Home Blog Page 352

ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও জাল স্বাক্ষর নিয়ে রিজভীর সতর্কবার্তা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও জাল স্বাক্ষর নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে এমন প্রতারণামূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমি দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল আমার স্বাক্ষর জাল করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি আরও বলেন, ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তি আমার স্বাক্ষরে বিএনপির দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়নি। এটি সম্পূর্ণরূপে বানোয়াট ও ভুয়া।

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার স্বাক্ষর জাল করে প্রচারিত ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিটির বিষয়ে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ ‘যুদ্ধে মোড় নিতে পারে’: থাই প্রধানমন্ত্রী

থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই সতর্ক করে বলেছেন যে, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে। দুই দেশের সীমান্ত সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতসহস্র মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে।

থাই প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম উল্লেখ করেছেন, “পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেছে। লড়াইয়ে এখন ভারি অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে এবং সীমান্তজুড়ে ১২টি জায়গায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই যুদ্ধের দিকে এগুচ্ছে।” এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।

কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকাগুলোতে গোলা হামলার অভিযোগ করেছে থাইল্যান্ড। কম্বোডিয়ার রকেট আঘাত হানতে পারে এমন এলাকার সব গ্রাম থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নিয়েছে থাইল্যান্ড।

ওদিকে, থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুচ্ছবোমা ব্যবহারের অভিযোগ করেছে কম্বোডিয়া। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেই সাধারণ মানুষের ওপর গুচ্ছ বোমার ব্যবহার নিষিদ্ধ। কম্বোডিয়ার এই বোমা ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে থাইল্যান্ড কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ থামাতে তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে থাইল্যান্ড। থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সংঘর্ষ থামাতে তৃতীয় কোনও পক্ষের মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই।

যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা এরই মধ্যে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করতে মধ্যস্থতার আর্জি জানিয়েছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটের (আসিয়ান) চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার ফেইসবুকে এক পোস্টে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেন।

তবে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিকোর্নদেজ বালাঙ্কুরা রয়টার্সকে বলেছেন, কম্বেডিয়াকে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

“আমাদের এখনও তৃতীয় কোনও পক্ষের মধ্যস্থতার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না”, বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তর-পশ্চিম কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী প্রেট ভিয়েরা প্রদেশে প্রথমে হামলা চালায় কম্বোডিয়ার সেনারা। তারপর থেকে গত দু’দিন ধরেই দুই দেশের সীমান্তে গোলাবর্ষণ চলছে।

শুক্রবার ভোরের আগে উবোন রাচাথানি ও সুরিন প্রদেশের সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই সামরিক বাহিনী।

বৃহস্পতিবারের এই সীমান্ত সংঘাত শুরুর জন্য উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করছে। প্রথমে ছোট অস্ত্রে গোলাগুলি হলেও হলেও দুই পক্ষই পরে হামলায় ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার শুরু করে।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ফরাসিরা কম্বোডিয়ার দখলদারিত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশ নিজেদের সীমান্ত নির্ধারণ করে।

তখন থেকেই ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের কিছু অংশ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বিমত রয়ে যায় এবং পরে সেসব অংশকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেয়। এই সীমান্ত সহিংসতা সেই বিরোধ নিয়ে উত্তেজনার সর্বশেষ নজির।

মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানের চিঠির পর গোপনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ট্রাম্প প্রশাসনের

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র গোপনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘সত্যিকারের দেশপ্রেমিক’ বলে প্রশংসা করে একটি চিঠিতে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক হ্রাসের আবেদন জানান।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে যে, ১১ জুলাই ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে একটি চিঠি পাঠান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। এই চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের পারস্পরিক কল্যাণের জন্য মিয়ানমারের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস এবং একটি বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দেন।

প্রস্তাবে, মিয়ানমারের পণ্য আমদানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক থেকে ১০-২০ শতাংশ কমানোর আহ্বান জানানো হয় এবং এর পাল্টা হিসেবে মিয়ানমারও আমেরিকান পণ্যের ওপর শুল্ক ০-১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।

ওই চিঠি প্রদানের পরপরই মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে অস্ত্র, প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসা চার ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিন অং হ্লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কেটি সার্ভিসেস অ্যান্ড লজিস্টিকস, এমসিএম গ্রুপ এবং সানট্যাক টেকনোলজিস। আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন জনাথন মায়ো কিয়াও থাং, আউং হ্লাইং উ, সিত তেইং আউং ও টিন লাট মিন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই পদক্ষেপকে ‘চরম উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, এটি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রতি মার্কিন নীতির এক নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ২০২১ সালে এই জান্তা বাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে এবং তখন থেকেই মিয়ানমারে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণহত্যা ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত।

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি বর্তমানে ৮০ বছর বয়সে পঞ্চম বছরের মতো আটক রয়েছেন।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মিয়ানমারে পাওয়া বিপুল পরিমাণ দুর্লভ খনিজ সম্পদ বৈশ্বিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো পাওয়ার জন্যই সম্ভবত ট্রাম্প প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব খনিজের বেশির ভাগই চীনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। আর এসব খনিজের উৎস এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কাচিন বিদ্রোহীরা, যারা জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

বাইডেন প্রশাসনের জান্তাবিরোধী কৌশলের বিপরীতে এটি একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি মার্কিন অঙ্গীকার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

রাইসা মনিকে গ্রামের বাড়িতে চিরবিদায়, শোকাহত এলাকাবাসী

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিশু রাইসা মনিকে (৯) গ্রামবাসীর চোখের জলে চিরবিদায় জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া দক্ষিণ পাড়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজার পর বাজড়া শামসুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

রাইসা ছিল আলফাডাঙ্গার বাজড়া গ্রামের শাহাবুল শেখ ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির মেয়ে। পরিবার-পরিজন নিয়ে রাইসার বাবা শাহাবুল শেখ উত্তরার নয়ানগরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রাইসা ছিল মেজ। সে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার বড় বোন সিনথিয়া (১৪) একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে এবং ভাই রাফসান (৪) সবার ছোট। রাইসার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত।

মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের পর থেকে নিখোঁজ ছিল রাইসা মনি। দুর্ঘটনার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শিশুটির মুখমণ্ডলের অংশবিশেষ দেখে রাইসা হিসেবে দাবি করেন বাবা শাহাবুল শেখ (৪৪)। মঙ্গলবার বিকেলে ডিএনএ সংগ্রহ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ডিএনএ প্রতিবেদনে রাইসার লাশ শনাক্ত হলে বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার সকালে রাইসার লাশ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় মাতম শুরু হয়। সকাল থেকেই নিহত রাইসার বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীর আহাজারি চলছিল। আকস্মিক মৃত্যুতে বাক্‌রুদ্ধ গ্রামবাসী। রাইসার লাশ গ্রামে আসার পর কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। পরে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল, সেনাবাহিনীর সদস্য ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

রাইসার চাচা ইমদাদুল শেখ বলেন, ‘রাইসাকে আজ ভোররাতে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। সকাল সোয়া ৯টায় জানাজা সম্পন্ন করে স্থানীয় কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।’

স্থানীয় গোপালপুর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ওবায়দুর রহমান বলেন, রাইসা মনির অকালমৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষ শোকে হতবিহ্বল। তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়। এমন কোনো মানুষ নেই, কাঁদেননি। গ্রামবাসী এমন মৃত্যু আগে কখনো দেখেননি।

মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্তে নিহত বেড়ে ৩৩

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে আব্দুল মুসাব্বির মাকিন (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। বেলা ১ টা ৫ মিনিটে ১৩ বছর বয়সী মাকিন মারা যায় বলে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মাকিনের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। হাসাপতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন ছিল সে।’ এর আগে সকাল ৯ টা ৩২ মিনিটে ১০ বছর বয়সী আইমান মারা যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ডা. শাওন।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নিহতদের মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১৫ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৫ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে একজন (অজ্ঞাতনামা), এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে একজন মারা গেছেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভর্তি ৫০ জনের মধ্যে বার্ন ইন্সটিটিউটে ৪০ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৮ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে একজন রোগী রয়েছেন।

সিঙ্গাপুরে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের দুই সাঁতারু

সিঙ্গাপুরে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে গতকাল দেশ ছেড়েছেন দুই সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি ও মোছা. অ্যানি আক্তার। এই প্রতিযোগিতায় তাদের কোচ হিসেবে যাচ্ছেন নৌবাহিনীর কোচ নিয়াজ আলী ও কংগ্রেস প্রতিনিধি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শাহীন।

বিশ্ব আসরে সামিউল ৫০ ও ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক এবং অ্যানি ৫০ ও ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে অংশগ্রহণ করবেন। রাফি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পুরুষ সাঁতারু। থাইল্যান্ডে উন্নত প্রশিক্ষণে ছিলেন। আন্তর্জাতিক আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে কয়েকটি পদকও এনেছেন। মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারে ১২টি স্বর্ণ জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন অ্যানি আক্তার। এতেই ফেডারেশন তাকে বিশ্ব সাতারের জন্য নির্বাচিত করেছে।

এই টুর্নামেন্টটি অংশ নিচ্ছেন দুই হাজারের বেশি অ্যাথলেট। সিঙ্গাপুর কখনো এই প্রতিযোগিতা পূর্বে আয়োজন করেনি। বাংলাদেশেরও বিশ্ব সাঁতারে কোনো পদক নেই। টাইমিংয়ে উন্নতিই মূল লক্ষ্য।

কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রমিলা ফুটবলেও দারুণ ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। ইকুয়েডরে চলমান নারী কোপা আমেরিকায় গ্রুপপর্বের চার ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে সেমিফাইনালের টিকিট। গ্রুপপর্বে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বৃহস্পতিবার স্বাগতিক ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের ১৯তম মিনিটে কিশি নুনিয়েজ গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই প্রথম স্পর্শে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন ফ্লোরেন্সিয়া বোনসেগুন্ডো। চলমান আসরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর চিলিকে ২-১ এবং পেরুকে ১-০ গোলে হারায় তারা। সবগুলো ম্যাচ ইকুয়েডরের ইনডিপেনডিয়েন্টে দেল ভ্যালের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। গ্রুপ পর্ব শেষে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। একই গ্রুপ থেকে উরুগুয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ চার নিশ্চিত করেছে। চিলি ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানের জন্য লড়বে, আর স্বাগতিক ইকুয়েডর ও পেরু এরই মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে।

উত্তরায় শুটিং বন্ধের নির্দেশ, শিল্পী-নির্মাতাদের ক্ষোভ

রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের শুটিং হাউসগুলোতে নাটক ও সিনেমার দৃশ্যধারণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতি। ২০ জুলাই সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, শুটিং ঘিরে এলাকায় জনসমাগম বাড়ছে, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নীতিমালার পরিপন্থী। হাউস মালিকদের শুটিংয়ের জন্য বাসা ভাড়া না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সমিতি চিঠিতে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নাট্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী ও নির্মাতারা। অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলেন, ‘লাবণী শুটিং হাউসটি অনেক পুরোনো। বারবার কিছু চক্র এটি উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়েছে। শুটিং হাউসটি রাস্তার একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত, ফলে জনসমাগম বা যানজট হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। অভিযোগগুলো পরিকল্পিত ও ভিত্তিহীন।’

লাবণী শুটিং হাউসের মালিক আসলাম হোসাইন জানান, তিনি ২৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে কখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

নাট্য নির্মাতা তপু খান বলেন, ‘শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে এমন নিষেধাজ্ঞা বড় ধরনের বাধা। আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান হওয়া উচিত।’

ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘এভাবে হুট করে চিঠি দিয়ে শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। ধারাবাহিক নাটকের কন্টিনিউটি নষ্ট হয়ে যায়। আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং হাউস মালিকদের পাশে আছি।’

এ প্রসঙ্গে উত্তরা সেক্টর-৪ কল্যাণ সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে চিঠিটি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তরা সেক্টর ৪ এ লাবণী-৪, লাবণী-৫ ও আপনঘর-২ নামে তিনটি শুটিং হাউস রয়েছে। শুটিং বন্ধের চিঠির খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা রওনক হাসান বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় বহু স্কুল-অফিস চলে, শুধু শুটিং নিয়েই আপত্তি কেন? পূর্বেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের সহযোগিতায় সমাধান হয়েছে, এবারও সেটাই প্রত্যাশা করছি।’ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শিল্পী ও নির্মাতারা।

নীরবতা ভেঙে একে অপরের প্রশংসায় মুখর দেব শুভশ্রী

এক সময়ের আলোচিত জুটি দেব এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলীর প্রেম, বিচ্ছেদ এবং তারপর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার একে অপরের প্রশংসায় মুখর হলেন। প্রায় ৯ বছর পর মুক্তি পেতে চলেছে তাদের অভিনীত শেষ ছবি ‘ধূমকেতু’। এই ছবির প্রচারকে কেন্দ্র করেই যেন ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন এই প্রাক্তন জুটি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেব তার প্রাক্তন প্রেমিকা শুভশ্রীকে নিয়ে প্রশংসা করেন। দেব বলেন, ‘আমার ওর সঙ্গে কী কথা থাকতে পারে! পাশাপাশি দাঁড়ালে কী বলব জানি না।’

তার কথায়, ‘আমি তার কাছ থেকে কী-ই বা নেব, যা আমার কাছে নেই। আমি ওকে কী-ই বা দেব যা ওর কাছে নেই। একটা মেয়ে হয়ে সংসার, সন্তান ও ক্যারিয়ার যেভাবে সামাল দিচ্ছে তা প্রশংসনীয়, খুব সোজা কাজ নয়।’

শুভশ্রী দেবের প্রশংসার পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘ও আমাকে নিয়ে কিছু বলেছে বলে আমাকেও বলতে হবে এমনটা নয়। তবে এত বছর পর ছবিটা মুক্তি পাচ্ছে, এটাই বড় বিষয়। যদিও আমি দেবকে ধন্যবাদ জানাব আমার এই পরিশ্রমটা ওর চোখে পড়েছে, প্রশংসা করেছে। আমিও বলছি, দেবও খুব ভালো কাজ করছে।’

উল্লেখ্য, দেব এবং শুভশ্রীর প্রেম ভেঙেছে অনেক বছর আগে। বর্তমানে শুভশ্রী স্বামী রাজ চক্রবর্তী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে সুখের সংসার করছেন। অন্যদিকে, দেব অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি একজন সাংসদ হিসেবেও নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। জড়িয়েছেন নতুন প্রেমে।

মামলা থেকে আ. লীগ নেতাদের বাদ দিতে উপজেলা বিএনপির চিঠি

জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে একটি মামলা থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম বাদ দিতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাকে চিঠি দিয়েছে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি। ২৫ ডিসেম্বর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৫ জনের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‌‘বর্ণিত আসামিরা ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সমর্থক হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হলো।’ চিঠিতে দরখাস্তকারী হিসেবে মামলার (দক্ষিণ সুরমা সিআর মামলা ৩৭৪/২০২৪) বাদী সাহেদ আহমদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বাদীর পুরো ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে। যদিও ওই নম্বরে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

চিঠিতে উল্লেখিত ১৫ জনকে বিএনপির দলীয় পরিচয় দেওয়া হলেও প্রত্যেকের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে ১৫ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, ১৪ নম্বর আসামি আসঝার মিয়া, ২২ নম্বর আসামি আফছর মিয়া, ৪৪ নম্বর আসামি রুবেল আহমদ, ৪১ নম্বর আসামি মাযহারুল ইসলাম মজনু, ৪৮ নম্বর আসামি অলিদ মিয়া, ৬৭ নম্বর আসামি বাবুল মিয়া, ৬৯ নম্বর আসামি পিন্ট (সাইদুর রহমান পিন্টু), ৭২ নম্বর আসামি আত্তর আলী, ৭৩ নম্বর আসামি আ. ওয়াহাব, ৭৬ নম্বর আসামি আ. শহীদ, ৭৭ নম্বর আসামি আমির আলী, ৭৮ নম্বর আসামি নাবিল আহমদ, ৮০ নম্বর আসামি শায়েস্তা আল মামুন, ৮৬ নম্বর আসামি আফরুজ মিয়া, ৯০ নম্বর আসামি সাহেদ আহমদ। তাদের অনেকে ছাত্রলীগের কমিটিতেও ছিলেন। এর মধ্যে তালিকায় ৭ নম্বরে থাকা পিন্টু (সাইদুর রহমান পিন্টু) সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সদস্য। ১১ নম্বরের আমির আলী স্থানীয় যুবলীগ নেতা।

এছাড়া অন্যান্য সবাই কোনো পদে না থাকলেও স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত বলে জানান বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এভাবে চিঠি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ বলেন, এরা সবাই বিএনপির সমর্থক। তারা একটি কমিটি গঠন করে তাদের চিহ্নিত করেছেন। যেহেতু তারা বিএনপির লোক সেহেতু তাদের মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য ওই চিঠি থানা পুলিশকে দিয়েছেন। স্থানীয় ভাবে তারা এটা করেছেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলের দিকে তিনি এই প্রতিবেদককে আরেকটি চিঠি পাঠান। যেটা দক্ষিণ সুরমা থানা বরাবর দেওয়া হয়েছে। সেখানেও দাবি করা হয়, আগের দেওয়া চিঠিটির স্বাক্ষর ও সিল জাল করা হয়েছে। দক্ষিণ ‍সুরমা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আসামিদের বাদ দিতে দলের পক্ষ থেকে এ রকম আবেদন করা আইনসম্মত নয়। আবেদনের প্রেক্ষিতেও আসামিদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।