Home Blog Page 355

জালিমের চেয়ে জামায়াত অনেক বেশি শক্তিশালী: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত যেকোনো জালিম শক্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন, আল কুরআনের দেখানো পথ অনুসরণ করে দেশে ইসলাম ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন কায়েম হবে এবং দুর্নীতিবাজদের দেশ থেকে উৎখাত করা হবে। মঙ্গলবার বিকেলে ঈশ্বরদীর টেক্সটাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোনো জালিমের ভয় করে না। যেখানে দুর্নীতি সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে। যতদিন দেশের মানুষের মুক্তি না মিলবে ততদিন এই লড়াই চলবে। পেছনের জালিম ও সামনের জালিম যতই শক্তিশালী হোক, জামায়াত তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হবে।”

তিনি নেতাকর্মীদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “লড়াই করতে আপনারা তৈরি আছেন তো? এটা চলমান থাকবে।”

ডা. শফিকুর রহমান ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি ২৭ জনের মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্বাস করেন না এবং মনে করেন প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হবে। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবার ও আহতদের পাশে জামায়াতের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “অর্থ-রক্ত যা যা লাগবে আমাদের সহকর্মীরা দেবে।”

তিনি জামায়াতের প্রয়াত কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান কলম বিশ্বাস-এর পরিবারের সব দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। মোস্তাফিজুর রহমান গত ১৮ জুলাই জাতীয় সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় যাওয়ার পথে গাজীপুরে বাসে স্ট্রোক করে মারা যান।

এই দোয়া মাহফিলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হলে গুনতে হবে অতিরিক্ত ২৫০ ডলার

এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, ব্যবসা, শিক্ষা বা অস্থায়ী কাজের জন্য ভিসা আবেদনকারীদের গুনতে হবে অতিরিক্ত ২৫০ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা)। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভ্যন্তরীণ নীতিমালার অধীনে এই ‘ভিসা ইনটেগ্রিটি ফি’ বা ‘ভিসা সততা ফি’ কার্যকর করা হয়েছে, যা বিদ্যমান ভিসা ফির অতিরিক্ত হিসেবে ভিসা ইস্যুর সময়েই পরিশোধ করতে হবে। এই ফি মওকুফের কোনো সুযোগ থাকছে না।

এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় প্রায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও অস্থায়ী কর্মীরা এর আওতায় পড়বেন। তবে, ‘ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রাম’-এ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক, যারা ৯০ দিনের কম সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, তাদের জন্য এই ফি প্রযোজ্য নয়।

হিউস্টনভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী স্টিভেন এ. ব্রাউন জানিয়েছেন, এই ফি মূলত এক ধরনের ‘ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা আমানত’ হিসাবে কাজ করবে। ভিসার শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্থান করলে এই ফি ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকলেও, কীভাবে বা কত সময়ের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো পরিষ্কার নির্দেশনা নেই।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, এই ফি চালুর লক্ষ্য হলো ‘অভিবাসন কার্যক্রম কঠোর করা, ভিসার শর্তভঙ্গ নিরুৎসাহিত করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা তহবিলে অর্থ যোগান’। যেসব ভ্রমণকারী নির্ধারিত নিয়ম না মেনে যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত সময় থাকবেন বা শর্ত ভঙ্গ করবেন, তাদের ফি ফেরতযোগ্য হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যটন সংস্থা ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন এই নতুন নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বাধা সৃষ্টি করবে এবং অনেককে যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য করবে।

এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ফের বিপত্তি: হংকং থেকে আগত ফ্লাইটে আগুন

ইয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে বিপত্তি যেন থামছেই না। এবার হংকং থেকে দিল্লিগামী এআই-৩১৫ ফ্লাইটের অক্সিলিয়ারি পাওয়ার ইউনিটে (এপিইউ) আগুন ধরে যায়, ফ্লাইটটি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণ পরই এই অগ্নিকাণ্ড হয়। মঙ্গলবার এয়ারলাইনটি  এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এয়ারলাইনের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীরা যখন বিমান থেকে নামছিল, তখনই আগুন শনাক্ত হয়। আগুন শনাক্ত হওয়ার পর সহায়ক বিদ্যুৎ ইউনিট বা এপিইউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রী ও ক্রুরা নিরাপদে বিমান ত্যাগ করেন। এপিইউ হলো একটি ছোট ইঞ্জিন যা বিমান রানওয়েতে থাকাকালীন এসি, লাইট এবং প্রধান ইঞ্জিন চালু করার জন্য শক্তি সরবরাহ করে।

এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানটিতে ‘কিছু ক্ষতি’ হয়েছে। এটি একটি দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এয়ারবাস এ৩২১ বিমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমানটি স্থগিত রাখা হয়েছে।

দিল্লির এই ঘটনাটি দেশীয় বিমান সংস্থাটির জন্য উদ্বেগ আরও বাড়াল। কারণ গত ছয় মাসে পাঁচটি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের জন্য তারা ৯টি নোটিশ পেয়েছে বলে সোমবার পার্লামেন্টে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহল।

গত ৪৮ ঘণ্টায় এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো অল্পের জন্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘটনা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, একই রুটে গত মাসেও একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানে ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ দেখা গিয়েছিল। তখন ফ্লাইটটিকে হংকং বিমানবন্দরে ফিরে যেতে হয়েছিল। এই ঘটনাটি ঘটেছিল এয়ার ইন্ডিয়ার আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার তিন দিন পর।

তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ১২ জুনের আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা এখনো মেলেনি। সেদিন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের পথে উড্ডয়নের ৩২ সেকেন্ড পরই এআই-১৭১ ফ্লাইট হিসেবে যাত্রা করা বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হয়। একটি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে ধরা পড়া এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৭৪ জন ও মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন প্রাণ হারান। বিমানটি মাঝ আকাশে গতি হারিয়ে একটি কলেজ হোস্টেলে আছড়ে পড়ে। বিমানে থাকা একজন মাত্র যাত্রী বেঁচে যান।

এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জ্বালানির সরবরাহ নিয়ন্ত্রণকারী উভয় সুইচ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে সুইচের অবস্থান এবং ক্যাপ্টেন সুমিত সাবরওয়াল ও ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডারের মধ্যে রেকর্ড হওয়া কথোপকথনের একটি অংশ নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। ওই অংশে দেখা যায়, একজন পাইলট (কে তা স্পষ্ট নয়) আরেকজনকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ করেছেন। জবাবে দ্বিতীয় পাইলট বলেন, তিনি তা করেননি।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে, রেকর্ডিং ইঙ্গিত দেয়, পাইলট ক্যাপ্টেন সাবরওয়াল ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ করেছিলেন। এই দাবির কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ না থাকায় তা ভারত সরকার ও বিমান চলাচল মহলে তীব্রভাবে নিন্দিত হয়েছে।

গত সপ্তাহে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ‘অযাচাইকৃত’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ প্রতিবেদনের জন্য সমালোচনা করে। এই ঘটনার তদন্তে সহায়তাকারী যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডও বিদেশি গণমাধ্যমের এমন আচরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

দুর্ঘটনাকবলিত বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানে জ্বালানির সরবরাহ সুইচগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে তা বিশেষভাবে পাইলট না সরালে নড়ে না। এগুলো স্প্রিং-লোডেড এবং তুলে স্লট করে সেট করতে হয়। এটি দুর্ঘটনাবশত সরানো রোধ করতে করা হয়েছে। ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো প্রাথমিক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতে নিবন্ধিত বোয়িং বিমানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণকারী সুইচগুলো পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। এই পরীক্ষা ভারতের সব বোয়িং বিমানের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা পরীক্ষা শেষ করেছে এবং কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।

উত্তরা বিমান বিধ্বস্ত: ‘অনভিপ্রেত ঘটনা’র ব্যাখ্যা দিল আইএসপিআর

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে জনতার সঙ্গে সৃষ্ট ‘অনভিপ্রেত’ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানিয়েছে, উৎসুক জনতার ব্যাপক ভিড় উদ্ধার কার্যক্রমে বারবার ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, যা একপর্যায়ে ভুল বোঝাবুঝি ও বাদানুবাদের সৃষ্টি করে।

আইএসপিআর’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিরীহ নাগরিক হতাহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকটবর্তী ক্যাম্প থেকে সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা চালানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে দুর্ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ব্যাপক ভিড় দেখা দেয়, যা ইভাকুয়েশন ও রেসকিউ কার্যক্রমকে বারবার ব্যাহত করে। সেনাবাহিনীর সদস্য এবং মাইলস্টোন স্কুলের স্বেচ্ছাসেবক বারবার অনুরোধ করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় সময়মতো আহতদের সরিয়ে নেওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে, প্রাণহানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। সেনাসদস্যরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। উল্লেখ্য, এই উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত ১৪ সেনাসদস্য শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আইএসপিআর জানায়, উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন বিকেলের দিকে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু উৎসুক জনতা ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় উদ্ধার কাজে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ফলে একদল উৎসুক জনতার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়, যা একপর্যায়ে একটি অনভিপ্রেত ঘটনার অবতারণা করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা জনগণের পাশে থেকে পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের সঙ্গে কর্তব্য পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সচিবালয়ের সামনে সংঘর্ষে আ/হ/ত ৯১ শিক্ষার্থী

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি রাত ৩টায় পরিবর্তনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সচিবালয়ের সামনে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৯১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তারা হলেন, নাফিসা (১৬) ও সামির (১৯)।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।

আহতরা হলেন হাসান (১৮), সেরাতুল (২২), সাকিব (১৯), তানভীর (১৯), রিফাত (১৯), রিজন (২০), সামিয়া (১৮), তামিম (১৯), ইমন (২০), সিয়াম (১৮), সাকিল (২০), মেহেদী (২০), সাদমান (১৮), মারুফ (২২), মাহিন (১৯), রোহান (২০), মুগ্ধ (১৯), মাহিম (২০), সায়েম (১৮), জিদান (২০), নিহার (২০), রায়হান (২০), রোমান (১৮), প্রান্ত (১৯), নাহিদ (২০), অন্তু (২০), বিশাল (২০), ইমরান (২০), আহনাদ (১৮), মাহি (২০), নাঈম (১৮), সামি (১৮), স্বাধীন (২০), তাসিন (১৮), ধ্রুব (১৯), শান্ত (২০), তানিম (২০), আজহারুল (২০), তন্ময় (১৯), জিসান (১৯), রাসেকুন (২০), পারভেজ (২০), বিজয় (১৭), আসাদ (২০), নাফিজ (১৮), সাহিন (২০), কিশোর (১৮), ফারদিন (১৯), শাহরিয়ার (২০), সাঞ্জু (১৯), রাইয়ান (১৯), কনা (২১), আব্দুল খালেক (৬৫), সিনান (১৮), তাসফি (২২), মামুন (২০), আসাদ (২১), আতিক (১৮), হাবিব হাসান (সাংবাদিক মানবজমিন), রাশেদ (১৮), আরাফাত (২০), আলামিন (২০), ফয়সাল (১৭), ফাহাদ (১৮), ইয়াসিন আরাফাত শান্ত (২০), শাকিল (২০) এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় শিক্ষার্থী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক।

প্লেট হাতে কাঁদছেন শাকিব

হঠাৎ করেই আজ রায়হান রাফী পরিচালিত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার কয়েকটি স্থিরচিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক প্রোফাইল, সিনেমা–সংশ্লিষ্ট পেজ ও গ্রুপে শেয়ার হতে থাকে শাকিব খানের ছবিগুলো।

এর মধ্যে একটি স্যাড সিকোয়েন্সের, যেখানে শাকিব খানকে বন্দী অবস্থায় ভাত খেতে দেখা যায়। ক্লান্ত চেহারা, মুখে কষ্টের ছাপ ও চোখে পানি-ছবিটি শেয়ার করে অনেকেই তার অভিনয়ের প্রতি মনোযোগ ও পেশাদারত্বের প্রশংসা করছেন।

ঢালিউডের নির্মাতা ও বিনোদন অঙ্গনের বিভিন্ন পেশার মানুষ ছবিটি শেয়ার করে শাকিব খানের প্রশংসা করেছেন।

নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস ছবিটি শেয়ার করে তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আপনি বেঁচে থাকুন! শতবর্ষী হোন! আপনার মাধ্যমে বাংলাদেশি সিনেমা বেঁচে থাকুক।’

‘বরবাদ’খ্যাত নির্মাতা মেহেদী হাসান লিখেছেন, ‘যখন শাকিব খান পর্দায় থাকেন, তখন সেটা অভিনয় নয়, তা একপ্রকার আধিপত্য। তাঁর উপস্থিতিতে পর্দা নিজেই নতি স্বীকার করে। স্যালুট আমাদের মেগাস্টার শাকিব খানকে!’

ঈদে মাল্টিপ্লেক্সে ২৮টি শো দিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘তাণ্ডব’। এ ছাড়া শতাধিক সিঙ্গেল স্ক্রিনে সিনেমাটি মুক্তি পায়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফী

বাতিল হলো ভারত-পাকিস্তান লেজেন্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ

রাজনৈতিক বৈরিতার জেরে বাতিল হয়ে গেছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত লেজেন্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ। রোববার ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে রাত সাড়ে ৯টায় দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্প্রতি কাশ্মীরের পেহেলগাঁও এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাব পড়ে এই ম্যাচে। ঘটনার জেরে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক সমর্থক। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতার কথা জানিয়ে ম্যাচ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন ইরফান পাঠান, ইউসুফ পাঠান, সুরেশ রায়না, হরভজন সিং ও শিখর ধাওয়ান।

এছাড়া পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির টেলিভিশন মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক ছড়ায়। তিনি সামা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কাশ্মীরে একটি পটকাও ফাটলে পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়। অথচ সেখানে ভারতের আট লাখ সেনা নিয়োজিত। এরপরও যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে বোঝা যায় তাদের সেনাবাহিনী অকেজো।

এই মন্তব্যের জবাবে ভারতীয় সাবেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, কার্গিলেও তোমাদের হারিয়েছিলাম। আমাদের সেনাদের নিয়ে আমরা গর্বিত। উল্টোপাল্টা মন্তব্য না করে নিজের দেশের জন্য কিছু করো।

পরবর্তীতে আফ্রিদিও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি হাতে চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, ক্যাপশনে লেখেন, জয়-পরাজয় ভুলে যাও, আসো মাকে চা পরিবেশন করি।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস’ (ডব্লিউসিএল) কর্তৃপক্ষ সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে ম্যাচটি বাতিলের ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, আমরা সবসময় ক্রিকেটকে ভালোবাসার চোখে দেখি। ক্রিকেটভক্তদের আনন্দ দেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়। আমরা কারও অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য দুঃখিত এবং প্রত্যাশা করি সবাই আমাদের সিদ্ধান্তের কারণ বুঝবেন।

উল্লেখ্য, ১৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে আছেন যুবরাজ সিং এবং পাকিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ইংল্যান্ডকে ৫ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে। ছয় জাতির এই আসরে অংশ নিচ্ছেন শুধুমাত্র সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা।

তবে এই ঘটনার পর লেজেন্ড চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

৪০ বছরে রপ্তানি খাতে এমন সংকট দেখিনি: এ. কে. আজাদ

চল্লিশ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে রপ্তানি খাতে এমন সংকট কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন দেশের অন্যতম রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী নেতা ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ. কে. আজাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা এই খাতকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন হতাশ ও ক্ষুব্ধ।’

আজ রোববার ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে হা-মীম গ্রুপের এমডি এ কে আজাদ এই কথা বলেন। প্রথম আলো রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ গোলটেবিলের আয়োজন করেছে। সেখানে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গবেষকেরা অংশ নিয়েছেন।

সম্প্রতি এক ব্র্যান্ড অংশীদারের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হা-মীম গ্রুপের এমডি বলেন, ‘আমার এক বড় ব্র্যান্ড হেড অফিসে ডেকে জানায়, তারা নিজ দেশের সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেছে। তাদের ভাষ্য ছিল তোমাদের অবস্থান দুর্বল, ভালো ফল আশা করা যাচ্ছে না।’ এটা শুনে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।

এই পরিস্থিতিতে এ. কে. আজাদ একাধিক উপদেষ্টাকে ফোন করেন। তিনি বলেন, সবাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। পরদিন বাণিজ্য উপদেষ্টা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ. কে. আজাদ আরও বলেন, উপদেষ্টা জানান, ৯৫ শতাংশ সমস্যা তারা সমাধান করেছেন। বাকি ৫ শতাংশ নিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কী করবেন। তার যুক্তি যদি ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কমও আসে, কিন্তু ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত রপ্তানি হলে দেশের লাভই বেশি হবে। এই উদ্যোগে তিনি সফল হবেন বলে মনে করেন।

এই পরিস্থিতিতে এ. কে. আজাদ ক্রেতাদের অবস্থান তুলে ধরেন। বলেন, ‘আমার এক ক্রেতা ই–মেইলে জানান, ১ তারিখ থেকে বাংলাদেশের ওপর যে শুল্ক বসবে, তা সরানো না গেলে শুল্কের ৩৫ শতাংশ আমাকে বহন করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, আমি সেই শুল্ক কীভাবে বহন করব।’

বক্তব্যে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এ. কে. আজাদ। তিনি বলেন, ‘আমার ইন্দোনেশিয়ায় এক যৌথ উদ্যোগ আছে। সেখানে সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। লবিস্ট নিয়োগ করেছেন, প্রতিটি স্তরে আলোচনা করেছেন। অথচ বাংলাদেশে আমরা এমন সুযোগ পাইনি।’

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলছেন, সাত-আট মাসের জন্য দায়িত্বে আছেন। এরপর চলে যাবেন। কিন্তু তখন আমরা যাব কোথায়? আমাদের কার কাছে ফেলে রাখছেন।’

এ. কে. আজাদ বলেন, ‘সবার ধারণা, আমাদের মাথার ওপর একজন আছেন। তিনি এটা ফুঁ দিয়ে দেবেন আর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যার জন্য আমাদের কোনোরকম মূল্যায়ন করা হচ্ছে না; কোনো লবিস্ট নিয়োগের চিন্তা করা হচ্ছে না।’

গতকাল শনিবার সরকার থেকে জানানো হয়েছে, ইউএসটিআর বা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর শুল্ক নির্ধারণ করবে না, করবে ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারের উদ্দেশে এ. কে. আজাদ বলেন, ‘আপনারা যদি পারেন, ওই পর্যায়ে কিছু চেষ্টা করেন।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হবে ৭ লাখ টন গম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারিভাবে গম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গম রপ্তানিকারক সমিতি বা ইউএস হুইট সমিতির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য অধিদপ্তর এই চুক্তি করেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমঝোতা চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে ৭ লাখ টন উচ্চমানের গম আমদানি করা হবে। রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর ও ইউএস হুইট সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ কে সওয়ার।

চুক্তি শেষে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সহযোগিতার আরও বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি হবে। উভয় দেশের জনগণ এতে উপকৃত হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি থেকে আমদানি বাড়াতে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে গম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত দিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আসত সাহায্য হিসেবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দাম দিয়ে হলেও গম আমদানি করা হবে। তারই অংশ হিসেবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা চুক্তি করা হয়।

ভারতে ২৮ বাংলাদেশির দুই বছরের কারাদণ্ড

ভারতে অনুপ্রবেশ ও অবৈধ বসবাসের অভিযোগে ২৮ বাংলাদেশিকে দুবছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ের স্থানীয় তিরুপুরের অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালত-২ বৃহস্পতিবার এই সাজা ঘোষণা করেন।

তামিলনাড়ু পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশিদের খোঁজে গত ১২ জানুয়ারি আরুলপুরম এলাকার একটি বেসরকারি টেক্সটাইল সংস্থার হোস্টেলে অভিযান চালায় পাল্লাদাম পুলিশ। সেখান থেকে ২৮ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তারা কেউই ভারতে প্রবেশের বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে সবাই স্বীকার করেন অবৈধভাবে তারা ভারতে প্রবেশ করেছেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বিভিন্ন সময়ে এসব বাংলাদেশিরা ভারতে প্রবেশ করে বৈধ কাগজপত্র ও অনুমতি ছাড়াই ৬ মাস থেকে ১০ বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছিল। আলাদাভাবে ভারতে প্রবেশ করলেও প্রথমে চেন্নাই এবং সেখান থেকে তিরুপুরে আশ্রয় নেন। এরপর মুরুগামপালায়াম, ছেত্তিপালায়াম ত্রিপুরের বিভিন্ন টেক্সটাইল কোম্পানিতে কাজ করতে শুরু করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদেরকে থানায় নেয় পুলিশ। এরপর তাদের বিরুদ্ধে ১৪-ফরেনারস আইনের ৩(২)(সি) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সি শ্রীধর এই ২৮ জন বাংলাদেশিকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সবাইকে ১০ হাজার রুপি করে আর্থিক জরিমানা করেন। কারাভোগ শেষে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রসঙ্গত চলতি সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কড়া বার্তা দেন তিনি। সম্প্রতি ভারতজুড়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের আটক ও পুশব্যাক ইস্যুতে বিরোধীদের সমালোচনার মধ্যেই মোদির এমন বার্তা ও তামিলনাড়ুর আদালতের রায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।