Home Blog Page 329

বিপিএল আয়োজনে সময়স্বল্পতা

০

মেরেকেটে হাতে সময় দুই মাস, বিসিবির নতুন কমিটির পরিকল্পনায় এবারের বিপিএল আয়োজনের সময় ধরা হয়েছে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু আসরটি ঢেলে সাজানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি, তাতে এখনো শুরুর ভিত তৈরি হয়নি। প্রথমত, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানা নির্ধারিত হয়নি। এরই মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি পাঁচ বছরের জন্য নেওয়ার আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে আগ্রহী মালিকানা নেওয়ার জন্য। তার পরও তো অনেক কাজ বাকি।

আবেদন পর্যালোচনা করা, আইনের মধ্যে থেকে আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে মালিকানার বৈধতার দেওয়ার মতো জটিল প্রক্রিয়া রয়েছে। তাতে অন্তত কয়েক সপ্তাহ লেগে যাওয়ার কথা। এরপর রয়েছে চুক্তি, বিপণন, পৃষ্ঠপোষকতা, সম্প্রচার স্বত্ব, বিদেশি ক্রিকেটারদের ড্রাফট, নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভেন্যু সংস্কার, সরঞ্জাম ও হোটেল ব্যবস্থাপনা। তড়িঘড়ি করে এসব সম্পন্ন করে আসরটি মাঠে নামাতে গেলে কী হতে পারে, তা ভালো জানা আছে ফারুক আহমেদের।

গতবার সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিসিবির নতুন বোর্ডের সহসভাপতি ফারুক আহমেদ। ‘সময় কিন্তু দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। অনেক কাজ বাকি। বোর্ড চেষ্টা করছে বিপিএলের সব গুছিয়ে আনতে কিন্তু সময় বড্ড কম।’ গত রোববার সিলেটে সংবাদমাধ্যমের সামনে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন ফারুক আহেমদ। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমানও মেনে নিয়েছেন সময়স্বল্পতার ব্যাপারটি। ‘নেক্সট টু-ইম্পসিবল, খুবই কঠিন। তার পরও আমরা চেষ্টা করব।’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এভাবেই বিপিএল আয়োজনের শঙ্কার মেঘ ফুটে এসেছে ইফতেখার রহমানের কণ্ঠে।

২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ রয়েছে বাংলাদেশের। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ। এর মাঝামাঝিতেই বিপিএল আয়োজন করতে হবে। কিন্তু এই কাছাকাছি সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় বিগব্যাশ (১৪ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি), লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (২৭ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর), আমিরাতে আইএল টি-২০ (২ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি) এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ টি-২০ (২৬ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে।

এই চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের সূচি নির্ধারিত থাকায় বিদেশি ক্রিকেটাররা সেখানে নথিভুক্ত হয়ে আছেন। তা ছাড়া পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে তাদের ক্রিকেটারদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। তাহলে কোন বিদেশিদের নিয়ে হবে বিপিএল? এই প্রশ্নের উত্তর যেমন মিলছে না, তেমনি কয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে এবারের আসর হতে পারে, তার উত্তরও কেউ জানে না। সব মিলিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে বিসিবি।

১৭৫ কোটি পারিশ্রমিকে আল্লু অর্জুন!

০

দক্ষিণী সুপারস্টার আল্লু অর্জুন বর্তমানে তেলেগু ও বলিউডে সমানভাবে আলোচনায়। এবার তাকে দেখা যাবে জনপ্রিয় পরিচালক অ্যাটলি কুমারের পরবর্তী বিগ বাজেট সাই-ফাই প্রোজেক্টে। ছবিতে আল্লুর বিপরীতে থাকছেন বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। তবে চমকের এখানেই শেষ নয়, এই ছবির জন্য আল্লুকে দেওয়া হচ্ছে ১৭৫ কোটি টাকার পারিশ্রমিক। যা বর্তমানে ভারতের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ!

‘পুষ্পা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অভাবনীয় সাফল্যের পর আল্লুর জনপ্রিয়তা এখন জাতীয় স্তরে। সেই জনপ্রিয়তা মাথায় রেখেই অ্যাটলির এই নতুন প্রজেক্টের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ভিএফএক্স–এর পিছনেই খরচ করা হবে ২৬০ কোটি এবং অভিনেতা-পরিচালক ও অন্যান্য টেকনিক্যাল টিমের জন্য বরাদ্দ ২৫০ কোটি টাকা।

সূত্রের দাবি, এই সিনেমায় বিভিন্ন লুক ও চরিত্রে দেখা যাবে আল্লু অর্জুনকে। যার জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক টেকনিশিয়ান কাজ করছেন। ইতোমধ্যে আল্লু অ্যাটলির সঙ্গে হলিউডের কয়েকটি প্রখ্যাত স্টুডিওতে ভিজিটও সেরেছেন।

পরিচালক অ্যাটলি , ‘এটা একেবারেই লার্জার দ্যান লাইফ প্রজেক্ট। আমরা এক ধাপ এক ধাপ এগোচ্ছি। অডিয়েন্সের জন্য এমন কিছু আনতে চাই, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। ছবিতে দীপিকার পাশাপাশি আরও দেখা যেতে পারে রাশ্মিকা মন্দানা, জাহ্নবী কাপুর, ম্রুণাল ঠাকুর ও আর মাধবনকে। অ্যাটলি আরও জানান, হলিউডের যেসব টেকনিশিয়ানরা আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন, তারাও বলেছেন এটা তাদের জন্যও দারুণ চ্যালেঞ্জিং। তবে কাজটা তারা ভীষণ উপভোগ করছেন। আর কয়েক মাসের মধ্যেই সবকিছু সামনে আসবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যকর হলো বর্ধিত ট্যারিফ

০

এক মাসের স্থগিতাদেশ শেষে চট্টগ্রাম বন্দরে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর করা হয়েছে নতুনভাবে বর্ধিত ট্যারিফ।

গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে বন্দরে আগত সব জাহাজ, কনটেইনার ও কার্গো বিল নতুন হারে আদায় করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ ও হিসাবরক্ষণ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুস শাকুর স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর হবে। বন্দরের তালিকাভুক্ত সব শিপিং এজেন্টকে তফসিলি ব্যাংকে নতুন হারে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রেখে আসা জাহাজের ছাড়পত্র (এনওসি) নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরের মোট ৫২টি সেবা খাতের মধ্যে ২৩টিতে সরাসরি নতুন ট্যারিফ প্রযোজ্য হচ্ছে। গড়ে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এই ট্যারিফ।

বিশেষ করে কন্টেনার হ্যান্ডলিং খাতে সবচেয়ে বেশি মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ২০ ফুটি কন্টেনারের ট্যারিফ ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা, যা আগে ছিল ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা অর্থাৎ গড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি। আমদানি কন্টেনারে ৫ হাজার ৭২০ টাকা এবং রপ্তানি কন্টেনারে ৩ হাজার ৪৫ টাকা বেশি দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভাড়া, টোল, ফি ও মাশুল ডলারের বিনিময় মূল্যের ভিত্তিতে আদায় করা হবে। প্রতি ডলারের হার ধরা হয়েছে ১২২ টাকা, ফলে ডলারের মান বাড়লে ট্যারিফও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।

প্রসঙ্গত, ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ নিয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আপত্তি থাকায় নৌপরিবহন উপদেষ্টার নির্দেশে তা এক মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়।

একমাস মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৩ অক্টোবর রাত থেকেই নতুন হারে ট্যারিফ কার্যকর করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মাশুল বাড়ানো হয়েছিল। ৩৯ বছর পর মাশুলের হার বাড়ানো হয়েছে; যা মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অপারেশনাল ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের ব্যয় সামাল দিতে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।’

নিলামে আরো ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

০

টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের অবমূল্যায়ন রোধ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ একাধিক নিলামে ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে।

প্রতি ডলার ১২১ দশমিক ৮০ টাকা দরে কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মোট ২ হাজার ১২৬ মিলিয়ন ডলার কিনেছে।

চলতি বছরের ১৩ জুলাই থেকে নিলামে ডলার কিনতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, এরপর থেকে ১৫টি নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এর অতিরিক্ত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

চলতি মাসের শুরুতে ৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০৭ মিলিয়ন ডলার কিনেছিল। তারও আগে ৬ অক্টোবর কেনে ১০৪ মিলিয়ন ডলার।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশি মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মার্কিন ডলার কিনেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই ধরনের নিলামের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কাছে মার্কিন ডলার বিক্রি করবে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার জন্য আমরা যখনই প্রয়োজন হবে তখন বাজারে ঠিক রাখার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারি।

গাজা ঘোষণাপত্রে সই করল যুক্তরাষ্ট্রসহ চার দেশ

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আঞ্চলিক নেতারা একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। গত সোমবার মিসরের শারম আল-শেখ শহরে এ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি অসাধারণ দিন’ আখ্যা দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাসের জিম্মি ও বন্দি বিনিময়ের কয়েক ঘণ্টা পর ঘোষণাপত্রটি স্বাক্ষর হয়।
ঘোষণাপত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘ট্রাম্প ডিক্লারেশন ফর এন্ডিউরিং পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’ বা ‘টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প ঘোষণা’। মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে করা হয়েছে এটি।
এতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। হোয়াইট হাউস কর্তৃক প্রকাশিত সম্পূর্ণ অংশটি নীচে দেওয়া হল।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে—আমরা স্বাক্ষরকারীরা ট্রাম্প শান্তি চুক্তির সকল পক্ষের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এই চুক্তি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গভীর দুর্ভোগ ও ক্ষতির অবসান ঘটিয়ে আশা, নিরাপত্তা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির এক যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিতে সংজ্ঞায়িত একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
আমরা গাজায় যুদ্ধের অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানাই এবং তার পাশে আছি। আমরা একসঙ্গে এই চুক্তি এমনভাবে বাস্তবায়ন করব, যাতে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয় অঞ্চলের সকল মানুষের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত হয়।
ঘোষণাপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা বুঝতে পারছি স্থায়ী শান্তি তখনই সম্ভব হবে, যখন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয় জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষিত রেখে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে সমৃদ্ধির পথে আগাতে পারবে। আমরা বিশ্বাস করি, অর্থবহ অগ্রগতি শুধুমাত্র সহযোগিতা ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
জাতি ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাতে বলা হয়েছে, আমরা এই অঞ্চলের গভীর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব স্বীকার করি—যেখানে খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম ও ইহুদি ধর্মসহ বিভিন্ন বিশ্বাসের শিকড় গভীরভাবে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আমরা এই পবিত্র সম্পর্কগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাব এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষাকে সর্বাগ্রে রাখব।
এ ছাড়া বলা হয়েছে, আমরা সব ধরনের উগ্রবাদ ও চরমপন্থা নির্মূলের প্রতিশ্রুতিতে ঐক্যবদ্ধ। কোনো সমাজই বিকশিত হতে পারে না, যদি সহিংসতা ও বর্ণবাদকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হয়, অথবা উগ্র মতাদর্শ নাগরিক জীবনের ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলে।
আমরা উগ্রবাদের জন্ম দেয় এমন সব পরিস্থিতি মোকাবিলার অঙ্গীকার করছি এবং শিক্ষা, সুযোগ সৃষ্টি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
আমরা ঘোষণা করছি যে, ভবিষ্যতের যেকোনো বিরোধ আমরা বলপ্রয়োগ বা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব। আমরা স্বীকার করি, মধ্যপ্রাচ্য আর দীর্ঘ যুদ্ধ, স্থগিত আলোচনা বা অসম্পূর্ণ শান্তিচুক্তির পুনরাবৃত্তি সহ্য করতে পারে না। গত দুই বছরের ট্র্যাজেডিগুলো আমাদের জন্য একটি কঠোর শিক্ষা— ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অতীতের ব্যর্থতার চেয়ে আরো ভালো ভবিষ্যতের দাবিদার।
আমরা সহনশীলতা, মর্যাদা ও প্রতিটি মানুষের জন্য সমান সুযোগ কামনা করি, যাতে এই অঞ্চলটি এমন এক জায়গায় পরিণত হয়, যেখানে জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ নিয়তির নীতির ভিত্তিতে এই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও যৌথ সমৃদ্ধির একটি বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছি।
আরো বলা হয়েছে, এই চেতনা থেকেই আমরা গাজা উপত্যকায় ব্যাপক ও টেকসই শান্তি ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং ইসরায়েল ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পারস্পরিকভাবে উপকারী সম্পর্কের বিকাশকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমরা এই অর্জন বাস্তবায়ন ও টিকিয়ে রাখতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করছি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শান্তিতে একসঙ্গে উন্নতি করতে পারে এমন এক দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়। আমরা স্থায়ী শান্তির ভবিষ্যতের প্রতি নিজেদের সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ করছি।
ইসরায়েলে ঝটিকা সফরে গিয়ে দেশটির পার্লামেন্টে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। এরপর তিনি গাজা শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মিসরে যান। সেখানে তিনি এবং মিসর, কাতার ও তুরস্কের নেতারা গাজা চুক্তির জিম্মাদার হিসেবে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন।
শার্ম আল-শেখের রিসোর্টে ট্রাম্প বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, এটি বিশ্বের ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি অসাধারণ দিন।
ট্রাম্প স্বাক্ষর করার আগে দুবার ‘এটি টিকে থাকবে’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নথিতে নিয়ম-কানুন ও আরো অনেক কিছু স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
গাজা যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সোমবার হামাস উপত্যকায় দুই বছর ধরে তাদের কাছে জিম্মি থাকা ইসরায়েলিদের সর্বশেষ ২০ জনকে জীবিত অবস্থায় ফেরত দিয়েছে।
ইসরায়েলের কারা বিভাগ জানিয়েছে, এর বিনিময়ে ইসরায়েল তাদের কারাগারে থাকা ১ হাজার ৯৬৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে উপস্থিত হলে দীর্ঘক্ষণ ধরে করতালির মাধ্যমে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে ভাষণে ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ৭ অক্টোবর (২০২৩) থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এই যুদ্ধের ভার বহন করা কেবল গর্বিত কোনো জাতি ও বিশ্বস্ত জনগণই সহ্য করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এই ভূখণ্ডের পরিবারগুলোতে বছরের পর বছর ধরে সত্যিকারের শান্তিময় একটি দিনও আসেনি। শুধু ইসরায়েলিদের জন্যই নয়, ফিলিস্তিনিদের এবং আরো অনেকের জন্য দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক দুঃস্বপ্নের অবশেষে অবসান ঘটেছে।
জিম্মি পরিবারগুলোর সমর্থনে তেল আবিবে জমায়েত বিপুলসংখ্যক লোকজন জিম্মি মুক্তির খবরে উল্লাস করেছে, অনেকে আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েছে এবং সমবেতভাবে গানও গেয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় বন্দিদের বহনকারী বাসগুলো পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানাতে জনতা ভীড় জমায়। এ সময় অনেকে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেয়।
গাজার খান ইউনিসে বন্দিদের বহনকারী ধীর গতির রেড ক্রস বাসগুলো পৌঁছালে অপেক্ষমাণ স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের উষ্ণ আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বাগত জানাতে শুরু করে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্টে জিম্মিদের ফিরে আসায় স্বাগত জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে হামাসের হাতে জিম্মি অবস্থায় মারা যাওয়া ২৭ জনের মৃতদেহ এবং এর আগে গাজায় সংঘাতের সময় ২০১৪ সালে নিহত একজন সৈন্যের দেহাবশেষও ফিরিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইসরায়েল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হামাস কর্তৃক রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা দুই বন্দির মৃতদেহ পেয়েছে এবং তারা এখনো আরো দুজনের দেহাবশেষ ফেরত পাওয়ার আশা করছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে হামাস। ওই হামলায় ১ হাজার ২১৯ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। ৪৭ জন ছাড়া বাকি সব জিম্মিকে এর আগের যুদ্ধবিরতিতে মুক্তি দেওয়া হয়।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চালুতে সেখানকার মানুষের মনে স্বস্তি এসেছে। তবে, যুদ্ধের ফলে বেশিরভাগ অঞ্চলই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে মুক্তি পাওয়া ২৫ বছর বয়সী ইউসুফ আফানা খান ইউনিসে এএফপিকে বলেন, সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো-আমার পুরো পরিবার আমাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয়েছে। আমি ১০ মাস কারাগারে কাটিয়েছি। আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোর অন্যতম এসব দিন।
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরের লক্ষ্য হলো, গত সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তিতে মধ্যস্থতায় তার ভূমিকা উদযাপন করা। তবে, এখনো অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে।
সম্ভাব্য বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে— হামাসের নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি ও বিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারে ইসরাইলের প্রতিশ্রুতি না পাওয়া।
ট্রাম্প সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে গাজার জন্য একটি ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা যুদ্ধবিরতি আনতে সহায়তা করে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম সোমবার ট্রাম্প ও গাজা চুক্তির মধ্যস্থতাকারীদের ‘ইসরায়েলের আচরণ পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার এবং তাদের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন পুনরায় শুরু না করার বিষয়টি নিশ্চিত করার’ আহ্বান জানান।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে কমপক্ষে ৬৭ হাজার ৮৬৯ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ এই তথ্য বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করে।
তথ্যটি বেসামরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য করে না। তবে ইঙ্গিত দেয় যে-নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।

রাজনৈতিক ভুলে ফ্যাসিস্টদের কবলে পড়া যাবে না: মির্জা ফখরুল

০
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সামনে সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। রাজনৈতিক ভুলে ফ্যাসিস্টদের কবলে পড়া যাবে না। আর ফ্যাসিস্ট দেখতে চাই না।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে সদর উপজেলা ও রুহিয়া থানা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন যত দ্রুত হবে দেশের সংকট তত দ্রুত কাটবে। দেশে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। গণতন্ত্রই গণতন্ত্রের বিকল্প। আগামী নির্বাচনের ওপর দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দানবীয় দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে একটা গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। অনেকে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। মিথ্যা মামলায় জেলে গেছেন। এখন মুক্তভাবে নিশ্বাস নিতে পারি। নেতাকর্মীরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন। যারা এ গণঅভ্যুত্থানে যোগ দিয়েছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঝিনাইদহে হলিধানী ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত।

০

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাটাডাড়ীয়া ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে নাটাবাড়ীয়া গ্রামে এই নির্বাচনী প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নাটাবাড়ীয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাঈদ হোসেন লাল্টুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনারুল ইসলাম বাদশা। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জাহিদুল ইসলাম। ঝিনাইদহ জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ সুমন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নাসের হোসেন সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক লিটন, হলিধানী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক ওহেদ সাদিক বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ হান্নান।

এছাড়াও সভায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবু নির্মল কুমার, সাংগাঠনিক সম্পাদক বাবুল হোসেনসহ ইউনিয়নের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ এ ভোট দিয়ে বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

এখন গাজাকে পুনর্গঠন করার সময়: ট্রাম্প

যুদ্ধ-সহিংসতার ভয়াল সময় পেছনে ফেলে এসেছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। এখন সময় এসেছে এই ঐতিহাসিক উপত্যকা ভূখণ্ডকে পুনঃনির্মাণ ও পুনর্গঠন করার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনটাই মনে করেন। গতকাল মিসরের উপকূলীয় পর্যটন শহর শারম আল শেখের একটি রিসোর্টে আয়োজন করা হয়েছিল ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’। যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আজ আমরা এখানে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছি। একটি দীর্ঘ, ভয়াবহ, যন্ত্রণাদায়ক এবং ক্লান্তিকর দুঃস্বপ্নের অবসান হয়েছে। ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি— উভয়ের জন্যেই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে এ যুদ্ধবিরতি। তবে এটা এত চ্যালেঞ্জিং ছিল… আপনারা হয়তো বিশ্বাস করবেন না… এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য যে পরিশ্রম-প্রচেষ্টা আমাদের দিতে হয়েছে, তা তিন হাজার বছরের পরিশ্রমের সমান।”
“আমি এর আগেও বেশ কয়েকটি বড় সমস্যার সমাধান করেছি, কিন্তু এই যুদ্ধ ছিল সেগুলোর চেয়ে পুরোপুরি আলাদা। অনেক বাধা, বিবাদ, চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে অবশেষে আমরা কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে পেরেছি। ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব এই যুদ্ধবিরতিতে খুশি, তারা সবাই একে স্বাগত জানিয়েছেন।”
“এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাকে পুনর্গঠন ও পুনঃনির্মাণের সময়। আমি আশা করছি শিগগিরই তা শুরু হবে।”
২০২৩ সালের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় প্রায় ১ হাজার হামাস যোদ্ধা। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় যোদ্ধারা। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ইসরায়েলের ইতিহাসে ৭ অক্টোবরের হামলা ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের উদ্ধারে পরদিন ৮ অক্টোবর থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ভয়াবহ সেই সামরিক অভিযানে ২ বছরে গাজায় নিহত হয়েছেন ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার।
গত দুই বছরে বেশ কয়েকবার এই যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা চলেছে। সেসব চেষ্টার অংশ হিসেবে কয়েক দফা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিও ঘোষণা করে ইসরায়েল। সেসব যুদ্ধবিরতির সময় বেশ কিছু জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস।
কিন্তু সেসব যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় জিম্মিদের মুক্তি প্রক্রিয়াটি আটকে গিয়েছিল। এদিকে এই প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ায় আইডিএফের সামরিক অভিযানও অব্যাহত ছিল গাজায়।
হিসেব অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত হামাসের হাতে আটক ছিলেন ৪০ জন ইসরায়েলি জিম্মি। তবে তবে হামাস আগেই জানিয়েছিল, কাগজে-কলমে ৪০ জন থাকলেও এই জিম্মিদের মধ্যে বর্তমানে জীবিত আছেন ২০ জন।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব আকারে পেশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাস উভয়ে সেই পরিকল্পনায় সম্মতি জানানোর পর গত ১০ অক্টোবর শুক্রবার থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় গাজায়।
বিরতির তৃতীয় দিন ১৩ অক্টোবর অবশিষ্ট ২০ জিম্মির সবাইকে মুক্তি দেয় হামাস। তার বিনিময়ে একই দিন কারাগার থেকে ৩ হাজার ৭ শতাধিক ফিলিস্তিনি কয়েদিকে মুক্তি দেয় ইসরায়েল।
জিম্মি ও ফিলিস্তিনি কারাবন্দিদের মুক্তির দিনই শারম আল শেখে গাজা শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর। ট্রাম্প এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি ছাড়াও সেই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ ২, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যাৎর্স, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ ২০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান।

ব্যাটারি রিকশা নিবন্ধনে দুর্ঘটনা দ্বিগুণ বাড়বে: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন হলে সড়ক দুর্ঘটনা দ্বিগুণ বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো সেপ্টেম্বর মাসের দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে।
দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে সারাদেশে ৫০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০২ জন নিহত ও ৯৬৪ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৫০টি দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৩টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৫৬৭টি দুর্ঘটনায় ৫৬৫ জন নিহত এবং ৯৮২ জন আহত হয়েছেন।
এই সময়ে ১৯১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৯ জন নিহত ও ১৮৮ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৮৯ শতাংশ, নিহতের ৩৯.৬৪ শতাংশ ও আহতের ১৯.৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—১২৬টি দুর্ঘটনায় ১২২ জন নিহত ও ২১৬ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে—২২টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৭২টি যানবাহনের মধ্যে দেখা যায়, ২৯.০১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২.০২ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৬.৫৮ শতাংশ বাস, ১২.১৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭.৩৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৭.২৫ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৫.৫৬ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ৪৮.৮০ শতাংশ গাড়ি চাপায়, ২৮.৫৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৭.৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৩.৭৬ শতাংশ বিভিন্ন কারণে, ০.৩৯ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৫৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষে ঘটেছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ছিল—বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের গর্ত, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও নসিমন-করিমনের অবাধ চলাচল; রোড সাইন ও সড়কবাতির অভাব; মিডিয়ান না থাকা; মহাসড়কে গাছপালায় অন্ধ বাঁক সৃষ্টি; নির্মাণ ও যানবাহনের ত্রুটি; ট্রাফিক আইন অমান্য; উল্টোপথে চলাচল; চাঁদাবাজি; পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক; ফিটনেসবিহীন যান; অতিরিক্ত যাত্রীবহন; বেপরোয়া ও বিরামহীনভাবে যানবাহন চালানো।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ হিসেবে বলা হয়েছে— বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা; রাতের বেলায় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ ও যানবাহনের ডিজিটাল ফিটনেস প্রদান; গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত তৈরি; সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা; চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা; রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন; আধুনিক প্রযুক্তিতে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ; সারাদেশে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা; নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি; নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা; ফিটনেসবিহীন যান স্ক্র্যাপ করা এবং মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করা।

 

ইউনূসের আমন্ত্রণে লুলা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাব’

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে তিনি তিনি আশা প্রকাশ করেন। রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের (ডব্লিউএফএফ) ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টের ফাঁকে সোমবার (রোম সময়) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট লুলা। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা লুলা দা সিলভাকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাব’। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তিনি বাংলাদেশ সফর করতে চান বলে জানান।
ফোরামে উভয় নেতা প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখার পর এফএও সদর দপ্তরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তারা পারস্পরিক আগ্রহের নানা বিষয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে ছিল সামাজিক ব্যবসা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং দারিদ্র্য মোকাবিলার কৌশল।
তিনি বলেন, ‌‘ব্রাজিল তার নাগরিকদের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করতে চায় এবং সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী।’ প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, ‘এটি হবে অসাধারণ’।
দুই নেতা গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস—বিশেষত টিকা পেটেন্টমুক্ত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ—এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পদক্ষেপ নিয়ে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ব্রাজিল সফরের স্মৃতিচারণ করেন, যার মধ্যে ছিল ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির বিভিন্ন শহর পরিদর্শন।
প্রেসিডেন্ট লুলা অধ্যাপক ইউনূসকে আগামী বছর অ্যামাজন অঞ্চলে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান, যাতে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য রক্ষার লড়াইয়ে বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। প্রধান উপদেষ্টা আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি হয়তো কপ৩০-এ অংশ নিতে পারবেন না, কারণ আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তিনি ব্যস্ত থাকবেন।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘বাস্তব ও ঐতিহাসিক’ মুহূর্ত। কারণ এটি হবে গত ১৬ বছরে দেশের প্রথম সুষ্ঠু নির্বাচন। তিনি বলেন, অতীতে স্বৈরশাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ছিল ‘ভুয়া ও কারচুপিপূর্ণ’।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্য এবং সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে দুই নেতা ফুটবলকে বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। অধ্যাপক ইউনূস হাস্যরসের সুরে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে ব্রাজিল ফুটবল দলের অসংখ্য সমর্থক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেই মানুষ ব্রাজিলকে সমর্থন করে।’
বৈঠকে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ব্রাজিলের কয়েকজন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।