Home Blog Page 349

‘আমি প্রেমে বিশ্বাস করি’

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা। মালাইকাকে বলিউডের ‘আইটেম কুইন’ বলা হয়। সম্প্রতি মালাইকা এবং অর্জুন কাপুরের সম্পর্কে ভাঙনের খবর অজানা নেই কারও।

বিচ্ছেদের পরেও চর্চা হয় এই জুটিকে নিয়ে। বয়সের ব্যবধান নাকি অন্য কোনো বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা, তা আজও খোলাসা করেননি দুজনের কেউই। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মালাইকাকে জিজ্ঞেস করা হয়, যদি আপনাকে তরুণ বয়সে ফিরিয়ে নেওয়া যায় তাহলে নিজেকে কী পরামর্শ দিতেন?

উত্তরে মালাইকা বলেন, ‘আমি বলতাম, বিয়ের জন্য সময় নাও। এত তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করার দরকার নেই। আগে একটু কাজ করো, জীবনের পথচলা বোঝো, তারপর এই সিদ্ধান্ত নাও। আমি খুব অল্প বয়সেই বিয়ে করেছিলাম।’

সাক্ষাৎকারে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, আবার বিয়ে করার কথা কি তিনি ভাবছেন? মালাইকা খোলামেলা ভঙ্গিতে বলেন, ‘নেভার সে নেভার। আমি একজন ভীষণ রোমান্টিক মানুষ। আমি এখনও প্রেমে বিশ্বাস করি। ভালোবাসা সম্পর্কিত সব কিছুতে আমার আস্থা আছে। তাই কখনও না বলার কিছু নেই।’

মালাইকাও তার কথার ভাঁজে বুঝিয়ে দেন, তিনি নতুনভাবে জীবনকে উপভোগ করছেন। এর মাঝেই দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসার ইঙ্গিত দিলেন মালাইকা।

১৯৯৮ সালে আরবাজ খানকে বিয়ে করেন মালাইকা। চার বছর পর, ২০০২ সালে জন্ম হয় তাদের ছেলে আরহান খানের। ২০১৬ সালে তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটে।

নায়িকাদের জীবনের গল্প পর্দায় আনছেন রুনা খান

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খান। ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দায়ও নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুনা খান। যাদও এবার ভক্তদের জন্য প্রথমবারের মতো আসছেন তিনি সিনেমার নায়িকা চরিত্রে। সেই সিনিমাটি হচ্ছে নায়িকাদের জীবনের বাস্তব জীবন নিয়ে।

আলী জুলফিকার জাহেদীর পরিচালনায় তৈরি হতে যাচ্ছে ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’। যেখানে সিনেমার প্রধান চরিত্রে থাকছেন অভিনেত্রী রুনা খান।

পরিচালক আলী জুলফিকার জাহেদী জানিয়েছেন, ‘ইতোমধ্যেই চরিত্রটির জন্য  চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন রুনা খান। বাকি শিল্পীদের বাছাইও প্রায় শেষ। বছরের শেষ দিকে শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, তার আগেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে।

রুনা খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গত শীতে এ ছবির বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা শুরু হয়। গল্প শোনার পর ভালো লাগে। পরে চিত্রনাট্য ও চরিত্র পছন্দ হলে চুক্তি করি। এখানে আমি একজন চিত্রনায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করব। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজ করতে ভালোবাসি, বিশেষ করে যেগুলো বাস্তবতার ছোঁয়া রাখে। এ চরিত্রও ঠিক তেমন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নায়িকার ভূমিকায় এর আগে কখনো কাজ করিনি। প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে টেলিফিল্মে একজন যাত্রার অভিনেত্রী হয়েছিলাম। এবার দর্শক আমাকে সিনেমার নায়িকার চরিত্রে দেখবেন। কাজটি নিয়ে আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত। চরিত্রটি ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দর্শকদের ভালো লাগলেই আমার সার্থকতা। আমরা যারা অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সবাই পর্দায় দেখেন। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, পর্দার বাইরেও আমাদের আলাদা একটা জীবন আছে। আমাদেরও আছে সুখ-দুঃখ-হাসি-কান্নার বাস্তব গল্প। এমনই এক নায়িকার গল্প নিয়ে মূলত ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’ নির্মিত হচ্ছে।’

২০০৭ সালে নোমান রবিনের পরিচালনায় একটি টেলিফিল্মে যাত্রাপালার অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ছিল তার। তবে এবারই প্রথমবার বড় পর্দায় নায়িকার চরিত্রে দেখা যাবে রুনা খানকে।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হলে মহাদুর্যোগ আসবে’

সব সংস্কার প্রস্তাবের আইনি ভিত্তি দিয়ে এই সরকারের অধীনে যদি আগামী নির্বাচন না হয় তাহলে বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে এক মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বলেন, জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি না দিয়ে যদি বিদ্যমান কাঠামোতেই আগামী নির্বাচন হয়, তাহলে আরেকটা হাসিনার জন্ম হবে, আরেকটা ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে।
রোববার (১৭ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত  ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান ও আমাদের করণীয় শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন পরবর্তী আলোচনায় একথা বলেন তিনি।
অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসকে আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, যদি আপনাদের আরও কোনো পাল্টা যুক্তি থাকে, সর্বদলীয়ভাবে দেশের সেরা বরেণ্য আইনঙ্গদের নিয়ে একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠকের আয়োজন করুন। সেখানে যুক্তি পেশ হোক, সেটা সারা দুনিয়াতে লাইভ টেলিকাস্ট হোক দেশ ও বিদেশ দেখুক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃ্দ ছাড়াও জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও আইন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই ঘোষণা পাঠ করেছেন, সেটা আগামী নির্বাচনের পর, দুই বছর পর সংবিধানে নাকি তফসিলভুক্ত করা হবে। আমি মনে করি, আজকের এই সেমিনার ড. ইউনুস এর জুলাই ঘোষণায় ওই কথার তীব্র প্রতিবাদ। জনগণ তার কথা মানে নাই।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এর আগে বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়ে বলেছিলেন, যদি আপনারা জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে না পারেন, অক্ষম হন, তাহলে আমাদেরকে দায়িত্ব দেন এই আইনের ভিত্তি ড্রাফট আমরা সরবরাহ করব।
সেই কথাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি দলের বড় বড় নেতারা এখনো বলছেন, পার্লামেন্ট ছাড়া কি করে আইন তৈরি করা হবে? আজব ব্যাপার। আজকের সেমিনারের তথ্য প্রমাণও তাদের সেসব জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দেওয়া তাদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ। আপনারা মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, আইন, বিধান সংবিধান প্লকেশন, অর্ডিনেন্স, লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলছেন।
একটি বড় দলের স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্যের দেওয়া বক্তব্য টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই নেতা বলছেন, সংস্কার কমিশনে যত আইন আপনারা করেন না কেন, আমরা সংসদে গিয়ে মুছে দেব। তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আপনারা শুধু এটা মনে করবেন না যে দেশের আইনকানুন সংবিধান সবকিছু শুধু আপনাদের আলমারিতেই আছে। আইন সংবিধান সম্পর্কে আমাদের কাছেও অভিজ্ঞ মানুষ আছে, রেকর্ড আমাদের কাছে আছে।
ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকে বলেছিলেন, কারা পক্ষে আছে কারা কারা না তা জাতি জানবে, আপনি ওয়েব সাইটে প্রকাশ করে দেবেন। এ জন্য সর্বদলীয় গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন। মানুষ জানুক। কারা জনআকাঙ্খার পক্ষে আর কারা বিপক্ষে।
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অধিকাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, পিআর পদ্ধতি ছাড়া কখনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। কিন্তু আপনাদের কি হয়েছে আমরা জানি না। গ্রামে বলে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখান। সেই বড় দলের নেতারা বলছেন, যে মানুষরা ইভিএম বোঝে না তারা পিআরও বোঝে না। ইভিএম কি আর পিআর কি? ইভিএম হচ্ছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের নাম আর পিআর হচ্ছে ইলেক্টোরাল সিস্টেমের নাম।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পিআর হলে কালো টাকা, মনোনয়ন বাণিজ্য, পেশিশক্তি এগুলো যারা করতে পারবে না তারাই পিআর পদ্ধতিকে বাধা দিচ্ছে। পিআর পদ্ধতিতে একটা কোয়ালিটি রিচ পার্লামেন্ট হবে প্রত্যেকটি ভোটের মূল্যায়ন হবে। পিআর পদ্ধতি এখন অধিকাংশ জনগণ মত দিয়েছেন। অনেকগুলো জরিপ বলছে, ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ বলেছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। লোয়ার ও আপার হাউজে তারা পিআর চাচ্ছেন।
তিনি দেশের সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ও ইসলামিক শক্তিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি মানবিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন জামায়াত আমির। কম্প্রোমাইজ ও সেক্রিফাইসের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পিআর পদ্ধতিকে নির্বাচনের আয়োজন করি।
জাতীয় ঐক্যমতের জন্য জামায়াত অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের অনেক প্রস্তাবনা ছিল। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে দায়িত্ব পালন করছেন আমাদের দলের নায়েবে আমির ড. তাহের। সব দলের ঐক্যের স্বার্থে আমরা অনেক সেক্রিফাইস করেছি। অনেক ছাড় দিয়ে হলেও আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছি। তাহলে জুলাই বিপ্লবের জন আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রুপ দিতে হলে বড় বড় দলেরও তো দায়িত্ব আছে, তাদের তো সেক্রিফাইস কম্প্রোমাইজ করতে হবে৷
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, একটি দল খুব জোর করে বলে, আমাদের সংবিধানের আর্টিকেল সেভেনে জনগণ রাষ্ট্রের যে মালিকানা দিয়েছে, সেটার কথা বলে তারা পাশ কাটাতে চায়। তারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিকে প্রয়োজন মনে করছে না। তারা বলে, জনগণের অভিপ্রায় সব আইনের ঊর্ধ্বে। সেটাই যদি হয়, আমি বলবো আপনারা জনগণের অভিপ্রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই যে সংস্কারগুলো হয়েছে সেগুলো শুধু আপনাদের বাসায় জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট হিসেবে রেখে দিলে জাতির ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে?

৫০ শতাংশের বেশি নারী প্রতিনিধিত্ব কেন নয়, প্রশ্ন মঈন খানের

জাতীয় সংসদে ৫০ শতাংশের বেশি নারী প্রতিনিধিত্ব কেন নয় এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
রোববার (১৭ আগস্ট) বিকেলে গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনের গ্র্যান্ড বলরুম এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থান এবং নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে খান ফাউন্ডেশন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট রোখসানা খোন্দকার। তিনি নির্বাহী পরিচালক, খান ফাউন্ডেশন এবং অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ড. আদি ওয়াকার। এছাড়া ফান্সের রাষ্ট্রদুত ম্যারি মাসদুপুইসহ বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিকরা অংশ নেন।
মঈন খান বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখ নারী শ্রমিক আছে যারা গামেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করে অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে। বাংলাদেশে নারী অর্থনীতি দিকে নিয়ে যাচ্ছে এটা আমি শুনতে চাই না। আমি শুনতে চাই, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের চেয়ে বেশি নারী। জাতীয় সংসদ ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০ জন বা ১৫১জন কেন নারী প্রতিনিধিত্ব থাকবেন না আমি এই প্রশ্ন রেখে গেলাম। অনেকই হয়তো বলবেন এটা অবান্তর, অবাস্তব। আমরা যদি মানুষিক অবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা যদি পরিবর্তন করতে না পারি তাহলে কিন্তু নারীর মুক্তি, নারীর সমতার আন্দোলন এসব সেমিনার করে লাভ হবে না। আমদের অন্তর থেকে নারীর জন্য পরিবর্তন আনতে হবে। নমিনেশন দিলেও নারীরা পাশ করবে না এসব বলা হয়। কিন্তু নমিনেশন দিলে কেউ পাশ করবে কেউ ফেল করবে এটা তার জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করে। নারীদের নমিনেশন দিতে হবে।
তিনি বলেন, এটা গবেষণা করে সমাধান করতে পারব বলে মনে হয় না। মূল সমস্যা হচ্ছে নারীদেরকে মেইন ষ্টিম রাজনীতি নিয়ে আসতে না পারা। আমরা যদি নারীদেরকে মেইন স্টিমে নিয়ে আসতে পারি তাহলে এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
সারবিশ্বের নারীদের ভোটের অধিকারের ইতিহাস তুলে ধরে মঈন খান বলেন, আমার তো নারীদের সংসদ সদস্য নিয়ে আলোচনা করেছি। অথচ নারীরা ভোটের অধিকার সেই দিন পেয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের কথা বলি মাত্র ১০০ বছর আগে নারীরা ভোটের অধিকার পেয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অত্যন্ত আধুনিক রাষ্ট্র, সেই দেশে নারীরা ভোটের অধিকার পেয়েছে ১৯৭১ সালে। যেদিন আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম। এই হচ্ছে সারবিশ্বের পরিস্থিতি।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি যত বেশি নারী সদস্যকে সুযোগ দেওয়া যায়। যদিও ৩০ শতাংশ নারীর সুযোগ কোনো রাজনৈতিক দল এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে বন্ধি রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে নারীর অধিকার সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমি এটা বিশ্বাস করি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সোলিমা রহমান বলেন, নারী আসনে এক মাত্র সমাধান সরাসরি ভোটে সুযোগ দেয়া। আমি বলছি না ১০০টা আসন দিতে হবে। কিন্তু এর সমাধান করতেই হবে।
তিনি বলেন, কতটুকু নির্বাচন সুষ্ঠু হবে জানি না, কিন্তু নির্বাচনে আমাদের অংশ গ্রহণ করতেই হবে।
ফান্সের রাষ্ট্রদুত ম্যারি মাসদুপুই বলেন, আমি ঢাকায় যোগদানের পর অনেক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেছি। এই অনুষ্ঠানে দেখলাম পুরুষ এবং নারী সমান অংশ গ্রহণ আছে। এই বিষয়টি খুবই ভালো লাগল।
নারী সংস্কার কমিশনে সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী সংষ্কার কমিশনে অনেক সুপারিশ আসছে তার কোনেটাই পরবর্তিতে সামনে আনা হলো না এটা খুবই দুঃখজনক।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জেএসডির তানিয়া রব, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণ অধিকার পরিষদের নূরুল হক নূর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, সাংবাদিক মাসুদ কামাল, মুনজুল আলম পান্না, কাজী জেরিন, দিপ্তি চৌধুরী প্রমুখ।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যেসব শর্ত দিলেন পুতিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে গত শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার বৈঠকে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কিছু শর্ত দেন।
ইউরোপীয় নেতাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন রোববার (১৭ আগস্ট) এমনটি জানিয়েছে।
পুতিন ট্রাম্পকে জানান, ইউক্রেন যদি যুদ্ধ বন্ধ চায় তাহলে তাদের পূর্বাঞ্চলের পুরো দনবাস রাশিয়াকে দিয়ে দিতে হবে।
এর বদলে তিনি ইউক্রেনের অন্যান্য সম্মুখ সারির যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। যার মধ্যে খেরসন ও জাপোরিঝিয়াও থাকবে। এছাড়া ইউক্রেন বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে হামলা চালাবেন না বলেও কথা দেন তিনি।
এছাড়া পুতিন শর্ত দেন রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে ‘সেটির মূল কারণ’ সমাধান করতে হবে। যার অর্থ- ইউক্রেনকে তার সেনাবাহিনীর আকার ছোট করতে হবে, সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাদ দিতে হবে এবং একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে হবে।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প যখন ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে অবহিত করা শুরু করেন তখন পুতিনের শর্তগুলো স্পষ্ট হতে থাকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যদি পুতিনের শর্ত পূরণ হয় তাহলে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া সম্ভব। হোয়াইট হাউজে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, যখন ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ হবে তখন দেশটিকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া হবে সেটি স্পষ্ট নয়। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক খুব বেশি আশার সঞ্চার করতে পারেনি। বরং আলোচনার বিষয়ে গোপনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন ট্রাম্প।

আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে জেলেনস্কি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য রোববার রাতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি জানিয়েছেন, সব পক্ষই যুদ্ধের দ্রুত অবসান চায় এবং একই সঙ্গে তিনি স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমরা সবাই দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্যভাবে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করি।’ এএফপির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
তিনি সোমবার ইউরোপীয় নেতাদের একটি দলসহ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন।
ইউক্রেন ইস্যুতে কোনো চুক্তি ছাড়াই শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন শীর্ষ বৈঠক শেষ হওয়ার তিন দিন পর ওয়াশিংটনে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া শীর্ষ বৈঠকের পরের দিন শনিবার জেলেনস্কি কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্রদের আলোচনার প্রতিটি পর্যায়ে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি অভিযোগ করে বলেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে যুদ্ধের অবসান প্রক্রিয়াকে জটিল করছে। ফলে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠছে।

এক বছর পর ডিবির হারুন বরখাস্ত, সঙ্গে আরও ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে কী কী ক্ষমতা, কমতে পারে যেখানে

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে ঐকমত্য ও ভিন্নমত তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার গতিপথ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। মূল প্রস্তাব ছিল প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানো। কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু যে পরিমাণ ঐকমত্য হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কতটা কমবে এবং সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর পদটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দেশের শাসন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হাতেই নির্বাহী ক্ষমতার প্রায় সবটুকু কেন্দ্রীভূত থাকে। সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করলে এই একচ্ছত্র ক্ষমতার চিত্রটি স্পষ্ট হয়।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা

বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ে সরকারের নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে। এখানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও দায়িত্বের মূল ভিত্তিগুলো আলোচনা করা হলো:

নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু (অনুচ্ছেদ ৫৮): সংবিধান অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের সব নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। রাষ্ট্রপতি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে। এর ফলে, যদিও রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান, কিন্তু কার্যত তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কোনো কাজ করতে পারেন না। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে চলতে হয়।

মন্ত্রিসভার প্রধান (অনুচ্ছেদ ৫৮(২)): প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান। তিনি মন্ত্রীদের নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন। মূলত, প্রধানমন্ত্রী যাকে চান, তিনিই মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। মন্ত্রিসভার সব বৈঠক ও সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নেওয়া হয়।

আইন প্রণয়নে প্রভাব (অনুচ্ছেদ ৬৫): প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সংসদ নেতা এবং তাঁর দল সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, তাই সংসদীয় আইন প্রণয়নে তাঁর প্রভাব অপরিসীম। সরকারি বিলগুলো প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই উত্থাপিত ও পাস হয়।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ (অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)): অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলোতে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন, কিন্তু এই নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। ফলে, এসব পদে কারা আসবেন, তা কার্যত প্রধানমন্ত্রীই নির্ধারণ করেন।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব (অনুচ্ছেদ ৬১): বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেন রাষ্ট্রপতি। তবে, সংবিধান অনুযায়ী, এই ক্ষমতা আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বাস্তবে, প্রধানমন্ত্রীই প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বজায় রাখেন।

সংবিধান সংশোধনে ভূমিকা: সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাসীন দলের প্রধান, তাই তার নেতৃত্বেই সংবিধান সংশোধন সম্ভব হয়।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। এর ফলে সংসদ, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই ভারসাম্যহীনতার কারণে প্রায়শই সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়।

এই একচ্ছত্র ক্ষমতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সংবিধান সংস্কারের দাবি উঠেছে। তবে সংবিধানে এখন পর্যন্ত যে বিধানগুলো আছে, তাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের সরকারপ্রধানদের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতা উপভোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতার লাগাম টানার চেষ্টা: যতটুকু ঐকমত্য

ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনার পর কিছু বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া। সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বা মোট দশ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। এটি ভবিষ্যতে কোনো একক ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতা রোধে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের ক্ষেত্রে একটি নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি দল, বিরোধী দল এবং বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি বাছাই কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্য কমিশনারদের নাম সুপারিশ করবে। তবে এই বাছাই কমিটি সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব হলো, এরপর দুজন বিচারপতি এই বাছাই কমিটিতে যুক্ত হবেন। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে বাছাই চূড়ান্ত করা হবে। তাঁরাও সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং পদ্ধতি অনুসরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিএনপি এর বিরোধিতা করে এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির হাতে সরাসরি কিছু সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল এবং আইন কমিশন অন্তর্ভুক্ত। জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের বদলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আপাতদৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সামান্য হলেও হ্রাস করবে।

ভিন্নমতের দেয়াল: যেসব প্রস্তাব আটকে আছে

তবে, মূল প্রস্তাবগুলোর অনেকগুলোতেই বিএনপিসহ কয়েকটি দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে, যা সংস্কারের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের প্রস্তাব করেছিল, যা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু বিএনপি এবং অন্যান্য দলের আপত্তির কারণে সেই প্রস্তাব বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়, যেখানেও তাদের আপত্তি ছিল। বিএনপি মনে করে, এ ধরনের কমিটি নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা দুর্বল করে দেবে।

সবচেয়ে বড় ভিন্নমত দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর একই সঙ্গে একাধিক পদে থাকা সংক্রান্ত প্রস্তাবে। যেখানে বলা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদে থাকতে পারবেন না, সেখানেও বিএনপিসহ কয়েকটি দল আপত্তি জানিয়েছে। বিএনপি মতে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানমন্ত্রী মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা থাকতে হবে, এর সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কোনো বিরোধ তাঁরা দেখছেন না। এই ভিন্নমতের কারণে, দলটি ক্ষমতায় এলে এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া, সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাবেও বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। তারা নিম্নকক্ষের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের পক্ষে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মতো দলগুলো সংসদ নির্বাচনে মোট প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (পিআর) উচ্চকক্ষে তাদের প্রতিনিধি পাঠাতে চায়।

আবার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন বা বাতিলেও আশানুরূপ সিদ্ধান্ত আসেনি। ‘ব্যক্তিগত স্বার্থে’ সংসদ সদস্যরা বিক্রি হয়ে যেতে পারেন, যেটিকে বলে ফ্লোর ক্রসিং—এই আশঙ্কা এবং ‘গণতন্ত্রের সঙ্গে স্থিতিশীল সরকার দরকার’—এমন অজুহাতে এই অনুচ্ছেদ বহাল রাখা পক্ষে অনেকে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য যদি সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন, নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেন অথবা দল থেকে পদত্যাগ করেন, তাহলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে।

এর মাধ্যমে দলের ভোটে জিতে আসা একটি রাজনৈতিক দলকে কার্যত আনচ্যালেঞ্জড থাকার গ্যারান্টি দেওয়া হয়। অবশ্য আস্থা ভোট ও অর্থ বিল বাদে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন— এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এটি বিএনপিরই প্রস্তাব ছিল।

সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয় অর্থবিল। সরকার যদি উন্নয়নের জন্য কোনো ঋণ গ্রহণ করে এবং এই সম্পর্কিত কোনো বিল সংসদে উত্থাপন করে তাহলে সেই বিলকে অর্থবিল বলে। বাজেটের মধ্যে যে ঋণ থাকে সেটি অর্থবিল। বাজেট নিজেও অর্থবিল। শুল্ক ও কর এবং সাংবিধানিক পদধারীদের বেতন সম্পর্কিত বিলগুলোকেও অর্থবিল বলা হয়।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির প্রধান ভূমিকা

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান। সংসদীয় গণতন্ত্রে তিনি প্রতীকী প্রধান হিসেবে কাজ করেন, অর্থাৎ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদটি তাঁর হলেও বেশির ভাগ নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত থাকে। সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও ভূমিকা স্পষ্ট করে।

সংবিধানে নির্দিষ্ট ক্ষমতা

রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান (অনুচ্ছেদ ৪৮): রাষ্ট্রপতি হলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে তাঁর স্থান। তিনি সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তাঁকে দেওয়া সব ক্ষমতা প্রয়োগ করেন এবং দায়িত্ব পালন করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (অনুচ্ছেদ ৬১): রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যদিও তাঁর এই ক্ষমতা আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বাস্তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকে।

ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা (অনুচ্ছেদ ৪৯): এটি রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা। তিনি যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ডাদেশের মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।

যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত

বাংলাদেশের সংবিধান সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা অনুসরণ করে। এ কারণে রাষ্ট্রপতিকে তাঁর বেশির ভাগ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে চলতে হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র দুটি ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন:

১. প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ: সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির আছে।

২. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন।

এ ছাড়া অন্য সব নির্বাহী ও প্রশাসনিক কাজের জন্য রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। অর্থাৎ, মন্ত্রিপরিষদ, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সময়ও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদটি প্রধানত আনুষ্ঠানিক এবং প্রতীকী। এর বিপরীতে, প্রধানমন্ত্রীর পদটি নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি: কতটা কার্যকরী?

ক্ষমতার ভারসাম্যের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতিকে অধিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই এবং এনএসআই প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব থেকে সরে এসে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনের মতো কয়েকটি পদে নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও, প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক ক্ষমতা কাঠামোতে তা বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সংস্কারের ভবিষ্যৎ

যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তা দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য কতটা ফিরবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই সামান্য পরিবর্তনগুলো হয়তো একটি প্রতীকী পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংস্কারের পথ তৈরি করতে পারে। কিন্তু মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর এককেন্দ্রিক ক্ষমতা ভেঙে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, যা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরও বড় পরিসরে বোঝাপড়া প্রয়োজন। কারণ, ঐকমত্য না থাকলে, শুধু কাগজে-কলমে থাকা সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করা সম্ভব নয়। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, জুলাই সনদে যে যে বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকছে সেগুলো আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে বিশ্লেষকেরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এখন দেখার বিষয়, আগামীতে এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।

টিভিতে আজকের খেলার সূচি

অস্ট্রেলিয়ায় চলমান টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে আজ (রোববার) পার্থ স্কচার্সের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আজ আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং চেলসি ও ক্রিস্টাল প্যালেস পরস্পর লড়াইয়ে নামবে।

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি

শিকাগো-অ্যাডিলেড

সকাল ৭-৩০ মি., টি স্পোর্টস

 

নর্দার্ন-হোবার্ট বেলা ১১-৩০ মি., টি স্পোর্টস

বাংলাদেশ ‘এ’-স্কর্চার্স বেলা ৩-৩০ মি., টি স্পোর্টস

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

চেলসি-প্যালেস

সন্ধ্যা ৭টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

 

নটিংহাম-ব্রেন্টফোর্ড সন্ধ্যা ৭টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

ম্যান ইউনাইটেড-আর্সেনাল রাত ৯-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

লা লিগা

বিলবাও-সেভিয়া

রাত ১১-৩০ মি., বিগিন অ্যাপ/ওয়েবসাইট

 

এসপানিওল-অ্যাতলেটিকো রাত ১-৩০ মি., বিগিন অ্যাপ/ওয়েবসাইট

দ্য হানড্রেড (পুরুষ)

ম্যানচেস্টার-নর্দার্ন

সন্ধ্যা ৭-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১

 

বার্মিংহাম-লন্ডন স্পিরিট রাত ১১টা, সনি স্পোর্টস ১

সিপিএল

সেন্ট কিটস-ত্রিনবাগো

রাত ৯টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

 

অ্যান্টিগা-সেন্ট লুসিয়া আগামীকাল ভোর ৫টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

টেনিস

সিনসিনাটি ওপেন

রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ২

টেবিল টেনিসে অস্থিরতা !

একের পর এক অঘটনের জন্ম দিচ্ছে টিটি। প্রথমে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে খেলতে যাওযার আগে খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ এবং ইতিহাসের সেরা ব্যর্থতা নিয়ে দেশে ফেরা। এরপর ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা জনিত কারণে দুইজন খেলোয়াড়কে ট্রায়ালের আগেই বাদ দিয়ে দেওয়া। নতুন অ্যাডহক কমিটি আসার পরেই চরম অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে টেবিল টেনিস অঙ্গণে।

গত মাসে নেপালে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ টিটির বাছাই টুর্নামেন্ট। কিন্তু কর্মকর্তারা সিলেকশনের কথা বললে র‍্যাংকিং অনুযায়ী দল পাঠানোর কথা বলে নেপালে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন খেলোয়াড়রা। এতে দল না পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন টিটি কর্মকর্তারা। পরে অবশ্য চাপে পড়ে দল পাঠাতে বাধ্য হন টিটির কর্মকর্তারা। কিন্তু একরাশ হতাশা নিয়ে নেপাল থেকে দেশে ফেরেন খই খই মারমারা। ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই বাংলাদেশ দল পাঁচ দেশের মধ্যে পঞ্চম হয়। ফলে চার দেশ পুরস্কার প্রদান মঞ্চে পদক হাতে দাঁড়ালেও বাংলাদেশই ছিল একমাত্র শূন্য হাতে।

নেপাল থেকে ফেরার পর এসএ গেমসের ক্যাম্পের জন্য ট্রায়াল শুরু হয়। কিন্তু সেখানেই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সিলেকশন ট্রায়াল শুরুর আগেই শৃঙ্খলাজনিত কারণে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা দুই টিটি খেলোয়াড় বাদ পড়েন। একজন নারী ও একজন পুরুষ খেলোয়াড় জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকলেও সিলেকশন ট্রায়ালে অংশ নিতে পারেননি। এই প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ বলেন, ‘শৃঙ্খলাজনিত কারণে তারা এই সিলেকশন খেলতে পারছে না। একজন বিকেএসপির শিক্ষার্থী তাকে বিকেএসপি পাঠানো হয়েছে, অন্যজন বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী সে অন্যত্র গেছে।’

সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ টিটি দল যখন নেপালে ছিল, সেই সময়ে ঢাকায় ক্যাম্পে অন্য খেলোয়াড়রা ছিলেন। ওই সময় একটি অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে টেবিল টেনিস ফেডারেশনেই নারী ও পুরুষ এক জায়গায় ক্যাম্প চলছে। উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা একই ক্যাম্পে থাকা সামাজিকভাবে খানিকটা ঝুঁকিপূর্ণ। যার ফলে ঘটে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা। তবে থাইল্যান্ডের নতুন কোচ আসায় ট্রায়ালে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।