Home Blog Page 37

সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ড বেড়েছে, দূর হয়নি নিরাপত্তাহীনতা সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের মাসিক গড় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৪৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ মাসে গড়ে ৭ দশমিক ৩৩টি। বিপরীতে ২০২৫ সালের পুরো বছরে ৬৬টি হত্যাকাণ্ডের হিসাবে মাসিক গড় ছিল ৫ দশমিক ৫টি। একই সময়ে জমি দখল বা দখলচেষ্টার ঘটনাও মাসিক গড়ে বেড়েছে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পরিসংখ্যানে সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের মাসিক গড় বাড়লেও নারী নির্যাতন, উপাসনালয়ে হামলা এবং বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মাসিক গড় কমেছে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, কিছু সূচকে ঘটনার সংখ্যা কমলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতা দূর হয়নি। অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ। উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, রঞ্জন কর্মকার, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে মনিন্দ্র কুমার নাথ জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪০টি হত্যাকাণ্ডে ৪৪ জন সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন। গত বছর হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ৬৬টি। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মাসিক গড় হত্যাকাণ্ড ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা গণধর্ষণের পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড়ে যা শূন্য দশমিক ৮৩টি। ২০২৫ সালে এ ধরনের ২৮টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ২ দশমিক ৩৩টি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মাসিক গড় প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, পূজামণ্ডপে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ১৫টি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড় ২ দশমিক ৫টি। ২০২৫ সালে এ ধরনের ৯৫টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৯২টি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

তবে জমি দখল বা দখলচেষ্টার ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ ধরনের ১৫টি ঘটনার মাসিক গড় ২ দশমিক ৫টি, যেখানে ২০২৫ সালে ২১টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ১ দশমিক ৭৫টি। অর্থাৎ মাসিক গড়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

মনিন্দ্র কুমার নাথ জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও প্রতিমায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৪৭টি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড় ৭ দশমিক ৮৩টি। গত বছর এ ধরনের ১০২টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ৮ দশমিক ৫টি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও কিছুটা কমেছে।

এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অপহরণ, চাঁদাবাজি, নিখোঁজ ও নির্যাতনের অভিযোগ, কর্মস্থলে বৈষম্য এবং জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগসহ বিভিন্ন ধরনের আরও কয়েক ডজন ঘটনার তথ্যও তুলে ধরে সংগঠনটি।

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলা শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে হত্যার অভিযোগে মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ১০ জন গ্রেপ্তার থাকায় শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ জনের নামে আজ সোমবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ আগস্ট।

এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। অভিযোগপত্রে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আজ এই মামলাটির ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি হয়।

এ মামলায় বর্তমানে নয়জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ আরও অনেকে। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করেছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশন জানায়, ওই সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।

এর আগে গত সপ্তাহে এ মামলায় খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘খসড়া প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব।’

রাবি ছাত্রীকে চাকু-পিস্তলের ভয় দেখানোর অভিযোগ, পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক ছাত্রীকে চাকু বের করে এবং পিস্তলের ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। অভিযোগকারী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে পড়েন। অভিযুক্ত মহসিন আলম একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রক্টর দপ্তরে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী দাবি করেন, গত ২২ জুলাই থেকে মহসিন আলম তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর গত ২৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে জোর করে তাকে পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে আবারও একই প্রস্তাব দেন।

অভিযোগে বলা হয়, দ্বিতীয়বারও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে মহসিন আলম পকেট থেকে একটি চাকু বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং পিস্তলেরও ভয় দেখান।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে প্রথমে মেসের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রুয়েট হয়ে আবার পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি কান্নাকাটি করলে তাকে মেসে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে ফোন করে অভিযুক্ত আত্মহত্যা করেছেন বলে ভয় দেখানো হয়। একই সঙ্গে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মহসিন আলম ছাত্রদলের কর্মী, ক্যাম্পাসে অনেকে এমন দাবি করছেন। তবে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কোনো সক্রিয় কর্মী বা নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কেউ নন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ছাত্রীর বক্তব্য শুনেছি। ঘটনাস্থলে অভিযুক্তের সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। পরে তারা ফোন করে জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ দুপুরে অভিযুক্তসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডাকা হয়েছে। এক পক্ষের বক্তব্য শুনে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে অভিযুক্তের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি কিছুটা রহস্যজনক মনে হয়েছে। তাদের বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। সবার বক্তব্য শোনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভারতে আন্দোলন পদত্যাগ নিয়ে পর্দার আড়ালে ৪৮ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল?

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা আগেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভাবনাতেও ছিল না। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে হওয়া তিনটি মূল্যায়ন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে হচ্ছে।

প্রথমত, পুলিশের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও দিল্লিতে বিক্ষোভ আরও জোরদার এবং অনেক শহরে ছড়িয়ে পড়ছিল। দ্বিতীয়ত, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ যেমন- শিক্ষা সচিবের বদলি, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিল এমনকি নিট পরীক্ষা পরিচালনার সংস্থা এনটিএ-এর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের ঘটনাও বিক্ষোভকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

তৃতীয়ত, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন পুরোপুরি পণ্ড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এবারের অধিবেশনে সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং নারী সংরক্ষণ বিলের মতো বিতর্কিত পদক্ষেপগুলো সংসদে তোলার কথা ছিল। এগুলোর পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য বিজেপিকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। ফলে অধিবেশন পণ্ড হলে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারতো।

ভারতের সদ্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফাইল ছবি: এএফপি

ভারতের সদ্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফাইল ছবি: এএফপি

ভারতে সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুরুর প্রথম দিন (গত সোমবার) অনশনরত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সরকার তখন ধারণা করেছিল, এবার হয়তো বিক্ষোভ ধীরে ধীরে থেমে যাবে। কিন্তু এই ধারণা বদলাতে খুব বেশি সময় লাগেনি।

বিজেপির একজন এমপি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব নেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দেওয়ার পর সেটির প্রতিক্রিয়াগুলো গভীরভাবে যাচাই করা হয়। তাতে দেখা যায়, যন্তর মন্তরের পাশাপাশি অন্য রাজ্যের আন্দোলনেও মানুষের ভিড় বেড়েছে। এমনকি মুম্বাইয়ে নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা সত্ত্বেও উপস্থিতি কমেনি।

বিজেপির এক শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানায়, নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি মানুষের মনোভাব পরিবর্তন হচ্ছিল না। হাতে বেশি বিকল্পও ছিল না। কিন্তু তখনও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সংসদে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যদি পদত্যাগের বিষয়ে একটুও ইঙ্গিত পেতেন তাহলে হয়তো এই প্রস্তুতি নিতেন না।

সূত্রটি জানায়, এ থেকে বোঝা যায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে নেওয়া হয়েছে। কারণ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনোভাবেই বোঝা যাচ্ছিল না যে পদত্যাগ আসন্ন।

সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী। ছবি: এএফপি

সিজেপি নেতাদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী। ছবি: এএফপি

তরুণদের আন্দোলন চলাকালে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির সরকার প্রকাশ্যে যুক্তি দিয়েছিল যে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি মূলত রাজনৈতিক। দলের নেতাদের আশঙ্কা ছিল, দাবি মেনে নেওয়া হলে বিরোধীরা এটিকে রাহুল গান্ধীর নৈতিক জয় হিসেবে প্রচার করবে। সূত্রগুলো জানায়, এমন ভাবনা সত্ত্বেও আন্দোলনের তীব্রতার কারণে বিজেপির মধ্যে সুর নরম হতে শুরু করে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলা দুজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, একটা সময় ধর্মেন্দ্রর দপ্তর ছাড়ার বিষয়ে কথা ওঠে। রাজ্যের কিছু নেতাও বলতে শুরু করেন, এই অবস্থায় পদ ধরে রাখাটা অবাস্তব হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর বা জাতীয় পরিসরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফলে পরিস্থিতি তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ফলে অল্প সময়ের সিদ্ধান্তে শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের কারণে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। অঞ্চলটিতে মহাসড়ক ও রেলপথ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বন্দর নগরী বোর্দোর আশপাশের গ্রাম থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবল বাতাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ায়, বোর্দো থেকে স্পেন সীমান্ত পর্যন্ত মহাসড়কের ৬০ কিলোমিটার অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরটিতে ট্রেন চলাচলও বন্ধ আছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা। শনিবার ফ্রান্সের জিরোন্দে। ছবি: এএফপি

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা। শনিবার ফ্রান্সের জিরোন্দে। ছবি: এএফপি

রোববার লা ট্রিবিউন পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুন্যেস বলেছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় লাগবে। ফলে যেসব বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের নিজ এলাকায় ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা। ছবি: এএফপি

দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা। ছবি: এএফপি

আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে, এই আগুনে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৪৯ সালের একটি দাবানলে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগুন নেভানোর চেষ্টা করা দমকলকর্মীদের সাহায্য করতে ফরাসি সেনাবাহিনী দেড় হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তারা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। অভিযানের অন্যতম নেতা ও দমকল বাহিনীর ক্যাপ্টেন নিকোলা ব্রাজ বলেন, তাপের কারণে খুবই উত্তপ্ত বাতাস তৈরি হচ্ছে। এতে দাবানল অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

নেত্রকোনায় নিজ ঘর থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দু’আনী দুধকুড়া গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মাহফুল মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত থেকে রোববার ভোরের মধ্যে কোনো একসময় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত মাহফুল মিয়া সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের দু’আনী দুধকুড়া গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান মাহফুল। রোববার ভোরে তার মা ঘুম থেকে উঠে ছেলের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে টর্চের আলো জ্বালিয়ে ঘরে ঢুকে মাহফুলকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আবুল খায়ের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহে যুবককে হত্যার পর মাটিচাপার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪ স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ

ময়মনসিংহে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার পর মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনার মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, কোতোয়ালী থানার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে সেলিম (৩০), আব্দুল রশিদের ছেলে সেলিম (৩২), রমজান আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) ও আব্দুল জলিলের ছেলে লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আশরাফুল করিম।

পুলিশ জানায়, ১৬ জুলাই সকালে মীরকান্দাপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে সোহেল সরকার (২৫) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২২ জুলাই বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয় মাঠের উত্তর পাশের একটি বাগানে অর্ধগলিত বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে। পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ সোহেল সরকারের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিন রাতে ভালুকার আঙ্গারগাড়া এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারবাজার, মীরকান্দাপাড়া ও শহরের মহারাজা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান অভিযুক্ত সেলিম পুলিশকে জানান, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সোহেল সরকারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় তিন মাস ধরে তারা ঢাকায় একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরে কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ডেকে এনে সহযোগীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল এবং নিহতের রক্তমাখা পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ব্র্যাক ব্যাংক ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের রেকর্ড আমানত

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে চলতি হিসাব ও সঞ্চয়ী হিসাবে রেকর্ড পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক। গতকাল শনিবার ব্র্যাক ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অর্জনের তথ্য দিয়েছে। ব্যাংকটি বলেছে, এ অর্জন ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকের ক্রমবর্ধমান আস্থা এবং ব্যাংকের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের সক্ষমতার প্রতিফলন।

সম্প্রতি সাফল্য উদযাপনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাক ব্যাংক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের এমডি অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান, ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক শেখ মোহাম্মদ আশফাক, ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের সিনিয়র জোনাল হেড তাহের হাসান আল মামুন এবং রিজিওনাল হেড ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজাররাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘আমাদের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের অবিচল আস্থা এবং ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের নিবেদিত প্রচেষ্টা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে গ্রাহকের সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, এই অর্জন তারই প্রতিফলন। গ্রাহকদের উন্নত ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা প্রদানের মাধ্যমে এই ব্যাংকিং সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমানত সংগ্রহে  উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় অর্জিত হয়েছে এ মাইলফলক। রিলেশনশিপবেসড ব্যাংকিং এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণে টেকসই অবস্থান বজায় রেখেছে ব্যাংকটি। ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক।

শিল্প নয়, চা হোক কৃষিপণ্য

চা উৎপাদনকে ‘কৃষি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে ভ্যাট ও কর কমানো, স্বল্পসুদে ঋণ, বিশেষ সহায়তা তহবিল, রপ্তানি সম্প্রসারণ, পুনঃরোপণ কর্মসূচি, শ্রমিক কল্যাণসহ একগুচ্ছ সংস্কার সুপারিশ করেছে টাস্কফোর্স।

জানা গেছে, আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাশিল্পের উন্নয়নে একটি বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে টাস্কফোর্সের সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

গত জুনে দেশের চাশিল্পের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো, বিশ্ববাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে। ন্যাশনাল টি কোম্পানির চেয়ারম্যান মামুন রশীদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।

টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম চা উৎপাদনকারী দেশ। ২০২৫ সালে দেশের ১৭২টি চা বাগানে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এ খাতে সরাসরি ১ লাখ ৪২ হাজার শ্রমিক কর্মরত। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ চা বাগান এলাকায় বসবাস করেন এবং সারাদেশে লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও চা দোকান এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম দামে চা বিক্রি হওয়ায় সংকট গভীর হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন খরচের নিচে চা বিক্রি হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ২৬০ টাকা। অথচ নিলামে গড় বিক্রিমূল্য ছিল ২০৮ দশমিক ৮৮ টাকা। ২০০২ সালের তুলনায় দেশের চা রপ্তানি প্রায় ৭৯ শতাংশ কমে গেছে।

প্রতিবেদনে সংকটের পেছনে ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চা খাতকে ‘কৃষি’ নয়, ‘শিল্প’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত থাকা। এর ফলে চা বাগানগুলো কৃষিখাতের স্বল্পসুদে ঋণ, ভর্তুকিযুক্ত সার ও শস্য বিমার সুবিধা পাচ্ছে না। কৃষিঋণের সুদ ৬ শতাংশ হলেও চা বাগানগুলোকে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। কৃষির মতো ৬ শতাংশ হারে সুদে পেলে এ খাতে বছরে ৬১৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ১ শতাংশ বিশেষ কর, ১ শতাংশ ব্রোকারেজ, গুদামজাতকরণ ব্যয় এবং সরাসরি বিক্রির ওপর অগ্রিম আয়করের চাপ ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের চায়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট বিশ্বের প্রধান চা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। রপ্তানি পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। বার্ষিক রপ্তানি আয় নেমে এসেছে মাত্র ২৫ থেকে ৪৫ লাখ মার্কিন ডলারে। পাকিস্তান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো রপ্তানি বাজার নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশের চায়ের কোনো জাতীয় ব্র্যান্ড কিংবা ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধনও হয়নি।

প্রতিবেদনে উৎপাদনশীলতার ঘাটতিকেও বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ১ হাজার ৫৫০ কেজি, যা ভারত ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় অনেক কম। অনেক বাগানে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত গাছ অনুপস্থিত এবং মাটির জৈব উপাদানের পরিমাণও কম। এ ছাড়া চা বাগানের মোট ২ লাখ ৯৪ হাজার ১৪২ একর জমির প্রায় ৪৫ শতাংশে চা উৎপাদন হয় না। এর মধ্যে সীমিত অংশ নতুন বাগান তৈরির উপযোগী হলেও বাকি জমি পর্যটন, সৌরবিদ্যুৎ বা উচ্চমূল্যের কৃষিকাজে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।

সংকট কাটিয়ে উঠতে টাস্কফোর্স ৫৯টি সুপারিশের মধ্যে ১০টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চা খাতকে কৃষি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামানো, ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন এবং গুণগত মানভিত্তিক তিন স্তরের ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদি পুনঃরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, পাকিস্তান, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ার সঙ্গে সরকারিভাবে রপ্তানি চুক্তি, বিডায় ‘টি ইনভেস্টমেন্ট ডেস্ক’ স্থাপন, গ্রিন ফিন্যান্সের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ও আধুনিক সেচে বিনিয়োগ, পঞ্চগড়ে চা বোর্ডের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন এবং শ্রমিকদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে বাধ্যতামূলক কল্যাণ কর্মসূচির আওতায় আনা।

প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনাও দেওয়া হয়েছে। প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, ৬০ দিনের মধ্যে চাকে কৃষি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার নির্বাহী আদেশ এবং ৯০ দিনের মধ্যে রপ্তানি আলোচনা, বিডায় বিনিয়োগ ডেস্ক ও পঞ্চগড়ে আঞ্চলিক অফিস চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

মামুন রশীদের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনে চাশিল্পকে শুধু একটি অর্থনৈতিক খাত নয়, বরং লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা সংশ্লিষ্ট একটি কৌশলগত খাত হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকে খেলাপি ঋণ না কমলে মালিকানা হারাবেন পরিচালক প্রথম পর্যায়ে সুদ মওকুফের মাধ্যমে ঋণ আদায়ে জোর

খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বে এখন শীর্ষে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় বর্তমানের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ কমিয়ে চলতি বছর শেষে ২০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর আগামী বছর শেষে ১০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে শুরুতে সুদ মওকুফসহ নানা শিথিলতার মাধ্যমে ঋণ আদায়ে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে কঠোর হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক পর্যায়ে মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ ব্যাংকের পরিচালকরা মালিকানা হারাবেন। এর পর ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় এনে বিক্রি, একীভূতকরণ বা অবসায়নের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে মোট ২১টি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। এসব নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক করেছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন করে ঋণ পুনঃতপশিলে আর বিশেষ কোনো নীতিমালা হবে না। গত ২৯ জুন জারি করা ‘এক্সিট পলিসি’-এর আওতায় অন্তত মূল ঋণ আদায় করতে হবে। যে কারণে আয় খাতে নেওয়া সুদ এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত শিথিল নিয়মে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। আগামী বছর থেকে কঠোরতার অংশ হিসেবে দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন করে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান যুক্ত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, যেসব খেলাপি গ্রহীতা নমনীয় নীতিতে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করবেন না, তাদের নাম, ছবিসহ তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ তালিকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন– বিমানবন্দর, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখার সামনে টানিয়ে রাখা হবে।

ব্যাংকগুলোর প্রকৃত খেলাপি ঋণের আলোকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতি বের করা হবে। খেলাপি ঋণ কমানোর মাধ্যমে প্রভিশন ঘাটতি পূরণ করে প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিচালনায় যুক্তদের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূলধন পূরণ করতে না পারলে পরিচালকরা মালিকানা হারাবেন। এভাবে একবার কারও মালিকানা গেলে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তিনি আর কোনো ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার যোগ্য হবেন না।

কেন কঠোরতার পথে
২০২৪ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে বিশেষ সুবিধায় চার লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়। গত বছর হয়েছে আরও এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। গত বছর পর্যন্ত পুনঃতপশিলের পর অনাদায়ী ঋণ স্থিতি রয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এর মানে, প্রকৃতপক্ষে এসব ঋণ আদায় হয় খুব কম। এমন বাস্তবতায় খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোরতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কাগজে-কলমে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি দেখানো হলেও গত বছর শেষে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গত বছর শেষে ব্যাংক খাতের মূলধন ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমেছে। ২০টি ব্যাংকের দুই লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতির প্রভাবে পুরো খাত এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। আবার দেশীয় ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে গত বছর মাত্র ১৭টি ব্যাংক মুনাফা করতে পরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, খেলাপি ঋণ কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করছে। ঋণ আদায়ের জন্য শুরুতে নমনীয় নীতি নেওয়া হয়েছে। এতে ঋণ পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময় খেলাপি গ্রাহককে কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে হবে।

বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপে দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইনে গঠিত কোম্পানির কাছে খেলাপি গ্রহীতার বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া হবে। তবে এই সম্পদ বিক্রির মানে ঋণখেলাপি দায়মুক্তি পাবেন তেমন না। কেবল আদায়ের সমপরিমাণ দায়মুক্তি মিলবে।

উদাহরণস্বরূপ, সুদসহ কোনো খেলাপির কাছে ব্যাংকের পাওনা এক হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকের নিজস্ব মূল্যায়ন এবং তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নে হয়তো বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য নির্ধারিত হলো ১২০ কোটি টাকা। ওই কোম্পানি সম্পদ উদ্ধার, রক্ষণাবেক্ষণ ও মুনাফা হিসাব করে তা ১০০ কোটি টাকায় কিনে নিল। এখন বাকি ৯০০ কোটি টাকার জন্য ওই ঋণ গ্রহীতা ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, এক্সিট সুবিধা নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করছে। তবে বছরের পর বছর ঋণ টেনে নেওয়ার চেয়ে নিষ্পত্তি করতে পারলে অনেক ভালো। ১০ বছর টানার পর ১০০ টাকা আদায়ের চেয়ে এখন ২০ টাকা ছাড় দিয়ে ৮০ টাকা আদায় করতে পারলে অনেক ভালো। তবে কোনোভাবে যেন এর অপব্যবহার না হয়।

মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ কেনার বিষয়টি কতটুকু কার্যকর হবে, তা দেখার বিষয়। কেননা, এখানে ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য অনেক কম। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া জামানত বা বেশি দর দেখিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে। ফলে বন্ধকি সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য আগে বের করতে হবে।

যেসব পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এক্সিটসহ ছয়টি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে– খেলাপি ঋণের উচ্চ হারের ব্যাংকের জন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে ২০২২ সালে প্রণীত প্রম্পট কারেকটিভ অ্যাকশন (পিসিএ) কাঠামো বাস্তবায়ন হবে। এ কাঠামোর আওতায় আওয়ামী লীগের সময়ে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। পরবর্তী সময় ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের আওতায় অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করেছে।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা
এর অংশ হিসেবে ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং তা আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। এ নীতির আওতায় কোনো ঋণ খারাপ হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনায় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখতে হবে।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শ্রেণীকৃত ঋণ, অবলোপনকৃত ঋণ আদায়সহ করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার শর্ত দেওয়া হবে। যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি তিন মাস পর গভর্নরকে আদায় অগ্রগতি জানাতে হবে। প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় পরিস্থিতি আলোচনা হবে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা 
এই ধাপে মোট আটটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করা ছাড়াও রয়েছে– ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনার ব্যবস্থা। ব্যাংকের বন্ধকি সম্পদের প্রকৃত মূল্যমানের জন্য ব্যাংকের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ, ঋণ ঝুঁকি কমাতে আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম চালু, খেলাপি ঋণ আদায়ে উৎসাহী করতে কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা ইত্যাদি।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
তৃতীয় ধাপে অর্থঋণ আদালতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ছাড়াও খেলাপিরা যেন সহজে রিট করে ঋণ আদায় বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তার জন্য রিটের বেলায় অনাদায়ী ঋণের অর্ধেক বা নির্দিষ্ট একটি অংশ জমা দেওয়ার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া বর্তমানে একজন ঋণগ্রহীতা একটি ব্যাংক থেকে ওই ব্যাংকের মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ নিতে পারেন না। আগামীতে আইন সংশোধন করে পুরো ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের জন্য ব্যাংকের পরিবর্তে বন্ড ইস্যু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর এসব ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার, অর্থঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হবে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দিয়েছে। এই আইনে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বলতে– খেলাপি, অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি এবং পুনঃতপশিলের পর আদায় না হওয়া ঋণকে বোঝানো হবে। আইনের আওতায় গঠিত কোম্পানির নির্ধারিত পরিমাণ মূলধন থাকতে হবে। খেলাপি ঋণ কিনতে হবে সরাসরি নগদ অর্থের বিনিময়ে।