Home Blog Page 368

নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা হলে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই : হুম্মাম কাদের

ফেব্রুয়ারি মাসের পরে নির্বাচন করার চেষ্টা করা হলে কিংবা নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাদের নগরের নিজস্ব বাস ভবনে রাঙ্গুনিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন,’ ইন্টেরিয়াম গর্ভমেন্টের দুর্বলতা যেখানে যেখানে ধরতে পেরেছি, সেগুলো নির্বাচন বাদে ঠিক করা সম্ভব হবে না।  আমাদের দেশের পক্ষ থেকে বাইরের রাষ্ট্রগুলোর সাথে নেগোসিয়েট করার মেন্ডেট কিন্তু বর্তমান সরকারের নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়েও দ্বন্ধে রয়েছে। কারণ এই সরকারের কোন মেন্ডেট নেই। তাই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এখন পুরোপুরি নির্ভর হয়ে গেছে সেনাবাহিনীর ওপর। কিন্তু উনাদের তো ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে এবং যে দায়িত্বটা পুলিশের করার কথা, সেটা পুলিশ করবে। এভাবে বাংলাদেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হয়, সেটা নির্বাচন ছাড়া কোন উপায় নেই। আর এটার জন্য যদি আবার রাজপথে নামতে হয়, তবে আমরা নামবো।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপি নেতা শওকত আলী নূর, সৈয়দ ফজলুল করিম মিনা, ইলিয়াছ সিকদার, হেলাল উদ্দিন শাহ, নুরুল ইসলাম, মাকসুদুল চৌধুরী মাসুদ, ভিপি আনছুর উদ্দিন, যুবদল নেতা মো. ফারুকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা সৈয়্যদ মো. সাবেরুল ইসলাম প্রমুখ।

হুম্মাম কাদের বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যখন ক্রিটিসিজমের বাইরে চলে যায়, তখন তারা যা ইচ্ছে, তাই করে ফেলে। নিজেদের রাজত্ব মনে করে সবকিছু। সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে রাজনীতিবিদরা কোথায় ভুল করছে, বাড়াবাড়ি করছে এগুলো ধরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব সাংবাদিকদের। মিডিয়ার কাজ হচ্ছে চেক এন্ড ব্যালেন্স করা। কিন্তু আমাদের দেশে এগুলো চলে গিয়েছিলো। গত ১৭ বছর সাংবাদিকরা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছে, আপনারা যে লিখবেন, কিছু তুলে ধরবেন সেটা আপনাদের সঠিকভাবে করতে দেয়া হয়নি। সৈরশাসন যখন শুরু হয়েছিলো, তার প্রথম ধাক্কাটা সাংবাদিকদের ওপর পড়েছিলো। আশাকরি এই নোংরা রাজনীতি থেকে দেশ বের হয়ে আসবে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে রাজনীতিবিদরা ঠিক রাস্তায় ফেরত আসবে। অন্ততপক্ষে রাজনীতিবিদদের মনের মধ্যে যেনো সেই ভয়টা থাকে, কোন রাজনীতিবিদ যদি ইলিগ্যাল কাজে জড়িয়ে যায় তাহলে সাংবাদিকরা তুলে ধরবে। রাজনীতিবিদরা যেনো আপনাদের কাজের মাধ্যমে ঠিক রাস্তায় থাকেন সেই প্রত্যাশা করি।”

হুম্মাম কাদের বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ায় এনজিও ব্যবসা ছাড়া হাছান মাহমুদ আর কিছু করেনি। ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প থেকে যে ফান্ডগুলো আনা হয়েছে তার এক টাকাও রাঙ্গুনিয়ার মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছেছে কিনা আমার সন্দেহ আছে। হাছান মাহমুদের নামে সম্ভবত ২২টা এনজিও রেজিস্ট্রার্ড আছে। ইনভায়রনমেন্ট মিনিস্টার থাকা অবস্থায় যত লুট হয়েছে, যে টাকা পাচার উনি করেছেন, তা দিয়ে মিনিমাম ২০ বছর রাঙ্গুনিয়া চালানো যেতো। এগুলো তদন্ত করতে হবে। রাঙ্গুনিয়ার যে রাস্তা দিয়ে যায়, মুরব্বিরা বলেন এই রাস্তা আপনার বাবা করেছেন। তাহলে হাছান মাহমুদ করলোটা কী? রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নের জন্য কাপ্তাই সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক প্রশস্ত, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে।’

রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির একাধিক গ্রুপে বিভক্ত ভোটে প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে হুম্মাম কাদের বলেন, ‘গত দুটি অবৈধ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি একটা প্লানিং নিয়ে এগিয়েছিলো। আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের ডিসকোয়ালিফাই করার চেষ্টা করবে৷ তাই প্রতিটি আসনে তিনজন করে প্রার্থী রেডি করেছিল। যাতে একজনকে বাদ দিলে বিকল্প প্রার্থী পাওয়া যায়। এটার কারণে আমাদের কিছুটা গ্রুপিং সৃষ্টি হয়ে গেছে। যেটা এখন আমাদের ফেস করতে হচ্ছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনে যখন একজন প্রার্থী নির্ধারিত হয়ে যাবে, তখন প্রতীক দেখে এবং দলকে ভালবেসে সবাই এক প্লাটফর্মে চলে আসবে।’

হুম্মাম কাদের বলেন, ‘জিয়া পরিবার যেভাবে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। আমাদের নেত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেয়া হল, উনাকে কারাগারে পাঠানো, তারেক রহমানকে নিয়ে ১/১১ থেকে শুরু হয়েছে, নানা নির্যাতন, এরপর উনি দেশছাড়া হয়েছেন। এরকম শত নির্যাতন করা হয়েছে। অনেকে মনে করছেন উনি দেশে ফিরে এলে এর বদলা নিবেন। কিন্তু আমি যতবার তারেক রহমানকে বলেছি, ভাইয়া ক্ষমতায় আসলে কিন্তু সব কটাকে দেখে নেবো। কিন্তু উনি আমাকে বলেছেন, হুমাম মাথা ঠান্ডা রাখো। যে জুলুম নির্যাতন আমাদের ওপর হয়েছে, তা আল্লাহ মাফ করবে না। উনি আসলেই ধৈয্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এই যে আমরা কথা বলছি, সেটা ফেরেস্তা নিজে এসে আন্দোলন সফল করেছেন। কারণ মানুষ হিসেবে আমরা চেষ্টা করেছি, হুকুম আল্লাহর ছিলো বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

নিজের পিতার মৃত্যুর বিচার প্রসঙ্গে হুম্মাম কাদের বলেন, ‘আপনারা আমার বাবার নামের আগে মরহুম বলেন। কিন্তু উনাকে সেভাবে জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে, সেটা আদালতেই প্রমাণ হোক। আমাদের চাওয়া, উনাকে প্রহসনের বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে খুন করা হয়েছে, সেই প্রমাণ যেনো আদালতের মাধ্যমে হয়।’

১২৩ ‘চাঁদাবাজের’ তালিকা ঘিরে রাজশাহীতে তোলপাড়

রাজশাহী মহানগরের রাজনীতিতে হঠাৎ তোলপাড় ফেলে দিয়েছে একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা। ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-শিবিরের পরিচয়ধারী নেতাকর্মীসহ ১২৩ জনের নাম উঠে এসেছে এই তালিকায়।

সোমবার সকাল থেকে তালিকাটি মানুষের হাতে হাতে ঘুরছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

যদিও তালিকার উৎস এখনো অস্পষ্ট। তবে বিএনপিসহ বিভিন্ন পক্ষের দাবি, এটি হয় পুলিশের কোনো গোয়েন্দা সংস্থা তৈরি করেছে, নয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা।

তালিকায় বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ ৪৪ জনের নাম রয়েছে। আওয়ামী লীগের ২৫ জন এবং জামায়াতের ছয়জনের নাম আছে। বাকি ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া হয়নি, তবে তাদের ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে বলা হয়েছে।

তালিকায় রয়েছেন রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমনের নাম। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ৫ অগাস্টের ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগ অনুসারীদের মামলা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং কোচিং সেন্টার থেকে চাঁদা তুলেছেন।

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বচলুর রহমান মন্টু সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনিও ৫ অগাস্টের পর থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করেছেন।

একইভাবে, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফুল শেখ রবির বিরুদ্ধে নগরের ফুটপাত থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তালিকায় থাকা বিএনপি নেতারা। তালিকায় ছয় নম্বরে থাকা বজলুর রহমান মন্টু বলেন, “এটি বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ তালিকা করে প্রকাশ করা হয়েছে।”

সিটি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব (তালিকায় ৮ নম্বরে) এমদাদুল হক লিমন বলেন, “আমার নাম দেখে আমি হতবাক। আমি রাজনীতি করি আদর্শ নিয়ে, কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই। কেউ বলতেও পারবে না।”

তালিকাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ইশা।

তিনি বলেন, “কে করেছে, সেটি আমরা জানি না। তবে পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। তার কাছে যে কল রেকর্ড, তথ্য ছিল, তিনি সেগুলো দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন। আমি বলেছি, তদন্ত করে নিশ্চিত হোন, যেন নিরীহ কেউ হয়রানির শিকার না হয়।”

রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, “তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের আমরা আগেই দল থেকে বয়কট করেছি।”

এদিকে, তালিকায় থাকা অন্তত ১৮ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি রাজশাহীতে দায়ের হওয়া একটি চাঁদাবাজির মামলায় নাম রয়েছে। মামলার বাদী আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান। গত শুক্রবার নগরের বোয়ালিয়া থানায় দায়ের করা তার মামলায় ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তারা এই মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, “তালিকা বড় বিষয় নয়। চাঁদাবাজি যে হচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এমন তালিকা তৈরি করে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও থাকে। যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে চাঁদাবাজ হয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবার নিরীহ কারো হয়রানি আমরা চাই না।”

তালিকাটি পুলিশের তৈরি কি-না এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। বিএনপির এক নেতা দাবি করেন, “তালিকায় পুলিশের স্বাক্ষর ছিল, আমি নিজ চোখে দেখেছি।”

উগান্ডায় মামদানির বিয়ের অনুষ্ঠানে জমকালো আয়োজন

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় অভিজাত এলাকা বুজিগা হিল। গত সপ্তাহে এলাকাটিতে নজর কেড়েছিল বিলাসবহুল একটি বাড়ি। তিন দিন ধরে অতিথি আগমন, পানাহার আর গভীর রাত পর্যন্ত আনন্দ–ফুর্তিতে মেতে ছিল বাড়িটি। চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। যাঁর বিয়ে তিনিও মানুষটি যেনতেন কেউ নন জোহরান মামদানি। নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

মামদানির বয়স ৩৩ বছর। ডেটিং অ্যাপে তাঁর পরিচয় হয়েছিল ২৭ বছর বয়সী রামা দুয়াজির সঙ্গে। সেখান থেকেই প্রেম। এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে দুবাইয়ে বাগদান। ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কে ছোট পরিসরে একটি অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন তাঁরা। এবার কাম্পালায় হলো বিশাল আয়োজন। গত মঙ্গলবার থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলেছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এর আগে রোববার উগান্ডা যান মামদানি।

এত জায়গা থাকতে উগান্ডায় বিয়ের অনুষ্ঠান কেন? মামদানির জন্ম আসলে আফ্রিকার এ দেশটিতেই। মাত্র সাত বছর বয়সে জন্মভূমি ছেড়ে নিউইয়র্কে চলে যান তিনি। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। কাম্পালার বুজিগা হিলের অভিজাত বাড়িটি তাঁর বাবা মাহমুদ মামদানির (৭৮)। পেশায় তিনি অধ্যাপক। আর মামদানির মা মীরা নায়ার (৬৭) একজন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা।

বুজিগা হিলে উগান্ডার ধনী ব্যক্তিদের বসবাস। বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে মামদানিদের বাড়িটিকে জমকালো রূপ দেওয়া হয়। বাগানের গাছগুলো সাজানো হয় রঙিন বাতি দিয়ে। ভেসে আসছিল সংগীতের সুর। মঙ্গলবার অনুষ্ঠানের শুরুর দিনে বাড়িটিতে হাজির হতে শুরু করে মার্সিডিজ ও রেঞ্জ রোভারের মতো নামীদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি।

এদিন বাড়িটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কড়া। সচরাচর নিরাপত্তা নিয়ে এলাকাটিতে এতটা তৎপরতা দেখা যায় না। প্রত্যক্ষদর্শী একজনের ভাষায়, ‘বাড়ির বাইরে ২০ জনের বেশি বিশেষ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাঁদের অনেকের মুখে ছিল মুখোশ। মুঠোফোন জ্যাম করার ব্যবস্থা ছিল। এ সবকিছুই করা হয়েছিল মামদানির বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য। বাড়ির একটি ফটকেই ছিলেন নয়জন নিরাপত্তারর্ক্ষী।’

বৃহস্পতিবারের আয়োজন ছিল আরও জমকালো। ভারতীয় ধাঁচের অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় ফলের জুস। নাচ–গান মিলিয়ে অনুষ্ঠান গড়ায় মধ্যরাত পর্যন্ত। এর আগে অতিথিদের উদ্দেশে মাইক্রেফোনে কথা বলেন মামদানি। তিন দিনের অনুষ্ঠান শেষে শুক্রবার মামদানিদের বাড়ি থেকে অনুষ্ঠানের তাঁবুগুলো খুলে নেওয়া হয়। আর অনুষ্ঠানের ফুলগুলো স্তূপ করে রাখা হয় ফটকের বাইরে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানে বন্দুক হামলায় পুলিশসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটানে বন্দুকধারীর গুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ‘আত্মঘাতী’ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির একটি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ম্যানহাটানের ওই এলাকায় বেশকিছু পাঁচ তারকা হোটেল এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর রয়েছে। খবর সিএনএনের।

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস। তিনি জানান, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘আঘাত’ করা হয়েছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল ৩৪৫ পার্ক এভিনিউ এবং ইস্ট ফিফটি ওয়ান স্ট্রিটের চারপাশ এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর একমাত্র সন্দেহভাজন বন্দুকধারী নিহত হয়েছেন। তার নাম-পরিচয় এখনো জানানো হয়নি।

নৈরাজ্যের আশঙ্কা করছে এসবি, সব জেলায় সতর্কবার্তা

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) আশঙ্কা করছে, ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে কেন্দ্র করে অনলাইন ও অফলাইনে সংঘবদ্ধ প্রচারণার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। দলটির কিছু নেতা ও কর্মী এ সময় সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, বিশৃঙ্খলা কিংবা ভাঙচুর চালাতে পারে বলেও ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে ডিএমপি কমিশনার, সিটি এসবি, বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম ও খুলনার স্পেশাল পুলিশ সুপারসহ দেশের সব জেলা পুলিশ সুপারের কাছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সামাজিক সংগঠনগুলো ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এই ধারাবাহিকতায় ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘এই সময়ে ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো দেশব্যাপী অনলাইন ও অফলাইনে উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বা উসকানি সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টাও হতে পারে।’

এমন পরিস্থিতিতে দেশের সকল ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রম তীব্র করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরে নিখোঁজ হওয়া নারীর মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের টঙ্গীতে খোলা ম্যানহোলে পড়ে নিখোঁজ সেই নারীর মরদেহ ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে টঙ্গীর বাষ্পট্টি বিলের মাঝখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, গত রোববার (২৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হোসেন মার্কেট এলাকায় ভারী বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় হাঁটার সময় খোলা ও ঢাকনাবিহীন একটি ম্যানহোলে পড়ে যান ওই নারী। মুহূর্তেই পানির প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান তিনি।

মৃত তাসনিম সিদ্দিকী জ্যোতি রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা ছিলেন এবং ‘মনি ট্রেডিং’ নামের একটি ওষুধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মসজিদপাড়ার মৃত ওলিউল্লাহ আহাম্মদ বাবলুর মেয়ে।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা রাতেই অভিযান শুরু করেন। কিন্তু সোমবার রাত পর্যন্ত কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সড়কের পাশের ১২ ফুট প্রশস্ত ড্রেন সংকুচিত করে ৬ ফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে বৃষ্টির সময় পানির প্রবল স্রোত তৈরি হয় এবং নিরাপত্তাহীন খোলা ম্যানহোলে পড়ে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গী ইউনিটের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থলের ম্যানহোলটি প্রায় ১০ ফুট গভীর এবং প্রবল বর্ষণের কারণে পুরোপুরি পানিতে ডুবে ছিল। আজ সকাল ৯টার দিকে আমাদের ডুবুরি দল জ্যোতির মরদেহ উদ্ধার করে।’

এদিকে দুর্ঘটনার তদন্তে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সচিবকে প্রধান করে ৪ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৭ কর্মদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: বিমা ছিল না যুদ্ধবিমান ও স্কুল কর্তৃপক্ষ কারোরই

 

রাজধানীর উত্তরা, যেখানে প্রতিদিন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিশুরা আসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে, সেই চেনা প্রাঙ্গণ ২১ জুলাই বেলা সোয়া একটায় হঠাৎ এক মর্মান্তিক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আকস্মিকভাবে আছড়ে পড়ে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর। এই ভয়াবহ ঘটনায় অন্তত ৩৫টি শিশুর জীবন স্বপ্নযাত্রা থেমে যায়। দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার পর উন্মোচিত হয়েছে আরও এক নির্মম সত্য—বিধ্বস্ত বিমানের ছিল না কোনো বিমা। বিমার আওতায় ছিল না স্কুলটিও, ছিল না শিক্ষক-শিক্ষার্থী কিংবা প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের কোনো সুরক্ষাও। একমাত্র বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা কাভারেজের আওতায়। সেই বিমার ১২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ তাঁর পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসবিসির জেনারেল ম্যানেজার (পুনর্বিমা বিভাগ) এস এম শাহ আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে প্রশিক্ষণ বিমানের বিমা করা হয় না। তবে বাহিনীর সদস্যদের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা পলিসি থাকে। তৌকির ইসলামের ক্ষেত্রে সেই বিমার আওতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।’ এসবিসির জিএম বলেন, অতিমাত্রায় ঝুঁকি এবং গোপনীয়তা রক্ষায় যুদ্ধ বিমানের বিমা করা হয় না।

শাহ আলম আরও জানান, তৌকিরের পরিবার আবেদন করলেই দ্রুত পরিশোধ সম্পন্ন হবে। তবে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের বিষয়ে এসবিসি কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের সঙ্গে তাদের কোনো বিমা চুক্তি নেই। ব্যক্তিগতভাবে কেউ বিমা করে থাকলে তা আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হবে।’

মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে, তাদের কোনো সম্পত্তি, শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর জন্য বিমা ছিল না। কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো কোনো স্কুল বা কলেজ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রুপ বিমা করে না। আমাদের প্রতিষ্ঠানেও এমন কিছু করা হয়নি।’

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) মিডিয়া পরামর্শক সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ বিমার আওতায় ছিলেন না। যদি থাকতেন, তাহলে ক্ষতিপূরণ মিলত।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান ওইদিন বেলা ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুলে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় স্কুলে ক্লাস চলছিল পুরোদমে। দোতলা ভবনের ছাদ, দেয়াল, সিঁড়ি—সবকিছু ভেঙে পড়ে। নিচতলায় ছিল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস, ওপরে দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষ। কাছেই অধ্যক্ষের কক্ষ এবং একটি কোচিং সেন্টার। ভবনের বড় অংশই ধসে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয় দুর্ঘটনাটি।

ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে ১৬৪ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি কি এতটাই দুর্বল যে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী কোনো ঝুঁকির নিরাপত্তা ছাড়া একটি জনবহুল ভবনে প্রতিদিন সময় কাটাচ্ছেন? একটি যুদ্ধবিমান নগর আকাশে ওড়ানো হবে, সেটি যদি নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে তার পতনের দায় শুধুই কি ‘বিমা ছিল না’ বলে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমাকাঠামোর এই ভয়াবহ শূন্যতা শুধু একটি নীতিগত ব্যর্থতা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার প্রতীক। যখন পাইলটের জন্য নির্ধারিত আর্থিক সুরক্ষা থাকে, তখন কেন শিশুদের জীবনের জন্য কোনো প্রস্তুতি থাকে না?

এই দুর্ঘটনা শুধু একটি যুদ্ধবিমান পতনের গল্প নয়। এটি আমাদের বিমা-সংস্কৃতির সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে রাষ্ট্রের নীরবতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতার নগ্ন প্রদর্শন। প্রশ্ন উঠেছে, আগামীতে কি কিছু পাল্টাবে? নাকি এই মৃত্যুর মিছিলও হারিয়ে যাবে আরেকটি ‘দুর্ঘটনার’ স্তূপে—এমন প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের।

তাঁরা বলেন, এখনই সময় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক বিমা কাভারেজের আওতায় আনার, বিশেষত শহুরে জনবহুল এলাকায়। তা না হলে আরেকটি মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি হয়তো সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

তাসকিনের বিরুদ্ধে বন্ধুকে মারধরের অভিযোগ থানায়

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদের বিরুদ্ধে বাল্যবন্ধুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বন্ধু সৈকত মিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মিরপুর মডেল থানা পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করলেও সেটা জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্ত চলছে। সত্যতা মিললে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, তাসকিনের বাল্যবন্ধু একটা অভিযোগ করেছেন। তারা একে অপরের পরিচিত। স্পেসিফিকভাবে মারধর করার কথা লেখেননি। আজকে ভোরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কিল-ঘুষি মারার অভিযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি জিডি না, অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান করছি। সত্যতা পেলে পরিবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে তাসকিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিসিবি পরিচালক ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘সকালে দেখলাম। আমাদের আমিনুল ইসলাম বুলবুল (বিসিবি সভাপতি) এবং ফাহিম ভাইও (ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান) দেখছেন। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়ে গেছে। এটা যদি ঘটে থাকে তাহলে খুবই দুঃখজনক। আইকন প্লেয়ার এসবে জড়ানো উচিত না। আমি এই ব্যাপারে আর মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। কি হয়েছে সেটা আগে বের হোক।’

তবে যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি নিজেই আবার থানায় আসছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বলেন, দেখি তিনি আবার কি বলতে চান।

আমিরের বাড়িতে হাজির ২৫ পুলিশ অফিসার

বলিউড অভিনেতা আমির খানের বাড়িতে হঠাৎ করেই ২৫ জন আইপিএস কর্মকর্তা হাজির হয়েছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত তার বাসভবনের সামনে থেকে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একাধিক পুলিশ গাড়ি ও একটি বাস আমিরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাটি মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, এই ২৫ জন আইপিএস কর্মকর্তার একটি বিশেষ দল আমির খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই তার বাড়িতে যান। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

নেটিজেনদের কৌতূহলের শেষ নেই। কেউ মন্তব্য করছেন, ‘সরফরোশ ২-এর প্রস্তুতি চলছে’, কেউ বলছেন, ‘নিশ্চয়ই নিমন্ত্রণ ছিল’, আবার অনেকে মনে করছেন এটি আমিরের সর্বশেষ ছবি ‘সিতারে জামিন পর’-এর প্রমোশনাল কৌশলও হতে পারে। কারণ ছবিটি গত মাসে মুক্তি পেয়েছে এবং শিশুকেন্দ্রিক এই সিনেমা দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে আমির ব্যস্ত ‘লাহোর ১৯৪৭’ নামের একটি দেশাত্মবোধক ছবির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজে। এই ছবিতে তার সঙ্গে রয়েছেন সানি দেওল।

ব্যাংককের বাজারে গুলিতে নিহত ৫, পরে বন্দুকধারীর আত্মহত্যা

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অর টর কোর মার্কেটে এক বন্দুকধারীর গুলিতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন নিরাপত্তারক্ষী। সোমবার দেশটির পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর সন্দেহভাজন বন্দুকধারী আত্মহত্যা করেছে।

তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক থাই পিবিএস জানিয়েছে, ব্যাংককের চাতুচাক জেলার ওর টর কোর মার্কেটে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করে এবং পরে নিজের ওপরও গুলি চালায়।

সন্দেহভাজনের এই হামলার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। ব্যাংককের ব্যাং সু জেলার উপ-পুলিশ প্রধান ওরাপাত সুকথাই বলেছেন, ‘পুলিশ তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত এটি একটি গণহত্যা।’

কর্তৃপক্ষ বন্দুকধারীর পরিচয় এবং থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। তাজা পণ্য এবং জনপ্রিয় চাতুচাক সপ্তাহান্তের বাজারের কাছাকাছি অবস্থিত এই বাজারটি থাই রাজধানীর একটি ব্যস্ততম গন্তব্যস্থল।

ডেপুটি কমিশনার চারিন গোপাত্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন, বন্দুকধারীসহ ছয়জন মারা গেছেন। এছাড়া এরাওয়ান জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র জানিয়েছে, হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন মহিলা।