খাবারের সময় সালাম দেওয়া যাবে?
হাত নেড়ে সমর্থকদের বিদায় জানালেন মেসি
সবজির বাজারে অস্বস্তি, ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম চড়া
ছেঁড়া বেল্ট ও একজন অবিকল জিয়াউর রহমান
শুল্ক দিয়ে ভারত আমাদের হত্যা করেছে: ট্রাম্প
তীব্র বোমাবর্ষণে একদিনে ৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা!
৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ
সানস্ক্রিন ব্যবহারে অনীহা
রোদের কারণে বাংলাদেশে বছরজুড়ে প্রায় সবাই নানারকম বিড়ম্বনার শিকার হন। তীব্র রোদের কারণে পানিশূন্যতা, ত্বক পুড়ে যাওয়া, ত্বকে খসখসে ভাব, ত্বক কুঁচকে যাওয়াসহ নানা সমস্যা তৈরি হয় এবং আমাদের আশপাশের অনেকেই এর ভুক্তভোগী। তবে এরপরেও রোদের থেকে ত্বক বাঁচাতে এখনও বেশিরভাগ মানুষ ভরসা করেন ছাতা কিংবা ছায়ার ওপর। পশ্চিমে তো বটেই, পাশের দেশ ভারতসহ নানান দেশেই অনেক মানুষ সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন এবং গরমের দিনে এটি সেসব জায়গার মানুষের একটি অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ। তবে বাংলাদেশে এর চিত্রটি এখনও বিপরীত।
ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত সামিয়া জামান জানান, বাংলাদেশের মানুষের ত্বকের ওপর রোদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানার ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশে সারা বছরই রোদ পড়ার কারণে অনেকেই মনে করেন প্রাকৃতিকভাবে এখানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। তবে অনেকেই তীব্র রোদের কারণে নানা ত্বকের সমস্যাতেও ভোগেন। তবে এখানে মূল সমস্যা হিসেবে কাজ করে সানস্ক্রিনের দাম। কারণ বাজারে মানসম্মত সানস্ক্রিন সরবরাহ যেমন পর্যাপ্ত নয়, তেমনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দামটাও চড়া। অনেকের পক্ষেই নিয়মিত বিদেশি ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
ঢাকার বিভিন্ন বিপণিবিতান এবং কসমেটিকসের জন্য জনপ্রিয় কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা যায় ৫০ থেকে ৮০ গ্রামের এক একটি সানস্ক্রিন বিক্রি হচ্ছে আটশো থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায়। যেহেতু সানস্ক্রিন একটি নিত্যব্যবহার্য পণ্য, প্রতিদিন বাইরে বের হবার আগেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, কাজেই সেই হিসাবে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার আসলেও খরুচে ব্যাপার অনেকের জন্য। এ ব্যাপারে রাজধানীর একটি বিপণিবিতানের একজন বিক্রয়কর্মী জানান, মুলত বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন মানসম্মত সানস্ক্রিন সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফলে আমদানি সংক্রান্ত নানা শুল্ক এবং অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সব সানস্ক্রিনের দামই অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তৈরি দেশে উৎপাদিত মানসম্মত সানস্ক্রিনের অভাবের কথাও ঐ বিক্রয়কর্মী উল্লেখ করেন।
তবে বাজার ঘুরে বিভিন্ন দোকানে নানা ধরনের মোড়কে নানা নামের সানস্ক্রিন পাওয়া যায় কম দামে। যদিও কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা জানান এসব ‘নন-ব্র্যান্ড’ সানস্ক্রিন আসলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং সানস্ক্রিনের মতো পণ্যের যে ধরনের লাইসেন্স বা পণ্যের মান হওয়া প্রয়োজন। তার কোনটিই এসব ক্ষেত্রে মানা হয় না। ফলে ক্রেতাদের মধ্যেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব পণ্যের তেমন একটা চাহিদা নেই।
একই বিপণিবিতানের আরেক কর্মী জানান তাদের ক্রেতাদের মধ্যে আগের থেকে ত্বকের যত্ন নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে, এখন অনেকেই সানস্ক্রিনের খোঁজ করেন, কেনার পরিমাণও বেড়েছে। তবে এখনও বাজারে প্রচলিত বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর সানস্ক্রিনের যে দাম সেটি বেশিরভাগ ক্রেতার নাগালের বাইরে বলেই জানালেন ঐ বিক্রয়কর্মী।
ঐতিহাসিকভাবে রোদ থেকে বাঁচতে আমাদের কৃষকেরা মাথাল পরতেন, এর কিছু পরে ছাতার ব্যবহার বেড়েছে। ঢাকা শহরেও এখন অনেককেই ছাতা ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে দৈনন্দিন কাজে বের হওয়া অনেকের পক্ষেই প্রতিদিন দিনের বড় সময় ছাতা ব্যবহার করা সুবিধাজনক নয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে রোদের তীব্রতা এবং রোদে অতিবেগুনি রশ্মির পরিমাণও। এই কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ফলে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে যেমন সচেতনতা প্রয়োজন। তেমনি প্রয়োজন ত্বকের সুরক্ষায় ব্যবহার্য পণ্যের সহজলভ্যতা এবং সুলভ মূল্যের ব্যবস্থা করা।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুগন্ধিপ্রেম
সুগন্ধি ব্যবহার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। তিনি সুগন্ধিপ্রেমী ছিলেন। সব সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তিনি নিজের কাছে সুগন্ধির পাত্র রাখতেন। তাঁর সুগন্ধির প্রভাব এতটাই বিপুল ছিল যে, রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে লোকেরা বুঝত, এ পথ ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.) হেঁটে গেছেন। আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি আতরদানি ছিল। তিনি তা থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন।’ (আবু দাউদ : ৪১৬২)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিকাংশ সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। না করলেও তাঁর শরীর থেকে সুঘ্রাণ ছড়াত। তাঁর সুগন্ধি ব্যবহারের অন্যতম কারণ ছিল, ফেরেশতার সঙ্গে সাক্ষাৎ, অহি গ্রহণ এবং সাহাবিদের সঙ্গে ওঠাবসার সময় সুঘ্রাণ ছড়ানো। (শামায়েলে তিরমিজি, ইমাম তিরমিজি, ব্যাখ্যা : মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৩০৯)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সুগন্ধিপ্রিয় মানুষ। তিনি সুগন্ধি ব্যবহার করতে খুব ভালোবাসতেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের দুনিয়া থেকে আমার কাছে তিনটি জিনিস অধিক প্রিয়। স্ত্রী, সুগন্ধি আর আমার চক্ষু শীতল হয় নামাজের মাধ্যমে।’ (নাসায়ি : ৩৯৩৯)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে সুগন্ধির দরিয়া বইয়ে যেত। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ত সুবাস। সুঘ্রাণে মণ্ডম করত প্রতিটি রাস্তা, পাড়া-মহল্লা। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনার কোনো পথ দিয়ে অতিক্রম করতেন, তখন লোকেরা তাঁর সুঘ্রাণ পেত। তারা বলত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই পথ দিয়ে অতিক্রম করেছেন।’ (মুসনাদুল বাজ্জার : ৭১১৮)।
সুগন্ধি ব্যবহার সব নবী-রাসুলের সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবির সুন্নত। আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান আবৃত রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২২৪৭৮)।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সুগন্ধি হাদিয়া এলে গ্রহণ করতেন। সাহাবিদেরও ফিরিয়ে দিতে নিষেধ করতেন। সুমামা ইবনে আব্দুল¬াহ (রা.) বলেন, ‘আনাস (রা.) সুগন্ধি ফেরত দিতেন না। তিনি বলতেন, নবী (সা.) কখনও সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না।’ (বোখারি : ২৫৮২)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কাউকে সুগন্ধি বস্তু দেওয়া হলে সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়। কেননা, তা সুঘ্রাণ এবং সহজে বহনযোগ্য।’ (আবু দাউদ : ৪১৭২)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়- বালিশ, সুগন্ধি ও দুধ।’ (তিরমিজি : ২৭৯০)।
ইমাম তিবি (রহ.) বলেন, ‘উদ্দেশ্যে হলো- বালিশ, সুগন্ধি ও দুধের মাধ্যমে মেহমানকে সম্মান করবে। আর এটা সহজে বহনযোগ্য হাদিয়া। সুতরাং ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়।’ (মিরকাতুল মাফাতিহ, খণ্ড : ৫, পৃষ্ঠা : ২০১৩)।
ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, ‘সুগন্ধি হলো রুহের খোরাক, আর রুহ হলো শক্তির কেন্দ্রবিন্দু। সুগন্ধি ব্যবহারের দ্বারা রুহের শক্তি বৃদ্ধি পায়। সুগন্ধি মেধা, হৃৎপিণ্ড এবং সব অভ্যন্তরীণ অঙ্গের জন্য উপকারী। সুগন্ধি অন্তরকে প্রফুল্ল রাখে, আত্মাকে প্রশান্ত রাখে এবং রুহকে প্রশস্ত করে। সুগন্ধি ও পবিত্র রুহের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়া সুগন্ধি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পার্থিব পছন্দনীয় দুটো বিষয়ের একটি ছিল। (শামায়েলে তিরমিজি, ইমাম তিরমিজি, ব্যাখ্যা : মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৩১০)।
পুরুষদের জন্য জুমার দিন, ঈদের দিন, মুসলমানদের সমাবেশে উপস্থিতির সময়, ইলম ও জিকিরের মজলিসে, সহবাসের সময় এবং এ জাতীয় অন্যান্য সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব। (শরহুন নববি, খণ্ড : ১৫, পৃষ্ঠা : ১০)
পুরুষ এমন সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যার ঘ্রাণ প্রকাশ পাবে, তবে রঙ গোপন থাকবে। অপরদিকে নারীরা মসজিদ বা অন্য কোথাও গেলে, এমন সুগন্ধি ব্যবহার করা মাকরুহ, যার ঘ্রাণ প্রকাশ পায়। তবে স্বামীর সামনে যেমন ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পুরুষদের সুগন্ধি এমন হবে, যার ঘ্রাণ প্রকাশ পাবে, তবে রঙ গোপন থাকবে। অন্যদিকে নারীদের সুগন্ধি এমন হবে, যার রং প্রকাশ পাবে, তবে ঘ্রাণ গোপন থাকবে।’ (আবু দাউদ : ২১৭৪)।


