Home Blog Page 361

সিঙ্গাপুরে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের দুই সাঁতারু

সিঙ্গাপুরে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে গতকাল দেশ ছেড়েছেন দুই সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি ও মোছা. অ্যানি আক্তার। এই প্রতিযোগিতায় তাদের কোচ হিসেবে যাচ্ছেন নৌবাহিনীর কোচ নিয়াজ আলী ও কংগ্রেস প্রতিনিধি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শাহীন।

বিশ্ব আসরে সামিউল ৫০ ও ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক এবং অ্যানি ৫০ ও ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে অংশগ্রহণ করবেন। রাফি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পুরুষ সাঁতারু। থাইল্যান্ডে উন্নত প্রশিক্ষণে ছিলেন। আন্তর্জাতিক আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে কয়েকটি পদকও এনেছেন। মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারে ১২টি স্বর্ণ জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন অ্যানি আক্তার। এতেই ফেডারেশন তাকে বিশ্ব সাতারের জন্য নির্বাচিত করেছে।

এই টুর্নামেন্টটি অংশ নিচ্ছেন দুই হাজারের বেশি অ্যাথলেট। সিঙ্গাপুর কখনো এই প্রতিযোগিতা পূর্বে আয়োজন করেনি। বাংলাদেশেরও বিশ্ব সাঁতারে কোনো পদক নেই। টাইমিংয়ে উন্নতিই মূল লক্ষ্য।

কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রমিলা ফুটবলেও দারুণ ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। ইকুয়েডরে চলমান নারী কোপা আমেরিকায় গ্রুপপর্বের চার ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে সেমিফাইনালের টিকিট। গ্রুপপর্বে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বৃহস্পতিবার স্বাগতিক ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের ১৯তম মিনিটে কিশি নুনিয়েজ গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই প্রথম স্পর্শে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন ফ্লোরেন্সিয়া বোনসেগুন্ডো। চলমান আসরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর চিলিকে ২-১ এবং পেরুকে ১-০ গোলে হারায় তারা। সবগুলো ম্যাচ ইকুয়েডরের ইনডিপেনডিয়েন্টে দেল ভ্যালের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। গ্রুপ পর্ব শেষে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। একই গ্রুপ থেকে উরুগুয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ চার নিশ্চিত করেছে। চিলি ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানের জন্য লড়বে, আর স্বাগতিক ইকুয়েডর ও পেরু এরই মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে।

উত্তরায় শুটিং বন্ধের নির্দেশ, শিল্পী-নির্মাতাদের ক্ষোভ

রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের শুটিং হাউসগুলোতে নাটক ও সিনেমার দৃশ্যধারণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতি। ২০ জুলাই সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, শুটিং ঘিরে এলাকায় জনসমাগম বাড়ছে, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নীতিমালার পরিপন্থী। হাউস মালিকদের শুটিংয়ের জন্য বাসা ভাড়া না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সমিতি চিঠিতে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নাট্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী ও নির্মাতারা। অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলেন, ‘লাবণী শুটিং হাউসটি অনেক পুরোনো। বারবার কিছু চক্র এটি উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়েছে। শুটিং হাউসটি রাস্তার একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত, ফলে জনসমাগম বা যানজট হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। অভিযোগগুলো পরিকল্পিত ও ভিত্তিহীন।’

লাবণী শুটিং হাউসের মালিক আসলাম হোসাইন জানান, তিনি ২৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে কখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

নাট্য নির্মাতা তপু খান বলেন, ‘শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে এমন নিষেধাজ্ঞা বড় ধরনের বাধা। আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান হওয়া উচিত।’

ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘এভাবে হুট করে চিঠি দিয়ে শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। ধারাবাহিক নাটকের কন্টিনিউটি নষ্ট হয়ে যায়। আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং হাউস মালিকদের পাশে আছি।’

এ প্রসঙ্গে উত্তরা সেক্টর-৪ কল্যাণ সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে চিঠিটি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তরা সেক্টর ৪ এ লাবণী-৪, লাবণী-৫ ও আপনঘর-২ নামে তিনটি শুটিং হাউস রয়েছে। শুটিং বন্ধের চিঠির খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা রওনক হাসান বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় বহু স্কুল-অফিস চলে, শুধু শুটিং নিয়েই আপত্তি কেন? পূর্বেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের সহযোগিতায় সমাধান হয়েছে, এবারও সেটাই প্রত্যাশা করছি।’ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শিল্পী ও নির্মাতারা।

নীরবতা ভেঙে একে অপরের প্রশংসায় মুখর দেব শুভশ্রী

এক সময়ের আলোচিত জুটি দেব এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলীর প্রেম, বিচ্ছেদ এবং তারপর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার একে অপরের প্রশংসায় মুখর হলেন। প্রায় ৯ বছর পর মুক্তি পেতে চলেছে তাদের অভিনীত শেষ ছবি ‘ধূমকেতু’। এই ছবির প্রচারকে কেন্দ্র করেই যেন ফের আলোচনায় উঠে এসেছেন এই প্রাক্তন জুটি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেব তার প্রাক্তন প্রেমিকা শুভশ্রীকে নিয়ে প্রশংসা করেন। দেব বলেন, ‘আমার ওর সঙ্গে কী কথা থাকতে পারে! পাশাপাশি দাঁড়ালে কী বলব জানি না।’

তার কথায়, ‘আমি তার কাছ থেকে কী-ই বা নেব, যা আমার কাছে নেই। আমি ওকে কী-ই বা দেব যা ওর কাছে নেই। একটা মেয়ে হয়ে সংসার, সন্তান ও ক্যারিয়ার যেভাবে সামাল দিচ্ছে তা প্রশংসনীয়, খুব সোজা কাজ নয়।’

শুভশ্রী দেবের প্রশংসার পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘ও আমাকে নিয়ে কিছু বলেছে বলে আমাকেও বলতে হবে এমনটা নয়। তবে এত বছর পর ছবিটা মুক্তি পাচ্ছে, এটাই বড় বিষয়। যদিও আমি দেবকে ধন্যবাদ জানাব আমার এই পরিশ্রমটা ওর চোখে পড়েছে, প্রশংসা করেছে। আমিও বলছি, দেবও খুব ভালো কাজ করছে।’

উল্লেখ্য, দেব এবং শুভশ্রীর প্রেম ভেঙেছে অনেক বছর আগে। বর্তমানে শুভশ্রী স্বামী রাজ চক্রবর্তী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে সুখের সংসার করছেন। অন্যদিকে, দেব অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি একজন সাংসদ হিসেবেও নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। জড়িয়েছেন নতুন প্রেমে।

মামলা থেকে আ. লীগ নেতাদের বাদ দিতে উপজেলা বিএনপির চিঠি

জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে একটি মামলা থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম বাদ দিতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাকে চিঠি দিয়েছে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি। ২৫ ডিসেম্বর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৫ জনের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‌‘বর্ণিত আসামিরা ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সমর্থক হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হলো।’ চিঠিতে দরখাস্তকারী হিসেবে মামলার (দক্ষিণ সুরমা সিআর মামলা ৩৭৪/২০২৪) বাদী সাহেদ আহমদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বাদীর পুরো ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে। যদিও ওই নম্বরে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

চিঠিতে উল্লেখিত ১৫ জনকে বিএনপির দলীয় পরিচয় দেওয়া হলেও প্রত্যেকের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে ১৫ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, ১৪ নম্বর আসামি আসঝার মিয়া, ২২ নম্বর আসামি আফছর মিয়া, ৪৪ নম্বর আসামি রুবেল আহমদ, ৪১ নম্বর আসামি মাযহারুল ইসলাম মজনু, ৪৮ নম্বর আসামি অলিদ মিয়া, ৬৭ নম্বর আসামি বাবুল মিয়া, ৬৯ নম্বর আসামি পিন্ট (সাইদুর রহমান পিন্টু), ৭২ নম্বর আসামি আত্তর আলী, ৭৩ নম্বর আসামি আ. ওয়াহাব, ৭৬ নম্বর আসামি আ. শহীদ, ৭৭ নম্বর আসামি আমির আলী, ৭৮ নম্বর আসামি নাবিল আহমদ, ৮০ নম্বর আসামি শায়েস্তা আল মামুন, ৮৬ নম্বর আসামি আফরুজ মিয়া, ৯০ নম্বর আসামি সাহেদ আহমদ। তাদের অনেকে ছাত্রলীগের কমিটিতেও ছিলেন। এর মধ্যে তালিকায় ৭ নম্বরে থাকা পিন্টু (সাইদুর রহমান পিন্টু) সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সদস্য। ১১ নম্বরের আমির আলী স্থানীয় যুবলীগ নেতা।

এছাড়া অন্যান্য সবাই কোনো পদে না থাকলেও স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত বলে জানান বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এভাবে চিঠি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ বলেন, এরা সবাই বিএনপির সমর্থক। তারা একটি কমিটি গঠন করে তাদের চিহ্নিত করেছেন। যেহেতু তারা বিএনপির লোক সেহেতু তাদের মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য ওই চিঠি থানা পুলিশকে দিয়েছেন। স্থানীয় ভাবে তারা এটা করেছেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলের দিকে তিনি এই প্রতিবেদককে আরেকটি চিঠি পাঠান। যেটা দক্ষিণ সুরমা থানা বরাবর দেওয়া হয়েছে। সেখানেও দাবি করা হয়, আগের দেওয়া চিঠিটির স্বাক্ষর ও সিল জাল করা হয়েছে। দক্ষিণ ‍সুরমা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আসামিদের বাদ দিতে দলের পক্ষ থেকে এ রকম আবেদন করা আইনসম্মত নয়। আবেদনের প্রেক্ষিতেও আসামিদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

ভবিষ্যতে জামায়াত দেশ নিয়ন্ত্রণ করবে: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামী দল নিয়ন্ত্রণ করেছে, ভবিষ্যতে দেশ নিয়ন্ত্রণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রুকন সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘কোনো এক দলের বেগম পাড়া আছে, আবার কোনো দলের আছে পিসি পাড়া। তবে জামায়াতের এমন কোন পাড়া নেই। শুধু জীবন রক্ষার জন্য ভবিষ্যতে ইসলামি আন্দোলনের কেউ কখনও দেশ ছেড়ে যাবে না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ চাঁদাবাজদের কারণে পিছিয়ে পড়েছে। না হলে এতদিনে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে থাকত। রাজনীতিবিদদের উচিত দেশের জনগণের জন্য করা। এ লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘পৃথিবীর একমাত্র অসাম্প্রদায়িক ধর্ম ইসলাম। আমরা ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সবার সহযোগিতা চাই। জামায়াতের রাজনীতি হবে মানুষ ও মানবতার কল্যাণে। ইসলাম ও দেশপ্রেমিক সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে চাই আমরা।’

কম্বোডিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে: থাই প্রধানমন্ত্রী

থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ভেচায়াচাই সতর্ক করে বলেছেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে সংঘর্ষ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। কারণ পরপর দ্বিতীয় দিনে দুই দেশ প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংককে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যদি পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়, তাহলে এটি যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে। যদিও আপাতত এটি সীমিত সংঘর্ষের পর্যায়েই আছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া একে অপরের সীমান্তে ভারি কামান ও রকেট হামলা চালিয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার কয়েকটি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৪২৮ রোগীকে। দেশজুড়ে ৩০০টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাতে ১৪ বেসামরিক নাগরিক ও এক সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, আহত ৪৬ জনের মধ্যে ১৫ জন সেনা সদস্য।

ভারতে স্কুলের ছাদ ধসে নিহত ৭ শিশু

ভারতের রাজস্থানের ঝালাওয়ার জেলায় একটি সরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ৭ শিশু নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার মনোহর থানার পিপলোদি সরকারি স্কুলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছাদ ধসের ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একতলা ভবনের ছাদ ধসের সময় শিক্ষক ও কর্মচারী ছাড়াও প্রায় ৬০ জন শিশু সেখানে উপস্থিত ছিল। এনডিটিভি জানায়, ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল এবং এর আগেও এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগ জানানো হয়েছিল। স্কুলটিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। রাজস্থানের শিক্ষা সচিব কৃষ্ণ কুণাল জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং এই ঘটনায় ছয় শিশু নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হঠাৎ ছাদটি ধসে পড়ে। ধসের শব্দের পরে শিশুদের চিৎকার, ধুলো এবং ধ্বংসাবশেষ এলাকাটিকে গ্রাস করে। এ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এছাড়া কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের সকল সম্ভাব্য সহায়তা দিচ্ছে।

গোপালগঞ্জ সহিংসতায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আসকের

গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটা সহিংসতায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার ঘটনা নাগরিকের সভা সমাবেশের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করেছে। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি ।

আসক জানিয়েছে, চলতি জুলাই মাসের ২১ ও ২২ তারিখ তাদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করেছে। তথ্য সংগ্রহের সময় নিহত, আহত, আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া নাগরিকদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সাধারণ নাগরিক, পেশাজীবী, কারাগার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন আসক সদস্যরা।

সমাবেশের দিন ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আসক জানিয়েছে, ‘এনসিপির নেতৃবৃন্দ স্বল্প সংখ্যক সমর্থকদের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে কিছু আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়। এই মন্তব্যের পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ‘সাধারণ জনতা’ রাস্তায় নেমে আসে, একপর্যায়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’

আসকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এনসিপির সমাবেশের আগের দিন সমাবেশস্থলের আশপাশের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় স্থানীয় প্রশাসন। সমাবেশের দিনে সকাল থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থকেরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের হাতে লাঠি-সোটা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল।

আসক জানিয়েছে, ২১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় ১৮ জন শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অনেককে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার তানিয়া জামান ও এআইজি (প্রিজন) দেওয়ান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের বরাতে জানানো হয়েছে, এই ১৮ জনকে আদালতের আদেশে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আসক দাবি করেছে, গোপালগঞ্জ সদর থানায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। গোপালগঞ্জে দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার সাকিবের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি বলেও জানায় আসক।

বিমানবন্দরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাবি শিক্ষকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফেরার পথে চীনের কুনমিং বিমানবন্দরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফেরার পথে চীনের কুনমিং বিমানবন্দরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল ২৩ জুলাই মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে গত ১৭ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়া যান। গতকাল দেশে ফিরছিলেন তিনি।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের আকস্মিক মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক শোক বাণীতে তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম একজন নিরহংকার, সদালাপী ও সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন গুণী শিক্ষক ও গবেষককে হারালো। তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।