Home Blog Page 363

৫ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয়

০
বেসরকারি খাতের ৫টি ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি এসকে তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
৫ ব্যাংক হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।
উল্লেখ্য, দুর্বল পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সপ্তাহব্যাপী শুনানির আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর একীভূত করে গঠিত হতে যাওয়া ‘ব্রিজ ব্যাংক’-এর পক্ষে এখন পর্যন্ত সমর্থন জানিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। শুনানির শেষ ধাপে আজ (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এক্সিম ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় এখনই অংশ নিতে রাজি হয়নি। ব্যাংকটির পর্ষদ জানিয়েছে, তাদের অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন।

মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয়: রিজভী

০
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আজ আমরা নিজেরা দ্বিধাবিভক্ত। আমরা কারো মাজার ভাঙছি। কোনো লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছি। এটা তো রাসুলের শিক্ষা নয়।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আজ আমরা গণতন্ত্রের চেতনাই বলি, আমরা রাষ্ট্রীয় চেতনাই বলি– পৃথিবীর কাছে নিদর্শন দিয়ে গেছেন আরবের সেই মহামানব। আমরা সেখান থেকে শিক্ষা না নিয়ে আমরা নিজেদের যে ধর্ম, নিজেদের যে ইসলাম, সেটাকেই আমরা কত ফেরকা, কত ফিতা, কত ধরনের কথাবার্তা দিয়ে শুধু বিভাজন করছি। অথচ ঐক্যের প্রতীকই ছিলেন আমাদের মহানবী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ যে মহামানবকে নিয়ে এখানে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে, মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে, তার সম্পর্কে আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের বিস্তারিত বলা খুবই কঠিন ব্যাপার। এটা সম্ভব নয়। শুধু তার রেখে যাওয়া যে আদর্শ এবং তিনি আল্লাহর কাছ থেকে প্রাপ্ত যে বাণী সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন, ছড়াতে গিয়ে তিনি যে অনুপম নিদর্শন এবং তার ব্যক্তিগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তিনি রেখে গেছেন। যদি আমরা সামান্যতম অনুকরণ করতাম বা আমরা লালন করতাম তাহলে এই দেশ থেকে অন্যায়-অনাচার, কুপ্রবৃত্তি, পাপাচার, হানাহানি রক্তারক্তি সব বন্ধ হয়ে যেত।
তিনি বলেন, যিনি আমাদের মডেল, যিনি আমাদের আদর্শের প্রতীক, তাকে আমরা কেউ অনুসরণ করি না। তাকে আমরা কেউ অনুকরণ করি না। এটাই হলো মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আজ যে দেশে বাস করছি, সেই দেশের যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনিও মুসলমান ছিলেন, কাজে না হলেও নামে ছিলেন। একবার বলেছিলেন মদিনা চার্টার অনুযায়ী দেশ চালাবেন, সেটা আমরা কি দেখলাম– তার এক মন্ত্রীর ১৪০টা বাড়ি লন্ডনে, তার বাড়ি থাকার পরও তার ছেলেমেয়ের নামে পূর্বাচলে ৬০ কাঠা জায়গা।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের ওপর বিপদ আসে, আমরা দেশেই থাকি, আমাদের নেত্রী দেশেই থাকেন, মিথ্যা মামলায় পাঁচ-ছয় বছর তিনি নির্যাতনে কারাবন্দি অবস্থায় থাকেন, আমরা কোনো পন্থি দল নই, বাংলাদেশপন্থি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আপনারা কি পন্থি আপনারা নিজেরাই প্রমাণ করেছেন। ১৯৮১ সালের দেশে যখন ফিরলেন, জিয়াউর রহমান যখন আপনাকে ফেরার অনুমতি দিলেন, দেশে ফিরলেন কোন দেশ থেকে? আপনি এসেছিলেন, আবার ৫ আগস্টে কোন দেশে পালিয়ে গেলেন?  আপনাদের অধিকাংশ লোক কোন দেশে পালিয়ে গেছে? এটা জনগণ দেখেছে। এখনো দেখছি। আবার ওই দেশ থেকেই আমরা অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা শুনি যে তোমরা উল্টে দাও, পাল্টে দাও, কারো হাত ভেঙ্গে দাও, কারো পা ভেঙ্গে দাও, এটা কীভাবে সম্ভব।
তৌহিদী জনতার নামে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ একটি উদার নৈতিক দেশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বাস করে। এই দেশের পূজামণ্ডপ পাহারা দেয় আলেম-ওলামারা। সেই দেশে মাজার ভেঙে সেখানে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এটার আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবশ্যই এর পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো ষড়যন্ত্র আছে। বিএনপির আমলে চক্রান্ত করেছিলেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করার জন্য এখন আবার সেই প্রচেষ্টা চলছে কি না, এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।
মিলাদ মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু। এতে মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।

শিগগিরই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

০
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
এজেডএম জাহিদ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করা হবে। পতিত স্বৈরাচার পেছন দিক দিয়ে এসে জনগণের অধিকার হরণ করার পাঁয়তারা করছে। দেশের স্বাধীনতা এবং সাভৌমত্বে যারা বিশ্বাসী নয়, তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। এসময় সবাইকে চলমান ষড়যন্ত্র রুখতে চোখ-কান খোলা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পিআর পদ্ধতি বেআইনি আবদার। সংবিধান ইচ্ছে করলেই ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া যায় না। আবেগী না হয়ে জনআকাঙ্ক্ষা বুঝতে হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন না মোদী

০
এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক আগামী ২৩-২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ বক্তাদের আপডেট তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, এবার ভারতের হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বক্তব্য রাখবেন এস জয়শঙ্কর। এর আগে যে তালিকায় মোদীর নাম ছিল ২৬ সেপ্টেম্বর বক্তব্য রাখার জন্য, তা বদলানো হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন ও ইসরায়েলের সরকার প্রধানরা ২৬ সেপ্টেম্বর বক্তব্য রাখবেন।
মোদী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে সফর করেছিলেন ও তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাশিয়ার জ্বালানি কেনার কারণে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, যা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তাপের কারণ হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বক্তাদের তালিকা সবসময় অস্থায়ী থাকে, তাই অধিবেশনের শুরু পর্যন্ত এটি পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অধিবেশনের শুরুতে বক্তব্য রাখবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য দেশগুলোর নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
এদিকে এবারের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করতে পারে ফ্রান্স, কানাডা, বেলজিয়ামসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ। তবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ভিসা বাতিল করায় যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছে।

 

গরমে অস্বস্তি, বৃষ্টি নিয়ে যে সুখবর দিলো আবহাওয়া অফিস!

০
দেশের আট বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসময় তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মধ্য প্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

অনির্দিষ্টকালের গণছুটি ঘোষণা পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

০
পল্লী বিদ্যুতের সংস্কার, চাকরি বৈষম্য দূরীকরণ ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধের চার দফা দাবিতে রোববার থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের গণছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-দপ্তর সম্পাদক অঞ্জু রানী মালাকার।
তিনি বলেন, একাধিকবার কমিটি গঠনসহ সংকট সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখি আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই বাস্তবায়ন করেনি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি, বদলি, বরখাস্তসহ নানা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে হয়রানি করছে। এর ফলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ সময় অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ও বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত আদেশ বাতিল এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

চলতি সপ্তাহে ডেঙ্গুতে ১২ মৃত্যু, হাসপাতালে ২৯২৬

০

দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ কোনোভাবেই কমছে না। মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে (শনি-শুক্রবার) ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু এবং দুই হাজার ৯২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি। গত সপ্তাহে ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু এবং দুই হাজার ৫৮৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

গত সাত দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট কারও মৃত্যু না হলেও ৩৬৭ জন হাসপাতালে, ৩১ আগস্ট চারজনের মৃত্যু এবং ৫৬৮ জন হাসপাতালে, ১ সেপ্টেম্বর কারও মৃত্যু না হলেও ৫৫২ জন হাসপাতালে, ২ সেপ্টেম্বর তিনজনের মৃত্যু এবং ৪৭৩ জন হাসপাতালে, ৩ সেপ্টেম্বর দুইজনের মৃত্যু এবং ৪৪৫ জন হাসপাতালে, ৪ সেপ্টেম্বর তিনজনের মৃত্যু এবং ৩৬৩ জন হাসপাতালে, ৫ সেপ্টেম্বর কারও মৃত্যু না হলেও ১৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩১ হাজার ৭৯৪ জন। মারা গেছেন ১৩০ জন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার চালাতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।

সুরা মুহাম্মদের গুরুত্ব ও শিক্ষা

০

সুরা মুহাম্মদ পবিত্র কোরআনের ৪৭তম সুরা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর নামে অবতীর্ণ এ সুরাটি মদিনায় হিজরতের পর নাজিল হয়। যেহেতু এতে যুদ্ধসংক্রান্ত আলোচনা বেশি, তাই এর অপর নাম ‘কিতাল’। মূলত হিজরতের পরে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগমুহূর্তেই মুসলমানদের যুদ্ধসংক্রান্ত দিকনির্দেশনা এবং ঈমানের শিক্ষা দিতে এ সুরাটি অবতীর্ণ হয়েছিল।

সুরা মুহাম্মদে মুমিনদের জন্য রয়েছে জীবনদর্শন, সমাজসংস্কার ও আখেরাতের প্রস্তুতির অমূল্য দিকনির্দেশনা। এর প্রধান কিছু শিক্ষা বাংলাদেশের খবরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

১. ঈমানের আহ্বান ও কুফরির ক্ষতি

সুরার সূচনায় বলা হয়েছে, যারা কুফরি করে ও আল্লাহর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাদের সব কাজ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে এবং মুহাম্মদ (সা.)–এর ওপর নাজিলকৃত সত্যে বিশ্বাস স্থাপন করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো মুছে দেবেন এবং তাঁদের অবস্থা সংশোধন করবেন। (আয়াত ১-২)

২. সত্যের অনুসরণ

ঈমানের পর মুমিনের দায়িত্ব হলো সত্য দ্বীনের অনুসরণ করা। কোরআনে বলা হয়েছে, অবিশ্বাসীরা মিথ্যার অনুসরণ করে, আর মুমিনরা অনুসরণ করে প্রতিপালকের প্রেরিত সত্যের। (আয়াত ৩)

৩. আল্লাহর সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা

মুমিন যখন দ্বীনের পথে অটল থাকে, তখন আল্লাহর সাহায্যই তাকে স্থিতিশীল করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, আল্লাহও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থান দৃঢ় করবেন।’ (আয়াত ৭)

৪. কিয়ামতের নিকটবর্তীতা

মানুষের জন্য কিয়ামত অতি নিকটবর্তী। সেদিন প্রত্যেক বান্দা তার কর্মফল অনুযায়ী প্রতিদান পাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি শুধু এ জন্য অপেক্ষা করছে যে হঠাৎ তাদের কাছে কিয়ামত এসে পড়ুক? কিয়ামতের আলামত তো এসে পড়েছে। কিয়ামত চলে এলে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কিভাবে!’  (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত : ১৮)

৫. আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা

ক্ষমতা ও দুনিয়াবি লোভে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা নিন্দনীয়। আল্লাহ বলেন, ‘তাহলে ক্ষমতা পেলে কি তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে?’ (আয়াত ২২-২৩)

৬. কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা

আল্লাহ কোরআনকে মানবজীবনের দিকনির্দেশনা করেছেন। কিন্তু এর প্রকৃত শিক্ষা পেতে হলে চিন্তা-গবেষণা আবশ্যক। ‘তারা কি কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?’ (আয়াত ২৪)

৭. মুরতাদদের ভ্রান্ত ধারণা

মুসলমান ইসলাম ত্যাগ করলে তাকে মুরতাদ বলা হয়। তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আত্মপ্রবঞ্চনায় ভোগে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সৎপথ স্পষ্ট হওয়ার পরও যারা মুরতাদ হয়, শয়তান তাদের কাজ (নিজেদের কাছে) সুন্দর করে দেখায় এবং তাদের মিথ্যা আশা দেয়।’ (আয়াত : ২৫)

৮. মৃত্যুর সময় থেকেই শাস্তির সূচনা

যারা পৃথিবীতে আল্লাহর অবাধ্য, মৃত্যুর সময় থেকেই তাদের শাস্তি শুরু হয়। আল্লাহ বলেন, ‘ফেরেশতারা যখন তাদের মুখমণ্ডলে ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে প্রাণহরণ করবে, তখন তাদের দশা কেমন হবে?’ (আয়াত : ২৭)

৯. বিদ্বেষ লুকানো যায় না

অন্তরের বিদ্বেষ এমন, যা লুকিয়ে রাখা যায় না। ইরশাদ হয়েছে, ‘যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা কি মনে করে যে আল্লাহ কখনো তাদের মনের বিদ্বেষ প্রকাশ করে দেবেন না?’ (আয়াত : ২৯)

১০. অবিশ্বাস নিয়ে মৃত্যু ভয়াবহ

অবিশ্বাস নিয়ে মারা গেলে পরকালে শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ থাকে না। আল্লাহ বলেন, ‘যারা কুফরি করে এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করে, অতঃপর অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ তাদের কিছুতেই ক্ষমা করবেন না।’ (আয়াত : ৩৪)

১১. ধনসম্পদ ও দানশীলতা

এ সুরায় সম্পদ নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। ধন-সম্পদ আল্লাহর দান, যা মানুষের পরীক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়। মুমিনের দায়িত্ব হলো আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো। কৃপণতা আল্লাহর অপছন্দনীয়। নবীজি (সা.) নিজেও কৃপণতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। আল্লাহ বলেন, ‘দেখো, তোমাদেরই বলা হচ্ছে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে; অথচ তোমাদের অনেকেই কৃপণতা করছে।আল্লাহ অভাবমুক্ত, আর তোমরাই অভাবগ্রস্ত।’ (আয়াত ৩৮)

সুরা মুহাম্মদ মুমিনদের জন্য একদিকে যেমন ঈমান ও সৎকাজের শিক্ষা দেয়, অন্যদিকে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, সম্পদে দানশীলতা এবং আল্লাহর সাহায্যের ওপর ভরসার দিকনির্দেশনা দেয়। একই সঙ্গে অবিশ্বাসীদের পরিণতি এবং কিয়ামতের সতর্ক বার্তাও এ সুরায় বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুরা মুহাম্মদের আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন, আমিন।

না খেলে যেভাবে ১২ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছেন নেইমার!

০

ইউরোপ ছেড়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফিরেছেন ব্রাজিলের ছেলেবেলার ক্লাব সান্তোসে, কম বেতনে। ইঞ্জুরির কারণে আগের সেই ধার এখন আর নেই। ব্রাজিল জাতীয় দলেও খেলছেন না অনেকদিন হলো। তবে না খেললেও এখনো অন্য খাতে তার আয় কম নয় তার।

এক ব্রাজিলীয় কোটিপতি উইল করেছিলেন নেইমারের নামে। সম্প্রতি সেই ব্যক্তি মারা গেছেন। ফলে নেইমার তার পুরো সম্পত্তি পাবেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা! ব্রাজিলীয় মিডিয়ার খবর, গত ১২ জুন পোর্তো আলেগ্রের একটি অফিসে এই উইল করা হয় দুজন সাক্ষীর সামনে। এ বিষয়ে অবশ্য নেইমার এখনো কোনো বিবৃতি দেননি।

সব কিছু নিশ্চিত হলেও নেইমারের অর্থ পেতে সময় লাগবে। ব্রাজিলের আদালতে এ ব্যাপারে ছাড়পত্র পেতে হবে। যেখানে নেইমারকে প্রয়াত কোটিপতির একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসাবে ঘোষণা করা হবে। ওই ব্যক্তি ছিলেন অবিবাহিত ও নিঃসন্তান। তিনি নাকি নেইমারকে পছন্দ করতেন। সেজন্যই নিজের সব অর্থ নেইমারের জন্য লিখে রেখে গেছেন।

আর্থিক দিক থেকে ফুলেফেঁপে উঠলেও নেইমারের ফুটবল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ইদানীং। ২০২৪-২৫ মৌসুমের শেষদিকে সান্তোসে যোগ দিয়েছিলেন। ১৪ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র তিনটি গোল। চিলির বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচেও ব্রাজিল টিমে ডাক পাননি নেইমার।

সালমান শাহ্‌ : আজও ভক্তদের হৃদয়ে চির সবুজ ‌এক নায়ক

০

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে যদি কারও নাম রূপকথার মতো উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন সালমান শাহ্‌। নব্বই দশকের সেই উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি অল্প সময়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছিলেন।

আজ তার প্রয়াণ দিবসে আমরা স্মরণ করি এক কিংবদন্তিকে, যার জীবন ছিল স্বপ্নময়—কিন্তু শেষটা ছিল হঠাৎ নিভে যাওয়া প্রদীপের মতো।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেন চৌধুরী শাহরিয়ার ইমন। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ্‌ নামে।

১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে তিনি নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আর প্রথম ছবিতেই ঘটে যায় ইতিহাস। রোমান্টিক হিরো হিসেবে তিনি তরুণ-তরুণীদের মনে জায়গা করে নেন।

মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন মাত্র ২৭টি চলচ্চিত্রে। কিন্তু এই অল্প সময়েই তিনি হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার রাজপুত্র।

কারণ, সালমান শাহ্‌র সিনেমায় ছিল সতেজতা, স্টাইল আর আধুনিকতার ছোঁয়া। ছিলেন নব্বইয়ের দশকের ফ্যাশন আইকন। তার চোখের দৃষ্টি, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর গানগুলোর উপস্থাপনা দর্শককে মোহিত করত।

তখনকার তরুণ প্রজন্ম প্রেম, স্বপ্ন আর স্টাইলের প্রতীক হিসেবে তাকেই অনুসরণ করত।

‘সুজন সখী’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘প্রেমপিয়াসী, বিক্ষোভ’, ‘তুমি আমার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’—প্রতিটি ছবিই দর্শকের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের আকাশ থেকে যেন হঠাৎ করেই হারিয়ে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ্‌।

ঢাকার রাস্তায় তখন হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিল শুধু প্রিয় নায়কের একটুখানি দেখা পাওয়ার জন্য। কান্নায় ভেসেছিল গোটা জাতি।

তার মৃত্যু আজও রহস্যঘেরা, আজও ভক্তরা বিশ্বাস করতে চান না— তাদের প্রিয় নায়ক নেই।

আজ তার প্রয়াণ দিবসে প্রশ্নটা থেকেই যায়—

যদি তিনি বেঁচে থাকতেন? বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হয়তো পেত ভিন্ন এক গতিপথ, ভিন্ন এক স্বর্ণযুগ। কিন্তু সালমান শাহ্‌ চলে গেলেও তিনি রয়ে গেছেন ভক্তদের হৃদয়ে।

প্রতিটি সংলাপে, প্রতিটি গানে, প্রতিটি হাসিতে—  আজও তিনি বেঁচে আছেন। সালমান শাহ্‌ ছিলেন শুধু একজন নায়ক নন— তিনি ছিলেন এক যুগের স্বপ্ন, এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

তার মৃত্যু হঠাৎ করেই আমাদের কাঁদিয়েছে, কিন্তু তার স্মৃতি, তার সিনেমা, তার ভালোবাসা আজও আমাদের সঙ্গে আছে।

এই প্রয়াণ দিবসে আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি।

সালমান শাহ্‌— আপনি নেই, কিন্তু আপনার নাম চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।