Home Blog Page 364

নেতানিয়াহুকে ‘হিটলারের আত্মীয়’ আখ্যা দিলেন এরদোয়ান

০
দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে হিটলারের পরিবারের সদস্য হিসেবে অভিহিত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
গত সপ্তাহে কাতারের রাজদানী দোহায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের আলোচকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তার্কিস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “আদর্শিকভাবে নেতানিয়াহু হিটলারের আত্মীয়ের মতো।”
জার্মানির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নাৎসি বাহিনীর প্রধান এডলফ হিটলার ইহুদিদের ওপর ব্যাপক দমন-নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। হাজার হাজার ইহুদিকে হত্যা করায় তাকে বিশ্বব্যাপী এখন ঘৃণার চোখে দেখা হয়।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল একইরমকভাবে বর্বরতা চালানোয় যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুকে এর আগে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন এরদোয়ান।
এছাড়া ইসরায়েলি সরকারকের ‘খুনি নেটওয়ার্ক’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন তিনি।
কাতারের রাজধানী দোহায় আরব-ইসলামিক নেতাদের জরুরি সম্মেলন শেষে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরেছেন এরদোয়ান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
চলতি মাসের ২২ তারিখ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। এ ব্যাপারে এরদোয়ান বলেন, “আমি আশা করি ফিলিস্তিনের জন্য মানবিকতার জোট বিস্তৃত সমর্থন পাবে।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পুনরায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইস্যুটি উত্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।

সাড়ে সাতশ বছরের পুরোনো মসজিদ ধ্বংস করে দিলো ইসরায়েল

০
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার গাজা সিটির তুফফা এলাকার একটি পুরোনো মসজিদে বোমা হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। ১৩ শতকের শেষ দিকে মসজিদটি তৈরি করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চালানো এ হামলায় মসজিদটির মিনার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
বার্তাসংস্থা টিআরটি জানিয়েছে, ১৩ শতকে মামলুকরা মসজিদটি তৈরি করে।
এটি গাজায় আয়বাকি মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। গাজার মানুষের কাছে এটি  ছিল একটি গৌরবের প্রতীক।
মামলুকরা ছিল মিসরের ১২ শতকের শাসক। তারা বর্তমান গাজা সিটিতে মসজিদটি তৈরি করে।
এটি মুসলিম নেতা শেখ আব্দুল্লাহ আল-আয়বাকির নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তিনি মিসরের মামলুক সুলতানি শাসনের প্রথম সুলতান ইজ আল-দ্বীন আয়বেকের আত্মীয় ছিলেন।
২০২৩ সালে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। গত দুই বছরে গাজার বহু পুরাকীর্তি ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল।
তারা নতুন করে এখন গাজা সিটিতে হামলা শুরু করেছে। সেখানে থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৫ লাখ মানুষ সরে গেলেও; অনেক মানুষ রয়ে গেছেন।
সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে ইসরায়েলি সেনারা বাড়িঘর থেকে শুরু করে সবকিছুতে হামলা চালাচ্ছে।
গতকাল জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি এ উপত্যকায় বর্বরতা অব্যাহত রেখেছে তারা।
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২ লাখ মানুষ।

মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপার বড়ুরিয়া গ্রাম

০

গ্রামের পর গ্রাম নদী ভাঙনের গর্জন। গ্রামবাসির কপালে চিন্তার ভাজ। কখন যেন সর্বনাশী গড়াই কেড়ে নেয় শেষ সম্বল ভিটেবাড়ি। সাম্প্রাতিক সময়ে তীব্র নদী ভঙনে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম বিলীন হতে চলেছে। ইতিমধ্যে গ্রামের মানুষ তাদের মাঠের ফসলী জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। প্রাই প্রতি বছরই মানচিত্র থেকে মুছে যেতে থাকে ভিটেবাড়িসহ ফসলি জমি। নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়ুরিয়া, কৃষ্ণনগর, হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা এবং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, মাজদিয়া ও উলুবাড়িয়া গ্রাম। প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে গড়াই নদীভাঙনের কবলে পড়ে বদলে গেছে নদীর গতিপথ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বড়ুরিয়া, কৃষ্ণনগর, খুলুমবাড়ি, মাদলা, কাশিনাথপুর ও লাঙ্গলবাঁধ। ভিটেবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন পাউবোর প্রধান সেচ খালের কাছে।

সরোজিমনে নদী ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ আতংকে বসবাস করছেন। নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। পাট, কলা ক্ষেত ও মরিচের জমিসহ ভাঙতে শুরু করেছে ফসলী জমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও ব্যাগও শ্রোতের তীব্রতায় ভেসে যাচ্ছে। অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছেড়েছেন। গড়াই নদীর ভাঙ্গনে ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে গ্রামের মানচিত্র।

শৈলকুপা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শৈলকুপায় গড়াই নদীর বহমান অংশ ২০ কিলোমিটার। যার মধ্যে বড়ুরিয়া গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহমান দেড় কিলোমিটার. কৃষ্ণনগর এক কিলোমিটার, গোসাইডাঙ্গা পাঁচ’শ মিটার, মাদলা এলাকায় দেড় কিলোমিটার, মাঝদিয়া গ্রামে এক কিলোমিটার এবং লাঙ্গলবাধ এলাকায় পাঁচ’শ মিটার ভাঙ্গনপ্রবন। তবে বড়ুরিয়া গ্রামের দেড় কিলোমিটার অংশে বেশী ভাঙ্গন তীব্রতা দেখা দিয়েছে।

তথ্য জানা যায়, গড়াই নদীর ওপারে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গনেশপুর আদর্শ গ্রাম। এপারের জমি ভেঙে ওপাশে জেগে ওঠা চরের জমিতে কুষ্টিয়ার মানুষ শৈলকুপার কোন মানুষকে যেতে দেয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আবার এখন পর্যন্ত চর উদ্ধারেও কেউ ব্যবস্থা নেয় না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ২০১৯ ও ২০২১ সালে ডিপিপি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। চলতি বছরে গড়াইয়ের ভাঙন রোধে অস্থায়ী ভিত্তিতে সমীক্ষা কাজের আওতায় ১৭৫ কেজি ওজনের বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পহেলা মে থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৬ সালের জুন মাসে। ১৭ কোটি টাকা’র এই প্রকল্পিটি বাস্তবায়িত হবে চার ধাপে।

বড়ুরিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর ইসলাম  জানান, তার ১০ বিঘা ফসলী জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। নদীর ভাঙন যেভাবে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে তাতে ভিটেবাড়িও ঠেকাতে পারবো না।

বড়ুরিয়া গ্রামের খলিলুর রহমান জানান, ১৯৬২ সালের পর থেকে নদী ভাঙন শুরু হলেও গত ২০ বছরে তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুন। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী বড়ুরিয়া মৌজায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ছিল ১৪ শ’ ৫৭ বিঘা। আর খাস জমি আছে ১৪৩ বিঘা। নদী ভঙনের ফলে এখন জমির পরিমাণ দাড়িয়েছে গড়ে ২ শ’ ৫০ বিঘায়। গ্রামটিতে বসবাস করতেন ৭ শত পরিবার, কিন্তু এখন বসবাস করেন ২ শত পরিবার। বাকী ৫ শত পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।

বড়ুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুন্দরী খাতুন বলেন, আমাদের প্রায় ৩০ বিঘা জমি ছিল, এখন তা ১০ বিঘায় দাড়িয়েছে। একই গ্রামের বাসিন্দা মনি মোল্লা বলেন, বড়ুয়া গ্রামের প্রায় ১৪ শ’ বিঘা জমি চলে গেছে কুষ্টিয়ার অংশে।

তিনি আরো জানান, এপাশ থেকে ভেঙে নদীর ওপারে চর জেগে উঠেছে। সেখানে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মানুষ জবরদখল করে খাচ্ছে। প্রশাসনের কেউ উদ্যোগ নেয়না এই জমি উদ্ধারে। ফলে ক্রমেই গ্রামের মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস  বলেন, বর্তমানে বর্ষার শুরুতে ভাঙ্গন রোধে অস্থায়ী সমীক্ষা কাজ চলমান আছে। জরুরী ভিত্তিতে ১৭ কোটি টাকার জিও ব্যাগ ফেলা কাজ চলমান আছে। আগামী ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত কাজটি চলবে। এরপর স্থায়ী কাজ করা হবে বরাদ্দের ভিত্তিতে। নদীর এই অংশটুকু অবতল হওয়াতে পানির চাপ বৃদ্ধিতে পলি সরে ভাঙ্গন দেখা দেয়।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল  বলেন, শৈলকুপা অংশ ভেঙে নদীর ওপারে কুষ্টিয়া অংশে জেগে ওঠা চরের জমি উদ্ধার ও সেখানে যেন শৈলকুপার মানুষ চাষাবাদ করতে পারে সে বিষয়ে উদ্দোগ গ্রহন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য দপ্তরের সম্মিলিত বৈঠকের পর জরিপ করে সীমানা নির্ধারনের জন্য সরকারের জরিপ অধিদপ্তরে পত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায় দ্রুতই বিধিসম্মত ভাবে নদী পাড়ের সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ফখরুলসহ ৪ রাজনীতিবিদ

০
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তিনি সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
এ সফরে তার সঙ্গে থাকবেন চারজন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। তারা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির আখতার হোসাইন।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি জানান, এবারই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ মহাসচিবের সভাপতিত্বে রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি বিশ্বদরবারে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি, ঐকমত্যের ভিত্তিতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, দেশের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এবারে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হচ্ছেন চারজন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে আগামী ২ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরবেন।

‘আন্টি’ নয়, ছেলের বন্ধুরা আমাকে ‘দিদি’ বলে ডাকে: শ্রাবন্তী

০

কৈশোরে সংসার শুরু করেন টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। মাত্র ১৬ বছর মা হন তিনি। বলতে গেলে সন্তান ঝিনুক আর তিনি প্রায় এক সঙ্গেই বেড়ে উঠেছেন। মা-ছেলের বোঝাপড়াটাও বন্ধুর মতো। ঝিনুকের বন্ধুরাও তাকে আন্টির বদলে দিদি ডাকে।

সম্প্রতি আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেমা, ব্যক্তিগত জীবনসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

শ্রাবন্তীর ভাষ্য, তখন আমি দশম শ্রেণি। ‘চ্যাম্পিয়ন’ মুক্তি পেয়েছিল। তার পরের বছর, মানে ক্লাস ইলেভেনে আমার ছেলে হয়। অনেকে এটা শুনে আমায় বলবে ‘ইঁচড়ে পাকা’!

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার কটাক্ষের শিকার হয়েছেন, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। কীভাবে সামলেছেন?

শ্রাবন্তী বলেন, ‘না, এখন আর গায়ে মাখি না। আর আমার মনে হয়, ছোট বয়সে মা হওয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন ঝিনুক হওয়ার পাঁচ বছর পরে আবার আমি কাজে ফিরি। তখন আমার মাত্র ২১ বছর বয়স। তবে এটা সত্যি, ১৬ বছরটা মা হওয়ার জন্য খুবই কম বয়স। ওটা বাড়াবাড়ি।’

অভিনেত্রী জানান, সিনেমায় অভিনয়ের আগে চিত্রনাট্য নিয়ে ছেলের সঙ্গে কথা বলেন। তার ভাষ্যে, দেবী চৌধুরাণীর চিত্রনাট্য যখন এসেছিল, সবার প্রথমে ওকে আমি শুনিয়েছিলাম। বেশ অবাকই হয়েছিল। আসলে আমরা মা-ছেলের থেকে বেশি বন্ধু। মাত্র তো ১৬ বছরের পার্থক্য! ছেলের বন্ধুরা তো আমারই বন্ধু! দুয়েকজন ছাড়া আর কেউ ‘আন্টি’ বলে না। আমি ওদের সবার দিদি।

সাক্ষাৎকারে শ্রাবন্তী কথা বলেন জেন-জিদের প্রসঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘ছেলে এবং ওর বন্ধুদের সঙ্গে মিশি তো। তাই লিঙ্গসাম্য নিয়ে ওদের সচেতনতা, ওদের ভাষা সহজেই বুঝতে পারি। আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এত বাড়বাড়ন্ত তো ছিল না। কত পোর্টাল তৈরি হয়েছে, যা পারে তাই লিখে দেয়। তাই নতুনদের বলতে চাই, প্রথম কাজ ভালো না হলে পরেরটা যাতে ভালো হয়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। অন্য কোনো কিছু নিয়ে মন খারাপ যেন না করে।’

ক্রীড়া কর্মসূচি প্রকল্পে বরাদ্দের টাকা বেহাত, দুদকের অভিযান

০

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ক্রীড়া পরিদপ্তর কর্তৃক বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ক্রীড়া পরিদপ্তরে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালিয়েছেন বলে সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের প্রতিটি জেলায় এ প্রকল্পে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিভাগীয় আটটি জেলায় বরাদ্দ ছিল আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে। কিন্তু কোনো খরচ না করে বরাদ্দকৃত টাকাগুলো ভাগ করে নেওয়া হয় কর্মকর্তাদের মধ্যে।

এ বিষয়ে ক্রীড়া পরিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আ ন ম তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত চালমান রয়েছেও বলে জানা গেছে। দুদক টিম প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

আফগানদের হারিয়ে টিকে রইল বাংলাদেশ

০

এশিয়া কাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৮ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের করা ১৫৪ রানের পিছনে তাড়া করতে গিয়ে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস। এখন ২ জয়ে বাংলাদেশের ৪ পয়েন্ট।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফগান-শ্রীলংকার খেলার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে লিটনদের। শ্রীলংকা জিতলে বাংলাদেশের সুপার ফোর নিশ্চিত হবে। আর আফগানরা জিতলে তখন রান রেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে প্রথম ওভারের প্রথম বলেই আফগানরা অতলের উইকেট হারায়। নাসুমের বলে লেগ বিফোর হয়ে তিনি ফিরে যান। ১৮ রানে ফিরে যান জাদরান ৫ রান করে। তাকেও লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাসুম। দলীয় ৫১ রানে রিশাদ নিজ বলে ক্যাচ নিয়ে নাইবকে (১৪ বলে ১৬) সাজঘরে পাঠান। ১১ রানের ব্যবধানে উইকেটরক্ষক গুরবাজও রিশাদের বলে জাকের আলীর হাতে কাটা পড়লে স্বস্তি ফিরে টাইগার ক্যাম্পে। ১৫ বলে ১৫ রান করা চৌকস তারকা মো. নবীকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। তখন স্কোর বোর্ডে রান উঠে ৫ উইকেটে ৭৭। ওমরজাই মারকুটে ব্যাট চালিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। ১০৯ রানে ১৬ বলে ৩০ রান করা এ ব্যাটারকে তাসকিন শিকার করেন। ১২৪ রানে জানাত সোহানের হাতে রান আউট হওয়ার সময় দলীয় রান ছিল ১২৪।

এরপর মুস্তাফিজ পরপর দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথ সুগম করেন। ১৪৬ রানে অল আউট হয় আফগানিস্তান। মুস্তাফিজ ২৮ রানে ৩, নাসুম ১১, তাসকিন ৩৪ ও েিশাদ ১৮ রানে ২টি করে উইকেট নেন। সাইফ হাসান ৩ ওভারে দেন ৩৯ রান। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাট করতে গিয়ে প্রথম ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৯ রান তুলে। এরপরই শুরু ব্যাটিং ধ্বস। ২০ ওভার শেষে ১৫৪ রানে থামলো বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে ৩১ বলে ৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তানজিদ হাসান তামিম।

চার পরিবর্তন নিয়ে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়ে সুযোগ পাওয়া সাইফ হাসান করেছেন দারুণ ব্যাটিং। তানজিদ তামিমকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তিনি। তাতেই পাওয়ারপ্লেতে ৫৯ রান তোলে বাংলাদেশ। ১২ ম্যাচ পর ওপেনিং জুটিতে পঞ্চাশের ওপরে রান দেখলো বাংলাদেশ। সাইফকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন রশিদ খান। ২ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ২৮ বলে ৩০ রান করেন সাইফ। তবে ঠিকই ফিফটি তুলে নিয়েছেন তানজিদ তামিম। ২৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তরুণ এ ব্যাটার। তবে এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ৩১ বলে ৫২ রান করে ফেরেন তানজিদ তামিম।

তিনে নামা লিটন দাস এদিন ভালো করতে পারেননি। অধিনায়কের ব্যাট থেকে এসেছে ১১ বলে ৯ রান। শামীম হোসেন পাটোয়ারী প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১ বলে ১১ রান। তাওহীদ হৃদয়ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারেননি। ২০ বলে করেছেন ২৬ রান। জাকের আলী করেছেন হতাশ। ১৩ বলে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ৬ বলে অপরাজিত ১২ রানের ক্যামিও খেলেছেন নুরুল হাসান সোহান। আফগানিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নুর আহমেদ ও রশিদ খান।

৪১ শতাংশ মাশুল বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে

০

চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সেবা খাতে ট্যারিফ (মাশুল) বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। প্রায় ৪০ বছর পর রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নতুন ট্যারিফের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। মাশুল বাড়ায় ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবমিলিয়ে এবার গড়ে ট্যারিফ বেড়েছে ৩৫ থেকে ৪১ শতাংশের মতো। তবে বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমান সময়ে ট্যারিফ বাড়ানোর বিষয়টি উদ্বেগের।

চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৫২টি খাতে মাশুল আদায় করা হয়। সেখান থেকে ২৩টি খাতে সরাসরি বর্ধিত হারে ট্যারিফ আদায় অনুমোদন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বন্দর ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য ভাড়া, টোল, রেইল, ফি ও মাশুলের ক্ষেত্রে নতুন ট্যারিফ তফসিল কার্যকর হয়েছে। মাশুলের ক্ষেত্রে ডলারপ্রতি বিনিময়মূল্য ধরা হয়েছে ১২২ টাকা। ডলারের বিনিময়মূল্য বাড়লে মাশুলও বাড়বে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ডলার হিসেবে মাশুল আদায় করে।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, সবচেয়ে বেশি মাশুল বেড়েছে কনটেইনার পরিবহন খাতে। প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা কনটেইনারে ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা থেকে ৪ হাজার ৩৯৫ টাকা বেড়ে নতুন মাশুল দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা। এ হিসেবে প্রতি কনটেইনারে মাশুল বেড়েছে গড়ে ৩৭ শতাংশ।

আবার কনটেইনারবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে আমদানি কনটেইনারের জন্য ৫ হাজার ৭২০ টাকা ও রপ্তানি কনটেইনারের জন্য ৩ হাজার ৪৫ টাকা মাশুল বেড়েছে। প্রতিটি কনটেইনার ওঠানামার ক্ষেত্রে মাশুল বাড়ানো হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। কনটেইনারের প্রতি কেজি পণ্যের জন্য মাশুল আগের ১ টাকা ২৮ পয়সার সঙ্গে আরও ৪৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। সার্বিকভাবে শুধু ওঠানামাসহ কনটেইনার পরিবহন খাতেই মাশুল বেড়েছে ২৫ থেকে ৪১ শতাংশ।

১৯৮৬ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সেবা খাতে ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছিল। প্রায় ৪০ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘এই মুহূর্তে ট্যারিফ বাড়ানো উচিত হয়নি। বন্দর যখন ট্যারিফ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল, তখন আমরা আপত্তি করেছিলাম। আর যদি বাড়াতেই হয় তাহলে যেন সেটা ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়, সেটা বলেছিলাম। কিন্তু এখন ৪১ শতাংশ হারে ট্যারিফ কার্যকর করা হয়েছে। বন্দরের উচ্চহারের ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা পর্যায়ে চাপ বাড়াবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘ট্যারিফ বাড়ানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেবা খাতের ওপর ভিত্তি করে ট্যারিফ বেড়েছে ৩৫ থেকে ৪১ শতাংশের মতো। এই ট্যারিফ সোমবার থেকে কার্যকরের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বন্দরের বিভিন্ন সফটওয়্যার ও সিস্টেমে আপডেট করার কাজ চলছে, যা শেষ করতে সময় লাগবে। সিস্টেম আপডেট করার কাজ শেষে পুরোপুরি ট্যারিফ আদায় করা হবে।’

দেশে আমদানি-রপ্তানিকেন্দ্রিক সমুদ্র বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনের ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে, সবচেয়ে বেশি ট্যারিফ বেড়েছে কনটেইনার পরিবহন খাতে।

২৬৬ কোটি টাকার ফাঁকিতে চাকরিচ্যুত কর কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ও মাসুদ!

০

বড় অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে একটি কোম্পানির প্রযোজ্য ২৯৯ কোটি টাকার আয়কর কমিয়ে ৩৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করে চাকরি হারালেন কর অঞ্চল-১৬ এর যুগ্ম কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।

জোবাইদা করিম জুট মিলস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটির ২৬৬ কোটি টাকা কর কমাতে তারা ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পৃথক আদেশে মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তৎকালীন উপকর কমিশনার, বর্তমানে যুগ্ম কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা পৃথক আদেশ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

চাকরি হারানোর পেছনের গল্প খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে তাদের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত। এনবিআরের গোয়েন্দা প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কোম্পানি থেকে ঘুষ নিয়ে রাষ্ট্রের ২৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির চেষ্টা করেছেন তারা। তারা দুজন স্বীকারও করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সফল হননি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মো. জাহাঙ্গীর আলম উপকর কমিশনার হিসেবে বিভাগীয় পদোন্নতিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা। তিনি ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর কর অঞ্চল-১, চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে কর অঞ্চল-১৮, ঢাকায় উপকর কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। চলতি বছরের ৭ জুলাই উপকর কমিশনার থেকে যুগ্ম কর কমিশনার হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন। ১০ জুলাই তাকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৮ হতে কর অঞ্চল-১৬ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-৪ এ বদলি করা হয়েছিল। আর চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর কর অঞ্চলেরর পরিদর্শী রেঞ্জ-৩ এ বদলি করা হয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার বা ইএসিটি মোহাম্মদ মাসুদুর

গোয়েন্দা প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কর অঞ্চল-১৮ এর আওতাধীন করদাতা প্রতিষ্ঠান জোবাইদা করিম জুট মিলস লিমিটেড। করিম গ্রুপের পাটজাত পণ্য রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানটি দুই করবর্ষের ২৯৯ কোটি টাকার কর নির্ধারণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালে গেলে ট্রাইব্যুনাল কর রিভাইজ করার নির্দেশনা দিয়ে ওই কর অঞ্চলে পাঠায়। উপকর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনিই প্রতিষ্ঠানটিকে কর কমিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩০ লাখ টাকা ঘুস নেন। প্রক্রিয়ার মধ্যেই চলতি বছরের ৭ জুলাই তিনি যুগ্ম কর কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে যান।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরই ইএসিটি মাসুদুর রহমানকে ম্যানেজ করেন। পদোন্নতি পেয়ে বদলির অজুহাত দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে অর্ডারশিট মাসুদুর রহমানকে দিয়ে তৈরি করান। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অমান্য করে রিভাইজ না করে উল্টো জাহাঙ্গীর আলম কোম্পানির সঙ্গে ঘুষের দফারফা করে ২৯৯ কোটি টাকার কর ৩৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করেন। কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি ওই কর অঞ্চলের রেঞ্জ বা কমিশনারের অনুমোদনও নেননি বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রমাণ পেয়েছেন।

তারা দেখতে পেয়েছেন, মাসুদকে দিয়ে অর্ডারশিট তৈরি করে মাত্র দুইদিনের মধ্যে রেঞ্জ বা কমিশনারের অনুমোদন ছাড়াই ব্যাক ডেটে সই করে কোম্পানিকে ২৬৬ কোটি টাকার কর কমিয়ে দেন। বিনিময়ে তিনি কোম্পানি থেকে ৩০ লাখ ও ইএসিটি মাসুদুর রহমান ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। যা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে জাহাঙ্গীর স্বীকার করেছেন। তবে মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ঘুস নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, জাহাঙ্গীর আলমের অনুরোধে তিনি অর্ডারশীট তৈরি করেছেন। এর বাইরে কিছু জানেন না।

বিষয়টি ঢাকা কর অঞ্চল-১৮ এর রেঞ্জ ও কমিশনারের নজরে আসে। একইসঙ্গে এনবিআরের নজরেও আসে। পরে করদাতা কোম্পানির ফাইল এনবিআরে নিয়ে আসা হয়। যাচাই শেষে ঘুষের বিনিময়ে কর ২৬৬ কোটি টাকা কমিয়ে দেওয়া, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অমান্য, একজনের অর্ডারশিট আরেকজন তৈরি, রেঞ্জ ও কমিশনারের অনুমোদন না নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পায় এনবিআরের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। পরে যুগ্ম কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুইজনই ঘুষের বিনিময়ে অনিয়ম ও কর কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

এর মধ্যে ইএসিটি মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। যুগ্ম কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে শাস্তি হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর অঞ্চল-১৬, ঢাকার যুগ্ম কর কমিশনার (বর্তমানে কর অঞ্চল নোয়াখালীর পরিদর্শী রেঞ্জ-৩) মো. জাহাঙ্গীর আলম এর চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকার জনস্বার্থে তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে। সেজন্য সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হলো।

অপরদিকে ইএসিটি মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানেরর সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, কর অঞ্চল ফরিদপুরের অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি সংক্রান্ত কাজে সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেজন্য মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ১২ অনুযায়ী চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

কিছু আসনের লোভে পিআর চাইলে জাতীয় জীবনে ভয়ংকর পরিণতি আসবে: সালাহউদ্দিন

০
কিছু আসন বেশি পাওয়ার লোভে কেউ সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চাইলে জাতীয় জীবনের জন্য ভয়ংকর পরিণতি নিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসায় সমসাময়িক ইস্যুতে কথা বলার সময় সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা একটা পরীক্ষিত পদ্ধতি। তার বাইরে কেউ যদি রাজনৈতিক স্বার্থে অথবা কিছু আসন বেশি পাওয়ার লোভে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়, সেটা জাতীয় জীবনের জন্য একটা ভয়ংকর পরিণতি নিয়ে আসবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের সূচিতে নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব না থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেউ আন্দোলনে নামলে রাজনৈতিকভাবেই তা মোকাবেলা করবে বিএনপি।’
জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল নিষিদ্ধের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পরিণাম ভবিষ্যতে ভয়ংকর চর্চায় রূপ নেবে। নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করতে গেলে স্বৈরাচারের সঙ্গে যুক্ত ২৮টি দলকে নিষিদ্ধ করতে হবে। নির্বাচন কাদের নিয়ে হবে? এটার উদ্দেশ্য এমন হতে পারে যে নিজেদের অতিরিক্ত সুবিধা নিতে আন্দোলনকারীরা আরো দলের নিষিদ্ধের দাবি জানাতে পারে। এতে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হবে। এ সূত্র ধরে পতিত শক্তি সুযোগ নেবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ চায় না বিএনপি। বরং এ বিষয়ে বিচারপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করা উচিত।’
সঠিক সময় নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীল সরকার গঠন করলে না পারলে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তাও হুমকিতে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
বৈধ প্রক্রিয়ায় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন হবে, এমন প্রস্তাবে বিএনপির সমর্থন থাকবে বলেও জানান দলটির জ্যেষ্ঠ এ নেতা। তবে এমন কোনো প্রক্রিয়াকে বিএনপি উৎসাহিত করবে না, যেই বিধান ভবিষ্যতে দেশে অরাজকতা তৈরি করবে। আলোচনার টেবিলে যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব, সে কথা বলেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।