Home Blog Page 354

এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ

দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পদযাত্রা শুরুর আগে গণঅভ্যুত্থানের ২০ জন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউজে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এনসিপি নেতৃবৃন্দ শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শহীদ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, “শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে এনসিপি সবসময়ই আছে।” তিনি যেকোনো সমস্যা হলে এনসিপিকে জানানোর অনুরোধ করেন এবং জানতে চান, পরিবারের সদস্যদের কেউ কোনো হুমকি দিচ্ছেন কিনা বা মামলায় কতজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এ সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় শহীদ মো. সাজিদুর রহমান ওমরের বাবা মো. শাহজাহান জানান যে, তার ছেলে কোরআনে হাফেজ সম্পন্ন করে মাওলানা পড়ার সময় গত ২৪ সালের ২১ জুলাই যাত্রাবাড়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জুলাই শহীদ হন। সাভারের আশুলিয়ায় শহীদ তানজিল মাহমুদ সুজয়ের বাবা শফিকুল ইসলাম ও মা তাহমিনা আক্তার এনসিপি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা সবসময় তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শহীদ পরিবারের সাথে এই মতবিনিময়কালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের পর বেলা সাড়ে ১১টায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শহরের জেলা পরিষদের সামনে থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়। পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসাইন। পদযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আব্দুল কুদ্দুস মাখন মুক্ত মঞ্চে শেষ হয়।

কম্বোডীয় রকেটে ২ নাগরিক নিহত হওয়ার পর এফ-১৬ দিয়ে পাল্টা হামলা থাইল্যান্ডের

কম্বোডিয়ার সামরিক বাহিনীর ছোড়া রকেটের আঘাতে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশটিতে হামলা চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে সীমান্তের বিরোধপূর্ণ অংশে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়িয়ে দিয়েছে।

থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের একটি যুদ্ধবিমান কম্বোডিয়ায় গুলিবর্ষণ করেছে এবং সামরিক লক্ষ্যস্থল ধ্বংস করেছে।

সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে থাই সেনাবাহিনী বলেছে, “এফ-১৬ গুলিবর্ষণ করেছে!”

বিবিসি জানিয়েছে, কম্বোডিয়ার স্পেশাল মিলিটারি রিজিয়ন কমান্ডস ৮ ও ৯ ‘ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে’ বলে থাই সেনাবাহিনী দাবি করেছে।

এর আগে থাইল্যান্ড জানিয়েছিল, সীমান্তের কাছে থাই বাসিন্দাদের ওপর কম্বোডিয়ার দুটি রকেট আঘাত হানার পর প্রতিবেশী দেশটির সামরিক লক্ষ্যে আঘাত হানতে তারা ছয়টি এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, থাই সেনাবাহিনীর উপ-মুখপাত্র রিচা সুকসুয়ানন সাংবাদিকদের বলেছেন, “পরিকল্পনামতো সামরিক লক্ষ্যস্থলগুলোর বিরুদ্ধে বিমান শক্তি ব্যবহার করেছি আমরা।”

থাই সামরিক কর্মকর্তা সুরাসান কংসিরি জানিয়েছেন, বিরোধপূর্ণ সীমান্তের ছয়টি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে। এ সময় পাঁচ বছরের এক বালকসহ তিন বেসামরিক আহত হয়েছেন।

বৃস্পতিবার এই সংঘর্ষ শুরু করার জন্য উভয়পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করেছে।

কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেছে, থাইল্যান্ড সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে, তারা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং জোরপূর্বক কম্বোডীয় ভূখণ্ড দখল করতে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়টি থাইল্যান্ডের পদক্ষেপকে ‘বর্বর ও অবৈধ সামরিক আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে।

খামের টাইমস সংবাদপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী মন্ত্রণালয়টি বলেছে, “থাইল্যান্ডের পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ, আসিয়ানের নিয়ম ও আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতির নির্লজ্জ লঙ্ঘন।”

তারা জানিয়েছে, থাই যুদ্ধবিমানগুলো কম্বোডিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ডে দুটি বোমাবর্ষণ করেছে।

মন্ত্রণালয়টির মুখপাত্র মালি সওচেতা বলেছেন, “এই বেআইনি ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তির ও স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুতর হুমকি, পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার ভিত্তিরও লঙ্ঘন।”

‘যে কোনো মূল্যে‘কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দেশটির সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত আছে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়টি।

এক থাই সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সব সীমান্ত পয়েন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে থাইল্যান্ড।

রুশ যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রায় অর্ধশত আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে গিয়ে কাউকে জীবিত পায়নি ঘটনাস্থলের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া এমআই-৮ হেলিকপ্টারের ক্রুরা।

এর আগে স্থানীয় গভর্নর জানান, বৃহস্পতিবার বিমানটি উড্ডয়নের পর রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ঘটনার পরপরই ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় শাখা জানিয়েছে, বিমানটি ছিল একটি Antonov An-24 মডেলের যাত্রীবাহী প্লেন, যা সাইবেরিয়া ভিত্তিক ‘আঙ্গারা’ এয়ারলাইন পরিচালনা করছিল। বিমানটি চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের টাইন্ডা শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

আঞ্চলিক নাগরিক প্রতিরক্ষা ও অগ্নি নিরাপত্তা কেন্দ্র রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে জানিয়েছে, রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়া An-24 যাত্রীবাহী বিমানে অবতরণের আগেই আগুন ধরে গিয়েছিল।

টাইন্ডা বিমানবন্দরের পরিচালক বলেছেন, বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার সময়ই তাতে আগুন ধরে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া Mi-8 হেলিকপ্টারের ক্রু সদস্যরা কোনো জীবিত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারেননি।”

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানে থাকা সব যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বিমানটিতে প্রাথমিক হিসাবে পাঁচ শিশুসহ ৪৩ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। রুশ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

মাইলস্টোনে নিহত দুই শিক্ষক পাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নিয়মিত এই বৈঠকে শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। নিহতদের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসাসেবায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্কুলের নিহত দুজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সম্মাননার বিস্তারিত অতিদ্রুত নির্ধারণ করা হবে।

এতে বলা হয়, নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে আগামীকাল সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।

গত সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয় বিমান বাহিনীর একটি বিমান। এতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মেহেরীন চৌধুরী ও মাসুকা বেগমসহ নিহত হন ৩২ জন।

দগ্ধদের চিকিৎসায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল বার্ন ইনস্টিটিউটে

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিতে ভারতের দুই চিকিৎসকসহ একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় তারা হাসপাতালে প্রবেশ করেন এবং দগ্ধদের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

এর আগে, গত বুধবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় ভারতীয় চিকিৎসক দলটি ঢাকায় পৌঁছায়। তাদের এই আগমন আহতদের চিকিৎসায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, বুধবার থেকে দগ্ধদের চিকিৎসাসেবা চলছে সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্লাস্টিক সার্জনদের মেডিকেল বোর্ডের যৌথ মতামতের ভিত্তিতে।

সবশেষ বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দীন জানান, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ ৪৪ জন এখন বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তাদের আটজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১১ জন।

প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৭ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৫ জন। আর বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন ১১ জন।

তবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) তথ্যমতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩২ জন মারা গেছেন।

পাওয়ার প্লেতেই ৪ উইকেট নেই বাংলাদেশের

জয় দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। তাই আজকের ম্যাচে জিততে পারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করবে লিটন দাসের দল। অন্যদিকে সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে আজ জয়ের বিকল্প নেই পাকিস্তানের। টসে হেরে আগে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

ব্যাট হাতে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনফর্ম তানজিদ তামিমকে বিশ্রাম দিয়ে আজ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল নাঈম শেখকে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না এই ওপেনার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফাহিম আশরাফকে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৭ বল খেলে ৩ রান করেছেন নাঈম।

তিনে নেমে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন লিটন। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন। তাতেই যেন বিপদ ডেকে আনেন। সালমান মির্জাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন তিনি।

ব্যর্থ হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়ও। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে রান আউটে কাটা পড়েন তিনি। পারভেজ ইমনের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝিতে রানের খাতা খুলার আগেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। হৃদয়ের আউটে কিছুটা হলেও দায় ছিল ইমনের, তাই বাড়তি দায়িত্ব ছিল তার ওপর। কিন্তু উল্টো দলের চাপ বাড়িয়ে পরের ওভারেই সাজঘরে ফেরেন ইমন। ১৪ বলে ১৩ রান করেছেন তিনি।

৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান।

পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। তাদের হাতে ছিল এক উইকেট। মুস্তাফিজের করা ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করেন দানিয়েল।

পরের বলেও উড়িয়ে মেরেছিলেন এই ব্যাটার, তবে এবার বল যায় সরাসরি মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা শামীমের হাতে। তাতে ৮ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে খেলতে নেমে ১৯ ওভার ২ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৫ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান।

দয়া করে পাইলটকে দোষ দেবেন না: অভিনেত্রী হিমি

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে সোমবার  দুপুরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩১-এ দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে রয়েছেন বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম।

বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরইমধ্যে নিহত পাইলটকে নিয়েও অনেকে কথা বলছেন। এবার ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি নিহত পাইলট তৌকির ইসলামকে নিয়ে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। তার এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে অভিনেত্রী হিমি লেখেন, ‘মর্মান্তিক হলেও দয়া করে পাইলটকে দোষ দেবেন না। তিনি চেষ্টা করেছেন! তিনি সত্যিই চেষ্টা করেছেন। তিনি জানতেন এটা একটি স্কুল, তিনি জানতেন আশপাশে শিশু রয়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি লড়েছেন, বিমানের গতি সরিয়ে নিতে চেয়েছেন। তিনি নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন। তিনি সেই বিমানের সঙ্গে ঝরে গেছেন।’

তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে সামগ্রিকভাবে অসম্মান করবেন না। তারা আমাদের রক্ষা করে, দেশের জন্য জীবন বাজি রাখে প্রতিদিন। কিন্তু এর মানে এই না যে, আমরা চুপ করে থাকব। আমাদের কঠিন প্রশ্ন করতে হবে। আমাদের স্বচ্ছতা দাবি করার অধিকার আছে।’

এ অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘যদি কোথাও গাফিলতি থাকে, যদি কারও ভুল সিদ্ধান্ত প্রাণহানির কারণ হয়ে থাকে, তবে তাকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দোষ দিন না ককপিটে থাকা মানুষটিকে, দোষ দিন তাকে, যে জনবহুল শহরের উপরে প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চালানোর অনুমোদন দিয়েছে। আসল দায়িত্ব সেখানেই।’

অভিনেত্রী হিমি লিখেছেন, ‘দোষ দিন তাদের, যারা এখন পর্যন্ত আমাদের পুরোনো যুদ্ধবিমান দিয়ে উড়তে বাধ্য করছে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে, কেন আমরা এখনো ১৯৬০ সালের নকশায় তৈরি এবং ২০১৩ সালে যার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে, সেই চীনে তৈরি এফ-৭ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছি? এই বিমানগুলো শুধু পুরোনোই নয়, আধুনিক শহুরে অভিযানের জন্য সম্পূর্ণভাবে অনুপযুক্ত। এগুলো ব্যবহার করে আমরা শুধু আমাদের পাইলটদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছি না, বরং নিচের অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবনও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি। এটা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটা এক বিশাল ব্যর্থতা চিন্তাভাবনার, পরিকল্পনার এবং নেতৃত্বের। তিনি শহিদ হয়েছেন বীরের মতো। স্যালুট জানাই তোমাকে, ভাই।’

মাইলস্টোন স্কুলের দুর্ঘটনায় আমি স্তম্ভিত: মিথিলা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শোকে বিহ্বল গোটা দেশ। স্বাধীনতার পরে এমন মর্মান্তিক কোনো বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়নি দেশের মানুষ।

এই দুর্ঘটনার পরে এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় দেড়শ’র বেশি আহত চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।  মর্মান্তিক এই ঘটনা সারাদেশে শোকের মাতম সৃষ্টি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নেটিজেনরাও শোক প্রকাশ করেছেন। এদিকে অভিনেত্রী ও মডেল রাফিয়াত রশিদ মিথিলা এক পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন যে, মাইলস্টোন স্কুলের দুর্ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত।

পোস্ট দিয়ে মিথিলা লিখেছেন, ‘মাইলস্টোন স্কুলের দুর্ঘটনায় আমি স্তম্ভিত। এই হৃদয় বিদারক ঘটনায় প্রাণ হারানো ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। প্রতিটি শিশু, তাদের বাবা-মা পরিবার ও শিক্ষকদের জন্য আমরা সবাই দোয়া প্রার্থনা করি।’

অনেক শাসন দেখেছি, এগুলো শাসন ছিল না শোষণ ছিল : ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অনেক শাসন দেখেছি। এগুলো শাসন ছিল না, ছিল শোষণ। আমরা এখন সৎ শাসক চাই। কুরআানের শাসন চাই।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বেলা সোয়া ১১ টায় খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদরাসা ময়দানে পথসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দ্বীনের পথে লড়তে চাই জীবনের শেষ শ্বাস পযর্ন্ত। আর বিদায় নিতে চাই শহীদ হয়ে। রক্তের চাঁদর গায়ে দিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই। ইয়া মাবুদ তুমি বাংলাদেশে কুরআনের শাসন দাও।

এর আগে তিনি ঢাকায় দলের জাতীয় সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত খুলনার দাকোপ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু সাইদের কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারকে শান্তনা দেন। এ সময় তিনি মাওলানা আবু সাইদের পরিবারের সঙ্গে হাত তুলে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

পথসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন, দাকোপ উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আক্তারুজ্জামান।

সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওয়াহিদুজ্জামানের পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, অন্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান ও মাস্টার শফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, বাগেরহাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবির সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, খুলনা জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমীর এডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, বাগেরহাট জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ইশবাল হোসেন, খুলনা জেলা কর্ম ও শূরা সদস্য অধ্যাপক আব্দুর রব, বটিয়াঘাটা উপজেলা আমীর মাওলানা শেখ মো. আবু ইউসুফ, চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা অজিহুর রহমান, পাইকগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা আবু সাঈদ, কয়রা উপজেলা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, হরিণটানা থানা আমীর আব্দুল গফুর, পাইকগাছা উপজেলা সেক্রেটারি মো. আলতাফ হোসেন, কয়রা উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ, রামপাল উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা জিহাদুজ্জামান, মোংলা পৌর যুব বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা মোস্তাইন প্রমুখ।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান সকাল ১০ টার দিকে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার চালনার বি এম গ্যাস কোম্পানির হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে দাকোপ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর শহীদ মাওলানা আবু সাঈদের বাড়িতে পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে তিনি চালনা সরকারি পৌর কবরস্থানে তার কবর জিয়ারত করেন।

দুপুরে বি এম গ্যাস কোম্পানির হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে আমীরে জামায়াত পাবনার ঈশ্বরদীতে শহীদ মোস্তাফিজুর রহমান কলম এর বাড়ির উদ্দেশে দাকোপ ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ-এ যাওয়ার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গার চেšরাস্তা মোড়ে শনিবার (১৯ জুলাই) রাত পৌণে ৩ টার দিকে রয়্যাল পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় দাকোপ উপজেলা আমীর মাওলানা আবু সাঈদ (৫২) শাহাদাৎবরণ করেন। এ সময় গুরুতর আহত হন জামায়াত কর্মী মো. আনিসুর রহমান ও মো. ইকবাল হোসেন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে চালনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা এখন আশঙ্কামুক্ত।