Home Blog Page 34

বাংলাদেশসহ ৭ দেশের জন্য নতুন ভিসা কর্মসূচি চালু করল সৌদি আরব

বাংলাদেশসহ সাত দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ‘ভিসা প্যাকেজ’ কর্মসূচি চালু করেছে সৌদি আরব। এ কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত ভ্রমণ প্যাকেজ বুকিংয়ের মাধ্যমে আলাদা আবেদন ছাড়াই ইলেকট্রনিক পর্যটন ভিসা (ই-ভিসা) পাওয়া যাবে। শুক্রবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম ধাপে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া ও মেক্সিকোর নাগরিকরা এ সুবিধা পাবেন। ভবিষ্যতে আরও দেশের নাগরিকদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

নতুন ব্যবস্থায় ভ্রমণকারীরা একটি সমন্বিত প্যাকেজের মাধ্যমে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, অনুমোদিত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ই-ভিসা একসঙ্গে বুক করতে পারবেন। ফলে আলাদা করে ভিসার আবেদন বা সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে প্যাকেজ কেনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ই-ভিসা ইস্যু করা হবে। এরপর ভিসা, ভ্রমণ বিমা ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ই-মেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত রিজার্ভাল ও আলমোসাফের-এই দুটি ট্রাভেল এজেন্সিকে এ সেবা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নতুন কর্মসূচির আওতায় ইস্যু হওয়া ভিসার মেয়াদ হবে তিন মাস। এটি একবার প্রবেশের (সিঙ্গেল এন্ট্রি) সুযোগ দেবে এবং ভ্রমণকারীরা সর্বনিম্ন দুই দিন থেকে সর্বোচ্চ ৮৮ দিন পর্যন্ত সৌদি আরবে অবস্থান করতে পারবেন। ভ্রমণ প্যাকেজে যাওয়া-আসার নিশ্চিত বিমান টিকিট, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত কমপক্ষে চার তারকা মানের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ই-ভিসার আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

প্রথম দুই দিনের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্কের ন্যূনতম প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার সৌদি রিয়াল। এরপর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য এক হাজার রিয়াল করে যোগ হবে। ভিসা ইস্যু ও ভ্রমণ বিমাসহ মোট ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০২ দশমিক ২১ সৌদি রিয়াল। ভ্রমণকারীরা চাইলে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের টিকিটও প্যাকেজে যুক্ত করতে পারবেন।

যদিও এই প্যাকেজে ওমরাহ-সংক্রান্ত কোনো সেবা বা মক্কা ও মদিনায় থাকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে না, তবে ই-ভিসাধারীরা সৌদি আরবে প্রবেশের পর দেশটির যেকোনো স্থানে, এমনকি মক্কা ও মদিনাতেও ভ্রমণ করতে পারবেন।

বিমান বা হোটেল বুকিং অনিবার্য কারণে বাতিল হলে অর্থ ফেরত বা বুকিং পরিবর্তনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

হঠাৎ বন‍্যায় চট্টগ্রামে মৎস্য-কৃষিখাতে শতকোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয় হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে জেলায় ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এমন বৃষ্টি চলতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, প্রাথমিকভাবে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। সেই তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়। সেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চূড়ান্ত হিসেব পেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

মৎস্য খাতের পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় ৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর আউশ ধান, ৬২১ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক হিসেবে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সবচেয়ে বেশি। বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর ও সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা আপ্রু মারমা জানান, কৃষি জমির পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর ও বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। পানি নামলে ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা

রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার
ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, সাথে শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আত্মসমর্পণ!

আত্মবিশ্বাসী ও সহজে বন্ধু বানাতে শিশুদের যা শেখানো জরুরি

কিছু মানুষ আছেন, যারা নতুন যেকোনো মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যান। তারা সব সময় যে  আত্মবিশ্বাসী হোন বিষয়টি এমন নয়। তারা জানেন কীভাবে অন্যের সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করতে হয়, কীভাবে বন্ধু বানাতে হয়। মূলত এগুলো চর্চার মাধ্যমেই শেখা যায়। এই দক্ষতাগুলো ছোট থেকেই সন্তানকে শেখানো উচিত। এতে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং সহজেই সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

আগে থেকেই শুভেচ্ছা জানাতে শেখান
সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আগে থেকে ‘হ্যালো’ বা শুভেচ্ছা জানানো। অনেক শিশু অন্য কেউ আগে কথা বলবে সেই অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী শিশুরা নিজেরাই কথোপকথন শুরু করে। একটি ছোট্ট শুভেচ্ছা অস্বস্তি দূর করে, ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে। একইসঙ্গে নতুন বন্ধুত্ব তৈরিতে সহায়তা করে। নতুন স্কুল, শ্রেণিকক্ষ বা খেলার মাঠে এই অভ্যাস শিশুর জন্য খুব উপকারী।

আগ্রহ নিয়ে পরবর্তী প্রশ্ন করতে শেখান
মানুষ তখনই নিজেকে মূল্যবান মনে করে, যখন কেউ মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনে। শুধু শোনা নয়, তার কথার সূত্র ধরে সন্তান যেন আরো কিছু প্রশ্ন করে তা তাকে শেখান। আত্মবিশ্বাসী শিশুরা নিজের কথা বলার চেয়ে অন্যের কথা জানতে বেশি কৌতূহলী হয়। এই আন্তরিক কৌতূহলই সম্পর্ককে গভীর করে এবং অন্যের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার সুযোগ তৈরি করে।

মানুষের নাম মনে রাখার কৌশল শেখাতে পারেন
কারো নাম মনে রাখা ভালো গুণ। একদম ছোট শিশুরা তা পারবে না। তবে যারা কিশোর-কিশোরি, তারা মানুষের নাম মনে রাখার এ অভ্যাস রপ্ত করতে পারে। মানুষের নাম মনে রাখতে পারা ইতিবাচক সামাজিক দক্ষতাও। কারো মুখে নিজের নাম শুনলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তাকে আপন ভাবতে শুরু করে। তাই শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মানুষের নাম মনে রাখার অভ্যাস শেখানো উচিত।

পরিস্থিতি ও আবেগ বুঝে আচরণ 
সামাজিকভাবে দক্ষ শিশুরা বুঝতে পারে, কখন কার সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে। কেউ আনন্দের খবর দিলে তার আনন্দে অংশ নেওয়া, আবার কেউ কষ্টের কথা বললে মনোযোগ দিয়ে শোনার শিক্ষাটাও সন্তানকে দিন। অন্যের অনুভূতির সঙ্গে নিজের আচরণ মিলিয়ে নেওয়ার এই দক্ষতা সম্পর্ককে আরও আন্তরিক করে তোলে।

একা থাকা শিশুটিকে দলে নেওয়া 
দলের বাইরে একা দাঁড়িয়ে থাকা কোনো শিশুকে খেয়াল করা, তাকে খেলায় যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো একটি মানবিক গুণ। ‘তুমি কি আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে?’ এই একটি বাক্য কারো পুরো দিন বদলে দিতে পারে। এই অভ্যাস শিশুদের মধ্যে সহমর্মিতা, নেতৃত্ব এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা গড়ে তোলে।

শিশুদের যেভাবে গুছিয়ে কথা বলতে শেখাবেন

গুছিয়ে কথা বলা বড় গুণ। শিক্ষকতা থেকে শুরু করে যেকোনো পেশায় গুছিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়। তাই সন্তানকে ছোট থেকেই গুছিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করার শিক্ষা দিতে পারেন। এতে স্কুলের প্রেজেন্টেশন কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে আপনার সন্তান। আবার ভবিষ্যতে সুবক্তা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলা
কথা বলার সময় বলার ভঙ্গি, দৃষ্টি, শারীরি ভাষায় আত্মবিশ্বাস থাকা জরুরি। আয়নার সামনে শিশুকে দাঁড়িয়ে কথা বলার জন্য উৎসাহিত করা যেতে পারে। তার প্রিয় খাবার, খেলনা, যে কোনো বিষয় নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট বলতে বলুন। প্রথম দিকে সে হয়তো কথা খুঁজে পাবে না। অসংলগ্ন বলবে। তবে তার ভুল না ধরিয়ে তাঁকে বলতে দিন। ধীরে ধীরে গুছিয়ে বলতে শিখবে।

বড়রাও অংশ নিন
অবসর সময়ে কোনো একটি বিষয় নিয়ে খেলার ছলেই কথা বলার অভ্যাস করানো যেতে পারে। শুধু সন্তানকে বলতে না বলে, সকলেই এতে অংশ নিন। নানা রকম বিষয় ভেবে নিন। ছোটরা যেমন বলবে, বড়রাও বলবেন। অভিভাবেকরা কীভাবে কথা বলছেন, তা ছোটরা সচেতন ভাবেই অনুসরণ করে।

ভালো শ্রোতা জরুরি
কেউ মন দিয়ে কথা শুনলে, বক্তার মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হয়। ফলে পারিবারিক অনুষ্ঠান হোক বা ঘরোয়া আড্ডা, সন্তান যা বলতে চাইছে তা শোনা খুব জরুরি। বার বার ভুল না ধরিয়ে দিয়ে তাকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কবিতা বলা বা কোনো বিষয় নিয়ে বলায় উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে।

রেকর্ড
কোনো একটি বিষয় কথা বলার সময় সেটি রেকর্ড করায় উৎসাহী করা যায়। নানা রকম মাইক্রোফোন পাওয়া যায়। এই ধরনের যন্ত্র থাকলে সে কথা বলতে উৎসাহী হবে। তাছাড়া, রেকর্ড করলে নিজের কথাই নিজে শেনার সময় ভুল ধরতে পারবে।

গল্প বলা
ছোটদের স্ক্রিন টাইম বেড়ে যাওয়া নিয়ে প্রায় সব বাবা মায়েরই অভিযোগ থাকে। শিশুর সঙ্গে গল্প বলার খেলা শুরু করা যেতে পারে। সঙ্গী হতে পারেন বাবা, মা, বাড়ির অন্যেরা। কোনো একটি বিষয় নিয়ে গল্প শুরু করার পরে বানিয়ে বানিয়ে অন্যদেরও কয়েকটি লাইন জুড়ে দিতে হবে। এতে কল্পনাশক্তি যেমন বাড়বে, তেমনই ভেবে কথা বলার অভ্যাস রপ্ত হবে।

টেক্সাসে হৃদি হকের নির্দেশনায় মিউজিক্যাল শো

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সম্প্রতি হৃদি হকের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি লাইভ মিউজিক্যাল শো। সিডার পার্কে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দর্শকরা সাক্ষী হয়েছেন তাঁর এক অনন্য সৃষ্টিশীল প্রয়াসের।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও দর্শনকে কেন্দ্র করে হৃদি হকের নির্দেশনায় ‘চেতনাতে নজরুল’ শিরোনামের শোটি উপস্থাপনা করে প্রদীপ্ত। প্রথাগত ঘরানার বাইরে সংগীত, নাট্যভাষ্য ও কথনের এক অনবদ্য ফিউশনে পুরো আয়োজনটি পেয়েছিল ভিন্নমাত্রা।

মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন কামরুজ্জামান রনি ও সুমনা ব্যানার্জী। সবশেষে রনির সঙ্গে নজরুলের আরও কয়েকটি গান যুগলভাবে পরিবেশন করেন আফরোজ মিদৌরি। শিল্পীদের সঙ্গে লাইভ মিউজিক্যাল টিমের তবলা, ভায়োলিন, গিটারসহ সমন্বিত বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা পুরো মিলনায়তনে তৈরি করে মনোমুগ্ধকর এক সাউন্ডস্কেপ।
হৃদি হক বলেন, “প্রতিটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নজরুলের বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবিক চেতনাকে দর্শকদের সামনে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সংগীত, নাট্যভাষ্য ও কথনের এই সমন্বিত উপস্থাপনা দর্শকদের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সিডার পার্কে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও আন্তরিক সাড়া আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”

মঞ্চের কাজের পাশাপাশি বর্তমানে সিনেমার কাজেও মনোযোগী হয়েছেন হৃদি হক। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিটি সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। পাশাপাশি সেরা গল্পকার হিসেবে প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক, সেরা সম্পাদক এবং সেরা গায়ক– উভয় বিভাগেই কামরুজ্জামান রনি এবং প্রধান চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা ও সেরা অভিনেত্রী বিভাগে যথাক্রমে সজল নূর ও সানজিদা প্রীতি মনোনীত হয়েছেন। আগামী ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের মূল গালা ইভেন্ট।

চট্টগ্রামে নালায় পড়ে প্রাণ গেল তিন বছরের মোস্তাকিমের

চট্টগ্রামের রাউজানে নালায় পড়ে স্রোতে ভেসে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু মোহাম্মদ মোস্তাকিম ওই এলাকার মোহাম্মদ পারভেজ হোসেনের বড় ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে মোস্তাকিমের দাদা আনোয়ার হোসেন স্থানীয় একটি দোকানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় পরিবারের অজান্তে দাদার পেছনে পেছনে বেরিয়ে যায় শিশুটি। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের সড়কের পাশে থাকা পানির নালায় পড়ে যায় সে।

স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে নালায় পানির প্রবল স্রোত ছিল। স্রোতে ভেসে শিশুটি পাশের কৃষিজমিতে জমে থাকা পানিতে গিয়ে পড়ে। পরে সড়ক দিয়ে যাওয়া এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বিষয়টি দেখতে পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘বৃষ্টির পানির স্রোতে শিশুটি নালা থেকে কৃষিজমির হাঁটু পানিতে গিয়ে পড়ে। সেখানেই পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।’

ডাবুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইয়াছমিন আকতার বলেন, ‘নালায় পড়ে শিশুটি ভেসে যায়। পরে কৃষিজমিতে জমে থাকা পানির মধ্য থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরিষদে যাওয়ার পথে আমার গাড়িতে করে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

রায়গঞ্জে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে রিয়াদ (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়াদ বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরছিল রিয়াদ। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়েছে।

নতুন মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত ১৪ কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা তেহরানের

বুধবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় ইরানের পাঁচটি প্রদেশে এ পর্যন্ত ১৪ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, মার্কিন এই আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতে কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশের পাঁচটি প্রদেশ জুড়ে অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতে একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) সিস্টেম, কাতারে একটি আর্লি ওয়ার্নিং স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা সাইট (আগাম সতর্কতামূলক উপগ্রহ অ্যান্টেনার স্থান) এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে। এই আক্রমণগুলোতে বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোকা প্রেসিডেন্ট’-এর লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা কোনো অবস্থাতেই পূরণ হতে দেওয়া হবে না এবং চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি বিপ্লবের সুমহান আদর্শ রক্ষা করা হবে।

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৩ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এর আগে এ স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।