য মিলিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বদলগাছী উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইয়াসিন আলী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মোঃ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বদলগাছী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের জেলা বায়তুল মাল সম্পাদকসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখ করেন—১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন,২. উভয় কক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু, ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, ৪. বিগত সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার, ৫. জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।

বক্তারা দাবি করেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।