Home Blog Page 332

ব্যাংককে রোমান্স করছেন ইমরান হাশমি-দিশা পাটানি!

০
বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক ইমরান হাশমি। রোমান্টিক চরিত্রে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সেই ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। এবার তিনি ফিরছেন নতুন প্রজন্মের নায়িকা দিশা পাটানির সঙ্গে। বর্তমানে তারা ব্যস্ত আছেন ‘আওয়ারাপন ২’ ছবির শুটিংয়ে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলছে ছবিটির দৃশ্যধারণ। নির্মাতা বিশেশ ভাট এবং নিটিন কাকার বলছেন, পুরো শুটিং মাসব্যাপী চলবে কাজ। সিনেমার প্রায় অর্ধেক দৃশ্যায়ন ব্যাংককে শেষ করা হবে।
এক সূত্র জানিয়েছে, ‘এই শুটিংয়ে প্রধান দুই নায়ক-নায়িকা এবং পুরো টিম ব্যাংককে অবস্থান করবে এক মাস ধরে। পুরো কাহিনীও ব্যাংকককে ঘিরে আবর্তিত। তাই বাস্তব লোকেশনেই হবে কাজ।’
প্রযোজক বিশেশ ভাট এই ছবির সংগীতের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন। সূত্রের কথায়, ‘আওয়ারাপন সিরিজের ছবিগুলোতে সংগীত সবসময় গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্বিতীয় কিস্তি ফ্যানদের হতাশ করবে না। ব্যাংককের শুটিং শেষে নভেম্বর মাসে আরেকটি শুটিং সেশন হবে। আশা করা হচ্ছে, পুরো কাজ আগামী জানুয়ারিতে শেষ করা যাবে।’
সূত্র আরও জানিয়েছে, ‘আওয়ারাপন ২’ ছবির মুক্তির দিনক্ষণ আগামী বছরের ৩ এপ্রিল নির্ধারিত।
ইমরান হাশমি ছবিটিতে আবারও শিবম চরিত্রে ফিরতে উত্তেজিত হয়ে আছে। দিশাও প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে পুরো ছবির রোমান্টিক যাত্রা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে রয়েছেন।

আইসিসি থেকে বড় শাস্তি পেল ভারত ক্রিকেট দল

০
নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে আর অল্প কিছুদিন বাকি। তবে তার আগেই ভারতের নারী দলকে শাস্তি দিল আইসিসি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে মন্থর ওভার রেটের কারণে তাদের এ শাস্তি প্রদান করা হয়।
শেষ ওয়ানডেতে মন্থর ওভার রেটের কারণে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে ভারত নারী দলকে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে বেথ মুনি ও স্মৃতি মান্ধানার শতকের পরও হার এড়াতে পারেনি ভারত। অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ৪৩ রানে।
ওভার রেটের হিসেবে, নির্ধারিত সময়ের থেকে দুই ওভার পিছিয়ে ছিল ভারত। এমিরেটস আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল প্যানেলের ম্যাচ রেফারি জিএস লক্ষ্মী ভারতকে এই শাস্তি দেন।
আইসিসির আচরণবিধির ২.২২ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে প্রত্যেক ওভার না করতে পারলে প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা গুনতে হয়। সে অনুযায়ী ভারত দলকে ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রিত কর অভিযোগ স্বীকার করে নেন এবং শাস্তি মেনে নেন। তাই আর কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

নিউইয়র্কের বিমানবন্দরের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানালেন মির্জা ফখরুল

০
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ রাজনীতিবিদদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের একটি পোস্ট তিনি লেখেন, ‘নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে যা ঘটেছে, তা আবারও প্রমাণ করলো– আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না।’
বিচারের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজ পর্যন্ত যা অন্যায় করেছে, সবকিছুর বিচার আইনের মাধ্যমে হবে। দল ও দেশের স্বার্থে ধৈর্য ধরুন।’
প্রসঙ্গত, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নিউইয়র্ক সফরে গিয়ে বিমানবন্দরে ডিম নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকেও গালমন্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের উচ্ছৃংখল সমর্থকরা গতরাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।

খেলাপি ঋণ নবায়নে ছাড়, ঝুঁকি বাড়াবে ব্যাংক খাতে

০
খেলাপি ঋণ নবায়নে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক যে ছাড় দিয়েছে, তাতে দেশের ব্যাংক খাতে সার্বিকভাবে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাবে। এই সুবিধার ফলে সাময়িকভাবে খেলাপি ঋণের মাত্রা কমতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ আদায় কমে যাবে। গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা বিলম্বিত হবে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে চাপে পড়বে ব্যাংক খাত।
এর আগে ২০২২ সালে এই ধরনের ছাড় দিয়েও কোনো বাড়তি সুবিধা পায়নি ব্যাংক খাত। সোমবার রাতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা মুডিসের এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ নবায়নের বিষয়ে নতুন একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে নবায়ন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদে ঋণ নবায়ন করা যাবে। গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে দুই বছর। খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকলে নবায়নের পর তা স্থগিত রাখতে হবে।
মুডিস এই ধরনের সুবিধা দেওয়ার ফলে দেশের ব্যাংক খাতের জন্য ‘ক্রেডিট নেগেটিভ’ বা ঋণের জন্য নেতিবাচক হিসাবে অভিহিত করেছে। এ ধরনের নীতির কারণে ব্যাংকের ওপর চাপ সাময়িকভাবে কমলেও দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকি বাড়বে। সেই সঙ্গে ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ, এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধরনের সুবিধা দিয়ে কোনো সুফল পায়নি। গ্রেড পিরিয়ড দেওয়ার কারণে গ্রহীতার প্রকৃত ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই করা বিলম্বিত হবে। কারণ, নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করলে গ্রহীতা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে। তার ব্যবসার গতিবিধি বোঝা যায়। দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডের কারণে তা বোঝা যাবে না। ফলে দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডের পর গ্রাহক ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কি না, সেটি বোঝা কঠিন হবে।
বিশেষ ছাড়ে খেলাপি ঋণ নবায়নের কারণে কৃত্রিমভাবে খেলাপির প্রবণতা কম মনে হতে পারে। ঋণমানের ঝুঁকি থেকে যাবে। খেলাপি ঋণ নবায়নের পর ৯০ দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করার বিধান ঋণ আদায় কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে। পাশাপাশি ঋণগ্রহীতা আবার খেলাপি হলে ব্যাংকের ঝুঁকির মাত্রা ফের বেড়ে যাবে। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ নবায়নের প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে মুডিস।
খেলাপি ঋণ নবায়নে এই শিথিলতার কারণে প্রকৃত অর্থে ঋণ আদায়ের পরিবর্তে অনাদায়ি ঋণের সংস্কৃতি আরও স্থায়ী রূপ পাবে। খেলাপি ঋণ নবায়ন প্রক্রিয়ায় তদারকি না বাড়িয়ে বারবার শিথিল করা হলে জামানতবিহীন ঋণ কাগজে-কলমে সচল দেখানো হতে পারে। এতে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি আরও বাড়বে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ব্যাংক খাতের অনাদায়ি ঋণের হার ছিল মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৫ সালের মার্চে তা বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে মূলধন নেমে এসেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশে। এটি নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে। কমপক্ষে ১০ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। তারা যে তিনটি ব্যাংকের ঋণমান নির্ধারণ করেছে, ওই তিনটি ব্যাংকের অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আছে। ব্যাংক তিনটি হলো ইস্টার্ন ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।

বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা পেলেন আহসান খান চৌধুরী

০
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা পেয়েছেন শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ-আরএফএলের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী।
তিনি ছাড়াও দেশের পাঁচ ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ‘বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৪’ শীর্ষক এ সম্মাননা দিয়েছে আন্তর্জাতিক লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ২৩তম ডিএইচএল-দ্য ডেইলি স্টার বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিতে এবারের আয়োজনের মূলমন্ত্র ছিল ‘পাওয়ারিং দ্য প্রাইভেট সেক্টর’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বছরব্যাপী অসাধারণ কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার স্বীকৃতি দিতে এবার মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া করা হয়। ২০২৪ সালের জন্য বিজয়ীরা হলেন—সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক, সেরা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপ, সেরা ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব প্রাণ গ্রুপের সিইও আহসান খান চৌধুরী।
এছাড়া আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন এসিআই লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা, আর অসাধারণ নারী উদ্যোক্তার পুরস্কার পেয়েছেন শেয়ার ট্রিপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সাদিয়া হক।
অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টার হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন আহসান খান চৌধুরী। এসময় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়ারুল হক বলেন, বাংলাদেশ আজ এক রূপান্তরের পথে, যেখানে বেসরকারি খাত প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। পুরস্কারপ্রাপ্তরা শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন।
অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, দুঃখজনকভাবে কিছু করপোরেট নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করে অতীতে ব্যাংক লুট করেছে এবং দেশকে অপমানিত করেছে। তাই প্রথম পদক্ষেপ হবে—সৎ ব্যবসায়ী ও অসৎ ব্যবসায়ীর মধ্যে পার্থক্য করা।
তিনি বলেন, এতদিন ধরে যারা সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছেন, তারা শুধু সরকারি সহায়তার অভাবই ভোগেননি, রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়েছেন। তবুও তারা সততা, মর্যাদা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে টিকে থেকেছেন। তাদের আমরা সম্মান জানাই।
ডেইলি স্টার সম্পাদক আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে মাত্র ছয় মাস সময় আছে। আমি অনুরোধ করবো—এই সময়টুকু ব্যবহার করে কিছু বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিন। ছোট ছোট উদ্যোগ হলেও তা বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি রূপরেখা রেখে যান।
‘আমি বেসরকারি খাতকেও আহ্বান জানাই—আপনারা নিজেরা একটি প্রাইভেট সেক্টর চার্টার তৈরি করুন এবং জাতির সামনে উপস্থাপন করুন। যেন সবাই জানতে পারে, আপনারা সরকারের কাছে কী ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন’- যোগ করেন মাহফুজ আনাম।

 

ইসরায়েলের জন্য ‘রেড লাইন’ ঘোষণা সৌদি-ফ্রান্সের

০
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শেষে ইসরায়েলের জন্য ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর সেখানে বসতি স্থাপন বা দখলদারির চেষ্টা আন্তর্জাতিকভাবে রেড লাইন বলে বিবেচিত হবে।
সোমবার ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের আল-আকসা অঞ্চলে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন করতে জাতিসংঘ, ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, সান মারিনো ও অ্যান্ডোরাও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেয়। এর একদিন আগে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পর্তুগাল একই ঘোষণা দিয়েছিল।
সম্মেলন শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশ দুটি আরও বলেছে, ইসরায়েল এই রেড লাইন অতিক্রম করলে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে এবং বিদ্যমান ও ভবিষ্যতের শান্তি চুক্তিগুলো সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান ও সব জিম্মিকে মুক্ত করাই তাদের কাছে এখন ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
গাজা সিটির ভেতরে ইসরায়েলি স্থল অভিযানের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। নিরীহ বেসামরিক মানুষ ও জিম্মিদের যে মূল্য দিতে হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
সৌদি আরব ও ফ্রান্স স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, জিম্মি মুক্তি, বন্দি বিনিময়, গাজায় মানবিক সহায়তার পূর্ণ প্রবেশাধিকার ও ফিলিস্তিন থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা ঘোষণা দিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক মিশন পাঠাতে তারা প্রস্তুত। ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে একীভূত করার গুরুত্বও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা ও তত্ত্বাবধানের ভিত্তিতে হামাসকে গাজা শাসন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে, অস্ত্র জমা দিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করতে হবে।
ফ্রান্স ও সৌদি আরব ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে। মাহমুদ আব্বাস স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ফিলিস্তিন হবে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ প্রত্যাখ্যান করবে, কোনও গোষ্ঠীকে সামরিকীকরণ করবে না ও সবার জন্য উপকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এছাড়া ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার পদক্ষেপ, যেমন- ‘পে-টু-স্লে’ ভাতা বাতিল, শিক্ষাখাতে পরিবর্তন ও যুদ্ধবিরতির এক বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতিকে প্রশংসা করেছে তারা।
ইসরায়েলকে সুযোগটি কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এখনই সময় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি স্পষ্ট জনসমক্ষে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার একইসঙ্গে বসতি স্থাপন কার্যক্রম ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, এই মুহূর্তে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া আসলে হামাসকে পুরস্কৃত করার শামিল, যা বাকি ৪৮ জন জিম্মির মুক্তি এবং যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 

কড়া ভাষায় চিঠি লেখা আর ফাঁকা বুলি ছাড়া কাজ নেই জাতিসংঘের: ডোনাল্ড ট্রাম্প

০
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার জন্য বৈশ্বিক ওই সংস্থাকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার উদ্বোধনী অধিবেশনে জাতিসংঘকে নিয়ে উপহাস করার পাশাপাশি সংস্থাটির বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করার অভিযোগ করেছেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে ফিরে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অভিবাসনের মাধ্যমে একধরনের ‘আক্রমণ’ চালাচ্ছে। যা দেশগুলোকে ‘ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৈশ্বিক ওই মঞ্চে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রচেষ্টারও তীব্র সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগকে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
‘‘জাতিসংঘের উদ্দেশ্য আসলে কী?’’ প্রশ্ন করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তাদের যা করতে দেখা যায় তা হলো কেবল কড়া ভাষায় লেখা চিঠি পাঠানো। এসব ফাঁকা বুলি, আর ফাঁকা বুলি দিয়ে যুদ্ধ থামানো যায় না।
৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভাঙা এসকেলেটর ও টেলিপ্রম্পটার নিয়েও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‘জাতিসংঘের কাছ থেকে আমি যে দুটি জিনিস পেয়েছি, তা হলো একটি ভাঙা এসকেলেটর এবং একটি খারাপ টেলিপ্রম্পটার।’’
ট্রাম্প তার ভাষণে সাতটি যুদ্ধ বন্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তবে দুটি বড় সংঘাতের সমাধানে কোনো সাফল্য পাননি বলে স্বীকার করেন তিনি। এই দুই সংঘাত হলো, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর শুরু হওয়া ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কয়েকটি দেশের ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘হামাসের নৃশংস কর্মকাণ্ডের পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জিম্মিদের মুক্তি দিতে হামাসের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করায় ইউরোপীয় মিত্রদের পাশাপাশি চীন ও ভারতকে নিয়ে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাকে তুলনামূলক নরম সুরে কথা বলতে দেখা গেছে। যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে অনির্ধারিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বক্তৃতায় অভিবাসন ইস্যুতে সবচেয়ে কঠোর ভাষার ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। জাতিসংঘকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, এই সংস্থাটি ‘‘পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণে অর্থায়ন করছে।’’
ট্রাম্প বলেন, উন্মুক্ত সীমান্তের এই ব্যর্থ পরীক্ষা শেষ করার সময় এসেছে। আপনাদের দেশগুলো ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র সাদিক খানের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হয়েছে একের পর এক জাতীয়তাবাদী নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে; যা বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং জাতিসংঘের জলবায়ু চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন, বিদেশি সহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব বিদেশি বিচারকের রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সহায়তা হ্রাস বিশ্বের জন্য ধ্বংস ডেকে আনছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘আমরা কোন ধরনের বিশ্ব বেছে নেব? অপ্রচলিত শক্তির বিশ্ব, নাকি আইনের শাসনের বিশ্ব?’’
ইউক্রেন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে ট্রাম্পের। গত বছরের ১৫ আগস্ট আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পর দ্বিতীয়বারের মতো তাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই বৈঠক রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের চাপ কিছুটা কমালেও ইউক্রেন সংকটে কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।
ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের মাঝে চলা দীর্ঘ যুদ্ধ শিগগিরই বন্ধ করতে সক্ষম তিনি। তবে গত এক মাসে ইউক্রেনে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া এবং ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া ও রোমানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন কিংবা বিমান প্রবেশ করিয়ে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আর্জেন্টিনার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মাইলির সঙ্গে ট্রাম্পের নির্ধারিত একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মাইলির সরকারকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার অধিবেশনের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের সদর দপ্তর এবং আশপাশের এলাকা ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। এ সময় যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস বলেছে, তারা একটি ‘টেলিযোগাযোগ ষড়যন্ত্র’ ব্যর্থ করে দিয়েছে।
সিক্রেট সার্ভি বলেছে, ১ লাখেরও বেশি মোবাইল সিমকার্ড নিয়ে তৈরি একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জাতিসংঘের আশপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করার পরিকল্পনা ছিল। এতে একটি রাষ্ট্রের সমর্থিত কিছু গোষ্ঠী জড়িত ছিল।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা

০
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় তা জানেনো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় জ্বালানি উপদেষ্টা ফৌজুল কবির খান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন।
সেশনের আগে, প্রধান উপদেষ্টা উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিও লুবেটকিন এবং চিলির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মিশেল ব্যাচেলেট, যিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাংকের সভাপতি অজয় বাঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

০
দীর্ঘসময় বিমানযাত্রা শেষে নিউইয়র্কে অবতরণের পর বিশ্রাম না নিয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতের জন্য মনোনীত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সঙ্গে এক বৈঠককালে তিনি বলেছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের জন্য দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বৈঠকে সার্জিও গোর প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা, সার্ক পুনরুজ্জীবন, রোহিঙ্গা সংকট এবং ঢাকাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত ভ্রান্ত তথ্য প্রচারসহ দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজারে বসবাসরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা বজায় রাখার আশ্বাস দেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সার্ক প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্মেলন আয়োজন করতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকার এ সংস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্তি বাংলাদেশের উন্নয়নকে বহুগুণে এগিয়ে নিতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া তিনি নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুততর করতে পারব।’
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা সার্জিও গোরকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সফরের প্রথম দিন সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বেলজিয়ামের রানি মথিল্ড প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। একই দিনে তার সঙ্গে বৈঠক করেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সফরের দ্বিতীয় দিনে কমপক্ষে ১০টি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্ব, একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বৈশ্বিক পর্যায়ের অনুষ্ঠান।
প্রধান উপদেষ্টা দিন শুরু করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এরপর সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১২টায় তিনি অংশ নেন ‘ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট (এফ৪ডি): ১৩তম বার্ষিক অফিশিয়াল ফার্স্ট লেডিস লাঞ্চ’-এ।
বিকালে তার কর্মসূচির মধ্যে ছিল ২টা ৪৫ মিনিটে ‘সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থায়ন: সরকারি ও বেসরকারি খাতের নেতাদের বৈঠক’ শীর্ষক এক আলোচনায় যোগদান। সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আয়োজিত এক সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছান। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।
প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ম্যানহাটনে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে অবস্থান করছেন। এটিই তার অস্থায়ী আবাসস্থল।

 

সাকিবকে ছাড়ালেন লিটন, মুস্তাফিজের সেরা বোলিংসহ যত রেকর্ড

০
সমীকরণের মারপ্যাঁচ মিলিয়ে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে উঠতে হয়েছে বাংলাদেশকে। যেখানে তাদের শুরুটা হয়েছে ‍দুর্দান্ত। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে যে শ্রীলঙ্কাকে টাইগার ক্রিকেটভক্তরা সমর্থন দিয়েছে, তাদের হারিয়েই বাংলাদেশ সুপার ফোর শুরু করল। ৪ উইকেটে জয়ের পথে ব্যক্তিগত অর্জনের পাল্লা ভারী করে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছেন লিটন দাস ও মুস্তাফিজুর রহমানরা।
দুবাইয়ে গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে ১৬৮ রান তোলে। ডেথ ওভারে মুস্তাফিজ-তাসকিনরা তাদের চেপে না ধরলে তাদের পুঁজিটা আরও বড় হতে পারত। বিশেষ করে দারুণ ইকোনমির সঙ্গে কার্যকর ব্রেকথ্রু’র কল্যাণে প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন মুস্তাফিজ। ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান খরচায় তিনি ৩ উইকেট শিকার করেছেন। যা টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সেরা ফিগার।
এতদিন সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার ছিল আল-আমিন হোসেনের। ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে এতদিন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট ছিল ডানহাতি এই পেসারের। এদিক থেকেও তার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মুস্তাফিজ (১১ ম্যাচে)। টুর্নামেন্টটিতে দুজনের উইকেটসংখ্যা সমান ১১। যদিও আল-আমিন ফিজের চেয়ে ম্যাচ (৫) কম খেলেছেন। ১০ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।
এ ছাড়া মুস্তাফিজ এখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার। এতদিন রেকর্ডটি ছিল কেবল সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দখলে। ১২৯ ম্যাচে তিনি ৬.৮১ ইকোনমিতে ১৪৯ উইকেট শিকার করেন। তার চেয়ে আরও ১২ ম্যাচ (১১৭) কম খেলেই সমান ১৪৯ উইকেট শিকার করলেন ফিজ। যেখানে তার ইকোনমি ৭.২৯। ৯৯ উইকেট নিয়ে তালিকার তিনে আছেন তাসকিন।
অন্যদিকে, লঙ্কানদের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাটিংয়ে প্রধান ভূমিকা ছিল সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের। ওপেনিংয়ে নেমে সাইফ ৪৫ বলে ৬১ এবং হৃদয় ৩৭ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। মাঝে ছোট ইনিংসে কার্যকর হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিলেও লিটন দাস আউট হয়ে যান ১৬ বলে ২৩ রানে। তবে এরই মাঝে তিনি একটি রেকর্ড গড়েছেন। বর্তমানে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক লিটন। এতদিন এই রেকর্ডেও শীর্ষে ছিলেন সাকিব। তার করা ২৫৫১ রান (১২৯ ম্যাচ) টপকে লিটনের বর্তমান রান ২৫৫৬ (১১৪ ম্যাচ)।