Home Blog Page 321

সানস্ক্রিন ব্যবহারে অনীহা

রোদের কারণে বাংলাদেশে বছরজুড়ে প্রায় সবাই নানারকম বিড়ম্বনার শিকার হন। তীব্র রোদের কারণে পানিশূন্যতা, ত্বক পুড়ে যাওয়া, ত্বকে খসখসে ভাব, ত্বক কুঁচকে যাওয়াসহ নানা সমস্যা তৈরি হয় এবং আমাদের আশপাশের অনেকেই এর ভুক্তভোগী। তবে এরপরেও রোদের থেকে ত্বক বাঁচাতে এখনও বেশিরভাগ মানুষ ভরসা করেন ছাতা কিংবা ছায়ার ওপর। পশ্চিমে তো বটেই, পাশের দেশ ভারতসহ নানান দেশেই অনেক মানুষ সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন এবং গরমের দিনে এটি সেসব জায়গার মানুষের একটি অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ। তবে বাংলাদেশে এর চিত্রটি এখনও বিপরীত।

ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত সামিয়া জামান জানান, বাংলাদেশের মানুষের ত্বকের ওপর রোদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানার ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশে সারা বছরই রোদ পড়ার কারণে অনেকেই মনে করেন প্রাকৃতিকভাবে এখানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। তবে অনেকেই তীব্র রোদের কারণে নানা ত্বকের সমস্যাতেও ভোগেন। তবে এখানে মূল সমস্যা হিসেবে কাজ করে সানস্ক্রিনের দাম। কারণ বাজারে মানসম্মত সানস্ক্রিন সরবরাহ যেমন পর্যাপ্ত নয়, তেমনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দামটাও চড়া। অনেকের পক্ষেই নিয়মিত বিদেশি ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।

ঢাকার বিভিন্ন বিপণিবিতান এবং কসমেটিকসের জন্য জনপ্রিয় কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা যায় ৫০ থেকে ৮০ গ্রামের এক একটি সানস্ক্রিন বিক্রি হচ্ছে আটশো থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায়। যেহেতু সানস্ক্রিন একটি নিত্যব্যবহার্য পণ্য, প্রতিদিন বাইরে বের হবার আগেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, কাজেই সেই হিসাবে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার আসলেও খরুচে ব্যাপার অনেকের জন্য। এ ব্যাপারে রাজধানীর একটি বিপণিবিতানের একজন বিক্রয়কর্মী জানান, মুলত বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন মানসম্মত সানস্ক্রিন সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফলে আমদানি সংক্রান্ত নানা শুল্ক এবং অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সব সানস্ক্রিনের দামই অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তৈরি দেশে উৎপাদিত মানসম্মত সানস্ক্রিনের অভাবের কথাও ঐ বিক্রয়কর্মী উল্লেখ করেন।

তবে বাজার ঘুরে বিভিন্ন দোকানে নানা ধরনের মোড়কে নানা নামের সানস্ক্রিন পাওয়া যায় কম দামে। যদিও কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা জানান এসব ‘নন-ব্র্যান্ড’ সানস্ক্রিন আসলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং সানস্ক্রিনের মতো পণ্যের যে ধরনের লাইসেন্স বা পণ্যের মান হওয়া প্রয়োজন। তার কোনটিই এসব ক্ষেত্রে মানা হয় না। ফলে ক্রেতাদের মধ্যেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব পণ্যের তেমন একটা চাহিদা নেই।

একই বিপণিবিতানের আরেক কর্মী জানান তাদের ক্রেতাদের মধ্যে আগের থেকে ত্বকের যত্ন নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে, এখন অনেকেই সানস্ক্রিনের খোঁজ করেন, কেনার পরিমাণও বেড়েছে। তবে এখনও বাজারে প্রচলিত বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর সানস্ক্রিনের যে দাম সেটি বেশিরভাগ ক্রেতার নাগালের বাইরে বলেই জানালেন ঐ বিক্রয়কর্মী।

ঐতিহাসিকভাবে রোদ থেকে বাঁচতে আমাদের কৃষকেরা মাথাল পরতেন, এর কিছু পরে ছাতার ব্যবহার বেড়েছে। ঢাকা শহরেও এখন অনেককেই ছাতা ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে দৈনন্দিন কাজে বের হওয়া অনেকের পক্ষেই প্রতিদিন দিনের বড় সময় ছাতা ব্যবহার করা সুবিধাজনক নয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে রোদের তীব্রতা এবং রোদে অতিবেগুনি রশ্মির পরিমাণও। এই কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ফলে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে যেমন সচেতনতা প্রয়োজন। তেমনি প্রয়োজন ত্বকের সুরক্ষায় ব্যবহার্য পণ্যের সহজলভ্যতা এবং সুলভ মূল্যের ব্যবস্থা করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুগন্ধিপ্রেম

সুগন্ধি ব্যবহার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। তিনি সুগন্ধিপ্রেমী ছিলেন। সব সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তিনি নিজের কাছে সুগন্ধির পাত্র রাখতেন। তাঁর সুগন্ধির প্রভাব এতটাই বিপুল ছিল যে, রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে লোকেরা বুঝত, এ পথ ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) হেঁটে গেছেন। আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি আতরদানি ছিল। তিনি তা থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন।’ (আবু দাউদ : ৪১৬২)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিকাংশ সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। না করলেও তাঁর শরীর থেকে সুঘ্রাণ ছড়াত। তাঁর সুগন্ধি ব্যবহারের অন্যতম কারণ ছিল, ফেরেশতার সঙ্গে সাক্ষাৎ, অহি গ্রহণ এবং সাহাবিদের সঙ্গে ওঠাবসার সময় সুঘ্রাণ ছড়ানো। (শামায়েলে তিরমিজি, ইমাম তিরমিজি, ব্যাখ্যা : মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৩০৯)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সুগন্ধিপ্রিয় মানুষ। তিনি সুগন্ধি ব্যবহার করতে খুব ভালোবাসতেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের দুনিয়া থেকে আমার কাছে তিনটি জিনিস অধিক প্রিয়। স্ত্রী, সুগন্ধি আর আমার চক্ষু শীতল হয় নামাজের মাধ্যমে।’ (নাসায়ি : ৩৯৩৯)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে সুগন্ধির দরিয়া বইয়ে যেত। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ত সুবাস। সুঘ্রাণে মণ্ডম করত প্রতিটি রাস্তা, পাড়া-মহল্লা। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনার কোনো পথ দিয়ে অতিক্রম করতেন, তখন লোকেরা তাঁর সুঘ্রাণ পেত। তারা বলত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই পথ দিয়ে অতিক্রম করেছেন।’ (মুসনাদুল বাজ্জার : ৭১১৮)।

সুগন্ধি ব্যবহার সব নবী-রাসুলের সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবির সুন্নত। আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান আবৃত রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২২৪৭৮)।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সুগন্ধি হাদিয়া এলে গ্রহণ করতেন। সাহাবিদেরও ফিরিয়ে দিতে নিষেধ করতেন। সুমামা ইবনে আব্দুল¬াহ (রা.) বলেন, ‘আনাস (রা.) সুগন্ধি ফেরত দিতেন না। তিনি বলতেন, নবী (সা.) কখনও সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না।’ (বোখারি : ২৫৮২)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কাউকে সুগন্ধি বস্তু দেওয়া হলে সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়। কেননা, তা সুঘ্রাণ এবং সহজে বহনযোগ্য।’ (আবু দাউদ : ৪১৭২)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়- বালিশ, সুগন্ধি ও দুধ।’ (তিরমিজি : ২৭৯০)।

ইমাম তিবি (রহ.) বলেন, ‘উদ্দেশ্যে হলো- বালিশ, সুগন্ধি ও দুধের মাধ্যমে মেহমানকে সম্মান করবে। আর এটা সহজে বহনযোগ্য হাদিয়া। সুতরাং ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়।’ (মিরকাতুল মাফাতিহ, খণ্ড : ৫, পৃষ্ঠা : ২০১৩)।

ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, ‘সুগন্ধি হলো রুহের খোরাক, আর রুহ হলো শক্তির কেন্দ্রবিন্দু। সুগন্ধি ব্যবহারের দ্বারা রুহের শক্তি বৃদ্ধি পায়। সুগন্ধি মেধা, হৃৎপিণ্ড এবং সব অভ্যন্তরীণ অঙ্গের জন্য উপকারী। সুগন্ধি অন্তরকে প্রফুল্ল রাখে, আত্মাকে প্রশান্ত রাখে এবং রুহকে প্রশস্ত করে। সুগন্ধি ও পবিত্র রুহের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়া সুগন্ধি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পার্থিব পছন্দনীয় দুটো বিষয়ের একটি ছিল। (শামায়েলে তিরমিজি, ইমাম তিরমিজি, ব্যাখ্যা : মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৩১০)।

পুরুষদের জন্য জুমার দিন, ঈদের দিন, মুসলমানদের সমাবেশে উপস্থিতির সময়, ইলম ও জিকিরের মজলিসে, সহবাসের সময় এবং এ জাতীয় অন্যান্য সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব। (শরহুন নববি, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ১০)

পুরুষ এমন সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যার ঘ্রাণ প্রকাশ পাবে, তবে রঙ গোপন থাকবে। অপরদিকে নারীরা মসজিদ বা অন্য কোথাও গেলে, এমন সুগন্ধি ব্যবহার করা মাকরুহ, যার ঘ্রাণ প্রকাশ পায়। তবে স্বামীর সামনে যেমন ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পুরুষদের সুগন্ধি এমন হবে, যার ঘ্রাণ প্রকাশ পাবে, তবে রঙ গোপন থাকবে। অন্যদিকে নারীদের সুগন্ধি এমন হবে, যার রং প্রকাশ পাবে, তবে ঘ্রাণ গোপন থাকবে।’ (আবু দাউদ : ২১৭৪)।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকবর্তিকা বায়তুল হিকমাহ

আব্বাসীয় খেলাফতের সময় বুদ্ধিবৃত্তিক এবং অর্থনৈতিক উৎকর্ষের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছিল বাগদাদ। বিজ্ঞানচর্চায় তাদের অর্থায়নের অন্যতম উদাহরণ বাগদাদের বিখ্যাত লাইব্রেরি- বাইতুল হিকমাহ- ইংরেজিতে যাকে বলা হয় হাউজ অব উইজডম। পঞ্চম শতকের আশপাশ থেকে অন্তত নবম শতক পর্যন্ত এই লাইব্রেরির সংগ্রহ ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বড়। এর অঙ্গন সর্বদা মুখরিত থাকত তৎকালীন বড় বড় পণ্ডিতদের ভিড়ে।

প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ : বায়তুল হিকমাহর ধারণার সূচনা হয় বাগদাদ প্রতিষ্ঠার সময়। আব্বাসীয়দের দ্বিতীয় খলিফা, আল-মনসুর এখানে রাজধানী সরিয়ে আনেন। উদ্দেশ্য ছিল দামেস্ককেন্দ্রিক উমাইয়াদের প্রভাব একেবারে মুছে ফেলা। এই অঞ্চলে ইসলামি শক্তি সাসানিদদের প্রতিস্থাপন করে। তবে তাদের প্রভাব রয়ে গিয়েছিল আব্বাসীয় দরবারে। ফলে পুরোনো সাম্রাজ্যের অনেক রীতিনীতি রয়ে যায়। সাসানিদ অভিজাতরা বই জমা রাখার জন্য ঘর বানাতো, যার নাম মধহল। আরবিতে এর প্রতিশব্দ খিজানাহ। আল-মনসুর বাগদাদে তেমন কিছু করতে চাইলেন।

খলিফা আলেক্সান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি থেকেও অনুপ্রাণিত হন। তার ইচ্ছে বাগদাদে এমন একটি সংগ্রহ গড়ে তোলা, যার নাম হবে খিজানাত আল-হিকমাহ। ৭৭৫ সালে মারা যান তিনি। তার স্বপ্ন সত্যি করেন খলিফা হারুন আল-রশিদ। ৭৮৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই রাজ-দরবারের লাইব্রেরির একাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন তিনি। উজির ইয়াহইয়া আল-বারমাকির ওপর দায়িত্ব পড়ে বড় পরিসরে লাইব্রেরি তৈরি করার।

প্রাথমিক পর্যায়ে খলিফার দাদা এবং বাবার কাছে থাকা শিল্পসাহিত্য আর বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের ঠাঁই হয় লাইব্রেরিতে। পারস্যের উপকথা, সাসানিয়ান জ্যোতির্বিদদের লেখনি ইত্যাদি আরবিতে অনুবাদ করা হয়। এজন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন অনুবাদক এবং বই বাঁধাইকারকরা। এই পর্যায়ে অবশ্য প্রাচীন পারস্যভাষার গ্রন্থই শুধু আরবিতে অনুবাদ হয়েছিল।

হারুন আল-রশিদের ছেলে পরবর্তী খলিফা আল-মামুনের সময় এই পাঠাগার চূড়ান্ত উৎকর্ষ অর্জন করে। ৮১৩ থেকে ৮৩৩ সাল পর্যন্ত শাসন করেছিলেন আল-মামুন। মূল ভবনকে পরিবর্ধিত করে তিনি একটি অ্যাকাডেমি স্থাপন করেন, এর নামই হয় বাইতুল হিকমাহ। ৮২৯ সালে আল-মামুন এখানে একটি মানমন্দিরও বানিয়ে দেন।

সংগ্রহশালা বাড়াতেও নানা পদক্ষেপ নেন খলিফা। কিংবদন্তি আছে, সিসিলির রাজকীয় লাইব্রেরির পুরোটাই নিয়ে এসেছিলেন তিনি।

তৎকালীন বিশ্বে বিজ্ঞান আর গণিতের উঁচুমানের কিছু পাণ্ডুলিপি ছিল সেখানে। আল-মামুন মূলত সেগুলো কপি করতে চেয়েছিলেন। এই ব্যাপারে সিসিলিতে বার্তা পাঠান তিনি। রাজা তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলাপ করেন। তাদের মতামত ছিল গ্রন্থাগারের এসব বই তাদের পূর্বপুরুষদের কোনো উপকারে আসেনি, এগুলো দিয়ে দেয়াই ভালো। রাজা এরপর খলিফাকে সম্পূর্ণ লাইব্রেরিই দিয়ে দেন। বলা হয়, ৪০০ উট লেগেছিল সমস্ত বই নিয়ে আসতে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবদান : বাইতুল হিকমাহর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু দার্শনিক ও বিজ্ঞানীর কাহিনি। এদের অন্যতম মুসা আল-খাওয়ারিজমি। একাধারে গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে পারদর্শী এই ব্যক্তি বীজগণিতের জনক বলে অভিহিত। জাতে পারসিক আল-খাওয়ারিজমি ভূগোল, গণিত আর জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে রচনা করেছেন অনেক মূল্যবান পুস্তক। ৮২০ সালে তাকে লাইব্রেরির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বাইতুল হিকমাহর নিয়মিত দর্শনার্থীদের মধ্যে আরও ছিলেন বনু মুসা ভ্রাতৃত্রয়- মুহাম্মদ, আহমাদ এবং হাসান। গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞানসহ বিজ্ঞানের নানা শাখায় ছিল তাদের পদচারণা। যন্ত্র-প্রকৌশল বা মেকানিক্সের বিকাশে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বাইতুল হিকমাহর অন্যতম একটি কাজ ছিল বিজ্ঞানের বই গ্রিক, সংস্কৃত, ল্যাটিন ইত্যাদি ভাষা থেকে আরবিতে অনুবাদ করা। বলা হয়, এই কাজকে প্রণোদনা দিতে চমকপ্রদ কৌশল অবলম্বন করেছিলেন খলিফা আল-মামুন- অনূদিত বইয়ের ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণ দেওয়া হবে অনুবাদককে।

গ্রিক পণ্ডিতদের অনেক লেখা আরবিতে তর্জমা করা হয়েছিল। পিথাগোরাস, প্লাটো, অ্যারিস্টোটল, হিপোক্র্যাটস, গ্যালেন, সক্রেটিস, ইউক্লিড কেউ বাদ যাননি। আল-কিন্দি জড়িত ছিলেন অ্যারিস্টোটলের অনুবাদকর্মে, হুনায়ন ইবন ইশহাক করেছিলেন হিপোক্র্যাটসের ভাষান্তর। আরও অনেক প্রসিদ্ধ অনুবাদকের লেখা জমা ছিল বাইতুল হিকমাহতে। উলে¬খযোগ্য হলেন আল-বাতরিক, হাজ্জাজ ইবন মাতের, আল-বুলবাকি, ছাবিত ইবন-কুরাহ এবং আরও অনেকে।

সংস্কৃত থেকে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের বই অনুবাদে বাইতুল হিকমাহর অবদান অনেক। এর ফলেই আরব গণিতবিদেরা শূন্যের ধারণা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান। সংখ্যা বোঝাতে ভারতে আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করা হতো। এর উন্নয়ন ঘটিয়ে বর্তমান আরবি সংখ্যাপদ্ধতির প্রচলন হয়। এই বাইতুল হিকমাহতে বসেই আল জাহিজ নানারকম প্রাণীর বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে রচনা করেছিলেন বিখ্যাত দ্য বুক অব এনিমেলস। আল-মালিক নির্ণয় করেছিলেন এমন পরিমাপ- যা ব্যবহার করে পৃথিবীর পরিধি নির্ধারণ করেছিলেন ভবিষ্যৎ জ্যোতির্বিদরা।

বলা হয়, গ্রন্থাগারে পা রাখলে আরবি, ফারসি, হিব্রু, গ্রিক, ল্যাটিন হেন কোনো ভাষা নেই যা শোনা যেত না। লিঙ্গ, ধর্মবিশ্বাস, গায়ের রঙ, জাতপাত, ভাষা যাই হোক, কারও জন্যই বন্ধ ছিল না লাইব্রেরির দরজা। হুনায়ন ইবন ইশহাকের কথাই ধরা যাক। পেশায় চিকিৎসক হুনায়ন ছিলেন খ্রিষ্টান, কিন্তু সেজন্য লাইব্রেরির দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি তার সামনে।

বরং মেধাকে আরও বিকশিত করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। জ্ঞানের নানা শাখায় অবদান রেখেছেন হুনায়ন। পৃথিবীর ইতিহাস, যুক্তিবিদ্যা এসব নিয়েও কাজ আছে তার। গ্রীক ওল্ড টেস্টামেন্ট আরবিতে অনুবাদ করেছিলেন তিনি, দুঃখজনকভাবে সেটা হারিয়ে যায়।

ধ্বংস : আল-মামুনের মৃত্যুর পর থেকেই মূলত ধীরে ধীরে বাইতুল হিকমাহর অবক্ষয় শুরু হয়। পরবর্তী খলিফা আল-মুতাসিমের সময় আব্বাসীয়রা দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে সামারায় প্রশাসনিক অনেক কিছু সরিয়ে নেয়। এরপর থেকে সম্ভবত পরবর্তী খলিফারা লাইব্রেরি টিকিয়ে রাখলেও এর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেননি। তবে জ্ঞানপিপাসুদের কাছে এর আবেদন কমেনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে চলতে থাকে অনুবাদকর্ম।

বাইতুল হিকমাহ চূড়ান্তভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ত্রয়োদশ শতকে। ১২৫৮ সালে ঝড়ের মতো ইরাকে ঢুকে পড়ে দুর্র্ধর্ষ মোঙ্গল বাহিনী, বাগদাদ তছনছ করে দেয় তারা। নির্বিচার নরহত্যায় লাল হয়ে যায় টাইগ্রিসের পানি। এককালের জৌলুসময় বাগদাদকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় মোঙ্গলরা। এর সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বাইতুল হিকমাহ। জ্যোতির্বিদ আল-তুসি অবশ্য কিছু বই রক্ষা করতে সক্ষম হন। পরিস্থিতি বুঝে আগেই সেগুলো তিনি সরিয়ে ফেলেছিলেন ইরানের মারাঘেহ মানমন্দিরের লাইব্রেরিতে।

প্রভাব : বাইতুল হিকমাহর প্রকৃত প্রভাব নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে। অনেকেই মনে করেন, যেসব অনুবাদের সঙ্গে এর নাম জড়ানো হয়, তার অনেকগুলোর পেছনে বাইতুল হিকমাহর কোনো ভূমিকা ছিল না। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এর প্রভাবে লাইব্রেরি গড়ে তোলার চর্চা শুরু হয় চারদিকে। অনেক ধনবান ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করেন স্থানীয় পাঠাগার।

অন্যান্য রাষ্ট্রও বাগদাদের আদলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা আরম্ভ করে। ইসলামিক বিশ্বের নামজাদা বিজ্ঞানীদের আকৃষ্ট করতে তৈরি করা হয় বিশাল বিশাল লাইব্রেরি।

কর্ডোবাতে দশম শতকে দ্বিতীয় আল-হাকাম তেমনই একটি লাইব্রেরি স্থাপন করেন। এই পথ ধরে দ্বাদশ শতকে আন্দালুসিয়ার টলেডো পরিণত হয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম পীঠস্থানে। সব ধর্ম-বর্ণের পণ্ডিতরা ভিড় জমান এখানে। আরবি থেকে অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হতে থাকে নানা গ্রন্থ।

১০০৫ সালে কায়রোতে ফাতিমীয় খলিফা আল-হাকিম প্রতিষ্ঠা করেন দারুল হিকমাহ। প্রায় ১৬৫ বছর বাইতুল হিকমাহর পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে এর নাম। অন্যান্য মুসলিম দেশেও একইভাবে জ্ঞানের ঘর বা দারুল ইলম তৈরি করেন শাসকরা।

এফবিসিসিআই’র সাথে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি (এসইইউ) এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট (বুধবার) ঢাকার মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. বিকর্ণ কুমার ঘোষ এবং এসইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম।

চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো উদ্যোক্তা সৃষ্টি, উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো। এর ফলে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাউথইস্ট ইউনিভার্সয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক ড. ফারহানা ফেরদৌসী, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রুবা রুম্মানা, বিসিপিআর এর উপ-পরিচালক মো. আবুল হাশেম রনি এবং বিবিএ প্রোগ্রামের প্রভাষক সৈয়দা খাদিজা আক্তার।

সোনার দামে আবারও বড় লাফ

দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হলো সোনার দাম। এবার প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের তথা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৮ টাকায়।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই দর মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৮ টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৭ হাজার ৭৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৪৩ হাজার ৮২৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ১৯ হাজার ৪২ টাকা ।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল সোনার দাম। এরপর গত শনিবার (৩০ আগস্ট) ভরিতে ১ হাজার ৬৬৭ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৮ টাকা।

বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এনসিপির ফুলেল শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে।

এ সময় দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীবসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে ফুল গ্রহণ করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর আগে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করি।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুরে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চাঁদপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় সামনে থেকে সমাবেশ শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্ল্যাহ সেলিম এর নেতৃত্বে একটি র‌্যালি বের হয়।

র‌্যালিটি শহরের জোড় পুকুরপাড়, বায়তুল আমিন চত্বর, চিত্রলেখা মোড়, হাজী মহসীন রোড, ছায়াবানী রোড, নতুন বাজার হয়ে পুনরায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। সাংগঠনিক সম্পাদক মুনীর চৌধুরী ও যুগ্ম সম্পাদক আক্তার হোসেন মাঝির যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সেলিম উল্ল্যাহ সেলিম, সহ-সভাপতি দেওয়ান শফিকুজ্জামান, খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিমুস সালাম, অ্যাড. জহির উদ্দিন বাবর, অ্যাড. হারুনুর রশিদ, শাহজালাল মিশন, আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক হযরত আলী ঢালী।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ হান্নান, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বাবুল, হুমায়ুন কবির প্রধান, ডি এম শাহজাহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুনিরা বেগম চৌধুরী, তানভির হুদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, এডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টুসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা আমাদের শত্রু এখনো চিহ্নিত করতে পারিনি। এই বাংলার মাটিতে পিআর পদ্ধতি চলবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতেই হবে। এর যদি কোনো ব্যত্যয় হয় তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ চাঁদপুরের রাজপথ জামাত ও এনসিপির নয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দখলে থাকবে। বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও চাঁদপুরের প্রায় ৩০টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।

ইসরায়েলজুড়ে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর হাতে আটক ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তির দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করেন।

স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে অংশ নেন বন্দিদের পরিবারের সদস্যসহ সাধারণ মানুষ।

তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হোস্টেজেস স্কয়ারে সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়। দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, শুধু তেল আবিব নয়, হাইফাসহ আরও কয়েকটি শহরে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দি বিনিময় চুক্তি বাধাগ্রস্ত করছে, যার ফলে প্রিয়জনদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তেল আবিবে সেনা সদরদপ্তরের বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি বন্দি মাতান জাঙ্গাউকারের মা, আইনাভ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, যদি মাতানকে লাশের ব্যাগে ফিরতে হয়, তবে এর দায় শুধু আমার আর মাতানের নয়, আপনাকেও (নেতানিয়াহু) এর দায় নিতে হবে।

আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: প্রাণহানি ৮০০ ছাড়ালো, আহত ২৫০০

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে রোববার রাতে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৮০০ জনে। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত আড়াই হাজার মানুষ।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে তাদের পুরো গ্রামটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। বৃদ্ধরাও চাপা পড়ে আছেন। তরুণরাও চাপা পড়ে আছে।”

আবেগ ধরে রাখতে না পেরে তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখানে সাহায্য প্রয়োজন। কেউ আসুক, আমাদের সঙ্গে যোগ দিক। আমরা যারা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে, তাদের টেনে বের করতে চাই। কিন্তু এখানে কেউ নেই—মৃতদেহগুলো সরানোর মতোও কেউ নেই।”

দুর্গমতা ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনো নিরূপণ করা কঠিন, জানিয়েছেন ওয়ার্ল্ড ভিশন আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচালক থামিন্ড্রি ডি সিলভা।

আল জাজিরাকে কাবুল থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মাজার উপত্যকা অঞ্চলটি মনে হচ্ছে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল, এবং সেখানে একটি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।”

তিনি আরও জানান, “এটি আফগানিস্তানের অন্যতম দুর্গম এবং দরিদ্র একটি অঞ্চল। এখানে অবকাঠামো নেই বললেই চলে, রাস্তা প্রায় নেই, নেই কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা স্কুল।”

ডি সিলভা বলেন, “এই অঞ্চলের ঘরবাড়িগুলো মূলত কাঁচা মাটি দিয়ে তৈরি, কোনো সুরক্ষা বা শক্তিশালী নির্মাণ নেই। এমন ভঙ্গুর অবকাঠামোয় ভূমিকম্পে ভবনগুলো খুব সহজেই ভেঙে পড়ে। ফলে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যেতে পারে।”

তিনি সতর্ক করে যোগ করেন, “এই পরিস্থিতিতে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়।”

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের কার্যালয় এক পোস্টে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে তাদের দলগুলো জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বার্তায় বলা হয়, “আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে শত শত প্রাণহানি ও বহু মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘ গভীরভাবে শোকাহত।”

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এক বার্তায় বলেছেন, “আজকের ভয়াবহ ভূমিকম্পে আক্রান্ত আফগান জনগণের সঙ্গে আমি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।” তিনি আরও বলেন, “নিহতদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

কার্টা ব্লু’ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল ইতালি

ইতালির ‘কার্টা ব্লু’ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে দেশটির দূতাবাস। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকাস্থ ইতালির দূতাবাস।

এতে বলা হয়, গত কয়েক মাসে দূতাবাস অসংখ্য ওয়ার্ক ভিসার আবেদন পেয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে ‘নুল্লা ওস্তা’ কোড এল/এন সংযুক্ত ছিল। এই নির্দিষ্ট নুল্লা ওস্তা ইতালির অভিবাসন আইনের ধারা ২৭-এর ওপর ভিত্তি করে, যা বার্ষিক ফলো ডিক্রি দ্বারা নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত হিসেবে উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীদের (যা ‘কার্টা ব্লু’ নামে পরিচিত) ইতালিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

দূতাবাস জনসাধারণের উদ্দেশ্যে জানাতে চায় যে, এই বিশেষ ধরনের ভিসা শুধুমাত্র উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত, যাদের উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়। একটি বৈধ নুল্লা ওস্তা কোড এল/এন থাকা মানেই এই ধরনের ভিসা পাওয়া যাবে তার নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ এর প্রাপ্যতা প্রমাণ করতে যথাযথ যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক।

বাংলাদেশ থেকে এ ধরনের ভিসার আবেদনকারীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত খুব কমসংখ্যকই সফল হয়েছেন। অধিকাংশ আবেদনকারী ওই ভিসার জন্য যথাযথযোগ্য প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের সময় ও অর্থ অপচয় হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা জনসাধারণকে সতর্ক করতে চাই, যেন তারা দালাল বা অবৈধ এজেন্টদের ফাঁদে না পড়েন, যারা ‘নুল্লা ওস্তা কোড এল/এন কার্টা ব্লু’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এ সংক্রান্ত নথি সরবরাহ করে থাকে। এগুলো দিয়ে ইতালিতে প্রবেশ করা সম্ভব নয়, যদি না আবেদনকারীর উপযুক্ত বা যথাযথ কাজের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা থাকে এবং চাকরিটি স্পষ্টভাবে উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।