Home Blog Page 333

পিআর নিয়ে আন্দোলনের লক্ষ্য নির্বাচন বিলম্বিত করা: মির্জা ফখরুল

০

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পিআর পদ্ধতির আন্দোলনের লক্ষ্যই হচ্ছে নির্বাচনকে বিলম্বিত করা, এটা জনগণ গ্রহণ করবে না।’
তিনি বলেন, ‘কয়েকটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতি নিয়ে কথা বলছে এবং আপনারা দেখেছেন এটার জন্য তারা আন্দোলনও করছে। এর একটাই লক্ষ্য তা হচ্ছে, নির্বাচনকে বিলম্বিত করা। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া সেই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি এই দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। আমাদের দলের পক্ষ থেকে তো আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, এখনো বলছি, জনগণই এই পদ্ধতি গ্রহণ করবে না, চাপিয়ে দেওয়া কোনো কিছু এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।’
গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির উদ্যোগে ডেমোক্র্যাটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব এই শঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিএনপি মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কমিটমেন্ট হলো ২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই এই নির্বাচন হবে। আমরা সেটাই দেখতে চাই। জনগণ নির্বাচন দেখতে চায় এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় এবং গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণ করতে চায়।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা জানি যে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যেকোন দল জয়ী হতে পারে জনগণের ইচ্ছার উপর দিয়ে। কিন্তু সেই দলকেই জনগণ বেছে নেবে, যে দল পরীক্ষিত অতীতে যারা পরীক্ষা দিয়েছে অর্থাৎ সরকারে ছিল কাজ করেছে। যেই দল মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে, যেই দল অন্ধকার থেকে আলোতে টেনে নিয়ে এসেছে।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই এই দেশে প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেছিলেন, তিনিই প্রথম এই দেশের সংবিধানে আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস কথাটি রেখেছিলেন।
এখন কিছু দল সেগুলোকে বিকৃত করে বিভিন্নভাবে এই বিএনপিকে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা বয়স কম তারা জানে না, যাদের বয়স একটু বেশি তারা দেখেছেন ১৯৭৫ সাল নভেম্বর কী অবস্থার প্রেক্ষিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই দেশের মানুষ সেই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য নতুন করে তখন স্বনির্ভর বাংলাদেশ তৈরি করার কাজে ঝাপিয়ে পড়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক একইভাবে আজকে আবার আমরা সবাই এক হয়েছি আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে। আমরা অবশ্যই বাংলাদেশকে আবার একটা স্বনির্ভর, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাব, এমন বাংলাদেশই নির্মাণ করতে চাই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে। সমস্ত ষড়যন্ত্র চক্রান্তকে পরাজিত করবার শক্তি বাংলাদেশের মানুষের আছে।’
সামনে কঠিন পরীক্ষা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। প্রতিদিন আপনাদের এই ইউটিউব, টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়া এগুলোতে বিভিন্ন রকম মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ আমার বিশ্বাস আপনারা এখান থেকে সঠিক তথ্যটি বেছে নিতে পারবেন। এই দেশের মানুষ কখনো ভুল করে না, সবসময় সঠিক পথে এগিয়ে যায়। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে চাই।
যেখানে একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তার আস্থা প্রকাশ করবে এবং তাদের একটা পার্লামেন্ট ও তাদের সরকার বেছে নেবে। আপনাদের আবার অনুরোধ করব যে, সুযোগ আমরা পেয়েছি বাংলাদেশকে নতুন করে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবার সেই সুযোগ যেন আমরা না হারাই।’
একাত্তর মুছে ফেলা যাবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু সংখ্যক মানুষ চেষ্টা করে আমাদের ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে। এটাও সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে, একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল বলেই আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম, স্বাধীন হয়েছিলাম বলেই আজকে আমরা নতুন রাষ্ট্রের নতুন চিন্তা করতে পারছি, স্বাধীন হয়েছিলাম বলেই কিন্তু আমরা আজকে এই বাংলাদেশকে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করবার যে সংগ্রাম সেই সংগ্রামে অংশ নিতে পারছি।’
তিনি বলেন, ‘তখন আমরা যুবক ছিলাম, লড়াই করেছি, যুদ্ধ করেছি। আমাদের মধ্যে এখানে অনেকে আছেন যারা সেই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, পরবর্তীকালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে অংশ নিয়েছেন, এই চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, আমরা সবাই এই যুদ্ধগুলোতে অংশ নিয়েছি। শুধু একটা লক্ষ্য আমরা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ একটা বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেই কথাটি মাথায় রেখে সকলে যেন সামনের দিকে এগিয়ে যাই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বয়স এক বছর পার হয়েছে, এই ১৪ মাসে রাতারাতি আলাদিনের চেরাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটা খুব সুন্দর বানিয়ে ফেলবে এই আশা জনগণ করে না এই সরকারের কাছ থেকে। কিন্তু প্রক্রিয়ার শুরুটা চায়… চায় যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হোক যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ দেখতে পাব।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন, যে তারেক রহমান একটা সাক্ষাৎকার দিয়েছে বিবিসিতে।
সেখানে তিনি এই প্রশ্নগুলো তুলে ধরেছেন এবং কিভাবে তিনি দেশের সমস্যার সমাধান করতে চান সেই সমস্যাগুলো তিনি তুলে ধরেছেন। ফিন্যাশনাল টাইমসেও তিনি একইভাবে কথাগুলো বলেছেন।’
বেকার সমস্যাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে বিএনপি ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেছে এবং ‘অনেক কাজ সম্পন্ন’ করে রাখা হয়েছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জাগপার খন্দকার লুফুর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, সাম্যবাদী সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদিকী বক্তব্য রাখেন।

মিসরে ট্রাম্পের ‘শান্তি সম্মেলনে’ থাকছেন যারা

 

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিশ্বনেতারা। স্থানীয় সময় আজ সোমবার মিসরের পর্যটন শহর শারম আল শেখে অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলন। সেখানে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি ইতিমধ্যে চুক্তি হয়েছে, তাতে ট্রাম্প সই করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর আলজাজিরার।

ট্রাম্পসহ ২০টির বেশি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। সম্মেলনে যোগ দিতে ইতিমধ্যে মিসরে পৌঁছেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের।

তবে ইসরায়েল সরকারের কেউ থাকছেন না সম্মেলনে। গতকাল রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র শোশ বেদরোসিয়ান।

এদিকে ফিলিস্তিনি একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, গাজায় সংঘাত নিয়ে আলোচনা হলেও হামাসের কোনো নেতা সম্মেলনে থাকবেন না। যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অংশ নেওয়া হামাসের প্রতিনিধিদলের প্রধান খলিল আল-হায়াসহ বেশির ভাগ সদস্য গত শনিবার শারম আল শেখ ছেড়েছেন।

দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকার সাবেক সিএমএম রেজাউল করিম বরখাস্ত

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরীকে সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সাময়িক বরখাস্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে বরখাস্ত করে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম জুডিশিয়াল সার্ভিসের শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যুক্তিযুক্ত মর্মে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম জুডিশিয়াল সার্ভিসের শৃঙ্খলা বিধিমালা-২০১৭ এর বিধি ১১ অনুযায়ী রেজাউল করিম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, ঢাকার সিএমএম থাকাকালীন রেজাউল করিম চৌধুরীর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

মেক্সিকোতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪

মেক্সিকোতে প্রবল বন্যায় এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৪ জন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভেরাক্রুজ রাজ্য। খবর আল জাজিরার।

রোববার এক বিবৃতিতে মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, দুটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ের প্রভাবে দেশটিতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এরফলে ভেরাক্রুজ, পুয়েবলা, হিডালগো, কুয়েরেতারো এবং সান লুইস পোতোসিসহ পাঁচটি রাজ্যে ভূমিধস এবং বন্যা দেখা দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভেরাক্রুজ রাজ্যে বন্যায় ১৮ জন, হিদালগোতে ১৬ জন, পুয়েবলায় নয়জন এবং কুয়েরেতারোতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম এল ইউনিভার্সাল জানিয়েছে মৃতের সংখ্যা ৪৮ জন।

কর্তৃপক্ষ জানায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে প্রায় তিন লাখ ২০ হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমপক্ষে ১৬ হাজার বাড়ি। বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মৌসুমি ঝড় প্রিসিলা ও রেমন্ডের জেরে গত ৬ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী বর্ষণ শুরু হয় মেক্সিকোজুড়ে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুসারে, শুধু ভেরাক্রুজেই তিন দিনে ৫৪০ মিলিমিটার (২১ ইঞ্চিরও বেশি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

৯ অক্টোবরের পর থেকে ঝড় ও বৃষ্টির তেজ কমতে থাকে। এ সময় উদ্ধার অভিযানে নামে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর ও সেনাবাহিনী। দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রবল বৃষ্টির জেরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিধস হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় অনেক এলাকায় গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে বাড়িঘরের ওপর পড়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কর্মবিরতি শুরু

২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়াসহ তিন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের প্রতিবাদে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

সোমবার সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষকদের একাংশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল রোববার থেকে অবস্থান করছেন। প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বেলা ১১টার দিকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক জড়ো হয়েছেন। জোটের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজীসহ অনেকেই পলিথিন ও মাদুর বিছিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন। এক পাশে শিক্ষকরা স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তারা প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ওপর পুলিশের জলকামান ও লাঠিচার্জের বিচার দাবি করেন।

তারা বলেন, আমরা সুবিচার পাচ্ছি না। প্রেসক্লাবের সামনে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা তো এখানে থাকতে আসিনি। দাবি মেনে নিলে আমরা ফিরে যাবো। অবিলম্বে মধ্যে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া এবং ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

রাজধানীর একাধিক স্কুল কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে শিক্ষকরা স্কুলে উপস্থিত হলেও ক্লাসসহ কোনো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কর্মবিরতি চলছে। তারা শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিবেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি বলেন, ‘গতকাল শিক্ষকদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। এই সরকার থেকে এটি আশা করিনি। আমাদের পাঁচ সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের তিনটি বিষয় নিয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন না হবে, ততক্ষণ আমাদের কর্মসূচি চলবে।’

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেছি, সেহেতু আপনারা শিক্ষকরা শহীদ মিনারে চলে আসুন। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান আপনাদের বাধা দেয়, তাহলে শিক্ষকরা মিলে তাকে বাধ্য করবেন।

এর আগে, রোববার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোমবার থেকে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি। তিনি বলেন, ‘প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে সোমবার থেকেই দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালন করা হবে।’

রোববার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর প্রেসক্লাব এলাকায় শিক্ষকদের পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও লাঠিচার্জ করে। এরপর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন তারা। কিছু শিক্ষকদের আবারও প্রেসক্লাব এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা যায়। এ ছাড়া আরেকটি অংশ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সরে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন।

প্রজ্ঞাপন ছাড়া শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন না বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জোট। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ে আলোচনা শেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব আজিজী এ ঘোষণা দেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের শিক্ষক সমাবেশে লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিল। ওইদিন শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেসিকের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস পার হলেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ।

সূত্রমতে, শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে নতুন করে বাড়িভাড়া ভাতা ও মেডিকেল ভাতার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাবনা গত ৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ নির্ধারণে নতুন প্রস্তাব করা হয়। একইসঙ্গে কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ এবং চিকিৎসা ভাতা এক হাজার টাকার প্রস্তাব করেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না।

সম্প্রতি গাজা সফর শেষে শনিবার এক্স (সাবেক টুইটার)- এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সংঘাত-পরবর্তী সময়ের স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করতেই তার এ সফর।

এ সম্পর্কে ব্র্যাড কুপার বলেন, ‘গাজা সফরকালে আমরা একটি সিভিল-মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার গঠনের বিষয়ে কথা বলেছি, যা ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।’

ওয়াশিংটনভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কুপারের এ সফর মূলত সংঘাত-পরবর্তী মানবিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছি-ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েন করার কোনো পরিকল্পনা নেই।’

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের পর গাজায় একটি টেকসই ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহল বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কিন সেনা মোতায়েন না করার ঘোষণাকে অনেকেই সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন।

হল্যান্ডের হ্যাটট্রিকে ইসরাইলকে উড়িয়ে দিল নরওয়ে

০

পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারলেও থামানো গেল না আর্লিং হল্যান্ডকে। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে তিনি নেতৃত্ব দিলেন নরওয়ের জয়ে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে ইসরাইলকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ইউরোপীয় বাছাইপর্বে গ্রুপ আই-এ শীর্ষে উঠে এসেছে দলটি।

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে নরওয়ে। সর্বশেষ তারা বড় কোনো টুর্নামেন্ট খেলেছিল ইউরো ২০০০-এ। এই জয়ের ফলে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইতালির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে আছে, যদিও ইতালির হাতে এখনও দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার এস্তোনিয়ার বিপক্ষে যদি জয় পায় নরওয়ে, আর ইতালি তাদের বাকি দুই ম্যাচের একটিতেও হারায়, তাহলে নিশ্চিত হয়ে যাবে নরওয়ের বিশ্বকাপ টিকিট।

ওসলোর উলেভাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে ভিন্ন চিত্র। শত শত মানুষ জড়ো হন ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে। গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিজ ক্লাভেনেসও সম্প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান।

ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই স্পটকিক পান নরওয়ে। কিন্তু হল্যান্ডের নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন ইসরাইল গোলকিপার ড্যানিয়েল পেরেটজ। পরে ‘এনক্রোচমেন্ট’-এর কারণে শটটি আবার নেওয়া হলেও দ্বিতীয়বারও সেভ করেন পেরেটজ।

তবে ১৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। ইসরাইল ডিফেন্ডার আনান খালাইলির আত্মঘাতী গোলে স্বাগতিকরা পায় প্রথম গোল। এরপর ২৩ মিনিটে হল্যান্ড গোল করে টানা নবম আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্কোরশিটে নাম তোলেন।

২৮ মিনিটে আবার আত্মঘাতী গোল। পেরেটজের কিক ডিফেন্ডার ইদান নাখমিয়াসের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। গোল ঠেকাতে গিয়ে তিনি পোস্টে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন।

বাকি দুই গোল আসে দ্বিতীয়ার্ধে। ৬৩ মিনিটে নুসার ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হল্যান্ড। ৭২ মিনিটে আরও একটি হেডে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক- যা তার বাছাইপর্বে সর্বমোট গোলসংখ্যাকে ১২-তে পৌঁছে দেয়, যা ইউরোপীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ।

কারিনার রাগ কীভাবে সামলান জানালেন সাইফ

০

বহু বছরের সফল দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন বলিউডের তারকা জুটি সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর খান। গ্ল্যামারের দুনিয়ায় থেকেও তাদের সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও বোঝাপড়া অনুপ্রেরণা জাগায় অনেকের মাঝে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাইফ খোলাসা করেছেন, স্ত্রী কারিনা রেগে গেলে তিনি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন।

সাইফ বলেন, ‘কারিনা যখন রেগে যায়, তখন আমি চুপ করে যাই। তাকে শান্তভাবে শুনি, কিন্তু কিছু বলি না। এটা আমার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।’

২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সাইফ ও কারিনা। বয়সে ১১ বছরের পার্থক্য থাকলেও তাদের সম্পর্কে কখনোই সেটি প্রভাব ফেলেনি। বরং সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

কারিনা আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বয়স নয়, সম্পর্ক টেকে বোঝাপড়া ও সম্মানের উপর। তার ভাষায়, ‘ভালোবাসা থাকলে যেকোনো সমস্যা সহজেই কাটিয়ে ওঠা যায়।’

দুই সন্তানের এই তারকা দম্পতি আজও বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী ও সমন্বিত জুটি হিসেবে বিবেচিত।

সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইতে বড় দরপতন

০
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে (৫-৯ অক্টোবর) অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দরপতন হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চারদিনই সূচক নিম্নমুখী ছিল। এতে সবগুলো মূল্যসূচক ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। তবে গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টির দর বেড়েছে, ২৯৮টির কমেছে এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫,২৮৪ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫,৪১৬ পয়েন্ট। ডিএসই ৩০ সূচক ৪৯ পয়েন্ট কমে ২,০৩৩ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৩৮ পয়েন্ট কমে ১,১৩৪ পয়েন্টে নেমেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬৫৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। পাঁচ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ৩,২৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে তিন কার্যদিবসে ছিল ১,৮৬০ কোটি টাকা।
তবে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৭,৯৩৬ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।
অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই সময়ে সব সূচক কমেছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৪,৯৪৮ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স সূচক ৯,১৮৮ পয়েন্টে নেমেছে। সপ্তাহে সিএসইতে ৩২১ টি সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে এর মধ্যে ১০২টির দর বেড়েছে, ১৯৭টির কমেছে, আর ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের পরিমাণও সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে আসা জাহাজসহ ৫০টির বেশি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

০
ইরানের পেট্রোলিয়াম ও তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রফতানিতে সহায়তার অভিযোগে ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাতেও চালান পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগীয় সংস্থা অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।
ওএফএসি জানায়, ইরানের নগদ অর্থ প্রবাহ কমানো এবং ওয়াশিংটন দ্বারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানের তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দুটি চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, চলমান পরিবহন কার্যক্রম সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের (চক্র) সহযোগিতায় ইরান বিলিয়ন ডলারের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করছে, যা দেশটির সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব সরবরাহে ভূমিকা রাখছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, নতুন এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো ইরানের জ্বালানি রফতানি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা। এটি ওয়াশিংটনের চলমান সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ নীতিরই অংশ।
বাংলাদেশে পৌঁছানো চালান : নতুনভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্তদের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্লোগাল এনার্জি ডিএমসিসি এবং মারকান হোয়াইট ট্রেডিং ক্রুড অয়েল অ্যাবরোড কোম্পানি এলএলসি। ২০২৪ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় ইরানের এলপিজি চালান পাঠাতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
ওএফএসি জানায়, একাধিক চালান অবশেষে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছেছে।
মার্কিন অর্থ বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে গ্যাস ডিওর নামের পানামা পতাকাবাহী জাহাজ—যা পানামাভিত্তিক এরিলিন শিপিং ইনক.-এর মালিকানাধীন—অকটেন এনার্জি এফজেডসিও নামের প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশে ১৭ হাজার টনেরও বেশি ইরানি এলপিজি সরবরাহ করে। ওই প্রতিষ্ঠানকেও এখন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে কোমোরোস পতাকাবাহী আরেক জাহাজ, আদা (আইএমও ৯০০৮১০৮)—পূর্বে যার নাম ছিল ক্যাপ্টেন নিকোলাস—বাংলাদেশের কিছু ক্রেতার কাছে ইরানি এলপিজি সরবরাহ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সি শিপ ম্যানেজমেন্ট এলএলসি-এর মালিকানাধীন ওই জাহাজটিকে সর্বশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ‘অবরুদ্ধ সম্পদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বিএলপিজি সোফিয়া নামের একটি ছোট জাহাজে এলপিজি খালাসের সময় ক্যাপ্টেন নিকোলাস-এ আগুন ধরে যায়। প্রায় ৩৪ হাজার টন এলপিজি বহনকারী জাহাজটি পরে আইনি জটিলতার কারণে কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর জাহাজটিকে পুনরায় গ্যাস স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়। ভেসেল-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এটি এখনও চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। যদিও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে এসব চালানের কথা উল্লেখের মাধ্যমে বাংলাদেশকেও এখন ওয়াশিংটনের সম্প্রসারিত নজরদারি ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থার আওতায় দেখা হচ্ছে। মার্কিন আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ লেনদেনে জড়িত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এর ঝুঁকিতে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর মতো কঠোর পদক্ষেপও।
বর্ধিত বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা নেটওয়ার্ক : চলতি বছরে ইরানের তেল ক্রেতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ দফা নিষেধাজ্ঞা এটি। বিশেষ করে চীনভিত্তিক রিফাইনারিগুলোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যারা ইরান থেকে তেল কিনে থাকে। এর আগে জুলাই ও আগস্ট মাসেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন অর্থ বিভাগ জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইরানি তেলের উৎস গোপন করতে তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহর পরিচালনা করত। এসব কার্যক্রমের মধ্যে ছিল এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর এবং ছদ্ম কোম্পানির মাধ্যমে পণ্যের গতিপথ গোপন করার মতো কর্মকাণ্ড।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের তেল ও এলপিজি পরিবহন বা এর উৎস গোপনের কাজে ব্যবহৃত বহু জাহাজের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাক্স স্টার, গ্যাস ভিশন, সি অপেরা এবং টিউলিপ—যেগুলো সম্মিলিতভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শত শত মিলিয়ন ডলারের ইরানি জ্বালানি পণ্য পরিবহন করেছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত চালানগুলো বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশে পৌঁছেছে।
চীনা প্রতিষ্ঠানও নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় :  সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান—শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ ও রিজাও শিহুয়া ক্রুড অয়েল টার্মিনাল। মার্কিন অর্থ বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, ২০২৩ সাল থেকে তারা ওয়াশিংটনের নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত জাহাজ ব্যবহার করে ইরানের কোটি কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান চীনের বিভিন্ন বন্দরে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাকে বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল পরিবহন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সহায়তা করেছে। বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও এই সহযোগিতা ইরানের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ তৈরি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব : নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন আইনের আওতায় থাকা তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সব সম্পদ ও সম্পত্তি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, কোনো মার্কিন কোম্পানি বা নাগরিককে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ধরনের লেনদেনে সহায়তাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোতে, যারা স্পট মার্কেট থেকে এলপিজি কিনে থাকে। পাশাপাশি, এই নিষেধাজ্ঞা ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থানও স্পষ্ট করেছে—ইরানের সীমার বাইরে গিয়ে এখন তারা এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্বত্বভোগীদেরও নজরদারির আওতায় আনছে।
ওএফএসি জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং ‘আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা ছোট আমদানিকারকদের জন্য জ্বালানি সরবরাহ জটিল করে তুলতে পারে—বিশেষ করে যদি এই অঞ্চলে নিষিদ্ধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারী বা পরিবহন সংস্থাগুলো আগে থেকেই সক্রিয় থাকে।