Home Blog Page 328

প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের অনন্য কীর্তি

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বহুদিন ধরেই বিশ্ব ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। এবার সিপিএলে নাম লিখলেন এক অনন্য মাইলফলকে। ব্যাট হাতে ৭ হাজার রানের পাশাপাশি বল হাতে ৫০০ উইকেট— দুই মাইলফলক একসঙ্গে স্পর্শ করা প্রথম ক্রিকেটার এখন সাকিব।

রোববার (২৪ আগস্ট) সিপিএলে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারমুডা ফ্যালকনসের হয়ে খেলতে নামেন সাকিব। প্রতিপক্ষ সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস। ম্যাচের ১৫তম ওভারে বল হাতে এসে পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে আউট করেই স্পর্শ করেন ৫০০ উইকেটের অসাধারণ রেকর্ড।

এরপর থেমে থাকেননি সাকিব। ১৭তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে। কাইল মেয়ার্স ও নাভিন বিদাইসীকে ফিরিয়ে নেন পরপর, সেই সঙ্গে ওভারটি শেষ করেন মাত্র ২ রান খরচ করে।

মোট দুই ওভারে ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। তার এই দারুণ স্পেলের কল্যাণে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১৩৩ রান। অ্যান্টিগার সেরা বোলার ছিলেন নিঃসন্দেহে সাকিব আল হাসান। তার সঙ্গে সালমান ইরশাদ, জেডন সিলস ও শামার স্প্রিঙ্গার নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

টি-টোয়েন্টিতে কেবল উইকেটের হিসাবে দেখলেও, বিশ্বের মাত্র পঞ্চম বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেট পেলেন সাকিব। তবে ব্যাটে ৭ হাজার রান ও বলে ৫০০ উইকেট— এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন বাংলাদেশের এই তারকা অলরাউন্ডার।

সিপিএলে ইতিহাস গড়ে ফ্যালকনসকে জেতালেন সাকিব

সিপিএলে সাকিব আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। সাকিব আল হাসানের রেকর্ডবুক লেখা বোলিং ও ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস।

প্রথমবারের মতো কোনো বাঁহাতি বোলার এবং মোটের ওপর মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৫০০ উইকেট স্পর্শ করলেন সাকিব। ইনিংসের ১৫তম ওভারে পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে পৌঁছে যান মাইলফলকে। পরে ১৭তম ওভারে ফিরিয়ে দেন কাইল মেয়ার্স ও নাভিন বিদাইসীকে। দুই ওভার বল করে মাত্র ১১ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৩ রান তোলে প্যাট্রিয়টস। সাকিবের সঙ্গে উইকেট ভাগ করে নেন জেডন সিলস, সালমান ইরশাদ ও শামার স্প্রিঙ্গার।

জবাবে ব্যাট হাতে নেমে জয় নিশ্চিত করেন ফ্যালকনস ব্যাটাররা। কারিমা গোর খেলেন ৫২ রানের শান্ত ইনিংস, আর সাকিব ১৮ বলে ২৫ রান করে দলের রানের গতি বাড়ান। তার ইনিংসে ছিল এক চার ও দুই ছক্কার মার।

১৯.৪ ওভারেই ১৩৭ রান তুলে ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় ফ্যালকনস। ওপেনার জুয়েল অ্যান্ড্রু (২৮) ও রহকিম কর্নওয়াল (১৬) দলের জন্য কার্যকর অবদান রাখেন।

ব্যাট হাতে ৭ হাজারের বেশি রান ও বল হাতে ৫০০ উইকেট— ক্রিকেট ইতিহাসে এই কীর্তি একমাত্র সাকিব আল হাসানের। সিপিএলের এই ম্যাচ প্রমাণ করল, বয়স বাড়লেও তিনি এখনও বিশ্ব ক্রিকেটে ম্যাচ ঘোরানোর অন্যতম ভরসার নাম।

ইয়েমেনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় ইসরায়েল

ইয়েমেনের সাম্প্রতিক হামলাগুলো নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় পড়েছে ইসরায়েল। ইহুদিবাদী ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুথিদের সর্বশেষ হামলা তেল আবিবের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে। হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি গিয়ে আঘাত হেনেছে তেল আবিবের কাছে। ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা আটকাতে পারেনি।

এরপরেই ইয়েমেনকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে ইসরায়েল। শনিবার (২৪ আগস্ট) ইয়েনেট নিউজের খবরে বলা হয়েছে, হুথিরা নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে কি না তা নিয়ে তদন্ত শুরু করছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন ক্ষেপণাস্ত্রটিতে ক্লাস্টার মিউনিশন ছিল কি না। প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রটি ভেঙে একাধিক খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। এরপর তা একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। তবে এটি সত্যিই ইয়েমেনের বাহিনীর নিক্ষিপ্ত অস্ত্র কি না, তা এখনো যাচাই করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

ইয়েমেনি সেনারা শুক্রবার ঘোষণা করে, তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শহরের একটি সামরিক স্থাপনা এবং দক্ষিণে আশকেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু। তারা ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম দিয়েছে ‘প্যালেস্টাইন-২’, যা হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে পরিচিত।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইয়েমেনের সেনারা নিয়মিতভাবে সংহতিমূলক আক্রমণ চালিয়ে আসছে। তারা শুধু আকাশপথে নয়, নৌপথেও অবরোধ জারি করেছে—যেখানে ইসরায়েলগামী জাহাজ ও অন্যান্য নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।

এর আগে আগস্টের শুরুতে ইয়েমেনি বাহিনী সফলভাবে পরীক্ষা চালায় ‘সায়্যাদ’ নামের একটি নৌ ক্রুজ মিসাইলের। দীর্ঘপাল্লার এ অস্ত্রটি রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং এর বিধ্বংসী ওয়ারহেড রয়েছে।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, যতদিন ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ ও প্রায় পূর্ণ অবরোধ চালিয়ে যাবে, ততদিন তারা এই পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখবে।

ফিলিস্তিনিদের ৩০০০ জলপাই গাছ উপড়ে ফেলল ইসরায়েলি বাহিনী

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবারও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। রামাল্লার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আল-মুগাইয়ির গ্রামে প্রায় ৩ হাজার জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তত ৩০টিরও বেশি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সম্পদ ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে সেনারা। ঘটনার পর থেকে পুরো গ্রামটিকে লকডাউনে রাখা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

গ্রাম পরিষদের প্রধান জানান, প্রায় চার হাজার মানুষের বসবাস এই গ্রামে। মাত্র ০.২৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, ওই জলপাই গাছগুলো পাশের অবৈধ বসতি এলাকায় যাতায়াতকারী প্রধান সড়কের জন্য ‘নিরাপত্তা হুমকি’ তৈরি করছিল।

কিন্তু ফিলিস্তিনিদের কাছে জলপাই গাছ শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়—এটি তাদের সংস্কৃতি, শেকড় এবং অস্তিত্বের প্রতীক। কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলি সেনারা অধিকৃত ভূখণ্ডে এ ধরনের গাছ ধ্বংস করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনি কৃষিজমি দখল ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও দখলদার সেনাদের দমননীতি ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে বহুগুণে। এ সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর থেকে জোর করে উচ্ছেদ হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৩৭০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৮৫টি হামলা হয়েছে রামাল্লা এলাকায় এবং ৪৭৯টি হামলা হয়েছে উত্তর-পশ্চিম তীরের নাবলুস অঞ্চলে।

ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ৬৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৯ জন শিশু।

আল মুগাইয়েরে জলপাই গাছ ধ্বংসের বিষয়ে আল জাজিরা মন্তব্য চাইলে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো সাড়া দেয়নি। তবে ফিলিস্তিনি গবেষক হামজা জুবাইদাত বলেন, ‘এই ধ্বংসযজ্ঞ ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই অংশ। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল একই কৌশল অনুসরণ করছে। এখন যা ঘটছে, তা ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই অব্যাহত ধাপ।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আল মুগাইয়ির একটি কৃষিপ্রধান গ্রাম। এখানকার মানুষ জীবিকার জন্য কৃষি ও পশুপালনের ওপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল। যে জমি থেকে ৩ হাজারেরও বেশি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, সেটি রামাল্লা অঞ্চলের সবচেয়ে উর্বর কৃষিজমিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে সপ্তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সপ্তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ।

রোববার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, ২০ আগস্ট ষষ্ঠ দিনের সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়। ওই দিন দু’জন চিকিৎসকসহ চারজন সাক্ষী নিজেদের জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, একই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ পারভীন, ইবনে সিনা হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসানুল বান্না ও শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের মা সোনিয়া জামাল। ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

গত ১৮ আগস্ট পঞ্চম দিনের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ আস-সাবুরের বাবা মো. এনাব নাজেজ জাকি, শহীদ ইমাম হাসান তাইমের ভাই রবিউল আউয়াল ও রাজশাহীর প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিন। তাদেরকে জেরা করেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনও আসামি হিসেবে রয়েছেন। তবে নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন তিনি।

গত ১৭ আগস্ট চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন- সবজি বিক্রেতা আবদুস সামাদ, মিজান মিয়া, শিক্ষার্থী নাঈম শিকদার ও শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহীনা বেগম। ৬ আগস্ট প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেন রিনা মুর্মু ও সাংবাদিক একেএম মঈনুল হক। ৪ আগস্ট জবানবন্দি দেন পঙ্গু হওয়া শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ইমরান ও দিনমজুর চোখ হারানো পারভীন। ৩ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার সূচনা বক্তব্যের পর প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আন্দোলনে আহত খোকন চন্দ্র বর্মণ।

এর আগে, ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার রয়েছে। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এই অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেপ্তার

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। রোববার (২৪ আগস্ট) বরিশাল মহানগরের বাংলাবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি হিসেবে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে একই মামলায় তৌহিদ আফ্রিদির বাবা ও মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৭ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মামলায় মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দ্বিতীয় আসামি সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তৃতীয় আসামি পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল–মামুন। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পান তৌহিদ আফ্রিদি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্লগ ও ভ্রমণকেন্দ্রিক কনটেন্টের জন্য তার বড় অনুসারী গড়ে ওঠে।

রোহিত-কোহলির নামই মুছে দিল আইসিসি!

আচমকা বড়সড় বিভ্রাট দেখা গেল আইসিসি’র এক দিনের ক্রিকেট র‌্যাঙ্কিংয়ে। বুধবার হঠাৎ করেই তালিকা থেকে বাদ পড়েন ভারতের দুই তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা।
গত সপ্তাহের তালিকায় রোহিত ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। তার পয়েন্ট ছিল ৭৫৬। কোহলি ছিলেন চতুর্থ স্থানে ৭৩৬ পয়েন্ট নিয়ে। কিন্তু বুধবার প্রকাশিত তালিকায় দু’জনের নামই ছিল না। সেই র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতের শুভমন গিল ৭৮৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে ছিলেন। প্রথম দশে ছিলেন শ্রেয়স আয়ারও, ৭০৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ স্থানে। রোহিতের নাম না থাকায় পাকিস্তানের বাবর আজম তিন থেকে উঠে গিয়েছিলেন দুই নম্বরে। পরে রোহিত ফেরায় আবার তিনি তিনে নেমে আসেন।
এক দিনের ক্রিকেটের দল, ব্যাটিং, বোলিং ও অলরাউন্ডার— সব ধরনের র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছিল এ দিন। দেখা যায়, চার বিভাগের র‌্যাঙ্কিং শেষ বার আপডেট করা হয়েছিল ১৯ আগস্ট। কিন্তু ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ে দেখানো হয়েছে ১০ আগস্টের তারিখ। কেন এমন হলো তা নিয়েও কিছু বলেনি আইসিসি।
আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্রিকেটার যদি গত ৯-১২ মাস এক দিনের ম্যাচ বা টি-টোয়েন্টি না খেলেন, তবে তার নাম র‌্যাঙ্কিং থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। টেস্টে এই সময়সীমা ১২-১৫ মাস। আবার কোনো ক্রিকেটার যদি অবসর নেন, তবে সেই ফরম্যাটে তার নাম রাখা হয় না।
কিন্তু কোহলি ও রোহিতের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তারা দু’জনেই খেলেছেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে, যা হয়েছিল ৯ মার্চ। এরপর ভারত আর কোনো এক দিনের ম্যাচ খেলেনি। ফলে পাঁচ মাস তারা মাঠের বাইরে থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী তাদের নাম বাদ দেওয়ার কোনো কারণ ছিল না।
তবে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় দ্রুতই। এরপরই আইসিসি আবার তাদের দুজনের নাম ফিরিয়ে আনে এই তালিকায়।

আমার হাসিতে মানুষ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতো: রাজ রীপা

নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মংলা (বাগেরহাট) থেকে ঢাকায় এসেছিলেন রাজ রিপা। এর পর জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘দহন’ ছবিতে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। পরে ‘মুক্তি’ নামে আরেক ছবির লিড রোল করেন। সেই ছবি মুক্তির আগে রাজ রিপার ‘ময়না’ নামে আরেক ছবি মুক্তি পায়।
চলচ্চিত্রে কাজের চেয়ে ভিন্নভাবে বেশি আলোচনায় আসেন এই উঠতি অভিনেত্রী।
২০২৩ সালে সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে তুমুল আলোচনায় আসেন। সে সময় মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন। আপাতত নতুন কোনো চলচ্চিত্রের খবর নেই।
সম্প্রতি এই অভিনেত্রী ফেসবুকে জানিয়েছেন একসময় তাঁর হাসিতে অনেকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতো, প্রেমে পড়ে যেত তাঁর মুখের কথার। এক পোস্টে বলেন, আমরা যত বড় হচ্ছি তত সরলতা হারিয়ে ফেলছি। হঠাৎ করে ভাবলাম, ছোটবেলায় আমার হাসিতে মানুষ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতো আর মুহূর্তে কথার প্রেমে পড়ে যেত। কি সরল হাসি টাইনা ছিল।
আর এখন হাসি দিলে মানুষ ভয় পায় ও কথা শুনলে দৌড় দেয়, কিন্ত কারণটা কী?
প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন কার উদ্দেশ্যে সেটা জানা যায়নি। বর্তমান প্রজন্মের নায়িকা রাজ রিপা। তিনি নাকি জাতীয় ব্যাডমিন্টন দলের সদস্য ছিলেন তিনি। খুলনা বিভাগে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিলেন নাকি। তবে ব্যাডমিন্টনকে বিদায় জানিয়ে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়তে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উঠতি অভিনেত্রী।

বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন থালাপতি বিজয়

তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এক মহাসমাবেশে নিজের দলের শক্তি প্রদর্শন করেছেন তামিলাগা ভেত্রি কাজগাম (টিভিকে) প্রধান এবং অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়।
এদিন সমাবেশে সরাসরি ঘোষণায়, বিজয় তার দলের একমাত্র আদর্শগত শত্রু বলে বিজেপিকে চিহ্নিত করেছেন। একইসঙ্গে ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে ও বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি।
সমাবেশে হাজারো সমর্থকের সামনে বিজয় বলেন, ‌‘আমাদের একমাত্র আদর্শগত শত্রু হচ্ছে বিজেপি। আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে। তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম কোনো মাফিয়া গোষ্ঠী নয় বরং এটা এমন একটি শক্তি, যারা কোনো দলে ভয় পায় না। আজ আমরা ফ্যাসিবাদী বিজেপি ও বিষাক্ত ডিএমকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি।’
বিজয়ের ভাষায়, এই লড়াই শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার নয়, আদর্শেরও। তিনি বলেন, ‘তামিলরা কখনোই বিজেপির পাশে থাকবে না। যেমন পদ্মপাতায় জল স্থায়ী হয় না, তেমনি তামিলদের সম্পর্কও বিজেপির সঙ্গে টিকবে না।’
অভিনেতা আরও বলেন, সিংহ জানে কিভাবে ভিড়ের মধ্যে আবার কিভাবে একা থাকতে হয়। সে কখনো ভয় পায় না। সিংহ কেবল শিকারের জন্যই বেরোয়, বিনোদনের জন্য নয়। আর সিংহ কখনও মৃত শিকার খায় না।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন— “এনইইটি বাতিল করুন! পারবেন কি, নরেন্দ্র মোদি? আপনার একগুঁয়েমির কারণে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা ভুগছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয় বর্তমানে তামিল রাজনীতিতে একটি তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। ক্ষমতাসীন ডিএমকে ও বিরোধী এআইএডিএমকে-র বাইরে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে নিজেকে এবং তার দলকে তুলে ধরতে চাইছেন তিনি।
২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন থালাপতি বিজয়। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে তার প্রথম বড় নির্বাচন। মাদুরাইয়ের সম্মেলন ছিল সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সবচেয়ে বড় শোডাউনগুলোর একটি।
বিজয় এ নির্বাচনী লড়াইকে তুলনা করেছেন তামিল রাজনীতির দুই ঐতিহাসিক বছর ১৯৬৭ ও ১৯৭৭-এর সঙ্গে।তিনি বলেন— “২০২৬ সালেও ঘটবে ১৯৬৭ আর ১৯৭৭-এর মতো এক রাজনৈতিক জাদু। নতুন শক্তি উঠে আসবে।”

জামিন পেলেন ইমরান খান

সামরিক বাহিনীর অবকাঠামোতে হামলার মামলায় জামিন পেয়েছেন কারারুদ্ধ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ২০২৩ সালের মে মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালান ইমরানের বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এসব মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। লাহোর হাইকোর্ট জামিন না দেওয়ার পর হাইকোর্টের দারস্থ হন ইমরান। এরপর সুপ্রিম কোর্ট থেকে আজ এ সিদ্ধান্ত এলো।
সুপ্রিম কোর্ট আদেশ দিয়েছেন, যদি অন্য আর কোনো মামলা বা আটকাদেশ না থাকে তাহলে তাকে যেন কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু যেহেতু ইমরান দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত তাই এখনই তিনি বাইরে বের হতে পারবেন না।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ৭২ বছর বয়সী ইমরান খান। এরপর ক্ষমতায় বসেন শেহবাজ শরীফ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে শেহবাজ সরকার।
ইমরান খান ছাড়াও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অনেক নেতাকে এমন মামলায় জর্জরিত করা হয়েছে।
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খানকে স্বল্পসময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন তার সমর্থকরা। সেনাবাহিনী এ গ্রেপ্তারের সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগ তুলে তারা রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর সদরদপ্তর ছাড়াও আরও কিছু অবকাঠামোতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালান।