Home Blog Page 319

অনির্দিষ্টকালের গণছুটি ঘোষণা পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

পল্লী বিদ্যুতের সংস্কার, চাকরি বৈষম্য দূরীকরণ ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধের চার দফা দাবিতে রোববার থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের গণছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-দপ্তর সম্পাদক অঞ্জু রানী মালাকার।
তিনি বলেন, একাধিকবার কমিটি গঠনসহ সংকট সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখি আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই বাস্তবায়ন করেনি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি, বদলি, বরখাস্তসহ নানা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে হয়রানি করছে। এর ফলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ সময় অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ও বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত আদেশ বাতিল এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

চলতি সপ্তাহে ডেঙ্গুতে ১২ মৃত্যু, হাসপাতালে ২৯২৬

দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ কোনোভাবেই কমছে না। মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে (শনি-শুক্রবার) ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু এবং দুই হাজার ৯২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি। গত সপ্তাহে ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু এবং দুই হাজার ৫৮৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

গত সাত দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট কারও মৃত্যু না হলেও ৩৬৭ জন হাসপাতালে, ৩১ আগস্ট চারজনের মৃত্যু এবং ৫৬৮ জন হাসপাতালে, ১ সেপ্টেম্বর কারও মৃত্যু না হলেও ৫৫২ জন হাসপাতালে, ২ সেপ্টেম্বর তিনজনের মৃত্যু এবং ৪৭৩ জন হাসপাতালে, ৩ সেপ্টেম্বর দুইজনের মৃত্যু এবং ৪৪৫ জন হাসপাতালে, ৪ সেপ্টেম্বর তিনজনের মৃত্যু এবং ৩৬৩ জন হাসপাতালে, ৫ সেপ্টেম্বর কারও মৃত্যু না হলেও ১৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩১ হাজার ৭৯৪ জন। মারা গেছেন ১৩০ জন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার চালাতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।

সুরা মুহাম্মদের গুরুত্ব ও শিক্ষা

সুরা মুহাম্মদ পবিত্র কোরআনের ৪৭তম সুরা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর নামে অবতীর্ণ এ সুরাটি মদিনায় হিজরতের পর নাজিল হয়। যেহেতু এতে যুদ্ধসংক্রান্ত আলোচনা বেশি, তাই এর অপর নাম ‘কিতাল’। মূলত হিজরতের পরে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগমুহূর্তেই মুসলমানদের যুদ্ধসংক্রান্ত দিকনির্দেশনা এবং ঈমানের শিক্ষা দিতে এ সুরাটি অবতীর্ণ হয়েছিল।

সুরা মুহাম্মদে মুমিনদের জন্য রয়েছে জীবনদর্শন, সমাজসংস্কার ও আখেরাতের প্রস্তুতির অমূল্য দিকনির্দেশনা। এর প্রধান কিছু শিক্ষা বাংলাদেশের খবরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

১. ঈমানের আহ্বান ও কুফরির ক্ষতি

সুরার সূচনায় বলা হয়েছে, যারা কুফরি করে ও আল্লাহর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাদের সব কাজ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে এবং মুহাম্মদ (সা.)–এর ওপর নাজিলকৃত সত্যে বিশ্বাস স্থাপন করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো মুছে দেবেন এবং তাঁদের অবস্থা সংশোধন করবেন। (আয়াত ১-২)

২. সত্যের অনুসরণ

ঈমানের পর মুমিনের দায়িত্ব হলো সত্য দ্বীনের অনুসরণ করা। কোরআনে বলা হয়েছে, অবিশ্বাসীরা মিথ্যার অনুসরণ করে, আর মুমিনরা অনুসরণ করে প্রতিপালকের প্রেরিত সত্যের। (আয়াত ৩)

৩. আল্লাহর সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা

মুমিন যখন দ্বীনের পথে অটল থাকে, তখন আল্লাহর সাহায্যই তাকে স্থিতিশীল করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, আল্লাহও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থান দৃঢ় করবেন।’ (আয়াত ৭)

৪. কিয়ামতের নিকটবর্তীতা

মানুষের জন্য কিয়ামত অতি নিকটবর্তী। সেদিন প্রত্যেক বান্দা তার কর্মফল অনুযায়ী প্রতিদান পাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি শুধু এ জন্য অপেক্ষা করছে যে হঠাৎ তাদের কাছে কিয়ামত এসে পড়ুক? কিয়ামতের আলামত তো এসে পড়েছে। কিয়ামত চলে এলে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কিভাবে!’  (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত : ১৮)

৫. আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা

ক্ষমতা ও দুনিয়াবি লোভে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা নিন্দনীয়। আল্লাহ বলেন, ‘তাহলে ক্ষমতা পেলে কি তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে?’ (আয়াত ২২-২৩)

৬. কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা

আল্লাহ কোরআনকে মানবজীবনের দিকনির্দেশনা করেছেন। কিন্তু এর প্রকৃত শিক্ষা পেতে হলে চিন্তা-গবেষণা আবশ্যক। ‘তারা কি কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?’ (আয়াত ২৪)

৭. মুরতাদদের ভ্রান্ত ধারণা

মুসলমান ইসলাম ত্যাগ করলে তাকে মুরতাদ বলা হয়। তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আত্মপ্রবঞ্চনায় ভোগে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সৎপথ স্পষ্ট হওয়ার পরও যারা মুরতাদ হয়, শয়তান তাদের কাজ (নিজেদের কাছে) সুন্দর করে দেখায় এবং তাদের মিথ্যা আশা দেয়।’ (আয়াত : ২৫)

৮. মৃত্যুর সময় থেকেই শাস্তির সূচনা

যারা পৃথিবীতে আল্লাহর অবাধ্য, মৃত্যুর সময় থেকেই তাদের শাস্তি শুরু হয়। আল্লাহ বলেন, ‘ফেরেশতারা যখন তাদের মুখমণ্ডলে ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে প্রাণহরণ করবে, তখন তাদের দশা কেমন হবে?’ (আয়াত : ২৭)

৯. বিদ্বেষ লুকানো যায় না

অন্তরের বিদ্বেষ এমন, যা লুকিয়ে রাখা যায় না। ইরশাদ হয়েছে, ‘যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা কি মনে করে যে আল্লাহ কখনো তাদের মনের বিদ্বেষ প্রকাশ করে দেবেন না?’ (আয়াত : ২৯)

১০. অবিশ্বাস নিয়ে মৃত্যু ভয়াবহ

অবিশ্বাস নিয়ে মারা গেলে পরকালে শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ থাকে না। আল্লাহ বলেন, ‘যারা কুফরি করে এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করে, অতঃপর অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ তাদের কিছুতেই ক্ষমা করবেন না।’ (আয়াত : ৩৪)

১১. ধনসম্পদ ও দানশীলতা

এ সুরায় সম্পদ নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। ধন-সম্পদ আল্লাহর দান, যা মানুষের পরীক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়। মুমিনের দায়িত্ব হলো আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো। কৃপণতা আল্লাহর অপছন্দনীয়। নবীজি (সা.) নিজেও কৃপণতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। আল্লাহ বলেন, ‘দেখো, তোমাদেরই বলা হচ্ছে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে; অথচ তোমাদের অনেকেই কৃপণতা করছে।আল্লাহ অভাবমুক্ত, আর তোমরাই অভাবগ্রস্ত।’ (আয়াত ৩৮)

সুরা মুহাম্মদ মুমিনদের জন্য একদিকে যেমন ঈমান ও সৎকাজের শিক্ষা দেয়, অন্যদিকে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, সম্পদে দানশীলতা এবং আল্লাহর সাহায্যের ওপর ভরসার দিকনির্দেশনা দেয়। একই সঙ্গে অবিশ্বাসীদের পরিণতি এবং কিয়ামতের সতর্ক বার্তাও এ সুরায় বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুরা মুহাম্মদের আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন, আমিন।

না খেলে যেভাবে ১২ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছেন নেইমার!

ইউরোপ ছেড়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফিরেছেন ব্রাজিলের ছেলেবেলার ক্লাব সান্তোসে, কম বেতনে। ইঞ্জুরির কারণে আগের সেই ধার এখন আর নেই। ব্রাজিল জাতীয় দলেও খেলছেন না অনেকদিন হলো। তবে না খেললেও এখনো অন্য খাতে তার আয় কম নয় তার।

এক ব্রাজিলীয় কোটিপতি উইল করেছিলেন নেইমারের নামে। সম্প্রতি সেই ব্যক্তি মারা গেছেন। ফলে নেইমার তার পুরো সম্পত্তি পাবেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা! ব্রাজিলীয় মিডিয়ার খবর, গত ১২ জুন পোর্তো আলেগ্রের একটি অফিসে এই উইল করা হয় দুজন সাক্ষীর সামনে। এ বিষয়ে অবশ্য নেইমার এখনো কোনো বিবৃতি দেননি।

সব কিছু নিশ্চিত হলেও নেইমারের অর্থ পেতে সময় লাগবে। ব্রাজিলের আদালতে এ ব্যাপারে ছাড়পত্র পেতে হবে। যেখানে নেইমারকে প্রয়াত কোটিপতির একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসাবে ঘোষণা করা হবে। ওই ব্যক্তি ছিলেন অবিবাহিত ও নিঃসন্তান। তিনি নাকি নেইমারকে পছন্দ করতেন। সেজন্যই নিজের সব অর্থ নেইমারের জন্য লিখে রেখে গেছেন।

আর্থিক দিক থেকে ফুলেফেঁপে উঠলেও নেইমারের ফুটবল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ইদানীং। ২০২৪-২৫ মৌসুমের শেষদিকে সান্তোসে যোগ দিয়েছিলেন। ১৪ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র তিনটি গোল। চিলির বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচেও ব্রাজিল টিমে ডাক পাননি নেইমার।

সালমান শাহ্‌ : আজও ভক্তদের হৃদয়ে চির সবুজ ‌এক নায়ক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে যদি কারও নাম রূপকথার মতো উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন সালমান শাহ্‌। নব্বই দশকের সেই উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি অল্প সময়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছিলেন।

আজ তার প্রয়াণ দিবসে আমরা স্মরণ করি এক কিংবদন্তিকে, যার জীবন ছিল স্বপ্নময়—কিন্তু শেষটা ছিল হঠাৎ নিভে যাওয়া প্রদীপের মতো।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেন চৌধুরী শাহরিয়ার ইমন। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ্‌ নামে।

১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে তিনি নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আর প্রথম ছবিতেই ঘটে যায় ইতিহাস। রোমান্টিক হিরো হিসেবে তিনি তরুণ-তরুণীদের মনে জায়গা করে নেন।

মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন মাত্র ২৭টি চলচ্চিত্রে। কিন্তু এই অল্প সময়েই তিনি হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার রাজপুত্র।

কারণ, সালমান শাহ্‌র সিনেমায় ছিল সতেজতা, স্টাইল আর আধুনিকতার ছোঁয়া। ছিলেন নব্বইয়ের দশকের ফ্যাশন আইকন। তার চোখের দৃষ্টি, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর গানগুলোর উপস্থাপনা দর্শককে মোহিত করত।

তখনকার তরুণ প্রজন্ম প্রেম, স্বপ্ন আর স্টাইলের প্রতীক হিসেবে তাকেই অনুসরণ করত।

‘সুজন সখী’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘প্রেমপিয়াসী, বিক্ষোভ’, ‘তুমি আমার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’—প্রতিটি ছবিই দর্শকের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের আকাশ থেকে যেন হঠাৎ করেই হারিয়ে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ্‌।

ঢাকার রাস্তায় তখন হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিল শুধু প্রিয় নায়কের একটুখানি দেখা পাওয়ার জন্য। কান্নায় ভেসেছিল গোটা জাতি।

তার মৃত্যু আজও রহস্যঘেরা, আজও ভক্তরা বিশ্বাস করতে চান না— তাদের প্রিয় নায়ক নেই।

আজ তার প্রয়াণ দিবসে প্রশ্নটা থেকেই যায়—

যদি তিনি বেঁচে থাকতেন? বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হয়তো পেত ভিন্ন এক গতিপথ, ভিন্ন এক স্বর্ণযুগ। কিন্তু সালমান শাহ্‌ চলে গেলেও তিনি রয়ে গেছেন ভক্তদের হৃদয়ে।

প্রতিটি সংলাপে, প্রতিটি গানে, প্রতিটি হাসিতে—  আজও তিনি বেঁচে আছেন। সালমান শাহ্‌ ছিলেন শুধু একজন নায়ক নন— তিনি ছিলেন এক যুগের স্বপ্ন, এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

তার মৃত্যু হঠাৎ করেই আমাদের কাঁদিয়েছে, কিন্তু তার স্মৃতি, তার সিনেমা, তার ভালোবাসা আজও আমাদের সঙ্গে আছে।

এই প্রয়াণ দিবসে আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি।

সালমান শাহ্‌— আপনি নেই, কিন্তু আপনার নাম চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মনোনীত করলেন ট্রাম্প

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক বিভাগে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া পেশাদার কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই মনোনয়নের শুনানির জন্য গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটে পাঠিয়েছে হোয়াইট হাউস। দেশটির পররাষ্ট্র বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। পিটার হাসের বিদায়ের পর মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ অবসরপ্রাপ্ত পেশাদার কূটনীতিক ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়।
বর্তমানে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এর আগে ২০১৯ থেকে তিন বছর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক বিভাগে কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্টেট ডিপার্টমেন্টে প্রকাশিত প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনকে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্বে নিযুক্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত করেন।
এর আগে, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কমান্ডের (ইউএসএসট্র্যাটকম) কমান্ডারের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
পেশাদার মার্কিন কুটনীতিক ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর (২০১৯-২০২১), মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পলিটিক্যাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর (২০১৬-২০১৯) এবং হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির এশিয়া ও প্যাসিফিক সাবকমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের স্টাফে পারসন ফেলো (২০১৫-২০১৬) দায়িত্ব সামলেছেন।
এছাড়া উত্তর কোরিয়া নীতি বিষয়ক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী, ইস্ট এশিয়া ও প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সাইবার কো-অর্ডিনেটর, ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসে অর্থনীতিবিষয়ক ডেপুটি কাউন্সেলর, সান সালভাদরে মার্কিন দূতাবাসে ডেপুটি ইকোনমিক কাউন্সেলর, পররাষ্ট্র দপ্তরের পাকিস্তান ও বাংলাদেশবিষয়ক অফিসে বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসার, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে অর্থনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন ক্রিস্টেনসেন। তিনি হো চি মিন সিটিতে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের ভাইস কনসালও ছিলেন।
মার্কিন ফেডারেল লেবার রিলেশনস অথোরিটির অধীনে ফরেন সার্ভিস ইমপাসেস ডিসপিউটস প্যানেলে ফরেন সার্ভিস সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের ডিস্টিংগুইশড গ্র্যাজুয়েট ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে সায়েন্সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে মাস্টার্স এবং রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও ম্যানেজারিয়াল স্টাডিজে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রিও লাভ ক্রিস্টেনসেন।
জানা গেছে, ইংরেজির সঙ্গে স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় কথা বলতে পারেন এই কুটনীতিক। শিখেছেন ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষাও । ২০০২ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার পূর্বে ক্রিস্টেনসেন হিউস্টন ও নিউইয়র্ক সিটিতে ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে ‘সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে মার্কিন কূটনৈতিক বিশ্লেষক জন ডানিলোভিচ বুধবার ফেসবুকে এক পোস্টে আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন সিনেট দ্রুত এ মনোনয়ন অনুমোদন করবে।

নতুন সরকারের মন্ত্রীদের জন্য কেনা হচ্ছে ৬০ মিতসুবিশি পাজেরো

আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মিতসুবিশি পাজেরো কিউএক্স-২৪২৭ সিসি মডেলের প্রতিটি গাড়ির দাম এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এসব গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ১০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন এমন কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হচ্ছে ১৯৫টি পাজেরোসহ মোট ২২০টি গাড়ি। সব মিলিয়ে ২৮০টি গাড়ি কিনতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২১ আগস্ট নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং আগামী নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ২৮০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে পাঠায়। এর মধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জয়ী সরকারের মন্ত্রী, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনার কথা বলা হয় প্রস্তাবে।
প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এসব গাড়ি কিনবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর।
প্রস্তাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা সমপদমর্যাদার ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য সরকারি পরিবহন ‍পুলে যথাযথ মানের গাড়ি নেই। বর্তমানে উপদেষ্টারা যেসব গাড়ি ব্যবহার করছেন, সেগুলো ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কেনা। এগুলো প্রায়শ মেরামত করতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
বিদ্যমান গাড়িগুলো দিয়ে ভবিষ্যতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের পক্ষে নির্বাচনী এলাকা সফর, উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনসহ অন্যান্য জরুরি কাজ করা কষ্টসাধ্য হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাবে সম্প্রতি সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
এরপর সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে এসব গাড়ি কেনা হবে।
এদিকে আগামী নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য প্রতিস্থাপক হিসেবে ১৯৫টি মিতসুবিশি পাজেরো কিউএক্স-২৪২৭ সিসি মডেলের জিপ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জন্য ২৫টি মাইক্রোবাস কেনায় সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এ ক্ষেত্রেও প্রতিটি জিপের দাম ধরা হয়েছে এক কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। প্রতিটি মাইক্রোবাসের দাম পড়ছে ৫২ লাখ টাকা। এ ধরনের ২২০টি গাড়ি কিনতে সরকারকে খরচ করতে হবে ৩৪৩ কোটি ২৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে যানবাহন অধিদপ্তরের অনুকূলে মোটরযান ক্রয় খাতে ৩২৮ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে এই ২৮০টি গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ৪৪৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বাড়তি ৯৬ কোটি ৫১ লাখ ৫ হাজার টাকা অন্য খাতের অর্থ ব্যয়েরও অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
তবে গাড়ি কেনার সম্মতিপত্রে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে অর্থ বিভাগ। শর্তগুলো হলো– নতুন কেনা জিপগুলো প্রাধিকারভুক্ত হবে। একই সঙ্গে প্রতিস্থাপক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের জন্য কেনা জিপ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জন্য প্রতিস্থাপক হিসেবে মাইক্রোবাসগুলো অকেজো ঘোষণা-সংক্রান্ত বিআরটিএর পরিদর্শক দলের অনুমোদন গ্রহণ করে তার অনুলিপি অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে।
গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮ অনুসরণ করতে হবে।
চলতি অর্থবছরে যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ নিতে একটি পরিপত্র জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এই পদক্ষেপে তা উপেক্ষিত হলো।
গত ৮ জুলাই জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব ধরনের নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ থাকবে। তবে পরিচালন বাজেটের আওতায় প্রাধিকারভুক্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তার ব্যবহৃত গাড়ি ১০ বছরের বেশি পুরোনো হওয়ায় ব্যবহারের অযোগ্য হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে গাড়ি কেনা যেতে পারে।
সরকারের পরিবহন পুলের হিসাবমতে, গত সরকারের মন্ত্রীদের জন্য কেনা যে গাড়িগুলো রয়েছে সেগুলো ৯ বছরের পুরোনো। এ ক্ষেত্রেও পরিপত্রের শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি নিয়ে অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারেরও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, গত ৬ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আগামী মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য গাড়ি কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমান বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রীদের গাড়িগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। এ জন্য নতুন গাড়ি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পরবর্তী সরকার বা মন্ত্রীরা কী গাড়ি ব্যবহার করবেন, কী গাড়ি কিনবেন; তার সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার কেন নিচ্ছে? এটা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নয়।
এর মাধ্যমে ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপের পরিপত্র উপেক্ষা করা তো বটেই, একই সঙ্গে প্রশ্ন আসবে, পরবর্তী সরকারের জন্য গাড়ি কেনার দায়িত্বটা অন্তর্বর্তী সরকারকে কে দিয়েছে?
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ‘ম্যান্ডেট’ এটা নয়। এ দায় তারা কেন নিচ্ছেন, বুঝে আসছে না। অনতিবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা উচিত।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতির সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া হাইকোর্ট বিভাগের ২৫ জন অতিরিক্ত বিচারপতি। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে হাইকোর্টের নতুন বিচারপতিদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্টপতি বলেন, নতুন বিচারপতি নিয়োগের ফলে দেশের উচ্চতর আদালতে বিচারিক কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে এবং বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হবেন। বিচারপতিদের সেবার মানোন্নয়নে আত্মোনিয়োগ করতে হবে। বিচারপতিরা দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিরা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (শাহীন), আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ ও ফয়সাল হাসান আরিফ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসিফ হাসান ও মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবীর, হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ–এ–মাওলা সোহেল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর (সিনিয়র জেলা জজ) মো. রাফিজুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান ও রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা-অগ্নিসংযোগ

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবারও ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ভবনটির উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় পার্টি অভিযোগ করেছে, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, মাগরিবের নামাজের পর হঠাৎ করে একদল লোক মিছিল সহকারে এসে জাতীয় পার্টির অফিসে ভাঙচুর শুরু করে। নিচতলা থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত ভাঙচুর চালানো হয়। এক পর্যায়ে তারা সেখানে আগুন দেয়। পুলিশ এসে তাদের বাধা দেয়। তবে ততক্ষণে আগুন বেশ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ জলকামান দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। এর মধ্যে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী আক্কাস নামে এক রিকশাচালক বলেন, হঠাৎ একদল লোক এখানে এলে পুলিশ বাধা দেয়। কিন্তু পুলিশের বাধা না মেনে তারা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা করে। এর কিছুক্ষণ পর নিচতলায় আগুন লাগায়।
জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, গণঅধিকার পরিষদ ব্যানার সহকারে মিছিল নিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। তারা জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে আগুন দেয়।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ চায়, কেন আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি এই কারণে? তাহলে যারা ছাত্রলীগ করেছে তারা এখন এনসিপি করেছে। তাহলে তাদের আগে নিষিদ্ধ হওয়া দরকার। আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি একটা অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা বিরোধী দল হব। এই কারণে নির্বাচন পেছাতে এগুলো করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, তারা এসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছে, জলকামান দিয়ে আগুন নিভিয়ে দিয়েছে। এখন আপাতত কোনো সমস্যা নেই।

 

লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয় : রিজভী

মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি, রাষ্ট্রীয় চেতনার কথা বলি- অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে আরবের সেই মহামানব আমাদের জন্য নিদর্শন হয়ে আছেন। কিন্তু আমরা তার শিক্ষা গ্রহণ না করে নিজেদের ধর্ম ও ইসলামকে বিভিন্ন ফেরকা, বিভাজন ও নানা ধরনের কথাবার্তায় বিভক্ত করছি। অথচ আমাদের মহানবী ছিলেন ঐক্যের প্রতীক।

তিনি বলেন, আজ যে মহামানবকে কেন্দ্র করে এখানে আলোচনা ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে, তার সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। বরং বলা যায়, তা সম্ভব নয়। তিনি আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া বাণী মানবজাতির মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং রেখে গেছেন এক অনন্য আদর্শ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তার ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক গুণাবলিই ছিল অনুসরণের মতো উদাহরণ। যদি আমরা সামান্যতমও তা অনুকরণ ও লালন করতাম, তবে এ দেশে অন্যায়-অপরাধ, কুপ্রবৃত্তি, পাপাচার, হানাহানি ও রক্তারক্তি অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যেত।

রিজভী আরও বলেন, যিনি আমাদের প্রকৃত মডেল, যিনি আদর্শের প্রতীক, আমরা তাকে অনুসরণ করি না, তার অনুকরণ করি না। আর এটাই আজকের মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

মিলাদ মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু। এতে মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।