Home Blog Page 37

সংসদ কার্যক্রমে অগোছালো সরকারি দল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সংসদ কার্যক্রমে গুছিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি। চলমান অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় বিএনপি জোটের ২০০ জন সংসদ সদস্য ৩২ ঘণ্টা ৩ মিনিট বক্তব্য দেন। তবে খুব কম সংখ্যক এমপি সুনির্দিষ্টভাবে বাজেট নিয়ে কথা বলেছেন।

সরকারি দলের এমপিদের পাশাপাশি সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে মন্ত্রীদের অনীহাও আলোচনায় এসেছে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত না থাকলে মন্ত্রী-এমপিদের অনুপস্থিতি বেড়ে যাচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ একাধিকবার বিষয়টি নজরেও এনেছেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে রেওয়াজ আইনের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু রেওয়াজ লঙ্ঘন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতি এড়িয়ে স্পিকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিলও পাস হচ্ছে।

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তালিকায় নাম থাকা না থাকা, দিনক্ষণ, নামের ক্রম নিয়ে একাধিক দিন একাধিক এমপি ক্ষোভ জানিয়েছেন। একাধিক এমপি স্পিকারের আহ্বানের পর বক্তৃতা দিতে অপারগতা জানিয়েছেন।

সংসদে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি অস্বীকার করে হুইপ জি কে গউছ বলেন, বেশির ভাগ নতুন মুখ। সংসদীয় রেওয়াজের বিষয়ে অনেকেই তেমন ওয়াকিবহাল নন। এরপরও সবকিছুকে সমন্বয়ের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন তারা। আগামীতে সমন্বয় আরও সুচারু হবে বলে জানান তিনি।

সংসদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এমন বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি দলের সংসদীয় কার্যক্রমকে আশাব্যঞ্জক বলা যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ কয়েকজন সদস্য বিরোধী দলকে বিতর্কে কাবু করতে পারলেও অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে নিষ্প্রভ মনে হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ মনে করেন, এ পর্যন্ত সংসদীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব মূল সমস্যা বলে মনে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশনে যোগদানের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার সদস্যদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। হুইপিংয়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ঘাটতি চোখে পড়েছে।

নিজাম উদ্দিন বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির জন্য যেমন সবকিছু সহজ করে দিয়েছে, তেমনি আবার সামান্য অসতর্কতা তাদের জন্য বড় বিপদ ঘটতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাসহ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্কটা কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তবে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিগত দিনের তুলনায় এবারের সংসদ ভিন্নতা পেয়েছে। সংসদ নেতা থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই চেষ্টা করছেন সংসদকে কার্যকর হিসেবে জাতির সামনে তুলে ধরতে।

সংসদ গঠনের পর তিন দফা এমপিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবারও এমন একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আছে।

মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন 

গত ২২ জুন বাজেট অধিবেশনের বৈঠকে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি সাইফুল ইসলাম খান। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশনে বেশির ভাগ সময় অধিকাংশ মন্ত্রী উপস্থিত থাকেন না। এ বিষয়ে তিনি স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিরোধীদলীয় নেতাও মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংসদে।

তাৎক্ষণিক জবাবে স্পিকার বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি দেখতে চাই। তবে শোকর করেন যে, অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন। বাজেট অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা থাকলে আমরা বাধিত হবো।’

স্পিকারের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে সংসদে তাদের উপস্থিত থাকা উচিত। বাজেট-সংক্রান্ত বিষয়ে সব খাত বিষয়ে সবশেষে অর্থমন্ত্রীই বলবেন।

এ পর্যায়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিরোধী দল বলল, আমাদের মন্ত্রীরা নাই, ঠিক আছে। বলার আগে যদি নিজেদের দিকে তাকিয়ে বলতেন। সংসদে বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা দুজনের কেউই নাই।’

অর্থের সংসদীয় কমিটিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের স্থায়ী কমিটিতে না রাখার রেওয়াজ ছিল সংসদীয় ইতিহাসে। তবে রেওয়াজ ভেঙে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো সংসদীয় কমিটি। কিন্তু চলমান সংসদে কমিটি গঠনে ধীরগতি এবং আইনসভার তদারকি কমিটিতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে সদস্য করার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের মৌলিক চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব হয়ে পড়ে।

জানতে চাইলে অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি অতীতে ছোটখাটো ভুল করেই বড় বিপদে পড়েছে। রেওয়াজ ভাঙার এই দৃষ্টান্ত তৈরির কোনো প্রয়োজন ছিল না। কারণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদাধিকারবলেই সদস্য থাকেন। সেখানে আরেকজন মন্ত্রীকে নিয়ে সদস্য করা খুবই দৃষ্টিকটু।

বাজেট বক্তৃতায় বাজেট নেই

২২ জুন বাজেট আলোচনায় অংশ নেন জামালপুর-২ আসনের এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। তাঁকে প্রথমে ৬ মিনিট সময় দেন স্পিকার। কিন্তু তিনি বাজেট নিয়ে তেমন কিছু বলেননি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি তো বাজেট নিয়ে কোনো কথাই বলেন নাই।’

এরপর সুলতান আহমদকে স্পিকার আরও দুই মিনিট সময় দেন। ওই দুই মিনিটেও তিনি বাজেট নিয়ে কিছু বলেননি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসায় তাঁর সময় শেষ হয়ে যায়। এ নিয়ে হাস্যরস হয় সংসদে।

অবশ্য বাজেট আলোচনায় প্রশংসিত হয়েছেন সরকারদলীয় একজন এমপি। সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী নির্ধারিত ১০ মিনিটের পুরোটা বাজেট নিয়ে কথা বলেন। বাজেট আলোচনায় অংশ নিতে স্পিকার সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আমান উল্লাহ আমানের নাম ঘোষণার পরও তারা বক্তৃতা করেননি। দুইজনেই বলেন, তাদের নাম যে বক্তার তালিকায় রয়েছে, তা জানতেন না। হুইপরা তা জানাননি।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান সমকালকে বলেন, সংসদে সমন্বয়হীনতা বলে কিছু নেই। কিছু ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। অনেক এমপিকে তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য বারবার বলা হলেও তারা পরে বক্তব্য দিতে চান। ফলে এক সময় বাধ্য হয়ে ওই এমপিদের নাম তালিকায় দিতে হয়।

পোশাক নিয়ে বিতর্ক

গত ১৪ জুন বিরোধী দলের নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য সরকারি দলের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তির মুখে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁর বক্তব্যের একাংশ এক্সপাঞ্জ করেন। কিন্তু একাধিকবার নির্বাচিত এই এমপি বিষয়টি মেনে নেননি। তিনি চিফ হুইপকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্য না বুঝেই এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে। বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদের বৈঠকে যোগদান করবেন না।

১৪ জুনের বক্তব্যের পর ব্যাখ্যা দিতে ফ্লোর চাইলেও মনিরুল হককে বসিয়ে দেন ডেপুটি স্পিকার। গতকাল সোমবার মনিরুল হক সমকালকে বলেছেন, বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে তাঁকে অবহেলা করা হয়েছে।

জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক

বিএনপির বিরুদ্ধে ‘জুলাই সনদ’ বা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অবমূল্যায়নের অভিযোগ করছে বিরোধী দল। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও সরকারি দলের অনেক এমপি একই ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান দেখিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি ফজলুর রহমানের বক্তব্যে দলের সামনের সারির সদস্যদের অস্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। গাজীপুর-২ আসনের এমপি মঞ্জুরুল করিম রনি জুলাই সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনার সময় বিষয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক’ বলে আখ্যা দেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়।

নির্বাচন আদায়ে আপস করে বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে– স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যেও বিএনপি বিরোধী দলের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়। পরে অবশ্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা হচ্ছে। তিনি আসলে বুঝিয়েছেন, দ্রুত নির্বাচনের স্বার্থে সব বিষয়ে একমত না হওয়ার পরও সনদে সই করেছে বিএনপি।

কক্সবাজার-২ আসনের বিএনপির এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ সংসদে পবিত্র কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ করেন। এ নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিরোধী সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগ

সংসদে বিভিন্ন বিল পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথ আলোচনার সময় না দেওয়া এবং বিলের কপি না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সরকারি দলের বিরুদ্ধে। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কমপক্ষে তিন দিন আগে বিলের কপি সব সদস্যকে সরবরাহ করার নিয়ম থাকলেও তার ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগে গত ২৮ জুন বিরোধী দল ওয়াকআউট করে।

এর আগে প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ যখন বিল আকারে সংসদে তোলা হচ্ছিল, তখন কয়েকটি ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানায়। স্পিকারের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, বিরোধী দল সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ নেয়নি। তাই তাদের আপত্তি ধোপে টেকেনি। যদিও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, বিলগুলো উত্থাপনের আগে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে টেবিলে সরবরাহ করা হচ্ছে না।

বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহর ঢাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভও ঢাকার চেয়ে বেশি বাসযোগ্য

প্রতি বছরের মতো এবারও বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচক প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। বিশ্বের ১৭৩টি শহরের ওপর পরিচালিত এই জরিপে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে ঢাকা। গত বছরের মতো এবারও তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানীর অবস্থান ১৭১তম।

ইআইইউর ‘গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ দেখা গেছে, ঢাকার মোট স্কোর ৪২। ঢাকার নিচে রয়েছে শুধু ত্রিপোলি ও দামেস্ক। তালিকায় ত্রিপোলির অবস্থান ১৭২তম এবং দামেস্ক রয়েছে সর্বশেষ ১৭৩তম স্থানে।

মূলত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগকে সহায়তা এবং প্রবাসী কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে এই সূচক প্রকাশ করে ইআইইউ। ইআইইউ শহরগুলোর বাসযোগ্যতা মূল্যায়নে পাঁচটি সূচক বিবেচনায় নিয়েছে—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরেই বাসযোগ্যতার সূচকে ধারাবাহিকভাবে তলানির দিকে রয়েছে ঢাকা।

এবার বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রাখা শহরটির মোট স্কোর ৯৮। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। উত্তর আমেরিকার একমাত্র শহর হিসেবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহৎ মহানগরগুলোর মধ্যে জাপানের টোকিও একমাত্র শহর, যা শীর্ষ দশে রয়েছে। ইআইইউর মতে, যানজট, জনঘনত্ব ও অপরাধপ্রবণতার মতো কারণে বড় শহরগুলোর বাসযোগ্যতার স্কোর সাধারণত কমে যায়।

২০১৩ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের অবস্থান ধরে রেখেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। শহরটির স্কোর ৩১ দশমিক ৬। এর ঠিক ওপরে, ১৭২তম অবস্থানে রয়েছে লিবিয়ার ত্রিপোলি। ৪১ দশমিক ৭ স্কোর নিয়ে ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। আর পাকিস্তানের করাচি রয়েছে ১৭০তম স্থানে।

সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি শহরের র‌্যাংকিংয়ে। ইরানি ড্রোন হামলার পর ওমানের রাজধানী মাস্কাট ১৪ ধাপ পিছিয়ে ১২৩তম স্থানে নেমে গেছে। একইভাবে কাতারের দোহা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং আবুধাবির অবস্থানও কয়েক ধাপ নিচে নেমেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বছর এশিয়ার শহরগুলোর সামগ্রিক অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের বিভিন্ন শহরের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কারণে এশিয়ার গড় স্কোর শূন্য দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। বর্তমানে এশিয়ার ৫৮টি শহরের গড় স্কোর দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৯, যা পূর্ব ইউরোপের গড় স্কোরের চেয়েও বেশি।তবে ঢাকার মতো ‘সবচেয়ে অনুন্নত শহরগুলোর’ ধারাবাহিক কম স্কোর এশিয়ার সামগ্রিক গড়কে নিচের দিকে টেনে ধরেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি বিনিয়োগের কারণে চীনের শহরগুলো স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। দেশটি এমন একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যাতে প্রতিটি নাগরিক ১৫ মিনিট হাঁটার দূরত্বের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। তবে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা, পরিবেশগত সমস্যা এবং গণতান্ত্রিক ঘাটতির কারণে চীনের শহরগুলোর সামগ্রিক বাসযোগ্যতার র‌্যাংকিং প্রত্যাশিত হারে উন্নতি করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় পাঁচ শহর হলো ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন, ভিয়েনা, মেলবোর্ন, সিডনি ও জুরিখ। এই তালিকায় ইউরোপের শহরগুলোর আধিপত্যের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক ভালো পারফরমন্যান্স প্রতিফলিত হয়েছে।

টানা দুই বছর ধরে তালিকার শীর্ষে আছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। শহরটি স্থিতিশীলতা, শিক্ষা ও অবকাঠামোয় ১০০ তে ১০০ পেয়েছে। পাশাপাশি, সংস্কৃতি ও পরিবেশ স্কোরেও উপরের দিকেই ছিল এই শহরটির অবস্থান। তালিকার তলানিতে থাকা শহরগুলো হলো তেহরান, হারারে, কিয়েভ, পোর্ট মোর্সবি, লাগোস, আলজিয়ার্স, করাচি, ঢাকা, ত্রিপলি ও দামেস্ক।

প্রতিবেদনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।

ব্রাজিলের বিদায় নিয়ে যা বললেন আর্জেন্টিনা কোচ

নরওয়ের কাছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিদায়কে নিজেদের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, সেলেসাওদের বিদায়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল একের পর এক নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করা। মঙ্গলবার মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের হার নিয়ে এমন মন্তব্য করেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতে এন্দ্রিকের মিস করা সুযোগটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন স্কালোনি।

ব্রাজিলের বিদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের ম্যাচের বেশির ভাগই দেখেছি। নরওয়ে অবশ্যই ভালো দল। কিন্তু ম্যাচের শুরুতে স্কোর যখন ০-০ ছিল, তখন এন্দ্রিক যদি ওই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারত, তাহলে আজ আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প নিয়ে কথা বলতাম। ব্রাজিল মূলত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল। ওদের বিদায় আমাদেরও সতর্ক করে দিয়েছে, কারণ আমরাও আজ কঠিন এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নামছি।’

এদিকে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বরাবরের মতোই শুরুর একাদশ গোপন রেখেছেন স্কালোনি। তবে জানিয়ে দিয়েছেন, দল চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি একাদশ ঠিক করেছি। কিন্তু এখনো খেলোয়াড়দের জানাইনি, তাই আপনাদেরও বলব না। তবে প্রেস অফিস থেকে শুনেছি, আপনারা সাংবাদিকেরা মোটামুটি একাদশ অনুমান করে ফেলেছেন। বলা যায়, আপনারাদের ধারণা খুব একটা ভুল নয়।’

তিন দিন আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিট খেলেছেন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। তাকে নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেই জানিয়েছেন স্কালোনি, ‘মেসি পুরোপুরি ভালো আছে। ৩৯ বছর বয়সেও আগের ম্যাচে ১২০ মিনিট খেলেছে, অথচ কোনো ক্লান্তির কথা বলেনি। ও স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তুত আছে।’

মিসরকে শেষ ষোলোর অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন আর্জেন্টিনা কোচ, ‘মিসর খুবই সংগঠিত একটি দল। তাদের খেলার পরিষ্কার পরিকল্পনা আছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগ খুব শক্তিশালী এবং তারা প্রতিপক্ষকে ভোগাতে জানে। আমাদের বিপক্ষেও নিশ্চয়ই একই কৌশল নিয়ে নামবে।’

মিরপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর শরীরে আগুন, ১১ দিন পর মৃত্যু

রাজধানীর মিরপুরে কেরোসিনের আগুনে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা পোশাকশ্রমিক শিফা আক্তার (১৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দগ্ধ হওয়ার ১১ দিন পর রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত শিফার স্বামী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেছে শিফার পরিবার।

তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পারে, শিফা মায়ের বাসা থেকে বের হয়ে নিজেই শরীরে গ্যাস লাইটার দিয়ে আগুন ধরান। এ সংক্রান্ত একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে।

স্বজনরা জানান, শিফার পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে। চার বোনের মধ্যে শিফা সবার বড়। প্রায় আট মাস আগে একই উপজেলার লাউরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের সোহেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকার বড়বাগে আজমত গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তবে বর্তমানে তার স্বামী হাজারিবাগে বাসা নিয়েছেন। সেখানেই থাকেন তারা। মাঝে মধ্যে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হতো। অনেক সময় স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পারায় মিরপুর–২ এলাকায় বাবার বাসায় চলে যেতেন শিফা।

শিফার বাবা জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, বিয়ের সময় কিছু টাকা সোহেলকে যৌতুক হিসেবে দেয়ার কথা ছিল। তবে অভাবের কারণে সেই টাকা তখন দিতে পারেননি তিনি। টাকার জন্য সোহেল ও তাঁর মা–বাবা শিফাকে নানাভাবে চাপ দিত। সোহেল তাকে মারধরও করতেন। এরপরই শিফা গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছিলেন। পরে সোহেলও ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নেন। শিফা ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, এক মাস আগেও সোহেল শিফাকে মারধর করে। তাঁকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। শিফা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে চাকরি ছেড়ে দেন।

তিনি বলেন, ২৪ জুন রাতে সোহেল আমার মেয়ের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান রোববার রাত সোয়া ১১টায় সমকালকে বলেন, গত ২৪ জুন দগ্ধ হয়ে শিফা হাসপাতালে ভর্তি হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়নি। রোববার বিকেলে মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঘটনাস্থলের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাতে দেখা যায়, শিফা মায়ের বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে একটি দোকান গ্যাস লাইটার নিয়ে নিজের শরীরে আগুন ধরাচ্ছে।

ওসি জানান, মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় স্বামী সোহেলের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

তিন শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মামলা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, খুলনার কয়রা ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিন শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তিনটি ঘটনার মধ্যে দুটি ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে রাঙামাটির বরকলে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে।

শিক্ষিকার স্বামীর কাণ্ড

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার মা মামলা করেছেন। গত শনিবার রাতে করা মামলায় আসামি করা হয়েছে রফিকুল ইসলাম নামের এক পল্লিচিকিৎসককে। জানা গেছে, রফিকুলের স্ত্রী স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি বাড়ির টুকটাক কাজের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডাকতেন। এ সুযোগে তাঁর স্বামী শিক্ষার্থীদের শরীরে আপত্তিকর স্পর্শ করতেন। এমনকি নিজের মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখাতেন। গত ২৮ জুন পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে কৌশলে ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নেন রফিকুল। পরে মুখে গামছা চেপে ধর্ষণ করেন তিনি। কাউকে ঘটনা জানাতেও মানা করেন। গত শুক্রবার মেয়েটি তার শিক্ষিকার বাড়ি গেলে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা চালালে সে বাড়ি ফিরে মা-বাবাকে জানায়। গ্রামের বিশিষ্টজনের পরামর্শে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন। শাহজাদপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

মেয়েকে উদ্ধার করলেন মা

খুলনার কয়রায় বৃষ্টিতে আটকে পড়া শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার সময় তাকে উদ্ধার করেছেন মা। গত শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সাইফুল মোল্লা (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত শনিবার বিকেলে সাইফুলের বাড়ির সামনে খেলছিল প্রতিবেশী মেয়েটি। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে সে বারান্দায় আশ্রয় নেয়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাইফুল তাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মেয়েটির চিৎকার শুনে মা এসে সাইফুলের মাথায় পিড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে উদ্ধার করেন। পরে এলাকাবাসী সাইফুলকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

কয়রা থানার ওসি হাসানুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাইফুলকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা মামলা করলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে গতকাল রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মন্দিরের সভাপতি গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আট বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হওয়া মামলায় নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মেয়েটিকে চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার রাতে থানায় এজাহার দেওয়ার পর তাঁকে আটক করে পুলিশ।

পেশায় কৃষক নারায়ণ চন্দ্র রায় স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভাপতি। রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গৃহবধূর মামলা

রাঙামাটির বরকলে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির মামলার মো. মহসিন (৪৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের ছড়ায় গোসলে যান ওই গৃহবধূ। ফেরার পথে প্রতিবেশী মহসিন তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আত্মীয়-স্বজন এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়। অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী গ্রামপুলিশের সহায়তায় মহসিনকে আটক করে পুলিশে দেয়। ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগ, মহসিন চরিত্রহীন। বরকলে তার স্বী-সন্তান বা কোনো আত্মীয়স্বজন থাকেন না। এমন আরও অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

গত শনিবার ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে শ্লীলতাহানির মামলা করেন বলে জানান বরকল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, মহসিনকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ প্রতিষ্ঠান আছে কাগজে, বাস্তবে মিলছে না

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে চাল বরাদ্দ দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৫ টন চাল বরাদ্দ হয়। এসবের বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। কিন্তু নানা জায়গায় খোঁজ নিয়েও তালিকায় থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এলাকার পরিচিত কিছু প্রতিষ্ঠানের নামের অংশ বদল করে নতুন নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এমন অনিয়মের কারণে প্রকৃত এতিম শিক্ষার্থীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০২৫ সালের শেষের দিকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের সুপারিশে ১৫টি এতিমখানার নামে ১৫ টন চাল বরাদ্দ দেন বরিশাল জেলা প্রশাসক। এগুলো হলো– বামনিকাঠী আল আকসা জামে মসজিদ ও এতিমখানা, উত্তমপুর জামে মসজিদ, আল কোরআন নুরানী মডেল মাদ্রাসা ও এতিমখানা, রঘুনাথপুর জান্নাতুল মাদ্রাসা ও এতিমখানা, মমতাজন্নেছা মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা, ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, চৌধুরী বাড়ীর জামে মসজিদ ও এতিমখানা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং, দক্ষিণ দাড়িয়াল দারুসুন্নাত হাফেজি মাদ্রাসা ও এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং, ছালেহিয়া দিনিয়া মাদ্রাসা চরামদ্দি, পাঠকাঠী জামে মসজিদ ও এতিমখানা, বায়তুল আকসা জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা, খয়রাবাদ হাফেজি মাদ্রাসা ও এতিমখানা, শিয়ালঘুনি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও দাড়িয়াল দারুন্নাজাত হাফেজি মাদ্রাসা ও এতিমখানা।

তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটির পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া হয়নি। সরেজমিন খোঁজ নিয়েও এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য মেলেনি। তালিকার ৬ নম্বরে থাকা ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেদগঞ্জ এলাকায় এই নামে একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যক্রম নেই। পাশেই বাকেরগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু আছে। এই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই।

বাকেরগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো বরাদ্দ আসে না। অথচ অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ আসে।’

তালিকার পাঁচ নম্বরে আছে মমতাজন্নেছা মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলসকাঠী ইউনিয়নের চর কলসকাঠী এলাকায় কাছাকাছি নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। সেটির নাম মুসলিম পাড়া মমতাজ নেছা মহিলা মাদ্রাসা। এই প্রতিষ্ঠানটি মুসলিমপাড়া সুন্নাতিয়া কারিমীয়া বহুমুখী মাদ্রাসা ও এতিমখানার সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুসলিমপাড়া সুন্নাতিয়া কারিমীয়া বহুমুখী মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, যে নামে চাল বরাদ্দ হয়েছে, সে নামে এই এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই বরাদ্দ তুলে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ করেন, এসব তালিকার সঙ্গে সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তারা জড়িত। তাদের যোগসাজশে এতিমদের বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পৌর এলাকার ফয়জুল করিম দারুল উলূম বহুমুখী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় শিক্ষকতা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ শাখার নেতা মাওলানা কামাল উদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, ‘উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের বরাদ্দ তালিকায় যে নামগুলো দেখেছি, আমার জানামতে সেগুলোর একটি নামও সঠিক নয়। এসব নামে কোনো মাদ্রাসা বা এতিমখানা আছে বলে আমার জানা নেই।’ ভুয়া তালিকা করে এভাবে এতিমের নামে বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

বাকেরগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার অভিভাবক সদস্য ও পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘শুনেছিলাম আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে তিন টন চাল বরাদ্দ এসেছে। পরে অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমাদের নামে কোনো বরাদ্দ নেই।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ শাখার সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া বাকেরগঞ্জ আল কারিম মডেল মাদ্রাসার পরিচালক পদেও আছেন। তিনি বলেন, ‘এতিমের হক আত্মসাৎ করা শুধু অপরাধ নয়, এটি পাপও। যারা এতিমদের বরাদ্দ আত্মসাৎ করেছেন, তাদের কঠোর বিচার হওয়া উচিত।’

এসব বিষয়ে কোনো কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান। তিনি খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত জানানোর আশ্বাস দেন।

বাকেরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, ‘বরাদ্দের বিষয়টি আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে আদৌ বরাদ্দ হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হবে।’ তবে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে এক রাতেই রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেসহ পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক রাতেই উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটেছে পৃথক পাহাড়ধস। এছাড়াও কক্সবাজার শহরে আরও একটি পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত আট রোহিঙ্গাসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ নম্বর বালুখালী ও ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর চালায় উদ্ধার অভিযান।

রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ মোস্তাফা জানান, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।

Untitled 14 1783305840

উদ্ধারকারীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে অবস্থান করছিলেন পরিবারের ১০ সদস্য। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকেই হয়েছেন গুরুতর আহত।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চালানো হয় উদ্ধার অভিযান। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

Untitled 13 1783305924

এর কিছুক্ষণ পরই রাত ২টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে সে।

ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার করেন শিশুটির মরদেহ।

রাত গড়াতে না গড়াতেই আরেকটি দুঃসংবাদ আসে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।

নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

তিনটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা। তিনি জানান, ‘সবকটি ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

Untitled 16 1783305965

এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় পাহাড় ধ্বসে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাফর আলমের বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড়ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। তিনি বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।’

টুথপেস্ট দিয়ে গহনা, প্লেট, জুতা পরিষ্কারের উপায়

প্রতিদিন সকালে যে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করেন, সেই একই টুথপেস্ট ব্যবহার করে অন্যান্য অনেক কাজ করতে পারেন। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ পেস্ট ব্যবহারেও একই কাজ করা যাবে। তবে রঙিন বা জেল পেস্ট নয়, বরং সাধারণ সাদা পেস্টকে নানা উপায়ে কাজে লাগাতে পারেন।

রূপার গহনা এবং তামার প্লেট পরিষ্কার 
রুপার গহনা বা তামার প্লেট দ্রুত কালো হয়ে যায়। এই কালচে ভাব দূর করতে দামি পলিশের প্রয়োজন নেই। পুরোনো টুথপেস্ট ব্রাশে নিয়ে গহনা বা প্লেটের গায়ে মাখিয়ে হালকা ভাবে ঘষুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিন। গহনা ও প্লেট নতুনের মতো চকচক করবে।

সাদা জুতা পরিষ্কার করতে
সাদা স্নিকার্স বা জুতা কিছুদিন ব্যবহার করলেই নোংরা হয়ে যায়। বিশেষত, বাদলা দিনে পরলে দাগ বসে যায়। সেই দাগ সহজে উঠতেও চায় না। জুতার দাগের উপর সামান্য টুথপেস্ট লাগিয়ে একটি পুরোনো টুথব্রাশ দিয়ে স্ক্রাব করুন। কিছুক্ষণ ঘষার পর একটি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

আয়না এবং বাথরুমের কল পরিষ্কার
বাথরুমের কাচের আয়না বা স্টিলের কলে পানির দাগ বসে গেলে সহজে উঠতে চায় না। এক্ষেত্রেও কাজে আসবে টুথপেস্ট। একটু টুথপেস্ট স্পঞ্জ বা কাপড়ে নিয়ে কল ও আয়নায় ভালো করে ঘষে নিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন স্টিলের উজ্জ্বলতা ফিরেছে এবং কাচ পরিষ্কার হয়ে গেছে।

হাত থেকে গন্ধ দূর করতে
পেঁয়াজ, রসুন কাটার পর বা মাছ-মাংস পরিষ্কারের পরে হাতে এক ধরনের তীব্র গন্ধ থেকে যায়। সাধারণ হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার পরেও সেই গন্ধ সহজে দূর হতে চায় না। এক্ষেত্রে সামান্য টুথপেস্ট হাতে নিয়ে সাবানের মতো ঘষে ধুয়ে ফেলুন। হাত থেকে নিমেষেই দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

নখের উজ্জ্বলতায়, ব্রণ তাড়াতে
গৃহস্থালী কাজ ছাড়াও টুথপেস্ট নখের উজ্জ্বলতায় এবং ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের নখ হলদেটে হয়ে যায় তারা ব্রাশে পেস্ট নিয়ে কিছুক্ষণ ঘষুন। আবার যেসব তরুণীদের মুখে, কপালে ব্রণ হয় তারাও টুথপেস্টের সাহায্য নিতে পারেন।

যে ৭ পানীয়তে কমবে বুকজ্বালা, গ্যাসের সমস্যা

বুকজ্বালা, অম্বল, টক ঢেকুর, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। সহজ সমাধান হিসেবে তারা ওষুধ খেয়ে নেন। হজমের ওষুধ অতিরিক্ত খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকার’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের বদলে রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই কমানো যায় গ্যাস, বুকজ্বালার সমস্যা।

মৌরি ভেজানো পানি: মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। অম্বল ও গ্যাসের সমস্যায় মৌরি ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে তার পানি পান করতে পারেন। অম্বল বা বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে এই ঘরোয়া পানীয়। কারণ, এতে থাকা অ্যানিথোল নামক যৌগ পাকস্থলীর পেশিগুলোকে শিথিল করে এবং হজমকারী রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে গ্যাস ও ফোলা ভাব কমায়।

জিরা পানি: বদহজমের সমস্যা কমানোর জন্য জিরার জুড়ি মেলা ভার। জিরায় থাইমল নামক তেল থাকে, যা লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এর ফলে পাচক রস ও এনজ়াইম নিঃসরণ বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে এটি। ফলে হজমে সমস্যা হয় না। পাশাপাশি এটি পেটফাঁপা এবং গ্যাসও কমায়। এই মশলা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে।

লবঙ্গ ভেজানো পানি: লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনই হজমেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অনেকেই অম্বল হলে একটি বা দু’টি লবঙ্গ মুখে রেখে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। লবঙ্গ হাতে চিপে পানিতে ফেলে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ওই পানি ছেঁকে পান করুন। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা অনেকটা কমবে।

আদা পানি: আদা হজমের সমস্যায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ হালকা আদা দেওয়া গরম পানি বা আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে, হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং প্রদাহ কমায়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা কমে।

এলাচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে অম্বল কমাতে পারে এলাচ। বুকজ্বালা দূর করে পেট ঠান্ডা করতে পারে এটি। এলাচ গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খানিক পরে সেই পানি ছেঁকে পান করলে আরাম মিলবে।

ধনের পানি: গোটা ধনে এবং ধনেপাতা, দু’টিই হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে পাচক রস এবং এনজ়াইম ক্ষরণ বাড়ায় ধনে। এটি খাবারকে দ্রুত ও সঠিক ভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। তাই ধনে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানিটুকু ছেঁকে খেয়ে নিলে আরাম পেতে পারেন।

ঈষদুষ্ণ পানি: সাধারণ গরম পানিও হজমে কাজে দিতে পারে। খাবারের পরে অল্প গরম পানি পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং অস্বস্তি কমতে পারে। কারণ, ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম পানি হজমের গতি বাড়াতে পারে, অন্ত্রকে সচল করে, বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে বদহজম কমাতে সাহায্য করে। গরম জল পাকস্থলীতে পৌঁছানোর পর খাবার ও চর্বিকে সহজে দ্রবীভূত করতে পারে। ফলে দেহ দ্রুত খাদ্যকণাগুলো হজম করতে পারে।

পুরোনো হিসাব বদলে দেবে ইরান যুদ্ধ আলি খামেনির উত্তরসূরিরা যুদ্ধ নিয়ে ভীত নয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর অনেকেই এর সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভার্সাই চুক্তির সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন। বিশেষ করে ফ্রান্সে বসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের বিষয়টি নজর কেড়েছিল সবার। ১৯১৯ সালের ওই চুক্তি ইউরোপকে বদলে দিয়েছে। সমঝোতায় ছিল ব্যাপক ক্ষতিপূরণের শর্ত, যা পরবর্তী সময় ইউরোপকে নিয়ে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে।

অনেকেই সে কারণে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক কি তাহলে সেদিক থেকে ভিন্ন হবে? নাকি একই ধরনের কিছু দেখা যাবে? সমঝোতার পর তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কোনো না কোনোভাবে টিকে আছে। এর মধ্যে একদফায় হামলা হয়ে গেলেও তা পরিপূর্ণ সংঘাতে রূপ নেয়নি।

এদিকে, ইরান বড় মাপের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটি নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে এরই মধ্যে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আগের শাসক শ্রেণির অনেকেই মারা গেছেন। যদিও নতুন নেতৃত্ব পুরোনো ঘরানার বাইরে নন, তার পরও এটি বড় পরিবর্তন।

এ প্রসঙ্গে জন হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড মিডল ইস্ট স্টাডিজের অধ্যাপক ভালি নাসর বলেন, ‘এই যুদ্ধকে আমরা যতটা না স্বীকৃতি দিই, এটির তার চেয়েও বেশি প্রভাব ও বৃহৎ পরিণতি রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ মাত্রার সব বড় যুদ্ধ আদতে দাবার ঘুঁটি আবার সাজানোর মতো। এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে সে প্রভাব রাখবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি তেহরানে শাসক শ্রেণি পরিবর্তন করেছেন। ভালি নাসরের মতে, এটি মূলত ইরানের জন্য লাভজনক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একেবারে নতুন একটি প্রজন্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের অত্যন্ত স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। তারা এই যুদ্ধ সামলেছে, এখন তারা শান্তিও সামলাবে।’

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বয়স ৫৬। প্রয়াত আলি খামেনির সঙ্গে তাঁর বয়সের পার্থক্য অন্তত ৩০ বছর। তাঁর শারীরিক সক্ষমতাও বেশি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বয়স ৭১, পার্লামেন্টের স্পিকার ও মুখ্য আলোচক বাঘের গালিবাফ এবং রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের আহমাদ ভাহিদি– দুজনের বয়সই ৬০-এর ঘরে। লন্ডনের চ্যাথাম হাউস থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মিডল ইস্ট অ্যান্ড নর্থ আফ্রিকা প্রোগ্রামের সানাম ভাকিল বলেন, ‘তারা বিপ্লবের ফসল। ৮৬ বছরের একজন আর ইসলামী প্রজাতন্ত্রের দিকনির্দেশনা ঠিক করছেন না। ইরানের ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় হ্যান্ডব্রেক ছিলেন আলি খামেনি। দশক ধরে সতর্ক খামেনি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তি নয়’ নীতি অনুসরণ করেছেন। তবে তাঁর উত্তরসূরিরা আরও দৃঢ়। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পিছপা হননি। আবার কয়েক সপ্তাহ পরে যুদ্ধ অবসানে আলোচনার টেবিলে বসা থেকেও নিজেদের গুটিয়ে নেননি। বরং তারা এমন শর্তে পুরো বিষয়টিকে অবসানের পথে নিয়ে গেছেন, যা তেহরানের জন্য বিব্রতকর নয়।

এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যে ভরসা রেখেছিল, তাতে চিড় ধরতে শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, অনেক দেশই ভেবেছিল, তাদের দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকলে সেটি তাদের সুরক্ষা দেবে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা বলয়ের নির্ভরযোগ্যতা ও নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

হরমুজে ‘বন্ধুদের’ বিশেষ ছাড়

চীনে নিযুক্ত ইরানের দূত জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়া জাহাজের আগামীতে খরচ দিতে হবে। তবে চীন ও অন্যান্য বন্ধু দেশ বিশেষ ছাড় পাবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, ৬০ দিন হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় করতে পারবে না ইরান। তবে এর পরে কী হবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।

আঞ্চলিক সমর্থন ছাড়া শান্তি আসবে না

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, আঞ্চলিক সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফলতা আসবে না। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ক্ষতি করতে দেওয়া উচিত হবে না।

গত শনিবার এরদোয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা ও অবদান থেকে শক্তি আহরণ করে না এমন কোনো সমাধান দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে না। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।