গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান তারেক রহমানের
ভেঙে দেওয়া হলো নেপালের সংসদ, নতুন নির্বাচন মার্চে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদ ভেঙে দিয়েছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট। এছাড়া আগামী বছরের মার্চে নতুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নেপালের প্রেসিডেন্টের প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখরেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি বলেছেন, গতকাল শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশক্রমে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্বাচনের তারিখ হলো ২০২৬ সালের ৫ মার্চ।
গতকাল রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তার নেতৃত্বে ছোট মন্ত্রিসভার একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এটির মেয়াদ থাকবে ৬ মাস। এই সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন নির্বাচন আয়োজনের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়।
গতকাল স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে শপথ নেন সুশীলা। এরআগে নেপালের জেন-জির বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি, প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল এবং সেনাবাহিনীর প্রধান অশোক রাজ সিগদেলের মধ্যে আলোচনা হয়। এরপর সুশীলাকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সবাই একমত হয়। এরমাধ্যমে তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে আন্দোলনে নামে নেপালের জেন-জিরা। এরমধ্যে গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপর ক্ষোভে ফেনে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।
মঙ্গলবার তাদের আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়েন কেপি শর্মা অলি। এরপর তিনি গা ঢাকা দেন। ওইদিন বিক্ষোভকারীরা সাবেক দুজন প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালান। এরমধ্যে অর্থমন্ত্রীকে রাস্তায় পেটানোর ঘটনাও ঘটে।
সুশীলা কার্কি ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত নেপালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হন। বিচারক থাকাকালীন তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এ কারণে জেন-জির কাছে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।
তিনি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। একবার ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুশীলা বলেছিলেন, ভারত নেপালকে অনেক সহায়তা করেছে।
লন্ডনে মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা
লন্ডনে একটি সেমিনার থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। তবে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের গাড়িতে নয়, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুটি খালি গাড়িতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ডিম নিক্ষেপ করেছে।
হাইকমিশন জানায়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম শুক্রবার লন্ডনে দুটো অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপদেষ্টার প্রথম অনুষ্ঠানটি ছিল বিকেল চারটায় ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর স্কুল অব আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ এ।
বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে স্কুল অব আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন যৌথভাবে আয়োজন করে। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় আওয়ামী লীগের ১৮ জন কর্মী সোয়াসের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। অনুষ্ঠানে আসার সময় উপদেষ্টার গাড়ির কোনো সমস্যা হয়নি। সোয়াস অনুরোধে আগে থেকেই পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল।
উপদেষ্টা এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশের পর পার্কিং এরিয়াতে থাকা অপেক্ষমাণ গাড়ির ওপর ডিম নিক্ষেপ করে দুষ্কৃতকারীরা। অনুষ্ঠান শেষে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তারা একাধিক গাড়িতে করে সোয়াস ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পরে সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুটি খালি গাড়ি বের হওয়ার সময় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী রাস্তায় শুয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং আরও কয়েকজন দুষ্কৃতকারী খালি গাড়ি দুটোতে ডিম নিক্ষেপ করে।
যারা রাস্তায় শুয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, ছাত্র এবং সাংবাদিকরা যোগ দিয়েছিলেন। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্বক্ষণিক বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে আশ্বাস দিয়েছে।
ফরিদা পারভীনের শেষ শ্রদ্ধা শহীদ মিনারে, দাফন কুষ্টিয়ায়
বরেণ্য লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনের মরদেহ আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এক ঘণ্টা সেখানে তার মরদেহ রাখা হবে।
ফরিদা পারভীনের পরিবারের সদস্যরা জানান, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বাবা-মায়ের কবরের পাশে কিংবদন্তি এই শিল্পীকে দাফন করা হবে।
এদিকে, বরেণ্য এই সংগীত শিল্পীর মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শোক জানিয়েছেন। এছাড়া সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক জানান।
প্রসঙ্গত, শিল্পী ফরিদা পারভীন গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। কিডনি বিকল হওয়ায় সপ্তাহে দুই দিন তাকে ডায়ালাইসিস করাতে হতো। গত ২ সেপ্টেম্বর ডায়ালাইসিসের জন্য তাকে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডায়ালাইসিসের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সবশেষ গত বুধবার তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না-ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে ১৪ বছর বয়সে তার পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। এরপর গানে গানে তিনি কাটিয়েছেন ৫৫ বছর। ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ কিংবা ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’-এর মতো লালন সাঁইয়ের জনপ্রিয় গান তার কণ্ঠে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। শ্রোতারা তাকে ‘লালনকন্যা’ উপাধি দিয়েছিল।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে মাহমুদুর রহমান
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ট্রাইব্যুনালে আসেন তিনি।
এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেবেন তিনি। এছাড়া আলোচিত এ মামলায় মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সাক্ষ্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
প্রসিকিউশন বলছে, এ মামলায় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল মাহমুদুর রহমান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘নায়ক’ নাহিদ ইসলামের। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তারা গতদিনে আসতে না পারায় ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় চাওয়া হয়। পরে আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ১৪তম দিনের মতো এ মামলায় ৬ জন সাক্ষ্য দেন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল মোট ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর বীভৎস বর্ণনা উঠে এসেছে। এ হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী করে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শহিদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা।
এছাড়াও আলোচিত এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তার জেরা শেষ হয় ৪ সেপ্টেম্বর। মামলার তদন্তে তিনি জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে জুলাই-আগস্টে গণহত্যা চালানো হয়েছে এবং ক্ষমা চেয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে অজানা অনেক তথ্যও উন্মোচন করেন।
গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। মামলায় পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন। এছাড়া, ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
হাসিনা পতনের পর ১০ বিলিয়ন থেকে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন
ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন ২২১ কোটি টাকা
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই সব মূল সূচকের দর বেড়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত এক্সচেঞ্জে ২২১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইএক্স ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৫৪৮ পয়েন্টে, শরীয়াহ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১,২০৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২,১৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রথম ঘণ্টায় লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৯টির শেয়ার দর বেড়েছে, ৮৫টির কমেছে, আর ৮৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে শাইনপুকুর সিরামিক লিমিটেডের শেয়ারে, যার বাজার মূল্য এই সময়ে ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথম ঘণ্টায় শীর্ষে ছিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড।
এই উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে, যা বাজারে ক্রমবর্ধমান আকর্ষণ দেখাচ্ছে।
পশুত্ব বর্জন ও মনুষ্যত্ব অর্জনই হোক অঙ্গীকার : তারেক রহমান
ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিবের শোক
বাংলাদেশের প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘দেশের বরেণ্য লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনের প্রয়াণে সংগীত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালনগীতি ও বাউল সঙ্গীতের মাধ্যমে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। তার কণ্ঠে গাওয়া গানগুলো চিরকাল সংগীতপ্রিয় মানুষের হৃদয়ে স্থান করে রাখবে।’
ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, ফরিদা পারভীন শুধু লালনগীতিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং নানামাত্রিক গানের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। তাঁর চলে যাওয়া লোকসংগীত ও সংস্কৃতির জগতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
তিনি ফরিদা পারভীনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
ফরিদা পারভীন শনিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
লন্ডনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার গাড়িতে হামলার ঘটনায় সরকারের নিন্দা
হামলার সময় মাহফুজ আলম গাড়িতে ছিলেন না। বাংলাদেশ হাই কমিশন জানায়, পুলিশ তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছিল এবং উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ‘পূর্ণ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করেছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে নিউইয়র্কে সরকারি কাজে থাকাকালীন মাহফুজ আলমের ওপর হামলার পর এবার লন্ডনেও এ ঘটনা ঘটল। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের একটি অনুষ্ঠানে বিক্ষোভকারীরা ডিম (এবং কয়েকজনের বর্ণনা অনুযায়ী বোতল) ছুড়ে মারে ও কাচের দরজা ভেঙে দেয়; পরবর্তীতে মিশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে স্টেট ডিপার্টমেন্টের স্থানীয় অফিসও রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রকাশ্যে এই হয়রানি চেষ্টার নিন্দা জানিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
বাংলাদেশের জনগণ এবং দুই দেশের কর্তৃপক্ষ সভ্যতা ও মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান করলেও এই ধরনের হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত দুর্বৃত্তরা বর্বরতা ও সহিংসতার জগতে বাস করছে। গণতন্ত্রে এমন কোনো আচরণের স্থান নেই যেখানে যুক্তির বদলে আক্রমণ এবং তর্ক-বিতর্কের পরিবর্তে সন্ত্রাসকে বেছে নেওয়া হয়।
নিউ ইয়র্কে হামলার পরেও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, সহিংসতা কোনো প্রতিবাদ নয়; ভয় দেখানো কোনো মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়। একই বক্তব্য লন্ডনের ঘটনায়ও পুরোপুরি প্রযোজ্য।
নিউ ইয়র্কের ঘটনার পর আমরা যে নীতিতে জোর দিয়েছিলাম এবারও তা পুনর্ব্যক্ত করছি: বাকস্বাধীনতা, সমাবেশ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের ভিত্তি, তবে তা অবশ্যই দায়িত্ব ও শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে।
কনস্যুলার যানবাহনকে টার্গেট করা এবং চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, এ আচরণ দুই দেশের মাঝে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষায় প্রচলিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকেও লঙ্ঘন করে। আমরা মেট্রোপলিটন পুলিশের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের আহ্বান জানাই।
যারা এই আচরণ সংগঠিত করেছে বা প্ররোচিত করেছে তাদের উদ্দেশ্যে আমরা বলতে চাই: শিশুসুলভ আচরণ থেকে বিরত থাকুন। যদি আপনারা সত্যিই আপনাদের নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাহলে তা শান্তিপূর্ণভাবে, আইনগতভাবে এবং মর্যাদার সঙ্গে উপস্থাপন করুন। ডিম ছোড়া, মারামারি করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন কারো মন জয় করে না; বরং এতে শুধু প্রমাণ হয় যে আপনাদের আর কোনো যুক্তি অবশিষ্ট নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আয়োজকগণ এবং প্রবাসীদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই, সভ্য সংলাপের পক্ষে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করুন। কঠিন আলোচনার আয়োজন করুন, কিন্তু এমন আচরণ বজায় রাখুন যা বক্তা, শ্রোতা এবং বৈধ প্রতিবাদকারী উভয়কেই সুরক্ষিত রাখে।
সরকার এ ঘটনায়-
১. মেট্রোপলিটন পুলিশকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছে, যেসব ভিডিও ফুটেজ দেখা যাচ্ছে সেগুলো যাচাই করে অপরাধীদের (ভাঙচুর, হামলা, বাধাদানকারী ব্যক্তি) সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনুন।
২. রাজনৈতিক নেতা এবং সংগঠকদের আহ্বান জানাচ্ছে, রাজনৈতিক সমর্থন যাই হোক না কেন, আপনারা জনসাধারণের মধ্যে সহিংসতা এবং ভয় দেখানোর ঘটনা প্রকাশ্যে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করুন।
৩. সরকার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। একইসঙ্গে কর্মকর্তাদের, শিক্ষার্থীদের ও নাগরিকদের নির্ভয়ে মত প্রকাশ ও সমাবেশ করার সমান অধিকারকেও সমর্থন করে।
গণতন্ত্রে আবেগের প্রয়োজন আছে; তবে আত্মনিয়ন্ত্রণও সমানভাবে প্রয়োজন। বাংলাদেশকে আমরা একটি এমন গণতন্ত্রে রূপান্তরিত করতে চাই যেখানে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা সমানভাবে রক্ষা পায়। সেই লক্ষ্যে আবেগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ দুটোই প্রয়োজন।


