Home Blog Page 334

এক বছর পর ডিবির হারুন বরখাস্ত, সঙ্গে আরও ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে কী কী ক্ষমতা, কমতে পারে যেখানে

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে ঐকমত্য ও ভিন্নমত তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার গতিপথ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। মূল প্রস্তাব ছিল প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানো। কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু যে পরিমাণ ঐকমত্য হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কতটা কমবে এবং সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর পদটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দেশের শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতেই নির্বাহী ক্ষমতার প্রায় সবটুকু কেন্দ্রীভূত থাকে। সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করলে এই একচ্ছত্র ক্ষমতার চিত্রটি স্পষ্ট হয়।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা

বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ে সরকারের নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে। এখানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও দায়িত্বের মূল ভিত্তিগুলো আলোচনা করা হলো:

নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু (অনুচ্ছেদ ৫৮): সংবিধান অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সব নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। রাষ্ট্রপতি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে। এর ফলে, যদিও রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান, কিন্তু কার্যত তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কোনো কাজ করতে পারেন না। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে চলতে হয়।

মন্ত্রিসভার প্রধান (অনুচ্ছেদ ৫৮(২)): প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান। তিনি মন্ত্রীদের নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন। মূলত, প্রধানমন্ত্রী যাকে চান, তিনিই মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। মন্ত্রিসভার সব বৈঠক ও সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নেওয়া হয়।

আইন প্রণয়নে প্রভাব (অনুচ্ছেদ ৬৫): প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সংসদ নেতা এবং তাঁর দল সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, তাই সংসদীয় আইন প্রণয়নে তাঁর প্রভাব অপরিসীম। সরকারি বিলগুলো প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই উত্থাপিত ও পাস হয়।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ (অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)): অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলোতে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন, কিন্তু এই নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। ফলে, এসব পদে কারা আসবেন, তা কার্যত প্রধানমন্ত্রীই নির্ধারণ করেন।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব (অনুচ্ছেদ ৬১): বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেন রাষ্ট্রপতি। তবে, সংবিধান অনুযায়ী, এই ক্ষমতা আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বাস্তবে, প্রধানমন্ত্রীই প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বজায় রাখেন।

সংবিধান সংশোধনে ভূমিকা: সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাসীন দলের প্রধান, তাই তার নেতৃত্বেই সংবিধান সংশোধন সম্ভব হয়।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। এর ফলে সংসদ, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই ভারসাম্যহীনতার কারণে প্রায়শই সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়।

এই একচ্ছত্র ক্ষমতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সংবিধান সংস্কারের দাবি উঠেছে। তবে সংবিধানে এখন পর্যন্ত যে বিধানগুলো আছে, তাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের সরকারপ্রধানদের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতা উপভোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতার লাগাম টানার চেষ্টা: যতটুকু ঐকমত্য

ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনার পর কিছু বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া। সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বা মোট দশ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। এটি ভবিষ্যতে কোনো একক ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতা রোধে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের ক্ষেত্রে একটি নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি দল, বিরোধী দল এবং বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি বাছাই কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্য কমিশনারদের নাম সুপারিশ করবে। তবে এই বাছাই কমিটি সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব হলো, এরপর দুজন বিচারপতি এই বাছাই কমিটিতে যুক্ত হবেন। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে বাছাই চূড়ান্ত করা হবে। তাঁরাও সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং পদ্ধতি অনুসরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিএনপি এর বিরোধিতা করে এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির হাতে সরাসরি কিছু সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল এবং আইন কমিশন অন্তর্ভুক্ত। জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের বদলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আপাতদৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সামান্য হলেও হ্রাস করবে।

ভিন্নমতের দেয়াল: যেসব প্রস্তাব আটকে আছে

তবে, মূল প্রস্তাবগুলোর অনেকগুলোতেই বিএনপিসহ কয়েকটি দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে, যা সংস্কারের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের প্রস্তাব করেছিল, যা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু বিএনপি এবং অন্যান্য দলের আপত্তির কারণে সেই প্রস্তাব বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়, যেখানেও তাদের আপত্তি ছিল। বিএনপি মনে করে, এ ধরনের কমিটি নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা দুর্বল করে দেবে।

সবচেয়ে বড় ভিন্নমত দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর একই সঙ্গে একাধিক পদে থাকা সংক্রান্ত প্রস্তাবে। যেখানে বলা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদে থাকতে পারবেন না, সেখানেও বিএনপিসহ কয়েকটি দল আপত্তি জানিয়েছে। বিএনপি মতে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানমন্ত্রী মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা থাকতে হবে, এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কোনো বিরোধ তাঁরা দেখছেন না। এই ভিন্নমতের কারণে, দলটি ক্ষমতায় এলে এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া, সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাবেও বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। তারা নিম্নকক্ষের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের পক্ষে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মতো দলগুলো সংসদ নির্বাচনে মোট প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (পিআর) উচ্চকক্ষে তাদের প্রতিনিধি পাঠাতে চায়।

আবার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন বা বাতিলেও আশানুরূপ সিদ্ধান্ত আসেনি। ‘ব্যক্তিগত স্বার্থে’ সংসদ সদস্যরা বিক্রি হয়ে যেতে পারেন, যেটিকে বলে ফ্লোর ক্রসিং—এই আশঙ্কা এবং ‘গণতন্ত্রের সঙ্গে স্থিতিশীল সরকার দরকার’—এমন অজুহাতে এই অনুচ্ছেদ বহাল রাখা পক্ষে অনেকে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য যদি সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন, নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেন অথবা দল থেকে পদত্যাগ করেন, তাহলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে।

এর মাধ্যমে দলের ভোটে জিতে আসা একটি রাজনৈতিক দলকে কার্যত আনচ্যালেঞ্জড থাকার গ্যারান্টি দেওয়া হয়। অবশ্য আস্থা ভোট ও অর্থ বিল বাদে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন— এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এটি বিএনপিরই প্রস্তাব ছিল।

সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয় অর্থবিল। সরকার যদি উন্নয়নের জন্য কোনো ঋণ গ্রহণ করে এবং এই সম্পর্কিত কোনো বিল সংসদে উত্থাপন করে তাহলে সেই বিলকে অর্থবিল বলে। বাজেটের মধ্যে যে ঋণ থাকে সেটি অর্থবিল। বাজেট নিজেও অর্থবিল। শুল্ক ও কর এবং সাংবিধানিক পদধারীদের বেতন সম্পর্কিত বিলগুলোকেও অর্থবিল বলা হয়।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির প্রধান ভূমিকা

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান। সংসদীয় গণতন্ত্রে তিনি প্রতীকী প্রধান হিসেবে কাজ করেন, অর্থাৎ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদটি তাঁর হলেও বেশির ভাগ নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত থাকে। সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও ভূমিকা স্পষ্ট করে।

সংবিধানে নির্দিষ্ট ক্ষমতা

রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান (অনুচ্ছেদ ৪৮): রাষ্ট্রপতি হলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে তাঁর স্থান। তিনি সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তাঁকে দেওয়া সব ক্ষমতা প্রয়োগ করেন এবং দায়িত্ব পালন করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (অনুচ্ছেদ ৬১): রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যদিও তাঁর এই ক্ষমতা আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বাস্তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকে।

ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা (অনুচ্ছেদ ৪৯): এটি রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা। তিনি যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ডাদেশের মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।

যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত

বাংলাদেশের সংবিধান সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা অনুসরণ করে। এ কারণে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর বেশির ভাগ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে চলতে হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র দুটি ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন:

১. প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ: সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির আছে।

২. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন।

এ ছাড়া অন্য সব নির্বাহী ও প্রশাসনিক কাজের জন্য রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। অর্থাৎ, মন্ত্রিপরিষদ, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সময়ও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদটি প্রধানত আনুষ্ঠানিক এবং প্রতীকী। এর বিপরীতে, প্রধানমন্ত্রীর পদটি নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি: কতটা কার্যকরী?

ক্ষমতার ভারসাম্যের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতিকে অধিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই এবং এনএসআই প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব থেকে সরে এসে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনের মতো কয়েকটি পদে নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও, প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক ক্ষমতা কাঠামোতে তা বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সংস্কারের ভবিষ্যৎ

যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তা দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য কতটা ফিরবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই সামান্য পরিবর্তনগুলো হয়তো একটি প্রতীকী পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংস্কারের পথ তৈরি করতে পারে। কিন্তু মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর এককেন্দ্রিক ক্ষমতা ভেঙে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, যা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরও বড় পরিসরে বোঝাপড়া প্রয়োজন। কারণ, ঐকমত্য না থাকলে, শুধু কাগজে-কলমে থাকা সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করা সম্ভব নয়। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, জুলাই সনদে যে যে বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকছে সেগুলো আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে বিশ্লেষকেরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এখন দেখার বিষয়, আগামীতে এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।

টিভিতে আজকের খেলার সূচি

অস্ট্রেলিয়ায় চলমান টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে আজ (রোববার) পার্থ স্কচার্সের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আজ আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং চেলসি ও ক্রিস্টাল প্যালেস পরস্পর লড়াইয়ে নামবে।

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি

শিকাগো-অ্যাডিলেড

সকাল ৭-৩০ মি., টি স্পোর্টস

 

নর্দার্ন-হোবার্ট বেলা ১১-৩০ মি., টি স্পোর্টস

বাংলাদেশ ‘এ’-স্কর্চার্স বেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টস

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

চেলসি-প্যালেস

সন্ধ্যা ৭টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

 

নটিংহাম-ব্রেন্টফোর্ড সন্ধ্যা ৭টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

ম্যান ইউনাইটেড-আর্সেনাল রাত ৯-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

লা লিগা

বিলবাও-সেভিয়া

রাত ১১-৩০ মি., বিগিন অ্যাপ/ওয়েবসাইট

 

এসপানিওল-অ্যাতলেটিকো রাত ১-৩০ মি., বিগিন অ্যাপ/ওয়েবসাইট

দ্য হানড্রেড (পুরুষ)

ম্যানচেস্টার-নর্দার্ন

সন্ধ্যা ৭-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১

 

বার্মিংহাম-লন্ডন স্পিরিট রাত ১১টা, সনি স্পোর্টস ১

সিপিএল

সেন্ট কিটস-ত্রিনবাগো

রাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

 

অ্যান্টিগা-সেন্ট লুসিয়া আগামীকাল ভোর ৫টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

টেনিস

সিনসিনাটি ওপেন

রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ২

টেবিল টেনিসে অস্থিরতা !

একের পর এক অঘটনের জন্ম দিচ্ছে টিটি। প্রথমে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে খেলতে যাওযার আগে খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ এবং ইতিহাসের সেরা ব্যর্থতা নিয়ে দেশে ফেরা। এরপর ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা জনিত কারণে দুইজন খেলোয়াড়কে ট্রায়ালের আগেই বাদ দিয়ে দেওয়া। নতুন অ্যাডহক কমিটি আসার পরেই চরম অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে টেবিল টেনিস অঙ্গণে।

গত মাসে নেপালে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ টিটির বাছাই টুর্নামেন্ট। কিন্তু কর্মকর্তারা সিলেকশনের কথা বললে র‍্যাংকিং অনুযায়ী দল পাঠানোর কথা বলে নেপালে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন খেলোয়াড়রা। এতে দল না পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন টিটি কর্মকর্তারা। পরে অবশ্য চাপে পড়ে দল পাঠাতে বাধ্য হন টিটির কর্মকর্তারা। কিন্তু একরাশ হতাশা নিয়ে নেপাল থেকে দেশে ফেরেন খই খই মারমারা। ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই বাংলাদেশ দল পাঁচ দেশের মধ্যে পঞ্চম হয়। ফলে চার দেশ পুরস্কার প্রদান মঞ্চে পদক হাতে দাঁড়ালেও বাংলাদেশই ছিল একমাত্র শূন্য হাতে।

নেপাল থেকে ফেরার পর এসএ গেমসের ক্যাম্পের জন্য ট্রায়াল শুরু হয়। কিন্তু সেখানেই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সিলেকশন ট্রায়াল শুরুর আগেই শৃঙ্খলাজনিত কারণে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা দুই টিটি খেলোয়াড় বাদ পড়েন। একজন নারী ও একজন পুরুষ খেলোয়াড় জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকলেও সিলেকশন ট্রায়ালে অংশ নিতে পারেননি। এই প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ বলেন, ‘শৃঙ্খলাজনিত কারণে তারা এই সিলেকশন খেলতে পারছে না। একজন বিকেএসপির শিক্ষার্থী তাকে বিকেএসপি পাঠানো হয়েছে, অন্যজন বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী সে অন্যত্র গেছে।’

সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ টিটি দল যখন নেপালে ছিল, সেই সময়ে ঢাকায় ক্যাম্পে অন্য খেলোয়াড়রা ছিলেন। ওই সময় একটি অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে টেবিল টেনিস ফেডারেশনেই নারী ও পুরুষ এক জায়গায় ক্যাম্প চলছে। উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা একই ক্যাম্পে থাকা সামাজিকভাবে খানিকটা ঝুঁকিপূর্ণ। যার ফলে ঘটে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা। তবে থাইল্যান্ডের নতুন কোচ আসায় ট্রায়ালে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

কক্সবাজারে অসুস্থ উপদেষ্টা ফারুকী, আপাতত শঙ্কামুক্ত

কক্সবাজারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

শনিবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে জরুরি বিভাগে স্যালাইন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। ইসিজিতে তার হার্টে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। তিনি ভালো আছেন। অতিরিক্ত কাজের চাপে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

এদিকে, সংস্কৃতি উপদেষ্টার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা এক ফেসবুক পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর শারীরিক অবস্থা আপাতত শঙ্কামুক্ত বলে জানান।

পোস্টে তিনি লেখেন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কক্সবাজারে মন্ত্রণালয়ের একটি ওয়ার্কশপে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আপাতত তিনি আশংকামুক্ত। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

এর আগে, শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে চারদিনের সফরে কক্সবাজারে আসেন সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী। পরদিন শনিবার (১৬ আগস্ট) রাতে অসুস্থতা অনুভব করলে সফর মুলতবি করে জরুরিভাবে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কক্সবাজারে ভ্রমণ বিতর্ক: এনসিপি নেতাদের শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার

কক্সবাজারে ঘুরতে যাওয়ার অভিযোগে শোকজ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পাঁচ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গৃহীত নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার (১৬ আগস্ট) দলের যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৬ আগস্ট এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহর কাছে পৃথক পাঁচটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

পরে উল্লিখিত নেতারা দপ্তর মারফত আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে শোকজের জবাব জমা দেন।

জবাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাদের কোনো কর্মকাণ্ডে দলীয় শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটেনি। ফলে নির্দেশক্রমে শোকজ নোটিশগুলো প্রত্যাহার করে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

গণহত্যার বিচার ও সংস্কার না হলে ভোট সুষ্ট হবে না

যারা গণহত্যা করেছে তাদেরকে বিচার ও শাস্তির আওতায় না নিয়ে আসলে আগামীতেও এমন গণহত্যার মত পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জনগণের দাবি গণহত্যাকারীদের বিচার ও সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। বিচার ও সংস্কার না হলে ভোট সুষ্ট হবে না বলে মন্তব্য করেছেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এবং ঢাকা সংসদীয় ৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. মো: হেলাল উদ্দিন।

শনিবার রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে পল্টন থানার রোকনদের উদ্দেশ্য তিনি এসব কথা বলেন। পল্টন থানা জামায়াতের সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মারুফুল ইসলামের সঞ্চালনা ও পল্টন থানা আমীর শাহিন আহমেদ খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, আজকে আমরা রোকন সমাবেশ করছি কোন ভয় শঙ্কা ছাড়া। এর আগেও আমাদের সমাবেশ হয়েছে তখন অনেক বাধার প্রচীর টপকাতে হয়েছে। অনেকে এমন সমাবেশ থেকে গ্রেফতারও হয়েছেন। এখন আমাদের এই কোঠিন মুহুর্ত কাটাতে হচ্ছে না। এই সুন্দর পরিবেশ পাওয়ার পেছনে একমাত্র অবদান ছাত্রদের এই গণঅভূত্থান।

আমাদের আহত ছাত্র ভাইদের ত্যাগ কোনদিন ভোলার নয়। হাসপাতালে তাদের দেখতে গিয়েছি একজনের একটি হাত নেই। বললাম কেমন আছেন, উত্তরে জানান, আলহামদুলিল্লাহ, দেশ স্বাধীন হয়েছে তাই ভালো লাগছে। তিনি আমাদের বললেন, পুলিশের গুলিতে আমার একটি হাত হারিয়েছি তাতে কোন দু:খ নেই। দেশের প্রয়োজনে অন্য হাতও দিয়ে দেব। এই মানুষদের একটি চিন্তা ছিলো আমরা পুরাতন পদ্ধতিতে থাকবো না। দেশে নতুন কিছু হবে। কিন্তু আমরা তাদের চিন্তার বিপরীতে অশনি সঙ্কেত দেখতে পাচ্ছি। আহত ভাই ও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের মা-বাবারা এই দেশকে নিয়ে ভাবতে ভুলে যাচ্ছে। তারাও গণহত্যাকারীদের বিচার না পেলে আগামী নির্বাচন মেনে নেবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অনেক খারাপ। ভোটের মাঠে নির্বাচনী পরিবেশ ভালো থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। আমারা চেয়েছিলাম সরকার স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুক এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন করা সম্ভব। তাহলে মানুষের একটি আস্থা তৈরি হতো। তখন জাতীয় নির্বাচনেও মানুষ স্বতস্ফুতভাবে অংশ গ্রহণ করতো। আমরা বলেছিলাম ফ্রেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হোক সেই সঙ্গে সংস্কারও হোক। এদিকে জুলাই ঘোষণা পত্রও অসম্পূর্ণ রয়েছে। এটিকে আগে পরিপূর্ণ সনদ করতে হবে। যা সংবিধানে অন্তভূক্ত হবে। তখন সেই সংবিধানের আলোকে নির্বাচনের ব্যাবস্থা করতে পারেন। তাহলেই দেশের নির্বাচন জাতি মেনে নেবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী একটি নির্বাচন মুখি দল। দেশে নির্বাচন হবে আর আমরা নির্বাচনে যাবো না তা হতে পারে না। মানুষ এখন মনে করছে জামায়াত ইসলামি দেশ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত। সেই জন্য আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি।

হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা মনে করছি ইসলাম পন্থীরা যদি এক হয়ে যায় তাহলে কোন অপশক্তি আমাদের ঠেকাতে পারবেনা। এখন পর্যন্ত আমরা এক আছি। আওয়মীলীগও আমাদের ডন পন্থী বলেছে, ভারতও আমাদের ডন পন্থী বলেছে, কুরআনেও আমাদের ডান পন্থী বলা হয়েছে। এভাবেই ইসলামী আদর্শের সকল রাজনৈতিক দল একতাবদ্ধ থাকতে পারি তাহলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।

গাজায় নিহত বেড়ে ৬২ হাজার ছুঁই ছুঁই

ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ হাজার ৮৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (১৬ আগস্ট) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদুলুর।

মন্ত্রণালয় বলছে, গাজায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭০ জন নিহত হয়েছেন, এদের মধ্যে আটজনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩৮৫ জন। এর ফলে গত অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৬৬০ জনে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত কারণে নতুন করে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে একজন শিশু। এখন পর্যন্ত দুর্ভিক্ষের কারণে ২৫১ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে শিশু রয়েছে ১০৮ জন।

তীব্র বোমাবর্ষণ ও সরঞ্জামের অভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অসংখ্য মৃতদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বা রাস্তায় পড়ে আছে।

গত ১৮ মার্চ ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করে নতুন করে হামলা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৩৬২ জন নিহত এবং ৪৩ হাজার ৬১৯ জন আহত হয়েছেন।

গাজার পশ্চিম তীরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইল। এতে করে শিবিরের ৮০ শতাংশ এলাকায় খাবার, পানি, বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।

রাশিয়া বিশাল এক শক্তি’, ইউক্রেনকে সমঝোতার পরামর্শ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো, কারণ রাশিয়া একটি “বিশাল শক্তি” এবং ইউক্রেন তুলনামূলকভাবে ছোট একটি দেশ।

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন এর আগে আলাস্কায় এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের কাছ থেকে আরও ভূখণ্ড দাবি করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হয়। পরদিন শনিবার ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে জানান, পুতিন যুদ্ধবিরতি দিতে রাজি হয়েছেন যদি ইউক্রেন পুরো ডোনেৎস্ক অঞ্চল ছেড়ে দেয়।

তবে জেলেনস্কি এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন, এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র।

বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে ডোনেৎস্ক প্রদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ। এই অঞ্চল রাশিয়া প্রথম দখল করে ২০১৪ সালে।

এর আগেও ট্রাম্প বলে আসছিলেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তি না হলে তিনি শান্তি প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট হবেন না। তবে সম্মেলনের পর তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন—যুদ্ধ থামাতে সরাসরি একটি শান্তি চুক্তিই বেশি কার্যকর হবে।

তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ লেখেন, “সব পক্ষ মনে করে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সরাসরি একটি শান্তি চুক্তিই সবচেয়ে ভালো পথ। শুধুমাত্র যুদ্ধবিরতি নয়, কারণ তা অনেক সময়ই টেকে না।”

এদিকে, এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, “হত্যা বন্ধ করাটাই যুদ্ধ থামানোর মূল উপাদান। রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মনোভাব স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাকে জটিল করে তুলছে।”

যদিও দুই নেতার অবস্থান স্পষ্টভাবে ভিন্ন, তারপরও জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

এ বৈঠক স্মরণ করিয়ে দেয় গত ফেব্রুয়ারির সেই আলোচিত সাক্ষাৎকারের কথা, যেখানে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউস ওভাল অফিসে প্রকাশ্যে জেলেনস্কিকে ভর্ৎসনা করেছিলেন।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনপক্ষীয় বৈঠক—তিনি, পুতিন ও জেলেনস্কি—আয়োজন করা হতে পারে।

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল জানিয়েছেন, তারাও সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন।

উল্লেখ্য, রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। এরপর থেকে যুদ্ধটি ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এ পর্যন্ত দুই পক্ষ মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস

আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে, দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির অভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে— রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, দক্ষিণ উড়িষ্যা উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, উড়িষ্যা, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তী ১২ ঘন্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গতকাল (শনিবার) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রংপুরে ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যৌথভাবে সিলেট ও বান্দরবানে ২৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে ৪২ মিলিমিটার বা মিমি।