Home Blog Page 388

২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গুলি বর্ষণে গত ২৪ ঘণ্টায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক মানুষ।

বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৯৪ ফিলিস্তিনির মরদেহ এবং ৩৬৭ জন আহত ফিলিস্তিনিকে উপত্যকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এনিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৬৬৭ জন এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪ জনে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অনেক মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছে, যাদের কাছে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন না।

এতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হতাহতদের মধ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন।

এরআগে বুধবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলে জিএইচএফ-এর একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে হুড়োহুড়িতে পদদলিত ও শ্বাসরোধে অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৬ মে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণ শুরু করার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তাদের খোলা চারটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর এই ‘মৃত্যুর ফাঁদে’ এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৬৬৬ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়াও ৩৯ জন এখনো নিখোঁজ হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ১১ সপ্তাহ ধরে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে অবরোধের পর আন্তর্জাতিক চাপে গত ২৬ মে জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় জিএইচএফ— ত্রাণ বিতরণ সংস্থা খোলার ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি।

জাতিসংঘসহ অন্যান্য খাদ্য সংস্থা জিএইচএফর এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা বলছে, এই উদ্যোগ মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং ত্রাণকে রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করে।

সমাবেশে নেতাকর্মী আনতে ট্রেন ভাড়া করেছে জামায়াতে ইসলামী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৯ জুলাইয়ের সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ট্রেন ভাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এই সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের লক্ষ্যে এই পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ডেপুটি চিফ সুপারিনটেনডেন্ট-১ আরফিন নাহার বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে ট্রেন পরিচালনার অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর অফিস সেক্রেটারির চিঠির আলোকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে যোগদানের জন্য ১৮ জুলাই দিনগত রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানো এবং ১৯ জুলাই দিনগত রাতে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ফেরত আসার জন্য একটি স্পেশাল ট্রেন বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, জামায়াতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী স্টেশন থেকে ঢাকা স্টেশন পর্যন্ত রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী ৭৫৫/৭৫৬ নং মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের রেক দ্বারা (লোড ১৪/২৮) স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা যেতে পারে। উল্লেখিত ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শনিবার। এতে সিএমই (পশ্চিম) রাজশাহীর মতামত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

চিঠিতে প্রস্তাবিত স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ট্রেনটি ১৯ জুলাই (শুক্রবার দিনগত) রাত ১টায় রাজশাহী ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে ভোর ৬টায়। শনিবার রাত ৮টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে রাজশাহী পৌঁছাবে রাত ১টা ১৫ মিনিটে। উভয়পথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, হরিয়ান ও সরদহ রোড স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকবে। এই অবস্থায় এক জোড়া স্পেশাল ট্রেন প্রচলিত নিয়ম অনুসারে অগ্রিম ভাড়া সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে পরিচালনা করা যেতে পারে বলেও জানানো হয়।

রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রেন ভাড়া করে নেতাকর্মী আনার তেমন নজির না থাকলেও এর আগে রাজশাহীর একটি সমাবেশে ট্রেন ভাড়া করেছিল আওয়ামী লীগ। তখন রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমাবেশের বিষয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।

নির্বাচন নিয়ে ভেতরে ভেতরে গভীরে ষড়যন্ত্র চলছে’: রিজভী

নির্বাচনকে ঘিরে ভেতরে ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটকেন্দ্র যদি আবার ভোটারের পদধ্বনিতে মুখর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে, তাহলে কেন নির্বাচনের সময় পেছানোর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে আলোচনার প্রশ্ন উঠছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও স্লোগানের প্রতিবাদে কৃষক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ করেন।

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় এবং যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন চায়, যা বেশি প্রলম্বিত না হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, লন্ডনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের পর একটি যুক্ত বিবৃতি এসেছিল, যা দেশের মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। কিন্তু এর পরপরই সারাদেশে সংঘাত ও রক্তাক্ত পরিস্থিতি শুরু হয়, যা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

রিজভী বলেন, রাজধানীর মিটফোর্ডে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি সঙ্গে সঙ্গে নিন্দা জানিয়েছে এবং জড়িতদের আজীবন বহিষ্কার করেছে। ঘটনার পরপরই চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের বিবৃতিসহ নিন্দা জানানো হয় এবং বলা হয়েছে, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, তারা যেখানেই থাকুক, যে অবস্থায় থাকুক।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “নারায়ণগঞ্জের মাফিয়া গডফাদার আর কক্সবাজারের গডফাদারের জন্য শেখ হাসিনা পার্লামেন্টে তাদের পক্ষে কথা বলতেন। আর দলের নামে কেউ যদি চাঁদাবাজি করেছে, কেউ যদি অন্যায় করেছে, তাহলে সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা হচ্ছে। শাস্তিস্বরূপ কেউ বহিষ্কার হচ্ছেন, কারও পদ স্থগিত হচ্ছে অথবা আমরা নিজেরাই পুলিশকে বলছি, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে অথবা নিজেরাও মামলা দিচ্ছে—এটাই তো তারেক রহমান।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, মিটফোর্ডের ঘটনায় কেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছয়-সাত বছর ধরে ভয়ংকর নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা তাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরের মধ্যে বন্দি করে রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে ছাদের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে কোমর ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারেক রহমানকে নিপীড়িত নির্যাতনের এক প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে রিজভী বলেন, তার বিরুদ্ধে মিছিল ও ফেসবুকে আজেবাজে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে কথা বলা হচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, খুলনায় বিএনপির একজন যুবককে গুলি করে পায়ের রগ কেটে দেওয়া এবং কক্সবাজারে বিএনপিকর্মী আব্দুর রহিমকে জামায়াত কর্তৃক হত্যা করার ঘটনা নিয়ে কেন কথা হচ্ছে না।

রিজভী বলেন, যেকোনো হত্যাকাণ্ড ও রক্তপাত হলে সবসময় সরকারকে অভিযোগ করা হয়। আইনশৃঙ্খলার দায়দায়িত্ব সরকারের, অথচ তাকে কিছু না বলে ১৭-১৮ বছর ধরে লন্ডনে থাকা এবং শেখ হাসিনার নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিছিল করা হচ্ছে। তিনি ছয়-সাত বছরের নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করেছেন বলে রিজভী উল্লেখ করেন এবং তাকে সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হতে এইচএসসি পাস ও ২১ বছর বয়স বাধ্যতামূল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশি পর্যবেক্ষকের জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নীতিমালায় ভোটের দিনসহ আগে-পরে মোট তিনদিন পর্যবেক্ষক সংস্থা মোতায়েনের বিধান রাখা হয়েছে। নীতিমালায় পর্যবেক্ষক হতে এইচএসসি পাস বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষকদের সর্বনিম্ন বয়স ২১ বছর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. শরিফুল আলম এ তথ্য জানান।

এতে ২০২৩ সালের নীতিমালা বাতিল ও তৎকালীন ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে এবার নতুন করে নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকের যোগ্যতা : নীতিমালায় পর্যবেক্ষকের যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ লাভের জন্য বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। বয়স ২১ বছর বা তদূর্ধ্ব হতে হবে। ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নিবন্ধিত বা অনুমোদিত পর্যবেক্ষক সংস্থা কর্তৃক মনোনীত হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের অঙ্গসংগঠন বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না। কোনো রাজনৈতিক দল বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে পারবেন না।

পর্যবেক্ষক মোতায়েন: পর্যবেক্ষক মোতায়েনের বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র অনুমোদিত পর্যবেক্ষক সংস্থার পর্যবেক্ষকগণই নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ইসির নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা তিন দিনের জন্য (নির্বাচনের আগের দিন, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরের দিন) পর্যবেক্ষক মোতায়েন করতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার নয় এমন লোককে পর্যবেক্ষক হিসেবে মোতায়েন করতে হবে।

নিবন্ধনের মেয়াদ: নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি সংস্থার নিবন্ধনের মেয়াদ অনুমোদনের তারিখ থেকে ৫ বছরের জন্য বহাল থাকবে। তবে কমিশন কোনো কারণে মনে করলে এর আগেই নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হওয়ার বিধান রাখা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনের স্থানীয় কর্মকর্তাগণ স্থানীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে গণ্য হবেন। বিদেশিদের বিদেশি পর্যবেক্ষক নীতিমালায় এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের স্থানীয় নীতমালা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।

এ বিষয়ে ইসির সহকারী জনসংযোগ পরিচালক মো. আশাদুল হক জানান, এবার পর্যবেক্ষণ নীতিমালায় বেশ কিছু সংযোজন আনা হয়েছে। বর্তমান কমিশন পর্যবেক্ষক হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়ানো এবং পর্যবেক্ষকদের ন্যূনতম বয়স কমানো হয়েছে। আগে পর্যবেক্ষকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এসএসসি বা সমমান এবং পর্যবেক্ষকদের বয়স ছিল ন্যূনতম ২৫ বছর।

তিনি জানান, সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় নিবন্ধন পাওয়া পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৩ রহিত করা হয়েছে।

জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান হতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও জনগণের কাছে দৃশ্যমান রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশন প্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক ও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হচ্ছে বলে কমিশন সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানান।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের তাদের অনন্য ভূমিকা ও প্রচেষ্টার জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘এটা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে। কাজেই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে, মানুষের কাছে দৃশ্যমান থাকতে হবে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের সংলাপে আটটি বিষয়ে আলোচনার পর ঐকমত্য হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ। এছাড়া আরও সাতটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে আলোচনা চলমান আছে বলে জানান তিনি।

ভারতে বাবার গুলিতে টেনিস তারকা নিহত

০

ভারতের উঠতি টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব আর নেই। মাত্র ২৫ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হয়েছেন এই তরুণী, আর তাকে গুলি চালিয়েছেন তারই বাবা, দীপক যাদব! এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত ভারতের ক্রীড়াঙ্গন এবং সারা দেশ। বৃহস্পতিবার গুরগাঁওয়ের বাসভবনে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা।

পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাধিকাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু তখনই জানা যায়, তাকে বাঁচানো যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সে সময় হাসপাতালের বাইরে উপস্থিত ছিলেন কেবল রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদব।

আইটিএফ ওয়েবসাইট অনুযায়ী, রাধিকা যাদব পেশাদার টেনিস সার্কিটে খেলেছেন ৩৬টি সিঙ্গলস এবং ৭টি ডাবলস ম্যাচ। ২০২৪ সালের মার্চে শেষবার সিঙ্গলস খেলেছেন তিনি। খেলার ময়দান থেকে নিজস্ব একাডেমিতে কোচিংয়ে মন দেন রাধিকা। আর এই একাডেমিই হয়ে দাঁড়ায় বাবা-মেয়ের বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

পুলিশ জানায়, দীপক যাদব চাইতেন না তার মেয়ে একাডেমি চালিয়ে যাক। বারবার অনুরোধ করার পরেও রাধিকা নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। স্থানীয়দের কটাক্ষ, মেয়ের আয়ে সংসার চলা—এইসব কথায় ক্রমশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন দীপক।

গুরগাঁও সেক্টর-৫৬ থানায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ করা হয়, সেই মানসিক যন্ত্রণার ফলেই দীপক তিনটি গুলি চালিয়ে হত্যা করেন রাধিকাকে।

স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনোদ কুমার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘দীপক বেশ কিছুদিন ধরে ভেঙে পড়েছিলেন। প্রতিবেশীরা বলতেন, মেয়ের উপার্জনে ঘর চলে। সে তা সহ্য করতে পারছিল না। অনেকবার রাধিকাকে বলেছিল একাডেমি বন্ধ করতে। রাধিকা রাজি হয়নি। সে আর নিতে পারেনি।’

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দীপক যাদব পুলিশকে নিজের দোষ স্বীকার করে বলেছেন ‘আমি পেছন থেকে তিনটি গুলি চালিয়েছি, কারণ সে একাডেমি বন্ধ করেনি।’

রাধিকা যাদব ছিলেন সম্ভাবনাময় একজন ক্রীড়াবিদ, যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জীবনের লড়াইয়ে নিজের জায়গা তৈরি করে চলেছিলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কাকে ৯ গোলে বিধ্বস্ত করলো বাংলাদেশ

০

সাফ নারী অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫–এর শুরুটা দুর্দান্ত করল বাংলাদেশের মেয়েরা। শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৯-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল স্বপ্না–সাগরিকারারা।

ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। জোড়া গোল করেন মুনকি আক্তার। একটি করে গোলের দেখা পেয়েছেন স্বপ্না রানী, সিনহা জাহান শিখা, রুপা আক্তার ও শান্তি মার্ডি। বাংলাদেশের নয়টি গোলের ছয়টি এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে।

শুরুর বাঁশি বাজার এক মিনিটের মধ্যেই স্বপ্না রানীর ফ্রি-কিকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে মুনকি আক্তারের একক নৈপুণ্যে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। ৩৭ মিনিটে ডান দিক থেকে সিনহা জাহানের বাড়ানো ক্রসে আলতো শটে সাগরিকা করেন দলের তৃতীয় গোল। প্রথমার্ধে আরও দুটি বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।

বিরতি থেকে ফিরে গতি আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা। ৪৮ মিনিটে সাগরিকার অ্যাসিস্ট থেকে মুনকি তার দ্বিতীয় গোল করেন। এক মিনিট পর শান্তি মার্ডির লম্বা ক্রস ধরে বল জালে পাঠান সিনহা। ৫২ মিনিটে বক্সে ঢুকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাগরিকা। এরপর ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ১৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। শেষ দিকে রুপা আক্তার ও শান্তি মার্ডি আরও দুটি গোল করে ব্যবধান ৯-১ করে ফেলেন। একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি আসে ম্যাচের শেষদিকে শ্রীলঙ্কার লাইয়ানশিকার পা থেকে।

প্রথমে পাঁচটি দেশকে নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভারত নাম প্রত্যাহার করায় চার দেশকে (বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান) নিয়ে শুরু হয়েছে এবারের আসর। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে দুবার করে মুখোমুখি হবে। সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দলকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ১৩ জুলাই, নেপালের বিপক্ষে। এরপর ১৫ ও ১৭ জুলাই টানা দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষ হবে ভুটান। ১৯ জুলাই আবারও শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচ ২১ জুলাই, প্রতিপক্ষ নেপাল।

বয়সভিত্তিক সাফ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। সর্বশেষ ২০২৪ আসরে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। মোট পাঁচবারের আয়োজনে চারবারই শিরোপা ঘরে তুলেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। এবারের আসরেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় কোচ মাহবুব হোসেন রক্সির শিষ্যরা।

মায়ের উৎসাহেই অভিনয়ে আসেন অভিনেত্রী ‘পূর্ণিমা

এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমা দিয়ে ১৯৯৮ সালে ঢালিউডে যাত্রা শুরু করেছিলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। আজ ১১ জুলাই তার জন্মদিন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্ম নেওয়া পূর্ণিমা মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। তখন স্কুলও শেষ হয়নি তার; অভিনয়ে আসেন মায়ের উৎসাহেই।

প্রথম সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে অভিনয় করেই আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর পেরিয়ে গেছে ২৭ বছর। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পূর্ণিমা উপহার দিয়েছেন অসংখ্য সিনেমা। সবচেয়ে বেশি জুটি বেঁধেছেন নায়ক রিয়াজের সঙ্গে। পাশাপাশি কাজ করেছেন মান্না, রুবেল, ফেরদৌস, শাকিব খান, আরিফিন শুভ, আমিন খানসহ প্রায় সব জনপ্রিয় নায়কের বিপরীতে।

শুধু বড় পর্দায় নয়, ছোট পর্দায়ও কাজ করেছেন পূর্ণিমা। জাহিদ হাসান পরিচালিত নাটক ‘লাল নীল বেগুনী’তে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। উপস্থাপনাতেও পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। রিয়্যালিটি শো- এর বিচারকও হয়েছেন, করছেন নিয়মিত বিজ্ঞাপন, মডেলিংও।

মিটফোর্ডে হত্যা, যা বললেন পরিচালক আশফাক নিপুন

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে সোহাগ নামে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ‎গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল হয় শুক্রবার দুপুরে।

এরপর থেকে সোশ্যালে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দা জানান নেটিজেনরা। ঘটনার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠছে সর্বস্তরের মানুষ। এই ইস্যুতেও বরাবরের মতো কণ্ঠ উঁচু করলেন নির্মাতা আশফাক নিপুন।

এক ফেসবুক পোস্টে এ নির্মাতা লেখেন, ‘চাঁদাবাজি, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, পার্সেন্টেজ-যেই নাম আর কারণই দেওয়া হোক না কেন। মিটফোর্ড হাসপাতালের ভেতরে প্রকাশ্য দিবালোকে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে যে নৃশংসভাবে হত্যা আর (বুকের আর মাথার ওপর বিশাল পাথর ফেলে ফেলে) উলঙ্গ করে রাস্তায় ফেলে মৃতদেহের ওপর লাফিয়ে লাফিয়ে উল্লাস করা হলো শত শত মানুষের সামনে। এই ভয়াবহ ঘটনা এবং ভিডিও লিটমাস টেস্ট হয়ে থাকল অদূর ভবিষ্যতে ভোটের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবেন তাদের জন্য।’

এরপর ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে তিনি লেখেন, ‘আপনারা কি এই চাঁদাবাজদের আরো ক্ষমতায়িত করবেন? নাকি সাধারণ মানুষকে ক্ষমতায়িত করবেন? আপনারা কি এই চাঁদাবাজদের সেবা করবেন? নাকি সাধারণ মানুষের সেবা করবেন?’

তিনি আরো লেখেন, ‘‘আপনারা কি ‘সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই, সে যে দলেরই হোক না কেন’ বলে আইন এবং বিচারের শাসন নিশ্চিত করবেন? নাকি ঘটনার পর ‘অমুক সন্ত্রাসী আমার দলের কেউ না’ বলে দায় সারবেন? ‘রোগী মরিবার পরে ডাক্তার সাহেব আসিলেন’ আমরা এটা আর দেখতে চাই না। এই দেশের প্রবল প্রতাপশালী সরকার প্রধান, তার পরিবারসহ লেজ তুলে পালাতে বাধ্য হয়। যখন সাধারণ মানুষ লাল কার্ড দেখায়। মানুষ যেন আবার লাল কার্ড না দেখায়, সেই ভয়টা রাখেন। সেভাবে কাজ করেন।’’

সবশেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে লেখেন, ‘সোহাগের হত্যাকারী গ্রেফতারকৃত মহিন আর তার বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবিলম্বে কার্যকর করা হোক।’

প্রসঙ্গত, নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার ৪ নম্বর রজনী ঘোষ লেনে ভাঙ্গারির ব্যবসা করতেন। ঘটনার পর পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

পাবনায় বিএনপির ১১ নেতা বহিষ্কার

পাবনার সুজানগরে মোবাইলে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফসহ ১০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের বহিষ্কার করা হয়। শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃতরা হলেন- সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রউফ শেখ (৫২), ছাত্রদল নেতা শেখ কাউছার (২৮), যুবদল নেতা মনজেদ শেখ (৪৫), সুজানগর পৌর বিএনপির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর খাঁ (৬০), সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য কামাল শেখ (৪৬), পৌর যুবদল সদস্য মানিক খাঁ (৩৮), সুজানগর এনএ কলেজ শাখার সভাপতি শাকিল খাঁ (২৫), সুজানগর পৌর ৬নং ওয়ার্ডের সিনিয়র সহসভাপতি রুহুল খাঁ (৪০), বিএনপি কর্মী লেবু খাঁ (৬০) ও যুবদল কর্মী হালিম শেখ (৪০)।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পাবনা জেলাধীন সুজানগরে রক্তাক্ত সংঘাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এসব নেতাকর্মীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া সুজানগরের রক্তাক্ত সংঘাতের ঘটনায় মোলায়েম খাঁ ও সুরুজসহ আরও যারা জড়িত ছিল তারা বিএনপি কিংবা এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেউ নয়। তাদের সঙ্গে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। এসব দুষ্কৃতকারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেউ যোগাযোগ বা সম্পর্ক রাখলে দল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান বলেন, বহিষ্কারের বিষয়টি কেন্দ্র করেছে। গুরুতর আহত সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফকে বহিষ্কারের বিষয়টি দুঃখজনক।

সুজানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, এখনো মামলা হয়নি। কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। গ্রেপ্তারও নেই। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থায় যাবে পুলিশ।