Home Blog Page 336

ব্যাপক সাড়া করদাতাদের, প্রথম ১০ দিনে ই-রিটার্ন জমা পড়েছে ১ লাখ

২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রথম ১০ দিনে ৯৬ হাজার ৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি।

গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে যে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ, শারীরিক প্রতিবন্ধী, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি ছাড়া দেশের সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। তবে পরে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

যদি কোনো করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে না পারেন, তবে তিনি ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে উপকর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনের পর তিনি পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ বা অন্য যেকোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। ই-রিটার্ন দাখিলের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্তিস্বীকার পত্র এবং আয়কর সনদও প্রিন্ট করে নেওয়া যাবে।

ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার জন্য এনবিআর একটি কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু করেছে। এছাড়া, http://www.etaxnbr.gov.bd পোর্টালে লিখিতভাবে সমস্যার বিবরণ দিয়েও সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। এনবিআর সকল করদাতাকে সময়মতো ই-রিটার্ন দাখিল করে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে

ওয়ালটন গত অর্থবছরে নতুন ৭টি দেশে ব্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণ করেছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেক জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি বিশ্বের শীর্ষ গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড হওয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন ৭টি দেশে ব্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

ওয়ালটনের গ্লোবাল বিজনেস শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে ব্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণকৃত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ক্যারিবিয়ান দ্বীপ বার্বাডোস, ওশেনিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি ও ভানুয়াতু, আফ্রিকার ক্যামেরুন ও ক্যাপভার্ড, এবং এশিয়ার শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুর।

ওয়ালটনের গ্লোবাল বিজনেস ডিভিশনের প্রধান আব্দুর রউফ বলেন, “সর্বাধুনিক উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, টেকসই ও উচ্চ গুণগত মান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য এবং মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে ওয়ালটন আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করছে ওয়ালটন। গত এক বছরে আমরা নতুন ৭টি দেশে ব্র্যান্ড বিজনেস শুরু করেছি।”

তিনি আরও জানান, চলতি দশকের শুরু থেকে ওয়ালটন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত বিশ্বের বাজারে ব্র্যান্ড সম্প্রসারণের জন্য সুদক্ষ গ্লোবাল বিজনেস টিম গঠন করা হয়েছে। কয়েকটি দেশে সাবসিডিয়ারি ও শাখা অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ওয়ালটনের গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকার মান, আবহাওয়া এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

ওয়ালটন ফ্রিজ, এসি, টিভি, ওয়াশিং মেশিন, কম্প্রেসর, ফ্যানসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য রপ্তানিতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে ক্রেতাদের কাছে ওয়ালটন পণ্য শীর্ষে রয়েছে, যা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটিকে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন সুস্মিতা সেন

বলিউড অভিনেত্রী এবং সাবেক মিস ইউনিভার্স সুস্মিতা সেন সম্প্রতি তার ‘মিস ইউনিভার্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তার ‘আর্য়া’ সিরিজের প্রচারণার সময় মিড-ডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ‘মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিচালনার সময় তাকে তৎকালীন মিস ইউনিভার্সের মালিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুস্মিতা বলেন যে, মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন যখন তাকে ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রস্তাব দেয়, তখন এটি তার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য যে চুক্তিটি তাকে স্বাক্ষর করতে হয়েছিল, তা ছিল খুবই কঠিন। যেহেতু ডোনাল্ড ট্রাম্প এটির মালিক ছিলেন, তাই বিষয়টি তার কাছে মোটেও আনন্দদায়ক ছিল না।

তিনি আরও জানান, সৌভাগ্যবশত তার সরাসরি বস ছিল প্যারামাউন্ট কমিউনিকেশনস এবং ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, কারণ তারাই তখন মিস ইউনিভার্সের মালিক ছিল। সুস্মিতা বলেন, তিনি এক বছরের জন্য মিস ইউনিভার্সে কাজ করেছিলেন, এবং সেই সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাতের বিষয়ে সুস্মিতা বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি তার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাদের কয়েকবার দেখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তিনি মন্তব্য করেন যে, কিছু মানুষ আছেন যারা তাদের সাফল্য বা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং তাদের ব্যক্তিত্বের কারণে প্রভাব ফেলেন। তবে ট্রাম্পকে তিনি সেই ধরনের মানুষের তালিকায় রাখেন না, কারণ তার সেই ধরনের ব্যক্তিত্ব নেই।

উল্লেখ্য, সুস্মিতা সেন ১৯৯৪ সালে মিস ইউনিভার্স খেতাব জয় করেন। এরপর তিনি ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘বেওয়াফা’ এবং ‘ম্যায়নে পেয়ার কিউঁ কিয়া’ সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

সিলেটের সাদা পাথর লুট বন্ধে সরব ক্রিকেটার রুবেল

সিলেটের সাদা পাথর লুটের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেন। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পেজে এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লুটপাট বন্ধ করে প্রকৃতি রক্ষার আহ্বান জানান।

ফেসবুক পোস্টে রুবেল লিখেছেন, ‘সিলেটের সাদা পাথর নেই তো হারাবে সিলেটের সৌন্দর্যের গল্প। সাদা পাথর লুটেদের থামাও প্রকৃতি লুট নয়, প্রকৃতি রক্ষা করুন।’

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাদা পাথর লুটের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ও পর্যটকরা। সেই ধারাবাহিকতায় রুবেলের এই প্রতিক্রিয়া এলো।

গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এলাকায় শুরু হয় পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়ে চলছে এই লুটপাট।

ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে সিলেটের অন্যতম এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় এই পর্যটন স্পটটি হারিয়ে যেতে পারে মানচিত্র থেকে।

৩৪ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

৩৪ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে অবশেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে তারা পাকিস্তানকে ৯২ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২০২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিবীয়রা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয়।

ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপের সেঞ্চুরির (১২০) ওপর ভর করে ২৯৪ রানের বড় স্কোর গড়ে। জবাবে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটারই সেভাবে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। পাঁচ ব্যাটার আউট হন শূন্য রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পেসার জেইডেন সিলস অসাধারণ বোলিং করে মাত্র ১৮ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন। যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স। তার বোলিং তোপেই পাকিস্তানের ইনিংস ২৯.২ ওভারে ৯২ রানে শেষ হয়ে যায়।

এর আগে সর্বশেষ ১৯৯১ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানকে সিরিজ হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তান সফরে এসে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল ক্যারিবীয়রা। একটি ম্যাচ হয়েছিল টাই। এরপর ১১টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেললেও একটিতেও জয় পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

জাপার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, ভারতে বসে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে এবং জাতীয় পার্টির মাধ্যমে দলটিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত ‘জাতীয় যুব সম্মেলনে’ তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আওয়ামী লীগের ‘বি-টিম’ চলে এসেছে দাবি করে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে কী কাজ করেছে, তা সবার সামনে প্রকাশ করা উচিত। তিনি বিশেষ করে মিডিয়া, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা প্রকাশ করার দাবি জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, মিডিয়া আবারও আগের মতো রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনীর হস্তক্ষেপে প্রভাবিত হচ্ছে। একটি দলের নেতারা নিউজ লিখে দেয়, মিডিয়া সেটা প্রকাশ করে।”

হাসনাত বলেন, “আগে বুলেট দিয়ে ব্যালট নিয়ন্ত্রণ করা হতো, এবার পারলে আসুন বুলেট নিয়ে।” এই সময় তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।

প্রশাসন প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গত এক বছরে প্রশাসনের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ৫ আগস্টের পর বঞ্চিত নামের একটি গোষ্ঠী প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট না হলে এই প্রশাসনের লোকেরাই শেখ হাসিনার পক্ষে কলাম লিখতো।” তিনি ভোটের আগে প্রশাসনের সংস্কারের দাবি জানান।

এনসিপির এই নেতা ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, “ডিজিএফআইয়ের অর্থ কখনো হিসাব করা হয় না। এই প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করুন, প্রয়োজনে ব্যান করুন। সব মিলিটারি অর্গানাইজেশনকে বাংলাদেশপন্থি হিসেবে গড়ে তুলুন।”

তিনি এনসিপি নেতা সারজিস আলমের বিরুদ্ধে গাজীপুরে মামলারও সমালোচনা করেন। হাসনাত বলেন, “সারজিসের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটা সিগন্যাল।” তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হাসিনা মামলা করতো এখন একটি বিশেষ দলের নেতারা তাই করার চেষ্টা করছে।

তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, “তাদের নেতা তারেক রহমান নিজের ছবি নিজে পোস্ট করে আত্মসমালোচনা করেন অথচ তার দলের নেতারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালি দেয় মামলা দেয়।” তিনি সতর্ক করেন, এসব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ধরে নেওয়া হবে যে এসব আদেশ কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে আসছে।

সরকারের সামনে নির্বাচন ও আন্দোলনের দ্বৈত চ্যালেঞ্জ, কোনদিক সামলাবে

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্ব স্ব কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনে নির্বাচনী পরিবেশ অনুকূলে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ। ক্ষমতার অপব্যবহার ও পক্ষাবলম্বন করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যাতে বিনষ্ট করতে না পারে সেলক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার আগেই জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিবে ইসি।

সরকার ও ইসির পক্ষ থেকে এতোসব করার পরও নির্বাচনের অংশীজন রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে তৈরি হওয়া বিভেদ-বিভক্তি ভাবাচ্ছে সবাইকে। ভোট অনুষ্ঠানের ঘোষণার জন্য সরকারকে সাধুবাদ দেয়া দলগুলোও আন্দোলনে নামছে নির্বাচনী নানা ইস্যু নিয়ে। বেশ কয়েকটি দল তো একধাপ এগিয়ে নির্বাচন বর্জন করারও হুমকি দিচ্ছে। একের পর এক শর্ত দিয়ে নির্বাচনমুখী সরকারকে বিব্রত ও বেকায়দায় ফেলছে। অবশ্য বিএনপি ও সমমনারা ভোটের প্রস্তুতি নিয়েই এগুচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের অংশ নিতে সরকারকে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর, সনদের আলোকে নির্বাচনের শর্ত জুড়ে দিয়েছে কয়েকটি দল। পিআর বাস্তবায়নে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত। সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এনসিপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে কঠিন হয়ে যেতে পারে নির্বাচনী যাত্রা। তাদের মতে, সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় না গেলে ক্রমেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে পতিত আওয়ামী লীগ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার সব ধরনের চেষ্টা প্রয়োগ করতে পারে। এতে ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি শর্ত দেয়া রাজনৈতিক দলগুলোও দাবি আদায়ে শক্তভাবে মাঠে নামার আশঙ্কা আছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মো. শামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘এবারের নির্বাচন অন্য সময়ের মতো নয়। ফলে সবার ঐকমত্য ছাড়া এই প্রক্রিয়া শুরু হলে নানা ধরনের সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। সরকার, নির্বাচন কমিশন সবাইকে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আবার নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে সেখানে পিআর নিয়ে যারা কথা বলছেন তাদেরও বাস্তবতা বুঝতে হবে। এটা নতুন একটি পদ্ধতি। এটা কতটা বাস্তবসম্মত প্রস্তাব কি না এটাও ভেবে দেখা উচিত।

দ্রুত চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতি: চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে বিশৃঙ্খলতা করার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকবেন যেসব কর্মকর্তা তাদের প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে ইসির পক্ষ থেকে। চূড়ান্ত করা হয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধিও।

এদিকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম নির্বাচনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বলেছেন, সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। আমাদের মূল লক্ষ্য আগামী নির্বাচন, এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার অংশ হিসেবে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আট লাখ সদস্য মোতায়েনসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সংস্থাগুলো হলো- পুলিশ, আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ৮০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে। আবার নির্বাচনের আগে ৪০ হাজার বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা বা বডিক্যাম কিনতে যাচ্ছে সরকার। ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে ভোটকেন্দ্র থেকে রিয়েল-টাইম আপডেট পেতে ক্যামেরাটি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দ্রুত এসব কাজ শেষ করতে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এখনও কেন বিভেদ-বিভক্তি: নির্বাচন নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল। তবে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলো বিদ্যমান পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি করে মাঠের প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় অন্য দলগুলো সরকারকে ধন্যবাদ জানালেও পিআর পদ্ধতিসহ বেশ কিছু শর্তে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছে। জামায়াতে ইসলামী গত ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে।

বৈঠকে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি প্রদান ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে আনুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে ভোটের দাবি জানিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল। এবার এই ইস্যুতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১০ আগস্ট বিকালে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, ‘সংসদে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে ভোটের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। কিন্তু আমাদের দাবি হচ্ছে পিআর হতে হবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে। সেই ইস্যুতে আমরা আন্দোলন করব। এটার কারণ হচ্ছে ৫৪ বছরের নির্বাচনের পদ্ধতিতে আমরা দেখেছি এখানে ফেয়ার ইলেকশন কখনো নিশ্চিত করা যায়নি।’

অন্যদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার কবে গঠন করবে তা জানতে চেয়েছে সিপিবি। এমন অবস্থায় দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার কোনো আলামত দেখছেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি ফিরেছে, কিন্তু দলগুলোর মধ্যে কি এখনো ঐক্য তৈরি হয়েছে? সব রাজনৈতিক দল কি সরকারের কাছে সমানভাবে মূল্যায়ন পাচ্ছে? লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি ছাড়া নির্বাচন কীভাবে হবে?

এদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু নির্বাচনের সময় ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও আওয়ামী লীগের বিষয়ে এখনো কোনো ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় শঙ্কার কথা জানালেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যেও সংঘাত হতে পারে বলে জানান এবি পার্টির এই নেতা। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত না হলে তফসিল না দিতে ইসিকে সতর্ক করে দিয়েছে। দলটিও জামায়াতের সঙ্গে অভিন্ন সুরে কথা বলছে এবং আগামী নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে অন্যান্য ইসলামি দল নিয়ে জোট বা সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে।

গণঅধিকার পরিষদের প্রধান ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে আমার সংশয় আছে। কারণ, নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক দলগুলো গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকার দাবি করলেও তাদের মধ্যে বিভাজন চরমে পৌঁছেছে। এই বিভাজনের কারণে নির্বাচন বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।’

আগস্টের পর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল: মার্কিন প্রতিবেদন

প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যদিও কিছু উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে। এতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

মার্কিন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভ এবং পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। এসব ঘটনার পর ৫ আগস্ট প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। আগস্টে কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও সার্বিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

মার্কিন রিপোর্টে জুলাই এবং আগস্ট মাসে ছাত্রলীগের দ্বারা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করছে এবং অপরাধীদের জবাবদিহি করার জন্য দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উভয়কেই ব্যবহার করছে।

মার্কিন রিপোর্টে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বিচারে বা বেআইনি হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ এবং শিশুশ্রমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ ছিল। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেই সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী কর্মকর্তা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত ও শাস্তি দেওয়ার জন্য খুব কমই বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আগের সরকারের মন্ত্রী-এমপিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এটি অতীতের ঘটনাগুলোর তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্কের স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ল

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধের পাল্টাপাল্টি শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছে। এর ফলে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তিন অঙ্কের শুল্ক আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে আগামী ১০ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক আরোপ স্থগিত থাকবে। পারস্পরিক শুল্ক বিরতির অন্য সব শর্তও অপরিবর্তিত থাকবে।

এর আগে ট্রাম্প চীনের কাছে সয়াবিন কেনার পরিমাণ চার গুণ বাড়ানোর দাবি করেছিলেন, যদিও নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত কেনাকাটার বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না। মঙ্গলবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শুল্কবহির্ভূত ব্যবস্থাগুলো স্থগিত বা বাতিল করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। দেশটি ওয়াশিংটনের ওপর থেকে ২৪ শতাংশ অতিরিক্ত রপ্তানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রপ্তানি শুল্ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাস্টমস ট্যারিফ কমিশন।

ট্রাম্পের রাশিয়া-ভারত মন্তব্য
একই সময়ে ট্রাম্প আরও মন্তব্য করেছেন, রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ মস্কোর জন্য বড় ধাক্কা। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার অর্থনীতি ভালো অবস্থানে নেই।

আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্বীকার করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, ড. ইউনূস মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

ড. ইউনূস বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে চেষ্টা করছে। তিনি জানান, সরকার এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং জটিলতা কমানোর চেষ্টা চলছে।

পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারি সব সেবা প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে দিতে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ নামক একটি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরা এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকতে পারবেন।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, দেশের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বস্তির জায়গায় ফিরেছে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীরা বড় অবদান রেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রস্তুত। আমি এরইমধ্যে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছি। এই নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সভায় মালয়েশিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কয়েকটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে দূতাবাসে জনবল বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা, অনিয়মিতদের নিয়মিতকরণ এবং বাণিজ্য-শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়গুলো ছিল। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সভায় বিভিন্ন পেশা, শ্রেণি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।