ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের প্রচার শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির হুমকি তৈরি করে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গতকাল শুক্রবার পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার কিছু গণমাধ্যম আইন অমান্য করে শেখ হাসিনার একটি বক্তব্য সম্প্রচার করেছে, যেখানে তিনি মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং অনলাইন আউটলেটগুলোয় ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার অডিও সম্প্রচার এবং প্রচার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তাছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘৃণা ছড়ায় সাবেক স্বৈরশাসকের এমন বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।
আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করেছি, কিছু গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের একটি ভাষণ প্রচার করেছে, যেখানে তিনি মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এ ধরনের অপরাধমূলক প্রচারকর্মে জড়িত গণমাধ্যমের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি এবং দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি, শেখ হাসিনার বক্তব্য কেউ ভবিষ্যতে প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমাদের জাতির ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরির ঝুঁকি নিতে পারি না। এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, শেখ হাসিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শত শত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীকে গণহত্যার নির্দেশ দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের পরে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছে। তদুপরি, বাংলাদেশের আইন অনুসারে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একই ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯’ অনুসারে, যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যারা তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তৃতা প্রচার, প্রকাশ বা সম্প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।
একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে সরকার বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক নীতির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের জনগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘আমরা, এমন একটি সময়ে সংবাদমাধ্যমগুলোকে শেখ হাসিনার অডিও এবং তার বক্তৃতাগুলো, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি, এগুলো প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই। তার মন্তব্য, বক্তৃতা এবং তার যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি কেবল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কাজ করে। এ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে।’
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলেই আইনি ব্যবস্থা
কেন পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে চীন?
সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতও বাড়াচ্ছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর: বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যান্থনি কটন গত মার্চে কংগ্রেসকে জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেনাবাহিনীকে ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। শি’র এই নির্দেশ ভূমি, আকাশ ও সমুদ্র থেকে ছোড়ার মতো পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।
চীন নিজেদের ২০২৩ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিতে আবারও স্পষ্ট করে বলেছে, কোনো অবস্থাতেই তারা প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। এই নীতিকে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি বলা হয়। এ নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো পারমাণবিক অস্ত্রধারী নয়, এমন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীন পারমাণবিক হামলা চালাবে না, কিংবা পারমাণবিক হামলার হুমকিও দেবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘পারমাণবিক অস্ত্রের যুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হতে পারে না। এমন যুদ্ধ শুরু করাই উচিত নয়।’ তারা আরও বলেছে, চীন ‘আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক অস্ত্র কৌশল’ অনুসরণ করে এবং কঠোরভাবে ‘প্রথম ব্যবহার নয়’ নীতি মেনে চলে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে ‘প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার’ নীতি ঘোষণা করলেও বাস্তবে চীনের কৌশলে অন্য কিছু থাকতে পারে। চীনের সামরিক সক্ষমতা-সংক্রান্ত পেন্টাগনের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যদি প্রচলিত (নন-নিউক্লিয়ার) কোনো হামলায় চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার বা এর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে, অথবা সে হামলার প্রভাব যদি কার্যত পারমাণবিক হামলার সমান হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতিতে চীন প্রথমেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বেইজিংকে অপবাদ দিতে ও কলঙ্কিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করতে “চীনের পারমাণবিক হুমকি” নিয়ে যেকোনো ধরনের অপপ্রচারের আমরা বিরোধিতা করি।’
শিকাগোভিত্তিক অলাভজনক গবেষণা সংস্থা বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টসের তথ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্রধারী অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় চীন নিজেদের অস্ত্রভান্ডার দ্রুতগতিতে বাড়াচ্ছে এবং আধুনিকায়ন করছে। বর্তমানে দেশটির হাতে প্রায় ৬০০ পারমাণবিক ওয়ারহেড মজুত রয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন প্রায় ৩৫০টি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো (ভূগর্ভস্থ বা স্থির উৎক্ষেপণকেন্দ্র) এবং সড়কপথে সরানো যায়, এমন ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণের জন্য একাধিক নতুন ঘাঁটি তৈরি করছে।
ধারণা অনুযায়ী, চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) হাতে বর্তমানে প্রায় ৭১২টি স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র রয়েছে। তবে এর সবকটিই পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, এমন নয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৬২টি উৎক্ষেপণযন্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারে।
বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টসের মতে, পিএলএর অনেক উৎক্ষেপণযন্ত্র স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতেই এসব তৈরি করা হয়েছে। তবে এসব উৎক্ষেপণযন্ত্রের বেশির ভাগ পারমাণবিক হামলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএলএর ব্যবহার-উপযোগী পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তারা এমন একটি বড় ও বৈচিত্র্যময় ভান্ডার গড়ে তুলতে চাইছে, যাতে তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টন (মাল্টি-মেগাটন) বিস্ফোরণ ক্ষমতার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) থাকবে।
সাড়ে পাঁচ কোটি ভিসাধারীর রেকর্ড খতিয়ে দেখবে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাধারী সাড়ে পাঁচ কোটি বিদেশির রেকর্ড খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রোসডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই পদক্ষেপের আওতায় বৈধ মার্কিন ভিসা থাকলেও কেউ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের মুখে পড়তে পারেন। এছাড়া বাণিজ্যিক ট্রাকচালকদের ভিসা দেয়া তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে যুত্তরাষ্ট্র। খবর: আল জাজিরা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির বৈধ ভিসাধারী ৫ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি বিদেশির রেকর্ড তারা পর্যালোচনা করছে।
এর উদ্দেশ্য হলো ভিসা বাতিল বা অভিবাসন আইনের লঙ্ঘনের মতো বিষয় খুঁজে বের করা, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের কারণ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়। একই দিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে বাণিজ্যিক ট্রাকচালকদের জন্য কর্মভিসা প্রদান বন্ধ করছে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, বিদেশি ট্রাকচালকরা আমেরিকানদের জীবন বিপন্ন করছে এবং স্থানীয় ট্রাকচালকদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সব মার্কিন ভিসাধারীই নিরবচ্ছিন্ন যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় থাকেন।
কোনোভাবে তারা ভিসার অযোগ্য প্রমাণিত হলে তা বাতিল হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, ভিসাধারীরা অতিরিক্ত সময় অবস্থান করছেন কি না, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত কি না, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি কি না, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না বা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করছে কি না—এসবই মূলত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তারা বলেছে, আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য, অভিবাসন রেকর্ডসহ যেকোনো নতুন তথ্য যাচাই করি। আর এগুলোতেই ভিসাধারীর অযোগ্যতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অভিবাসন দমন অভিযান শুরু করেছেন। এতে শুধু অবৈধ অভিবাসী নয়, বৈধ অভিবাসীরাও এর আওতায় পড়ছেন।
সরকার শুরুতে বলেছিল কেবল বিপজ্জনক অপরাধীদের লক্ষ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রতিদিন হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যে প্রায় চার লাখ মানুষকে বহিষ্কার করতে পারে মার্কিন সরকার।
এরই মধ্যে রেস্তোরাঁ, নির্মাণ সাইট, খামার, এমনকি আদালত প্রাঙ্গণে নজিরবিহীন অভিযানে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত অভিবাসীদেরও টার্গেট করা হচ্ছে।
আদালতে যারা বৈধ মর্যাদা পাওয়ার জন্য দেওয়ানি শুনানিতে হাজির হচ্ছেন, তাদেরও গ্রেপ্তার করছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া মানবিক প্যারোল ও অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদার মতো কর্মসূচিও সীমিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মসূচিগুলো দুর্যোগপূর্ণ দেশ থেকে আসা লাখো মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি দিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী ভিসাধারীরাও এ অভিযানে টার্গেট হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ছয় হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে ৫ মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পাঁচজন। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১১ জন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১১০ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ৭৮২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে তিনজন এবং রাজশাহী বিভাগে মারা যান দুজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১১০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু (৫১ জন) হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। পাশাপাশি এই সময়ে ডেঙ্গুতে বরিশাল বিভাগে ১৮ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১ জন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে ছয়জন এবং ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে একজন করে মোট দুজন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেনÑজানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন, জুনে ৫ হাজার ৯৫১ জন এবং জুলাইয়ে ১০ হাজার ৬৮৪ জন।
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ধারণক্ষমতা বেড়েছে
আগের হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জটের আশঙ্কা থাকলেও কনটেইনার রাখার জায়গা বাড়ানোর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ধারণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৫৯ হাজার টিইইউসে (২০ ফুট দৈর্ঘ্য হিসাবে) উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর সূত্র। এ হিসাবে কনটেইনার ধারণ ক্ষমতা আরো ৫ হাজার ৪৮২ টিইইউসে বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ধারণের সক্ষমতা এক দিন আগেও ছিল ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউস।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুকের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ক্যাপাসিটি এক্সপেনশনের অংশ হিসাবে ইয়ার্ড, শেড ইত্যাদি বাড়িয়ে চলেছে। গত এক বছরে বেশকিছু ইয়ার্ড রিনোভেশন করা হয়েছে এবং নতুন নতুন ইয়ার্ড ও শেড বৃদ্ধি করে চলেছে। পুরোনো অকশন ইয়ার্ড, গাড়ি সংরক্ষণ স্থান, ব্যাগেজ শেড, এক্স ও ওয়াই শেড এলাকায় নতুন ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের পরিমাণ ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৭৩১ টিইইউস। এর আগের দিন বুধবার এর পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৪৬৩ টিইইউস। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার এ পরিমাণ ৪৯ হাজার ১৩১ টিইইউসে পৌঁছেছিল।
বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনার জট বাড়ার কারণ হিসাবে কাস্টমসের কর্মবিরতি, কলমবিরতি, ঈদের দীর্ঘ ছুটিসহ বিভিন্ন কাণে যে জট সৃষ্টি হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতাও কিছু রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। তবে ছুটির দিনগুলোয় কনটেইনার খালাস কম হওয়ার কারণে জট বাড়ছে বলে জানায়।
বন্দর সচিব জানান, সম্প্রতি প্রায় ৪৮ হাজার টিইইউস কনটেইনার জমে থাকার পরেও বন্দরের কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দওে আগে গড়ে প্রতিদিন ১০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও এখন ১২ থেকে ১৩টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে। এজন্য আমদানি রপ্তানিকারকরা আগের চেয়ে কম সময়ে পণ্য ডেলিভারি পাচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্দরে আগে গড়ে প্রতিদিন ১০টি কনটেইনার জাহাজ হ্যান্ডলিং হলেও এখন হচ্ছে ১২ থেকে ১৩টি। এজন্য আমদানি-রপ্তানিকারকরা আগের চেয়ে কম সময়ে পণ্য হাতে পাচ্ছেন। এ বছরের মধ্যে আরও কিছু ইয়ার্ড নির্মাণ শেষ হবে। এর ফলে বন্দরের কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৬২ হাজার টিইইউসেতে উন্নীত হবে। বৃহস্পতিবার বহির্নোঙরে চারটি কনটেইনার জাহাজ এবং একটি জিআই জাহাজ বার্থিংয়ের অপেক্ষায় ছিল বলে বন্দর সচিবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
তামাকের বিরুদ্ধে তরুণদের সচেতন না করা গেলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: প্রধান উপদেষ্টা
তামাকের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে সচেতন করা না গেলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে সচেতন করতে হবে বলেও জানান তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, সুবিস্তৃত জনসচেতনতা ও সব স্তরে স্বাস্থ্যবান্ধব নীতি-কৌশল গ্রহণ হতে পারে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বড় হাতিয়ার।
গতকাল বুধবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ের শাপলা হলে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ৩৫টি মন্ত্রণালয়ের যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা লিখিত বক্তব্যে বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ দরকার। দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে না পারলে ব্যক্তিগত জীবন থেকে জাতীয় উন্নয়ন- কোনোটাই যথাযথভাবে করা যাবে না। তাই যে কোনো পরিস্থিতিতেই হোক না কেন এবং যত চ্যালেঞ্জিংই হোক না কেন, আমাদের সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে।
তিনি বলেন, এজন্য সরকারি, বেসরকারি, সুশীল সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা- সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কেবল পারস্পরিক অংশীদারত্বের মাধ্যমেই এটা সম্ভব।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই অসংক্রামক রোগ দিনদিন বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর ছোট এলাকায় বসবাসের প্রেক্ষাপটে এ পরিস্থিতি আরও সংকটময়। তাই এটি জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর শতকরা ৭১ ভাগ ঘটে থাকে অসংক্রামক রোগের কারণে এবং এর মধ্যে শতকরা ৫১ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয় ৭০ বছর বয়সের নিচে, যাকে আমরা অকালমৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। আমাদের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) ৬৯ শতাংশ, যার বেশির ভাগ অসংক্রামক রোগের জন্য ব্যয় হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অসংক্রামক রোগ হলে মানুষ উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়ের মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়। কোনো ব্যক্তির ক্যানসার হলে তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ
প্রয়োগ করতে হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই সহায়হীন-সম্বলহীন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে অতি উচ্চমূল্যে চিকিৎসা নেওয়ারও প্রয়োজন হয়। এসব রোগের চিকিৎসাব্যয় মেটাতে আমাদের বিপুল অঙ্কের টাকা চলে যায় বিদেশে।
‘তাই অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যেমন উন্নত হওয়া জরুরি, তেমনি রোগগুলো যেন কম হয় অথবা না হয়, সেজন্য উপযুক্ত জনসচেতনতা এবং প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করে তোলা দরকার। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়। এজন্য সব মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা দরকার। খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা, ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত এমন প্রত্যেকটি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেক খাত থেকে দরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও নিবিড় উদ্যোগ। তাই এসব মন্ত্রণালয় চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।’
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, প্রথমত: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকগুলোর বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ সচেতনতা আছে এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। অনেকেই সচেতন থাকলেও জীবন যাপনে হয়ত সেভাবে প্রতিফলন নেই। ফলে নানামাত্রিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অগ্রগতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যেমন- তরুণদের মধ্যে অনেকে একইসাথে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, আবার অতিরিক্ত ওজন নিয়ে শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও রয়েছে।
তামাকের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে আজ সচেতন করা না গেলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এর পাশাপাশি, স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি ভিত্তিতে মানুষকে সচেতন করতে হবে। জাতীয় নীতিগুলো এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যেন সেগুলো স্বাস্থ্যবান্ধব হয়; অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়; শিশু, কিশোর ও নারী স্বাস্থ্য যেন বিশেষ অগ্রাধিকার পায়; নাগরিক সমাজ ও যুব শক্তি যেন সচেতনতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে। সুবিস্তৃত জনসচেতনতা ও সব স্তরে স্বাস্থ্যবান্ধব নীতি-কৌশল গ্রহণ হতে পারে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বড় হাতিয়ার। তাই স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কারিগরি সহযোগিতা দরকার। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেল প্রয়োগ করে এ সংক্রান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়ন সহজ হবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। স্বাক্ষরকারী মন্ত্রণালয়গুলো সহযোগিতা করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেবে বলে প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তৃতীয়ত: যে কোনো কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিং ও মূল্যায়ন আবশ্যক। আবার এগুলো বাস্তবায়ন করতে উপযুক্ত ও দক্ষ জনবল, আর্থিক বরাদ্দ দরকার।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বিশেষ কোনো সীমাবদ্ধতা বা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি না হয় সেজন্য ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নের কাজটি বিশেষ অগ্রাধিকারে রেখে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন ।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা একসঙ্গে কাজ করতে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম। এটি শুধু একটি আয়োজনের মধ্যে যেন সীমাবদ্ধ না থাকে।
তিনি বলেন, এটি আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস। আমি বিশ্বাস করি, এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এটি হবে অগ্রগতির একটি নতুন মাইলফলক। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও এসডিজি পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডাসমূহ অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে অর্জনে সহায়ক হবে।
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে, বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ অফিস সত্যিই প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট) ড. থাকসাফন থামারাংসি (Dr. Thaksaphon Thamarangsi) অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলার সূচি
অস্ট্রেলিয়ায় চলমান টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বাংলাদেশ ‘এ’ দল মেলবোর্ন স্টারস একাডেমির মুখোমুখি হবে।
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি
হারিকেনস-রেনেগেডস
সকাল ৬-৩০ মি., টি স্পোর্টস
স্ট্রাইকার্স-ক্যাপিটাল সকাল ৯-৩০ মি., টি স্পোর্টস
শিকাগো-নর্দার্ন বেলা ১১-৩০ মি., টি স্পোর্টস
বাংলাদেশ ‘এ’-মেলবোর্ন স্টারস বেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টস
দ্য হানড্রেড (নারী)
ওভাল-ট্রেন্ট রকেটস
রাত ৮টা, সনি স্পোর্টস ১
দ্য হানড্রেড (পুরুষ)
ওভাল-ট্রেন্ট রকেটস
রাত ১১-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১
বিশ্ব ক্রিকেট যত এগিয়েছে বাংলাদেশ তত পিছিয়েছে’
‘বিশ্ব ক্রিকেট যত দূর এগিয়ে গেছে, বাংলাদেশ তাদের থেকে ততোটা পিছিয়ে গেছে। তবে পিছিয়ে পড়া বলাটা ঠিক শব্দ নয়। আমরা যদি সেই সাপোর্টটা দিতে পারি, তাহলে আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট।’
গতকাল বুধবার কিংস অ্যারেনার ইনডোরে তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসাবে অনুষ্ঠিত ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটারদের বাছাই কার্যক্রমের শেষ দিনে উপস্থিত হয়ে কথাগুলো বলেন- জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। অনুষ্ঠানমঞ্চে দাঁড়িয়েই জাতীয় দলের সিনিয়র এ ক্রিকেটার জানালেন, কাল আসতে পারেননি বিসিবির সঙ্গে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বৈঠক থাকায়। ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটারদের ট্রায়ালে অতিথি হয়ে যাওয়া মুশফিকের কাছে এদিনও প্রশ্ন করা হলো ওই বৈঠক নিয়েই। গত মঙ্গলবার রাজধানীর পাঁচ তারকা একটি হোটেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে ‘শেয়ার অ্যান্ড কেয়ার’ নামে সে বৈঠকের আয়োজন করেছিল বিসিবি। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সবার আগে হাজির হয়েছিলেন জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিক। প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকের পর বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, ক্রিকেটাররা মন খুলে তাদের সমস্যার কথা বলেছেন।
ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটারদের বাছাই কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম ও সানোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি অংশ নেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট উইং চেয়ারম্যান আকরাম খান। আগের দিন বিসিবির সঙ্গে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বৈঠক থাকায় এই অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি মুশফিকুর। বিসিবির শেয়ার অ্যান্ড কেয়ার সভায় নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো উদ্যোগ। বাস্তবায়ন যত দিন না হবে, এসব বৈঠক ফলপ্রসু হবে না। আমরা তো ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ দিকে, আশা করব, পরের প্রজন্মের জন্য এ রকম পরিবেশ যেন তৈরি করে দিতে পারি, যাতে তারা নিয়মিত সব জায়গায় গিয়ে খেলতে পারে। ও রকম মাঠ যেন করে দিয়ে যেতে পারি, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা দিতে পারি।’
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়াবে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি, এরপর জাতীয় লিগের চার দিনের আসরও হবে। এই টুর্নামেন্টে খেলবেন কি না, জানতে চাইলে মুশফিক বলেছেন, ‘যদি কোনো দল নেয়, জাতীয় লিগে খেলার ইচ্ছে আছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সব দিক দিয়ে চেষ্টা করছি, এখন দেখা যাক।’ ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটারদের নিয়ে মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটাররা নিজেদের মানসিক অবস্থা সয়ে যেভাবে লড়াই করে খেলছে, তাতে তারা বাহবা পাওয়ার যোগ্য। এখান থেকে আমাদের মতো স্বাভাবিক মানুষদের অনেক কিছু শেখার আছে। তাদেরকে সহযোগিতা করা আমাদের অনেক বড় দায়িত্ব।
তাদেরকে উৎসাহ দেওয়ার মতো কিছু করে দিতে পারলেও শান্তি পাব। তাহলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তাদেরকে মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে যে, তারাও আমাদের মতো একজন মানুষ। এমন উৎসাহ পেলে তারা আরও ভালো খেলতে পারবে। বিসিবি সহযোগিতা করলে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যাবে ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট।’ ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ট্রায়াল ও সিলেকশন ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিনে চারটি বিভাগ থেকে প্রায় শতাধিক ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটার অংশ নেন।
স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ও সরকারসৃষ্ট এনসিপি পিআর চায়: মেজর হাফিজ
স্বাধীনতাবিরোধী ও সরকারের সৃষ্ট এমন দুটি রাজনৈতিক দল পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মেজর হাফিজ বলেন, ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তারা নতুন নতুন তত্ত্ব আনছে। পিআর নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
তিনি দাবি করেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। তাই অনেকেই ওই সময়ে নির্বাচন চান না। জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে তাদের খেদমত করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের সৃষ্ট দল আখ্যা দিয়ে হাফিজ বলেন, ‘যাদের নিবন্ধনই হয়নি তারা বলছে নির্বাচন হতে দেয়া যাবে না।’
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে দেবে না, বরং একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চায়।’
হাফিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, দেশের মানুষের জন্য যাদের কোনো ত্যাগ নেই, তারাই নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছে।
নাইজারে ভয়াবহ বন্যায় নিহত অন্তত ৪৭
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে টানা বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় কমপক্ষে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আরও অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
নাইজারের সিভিল প্রটেকশন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৩৩৯টি মহল্লা ও গ্রামে মোট ৭ হাজার ৭৫৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “নিহতদের মধ্যে ৩০ জন ঘরবাড়ি ধসে এবং অন্য ১৭ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭০ জন এবং বন্যায় ২৫৭টি গবাদিপশু মারা গেছে।”
বন্যা প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ৭৭৬টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যক্তিদের সহায়তায় সরকার ১ হাজার ২০০ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ (২১ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করেছে।
আনাদোলু বলছে, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বন্যা অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফ্রিকা মহাদেশে বৃষ্টিপাতের ধরণ পাল্টে যাওয়ায় এ অঞ্চলে বন্যার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে।


