Home Blog

মেঘনায় জেলেদের ধাওয়া, ডুবে গেল নৌ-পুলিশের স্পিডবোট

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানের সময় জেলেদের ধাওয়ার মুখে উল্টে মেঘনা নদীতে ডুবে গেছে নৌ-পুলিশের একটি স্পিডবোট। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে স্পিডবোটে থাকা পুলিশের একটি শটগান এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

সোমবার সকালে ষাটনলের ছটাকি লঞ্চঘাট থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে। চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমগীর হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে জানান, মা ইলিশ রক্ষায় দুটি স্পিডবোট নিয়ে নদীতে টহল দিচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা জেলেরা দলবদ্ধভাবে স্পিডবোট দুটিকে ধাওয়া করেন। পুলিশ সদস্যরা নিরাপদে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে একটি স্পিডবোট উল্টে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, স্পিডবোটটিতে থাকা ১০ জন সদস্য সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। পরে ডুবে যাওয়া স্পিডবোটটি উদ্ধার করা হয়। তবে সেটিতে থাকা একটি শটগান নদীতে ডুবে যায়। শটগানটি উদ্ধারে নৌ-পুলিশ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা কাজ করছেন।

এদিকে মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের নদী এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের পরামর্শক্রমে জেলা টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন।

গত ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ২২ দিনের জন্য ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

ভারতকে হারিয়ে লিজেন্ডস লিগে বাংলাদেশের প্রথম জয়

০

ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। তবে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্সে ভারত চ্যাম্পিয়ন্সকে ৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে দলটি। বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। মাত্র ১২ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ভারত চ্যাম্পিয়ন্স। শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দলীয় ৩০ রানে ৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন ইমরুল কায়েস। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ওপেনার রনি তালুকদার। ২৫ বলে ৪০ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। শেষ দিকে নাসির হোসেনের ২১ বলে ২৪ এবং আরাফাত সানির ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান তোলে বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন পীয়ূষ চাওলা।

১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৫৫ রানের মধ্যেই ৫ ব্যাটারকে হারায় যুবরাজ সিংয়ের দল। ঋষি ধাওয়ান ১৮ বলে ২৪ রান করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। শেষ দিকে পবন নেগি ও পীয়ূষ চাওলার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি ভারত।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন এনামুল হক জুনিয়র। তিন ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। পেসার আবু জায়েদ রাহী নেন ২ উইকেট। বোলারদের নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

এএফসি চ্যালেঞ্জ স্বপ্ন আর বাস্তবতায় ফর্টিস এফসি

০

এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো ক্লাব এএফসির প্রতিযোগিতায় খেলছে না। ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের জন্য বিশেষ কিছু। ভাগ্যগুণে সুযোগ পাওয়ার পর বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে করপোরেট এ ক্লাবটি এখন এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে। কুয়েতে অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগামীকাল ঢাকা ছাড়ার কথা ফর্টিস এফসির।

তার আগে গতকাল ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের স্বপ্ন আর বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন ক্লাবটির কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার, ‘আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে এগিয়ে যেতে চাই। গ্রুপ পর্ব পেরোনো কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। স্বাগতিক কাদসিয়া সবচেয়ে কঠিন দল। অন্য দুটি দলও কম নয়। আমার মনে হয়, সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভালো কিছু সম্ভব।’

১৭ অক্টোবর স্বাগতিক কাদসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। গ্রুপের অন্য দুই দল ভারতের এফসি গোয়া ও তাজিকিস্তানের এফসি রেগার তাদাজ।

জাপান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও গাম্বিয়ার খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ফর্টিসের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পাবে দলটি। এ ছাড়া সেরা রানার্সআপ হিসেবেও পরের পর্বে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুয়েতে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক পা ওমর বাবুও। টানা পাঁচ মৌসুম ধরে ফর্টিসের হয়ে খেলছেন তিনি। চ্যালেঞ্জ লিগে ভালো করার প্রত্যয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন এই ফুটবলার, ‘আগে বাফুফে থেকে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলার প্রস্তাব আসতে হবে। এরপর আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব। তবে আমি ইতিবাচক আছি। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগেও ভালো খেলতে চাই।’

ঢাকায় প্লে-অফ ম্যাচে ফর্টিসের একমাত্র গোলদাতা মোহাম্মদ ইব্রাহিমও কুয়েতে গোল করতে চান। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘ঢাকার ম্যাচের মতো কুয়েতেও সুযোগ পেলে গোল করতে চাই, করাতেও চাই। দল যেন ভালো করতে পারে, সেদিকেই আমার দৃষ্টি।’

পোশাক রপ্তানিতে জাপানে আশা, হতাশা ভারতে

০

তৈরি পোশাকের অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বহুদিন ধরে। তবে এই প্রচেষ্টা খুব বেশি কাজে আসেনি। প্রচলিত বাজারের চেয়ে এসব বাজারে রপ্তানি খুব একটা বাড়েনি। অবশ্য চলতি ২০২৬-২৭ ‍অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চিত্রটি বেশ ভালো। অন্য সব বাজারের চেয়ে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে বেশি হারে। এই শ্রেণির প্রধান ১৫টি বাজারের মধ্যে ১০টিতে রপ্তানি বেড়েছে গেল প্রান্তিকে। এর মধ্যে এশিয়ার আলোচিত ও বড় বাজার চীন ও জাপানে রপ্তানির বাড়ার গতি বেশ ভালো। তবে রপ্তানি কমেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান গন্তব্য জাপান। বাংলাদেশের অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারের একমাত্র বাজার দেশটি। গত অর্থবছরে জাপানে রপ্তানি হয়েছে ১৩০ কোটি ডলারের পোশাক। গত প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক। গত ২০২৫-২৬ অর্থছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মতো। তৈরি পোশাকের মধ্যে নিট ক্যাটেগরি অর্থাৎ গেঞ্জি জাতীয় পোশাকের চেয়ে ওভেন, অর্থাৎ শার্ট-প্যান্টের চাহিদা বেশি জাপানে। গত প্রান্তিকে নিটের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ, যেখানে ওভেনের বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অপ্রচলিত শ্রেণির দ্বিতীয় প্রধান বাজার অস্ট্রেলিয়া। গত প্রান্তিকে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২১ কোটি ডলার। দেশটিতে রপ্তানি খুব বেশি নয়, মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে ছিল ২০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মতো। দেশটিতে গত অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৮৫ কোটি ডলারের পোশাক। অস্ট্রেলিয়ায় আবার চাহিদা ভিন্ন। দেশটিতে নিট পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৪ শতাংশের মতো। যেখানে ওভেনের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশের জন্য অপ্রচলিত শ্রেণির তৃতীয় প্রধান বাজার প্রতিবেশী ভারত। দেশটিতে গত প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ২২ কোটি ডলার থেকে কমে হয়েছে ২০ কোটি ডলার। দেশটিতে বছরে রপ্তানি হয় প্রায় ৭৫ কোটি ডলারের পোশাক।

চীনে রপ্তানি বেড়েছে নামমাত্র, শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে সাত কোটি ১২ লাখ ডলারে পোশাক। ভারতে ওভেনের চেয়ে নিটের চাহিদা বেশি। গত প্রান্তিকে দেশটিতে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। নিটের রপ্তানি শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে।

প্রসঙ্গত, অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়াতে প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করে আসছে সরকার। এ জন্য ২ শতাংশ নগদ দেওয়া হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে রপ্তানি খাতে অন্তত ৫ ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ডলারের পোশাক। ব্রাজিলে রপ্তানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ছিল ছয় কোটি ডলারের বেশি। সবচেয়ে বেশি হারে রপ্তানি বেড়েছে তুরস্কে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের সাত কোটি ডলারে কম রপ্তানি এই অর্থবছরের একই সময়ে ১২ কোটি ৩১ লাখ ডলারে উঠে এসেছে। রপ্তানি ১২৩ শতাংশ বেড়েছে তুরস্কে। তুরস্ক নিজেও তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। অবশ্য দেশটি বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে।

ব্রাজিলে রপ্তানি বেড়েছে ৪২ শতাংশের মতো। সাড়ে চার কোটি থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ডলারে উঠে এসেছে পোশাক রপ্তানি। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে গত প্রান্তিকে যে সব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে এসব দেশের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া। বড় অর্থনীতির দেশটিতে রপ্তানি কমেছে ২১ শতাংশের বেশি হারে। প্রায় পাঁচ কোটি ডলারের রপ্তানি চার কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

সব মিলিয়ে গত প্রান্তিকে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮১ কোটি  ডলারের কিছু বেশি, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬৬ কোটি ডলারের কিছু কম। অর্থাৎ রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এই সুবাদে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের হিস্যা বেড়ে এখন ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে ছিল ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রচলিত বাজারের বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ২৭ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হিস্যা ৪৭ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশে, রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৯০ কোটি ডলার। রপ্তানির বাজার হিসেবে একক প্রধান দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা কিছুটা বেড়ে হয়েছে ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এ হার ছিল ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভা বাংলাদেশের ঋণের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে সংস্কার

আজ সোমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভা। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত  ব্যাংককের কুইন সিরিকিট ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে সংস্থা দুটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজন চলবে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সভায় যোগ দিচ্ছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রবৃদ্ধি, বাড়তে থাকা ঋণের চাপ, বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্বের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এবারের সভায় গুরুত্ব পাবে। সভার ফাঁকে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নতুন ঋণ এবং এর সঙ্গে যুক্ত নীতিগত শর্ত নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হবে। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় বিভিন্ন খাতে সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এদিকে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে ব্যাংককজুড়ে হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ প্লাবনের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি। তার ওপর অক্টোবরের শুরুতেই তাদের আবহাওয়া দপ্তর নতুন করে ভারী বৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ায় আয়োজক প্রশাসনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জরুরি ভিত্তিতে কড়া নির্দেশনা জারি করে সম্ভাব্য মহাবিপর্যয় মোকাবিলায় জলমগ্ন রাস্তায় চলাচলের উপযোগী সাঁজোয়া ট্রাক, ফোর-হুইল-ড্রাইভ যান এবং বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত আবহাওয়ায় দেখা দিয়েছে ইতিবাচক পরিবর্তন। প্রধান নদী চাও ফ্রায়ার জলসীমা সার্বিক বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের নিরাপদ দূরত্বে রয়েছে। শহরের আকাশও পুরোপুরি পরিষ্কার। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী  বিশ্ব সম্মেলন।

বিশ্বের ১৯১টি সদস্য দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব এবং আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৫ হাজারেরও বেশি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি সভায় অংশ নিচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি, বাণিজ্য উত্তেজনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়নই এই বার্ষিক সভার মূল লক্ষ্য।

সম্মেলনে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য এবারের বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থ সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ বিশেষ প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ব্যাংককে পৌঁছেছে এবং মূল অধিবেশনের পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পার্শ্ববৈঠকে অংশ নিতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইডলাইন বৈঠকে আইএমএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি নতুন ঋণ সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে বিস্তারিত ও চূড়ান্ত পর্যায়ের দরকষাকষি শুরু হচ্ছে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঋণ প্রস্তাব আইএমএফ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা ও আইএমএফের মধ্যকার চলমান আলোচনায় আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হলে আগামী ডিসেম্বরেই দ্বিপক্ষীয় ঋণ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।

নতুন এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংস্কারকে প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার ও রাজস্ব নীতি পৃথক্‌করণ, ব্যাংকিং খাতের তদারকি বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণ হ্রাস, করছাড় প্রক্রিয়া যৌক্তিককরণ এবং বিভিন্ন জরুরি খাতে প্রদেয় সরকারি ভর্তুকি ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা টেকসই করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে এসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে নীতিগত সম্মতি প্রকাশ করেছে।

আইএমএফের ঋণ সুবিধার পাশাপাশি এবারের বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সভার একটি বিশেষ অধিবেশনে স্থান পাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপি সম্প্রসারণ ও ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপকল্প বিশ্বমঞ্চে বিশদভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে বর্তমান অবস্থা থেকে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে’ উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেশের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৯ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি স্থানীয় ও বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার বিশদ রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্মেলনের নির্ধারিত সেশনগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল দেশের শিল্প খাতের বিকাশ, ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে কীভাবে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব, তা বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরবে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সভায় আরও স্থান পাচ্ছে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকাশ এবং ডিজিটাল ফিন্যান্স খাতের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল লেনদেনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘ব্যাংকক ব্লু-প্রিন্ট’ প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, দুর্যোগের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে রূপকথার মতোই সেজে ওঠা ব্যাংকক শহর এখন বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে বিশ্বনেতাদের সরব উপস্থিতি ও কূটনৈতিক তৎপরতায় মুখর হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি

০

স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি। গতকাল রোববার এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সভা থেকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদে আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ৩০ অক্টোবর ঢাকায় হবে এনসিপির প্রতিবাদ সমাবেশ।

রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখায় এনসিপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিয়োজিত থাকবেন।

এ দিন এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদে। আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। এছাড়া, আরও ১০০ উপজেলা ও পৌরসভার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থীর তালিকা আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুতকরণের কাজে গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপির সভাপতিত্বে সদস্যসচিব আখতার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় অংশ নেন রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, আরিফ ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, নুসরাত তাবাসসুম এমপি, আলী আহসান জুনায়েদ, সালেহ উদ্দিন সিফাত।

জি এম কাদেরের বাসায় হামলা-ভাঙচুর, পুলিশ মোতায়েন

০

রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার ব্যাপারে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘সকালে নাশতা করছিলাম। এমন সময় হঠাৎ করে চারদিক থেকে বাসায় ঢিল ছোড়া শুরু হয়। সকালবেলা হওয়ার কারণে তখন বাসায় তেমন কেউ ছিল না। জানালার কাচ ভেঙে ড্রয়িংরুমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। বাসার গেটে তালা লাগানো থাকায় কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেনি।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর। তিনি বলেন, ‘আজ বেলা ১১টার দিকে অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, জি এম কাদেরের বাসায় হামলা হয়েছে। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে গিয়েছি। তবে কাউকে পাইনি। সাধারণ জনতার ব্যানারে ৩০-৪০ জন ওই বাসায় হামলা চালিয়েছে। তারা বাইরে থেকেই ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করেছে। তবে ভেতরে কেউ ঢুকতে পারেনি। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

জিএম কাদেরের বাসার সামনে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল

জিএম কাদেরের বাসার সামনে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল

বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল
হামলার সময় জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার দাবিতে তাঁর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে কিছু লোকজন। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তাঁর দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা বাসার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁর বিচার দাবি করেন।

শাহজালালে দুই দিনে ২৮ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা- রিয়াদগামীসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। গত দুই দিনে ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৪ হাজার ৮৫১ জন যাত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি, রিয়াদ এয়ারলাইনসের তিনটি এবং ইন্ডিগোর ট্রানজিট ফ্লাইট ১৬টি।

বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আকস্মিকভাবে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। কয়েকজন যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তারা বিমানবন্দরে এসেছিলেন। সেখানে আসার পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইট বাতিলের খবর পান তারা।

যাত্রীদের অনেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চল থেকে বিমানবন্দরে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে বিদায় জানাতে স্বজনেরাও বিমানবন্দরে আসেন। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

দাম্মামগামী বিমানের ফ্লাইটে বিঘ্ন

নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইট স্থগিতের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়। এ ফ্লাইটের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি সম্পর্কে ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে তথ্য জানানোর কথা জানিয়েছে বিমান।

তবে দাম্মাম বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি গতকাল কাতারের দোহা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল। বিমানের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে যাত্রা শুরুর সময় দাম্মাম বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। পরে বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট পরিচালনার স্বার্থে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২৭ মিনিটে ফ্লাইটটি দোহায় অবতরণ করে।

প্রায় তিন ঘণ্টা পর দাম্মাম বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলে ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ২ মিনিটে নিরাপদে সেখানে পৌঁছায়। পরে বিজি-৩৫০ ফ্লাইটটি দাম্মাম থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লাইট পরিচালনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাময়িক পরিস্থিতির কারণে যাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এনজিসিএএফ) যৌথভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর কল্যাণে সবচেয়ে জরুরি হলো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দিতে হবে। এটি আমাদের গুরুদায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, মেয়েরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং বাংলাদেশি নারী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। এসব অর্জন দেশের জন্য গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন।

অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে হবে। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দিতে হবে এবং ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের সম্মান করতে শেখাতে হবে। একই সঙ্গে মেয়েদের বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়, বরং অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। তার শিক্ষা কোনো দয়া নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।

দুই কন্যার পিতা হিসেবে প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে নিজের সন্তানদের মুখ দেখতে পান উল্লেখ করে তিনি বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা তাঁর জন্য শুধু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, গভীর মমতারও বিষয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণে ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা জরুরি। কন্যাসন্তান স্রষ্টার নেয়ামত হলেও সমাজে অনেক সময় এ নেয়ামতকে অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়। সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষায় নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশুবিয়ে শুধু একটি বিয়ে নয়; এর ফলে কন্যাশিশুর শৈশব থেমে যায়, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং সম্ভাবনার অপচয় ঘটে। এর সঙ্গে অকাল মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার আশঙ্কাও যুক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, কন্যাশিশু নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি হেল্পলাইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যায়, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

এ সময় তিনি কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে শুধু তোমাদের পরিবার নয়, বরং সমাজ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কন্যাশিশুর বিশ্বজয় নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিরাপদে জন্ম নেয়, নির্ভয়ে বেড়ে ওঠে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করে, দক্ষতা অর্জন করে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে— এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নারীশিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছেন। নারীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন।

নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। এ সময় বাংলাদেশের সব কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং এনজিসিএএফের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি।

এর আগে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দুই কন্যাশিশু তাদের মতামত তুলে ধরে।

এক্সপ্লেইনার বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিয়েও কেন হুতিদের ঠেকাতে পারছে না সৌদি?

আধুনিক সমরাস্ত্রের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে সৌদি আরব। তারপরও রিয়াদ বিমানবন্দরসহ কয়েকটি স্থানে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলা ঠেকাতে পারেনি। যা ইঙ্গিত দেয়, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির আক্রমণ প্রতিহতের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সক্ষমতায় বড় ধরনের ঘাটতি আছে।

এক দশকের মধ্যে সৌদির মাটিতে সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা হয় গত শনিবার। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ আট দেশের ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা তিন’শর বেশি। এ ঘটনার পর বিমানবন্দরটি এড়িয়ে চলতে নিজ নাগরিকদের সতর্ক করেছে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন।

একই বিমানবন্দরে রোববার নতুন হামলা চালায় হুতিরা। এতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিসহ ২৪ ঘণ্টায় সৌদির একাধিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে হুতিরা। আরও অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সৌদি আরব তেলসমৃদ্ধ দেশ। স্থিতিশীলতার জন্যও পরিচিত। কিন্তু একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে এসব সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সৌদি আরব কি হামলা ঠেকাতে অক্ষম?
হুতিদের নিয়মিত হামলা সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করেছে। তাদের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বজুড়েই ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের শুরুর দিকে প্রায়ই হুতিদের হামলা প্রতিহত করেছে রিয়াদ। কিন্তু গত দুইদিনের হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কিং খালিদ বিমানবন্দরটি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। আয়তন প্রায় ২২৫ বর্গকিলোমিটার।

সৌদি আরবের আয়তন প্রায় ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার। লন্ডনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণের প্রতিষ্ঠান মিনা অ্যানালিটিকার বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, দেশটির কাছে প্যাট্রিয়ট, থাড, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সেন্সরের সমন্বয়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আছে। কিন্তু  বিশাল আয়তনের তুলনায় এসব ব্যবস্থা কোনো অভেদ্য দেয়াল তৈরি করতে পারেনি।

আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আরও বলেন, দেশটিকে একসঙ্গে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করতে হয়। এর মধ্যে আছে বিভিন্ন তেল স্থাপনা, পবিত্র নগরী, সামরিক ঘাঁটি ও বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর।

এতসব স্থাপনার বিপরীতে সৌদির নিজস্ব সামরিক শিল্প সক্ষমতা সীমিত। সেগুলো আমদানি করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। নিজস্বতার ঘাটতি পূরণে তারা ঐতিহাসিকভাবে বিদেশি কর্মী, ঠিকাদার ও প্রশিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল।

দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলোর কাছে থেকে বড় অঙ্কের অস্ত্র কেনে। এটি তাদের প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে মিত্রদের সন্তুষ্ট রাখারও কূটনৈতিক কৌশল।

হুতিরা কেন হামলা বাড়াচ্ছে?
বিপুল অর্থ খরচ করে সৌদির নির্মিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়াটা হুতিদের লক্ষ্য নয়। এমনকি তারা সম্ভবত প্রতিবার সফল হামলারও আশা করে না। দু-একটি লক্ষ্যবস্তুতে ঠিকঠাক মতো আঘাত হানতে পারাটা তাদের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করেন আন্দ্রেয়াস ক্রিগ।

এই ঝুঁকি বিশ্লেষকের মতে, রিয়াদ বিমানবন্দরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে হুতিরা একাধিকবার হামলা করেছে। এটি প্রমাণ করে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে টানা হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তাদের আছে।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদিতে হুতিদের হামলার মাত্রা বেড়েছে। কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক থমাস জুনো বলেন, হুতিরা খেলার নিয়ম নতুন করে লিখতে চাইছে। তাদের নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরে সৌদি জোট যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা করছে। রিয়াদ যা করছে, হুতিরা ঠিক একই উপায়ে জবাব দিচ্ছে।

গোষ্ঠীটির হাজার হাজার প্রশিক্ষিত ও লড়াকু যোদ্ধা আছে। সবাই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনগুলো উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে। সম্প্রতি এসব অস্ত্র দিয়ে ইসরায়েল পর্যন্ত হামলা করেছে।

সৌদি আরব বহু বছর ধরে ইয়েমেনের একাংশের সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। থমাস জুনো বলেন, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে হুতিরা একটি বার্তা দিতে চাইছে। সেটি হলো- ভিন্ন দেশে শান্তি স্থাপন করতে চাইলে চড়া মূল্য দিতে হবে।

সৌদি আরব কী করছে?
আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরটি সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর একটি অংশ। রূপকল্পটির আওতায় রিয়াদকে পর্যটক, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হুতিরা বিষয়টি খুব ভালো করেই জানে বলে মনে করেন ক্রিগ। তিনি বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ফলে সৌদি আরবের সামরিক শক্তি হয়তো কমবে না। কিন্তু সেখানে ধারাবাহিক হামলা হলে অর্থনীতি ও ভাবমূর্তির ক্ষতিতে পড়বে। এটির মূল্য অবকাঠামোগত ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি।

কয়েকদিন পরই রিয়াদে বিভিন্ন উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলন ও বিনোদন মৌসুম শুরু হবে। এর আগে হুতিরা হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর পর সৌদির কর্তৃপক্ষ মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে নাগরিকদের সতর্ক করতো। কিন্তু সম্প্রতি তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক নাগরিক আতঙ্ক, উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন।

সৌদি কর্মকর্তাদের কাছে থেকে নিয়মিত তথ্য না পাওয়ায় শনিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন বিদেশি মিশন। এমনকি, সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই কয়েকটি দূতাবাস নিজ নাগরিকদের রিয়াদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিল।