Home Blog Page 320

‘রাতের ভোটকেও হার মানিয়ে ফেলেছে বিসিবি নির্বাচন’

০
আগামীকাল ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন। তবে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই নাটকীয় হচ্ছে পরিস্থিতি। ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। তামিম ইকবালসহ হেভিওয়েট ১৭ জন প্রার্থী এখন পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
এরই মাঝে শনিবার তিন দফা দাবি জানিয়েছে বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা ক্রীড়া সংগঠকরা। এবার সেই তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে ঢাকার ৪৮টি ক্রিকেট ক্লাবের সংগঠকরা।
এদিকে নির্বাচন বর্জন করাদের তালিকায় যোগ হয়েছে আরও একটি নাম। জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে ঢাকা বিভাগের পরিচালক পদপ্রার্থী ছিলেন আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান। তবে তিনি আজ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে আজ বিসিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ। সেখানে নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ করেন তিনি। এবারের বিসিবি নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের ‘রাতের ভোট’কেও হার মানিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ফুয়াদ বলেন, ‘রাতের ভোট তো…তবু তো ওরা ব্যালট বাক্স ভরেছে, সেটা আলাদা জিনিস। এরা তো সুকৌশলে এমন কাজ করছে, সেটা (রাতের) ব্যালট বাক্সকেও হার মানিয়ে ফেলছে।’
এদিকে ফুয়াদের সঙ্গে ঢাকা বিভাগ থেকে পরিচালক হওয়ার দৌড়ে আরও ছিলেন বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন। ফুয়াদ সরে দাড়ানোয় বুলবুল ও নাজমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেলেন।
ফুয়াদ বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বহুবার দেখা করতে চেয়েছি, আমার সঙ্গে দেখা করেনি। আমি দরখাস্তও দিতে চেয়েছিলাম যে, ই-ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট শুধু তাঁদেরকেই দেবেন, যাঁরা দেশের বাইরে অথবা হাসপাতালে রোগী হিসেবে আছেন। যাঁরা সুস্থ, যাঁরা ঘুরেফিরে খাচ্ছেন, যাঁরা কাউন্সিলর হয়েছেন, যাঁরা হোটেলে বসে আমোদ-ফুর্তি করছেন, তাঁরা কেন ই-ব্যালটে ভোট দেবেন?’

 

আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

০

শারজাহর গরম রাতে বাংলাদেশ পেল এক দারুন ঝলমলে জয়। আফগানিস্তানের ছুড়ে দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে টাইগাররা কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সাইফ হাসানের আগুনে ইনিংসে ভর করে ১৮ ওভারে ম্যাচ শেষ করে ফেলে জয়ের পতাকা তোলে। ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করল।

শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। শরিফুল ইসলাম এবং নাসুম আহমেদের করা প্রথম দুই ওভার থেকে বিনা উইকেটে ২০ রান তুলে নিয়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল দলটি।
কিন্তু তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে শরিফুল ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানের (৭) উইকেট তুলে নিতেই নুয়ে পড়ে আফগানিস্তান। পরের ওভারের প্রথম বলে নাসুম আহমেদ সাজঘরের পথ দেখান আরেক ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে (১২)।
তিনে নামা সেদিকউল্লাহ আতাল ২৩ বলে সমান একটি করে চার-ছক্কায় করেন ২৮ রান। তবে সাইফউদ্দিনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো তানজিম সাকিবের ক্যাচ হন তিনি।
পরের ব্যাটারদের মধ্যে শুধু পাঁচে নামা দারউইশ রাসুলি-ই যা একটু রানের গতি সচল রাখার চেষ্টা করেন। ১৯তম ওভারে সেই সাইফউদ্দিনের বলে ফেরার আগে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন এই ব্যাটার।
বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে ৩ ওভারে ১৫ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। দুটি করে উইকেট যায় নাসুম ও সাকিবের ঝুলিতে।

আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাত বঞ্চনা: গুলশান থানার ওসিকে শোকজ

ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়ার সাথে তাঁর আইনজীবীর সাক্ষাত ও আইনি পরামর্শের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আদালত গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) শোকজ নোটিশ জারি করেছে।
আজ রোববার (৫ অক্টোবর) ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়ার আইনজীবী সারোয়ার হোসাইনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারকৃত আসামির আইনজীবীকে থানায় গিয়ে তাঁর মক্কেলের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা বাংলাদেশের সংবিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
এর আগে, ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়াকে গতকাল শনিবার (৪ অক্টোবর) ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ নেতা এম এ সাত্তার ভূঁইয়ার ছেলে।
গুলশান থানার এসআই আবদুস সালাম বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর নিকেতনের শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্কের পাশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে।
ওই ঘটনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করে।
ওই মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়ার ধানমন্ডির বাসায় যাওয়া হয় গত শুক্রবার রাতে। সারারাত তারা বাসার দরজা খোলেননি। পরে ভোরে বাসার দরজা খুলে দিলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্যারিস্টার আহসান হাবিব নিকেতনের ওই মিছিলে অংশ নিয়েছেন কি না অথবা অর্থায়ন করেছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই আবদুস সালাম বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে কিছু বলাটা উচিত হবে না।
এদিকে আহসান হাবিব ভূঁইয়ার আইনজীবী সারোয়ার হোসাইন জানান, আহসান হাবিব গ্রেপ্তার হওয়ার পর বারবার থানায় গেলেও আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি গ্রেপ্তারের কারণও জানায়নি। অথচ সংবিধানে বা সিআরপিসিতে তার এ অধিকার রয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে আজ আইনজীবী সারোয়ার হোসাইন আদালতে আবেদন করলে আদালত উপরোক্ত আদেশের মাধ্যমে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) শোকজ নোটিশ জারি করেন।

 

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু নিয়ে গুজব!

ষাটের দশকের ছাত্রনেতা, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বর্ষিয়ান এ রাজনীতিকের শারীরীক অবস্থা ক্রিটিক্যাল হলেও তিনি এখনও বেঁচে আছেন। জীবিত অবস্থায় তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু নিয়ে গুজব ছাড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তার মেয়ের জামাই ডা. তৌহিদুজ্জামান।
শনিবার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে তোফায়েল আহমেদের শারীরীক অবস্থা নিয়ে কথা বলার সময় তিনি আমাদের সময়ের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে এ আহ্বান জানান এবং তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনার অনুরোধ জানান।
তৌহিদুজ্জামান বলেন, ওনার অবস্থা রাত ৮টার দিকে হঠাৎ করেই অবনতি হয়েছিল। প্রেশার ও পালস আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। তবে চিকিৎসকদের তৎপরতায় ফের আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তবে সবমিলিছে তার অবস্থা আগের চেয়ে অবনতি হয়েছে।
বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে প্রায় ১০ দিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তোফায়েল আহমেদ। শনিবার রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে। এ বিষয়টি আহত করেছে বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদের স্বজনদের।
স্কয়ার হাসপাতালের পক্ষে প্র্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মোরশেদুল ইসলাম রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, তোফায়েল আহমেদের অবস্থা আগের চেয়ে অবনতি হয়েছে এটা সত্যি, তবে তার মৃত্যুর খবর সত্য নয়। তিনি আমাদের হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। আমাদের মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিক তার পাশে রয়েছে এবং সম্ভাব্য সবধরনের চিকিৎসা সেবা তাকে দেওয়া হচ্ছে। উনার সর্বশেষ অবস্থা চিকিৎসকরা বলতে পারবেন। তবে খারাপ কিছু হলে অবশ্যই আমাদের জানানো হবেংবাদিকরাও জানতে পারবেন।

উপদেষ্টাদের অনেকেই নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছেন: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন। তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছেন। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলার সমর্থনই তাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে।’
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নাহিদ।  এ সময় তিনি সেসব উপদেষ্টাদের নাম প্রকাশেরও হুঁশিয়ারি দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা উপদেষ্টা হয়েছেন, তাদের অনেককেই বিশ্বাস করা আমাদের ভুল হয়েছে। আমাদের উচিত ছিল ছাত্র নেতৃত্বকেই শক্তিশালী করা, সরকারে গেলে সম্মিলিতভাবে যাওয়া। আমরা নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলকে যে বিশ্বাস করেছিলাম বা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম সেই জায়গায় আমরা আসলে প্রতারিত হয়েছি।
তিনি বলেন, ‘অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, অথবা গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সময় আসলে তাদের নামও আমরা উন্মুক্ত করবো।’
উপদেষ্টার আসনে ছাত্রনেতারা বসার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, ‘আমরা কেউই সরকারের উপদেষ্টা পদে যেতে চাইনি। জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। তাহলে কিন্তু ছাত্রদের এই দায়িত্ব পালন করা লাগতো না। যদি অভ্যুত্থানের শক্তি সরকারে না থাকতো, তাহলে এই সরকার তিন মাসও টিকতো না।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকারকে উৎখাত করার, প্রতিবিপ্লব করার চেষ্টা চলমান ছিল প্রথম ছয় মাস। এখনও আছে কিছুটা। যদি রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হয়ে নাগরিক সরকার করতো, তাহলে কিন্তু ছাত্রদের কাঁধে এ দায়িত্ব আসতো না। সময়ের প্রয়োজনে এ দায়িত্ব আমাদের নিতে হয়েছিল।’
উপদেষ্টাদের অনেকে সেফ এক্সিট নিয়ে এখনই ভেবে রেখেছেন বলেও দাবি করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টারা অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন। তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছেন। এটা আমাদের অনেক পোহাতে হচ্ছে বা পোহাতে হবে। তারা যদি বিশ্বাস করতেন যে, তাদের নিয়োগ কর্তা গণঅভ্যুত্থানের শক্তি, এ দেশের সাধারণ মানুষ যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন— তাদের ওপর ভরসা রাখতেন, তাহলে উপদেষ্টাদের এই বিচ্যুতি হতো না।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট ক্যান্টনমেন্টে সেজদা দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা, ছাত্ররা নয়।’
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠন না করে, জাতীয় সরকার গঠন করলে আক্ষেপ তৈরি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

‘ভারতকে যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের নিচেই কবর দেওয়া হবে

ভারতের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তা আরও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ। এসময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আবার সংঘাতে জড়ালে ভারতের কবর তাদের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের নিচেই হবে।’
আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, গত মে মাসে তীব্র সংঘাতের পর নিজেদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এখন ‘আত্মসম্মান রক্ষার প্রচেষ্টা’ চালাচ্ছে।
আসিফের এমন মন্তব্য আসল ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর বক্তব্যের পর।
পাকিস্তান সীমান্তে সৈন্যদের উদ্দেশে শুক্রবার দ্বিবেদী বলেন, ইসলামাবাদ যদি ‘বিশ্বের মানচিত্রে থাকতে চায়’, তবে তাকে ‘সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।’ তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ‘মে মাসের যুদ্ধে ভারতের যে সংযম ছিল, এবার তা থাকবে না।’
ভারতের সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, মে ২০২৫-এর সংঘাতে পাকিস্তানের ভেতরে নয়টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল, যাতে শতাধিক পাকিস্তানি সেনা ও জঙ্গি নিহত হয়।
মে মাসের ওই সংঘাত ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ।
চার দিন ধরে দুই দেশ একে অপরের উপর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আর্টিলারি হামলা চালায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে খাজা আসিফ বলেন, ‘ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য তাদের ব্যর্থতার প্রমাণ। ০–৬ ব্যবধানে এমন পরাজয়ের পর যদি তারা আবার চেষ্টা করে, আল্লাহ চাহে তো এবার ফল আরও ভয়াবহ হবে।
এবার ভারত নিজস্ব যুদ্ধবিমানের ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়বে।’
পাকিস্তান দাবি করেছে, মে মাসের যুদ্ধে তারা ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে ফ্রান্সের তৈরি রাফালও রয়েছে। তবে ভারত এই দাবি অস্বীকার করেছে। ভারতের বিমানবাহিনীর দাবি, তারাই পাকিস্তানের এফ–১৬ ও জেএফ–১৭ মডেলের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে।
এদিকে, ভারতের সেনাপ্রধানের বক্তব্যের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও। এক বিবৃতিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ‘ভারতের এমন বিভ্রান্তিকর ও যুদ্ধবাজ বক্তব্য কেবল উসকানিমূলক নয়, বিপজ্জনকও। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনবে, এবং পাকিস্তান এবার কোনো সংযম দেখাবে না।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘যারা নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে চায়, তাদের জানা উচিত—পাকিস্তানও নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা হবে দ্রুত এবং ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া। পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করলে সেই পরিণতি হবে পারস্পরিক।’

শিগগিরই সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে ঐকমত্য কমিশন

খুব শিগগিরই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
আজ রবিবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জুলাই সনদের বিষয়বস্তু ও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব ও এবিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের অবস্থান সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশন সকল রাজনৈতিক দল থেকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা পেয়েছে। এছাড়া, গণমাধ্যমগুলো ঐকমত্য কমিশনকে অকল্পনীয় সমর্থন দিয়েছে।
কমিশন সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সকল সদস্যদের ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানিয়েছেন। কমিশনের কাজের চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আজকের বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশন সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল ও আদিলুর রহমান খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

‘অসুরের মুখে দাড়ি’ চক্রান্তের পেছনে ফ্যাসিস্ট দোসরদের মদদ রয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্তের পেছনে ফ্যাসিস্ট দোসরদের মদদ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, কিছু ফ্যাসিস্ট তাদের সহযোগী ও বুদ্ধিজীবীদের ইন্ধনে কয়েকটি পূজামণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি লাগিয়ে ধর্মীয় বিভেদ এবং সাম্প্রদায়িক উসকানি ও সহিংসতার সৃষ্টির পায়তারা করেছিল, কিন্তু সবার সহযোগিতায় আমরা এই কুচক্রিদের চক্রান্ত নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছি।
রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কমিটির মিটিং প্রতি সপ্তাহেই হয়। এতে আমাদের দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। তারপরে গত শারদীয় দুর্গাপূজার সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে কিছু আলোচনা হয়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক, রোহিঙ্গাদের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আমাদের যে ভুলগুলো হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ তুলে চট্টগ্রামকে অশান্ত করা এবং শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্তের পেছনে ফ্যাসিস্টদের দোসরদের মদদ রয়েছে, যা ইতোমধ্যে প্রতীয়মান হয়েছে। পার্শ্ববর্তী একটি দেশ দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির সময় আমাদের প্রধান উপদেষ্টাকে নিন্দনীয়ভাবে উপস্থাপনের যে সংবাদ পাওয়া গেছে এবং অসুরের মুখে দাড়ি দেওয়ার কাজটির মধ্যেও তারই যোগসূত্র দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, গোয়েন্দা সংস্থার সময় কড়া নজরদারিতে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য গঠিত পূজা মণ্ডপ কমিটির সহযোগিতা এবং আপনাদের সহযোগিতায় আমরা এই কুচক্রিদের চক্রান্ত নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে কয়েকটি পূজামণ্ডপে ধর্মীয় বিভেদ এবং সাম্প্রদায়িক উসকানি ও সহিংসতার সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছিল। এই ঘটনায় কিছু ফ্যাসিস্ট বুদ্ধিজীবীদেরও ইন্ধন ছিল। কিন্তু তাদের সে ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। গতবারের ন্যায় এবারও সারাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, নির্বিঘ্ন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেজন্য আমি সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, রক্ষাকারী বাহিনী, সর্বোপরি সব সাধারণ জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আরও ধন্যবাদ জানাই আপনাদের তথা বিভিন্ন গণমাধ্যমকে, যারা সঠিক তথ্য পরিবেশন করে জনগণকে সচেতন করেছে। এজন্য আপনাদেরও অনেক ধন্যবাদ।
তিনি বলেন, দেশের ৭৯৩টি পূজা মণ্ডপে অসুরের মুখে দাড়ি লাগানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে জিডি করা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং পূজা মণ্ডপ ভাঙা হয়েছে। তবে সংখ্যাটা এই মুহূর্তে আপনাদের বলতে পারব না।
এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, যেহেতু এটা তদন্ত চলছে।

 

৩০০ টাকা ছাড়াল মরিচ, মাছ-মুরগি-সবজিতেও স্বস্তি নেই

গত দুদিনের বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বাজারে। মাছ, মাংস, মুরগির দাম আগের মতোই থাকলেও বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে সবজির দাম বাড়তি থাকলেও দুই দিনের বৃষ্টির অজুহাতে তা আরও বেড়েছে।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির এমন বাড়তি দামের চিত্র দেখা গেছে।
আজকের বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৭০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ৮০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ২০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ টাকা, কাঁকরোল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কচুর মুখি প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়, সোনালী মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়, আর প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর রামপুরা বাজারে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী শিহাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। আর আজ সেই সবজির দাম আরও বেড়েছে। বাজারে যদি নিয়ন্ত্রণ না থাকে, যে যার মতো করে সবজি বিক্রি করে— তাহলে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা কীভাবে এত দাম দিয়ে সবজি কিনে খাবে? যেকোনো অজুহাতে তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। অথচ বাজার মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ আমরা কখনো দেখতে পাই না।
মালিবাগ বাজারের আরেক ক্রেতা রাজু আহমেদ বলেন, আজকে বাজারে সবজির দাম আরেক দফা বেড়েছে। দোকানিরা বলছেন বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বাড়তি। অথচ গত তিন মাস ধরে সবজির দাম বেড়েই যাচ্ছে। যে যার মতো করে বাড়তি দামে সবজি বিক্রি করছে। আজ এসে যুক্ত হয়েছে বৃষ্টির জন্য সবজির দাম বেশি, কিন্তু তাহলে এতদিন ধরে সবজির দাম এত বাড়তি ছিল কেন?
সবজির দামের বিষয়ে শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত দুই দিন ধরে বৃষ্টির কারণে আজ সবজির দাম বাড়তি। এছাড়া বেশিরভাগ সবজির এখন মৌসুম শেষ হয়েছে, নতুন করে সবজি বাজারে না আসা পর্যন্ত সবজির দাম এমন বাড়তি থাকবে। আবার যে সবজি ক্ষেতে রয়েছে, সেগুলো গত দুই দিনের বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে সেই প্রভাব পড়েছে বাজারে। বৃষ্টি যদি আরও কয়েকদিন থাকে, তাহলে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে।

 

ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করতে চায় না জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভাজিত করার পক্ষে নয় জামায়াত।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশের ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ মুসলমান। বাকিরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান। কিন্তু আমরা এখানে ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভাজিত করার পক্ষে নই। আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতি দেখতে চাই।’
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় উলামা কমিটির উদ্যোগে ‘দাঈ ও ওয়ায়েজ সম্মেলন’–এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এ কথাগুলো বলেন।
মানুষের সামনে বিভিন্ন ধর্ম–মত আছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। মানুষ তার বিবেচনা ও বিবেকের জায়গা থেকে ধর্মকে গ্রহণ করবে, বলেন তিনি। এ জায়গায় দাঈদের দায়িত্ব আল্লাহর শাশ্বত বিধান কোরআন ও রাসুল (সা.)-এর দাওয়া ও কর্ম অনুসরণ করা, মানুষকে অনুসরণের আহ্বান জানানো বলে মত দেন তিনি।
জাতি সংকটে পড়লে আলেম বা শিক্ষিত ব্যক্তিদের পথ দেখাতে হয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, তাঁরা হবেন জাতির রাহবার। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশে মানবিক, দায়িত্বশীল আর সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কাজেই জাতি সংকটে আছে। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ওলামায়ে কেরাম জাতিকে পথ দেখালে জাতি উপকৃত হবে। জাতিও তাঁদের কাছ থেকে সেটাই প্রত্যাশা করে।
ওলামায়ে কেরামদের শুধু মসজিদের ইমাম নয়, জাতিরও ইমাম হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই, শিক্ষিত সমাজের সবাই নয়, কিন্তু শিক্ষিত সমাজের একটি অংশের মানুষ যে ক্ষতি জাতির করে, সাধারণ দেশবাসীর কোটি কোটি মানুষ মিলেও সেই ক্ষতি জাতির করতে পারে না। এ যোগ্যতা তাদের নেই। কলমের খোঁচায় একজন মানুষের, জাতির কিসমত (ভাগ্য) যেভাবে ধসে পড়ে, কোটি মানুষ একত্র হয়েও সেই ক্ষতি করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রেও ওলামায়ে কেরামের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে জাতিকে জাগ্রত করার, সতর্ক করার।’
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় ওলামা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি আবদুল হালিম। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।