Home Blog Page 345

১৫ বছরের দুঃশাসনে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে: মির্জা ফখরুল

০
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গত ১৫ বছরে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থায় যে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে সেগুলো শক্তিশালী করবে বিএনপি। এ জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে হবে।’
আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে টেকসই গণতন্ত্র নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২৪ জুলাই ঢাকার রাজপথে হাজারো তরুণ, যুবক, নারী ও শিশু তাদের অধিকার ফেরাতে প্রাণ দিয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়েই গত ১৫ বছরে আমাদের ১২ জন সহকর্মী শহীদ হয়েছেন। শুধু জুলাই মাসেই প্রাণ দিয়েছেন চারজন।
এই জেলায় আওয়ামী লীগ ৭৫টি মামলা দিয়েছে, যাতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার নেতাকর্মী হয়রানির শিকার হয়েছেন। কেউ পালিয়ে ছিলেন, কেউ ধানক্ষেতে লুকিয়ে থেকেছেন, কেউ আবার কারাভোগ করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকের এই সম্মেলন আমাদের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি দুঃখেরও। আনন্দের কারণ- আমরা মুক্ত পরিবেশে দলীয় কার্যক্রম চালাতে পারছি। আর দুঃখের কারণ- অনেক প্রিয় সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে ফখরুল বলেন, ‘জিয়া একটি দল গড়ে দিয়েছিলেন, যে দল গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে, প্রাণ দিয়েছে।’
তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সংগ্রামের দিক তুলে ধরে বলেন, ‘তিনি দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। আবার গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধেও লড়াই করেছেন। একদিনের জন্যও মাথা নত করেননি।’
তারেক রহমানকে ভবিষ্যতের নেতৃত্বদাতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার নেতৃত্বেই আগামী দিনে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দিয়েছে এবং ভিশন–২০৩০ এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা করেছে। এখন ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনীতি, রাজনৈতিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে দলটি এগিয়ে যাচ্ছে।’
এর আগে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান দুদু ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন। সাত বছর আট মাস পর দলীয় সম্মেলন ঘিরে সকাল থেকে উৎসবমুখর ঠাকুরগাঁও জেলার নেতাকর্মীরা। পাঁচ উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার ৮০৮ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে জেলার নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

‘ট্রাম্পকে বিদায় করো’— প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল ওয়াশিংটন ডিসি

০
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজধানীর রাস্তায় টহলরত বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিক্ষোভ থেকে “ট্রাম্পকে এখনই বিদায় করতে হবে” বলেও দাবি করা হয়েছে। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
এদিকে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন অন্যান্য শহরেও দমনপীড়নের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিকাগো থেকে অভিবাসীদের বহিষ্কারের হুমকি দেন। সেখানে মূলত ১৯৭৯ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র “অ্যাপোক্যালিপস নাউ”-এর প্যারোডি করা হয়েছিল।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ‘উই আর অল ডিসি’ শীর্ষক এ মিছিলে অংশ নেন অবৈধ অভিবাসী ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থকেরা। তারা ট্রাম্পের সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পোস্টারে বিভিন্ন বার্তা লিখে আনেন। যার কয়েকটিতে লেখা ছিল— “ট্রাম্পকে এখনই বিদায় করতে হবে”, “ডিসিকে মুক্ত করো”, “স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলো”।
অ্যালেক্স লফার নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমি এসেছি ডিসির দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে। আমরা কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরোধিতা করছি। ফেডারেল পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডকে রাস্তা থেকে সরাতে হবে।”
ট্রাম্প দাবি করেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেই গত মাসে তিনি সেনা মোতায়েন করেছেন, যাতে “আইন, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা” পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া তিনি রাজধানীর মেট্রোপলিটন পুলিশকে সরাসরি ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে নেন এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থাসহ (আইসিই) বিভিন্ন ফেডারেল বাহিনীকে শহরের রাস্তায় নামান। সমালোচকদের মতে, এটি ফেডারেল ক্ষমতার অপব্যবহার।
কিন্তু বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটনে সহিংস অপরাধ ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের অধীনে থাকে। তবে ডিসি ন্যাশনাল গার্ড সরাসরি প্রেসিডেন্টের অধীনে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, তিনি শিকাগোতেও ন্যাশনাল গার্ড পাঠাবেন। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এ শহরে সামরিকায়নের প্রচেষ্টা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইনি সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার জানান, সাংবাদিকদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে আইসিই এজেন্ট ও সামরিক যান শিকাগোতে পাঠিয়েছে এবং আরও পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কেসি নামে একজন প্রতিবাদকারী বলেন, “ডিসিতে যা করছে, অন্য একনায়কতান্ত্রিক সরকারগুলোও তাই করে থাকে। এখন যদি মানুষ সহ্য করে, তবে তারা ধীরে ধীরে অন্য জায়গায়ও একই কাজ করবে। তাই দেরি হওয়ার আগেই থামাতে হবে।”
বর্তমানে ছয়টি রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা সৈন্যসহ দুই হাজারের বেশি সেনা ওয়াশিংটনে টহল দিচ্ছে। তাদের মিশন কবে শেষ হবে তা পরিষ্কার নয়। তবে সেনাবাহিনী ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দায়িত্ব ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না: প্রেস সচিব

০
দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি যখনই দেখছে দেশ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে এবং জুলাই হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগুচ্ছে, তখনই তারা বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে মাঠে নেমেছে। এটা কেবল আইনশৃঙ্খলার ইস্যু নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার মনে করে দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা প্রয়োজন।’
এর আগে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান প্রেস সচিব। সভায় স্বরাষ্ট্র, পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ, আইন, নৌপরিবহন, অর্থ, শিল্প, স্থানীয় সরকার ও নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ ১০ জন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুল আলম বলেন, সভায় ঝটিকা মিছিলসহ বেআইনি সমাবেশ মোকাবিলায় আরও কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই, যে এটি পেছাতে পারবে।’
সম্প্রতি রাজবাড়ীর ঘটনায় নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত দুইজন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, যারাই জড়িত থাকুক না কেন, সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

৩৩ হাজার মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা, বসানো যাবে না গাঁজা-মদের আসর: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

০
এবার সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজা মণ্ডপ রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পূজামণ্ডপগুলো পর্যবেক্ষণে থাকবে। আমাদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আনসার নিয়োগ দেওয়া হবে।
পূজা উপলক্ষে আশেপাশে যে মেলা বসে সেখানে মদ ও গাঁজার আসর বসে। এবার এসব মেলা হবে না। গাঁজা ও মদের আসর বসানো যাবে না।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে মণ্ডপগুলোতে শুধু আনসার সদস্যই থাকবেন তিন লাখ। এ ছাড়া পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, এবার পূজা আয়োজন কমিটি কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। গতবার শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করা হয়েছিল।
এবার আরো শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করা হবে।

৭৩৯টি ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে ফিরল

০
ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২’ এর ১১ ধারায় সরকারকে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, তা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ১৯৯৩ সালে সরকার ৭৩৯টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করে গেজেট জারি করেছিল। পরে ১৯৯৪ সালে আরেকটি সার্কুলারে সরকার সেই ক্ষমতা সীমিত করে।
এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে সোমবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের ফলে দেশের অধিকাংশ ওষুধের দাম নির্ধারণের এখতিয়ার উৎপাদনকারীদের পরিবর্তে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে ফিরল।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এই রিট দায়ের করেছিল।
রায়ে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ডিজি ড্রাগ, ওষুধ মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
রিটকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ পরে সাংবাদিকদের জানান, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর ১১ ধারায় সরকারকে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এর ভিত্তিতে ১৯৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৭৩৯টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে। কিন্তু ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি সার্কুলারের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হয়। বাকি সব ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে। এই সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করে এইচআরপিবি ২০১৮ সালে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করে। তখন কেন ওই সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ (২৫ আগস্ট) রায় ঘোষণা করা হলো।

কাবিলা যে আমাকে মিস করে, এটা ভালো লাগছে: পারসা ইভানা

০
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ খ্যাত অভিনেত্রী পারসা ইভানা। নিউইয়র্কের ‘দ্য ফ্রিম্যান স্টুডিও’ থেকে অভিনয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ চার মাস প্রবাসে কাটানোর পর ২১ আগস্ট দেশে ফিরেছেন ইভানা। বিদেশে থাকায় ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর পঞ্চম সিজনে যুক্ত থাকতে পারেননি তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এবারের সিজনে দর্শক তাকে মিস করছে।
শুধু দর্শক নয়, ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর পঞ্চম সিজনে ইভাকে (পারসা ইভানার চরিত্রের নাম) মিস করতে দেখা গেছে কাবিলাকেও। নাটকের প্রকাশিত কয়েকটি পর্বে দেখা গেছে সেই চিত্র।
স্বাভাবিকভাবেই দেশে ফেরার পর অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, ব্যাচেলর পয়েন্টে কবে থেকে দেখা মিলতে চলেছে ইভার?
জবাবে অভিনেত্রী বলেন, সেটা হয়তো পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন। তবে দর্শকরা যে আমাকে মিস করছেন, বিশেষ করে কাবিলা আমাকে মিস করে সেটা দেখতে ভালো লাগছে।
পারসা ইভানা আরও বলেন, ইভা চরিত্রটিকে দর্শক যতটা মিস করে, আমি মিস করি তার চেয়ে বেশি। অধিকাংশ মানুষ আমাকে ইভা হিসেবেই চেনে। এ নিয়ে খুব প্রাউড ফিল করি। ইভা চরিত্রটিকে মানুষ এত ভালোভাবে গ্রহণ করেছে, সেটা আমার কাছে আশীর্বাদস্বরূপ। নতুন সিজনে আমার অভিনয়ের সম্ভাবনা আছে কি না, সেটা জানি না। তবে যারা এই সিজন দেখছেন, তারা অবশ্যই ইভাকে খুঁজে পাবেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডা ভ্রমণে গিয়েছিলেন ইভানা। সেখানে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল জিয়াউল হক পলাশের। পর্দার কাবিলার সঙ্গে দূর প্রবাসে দেখা হওয়ার পরে দুজনে বেশ ভালো কিছু সময় কাটিয়েছেন একসঙ্গে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীকে প্রধান করে বিসিবির নির্বাচন কমিশন

০
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করা হয়েছে। বোর্ডের সংবিধান ও নিয়মাবলীর অধীনে নির্বাচনের প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিশন।
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেনকে করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বাকি দুই নির্বাচন কমিশনের সদস্য হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান মো. সিবগাত উল্লাহ। নাম ঘোষণা না হলেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) কমিশনের তৃতীয় সদস্য।
পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন হবে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। তারিখ অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারা ও ৫ম অধ্যায় অনুযায়ী, কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নিয়মাবলি প্রণয়ন, তফসিল ঘোষণা, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ এবং সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে।
বিসিবির সংবিধান অনুযায়ী, ঢাকা ভিত্তিক ক্লাবগুলো (ক্যাটাগরি-১) থেকে ১২ জন পরিচালক নির্বাচিত হন ৭৬ জন ক্লাব কাউন্সিলরের মাধ্যমে।
ক্যাটাগরি-২, যেখানে আঞ্চলিক ও জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি থাকে, সেখান থেকে আট বিভাগ ও ৬৪ জেলার কাউন্সিলরের ভোটে ১০টি পদ পূরণ হয়।
ক্যাটাগরি-৩ এ ‘অন্যান্য প্রতিনিধি’ কোটায় একজন পরিচালক নির্বাচিত হন। এ ছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে মনোনীত হন দুই পরিচালক। এভাবে ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। তারপর বোর্ড পরিচালকেরা মিলেই সভাপতি নির্বাচন করেন।

৫ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয়

০
বেসরকারি খাতের ৫টি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি এসকে তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
৫ ব্যাংক হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।
উল্লেখ্য, দুর্বল পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সপ্তাহব্যাপী শুনানির আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর একীভূত করে গঠিত হতে যাওয়া ‘ব্রিজ ব্যাংক’-এর পক্ষে এখন পর্যন্ত সমর্থন জানিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। শুনানির শেষ ধাপে আজ (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এক্সিম ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় এখনই অংশ নিতে রাজি হয়নি। ব্যাংকটির পর্ষদ জানিয়েছে, তাদের অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন।

মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয়: রিজভী

০
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আজ আমরা নিজেরা দ্বিধাবিভক্ত। আমরা কারো মাজার ভাঙছি। কোনো লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছি। এটা তো রাসুলের শিক্ষা নয়।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আজ আমরা গণতন্ত্রের চেতনাই বলি, আমরা রাষ্ট্রীয় চেতনাই বলি– পৃথিবীর কাছে নিদর্শন দিয়ে গেছেন আরবের সেই মহামানব। আমরা সেখান থেকে শিক্ষা না নিয়ে আমরা নিজেদের যে ধর্ম, নিজেদের যে ইসলাম, সেটাকেই আমরা কত ফেরকা, কত ফিতা, কত ধরনের কথাবার্তা দিয়ে শুধু বিভাজন করছি। অথচ ঐক্যের প্রতীকই ছিলেন আমাদের মহানবী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ যে মহামানবকে নিয়ে এখানে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে, মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে, তার সম্পর্কে আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের বিস্তারিত বলা খুবই কঠিন ব্যাপার। এটা সম্ভব নয়। শুধু তার রেখে যাওয়া যে আদর্শ এবং তিনি আল্লাহর কাছ থেকে প্রাপ্ত যে বাণী সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন, ছড়াতে গিয়ে তিনি যে অনুপম নিদর্শন এবং তার ব্যক্তিগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তিনি রেখে গেছেন। যদি আমরা সামান্যতম অনুকরণ করতাম বা আমরা লালন করতাম তাহলে এই দেশ থেকে অন্যায়-অনাচার, কুপ্রবৃত্তি, পাপাচার, হানাহানি রক্তারক্তি সব বন্ধ হয়ে যেত।
তিনি বলেন, যিনি আমাদের মডেল, যিনি আমাদের আদর্শের প্রতীক, তাকে আমরা কেউ অনুসরণ করি না। তাকে আমরা কেউ অনুকরণ করি না। এটাই হলো মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আজ যে দেশে বাস করছি, সেই দেশের যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনিও মুসলমান ছিলেন, কাজে না হলেও নামে ছিলেন। একবার বলেছিলেন মদিনা চার্টার অনুযায়ী দেশ চালাবেন, সেটা আমরা কি দেখলাম– তার এক মন্ত্রীর ১৪০টা বাড়ি লন্ডনে, তার বাড়ি থাকার পরও তার ছেলেমেয়ের নামে পূর্বাচলে ৬০ কাঠা জায়গা।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের ওপর বিপদ আসে, আমরা দেশেই থাকি, আমাদের নেত্রী দেশেই থাকেন, মিথ্যা মামলায় পাঁচ-ছয় বছর তিনি নির্যাতনে কারাবন্দি অবস্থায় থাকেন, আমরা কোনো পন্থি দল নই, বাংলাদেশপন্থি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আপনারা কি পন্থি আপনারা নিজেরাই প্রমাণ করেছেন। ১৯৮১ সালের দেশে যখন ফিরলেন, জিয়াউর রহমান যখন আপনাকে ফেরার অনুমতি দিলেন, দেশে ফিরলেন কোন দেশ থেকে? আপনি এসেছিলেন, আবার ৫ আগস্টে কোন দেশে পালিয়ে গেলেন?  আপনাদের অধিকাংশ লোক কোন দেশে পালিয়ে গেছে? এটা জনগণ দেখেছে। এখনো দেখছি। আবার ওই দেশ থেকেই আমরা অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা শুনি যে তোমরা উল্টে দাও, পাল্টে দাও, কারো হাত ভেঙ্গে দাও, কারো পা ভেঙ্গে দাও, এটা কীভাবে সম্ভব।
তৌহিদী জনতার নামে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ একটি উদার নৈতিক দেশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বাস করে। এই দেশের পূজামণ্ডপ পাহারা দেয় আলেম-ওলামারা। সেই দেশে মাজার ভেঙে সেখানে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এটার আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবশ্যই এর পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো ষড়যন্ত্র আছে। বিএনপির আমলে চক্রান্ত করেছিলেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করার জন্য এখন আবার সেই প্রচেষ্টা চলছে কি না, এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।
মিলাদ মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু। এতে মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।

শিগগিরই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

০
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
এজেডএম জাহিদ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করা হবে। পতিত স্বৈরাচার পেছন দিক দিয়ে এসে জনগণের অধিকার হরণ করার পাঁয়তারা করছে। দেশের স্বাধীনতা এবং সাভৌমত্বে যারা বিশ্বাসী নয়, তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। এসময় সবাইকে চলমান ষড়যন্ত্র রুখতে চোখ-কান খোলা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পিআর পদ্ধতি বেআইনি আবদার। সংবিধান ইচ্ছে করলেই ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া যায় না। আবেগী না হয়ে জনআকাঙ্ক্ষা বুঝতে হবে।