Home Blog Page 35

সমঝোতায় পৌঁছাতে এটি ইরানের ‘শেষ সুযোগ’: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এটি ইরানের ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় দেশটিকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসে সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রেখে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে একটি সমঝোতার কাঠামোও প্রস্তুত রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। যদিও ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে চলা এই সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা বাস্তবেই আলোচনা করছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর শেষ সুযোগ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে আমি শেষবারের মতো তাদের সুযোগ দিতে চাই।’

ট্রাম্প জানান, আলোচনায় দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। একটি হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী আবার উন্মুক্ত করা, অন্যটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত বা নিরস্ত্রীকরণ।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, সমঝোতা হলেও এখনই প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগোচ্ছে আলোচনা।

এরই মধ্যে ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। হামলায় হতাহতের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি মালিকানাধীন ছয়টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আফ্রিকা ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করেছে। হুথিরা সতর্ক করে দিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী সৌদি জাহাজগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ বহাল থাকবে। কোনো চুক্তি না হলে বা ইরান অবস্থান পরিবর্তন না করলে দেশটিতে প্রয়োজনীয় পণ্যও পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা শোনা গেলেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। খবর- সিএনএন ও এএফপি

কানাডাজুড়ে দাবানল পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক

কানাডাজুড়ে দাবানল পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৯০০টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩৭ লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্টারিওসহ দেশের বিভিন্ন উত্তরাঞ্চল। এসব এলাকায় একাধিক আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা দিনরাত কাজ করলেও তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া ও দমকা হাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

কানাডা সরকার জানিয়েছে, দাবানল মোকাবিলায় ফেডারেল সরকার প্রাদেশিক ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে সহায়তা দিতে জরুরি সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক বড় ধরনের দাবানলের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে একটি জাতীয় দাবানল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা গঠনের দাবিও জোরালো হয়েছে।

এদিকে দাবানলের ধোঁয়ায় আলবার্টা, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, অন্টারিও এবং টরন্টোসহ কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুর মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পড়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, দাবানল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেডারেল সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

চাকায় হাওয়া দেওয়ার সময় পুলিশের গাড়ির ওপর ট্রাক উল্টে কনস্টেবল নিহত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সড়কে দাঁড়িয়ে পুলিশের গাড়ির চাকায় হাওয়া দেওয়ার সময় তার ওপর ধানের কুড়াবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে পড়ে এক হাইওয়ে পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচরের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. পারভেজ আহমেদ (৩৪) ভৈরব হাইওয়ে থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনোয়ার আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি সুমন কুমার চৌধুরী।

পুলিশ জানায়, এটিএসআই জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল নিয়মিত টহলে ছিল। এ সময় পুলিশের গাড়ির চাকায় হাওয়া কমে গেলে দ্বাড়িয়াকান্দি এলাকার একটি টায়ার মেরামতের দোকানে গাড়িটি থামানো হয়। চাকায় হাওয়া দেওয়ার সময় ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জগামী ধানের কুড়াবোঝাই একটি ট্রাক একটি সিএনজিকে পাশ দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পুলিশের গাড়ির ওপর পড়ে।

এ সময় গাড়িতে থাকা অন্য সদস্যরা বের হতে পারলেও কনস্টেবল পারভেজ আহমেদ ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের গাড়ির চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, গাড়ির চাকায় হাওয়া দেওয়ার জন্য তারা সড়কের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন হঠাৎ ট্রাকটি উল্টে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওসি সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, পারভেজ আহমেদ প্রায় সাড়ে ১৫ বছর আগে বাহিনীতে যোগ দেন।

১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা ১০ শিক্ষকের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চাতলপাড়। হাওরবেষ্টিত এই প্রত্যন্ত জনপদে উচ্চশিক্ষার একমাত্র ভরসা চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজ। এই কলেজের ডিগ্রি শাখার (পাস কোর্স) ১০ জন শিক্ষক ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় একাডেমিক অনুমোদন থাকলেও দীর্ঘদিন শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কলেজের ডিগ্রি শাখাটি বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নাসিরনগরে রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন। তখন স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে হাওরের জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে চাতলপাড়ে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ অর্থ অনুদানে কলেজটির ভিত্তি গড়া হয়। স্থানীয়দের দান করা প্রায় তিন একর জমির ওপর গড়ে ওঠে কলেজটি।

নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে কলেজটির দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ১৪ কিলোমিটার নৌপথ, বাকি অংশ কাঁচা সড়ক। বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতে সময় লাগে ২-৩ ঘণ্টা। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আছে প্রায় সাড়ে পাঁচশ। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে ৩৫০ জন ও ডিগ্রি পাস কোর্সে ২০০ জন। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি মিলিয়ে চাতলপাড় কলেজে মোট ২৭ জন শিক্ষক কর্মরত। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় ১৭ জন ও ডিগ্রি শাখায় রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। ডিগ্রি শাখার শিক্ষকরা দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ডিগ্রি শাখার শিক্ষক আলফাজ উদ্দিন গত বুধবার আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘যখন কলেজে যোগদান করি তখন সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়স ছিল। এখন সে বয়স চলে গেছে। বিয়ে করেছি; সংসার হয়েছে। টানা ১৫ বছর বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে পরিবার নিয়ে চলতে পারছি না।’

আরেক শিক্ষক আব্দুল করিম (ছদ্মনাম) বলেন, তিনি ১৫ বছর আগে নেত্রকোনা থেকে এই কলেজে যোগদান করেন। কলেজটির প্রতি মায়া হয়ে গেছে তাঁর। তাই আর্থিক কষ্ট থাকার পরও কলেজ ছাড়তে পারছেন না। ডিগ্রি শাখার শিক্ষকরা কলেজ ছেড়ে দিলে অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। তাই কষ্ট হলেও শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী হেনা আক্তার বলেন, ‘এইচএসসি পাস করার পর চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজে পাস কোর্সে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু কলেজের নানা সংকটের কারণে পড়া শেষ করাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

চাতলপাড়ের বাসিন্দা ইকরাম আলী বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের শহরে পাঠানোর সামর্থ্য নেই। এই কলেজই ভরসা। এটা বন্ধ হয়ে গেলে তারা আর পড়তে পারবে না।’

চাতলপাড় কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওমর আলী জানান, ডিগ্রি শাখার শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।

শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য এমএ হান্নান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল অর্জন করে আসছে এ কলেজ। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিএ ও বিএসএস (পাস) কোর্স এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বেতন-

ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে ডিগ্রি শাখার কার্যক্রম ব্যাহত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার ফলে হাওর ও ভাটি অঞ্চলের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার ব্যাংকের টিটি ডিসকাউন্টিং লিয়েন সুবিধা বাতিল

ব্যাংকের চলতি হিসাব লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা বাতিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি তারল্য চাহিদা মেটানোর অনেক ধরনের বিকল্প ও আধুনিক মাধ্যম তৈরি হওয়ায় প্রায় তিন দশক আগে দেওয়া ওই সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের এক সার্কুলারের মাধ্যমে উপযুক্ত সিকিউরিটিজ না থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাব লিয়েন মার্ক করে ব্যাংকগুলো এই বাট্টা সুবিধা পেত। পরে ১৯৯৯ সালের নির্দেশনায় মঞ্জুরিকৃত সীমার ২০ শতাংশ অর্থ লিয়েন রেখে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবায়নের বাইরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনিক তারল্য চাহিদা মেটানোর জন্য কল মানি, রেপো, এসএলএফের মতো বিভিন্ন সুবিধা ও আন্তঃব্যাংক ধারের বিকল্প রয়েছে। যে কারণে ব্যাংকগুলোর এই লিয়েন সুবিধা নেওয়ার হার একেবারেই নগণ্য।

জুলাইয়ে রপ্তানি ১২ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ৪৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। জুলাই মাসের এই রপ্তানি আয় গত ১২ মাসে সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ এ হিসাবে রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে জুলাই মাসের আয়ের পরিমাণ গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল সোমবার জুলাই মাসের রপ্তানি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস গত জুলাইয়ে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের একই মাসে ৪৭৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।

ইপিবির তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১২ মাসের মধ্যে জুলাই মাসের চেয়ে পরিমাণে বেশি রপ্তানি আয় আর কোনো মাসে হয়নি। গত আগস্টে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৯২ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে আরও কমে রপ্তানি নেমে আসে ৩৬৩ কোটি ডলারে। অক্টোবর মাসে বেশ কিছুটা বেড়ে রপ্তানি হয় দাঁড়ায় ৪১৩ কোটি ডলারে। নভেম্বর মাসে আবার নেমে দাঁড়ায় ৩৮৯ কোটি ডলারে। ডিসেম্বর মাসে সামান্য বেড়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯৭ কোটি ডলার।
গত জানুয়ারি মাসে আবার বেশ বেড়ে রপ্তানির পরিমাণ ৪৪১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে আবার ৩৫০ কোটি ডলার নেমে আসে আয়। মার্চ মাসে আরও কমে রপ্তানি নামে ৩৪৮ কোটি ডলারে। এপ্রিল মাসে রপ্তানির পরিমাণ আবার বেড়ে ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছে। মে মাসে আরও ৪০ কোটি ডলার বেড়ে রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৪৪০ কোটি ডলার। জুন মাসের পণ্য রপ্তানি ছিল ৪২০ কোটি ডলারের। অর্থাৎ গত টানা ১২ মাসের মধ্যে আর কোনো গত জুলাই মাসের চেয়ে বেশি রপ্তানি আয় আসেনি।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ইভিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ সমকালকে বলেন, ‘রপ্তানি পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রবণতার মধ্যে জুলাই মাসে পরিমাণে এত বেশি হওয়ার খবরটি দারুণ। মিরাকল। গত অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে ১ শতাংশের মতো। প্রচলিত ও অপ্রচলিত সব বাজারে রপ্তানি কমছে। হাতে রপ্তানি আদেশও যথেষ্ট কম। এর মধ্যেই পরিমাণে বেশি রপ্তানি হওয়ার পরিসংখ্যান নিয়ে কিছুটা সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইপিবির সব পক্ষের তথ্যউপাত্ত একই কথা বললে বড় রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যানটা আসলে খুশি হওয়ার মতোই ব্যাপার।’

তিনি বলেন, এত বেশি রপ্তানির বড় কারণ হতে পারে মৌসুম পরিবর্তন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি কিংবা পরিবহন সংকটে হয়তো জুনের শিপমেন্ট কিছুটা বিলম্বে জুলাই মাসে হয়েছে। শিপমেন্টে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাসের হিসাবেও ব্যবধান তৈরি হয়।
ইপিবির তথ্য-উপাত্ত বলছে, জুলাই মাসে প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৮৯ কোটি ডলার। গত জুন মাসে যা ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক খাতেই মাসের ব্যবধানে রপ্তানি ৫০ কোটি ডলার বেড়েছে। অবশ্য গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে এই আয় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কম। ওই মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় ছিল ৩৯৬ কোটি ডলার।
রপ্তানি তালিকায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আগের ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসেও বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ডলারের। ওষুধের রপ্তানি খুব বেশি না হলেও জুলাই মাসেও বেড়েছে ১৯ শতাংশের মতো। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। পরিমাণে রপ্তানি হয়েছে ৯ কোটি ডলারের মতো।
হোমটেক্সটাইল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ১৪ শতাংশের মতো। পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ডলারের মতো। কৃষিপণ্যের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার। গত ১২ মাসের বেশিরভাগ মাসের চেয়ে এই পরিমাণ বাড়লেও গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ৯ শতাংশ কম।

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে

বিরোধী দলের নেতারা গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মতো ভাষা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যেভাবে ‘এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেব না’ বা ‘৫ বছর সরকার চালাতে দেব না’ বলতেন, আজ বিরোধী দলের নেতারাও সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে সংসদে কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আর সংস্কার নাকি সংশোধন-এই শব্দগত বিতর্কসহ যে কোনো বিষয়ে বিরোধীদের রাস্তায় সংঘাতের পথ না বেছে সংসদে এসে আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিরোধী দলের সমালোচনা, বিরোধিতা জরুরি, তবে তা সংসদীয় শিষ্টাচারের মধ্যে থাকা উচিত। রাজপথের প্রতিবাদ যেন সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না বলে যে গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে বিএনপিই বারবার রূপান্তর ও সংস্কার এনেছে। জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদের জঞ্জাল দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম, রক্তক্ষয় ও জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত এই সরকার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র সংস্কারে নিরলসভাবে কাজ করছে।
বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করছে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান, আবাসন ও সুবিধা নিশ্চিত করা, আন্দোলনে শহীদ সাংবাদিকসহ নাগরিকদের পরিবারের দেখভালে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অজস্র রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেটিকেই দেশের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু করা উচিত। জুলাই শহীদদের সম্মান জানাতে আবেগ নয়, বরং সংসদকে কার্যকর করা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উন্নত করাই প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত।
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসন, নির্যাতন ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এখন লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া। এই বাংলাদেশে থাকবে বাকস্বাধীনতা, সুশাসন ও মেধার মূল্যায়ন। আয়নাঘর বা গুম-খুন থাকবে না। বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হবে নিরপেক্ষ। শিক্ষা ও চিকিৎসার পাশাপাশি সর্বস্তরে নিশ্চিত হবে সমান অধিকার। এই রক্তের ঋণ শোধ হবে তখনই, যখন অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অক্ষুণ্ন থাকবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, জুলাই জাতির অহংকার। কিন্তু জুলাই-পরবর্তী বিভিন্ন কোন্দল ও সংকটে জুলাইয়ের পক্ষগুলোর মধ্যে একটি অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। এটা যেন নতুন সংকট নিয়ে না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

শহীদ তাহির জামান প্রিয়র মা সামসী আরা জামান বলেন, গণতান্ত্রিক স্বার্থে সমালোচনা করতে হবে। কিন্তু সমালোচনা যাতে কাউকে আঘাতের পর্যায়ে নিয়ে না যায়। নতুন বাংলাদেশে এটা সবার প্রত্যাশা।
ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল।

বিরোধী দল ছাড়াই শুরু হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের কাজ

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের যেসব দাবি বিরোধী দল করছে, তা উপেক্ষা করে গঠিত সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র প্রথম বৈঠক বসছে আজ। সংস্কারের দাবিতে অনড় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপির জোট কমিটিতে অংশ নেয়নি।
গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দল থেকে এই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করেছিল সরকারি দল।

সংশোধন নয়, গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারের দাবি করা বিরোধী দল কারও নাম দেয়নি। কমিটি গঠনের দিন ওয়াকআউটও করে। সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদে বলেছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের ধারণাগত মতপার্থক্য আছে। তারা সংবিধান সংস্কার চান।

জামায়াত কমিটি বর্জন করলেও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারের দাবি জানানো চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন কমিটিতে অংশ নিতে যাচ্ছে। দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মো. অলি উল্লাহ কমিটির সদস্য। যদিও আগে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর অজ্ঞাতে সদস্য করা হয়েছে। তবে সোমবার রাতে দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ সমকালকে বলেছেন, সংস্কারের দাবি নিয়েই ইসলামী আন্দোলন কমিটিতে যাচ্ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতেও অনড় রয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে ইসলামী আন্দোলনের এই মতামত যেন থাকে, সেজন্যই কমিটিতে যাওয়া।
সংসদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিশেষ কমিটি সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এর আগে সাংবাদিকদের জানান, প্রথম বৈঠকে কমিটির কর্মকৌশল ঠিক করা হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। এর বাইরেও বিএনপির নিজস্ব কিছু অঙ্গীকার আছে। সংবিধানে কী কী সংশোধন আনা যায়, তা নিয়ে বিশেষ কমিটি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সব স্তরের অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করবে।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সই করে। এতে সংবিধানসংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এর ৯টিতে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে বিএনপি। স্বাক্ষরিত সনদে বলা হয়েছে, যে রাজনৈতিক দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তারা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংস্কার করতে পারে।

সনদ সইয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার বাস্তবায়নের সংলাপে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। গত ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে’ বলা হয়, কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। আবার কিছু সংস্কার দলগুলো নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী করতে পারবে। ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে এই আদেশ ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে অনুমোদিত হয়। জামায়াত আদেশ অনুযায়ী সংস্কার চাইছে। বিএনপি বলছে, আদেশটিই অবৈধ ছিল।

আদেশে যে ৯ সংস্কারকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, এর মধ্যে ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংশোধনে অনুমোদন; সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে।

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী এগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। জামায়াত জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা তা করেননি। এ কারণে জামায়াত বারবার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুললেও তা আর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য ২০১০ সালে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগের গঠিত ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী, এতে কমিটির ১৫ সদস্য আগেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপে।

এই উদাহরণ দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণভোটকে অস্বীকার করছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করার নজির দেখিয়েছে অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই কমিটিতে। তাই সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাওয়া অর্থহীন।

দু’দিনের সফরে ঢাকায় সৌদি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী

বাংলাদেশ সরকারের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে দুই দিনের সরকারি সফরে সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী প্রকৌশলী ওয়ালিদ এল-খেরেজি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সৌদি উপমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ত্যাগ করার আগে এই সংক্ষিপ্ত সফরে সৌদি উপমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে অংশ নেবেন সৌদি পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী। পরে দুপুরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

শ্রম অভিবাসন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ইস্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকার পটভূমিতে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণের পথনকশা তৈরি, ১৪ সূচকে নজরদারি

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে টেকসই, মসৃণ ও স্থিতিশীল উত্তরণের প্রস্তুতি নিতে সরকার ২০২৬ থেকে ২০২৯ সময়ের জন্য একটি জাতীয় রোডম্যাপ বা পথনকশার খসড়া তৈরি করেছে। উত্তরণ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়নের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অধীনে একটি ড্যাশবোর্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে অর্থনীতি ও বাণিজ্য-সংক্রান্ত ১৪টি প্রধান কর্মক্ষমতা সূচক (কেপিআই) নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাত অন্তত ৯ শতাংশে উন্নীত করা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়ে অন্তত ছয় মাসের সমপরিমাণে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০২৯ সালের মধ্যে এটি ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের ওপরে নেওয়া, তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানির অংশ অন্তত ২৫ শতাংশে উন্নীত করা, কনটেইনার খালাসের গড় সময় ১০ দিন থেকে কমিয়ে ১-২ দিনে নামিয়ে আনা এবং সব সরকারি ব্যবসায়িক সেবা শতভাগ ডিজিটাল ও সমন্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩০ লাখ অতিরিক্ত দক্ষ শ্রমিক তৈরি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ১৫ শতাংশে উন্নীত করা, ব্যবসা অনুমোদনের সময় কমানো, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি, সরকার স্বীকৃত পরীক্ষাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইএসজি বা পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন মানদণ্ড অনুসরণকারী রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও নজর রাখা হবে।
সরকারের মতে, উত্তরণের সময় তিন বছর বাড়ানোর আবেদন কোনোভাবেই উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি করা। এ কারণে রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, উৎপাদনশীলতা ও শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সুশাসন ও বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা
বাংলাদেশ এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানায়। গত ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেন। পরে সিডিপি প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন নীতিগতভাবে সমর্থন করলেও সময়সীমা উল্লেখ করেনি। একইভাবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠিয়েছে।
এ অবস্থায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ থেকে ১৮ জুলাই বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তর সফর করে। সফরকালে প্রতিনিধি দল সিডিপির চেয়ারম্যান, ইকোসকের সভাপতি ও সহসভাপতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল এবং জি-৭৭ ও চায়না গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির লক্ষ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় নিশ্চিত করা। বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারও বাংলাদেশকে একটি বাস্তবসম্মত ও সময়ভিত্তিক সংস্কার রোডম্যাপ উপস্থাপনের পরামর্শ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইআরডি  রোডম্যাপের খসড়া প্রস্তুত করেছে।
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি তদারকির জন্য সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত সপ্তাহের বৈঠকে অংশীজনের মতামত নিয়ে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে জাতিসংঘ ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

চার ধাপে সংস্কার কর্মসূচি
তিন বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচিকে চারটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপ ‘কুইক উইন অ্যাকশন’ জুন ২০২৭-এর মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় খেলাপি ঋণ আদায়ের কাঠামো তৈরি, ব্যাংকের চাপ সহনশীলতা পরীক্ষা, সাত দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদান, ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর করা এবং জাতীয় ইএসজি কমপ্লায়েন্স ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের কাজ শেষ হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালের মধ্যে এনবিআরের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, কর জাল সম্প্রসারণ, ডিজিটাল কর ব্যবস্থা চালু, অলাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধি, টেকনোলজি মডার্নাইজেশন ফান্ড গঠন এবং এপিআই পার্ক কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত ওষুধ, আইসিটি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও চামড়া শিল্পে বিশেষ সহায়তার মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বন্দর দক্ষতা বাড়িয়ে কনটেইনার খালাসের সময় দুই দিনের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। শেষ ধাপে ২০২৯ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে উত্তরণের আগে সামগ্রিক অগ্রগতি মূল্যায়ন, বাকি সংস্কার সম্পন্ন এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

বেসরকারি খাতের জন্য ১৫ কর্মপরিকল্পনা
পুরো উত্তরণ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতকে প্রধান বাস্তবায়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে ১৫টি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শিল্পে অটোমেশন, ডিজিটাল ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রযুক্তি ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে রপ্তানি ভ্যালু চেইনে যুক্ত করতে প্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্র গঠন। এ ছাড়া রয়েছে বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা, কার্বন নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ এবং টেকসই ব্যবসায়িক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে ইএসজি কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা; আইএলওর শ্রমমান, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও জেন্ডার সমতা বাস্তবায়ন; শিক্ষানবিশ, রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি; এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্সভিত্তিক শিল্প কারিকুলাম চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন রপ্তানি বাজারে প্রবেশ; উচ্চমূল্যের পণ্য, নিজস্ব ব্র্যান্ড ও উন্নত প্যাকেজিংয়ে গুরুত্ব দেওয়া; উৎপাদনশীলতা ও জ্বালানি দক্ষতার তথ্য নিয়মিত প্রকাশ; ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর সঙ্গে সংযুক্ত ডিজিটাল ইনভেন্টরি ব্যবস্থা চালু; কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ ও সবুজ বিনিয়োগ বাড়ানো মতো পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের জন্য রয়েছে। এ ছাড়া  নীতিগত সংস্কারে সরকারকে প্রমাণভিত্তিক মতামত প্রদান; শিল্প পার্ক, লজিস্টিক হাব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কোল্ড-চেইনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। ২০২৯ সালের শেষে চূড়ান্ত সক্ষমতা মূল্যায়ন করে উত্তরণ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নে সরকারকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে ইআরডি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় এলডিসি মনিটরিং অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন কমিটি’ পুরো রোডম্যাপ বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে এবং কৌশলগত নির্দেশনা দেবে। এ ছাড়া ‘পাবলিক-প্রাইভেট সেক্টর টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হবে, যা নীতিমালার বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে আইনি সংস্কারের সুপারিশ করবে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার সমকালকে বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও বাণিজ্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অগ্রগতি খুবই সীমিত। অথচ উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। সে বাস্তবতায় টিকে থাকতে বাণিজ্য ও শুল্ক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, উত্তরণের জন্য দুই বছর হোক বা তিন বছর— যে অতিরিক্ত সময়ই বাংলাদেশ পাবে, প্রস্তুতি জোরদারের জন্য তা হবে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ সময়কে কাজে লাগাতে সরকারের উচিত দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা, সুনির্দিষ্ট ও মনিটরিংযোগ্য বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা এবং এর অগ্রগতি দৃশ্যমান করা। এতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।