Home Blog Page 343

সিনেমার গান করবেন না প্রিন্স মাহমুদ

দেশের প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদ। সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তিনি। সেখানে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আর সিনেমার গান করবেন না। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের গান ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেগুলো এমন প্রস্তাব ছিল যা অনেকের জন্য কল্পনারও বাইরে বলে দাবি করেন তিনি। তবু সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন এই গীতিকার।
নিজের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রিন্স লেখেন, ‘অনেকগুলো সিনেমার কাজ ফিরিয়ে দিয়েছি। এমনও একজনকে না বলেছি যাকে কেউ ফিরায় না। এমন একজন আছেন যার সঙ্গে দেখা করতেও মানুষ অপেক্ষা করে থাকে। ফোন পাওয়াটা দূরের কথা। কিন্তু আমি যাইনি।’
তিনি বলেন, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে শ্রম ও মেধা খরচ করে গান করেন তিনি। কিন্তু সিনেমায় গান করার পর সেগুলো হয়ে যায় নায়ক বা পরিচালকের গান। সেখানে গীতিকবি বা সুরকার হিসেবে নিজের পরিচয়টা থাকে না। এটাকে যৌক্তিক মনে করেন না প্রিন্স মাহমুদ। অনেক সময় সিনেমার গানে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী শ্রম ও মেধা দেওয়ার সুযোগ থাকে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আর এসব কারণেই সিনেমার গান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‘সিনেমায় আসলে আমার নতুন কিছু দেওয়ার নেই। যে যা-ই বলুক, সিনেমার গান হয় মূলত নায়ক কিংবা পরিচালকের ভাবনা থেকে। সেখানে আমার নিজস্বতা থাকে না। অকারণে ক্রেডিট নেওয়ার কোনো মানে হয় না’- দাবি প্রিন্স মাহমুদের।
সিনেমা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কথা বললেও প্রিন্স মাহমুদ জানিয়েছেন, তিনি থাকবেন শুধু অডিও গানের জগতে। সেখানে তিনি নিজের সৃষ্টিশীলতা ও মনের কথা গানের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। তাই এই আঙিনায়ই থেকে যাবেন আমৃত্যু।
তিনি লেখেন, ‘আমি কেবল অডিও গানের মাঝেই থাকব। যেখানে থাকবে ‘মা’, ‘এত কষ্ট কেন ভালবাসায়’, ‘আজ জন্মদিন তোমার’, ‘বাবা’, ‘বাংলাদেশ (আমার সোনার বাংলা)’, ‘যদি হিমালয় হয়ে’, ‘তুমি বরুণা হলে মাটি হব মাটি’, ‘কেন কর কান্না কাটি’, তাহসানের ‘আমার ছিপ নৌকোয় এসো’, তপুর ‘সোনার মেয়ে’, তুহিনের ‘আলো’ বা মিনারের ‘একাকিত্বের কোনো মানে নেই’-এর মতো গান।’
এই পোস্টে তার ভক্তরা যেমন আবেগাপ্লুত হয়েছেন তেমনি অনেকেই মনে করছেন এটি হয়তো একটি অধ্যায়ের অবসান।

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে অপসারণের নির্দেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী ঋণের নথিতে ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য লিসা কুককে তৎক্ষণাৎ পদ থেকে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তার চলমান বিরোধে এটিকে বড় ধরনের উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প কুককে লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করেন। তাতে তিনি জানান, কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী ঋণের নথিতে ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি তাকে অবিলম্বে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুক কিংবা ফেডারেল রিজার্ভ কেউই এখনও মন্তব্য করেনি।

বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প বারবার ফেডের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন— বিশেষ করে এর প্রধান জেরোম পাওয়েলকে লক্ষ্য করে। তার অভিযোগ, সুদের হার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনীহা দেখাচ্ছে। এমনকি তিনি একাধিকবার পাওয়েলকে বরখাস্ত করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

তবে কুককে অপসারণের পদক্ষেপটি নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১১১ বছরের ইতিহাসে ফেড বোর্ডের কোনো সদস্যকে এভাবে পদচ্যুত করা হয়নি। তিনি ছিলেন সাত সদস্যের মধ্যে একজন এবং এই পদে থাকা প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী।

এই পদক্ষেপের বিষয়ে আইনি প্রশ্নও উঠতে পারে, কারণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন হোয়াইট হাউসকে আদালতে প্রমাণ করতে হতে পারে যে, অপসারণের যথেষ্ট কারণ ছিল।

ট্রাম্পের চিঠিতে বলা হয়, কুক মিশিগানে একটি বাড়িকে নিজের প্রধান আবাস হিসেবে দেখিয়ে নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। মাত্র দুই সপ্তাহ পর জর্জিয়ার আরেকটি সম্পত্তির জন্যও একই ঘোষণা দিয়ে নথি জমা দেন তিনি।

ট্রাম্প লেখেন, “প্রথম প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর দ্বিতীয় নথি স্বাক্ষরের সময় আপনি তা জানতেন না, এটা বিশ্বাস করা কঠিন।”

গত সপ্তাহেই ট্রাম্প তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। এ অভিযোগ প্রথমে তোলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং হাউজিং ফাইন্যান্স নিয়ন্ত্রক বিল পুলটে। তিনি এটিকে ‘অপরাধমূলক রেফারেল’ আখ্যা দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে চিঠি পাঠান এবং ন্যায়বিচার বিভাগকে তদন্তের আহ্বান জানান। তবে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

কাল থেকে ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

আগামীকাল থেকে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের হার দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের মাধ্যমে এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এখনো রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি করে যাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রেখেছে, তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করাটাই হলো এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক হার আরোপ করেছিলেন, পরে তা আরও বাড়ানো হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে “অনুপযুক্ত, উসকানিমূলক ও অযৌক্তিক” বলেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে, চীনের ওপর সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি পরিমাণে ম্যাগনেট সরবরাহ করতে হবে চীনের। তা না হলে কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা আমাদের শিল্পকে সুরক্ষা দেবো। যদি চীন যথেষ্ট ম্যাগনেট না দেয়, তবে তাদের পণ্যে ২০০ শতাংশ কিংবা তারও বেশি শুল্ক বসবে।

শপথ নিলেন হাইকোর্টের নবনিযুক্ত ২৫ বিচারপতি

সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতি শপথ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মোয়াজ্জেম হোসাইন।

শপথ নেওয়া ২৫ বিচারপতি হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (শাহীন), আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ ও ফয়সাল হাসান আরিফ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসিফ হাসান ও মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবীর, হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ–এ–মাওলা সোহেল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর (সিনিয়র জেলা জজ) মো. রাফিজুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান ও রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।

এর আগে সোমবার (২৫ আগস্ট) রাতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে ২৫ জনকে নিয়োগ দেয় সরকার। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল রাতভর ভোগান্তির পর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে শিমরাইল থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট দেখা দিলেও দুপুরের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাতে মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে দুর্ঘটনা ও যানবাহনের চাপ বাড়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দুপুরের পর মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এতে গন্তব্যমুখী মানুষ স্বস্তিতে ফিরেছে। তবে যাত্রীরা বলছেন, মহাসড়কে এ ধরনের পরিস্থিতি ঘন ঘন তৈরি হওয়ায় ভ্রমণ পরিকল্পনা নষ্ট হয় এবং সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত যানজট ছিল। দুর্ঘটনা এবং ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় চাপ বেড়ে যায়। তবে এখন মহাসড়কের সবগুলো লেন সচল রয়েছে। যাত্রীদের যেন আর ভোগান্তি না হয়, সে জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি।

কেউ ছাই দেওয়া হাত থেকে বের হতে পারবে না : উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা চিন্তা করছি, সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ট্রাভেল এজেন্টগুলোর ট্যাক্স ফাইল ধরে টান দেওয়া হবে। কেউ এই ছাই দেওয়া হাত থেকে বের হতে পারবে না।

সোমবার (২৫ আগস্ট) এয়ার টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, নিরাপদ সমুদ্র পর্যটন নিশ্চিতে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপদেষ্টা বলেন, আমাদের নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্টের এজেন্সির সংখ্যা পাঁচ হাজার। জানা মতে, অনিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্ট আছে প্রায় ২০ হাজারের বেশি। পান দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় এরা সবাই মিলে একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে।

তিনি বলেন, ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে টিকিটের গায়ে মূল্য লেখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানছে না। শুধু অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সি নয়, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রেও মারাত্মক দুর্বৃত্তায়ন আছে। দেশের টিকিট বিদেশ থেকে বিক্রি হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, ফ্লাইট এক্সপার্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ সাধারণত চাহিদা ও সময়ের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী উদ্দেশ্যমূলকভাবে টিকিটের সংকট তৈরি করে ভোক্তার কাছে থেকে বাড়তি মূল্য আদায় করে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। সংখ্যা আরও একজন বাড়ানো হবে। ম্যাজিস্ট্রেটদের কিছু সুনির্দিষ্ট গন্তব্য বলে দেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় নৈরাজ্য সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন পরিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করা হবে।

আজকে স্বর্ণের বাজার দর

দেশের বাজারে আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ভরিতে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকা। সবশেষ সমন্বয়কৃত দামেই দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ।

সর্বশেষ ২৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ১৬ হাজার ১২৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এর আগে সবশেষ গত ২৩ জুলাই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৭ হাজার ২২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা কার্যকর হয়েছিল আজ ২৪ জুলাই থেকে।

স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮১১ টাকায়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭২৬ টাকায়।

চলতি বছরে মোট ৪৫ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ২৯ বার, আর কমেছে মাত্র ১৬ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।

টেস্ট থেকে হুট করে অবসরের মূল কারণ জানালেন রোহিত

ইংল্যান্ড সফরের আগে হুট করেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানান রোহিত শর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের এই ওপেনার। তখন থেকে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

অবশেষে সোমবার একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে অবসরের বিষয়ে মুখ খুলেছেন রোহিত। সরাসরি না বললেও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন হুট করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক জানান, শরীর আর টেস্ট ফরম্যাটের চাপ নিতে পারছিল না। তাই নিজে থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘টেস্ট ফরম্যাটের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হয়। কারণ খেলাটা দীর্ঘমেয়াদি। টেস্টে আপনাকে পাঁচ দিন টিকে থাকতেই হবে। মানসিকভাবে সেটা খুব চাপের। শরীর বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। তবে এটাও ঠিক, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেই সবাই বড় হয়।’

আক্ষেপের সুরে রোহিত জানান, ভারতের তরুণ ক্রিকেটারেরা এখন প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না। তবে একটা সময় তারা ঠিকই বুঝতে পারে, আগে থেকে নিজেকে তৈরি করার দরকার ছিল। এ প্রসঙ্গে রোহিত শর্মা বলেন, ‘আমি ক্রিকেট শুরু করার সময় খুব মজা করতাম। তারপর বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছি। ধীরে ধীরে সিনিয়র ক্রিকেটার এবং কোচেদের মুখোমুখি হয়েছি। বুঝতে শিখেছি কীভাবে সঠিক প্রস্তুতি দরকার।’

ক্রিকেটে ভালো করতে হলে অনুশীলনের বিকল্প নেই। রোহিতও মানেন সেটি। নিজের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমন অনেক কাজ করতে হয় যা চোখের সামনে দেখা যায় না। প্রস্তুতি সে রকমই একটা জিনিস। বারবার একই কাজ করতে হয়। কারণ ওখান থেকেই সব শুরু। মাঠে লম্বা সময় ধরে টিকে থাকার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয়। আমি ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলার সময়েও অনেকটা সময় দিয়েছি নিজেকে তৈরি করার জন্য।’

ঘোষিত দলে কেন জায়গা হয়নি নেইমারের, জানালেন আনচেলত্তি

প্রায় দুই বছর ব্রাজিল জাতীয় দলের বাইরে নেইমার। চোট কাটিয়ে লম্বা সময় পর সান্তোসের হয়ে খেলেছেন একাধিক ম্যাচ। পারফরম্যান্সও ছিল বেশ ভালো। ধারণা করা হচ্ছিল, আগামী সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে ব্রাজিল দলে দেখা যাবে তাকে। তবে, চিলি ও বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ঘোষিত ২৫ সদস্যের স্কোয়াডে নেইমারের নাম রাখেননি ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আগামী সপ্তাহে চিলি ও বলিভিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরই মধ্যে আগামী বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে সেলেসাওরা। তবে কোচ আনচেলত্তি এই দুই ম্যাচকে দেখছেন গুরুত্বের চোখে। আর তাই অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেলে শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছেন তিনি।

দল ঘোষণার পর নেইমারের না থাকা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন ব্রাজিল কোচ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ জানান, নতুন করে পড়া ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে সময় লাগবে নেইমারের। আর সেজন্যই ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি তার।

আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার গত সপ্তাহে একটি হালকা চোট পেয়েছে। আমাদের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। এ মুহূর্তে শতভাগ ফিট এমন ফুটবলারই আমাদের দরকার। নেইমারের সামর্থ্য নিয়ে কারো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা তাকে সম্পূর্ণ ফিট অবস্থায় দেখতে চাই যেন সে জাতীয় দলের জন্য তার সর্বোচ্চটা দিতে পারে।‘

ব্রাজিল স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: আলিসন, বেন্তো, হুগো সাউজা

রক্ষণভাগ: আলেক্সসান্দ্রো রিবেইরো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, কাইও হেনরিক, ডগলাস সান্টোস, ফ্যাব্রিজিও ব্রুনো, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মারকুইনোস, ভেন্দারসন, ওয়েসলি

মধ্যমাঠ: আন্দ্রে সান্তোস, ব্রুনো গুইমারেস, ক্যাসেমিরো, জোয়েলিনটন, লুকাস পাকুয়েতা

আক্রমণভাগ: এস্তেভাও, গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লি, জোয়াও পেদ্রো, কাইও জর্জ, লুইস হেনরিক, ম্যাথেউস কুনহা, রাফিনহা, রিচার্লিসন

দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে মনোযোগ বিএনপির

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি মনে করছে, গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জনগণের সেই আগ্রহ-আকাঙ্ক্ষাকে কীভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জায়গা দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবছেন বিএনপির হাইকমান্ড। তাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নির্বাচনে বিতর্কিত কাউকে প্রার্থী করতে চায় না দলটি। এ ক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের অপেক্ষাকৃত তরুণ, সংগঠনের জন্য নিবেদিত, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের হাতেই আগামী নেতৃত্বের ঝান্ডা তুলে দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে শতাধিক আসনে তরুণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রমতে, অতীতে বারবার নির্বাচন করেছেন কিন্তু এলাকায় অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন এমন নেতারা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকাসহ যাদের ভাবমূর্তি সংকটে রয়েছে, তাদের ব্যাপারে বিএনপি এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেক্ষেত্রে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে হেভিওয়েট হিসেবে পরিচিত দুই ডজনেরও বেশি নেতা দলীয় মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। তবে কোনো কারণে কাউকে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের মন্ত্রিসভায় রাখা নাও হতে পারে।

বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘দেশ তো এরই মধ্যে নির্বাচনের চ্যানেলে ঢুকে গেছে। সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল, স্বাভাবিকভাবে বিএনপিও তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘মনোনয়নের ব্যাপারটি প্রোগ্রেসিভলি (ক্রমান্বয়ে) হবে। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দলীয় একটা প্রসেস (প্রক্রিয়া) আছে, সেটার মধ্য দিয়ে এটি হবে। আর নির্বাচন কমিশন শিডিউল ঘোষণা করলে তখন এটা চূড়ান্ত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘আজকের প্রেক্ষাপটে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, সৎ, জনপ্রিয় এবং বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান, সবকিছু মিলিয়ে যথাসময়ে মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হওয়ার কথা এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনও (ইসি) নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এর ফলে রাজনীতির মাঠেও এক ধরনের নির্বাচনী হাওয়া বইছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে মাঠে রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়। তবে বিএনপি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আসনেই দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেনি। যদিও দলের ভেতরে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। কিন্তু সেসব সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয় বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কারা হতে পারেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কাজ চলছে। যার অংশ হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে একাধিক জরিপও করা হয়েছে। কাকে কোথায় প্রার্থী করলে জিতে আসতে পারেন, একই সঙ্গে পজিটিভ ইমেজ (ইতিবাচক ভাবমূর্তি) আছে এবং এলাকায় জনপ্রিয়—এগুলো বিবেচনা করে প্রার্থী চূড়ান্তের চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজ শেষ করবে দলটি। আর ইসি তপশিল ঘোষণার পরপরই বিএনপি তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে।

অবশ্য নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় আছেন। যারা মনোনয়ন পেতে পারেন অথবা মনোনয়নপ্রত্যাশী, তারা নিজ নিজ এলাকায় জোরদার সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। দল ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফাকেন্দ্রিক প্রচার চালাচ্ছেন। ঢাকাকেন্দ্রিক নেতারা শুক্র-শনিবার এলেই এলাকামুখী হচ্ছেন। আর যাদের ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কম, তারা এলাকাতেই রয়েছেন। মানুষের মন জয়ে তারা নিজেদের যুক্ত রেখেছেন নানা কর্মকাণ্ডে। কোনো কোনো প্রার্থী বিভিন্নভাবে দলের হাইকমান্ডের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ লন্ডনেও যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে নিজের জয়ের সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন। এ ছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোরও চেষ্টা করছেন।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন হবে বলে মনে করছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় বিভিন্ন ফোরাম এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে একাধিকবার এ কথা বলেছেন। নেতাকর্মীদেরও সেভাবে সতর্ক থাকতে বলেছেন। একই সঙ্গে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থেকে তাদের মন জয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে যে কোনো মূল্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও বদ্ধপরিকর তিনি। তাই দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে ৫ আগস্টের পর অপকর্মে সম্পৃক্ততা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দল ও অঙ্গ সংগঠনের চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায়ও এ ধারা বজায় রাখা হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। বিতর্কিত কাউকেই তিনি প্রার্থী করতে চান না। তারেক রহমান রাজনীতিতে সত্যিকার অর্থে গুণগত পরিবর্তন চান বলে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন। যুগপৎ আন্দোলনের মিত্ররাও আগামী নির্বাচনে প্রধান শরিক বিএনপি থেকে বিতর্কিত কাউকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্প্রতি ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন। সেখানে মিত্রদের আগামীতে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া বিএনপির অঙ্গীকার রয়েছে, যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে একসঙ্গে নির্বাচন ও সরকার গঠন করবে। আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিএনপি তাদের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে। বিএনপির এই যে লক্ষ্য, তা পূরণে আগামী নির্বাচনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দলের ভেতরে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে বিএনপি এবং দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের যারা খুবই সম্ভাবনাময়ী ও তরুণ, অন্যদের সঙ্গে তাদেরও গুরুত্ব দেবে দল।

জানা গেছে, যুগপতের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা করেনি বিএনপি। তবে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি যথাসময়ে মিত্রদের সঙ্গেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা এবং প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে বিএনপি। অবশ্য আসন বণ্টন চূড়ান্ত না হলেও শরিকদের অনেকেও নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। অনেকে ৩১ দফার প্রচারও চালাচ্ছেন।