Home Blog Page 330

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতির সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া হাইকোর্ট বিভাগের ২৫ জন অতিরিক্ত বিচারপতি। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে হাইকোর্টের নতুন বিচারপতিদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্টপতি বলেন, নতুন বিচারপতি নিয়োগের ফলে দেশের উচ্চতর আদালতে বিচারিক কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে এবং বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হবেন। বিচারপতিদের সেবার মানোন্নয়নে আত্মোনিয়োগ করতে হবে। বিচারপতিরা দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিরা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (শাহীন), আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ ও ফয়সাল হাসান আরিফ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসিফ হাসান ও মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবীর, হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ–এ–মাওলা সোহেল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর (সিনিয়র জেলা জজ) মো. রাফিজুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান ও রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা-অগ্নিসংযোগ

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবারও ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ভবনটির উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় পার্টি অভিযোগ করেছে, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, মাগরিবের নামাজের পর হঠাৎ করে একদল লোক মিছিল সহকারে এসে জাতীয় পার্টির অফিসে ভাঙচুর শুরু করে। নিচতলা থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত ভাঙচুর চালানো হয়। এক পর্যায়ে তারা সেখানে আগুন দেয়। পুলিশ এসে তাদের বাধা দেয়। তবে ততক্ষণে আগুন বেশ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ জলকামান দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। এর মধ্যে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী আক্কাস নামে এক রিকশাচালক বলেন, হঠাৎ একদল লোক এখানে এলে পুলিশ বাধা দেয়। কিন্তু পুলিশের বাধা না মেনে তারা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা করে। এর কিছুক্ষণ পর নিচতলায় আগুন লাগায়।
জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, গণঅধিকার পরিষদ ব্যানার সহকারে মিছিল নিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। তারা জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে আগুন দেয়।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ চায়, কেন আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি এই কারণে? তাহলে যারা ছাত্রলীগ করেছে তারা এখন এনসিপি করেছে। তাহলে তাদের আগে নিষিদ্ধ হওয়া দরকার। আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি একটা অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা বিরোধী দল হব। এই কারণে নির্বাচন পেছাতে এগুলো করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, তারা এসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছে, জলকামান দিয়ে আগুন নিভিয়ে দিয়েছে। এখন আপাতত কোনো সমস্যা নেই।

 

লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয় : রিজভী

মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি, রাষ্ট্রীয় চেতনার কথা বলি- অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে আরবের সেই মহামানব আমাদের জন্য নিদর্শন হয়ে আছেন। কিন্তু আমরা তার শিক্ষা গ্রহণ না করে নিজেদের ধর্ম ও ইসলামকে বিভিন্ন ফেরকা, বিভাজন ও নানা ধরনের কথাবার্তায় বিভক্ত করছি। অথচ আমাদের মহানবী ছিলেন ঐক্যের প্রতীক।

তিনি বলেন, আজ যে মহামানবকে কেন্দ্র করে এখানে আলোচনা ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে, তার সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। বরং বলা যায়, তা সম্ভব নয়। তিনি আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া বাণী মানবজাতির মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং রেখে গেছেন এক অনন্য আদর্শ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তার ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক গুণাবলিই ছিল অনুসরণের মতো উদাহরণ। যদি আমরা সামান্যতমও তা অনুকরণ ও লালন করতাম, তবে এ দেশে অন্যায়-অপরাধ, কুপ্রবৃত্তি, পাপাচার, হানাহানি ও রক্তারক্তি অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যেত।

রিজভী আরও বলেন, যিনি আমাদের প্রকৃত মডেল, যিনি আদর্শের প্রতীক, আমরা তাকে অনুসরণ করি না, তার অনুকরণ করি না। আর এটাই আজকের মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

মিলাদ মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু। এতে মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।

কুয়েতে ভিসা দালালদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর রাষ্ট্রদূত

কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনের নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে একের পর এক সাহসী এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দূতাবাস। তার দৃঢ় অবস্থানের ফলে ভিসা দালালদের সিন্ডিকেটে নেমেছে ধস, অসাধু নিয়োগদাতাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডেও এসেছে নিয়ন্ত্রণ।
একসময় কুয়েতে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা তেমনভাবে মানা হতো না। শুধু ভিসা পেলেই বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই শিথিলতার সুযোগে গড়ে উঠেছিল দালালদের শক্তিশালী চক্র, যারা মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়ে বিপদে ফেলত। বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। রাষ্ট্রদূতের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এখন কোনো কোম্পানিকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে হলে অবশ্যই প্রবাসীবান্ধব নির্ধারিত শর্ত মানতে হয়, যা দূতাবাস কঠোরভাবে তদারকি করছে।
ভিসা অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে শ্রমিকের সঙ্গে কমপক্ষে দুই বছরের লিখিত চুক্তি করতে হয়, যেখানে বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও প্রাপ্য ছুটির নিশ্চয়তা দিতে হয়। এসব তথ্য সংবলিত প্রত্যয়নপত্রে কোম্পানির স্বাক্ষর থাকার পরই ভিসার সত্যায়ন দেওয়া হয়।গৃহকর্মী নিয়োগেও আগে কোনো নির্ধারিত নিয়ম ছিল না। এখন নিয়োগকর্তাকে দূতাবাসে এসে সরাসরি কর্মীর জন্য বেতন, ছুটি ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে গৃহকর্মীর ওপর কোনো অবিচার বা প্রতারণা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ উন্মুক্ত থাকছে।
দূতাবাসের নজরদারিতে সম্প্রতি ‘ওয়েল আল নসিফ’ নামে একটি কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানটি ৩ থেকে ৬ মাস মেয়াদি ভিসায় শ্রমিক এনে তাদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করত। প্রবাসীদের সেবায় দূতাবাসের কর্মকর্তারা চালু করেছেন আরও কিছু স্বচ্ছ ও জনবান্ধব উদ্যোগ। এখন প্রতি মাসে দূতাবাসে গণশুনানি হয় এবং কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়। দূতাবাস স্টাফদের নেমপ্লেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সবাই পরিচিত থাকে। দালালদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ভিসা ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে স্বচ্ছতা ও গতি। হালনাগাদ রাখা হচ্ছে দূতাবাসের ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট, যাতে প্রবাসীরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পান।

মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিকদের ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিকদের ৩৭ শতাংশই বাংলাদেশি এবং জুনের শেষ পর্যন্ত ৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজের অনুমতি পেয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৫ আগস্ট পার্লামেন্টে লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ২০২২ সালে কোভিড-১৯ মহামারির পর দেশটির সীমান্ত পুনরায় খোলার পর ৪৯ হাজার ৩৫৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন।
মালয়েশিয়ার দ্য স্টার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের উত্তরে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।
সেখানে বলা হয়, ২০২২ সালে কোভিড মহামারীর পর মালয়েশিয়া যখন আবার শ্রমবাজার বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত করল, তখন থেকে নতুন ৪৯ হাজার ৩৫৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন।
আর ২০২৩ সালে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য প্রবর্তিত অস্থায়ী ‘ফরেন ওয়ার্কার রিক্রুটমেন্ট রিল্যাক্সেশন প্ল্যান’-এর মাধ্যমে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ জন নতুন বাংলাদেশি শ্রমিক সেদেশে প্রবেশ করেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২২ সালে ২০ হাজার ৩৩১ জন এবং ২০২৩ সালে ২৩ হাজার ৬৫ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে তাদের নিয়োগকর্তারা দেশে ফিরিয়ে পাঠিয়েছেন। অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে তারা মালয়েশিয়ায় কাজ করছিলেন।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিটধারী বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩ হাজার ৩৩২ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সংখ্যা মালয়েশিয়ায় কর্মরত মোট বিদেশি শ্রমিকের ৩৭ শতাংশ। এ হিসেবে বাংলাদেশেই মালয়েশিয়ায় স্বল্পদক্ষ শ্রমিক সরবরাহকারী সবচেয়ে বড় দেশ।
অবৈধ প্রবাসী শ্রমিকের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৯০ জন বাংলাদেশিকে অতিরিক্ত সময় অবস্থানের কারণে মালয়েশিয়ায় আটক করা হয়েছে।

খাবারের সময় সালাম দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন: আমাদের সমাজে এ কথা প্রচলিত আছে যে- খাবারের সময় সালাম দেওয়া যাবে না। এটা কি সঠিক? কুরআন সুন্নাহতে এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি?
উত্তর: খাবার গ্রহণের সময় কোন কথা বলা যাবে না, এই মর্মে যে কথাটি সমাজে প্রচলিত রয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। বরং হাদিস শরিফে এর বিপরীত কথা রয়েছে।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অগ্নিপূজকদের মত তোমরা নিশ্চুপ হয়ে খাবার গ্রহণ করো না।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবার গ্রহণের সময় সাথীদের সঙ্গে হাস্যরসের দু-চারটি মিষ্টি কথা বলতেন।
কুরআনুল কারিম তিলাওয়াতের মাঝে অপ্রয়োজনে কথাবার্তা বলে তিলাওয়াতের ধারাবাহিকতা নষ্ট করা উচিত নয়। বিশেষ প্রয়োজনে কথা বলতে হলে তিলাওয়াত বন্ধ করে জরুরি কথাটুকু বলবে। অতঃপর পুনরায় তিলাওয়াত করতে আবার আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম পড়ে নেবে।
খাবার গ্রহণে রাসুল (সা.) এর সুন্নত
রাসুল (সা.) খাবার গ্রহণের আগে সব সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলতেন।
তার সঙ্গীদেরও বিসমিল্লাহ বলতে উৎসাহিত করতেন। রাসুল (সা.)  বলেন, ‘আল্লাহর নাম নিয়ে ও ডান হাত দ্বারা খানা খাও। এবং তোমার দিক হতে খাও। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫১৬৭, তিরমিজি, হাদিস নং : ১৯১৩)
বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, “যখন তোমরা খানা খেতে শুরু করো তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর যদি আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যাও, তাহলে বলো, ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওআখিরাহ। ” (আবু দাউদ, হাদিস নং : ৩৭৬৭, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৮৫৮)
হাত ধুয়ে শুরু ও শেষ করা
খাবার গ্রহণের আগে হাত ধোয়া আবশ্যক। না হয় বিভিন্ন ধরনের অসুখ দেখা দিতে পারে। রাসুল (সা.) খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার আদেশ দিয়েছেন।  আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) পানাহারের আগে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন। (মুসনাদে আহমাদ)
অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) খাওয়ার পর কুলি করতেন এবং হাত ধৌত করতেন। (মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজাহ)
দস্তরখান বিছিয়ে খাওয়া
আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) পায়াবিশিষ্ট বড় পাত্রে খাবার খেতেন না। কাতাদা (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে কীসের ওপর খানা খেতেন? তিনি বললেন, ‘চামড়ার দস্তরখানের ওপর। ’ (বোখারি : ৫৩৮৬)
ডান হাত দিয়ে খাওয়া
রাসুল (সা.) আজীবন ডান হাত দিয়ে খাবার খেতেন। বাম হাত দিয়ে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন তিনি। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা বাম হাত দ্বারা খাবার খেয়ো না ও পান করো না। কেননা শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে। ’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫৩৭৬; মুসলিম, হাদিস নং: ২০২২)
হাত চেটে খাওয়া
রাসুল (সা.) খাওয়ার সময় সর্বদা হাত চেটে খেতেন। না চাটা পর্যন্ত কখনো হাত মুছতেন না। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করবে, তখন হাত চাটা নাগাদ তোমরা হাতকে মুছবে (ধোয়া) না। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫২৪৫)
আঙুল চেটে খাওয়া
আঙুল চেটে খাওয়ার ফলে বরকত লাভের অধিক সম্ভাবনা থাকে। কারণ খাবারের বরকত কোথায় রয়েছে মানুষ তা জানে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করো তখন আঙুল চেটে খাও। কেননা বরকত কোথায় রয়েছে তা তোমরা জানো না। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ১৯১৪)
পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খাওয়া
খাবার গ্রহণের সময় কখনো কখনো থালা-বাসন থেকে এক-দুইটি ভাত, রুটির টুকরো কিংবা অন্য কোনো খাবার পড়ে যায়। সম্ভব হলে এগুলো তুলে পরিচ্ছন্ন করে খাওয়া চাই।
রাসুল (সা.)-এর খাবারকালে যদি কোনো খাবার পড়ে যেত, তাহলে তিনি তুলে খেতেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের খাবার আহারকালে যদি লুকমা পড়ে যায়, তাহলে ময়লা ফেলে তা ভক্ষণ করো। শয়তানের জন্য ফেলে রেখো না। ’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ১৯১৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪০৩)
হেলান দিয়ে না খাওয়া
কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে খাবার খেতে তিনি নিষেধ করেছেন। হেলান দিয়ে খাবার খেলে পেট বড় হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দাম্ভিকতা প্রকাশ পায়।
আবু হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর দরবারে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে বলেন, আমি টেক লাগানো অবস্থায় কোনো কিছু ভক্ষণ করি না। (বুখারি, হাদিস নং: ৫১৯০, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৮৬)
খাবারের দোষ-ত্রুটি না ধরা
শত চেষ্টা সত্ত্বেও খাবারে দোষ-ত্রুটি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করা নিতান্ত বেমানান। রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না।
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.)  কখনো খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না। তার পছন্দ হলে খেতেন, আর অপছন্দ হলে খেতেন না। (বুখারি, হাদিস নং : ৫১৯৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৩৮২)
খাবারে ফুঁ না দেওয়া
খাবার ও পানীয়তে ফুঁ দেওয়ার কারণে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। রাসুল (সা.) খাবারে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কখনো খাবারে ফুঁ দিতেন না। কোনো কিছু পান করার সময়ও তিনি ফুঁ দিতেন না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪১৩)
খাবারের শেষে দোয়া পড়া
আল্লাহ তাআলা খাবারের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনেক বড় দয়া ও অনুগ্রহ করেন। এ দয়ার কৃতজ্ঞতা আদায় করা সভ্যতা ও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। খাবার গ্রহণ শেষে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা অপরিহার্য।
খাবার শেষে রাসুল (সা.)  আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাতেন ও দোয়া পড়তেন। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) খাবার শেষ করে বলতেন, ‘আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসিরান ত্বয়্যিবান মুবারাকান ফিহি, গায়রা মাকফিইন, ওলা মুয়াদ্দায়িন ওলা মুসতাগনা আনহু রাব্বানা। ’ তিনি কখনো এই দোয়া পড়তেন: ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়াছাকানা ওয়াজাআলানা মিনাল মুসলিমিন। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫৪৫৮)

হাত নেড়ে সমর্থকদের বিদায় জানালেন মেসি

আর্জেন্টিনার মাটিতে জাতীয় দলের জার্সিতে আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলবেন না লিওনেল মেসি। বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার ভোরে ২০২৬ বিশ্বকাপ লাতিন আমেরিকা অঞ্চল বাছাইপর্বে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল ঘরের মাঠে তার শেষ ম্যাচ।
এই ম্যাচে জোড়া গোলের মাধ্যমে দলকে ৩-০ ব্যবধানের জয় উপহার দিয়ে আর্জেন্টিনা ভক্তদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন মেসি। দলের হয়ে অন্য গোলটি করেন লাওতারো মার্টিনেজ।
আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বকালের সেরা এই খেলোয়াড়কে বিদায় দিতে প্রস্তুুতি নিয়ে এসেছেন ভক্তরাও। যে কারণে ম্যাচের পুরোটা সময় জুড়েই মেসিকে উৎসর্গ করে গান গেয়েছেন তারা।
ম্যাচ শেষে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। এরপর হাত নেড়ে দর্শকদের বিদায় জানান এই ফুটবল জাদুকর।
রাজধানী বুয়েন্স আইরেসের এস্তাদিও মনুমেল্টাল স্টেডিয়ামে মেসিকে বিদায় জানানোর এই আবেগঘন দৃশ্য আবার কত বছর পর দেখা যাবে, সেটি কারো কল্পনায় হয়তো নেই। হয়তো এই রাতটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্তদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘অনেক আবেগ, অনেক কিছু আমি এই মাঠে অনুভব করেছি। আর্জেন্টিনায় আমাদের মানুষের সঙ্গে খেলা সবসময় আনন্দের। আমরা বহু বছর ধরে ম্যাচ উপভোগ করছি। এখানে এভাবে শেষ করতে পারা আমার সবসময়কার স্বপ্ন ছিল।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বার্সেলোনায় বহু বছর ধরে আমি ভালোবাসা পেয়েছি, আর আমার স্বপ্ন ছিল একইভাবে নিজের দেশেও তা পাওয়া। অনেক কিছু বলা হয়েছিল বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু আমি সব ভালো জিনিসগুলোই মনে রাখবো। দলের সঙ্গে আমরা চেষ্টা করেছি, অনেকবার পাইনি, কিন্তু শেষে আমরা পেয়েছি। সব অভিজ্ঞতাই অসাধারণ ছিল। আজকের ম্যাচটি ছিল এখানে আমার শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।’
আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা নিশ্চিত করে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। ১৭ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ৩৮। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া আসন্ন বিশ্বকাপে খেলতে চাইলেও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে মেসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
ইন্টার মিয়ামি তারকা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, সম্ভবত আর কোনো বিশ্বকাপে খেলবো না। বয়সের কারণে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি (২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে), তাই আমি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত বোধ করছি। প্রতিদিন দিন যেভাবে কাটছে, সেভাবেই এগোচ্ছি। যখন ভালো লাগছে, উপভোগ করি। যখন ভালো লাগছে না, তখন মাঠে থাকতে চাই না। তাই এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মৌসুম শেষ করব, এরপর প্রি-সিজন আসবে। এরপর বিশ্বকাপের ছয় মাস বাকি থাকবে। তখন দেখা যাবে আমি কেমন অনুভব করছি। আশা করছি ভালো প্রি-সিজন কাটবে এবং এমএলএস মৌসুম শেষ ভালোভাবে করব। এরপর (বিশ্বকাপে খেলার) সিদ্ধান্ত নেব।’
মেসি আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়। ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল তার। ২০১৪ ও ২০২২ সালে দলকে ফাইনালে তোলেন এবং কাতারে সর্বশেষ সংস্করণে ট্রফিও জেতেন।

সবজির বাজারে অস্বস্তি, ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম চড়া

সপ্তাহ ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে শাক ও সবজির দাম কিছুটা কমেছে। সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমলেও অধিকাংশ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে।
তবে সপ্তাহ ব্যবধানে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে বেগুন কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে ঝিঙা ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো কেজিতে ৫০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে লেবুর হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ৩৫০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, কাঁকরোল ১০০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে লাল শাক ১৫ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৩২০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৯০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বাজারগুলোতে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ১০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৩০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ২০০ টাকা ও ১৫০ থেকে ২০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকায় ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে দেশি আদা কেজিতে ৬০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা,  চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা ও ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।
এসব বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা, হাঁসের ডিম ২১০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ছেঁড়া বেল্ট ও একজন অবিকল জিয়াউর রহমান

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার সেনাজীবন ও রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ জীবনযাপনের জন্য খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। ছেঁড়া গেঞ্জি বা সাধারণ পোশাকে তার চলাফেরার অনেক গল্প প্রচলিত আছে, যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে গণমুখী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে ছেঁড়া বেল্ট পরা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এই ছবিটি নিয়ে তার ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশাপাশি নেটিজেনরা ত্যাগী ও সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য তার প্রশংসা করেছেন। তারেক রহমানের ছেঁড়া বেল্টের ছবি দেখে তার ভেতরে অনেকেই কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের অবিকল প্রতিচ্ছবি দেখছেন। সমর্থকরা বাবার মতো তাকে একইরকম সাধারণ ও ত্যাগী বলে মনে করছেন।
এই ছবিটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার কিনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে, নেটিজেনরা বলছেন, এটি প্রমাণ করে যে, তিনি বিলাসিতা বা আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহী নন, বরং সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান যে ব্যক্তির সন্তান, সেই জিয়াউর রহমানের দক্ষতা, অবদান, দেশপ্রেম, সততা এবং সাধারণ জীবন-যাপন বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদার স্থান দখল করে আছে। তাই তারা এই ছবিটিকে তার ত্যাগ ও সাধারণ জীবনযাপনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, তারেক রহমানের সাদাসিধে জীবনযাপন তার বাবা জিয়াউর রহমানের মতোই এবং এর মাধ্যমে তিনি মানুষের মন জয় করতে পেরেছেন।
এর আগে, সম্প্রতি তারেক রহমানের লন্ডনে পাবলিক বাসে যাতায়াতের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়—খাকি রঙের প্যান্ট, আকাশি রঙের শার্ট, পায়ে কেডস। এসব ছবির নিচে প্রচুর প্রশংসা কুড়ান তিনি। অনেকেই মনে করেন, লন্ডনে তারেক রহমান কীভাবে একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবন-যাপন করছেন, এই ছবিগুলো তার প্রমাণ।
কৈশোরে বিটিভিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৱকারে তারেক রহমানকে বলতে শোনা যায়, তার বাবার প্যান্ট শার্ট কেটে ছোট করে তাদের দুই ভাইকে পরানো হতো। এরকম একজন রাষ্ট্রনায়কের সন্তান লন্ডনের রাস্তায় পাবলিক বাসে যাতায়াত এবং সাধারণ জীবন-যাপনের মাধ্যমে বাবার ডুপ্লিকেট হয়ে উঠেছেন, যা আশার আলো দেখাচ্ছে এদেশের মানুষকে।
তারেক রহমান সাত বছর ধরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তার আগে ছিলেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। পুরো দলের কাণ্ডারি তিনি। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দলের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন তার ম্যাজিক নেতৃত্বে।
দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসা এই নেতা নীরবে অনেকটা গোপনে আরও কিছু কাজ করে আসছেন। যা কখনো সামনে আসেনি। তিনি নিজেও এসব কাজ প্রকাশ্যে আনতে চান না। দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারণ অসহায় মানুষের জন্য নানা ধরনের সেবা কার্যক্রমে যুক্ত তিনি। বিদেশে অবস্থান করলেও এসব কর্মকাণ্ড তিনি নিজেই সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তদারকি করেন।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, আত্মতৃপ্তির জন্যই তিনি এসব কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায় অনেক পরিবারের পুরো দায়িত্ব রয়েছে তারেক রহমানের কাঁধে। তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় মাদ্রাসা, হাসপাতাল। নিজ উদ্যোগেই এগুলোর খরচ বহন করছেন তিনি। বিএনপি স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে জানেন না তারেক রহমান সরাসরি এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। বিএনপি’র পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ড জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং আমরা বিএনপি পরিবারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রথমে বৃদ্ধ এবং এতিম এমন ২৫টি পরিবারের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে। প্রায় দেড়শ’র মতো অসহায় শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেয়া শিক্ষার্থীদের ১৪ জনের মতো চিকিৎসক হয়ে এখন দায়িত্ব পালন করছেন।
জিয়া সাইবার ফোর্স, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির (কুমিল্লা ডিভিশন) সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, নিঃসন্দেহে তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ডুপ্লিকেট। এই ছবিটি তার প্রমাণ। দুজনের শরীরে যে একই রক্তের প্রবাহ। তারেক রহমানের জরাজীর্ণ পুরোনো বেল্টের দিকে নজর দিলেই বুঝতে পারবেন আমরা আরেকজন জিয়াউর রহমানকে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পেতে যাচ্ছি।আমি মাঝেমধ্যে এই ভদ্রলোকের শার্টগুলোর দিকে লক্ষ করি। ৫ বছর আগে যে শার্ট পরতে দেখেছিলাম, এখনো সেই শার্ট পরে থাকেন। বেশিরভাগ সময় সাদা ও আকাশি রঙের শার্ট দুটি পরে ভিডিও বার্তায় আসেন তিনি। গত দুইটা ঈদে পুরোনো পাঞ্জাবি পরিহিত ছিলেন। যে পাঞ্জাবি অন্তত ২/৩ বছর পুরোনো।
‘‘তিনি কিছুদিন আগে যে গাড়িতে চড়ে ড. ইউনুসের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন, সেটি লন্ডন বিএনপির এক নেতার গাড়ি। বাংলাদেশের তুলনায় লন্ডনে গাড়ি কেনা সহজ। ব্যাংক থেকে গাড়ি কিনে দেয়। দাম বাংলাদেশের তুলনায় অর্ধেকেরও অনেক কম। তবুও উনার কোন বিলাসবহুল গাড়ি নেই। একটা পুরোনো মডেলের গাড়ি আছে। পরিবারে অন্য সদস্য যেদিন সেই গাড়ি নিয়ে বের হয় সেদিন তিনি কোথাও যেতে হলে বাসে করে চলাচল করেন। গণপরিবহন কিংবা ঢাকার রাস্তায় রিকশায় চড়া উনার পুরোনো অভ্যাস’’, লেখেন তিনি।
শরিফ নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ডুপ্লিকেট কপি,আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে পাহাড়ে আবারো শান্তি দেখবো, সীমানায় শান্তি দেখবো, গার্মেন্ট সেক্টরে উন্নতি দেখবো, কৃষিতে উন্নয়ন দেখবো- এই আশাগুলা আমরা করতেই পারি।

শুল্ক দিয়ে ভারত আমাদের হত্যা করেছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিল্লির শুল্ক নীতি নিয়ে আবারও তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ভারত আমাদের শুল্ক দিয়ে হত্যা করেছে। বর্তমানে আর কোনো শুল্ক আরোপ না করতে ওয়াশিংটনকে প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি ঘিরে চলমান ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। খবর এনডিটিভির।
মঙ্গলবার দ্য স্কট জেনিংস রেডিও শোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভারত আমাদের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করে। চীন আমাদের শুল্ক দিয়ে শেষ করে দিচ্ছে। ভারত আমাদের শুল্ক দিয়ে হত্যা করছে। ব্রাজিলও তাই করছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক বিষয়ে তিনি বিশ্বের অন্য যে কারও চেয়ে ভালো জানেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর কর আরোপ করার পরই ভারত শুল্ক কমানো শুরু করেছে।
ভারতকে বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আপনারা জানেন, ভারত আমাকে জানিয়েছে, আর কোনও শুল্ক থাকবে না। কোনও শুল্ক নয়।
শুল্কের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, যদি আমরা শুল্ক আরোপ না করতাম, তারা কখনোই এমন প্রস্তাব দিত না। কখনোই না। তাই শুল্ক থাকা জরুরি। আমরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হব।
তবে ট্রাম্প যে প্রথমবারের মতো এই ধরনের মন্তব্য করেছেন, বিষয়টি তেমন নয়। এর আগে, সোমবার মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতদিন পুরোপুরি একপাক্ষিক ছিল।
তিনি একে ‌‌একপাক্ষিক বিপর্যয় বলেও উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, এখন ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু তাদের এই প্রস্তাব অনেক দেরিতে এসেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ককে অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। এর জবাবে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, আপিল আদালত ভুলভাবে আমাদের শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু তারা জানেন, শেষ পর্যন্ত আমেরিকাই জিতবে।
ভারতের ওপর বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা তেলের জন্য অতিরিক্ত জরিমানা হিসেবে আরোপ করা ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপকে ‌‌‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছে নয়াদিল্লি।