Home Blog Page 377

নৈরাজ্যের আশঙ্কা করছে এসবি, সব জেলায় সতর্কবার্তা

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) আশঙ্কা করছে, ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে কেন্দ্র করে অনলাইন ও অফলাইনে সংঘবদ্ধ প্রচারণার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ। দলটির কিছু নেতা ও কর্মী এ সময় সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, বিশৃঙ্খলা কিংবা ভাঙচুর চালাতে পারে বলেও ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে ডিএমপি কমিশনার, সিটি এসবি, বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম ও খুলনার স্পেশাল পুলিশ সুপারসহ দেশের সব জেলা পুলিশ সুপারের কাছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সামাজিক সংগঠনগুলো ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এই ধারাবাহিকতায় ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘এই সময়ে ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো দেশব্যাপী অনলাইন ও অফলাইনে উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বা উসকানি সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টাও হতে পারে।’

এমন পরিস্থিতিতে দেশের সকল ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রম তীব্র করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরে নিখোঁজ হওয়া নারীর মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের টঙ্গীতে খোলা ম্যানহোলে পড়ে নিখোঁজ সেই নারীর মরদেহ ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে টঙ্গীর বাষ্পট্টি বিলের মাঝখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, গত রোববার (২৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হোসেন মার্কেট এলাকায় ভারী বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় হাঁটার সময় খোলা ও ঢাকনাবিহীন একটি ম্যানহোলে পড়ে যান ওই নারী। মুহূর্তেই পানির প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান তিনি।

মৃত তাসনিম সিদ্দিকী জ্যোতি রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা ছিলেন এবং ‘মনি ট্রেডিং’ নামের একটি ওষুধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মসজিদপাড়ার মৃত ওলিউল্লাহ আহাম্মদ বাবলুর মেয়ে।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা রাতেই অভিযান শুরু করেন। কিন্তু সোমবার রাত পর্যন্ত কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সড়কের পাশের ১২ ফুট প্রশস্ত ড্রেন সংকুচিত করে ৬ ফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে বৃষ্টির সময় পানির প্রবল স্রোত তৈরি হয় এবং নিরাপত্তাহীন খোলা ম্যানহোলে পড়ে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গী ইউনিটের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থলের ম্যানহোলটি প্রায় ১০ ফুট গভীর এবং প্রবল বর্ষণের কারণে পুরোপুরি পানিতে ডুবে ছিল। আজ সকাল ৯টার দিকে আমাদের ডুবুরি দল জ্যোতির মরদেহ উদ্ধার করে।’

এদিকে দুর্ঘটনার তদন্তে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সচিবকে প্রধান করে ৪ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৭ কর্মদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: বিমা ছিল না যুদ্ধবিমান ও স্কুল কর্তৃপক্ষ কারোরই

 

রাজধানীর উত্তরা, যেখানে প্রতিদিন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিশুরা আসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে, সেই চেনা প্রাঙ্গণ ২১ জুলাই বেলা সোয়া একটায় হঠাৎ এক মর্মান্তিক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আকস্মিকভাবে আছড়ে পড়ে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর। এই ভয়াবহ ঘটনায় অন্তত ৩৫টি শিশুর জীবন স্বপ্নযাত্রা থেমে যায়। দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার পর উন্মোচিত হয়েছে আরও এক নির্মম সত্য—বিধ্বস্ত বিমানের ছিল না কোনো বিমা। বিমার আওতায় ছিল না স্কুলটিও, ছিল না শিক্ষক-শিক্ষার্থী কিংবা প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের কোনো সুরক্ষাও। একমাত্র বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা কাভারেজের আওতায়। সেই বিমার ১২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ তাঁর পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসবিসির জেনারেল ম্যানেজার (পুনর্বিমা বিভাগ) এস এম শাহ আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে প্রশিক্ষণ বিমানের বিমা করা হয় না। তবে বাহিনীর সদস্যদের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা পলিসি থাকে। তৌকির ইসলামের ক্ষেত্রে সেই বিমার আওতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।’ এসবিসির জিএম বলেন, অতিমাত্রায় ঝুঁকি এবং গোপনীয়তা রক্ষায় যুদ্ধ বিমানের বিমা করা হয় না।

শাহ আলম আরও জানান, তৌকিরের পরিবার আবেদন করলেই দ্রুত পরিশোধ সম্পন্ন হবে। তবে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের বিষয়ে এসবিসি কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের সঙ্গে তাদের কোনো বিমা চুক্তি নেই। ব্যক্তিগতভাবে কেউ বিমা করে থাকলে তা আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হবে।’

মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে, তাদের কোনো সম্পত্তি, শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর জন্য বিমা ছিল না। কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো কোনো স্কুল বা কলেজ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রুপ বিমা করে না। আমাদের প্রতিষ্ঠানেও এমন কিছু করা হয়নি।’

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) মিডিয়া পরামর্শক সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ বিমার আওতায় ছিলেন না। যদি থাকতেন, তাহলে ক্ষতিপূরণ মিলত।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান ওইদিন বেলা ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুলে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় স্কুলে ক্লাস চলছিল পুরোদমে। দোতলা ভবনের ছাদ, দেয়াল, সিঁড়ি—সবকিছু ভেঙে পড়ে। নিচতলায় ছিল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস, ওপরে দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষ। কাছেই অধ্যক্ষের কক্ষ এবং একটি কোচিং সেন্টার। ভবনের বড় অংশই ধসে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয় দুর্ঘটনাটি।

ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে ১৬৪ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি কি এতটাই দুর্বল যে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী কোনো ঝুঁকির নিরাপত্তা ছাড়া একটি জনবহুল ভবনে প্রতিদিন সময় কাটাচ্ছেন? একটি যুদ্ধবিমান নগর আকাশে ওড়ানো হবে, সেটি যদি নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে তার পতনের দায় শুধুই কি ‘বিমা ছিল না’ বলে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমাকাঠামোর এই ভয়াবহ শূন্যতা শুধু একটি নীতিগত ব্যর্থতা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার প্রতীক। যখন পাইলটের জন্য নির্ধারিত আর্থিক সুরক্ষা থাকে, তখন কেন শিশুদের জীবনের জন্য কোনো প্রস্তুতি থাকে না?

এই দুর্ঘটনা শুধু একটি যুদ্ধবিমান পতনের গল্প নয়। এটি আমাদের বিমা-সংস্কৃতির সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে রাষ্ট্রের নীরবতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতার নগ্ন প্রদর্শন। প্রশ্ন উঠেছে, আগামীতে কি কিছু পাল্টাবে? নাকি এই মৃত্যুর মিছিলও হারিয়ে যাবে আরেকটি ‘দুর্ঘটনার’ স্তূপে—এমন প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের।

তাঁরা বলেন, এখনই সময় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক বিমা কাভারেজের আওতায় আনার, বিশেষত শহুরে জনবহুল এলাকায়। তা না হলে আরেকটি মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি হয়তো সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

তাসকিনের বিরুদ্ধে বন্ধুকে মারধরের অভিযোগ থানায়

০

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদের বিরুদ্ধে বাল্যবন্ধুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বন্ধু সৈকত মিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মিরপুর মডেল থানা পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করলেও সেটা জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্ত চলছে। সত্যতা মিললে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, তাসকিনের বাল্যবন্ধু একটা অভিযোগ করেছেন। তারা একে অপরের পরিচিত। স্পেসিফিকভাবে মারধর করার কথা লেখেননি। আজকে ভোরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কিল-ঘুষি মারার অভিযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি জিডি না, অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান করছি। সত্যতা পেলে পরিবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে তাসকিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিসিবি পরিচালক ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘সকালে দেখলাম। আমাদের আমিনুল ইসলাম বুলবুল (বিসিবি সভাপতি) এবং ফাহিম ভাইও (ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান) দেখছেন। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়ে গেছে। এটা যদি ঘটে থাকে তাহলে খুবই দুঃখজনক। আইকন প্লেয়ার এসবে জড়ানো উচিত না। আমি এই ব্যাপারে আর মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। কি হয়েছে সেটা আগে বের হোক।’

তবে যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি নিজেই আবার থানায় আসছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বলেন, দেখি তিনি আবার কি বলতে চান।

আমিরের বাড়িতে হাজির ২৫ পুলিশ অফিসার

বলিউড অভিনেতা আমির খানের বাড়িতে হঠাৎ করেই ২৫ জন আইপিএস কর্মকর্তা হাজির হয়েছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত তার বাসভবনের সামনে থেকে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একাধিক পুলিশ গাড়ি ও একটি বাস আমিরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাটি মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, এই ২৫ জন আইপিএস কর্মকর্তার একটি বিশেষ দল আমির খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই তার বাড়িতে যান। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

নেটিজেনদের কৌতূহলের শেষ নেই। কেউ মন্তব্য করছেন, ‘সরফরোশ ২-এর প্রস্তুতি চলছে’, কেউ বলছেন, ‘নিশ্চয়ই নিমন্ত্রণ ছিল’, আবার অনেকে মনে করছেন এটি আমিরের সর্বশেষ ছবি ‘সিতারে জামিন পর’-এর প্রমোশনাল কৌশলও হতে পারে। কারণ ছবিটি গত মাসে মুক্তি পেয়েছে এবং শিশুকেন্দ্রিক এই সিনেমা দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে আমির ব্যস্ত ‘লাহোর ১৯৪৭’ নামের একটি দেশাত্মবোধক ছবির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজে। এই ছবিতে তার সঙ্গে রয়েছেন সানি দেওল।

ব্যাংককের বাজারে গুলিতে নিহত ৫, পরে বন্দুকধারীর আত্মহত্যা

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অর টর কোর মার্কেটে এক বন্দুকধারীর গুলিতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন নিরাপত্তারক্ষী। সোমবার দেশটির পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর সন্দেহভাজন বন্দুকধারী আত্মহত্যা করেছে।

তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক থাই পিবিএস জানিয়েছে, ব্যাংককের চাতুচাক জেলার ওর টর কোর মার্কেটে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করে এবং পরে নিজের ওপরও গুলি চালায়।

সন্দেহভাজনের এই হামলার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। ব্যাংককের ব্যাং সু জেলার উপ-পুলিশ প্রধান ওরাপাত সুকথাই বলেছেন, ‘পুলিশ তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত এটি একটি গণহত্যা।’

কর্তৃপক্ষ বন্দুকধারীর পরিচয় এবং থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। তাজা পণ্য এবং জনপ্রিয় চাতুচাক সপ্তাহান্তের বাজারের কাছাকাছি অবস্থিত এই বাজারটি থাই রাজধানীর একটি ব্যস্ততম গন্তব্যস্থল।

ডেপুটি কমিশনার চারিন গোপাত্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন, বন্দুকধারীসহ ছয়জন মারা গেছেন। এছাড়া এরাওয়ান জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র জানিয়েছে, হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন মহিলা।

চাপ সৃষ্টি করে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলা যাবে না: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চাপ সৃষ্টি করে বিএনপি’কে বেকায়দায় ফেলা যাবে না।তিনি বলেন, ‘আজকে যারাই চেষ্টা করুন না কেনো, আমাদেরকে (বিএনপি) বেকায়দায় ফেলার জন্য বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না।’

আজ সোমবার সকালে শাহবাগ চত্বরে জাতীয়তাবাদী যুব দলের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আমাদের সামনে জুলাই-আগস্ট বিপ্লব যে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে নতুন বাংলাদেশ গড়বার, আমরা সেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।

তিনি বলেন, একটা স্লোগান দিয়েছেন আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এটার অর্থ কী? এটার অর্থ আমরা কারো কাছে মাথা নত করব না, আমরা অন্য কোনো দেশের দিকে তাকিয়ে থাকব না।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘এই দেশের মানুষ লড়াই করেছে, লড়াই করতে জানে, লড়াই করে স্বাধীনতা এনেছে, লড়াই করে গণতন্ত্র রক্ষা করেছে এবং দেশকে মুক্ত করেছে।’

শাহবাগ চত্বরে জাতীয়তাবাদী যুব দলের উদ্যোগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘গ্রাফিতি অঙ্কন’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপি’র মহাসচিব নিজে রং তুলি নিয়ে স্ক্যানভাসে গ্রাফিতি আঁকার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে নতুন বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে, যেই বাংলাদেশে যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপি’র দিকে তাকিয়ে সাধারণ মানুষ যেন বলে- ‘এরা ভালো মানুষ, ভালো দল’।

তিনি আরো বলেন, একটা কথা আছে ইংরেজিতে ‘পাবলিক পারসেপশন’ জনমত, জনগণের ধারণা এটাই কিন্তু রাজনীতির মূল নিয়ামক।

তিনি বলেন, জনগণ কী ভাবছে? এই যে আমার ভাই ওখানে ভ্যানে ফল বিক্রি করছেন, রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন রিকশা চালাচ্ছেন অথবা যিনি সবজি বিক্রি করছেন- তিনি কী ভাবছেন? আপনারা কি কখনো তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন যে, ভাই যুদ্ধ তো একটা হয়ে গেলো। আমরা হাসিনাকে তাড়ালাম, এই যে গ্রাফিতি করছি, বড় বড় বই ছাপাবো, আপনার মতামতটা কী? বাংলাদেশের পরিবর্তনটা কী হলো?- তা জিজ্ঞাসা করেন তাকে।

তিনি বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে এই দেশকে পরিবর্তন করতে চান, তাহলে জনসাধারণকে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে, সে কী চায়? আমার ভ্যান চালক কী চায়, তার অবস্থার কতটা পরিবর্তন হয়েছে? আমার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ব্যবসার কতটা পরিবর্তন হয়েছে। আজকে এই কথাগুলো বলছি এ জন্য যে, আজকে এর প্রয়োজন এসে গেছে।

সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সারাক্ষণ সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সহযোগিতা করছি, আমরা সারাক্ষণ সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।’

হাসিনার বিচার শুরু হলো না কেনো?- এমন প্রশ্ন রেখে বিএনপি’র মহাসচিব বলেন, ‘এক বছর হয়ে গেলো হাসিনার বিচার কাজ শুরু হলো না কেনো? এখনো পর্যন্ত সেই সমস্ত হত্যাকারীদের, যারা প্রকাশ্যে হত্যা করেছে, বিবিসির প্রতিবেদনে অডিওতে দেখাচ্ছে যে,  হাসিনা নির্দেশ দিয়েছে গুলি করো-এগুলো কেনো এখন পর্যন্ত আসেনি?’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এমন কতগুলো বিষয় নিয়ে তর্ক-বির্তক করছি, এমন কতগুলো বিষয় নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে কোন্দলে লিপ্ত হয়েছি, যা বাংলাদেশকে আরও পিছিয়ে দিতে পারে। ফ্যাসিস্টদের শক্তি যোগাতে পারে, ফ্যাসিস্টদের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে আবার নতুন করে বাংলাদেশের ওপর চেপে বসার।’

গত ১৫ বছরের বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ওপর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়ন নির্যাতনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এই জুলাইয়ের আন্দোলনে যুবদলের ৭৯ জন শহীদ হয়েছেন, ছাত্রদলের ১৪২ জন শহীদ হয়েছে। শুধু কয়েকটি দল, কয়েকজন ছেলে-ছাত্র নয়, শিশু থেকে শুরু করে নব্বইয়ের বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত সেদিন রাস্তায় নেমে এসেছিল।

তিনি বলেন, ‘এই যে ত্যাগ, ২ হাজারের ওপরে মানুষ হারালাম, ছেলেদের হারালাম, আমাদের নেতা-কর্মীরা পঙ্গু হলো, চোখ হারালো তার একটাই তো লক্ষ্য, লক্ষ্যটা হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিদায় করে এই দেশে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, একটা ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।’

৫ সমন্বয়কারী গ্রেফতারের খবরে বেদনায় নীল হয়ে গেছি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে যখন পত্রিকায় দেখলাম, বেদনায় একেবারে নীল হয়ে গেছি। দেখলাম পাঁচ জন সমন্বয়কারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা জোর করে একটি বাড়ি থেকে একজন সাবেক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে নিয়েছে।

যুবদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশ তোমাদের দিকে চেয়ে আছে। তরুণ-যুবক যারা বদলে দিয়েছে, যারা পাল্টে দিয়েছে, সেই হাসিনার ক্ষমতার পতন ঘটিয়ে যারা তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছে, তাদেরকেই তো এদেশ গড়ে তুলতে হবে। তাদেরকেই তো এদেশকে নির্মাণ করতে হবে, তাদেরকে ভবিষ্যতে একটা সুন্দর বাংলাদেশ তৈরি করতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, মানবতার ভিত্তিতে।’

নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে ৬০ হাজার সেনাসদস্য

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রায় ৬০ হাজার সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।

এদিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডাদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে এ বিষয়ে ব্রিফ করেন প্রেস সচিব।

ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বলেন, বৈঠকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজারের মতো ট্রুপস নির্বাচনী ডিউটিতে থাকবেন। আপনারা জানেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তারা মাঠে ডিউটিতে রয়েছেন। তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার আছে। আমরা আশা করছি, নির্বাচনের সময় তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকবে। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য।

এ সময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের ইন্টেলিজেন্ট এজেন্সিগুলো যেন জোরালোভাবে কাজ করতে পারে এবং নির্বাচনের সময় যেন আমাদের ইন্টেলিজেন্সের কোনো দুর্বলতা না থাকে সেজন্য বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের কো-অর্ডিনেশন যেন ভালো হয়, সেটির কথাও বলা হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, ইলেকশনের আগে পুলিশের প্রস্তুতির কথাও বলা হয়েছে। পুলিশের আইজি মহোদয় বলেছেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেড় লাখ পুলিশকে ট্রেনিং দেওয়া হবে নির্বাচন উপলক্ষ্যে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচুর মিস ইনফরমেশন অলরেডি সার্কুলেট হয়েছে। সামনে এটা আরও বাড়তে পারে। এটাকে সামনে রেখে ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার হবে যেখানে এই মিস-ইনফরমেশনগুলোকে আমরা ডিফাইন করতে পারব। সেটি ক্রিয়েট করার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। এটা নিয়ে অনেক বিশদ আলোচনা হয়েছে।

পুড়ে গেলে প্রথমেই যে চিকিৎসা নেবেন

আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা হঠাৎ করেই জীবনকে ওলটপালট করে দিতে পারে। পোড়া স্থানের তীব্র যন্ত্রণা, তার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন—সব মিলিয়ে এটি এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। তবে এই ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব, যদি দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, পোড়া জায়গায় বরফ দিলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একেবারেই ভুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। বরফ ত্বকের রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত করে, ফলে রক্তপ্রবাহ হ্রাস পায় এবং টিস্যুর ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। বরফ ব্যথা কমালেও ত্বকের প্রকৃত ক্ষতির মাত্রা ঢেকে রাখে, যা সঠিক চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি বরফ ত্বকে লেগে গেলে তা সরাতে গিয়ে নতুনভাবে চামড়া ছিঁড়ে যেতে পারে।

পোড়া স্থানে বরফ, মাখন, তেল বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এগুলো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় এবং ক্ষতস্থানে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ফোসকা উঠলে তা ফাটাবেন না—কারণ ফোসকা প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

প্রথমেই আগুনের উৎস থেকে দূরে সরে আসতে হবে এবং শরীরে থাকা গহনা বা আঁটসাঁট পোশাক খুলে ফেলতে হবে, যাতে ফোলা বা রক্তপ্রবাহের বাধা সৃষ্টি না হয়। এরপর ক্ষতস্থান ঠান্ডা প্রবহমান পানিতে ১০ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা উচিত। এটি ব্যথা ও তাপমাত্রা হ্রাসে সহায়ক। এরপর আক্রান্ত স্থান হালকা সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করে একটি পরিষ্কার কাপড়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

ক্ষত শুকিয়ে গেলে জীবাণুমুক্ত ও নন-স্টিক ব্যান্ডেজ দিয়ে আলতো করে ঢেকে দেওয়া উচিত। ব্যথা থাকলে প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া যেতে পারে। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক মলম ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোসকা ফেটে গেলে তা পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং দেওয়া উচিত এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আগুনে পোড়া একটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হলেও, তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব। তাই গুজব নয়, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা-পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ব্যবসায়ীরা দিশেহারা, মুনাফা বাড়াতে মরিয়া চট্টগ্রাম বন্দর

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিতে ব্যবসায়ীরা যখন দিশেহারা; তখন মুনাফা বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। নতুন করে তারা ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে নৌ মন্ত্রণালয়ে। তাদের এই প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার অনুমোদনও দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

একই সময় শতকোটি টাকা আয় করেছেন বেসরকারি ১৯টি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) মালিকরাও। কোনো আলোচনা ছাড়া তারাও সর্বনিম্ন ২৯ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ চার্জ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আইসিডির বর্ধিত চার্জ কার্যকর হবে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবছরেও সব খরচ মিটিয়ে দুই হাজার ৯১২ কোটি টাকা বাড়তি আয় করেছে চট্টগ্রাম বন্দর।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চট্টগ্রাম বন্দর ও ১৯টি বেসরকারি আইসিডি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ওঠানামা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যখন টালমাটাল; তখন আমদানি-রপ্তানির প্রধান দুই গেটওয়ের এভাবে চার্জ বাড়ানোর ঘোষণায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন প্রস্তাবনায় প্রতিটি ২০ ফুট একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ১৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৩ দশমিক ১৫ ডলার এবং ৪০ ফুট কনটেইনারের ক্ষেত্রে ২২ দশমিক ৫০ ডলার থেকে ৩৪ দশমিক ৮৩ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। জাহাজ পাইলটিং চার্জ ৩৫৭ ডলার থেকে ৭০০ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে। বন্দরের প্রস্তাবিত ৫৬টি সেবার মধ্যে ১৮ খাতে ৬০ শতাংশের বেশি, ১৭ খাতে ২০ থেকে ৫৯ শতাংশ এবং ১৯ খাতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বাড়ানোর প্রস্তাব গেছে মন্ত্রণালয়ে। মাশুল কমানোর প্রস্তাব গেছে মাত্র দুটি খাতে।

বন্দর কর, বার্থিং ফি, ফর্কলিফট চার্জ, অন্য ইউটিলিটি খরচসহ মাত্র পাঁচটি সেবার হার ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সামান্য পরিবর্তন হলেও বাকি সব চার্জ ১৯৮৬ সালের পর থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি আইসিডির নতুন চার্জে প্রভাব পড়বে অন্তত ২৫ ধরনের সেবায়। এতদিন বিনামূল্যে হয়েছে– এমন ছয় ধরনের সেবায়ও এবার নতুন চার্জ যুক্ত করেছে তারা। প্রায় শতভাগ রপ্তানি পণ্য ও ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং করে বেসরকারি আইসিডিগুলো।

তবে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, বন্দর ও আইসিডির এ পদক্ষেপ প্রভাব ফেলবে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে। এটি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে। আমদানি পণ্য আরও ব্যয়বহুল করবে। রপ্তানি পণ্যেরও খরচ বেড়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি সেই খরচ সরাসরি ভোক্তার ঘাড়েই চাপিয়ে দেবেন। এর খেসারত দিতে হবে দেশের ১৭ কোটি মানুষকেই। ব্যবসায়ীদের মতামত উপেক্ষা করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রেসক্রিপশনেই সরকার আগেভাগে ট্যারিফ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

তবে এ অর্থনীতিবিদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ও সচিব ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ৩৯ বছর পর এভাবে চার্জ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশপাশের দেশের তুলনায়ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনারপ্রতি চার্জ এখনও অনেক কম।