Home Blog Page 387

‘ফেরত দেব বলে মনে হয় না’ – বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে বললেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে এক বিশেষ মুহূর্তই তৈরি হলো বটে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দেখা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। সেখানে ঘোষণা হলো বিশ্বকাপের ড্রয়ের দিন-তারিখ। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ফুটবলের ইতিহাসে এটাই প্রথমবার যখন তিন দেশ একসঙ্গে আয়োজন করবে সবচেয়ে বড় আসর।
ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে উপহার দিলেন বিশ্বকাপ ২০২৬–এর আসল ট্রফি। ট্রফি হাতে দেওয়ার সময় ফিফা সভাপতি মজা করে বললেন, ‘এটা কেবল বিজয়ীদের জন্য। আপনি একজন বিজয়ী, তাই আপনি এটা ছুঁতে পারেন। ট্রফিটা ভারী। শেষবার এটা তুলেছিলেন লিওনেল মেসি, ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন।’
ট্রফি হাতে নিয়ে ট্রাম্পও রসিকতা করতে ছাড়লেন না। তিনি বললেন, ‘আমি কি এটা রেখে দিতে পারি? আমার মনে হয় না আমি এটা ফেরত দেব।’ এমনকি অফিসের এক জায়গা দেখিয়ে বললেন, ‘সেখানেই তো এটা সাজিয়ে রাখতে পারি!’
এরপর ইনফান্তিনো ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন বিশ্বকাপ ২০২৬–এর প্রথম টিকিটও। সেই টিকিটে লেখা ছিল ‘প্রথম সারি, প্রথম আসন’। আরও বিশেষ ব্যাপার হলো, টিকিটে নম্বর দেওয়া ছিল ৪৫/৪৭। এটা ইঙ্গিত করছে ট্রাম্পের পরিচিতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট।
আসন্ন আসর হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল খেলবে এখানে এবং ১৬ শহরে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। টুর্নামেন্ট চলবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত। এর ড্র অনুষ্ঠিত হবে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে। আগামী ৫ ডিসেম্বর এই ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম। লাল রঙের ক্যাপ পরে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘ট্রাম্প সব কিছুর ব্যাপারে ঠিকই বলেছিলেন।’
ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। হোয়াইট হাউসের এই সব ঘটনা সে উত্তাপ আরেকটু বাড়াল বৈকি!

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান শরীফ আর নেই

প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ আর নেই।
শনিবার লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনি রয়েছে।
১৯৪১ সালের ২৬ জানুয়ারি বরিশাল জেলার চানপুরা ইউনিয়নের সরুখালী গ্রামে জন্ম নেন সুলতান মাহমুদ শরীফ। স্কুল জীবনেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মুক্তি আন্দোলন, শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি আন্দোলন এবং আইয়ুব খান সরকারের শরীফ শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন বাতিলের আন্দোলনে অংশ নেন তিনি।
১৯৬৬ সালে পাকিস্তান যুব ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে ছয় দফা সম্পর্কিত দলিল মুদ্রণ ও যুক্তরাজ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করেন সুলতান মাহমুদ শরীফ। ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে কেন্দ্র করে লন্ডনে পাকিস্তান হাই কমিশন অভিমুখে বেশ কয়েকটি প্রতিবাদ মিছিলেরও নেতৃত্ব দেন।
১৯৬৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তার নেতৃত্বে প্রায় আট হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি লন্ডনের হাইড পার্ক থেকে মিছিল নিয়ে পাকিস্তান হাই কমিশনে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়। সেদিন তিনি হাই কমিশনের পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করেন। এ ঘটনার ছবি পরদিন লন্ডনের ‘দি টাইমস’ পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে লড়তে লন্ডন থেকে ব্রিটিশ আইনজীবী থমাস উইলিয়ামকে ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগে সুলতান শরীফ ও তার স্ত্রী আইরিশ বংশোদ্ভূত ব্যারিস্টার নোরা শরীফ ভূমিকা পালন করেন।
পরে লন্ডন আওয়ামী লীগ গঠিত হলে তিনি সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৭০ সালের অগাস্টে ইয়াহিয়া খান লন্ডনের ক্লারিজস হোটেলে অবস্থান করলে তার নেতৃত্বে লন্ডন আওয়ামী লীগ সেখানে বিক্ষোভ করে।
একাত্তরে প্রবাসে একজন সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন সুলতান মাহমুদ শরীফ। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে তিনি ভূমিকা রাখেন। লন্ডনে পাকিস্তান হাই কমিশনের সামনে তিনি ও তার সহযোদ্ধারা সাপ্তাহিক ‘জনমত’ বিতরণ করতেন। একই বছর এপ্রিলে তিনি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি কিছুদিনের জন্য দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭২ সালে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাকালে সেক্রেটারিয়েট সদস্য এবং পরের বছর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর প্রবাসে থেকে তিনি বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।
২০১১ সাল থেকে সুলতান মাহমুদ শরীফ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আইআরআই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১টায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন– সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন।

আইআরআইয়ের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক স্টিফেন সিমার নেতৃত্বে প্রতিনিধি ছিলেন– উপপরিচালক ম্যাথিউ কার্টার এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার অমিতাভ ঘোষ।

ড. মঈন খান গণমাধ্যমকে জানান, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সংস্কার কার্য্ক্রম, সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিএনপির আগামীর ভাবনা কী তা প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেছে।

এরআগে, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করছে আইআরআই।

ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, পরবর্তী সরকারে কোনো পদে থাকব না: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে এবং নতুন সরকারের কোনো পদে থাকবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেসারেট নিউজে লেখা একটি নিবন্ধে তিনি এ কথা জানান। ওই নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, আমি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছি—জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই হবে। এই নির্বাচনের পরবর্তী সরকারে আমি কোনো পদে থাকব না, নির্বাচিত বা নিযুক্ত—কোনো ভূমিকাতেই নয়। আমাদের সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা।
ড. ইউনূসের লেখা নিবন্ধটির বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো:
বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথচলা এখন শুধু আমাদের দেশের জন্য নয় বরং গোটা বিশ্বের জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর যখন আমরা মুক্তির পথে হাঁটা শুরু করলাম, তখনই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে। ২০২৪ সালে দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশকে ‘কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে। সত্যি বলতে, আমরা এতটাই ব্যস্ত ছিলাম ভেঙে পড়া অর্থনীতি গড়ে তোলা, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া এবং লুটপাট হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফেরত আনার কাজে যে বুঝতেই পারিনি—বিশ্ব আমাদের অগ্রগতিকে এত গভীরভাবে লক্ষ্য করছে।
আমাদের সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল সেই পরিবারগুলোকে পাশে দাঁড়ানো, যাদের প্রিয়জনেরা পূর্বতন স্বৈরাচারী সরকারের দমন-নিপীড়নে নিহত হয়েছেন কিংবা যারা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা শোক ভাগাভাগি করছি। একই সঙ্গে লুটপাট হওয়া অর্থ উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর হিসেবে, আগের সরকার ও তাদের সহযোগীরা ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে। কেবল অর্থ নয়, এটা ছিল দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা লুটপাটের এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়। তাই সেই সম্পদ উদ্ধার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম রাষ্ট্রযন্ত্রের ভাঙাচোরা চিত্র দেখে। পুলিশ তাদের অবস্থান ছেড়ে চলে গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, অর্থনীতি বিপর্যস্ত, গণতন্ত্র ভেঙে পড়েছিল। হাজার হাজার মানুষ রাষ্ট্রীয় নির্যাতনকেন্দ্রে অমানবিক যন্ত্রণা ভোগ করছিল। অসংখ্য সরকারি কর্মকর্তা দলীয় আনুগত্য না দেখানোর কারণে বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তারা বিচার ও মর্যাদা দাবি করছিলেন।
তবু হতাশার মধ্যেও আশার আলো ফুটেছে। ধীরে ধীরে আমরা দেশকে পুনর্গঠনের পথে নিয়ে এসেছি। যারা স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই রাজনৈতিক দলগুলো এবং নতুন গঠিত দলগুলো নতুন চিন্তাধারা, উদ্যোগ ও কর্মশক্তি এনে দিয়েছে। ৫ আগস্ট বিক্ষোভকারীদের দমন করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে সেনাবাহিনী যে ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে মূল ভূমিকা রাখছে।
আমি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছি—জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই হবে। এই নির্বাচনের পরবর্তী সরকারে আমি কোনো পদে থাকব না, নির্বাচিত বা নিযুক্ত—কোনো ভূমিকাতেই নয়। আমাদের সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা। যাতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের বক্তব্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিককে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া, এমনকি যারা প্রবাসে বসবাস করেন তারাও যেন অংশ নিতে পারেন। এ কাজ কঠিন হলেও আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
একই সঙ্গে আমরা বিদেশনীতি নতুনভাবে সাজিয়েছি। প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলছি। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে এবং হতে হবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ। তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে।
এর পাশাপাশি আমরা একটি বৃহৎ সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে এই পরিকল্পনা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ—যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো বাংলাদেশ স্বৈরতন্ত্রের অন্ধকারে না ডুবে যায়।
এই যাত্রার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমাদের তরুণ প্রজন্ম—বাংলাদেশের ভেতরে ও বৈশ্বিক প্রবাসী যুবক-যুবতীরা। তারা দেখিয়ে দিয়েছে, হতাশা নয়, বরং সৃজনশীলতা ও সাহস দিয়েই পরিবর্তন সম্ভব। তাদের নেতৃত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অর্থবহ পরিবর্তন পেতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার অপরিহার্য।
আমি বিশ্বাস করি, জেনারেশন জেড শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বকে বদলে দিতে পারে। তাদের সঙ্গে জেনারেশন এক্স, মিলেনিয়ালস এবং নতুন প্রজন্ম আলফা মিলিতভাবে এমন এক পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবে, যেখানে থাকবে ‘তিন শূন্য’: শূন্য বেকারত্ব, শূন্য দারিদ্র্য আর শূন্য কার্বন নিঃসরণ।
বাংলাদেশ যদি সত্যিই এমন এক দেশে পরিণত হতে পারে, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আশার আলোয় বাঁচবে—তবে তার পেছনে থাকবে কোটি মানুষের সংকল্প, কল্পনা ও সাহস।
আজ যারা এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে আছেন—দেশে কিংবা বিদেশে, বিশেষত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো—তারাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং হয়তো এই সুযোগই বাংলাদেশের জন্য শেষ ও নির্ণায়ক সুযোগ।

ড. ইউনূসের কারণে বিশেষ সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ : প্রেসসচিব

মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তি পরিচিতি থাকায় বাংলাদেশ বিশেষ সুবিধা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসসচিব শফিকুল আলম।শনিবার (২৩ আগস্ট) মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তি পরিচিতি থাকায় শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করতে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল অন্তর্বর্তী সরকার।’
তিনি বলেন, ‘শুল্ক আরো কমানোর চেষ্টা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামনে সম্পর্ক আরো উন্নত হবে। সেখানে রপ্তানি আরো বাড়বে।’
শফিকুল আলম আরো বলেন, ‘নেগোশিয়েশনের সময় অন্যান্য মার্কেটের সঙ্গে প্রভাব কী হবে, সেটা মাথায় রেখেই দরকষাকষি করা হয়েছে।’
বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে।’
প্রথমে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে গত ৩১ জুলাই সেই শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনে ট্রাম্প প্রশাসন।

 

এবার অনূর্ধ্ব-১৫ ছেলেদের কাছে হারলো নাহিদা-সোবহানারা

০

আইসিসি নারী বিশ্বকাপের আগে জাতীয় নারী দলের প্রস্তুতিমূলক সিরিজে নাহিদা আক্তারের সবুজ দল এবার অনূর্ধ্ব-১৫ বালকদের কাছে ৪১ রানে হারেছে।

বিসিবি অনূর্ধ্ব-১৫ দলের শক্তিশালী ব্যাটিং ও নির্ভরযোগ্য বোলিং নীতির কারণে নারী সবুজ দল লক্ষ্য তাড়ায় ৩০ ওভারে ১৩৫ রানে থামে।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে অনূর্ধ্ব-১৫ দল ৩৯ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে। তাদের হয়ে খেয়াল রায় ওম ৮২ রানের ইনিংস খেলেন। নারী সবুজ দলের পক্ষে রাবেয়া খান ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই নারী সবুজ দল উইকেট হারাতে থাকে। ঝিলিক ও সোবহানা মিলে গড়েন ৭৬ রানের জুটি, তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সোবহানা আউট হওয়ার পর দল হারের দিকে এগোয়। শেষ পর্যন্ত নাহিদা আক্তার ও ইরা দলের জন্য কোনো বড় অবদান রাখতে পারেননি।

অনূর্ধ্ব-১৫ দলের জন্য মাহিন, আদিব ও আব্দুল্লাহ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

বাংলাদেশের এশিয়া কাপের দল ঘোষণা, ফিরলেন সোহান

০

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী সেপ্টেম্বরে বসছে এশিয়া কাপের আসর। একে একে প্রতিযোগী দেশগুলো ঘোষণা করছে তাদের দল। পাকিস্তান ও ভারতের পর আজ (শুক্রবার) বাংলাদেশও ঘোষণা করেছে ১৬ সদস্যের দল। বিসিবির স্কোয়াডে এসেছে একাধিক চমক। তিন বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহান। প্রায় দুই বছর পর ডাক পেয়েছেন সাইফ হাসান। তবে বাদ পড়েছেন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ।

এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ৩০ আগস্ট থেকে। ওই সিরিজের আগেই পিতৃত্বকালীন ছুটিতে গেছেন মিরাজ। মূল স্কোয়াডে না থাকলেও তিনি আছেন স্ট্যান্ডবাই তালিকায়। অতিরিক্ত পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন সৌম্য সরকার, তানভীর ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।

বাংলাদেশের দলে তৃতীয় ওপেনার নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। সৌম্য সরকার, জিসান আলম ও নাঈম শেখের নাম থাকলেও বিসিবি শেষ পর্যন্ত কাউকে নেয়নি। ওপেনার হিসেবে মূল দলে রাখা হয়েছে তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনকে। অধিনায়ক লিটন দাস ওপেন ও ওয়ান ডাউন উভয় জায়গায় ব্যাট করতে পারবেন। মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, সোহান ও সাইফ বাড়তি বিকল্প হিসেবে থাকছেন। ফিনিশার হিসেবে আছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি।

স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেন। বিশেষজ্ঞ স্পিনার নাসুম আহমেদের সঙ্গে পেস বিভাগ সামলাবেন মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। পেস অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপের পর্দা উঠবে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও হংকং। ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে লিটন-মুস্তাফিজরা।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড

লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

স্ট্যান্ডবাই (শুধুমাত্র এশিয়া কাপ): সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।

ক্রুজার বোটে পরিবার নিয়ে কোথায় ছুটলেন পড়শী?

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের সংগীত জগতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন জনপ্রিয় গায়িকা সাবরিনা পড়শী। ২০০৯ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান শুরু করেন। এরপর থেকে আবহ সংগীত, সলো- কিংবা ডুয়ো এলবামে কাজ শুরু করেন নিয়মিত। তার এই ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ভক্তদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য গান, রয়েছে আলাদা ভক্ত মহল এই গায়িকার। কাজের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও সরব থাকেন পড়শী। সেখানে নিজের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নেন ভক্তদের মাঝে। একটু ছুটিছাটা কিংবা কাজের ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকলে নিজেকে সময় দেন; ঘুরে বেড়ান দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে। সম্প্রতি পরিবার নিয়ে আন্দামান সাগরের ল্যাংকাওই এলাকায় সময় কাটাতে দেখা গেছে পড়শীকে। সেখান থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আন্দামান সাগরে ভ্রমণ।’ ভিডিওতে দেখা যায়, জেটি ঘাট থেকে ভক্তদের সঙ্গে কথা বলছেন পড়শী এবং ক্রুজ বোট দেখিয়ে দিচ্ছেন। পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেই ক্রুজে উঠে পড়েন গায়িকা; মূলত সেই ক্রুজ বোটে করে বেড়াতে যাবেন তারা। সব মিলিয়ে ভিডিওটি গায়িকার ভক্তদের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছে। ভিডিওটি নিয়ে নানা মন্তব্যও করেছেন পড়শীর ভক্তরা। একজন লিখেছেন, ‘অসাধারণ ভিডিও।’ কেউ কেউ আবার নতুন ভিডিওর অপেক্ষায় থাকার কথাও জানিয়েছেন। পড়শী নিজেও ভক্তদের উদ্দেশে মন্তব্য করেছেন, জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘ল্যাংকাওই থেকে আছেন কেউ?’ ২০০৮ সালে একটি গানের রিয়্যালিটি শো দিয়ে দিয়ে পরিচিতি পান পড়শী।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে শেকৃবিতে দোয়া মাহফিল

বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ শুক্রবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ষ্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ড. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব কৃষিবিদ মনোয়ারুল ইসলাম এনাম, প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন, জিয়া পরিষদের শেরেবাংলা থানা কমিটির সহ-সভাপতি এসএম কবির, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নুর জামাল, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ও জিয়া পরিষদের শেরেবাংলা থানা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর রেজা প্রমুখ।

পরে বাদ জুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য বিশেষ দোয়া শেষে নেতৃবৃন্দ সহস্রাধিক মুসল্লির মধ্যে তবারক বিতরণ করেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলেই আইনি ব্যবস্থা

ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের প্রচার শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির হুমকি তৈরি করে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গতকাল শুক্রবার পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার কিছু গণমাধ্যম আইন অমান্য করে শেখ হাসিনার একটি বক্তব্য সম্প্রচার করেছে, যেখানে তিনি মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং অনলাইন আউটলেটগুলোয় ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার অডিও সম্প্রচার এবং প্রচার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তাছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘৃণা ছড়ায় সাবেক স্বৈরশাসকের এমন বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।
আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করেছি, কিছু গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের একটি ভাষণ প্রচার করেছে, যেখানে তিনি মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এ ধরনের অপরাধমূলক প্রচারকর্মে জড়িত গণমাধ্যমের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি এবং দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি, শেখ হাসিনার বক্তব্য কেউ ভবিষ্যতে প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমাদের জাতির ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরির ঝুঁকি নিতে পারি না। এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, শেখ হাসিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শত শত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীকে গণহত্যার নির্দেশ দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের পরে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছে। তদুপরি, বাংলাদেশের আইন অনুসারে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একই ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯’ অনুসারে, যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যারা তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তৃতা প্রচার, প্রকাশ বা সম্প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।
একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে সরকার বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক নীতির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের জনগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘আমরা, এমন একটি সময়ে সংবাদমাধ্যমগুলোকে শেখ হাসিনার অডিও এবং তার বক্তৃতাগুলো, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি, এগুলো প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই। তার মন্তব্য, বক্তৃতা এবং তার যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি কেবল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কাজ করে। এ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে।’