Home Blog Page 388

ফের আন্দোলনে যাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মচারী সংগঠনগুলো দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে। অনুমোদিত অধ্যাদেশটি পর্যালোচনায় উপদেষ্টা কমিটি গঠন সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখছেন কর্মচারী নেতারা।

তবে বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে এবং আর কোনো কথা হবে না-এমনটি মনে করছেন তারা। ঈদের ছুটির পর তাদের কর্মসূচি চলতে থাকবে এমনটি ঘোষণা দিয়েছেন তারা। অপরদিকে বৈষম্য বিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম ঈদের ছুটির পর তাদের চারদফা দাবি আদায়ে আবার সচিবালয়ে যাওয়ার এবং অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

জানতে চাইলে বৈষম্য বিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সচিব মো. আব্দুল খালেক বলেন, স্বৈরাচারের দোসর সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিবদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের অপসারণ করে আইনের আওতায় আনতে হবে। চুক্তিভিত্তিক কর্মে নিয়োজিত বিতর্কিত কর্মকর্তাদের চুক্তি বাতিল করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারের রুলস অব বিজিসেন ভঙ্গ করে গঠন করা পদোন্নতি ও পদায়ন সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি বাতিল করতে হবে। নিবর্তনমূলক অবৈধ কালাকানুন (সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ-২০২৫) বাতিল করতে হবে।

আব্দুল খালেক আরও বলেন, এসব দাবি প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ। এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। দেশের জন্য অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা দাবিগুলো তুলে ধরেছি। কিন্তু প্রশাসনে সুবিধাভোগীরা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে বিষয়গুলোতে কোনো পদক্ষেপ নিতে দিচ্ছে না বা কর্ণপাত করছেন না। বৈষম্য বিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম বিষয়টির শেষ দেখে ছাড়বে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

অপরদিকে বাংলাদেশ সচিবালয় নন-ক্যাডার কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবীর  বলেন, ঈদের পর আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে। প্রয়োজনে আন্দোলনটাকে আমরা বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাব। এক কথায় নিবর্তনমূলক কালো আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ ২০২৫-এ চার ধরনের অপরাধের জন্য তিন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অপরাধগুলো হলো- ১. এমন কোনো কাজ করা যাতে অনানুগত্য সৃষ্টি হয় বা এমন কাজ করা যার ফলে অন্য কর্মচারীর মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত অথবা কর্তব্যকর্ম সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে। ২. সমবেতভাবে অথবা এককভাবে ছুটি ছাড়া যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কর্মে অনুপস্থিত থাকা। ৩. কোনো কর্মচারীকে তার কর্মে অনুপস্থিত থাকতে, বিরত থাকতে বা কর্তব্য পালন না করার উসকানি দেওয়া বা প্ররোচিত করা এবং ৪. কোনো কর্মচারীকে তার কর্মে উপপস্থিত থাকতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করা।

উল্লিখিত অপরাধের জন্য তিন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। শাস্তিগুলো হচ্ছে- নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, চাকরি থেকে অপসারণ এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ওপর বাস শ্রমিকদের হামলায় আহত ৫

মাদারীপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতের বাড়িতে মৌসুমি ফল বিতরণ শেষে ফেরার পথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন।

মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ছাগলছিড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মাদারীপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর ইসলাম (২৩) ও কিরণ আক্তার (২৬)। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাসুম বিল্লাহ, আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক দিয়া ইসলাম ও মিথিলা ফারজানা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মাদারীপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অখিল সরকার বলেন, দুইজন ছাত্রনেতা আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ছাড়া মারধরের শিকার আরও কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

মাদারীপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যুগ্ম আহ্বায়ক দিয়া ইসলাম বলেন, আমাদের নারী সদস্যরাও হামলাকারীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন।

গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলা চরপ্রসন্নদী গ্রামের আজিজুল শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ ওরফে সাগরকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে আমাদের পুলিশে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আলমাদার শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়ালো আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এক কঠিন ম্যাচে নিজেদের ঘরের মাঠে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হারতে হারতে অবশেষে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় পিছিয়ে থাকা এবং শেষদিকে ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলা সত্ত্বেও, থিয়াগো আলমাদার ৮১ মিনিটের গোলে ১-১ সমতায় ফিরেছে লিওনেল স্কালোনির দল। এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে লিভারপুল তারকা লুইস দিয়াজের গোলে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া।

গত সেপ্টেম্বরে কলম্বিয়ার কাছে হারার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া ছিল আর্জেন্টিনা। মেসি শুরু থেকে একাদশে থাকলেও, বুয়েনোস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে কলম্বিয়া দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও, পাল্টা আক্রমণে তারা আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে লিভারপুলের লুইস দিয়াজ অসাধারণ এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন।

আর্জেন্টিনা ৩০ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। বিরতির আগে তারা বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও কলম্বিয়ার সুদৃঢ় রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং একের পর এক আক্রমণ করে। তবে কলম্বিয়ার ডিফেন্স তাদের আটকে রেখেছিল। ৬৩ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ৬৮ মিনিটে স্বাগতিকরা গোলের কাছাকাছি গিয়েও হতাশ হয়। ম্যাচের ৭০ মিনিটে আর্জেন্টিনার বিপদ আরও বাড়ে যখন চেলসি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার কাস্তানোর মাথায় বুট দিয়ে আঘাত করার কারণে তিনি এই কার্ড দেখেন।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা হাল ছাড়তে রাজি ছিল না। বরং কোচ স্কালোনি ৭৭ মিনিটে লিওনেল মেসিকে তুলে নিয়ে এজেকিয়েল পালাসিওসকে মাঠে নামান। যখন মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা হারতে চলেছে, তখনই চমক দেখান বদলি হিসেবে নামা থিয়াগো আলমাদা। ৮১ মিনিটে তার দারুণ এক শটে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরে।

লিড হারানোর পর কলম্বিয়া শেষ পর্যন্ত জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়। ৮৬ মিনিটে তাদের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। এই ড্রয়ের ফলে ১৬ ম্যাচ খেলে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে ২২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে কলম্বিয়া।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ‘তাণ্ডব’ প্রদর্শনীতে স্থানীয় ‘আলেম সমাজের’ বাধা

দেশে ঈদের মত বড় দুই উৎসবে মানুষের বিনোদনের অন্যতম অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখা। বিগত কয়েক বছর ধরে ঈদে সিনেমা দেখার বিষয়টি যেনো আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনে উপচে পড়ছে দর্শক। তবে দেশের সব জেলায় হল না থাকায় বিকল্প পদ্ধতিতে সিনেমা প্রদর্শনীতে এগিয়ে আসেন অনেক উদ্যোক্তা।

স্থানীয় অডিটোরিয়াম ভাড়া করে তারা উৎসবে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো নির্ধারিত ফি নিয়ে তা প্রদর্শনা করান। এই প্রক্রিয়াতে  টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আউলিয়াবাদ অডিটোরিয়ামে  ‘তাণ্ডব’ সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজক জাজ মাল্টিমিডিয়ার হেড অব মার্কেটিং কামরুজ্জামান সাইফুল। কিন্তু স্থানীয় ‘আলেম সমাজে’র আপত্তির মুখে তা বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে সেখানে সিনেমা প্রদর্শনীর এক মাসের অনুমতি থাকলেও আয়োজকরা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই শো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কামরুজ্জামান সাইফুল জানান, সব জায়গা থেকে সিনেমা প্রদর্শনের অনুমতি নেয়া ছিল। সার্টিফিকেশন বোর্ডের ইউিনভার্সেল রেটেড সার্টিফিকেট সবই ছিল। তাও সিনেমা প্রদর্শনীতে বাধা।

আমি হাত জোড় করে মাফ চেয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময়ের আর্জি জানালাম। আলেম সমাজ অনড়। আমাকে কালই চলে যেতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি না চলে যাবো ততক্ষণ পর্যন্ত তারা গোনাহগার হতে থাকবে, এলাকায় গজব পড়তে থাকবে। এতবড় পাপের বোঝা নিয়ে তারা হাসরের ময়দানে দাঁড়াতে পারবেনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় (ইউনিয়ন শাখা) ইমাম পরিষদের সহ-সভাপতি মাদ্রাসা শিক্ষক হযরত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এলাকায় বেশ কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অশ্লীলতা ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় আলেম সমাজসহ স্থানীয়রা এই সিনেমা প্রদর্শনের বিপক্ষে।’

এদিকে আলেম সমাজের বাধা প্রধানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিষয়টি সামনে আসার পরই সোস্যাল মাধ্যমে প্রতিবাদ করছেন সিনেমাপ্রেমীরা। তবে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ দেখা যায়নি কোথাও।

এ ঘটনায়  কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম  ঈদের ছুটিতে আছেন জানিয়ে বলেন, ‘দেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ নয়। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির একটি শান্তিপূর্ণ সুরাহা করা হবে।’

বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে প্রবেশ করেছে প্রায় ৪ লাখ চামড়া

কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় এ বছর এখন পর্যন্ত সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে মোট ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২৯৬টি চামড়া প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার (১০ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শিল্পনগরীতে মোট ১ হাজার ৬৫৭টি ট্রাকে এসব চামড়া আনা হয়েছে। প্রবেশকৃত চামড়ার মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়ার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৮টি, এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া রয়েছে ২০ হাজার ৯২৮টি।

প্রসঙ্গত, এ বছর কোরবানির চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং এতিমদের হক আদায়ের উদ্দেশ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন এতিমখানা, মসজিদ ও মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ৩০ হাজার মেট্রিকটন লবণ সরবরাহ করা হয়। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঈদে মাংস খাবেন কতটুকু, হজমে সমস্যা হলে যা করবেন

কোরবানি ঈদে প্রায় সময় আমাদের মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। আর তা হলো গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া, দুম্বা,উট ইত্যাদির মাংস খেতে পারব কি না? আর খেতে পারলে কতটুকু খাওয়া যাবে?

এই বিষয়ে পুষ্টিবিদরা বলেন, এটি একটি অ্যালার্জিক খাবার। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং হিম আয়রন আছে। মাংস খেলে প্রায় ৬০ শতাংশ আয়রন শরীর শোষণ করতে পারে। এছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে রয়েছে ২৬ গ্রাম প্রোটিন।

পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ৫০ গ্রামের মতো প্রোটিন প্রয়োজন। তবে যদি তার কিডনি জটিলতা থাকে তাহলে তিনি প্রতিদিন ২৫ গ্রাম প্রোটিন খাবেন। মানে স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক। আবার মেয়েদের গর্ভবতী অবস্থায় এই পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আদর্শ ওজন ৫০ কেজি হলে তারা ১০০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন খেতে পারবেন। যাদের ওজন আদর্শ ওজনের চাইতে কম তাদেরও বেশি বেশি প্রোটিন খাওয়া প্রয়োজন।

মাংসে থাকা এসেন্সিয়াল ফ্যাটি এসিড (লিনোলিক এসিড) ডায়াবেটিস ও ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সাধারণত এক বছর বয়স থেকে মানুষ পরিমিত পরিমাণে মাংস গ্রহণ করতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ থেকে ৫ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করতে হয়। যা পাওয়া যেতে পারে মাছ, মাংস, দুধ,ডিম, ডাল, বাদাম, বিচিজাতীয় খাবার থেকে। এগুলো বিভিন্ন খাবার থেকে নিতে পারলে ভালো হয়।

মাংস খাওয়ার সময় প্রচুর শাকসবজি ও সালাদ খেতে হবে। এতে হজম ভালো হবে। পোলাও, বিরিয়ানি, পরোটা, লুচি ইত্যাদির সঙ্গে মাংস না খেয়ে, বাদামি চালের ভাত ও বাদামি আটার রুটির সঙ্গে মাংস খেতে পারলে ভালো হবে। এ সময়ে ডেজার্ট, যেমন: ফিরনি, পায়েস, পুডিং, কাস্টার্ড, জর্দা, মিষ্টিদই ইত্যাদি খাওয়া বাদ দেওয়াই ভালো, তবে টক দই খাওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংসে উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন ও ফ্যাট থাকায় এটি হজমে বেশি সময় লাগে। তবে প্রাকৃতিককিভাবে খাবারে কিছু হজমকারী এনজাইম বা উপাদান থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করে তোলে।

এবার তাহলে হজমে সমস্যা হলে করণীয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

পেঁপে: এতে প্যাপেইন নামক একপ্রকার উপাদান থাকে, যা দ্রুত মাংস হজম করতে সহায়তা করে। এ কারণে খাবার টেবিলে সালাদের সঙ্গে পেঁপে রাখতে পারেন।
আনারস: এই ফলে ব্রেমেলেইন নামক উপাদান রয়েছে, যা প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করে। তাই খাদ্যতালিকায় আনারস রাখলে হজমে উপকার পেতে পারেন।

দই: দই বা দই দিয়ে তৈরি খাবার রাখতে পারেন খাবার টেবিলে। কেননা, দইয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। যা মাংস বা মাংসজাতীয় খাবার হজম করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

এছাড়া কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে বোরহানি রাখা যেতে পারে। আর হজমে যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে একদমই ভুলবেন না।

হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু, চলবে ১০ জুলাই পর্যন্ত

শেষ হয়ে গেছে পবিত্র হজের সব আনুষ্ঠানিকতা। এখন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাজিরা।মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশি হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট; চলবে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত।

মিনায় শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ এবং কাবা ঘরে ফরজ তাওয়াফ শেষে মিনায় ফিরছেন হাজিরা। ফেরার পথে অনেকে পথ হারিয়ে আশ্রয় নেন মক্কার হজ মিশনে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে এ বছর ৮৭ হাজার ১৫৭ জন পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গেছেন। এর মধ্যে ১৯ জন হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৩৬টি ভুয়া হজ এজেন্সি বন্ধ করে দিয়েছে এবং আইন ভঙ্গ করায় ৪৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ১৮৮ বাংলাদেশি। এছাড়া, ১৯ জন দেশটির সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এবার হজ অনুষ্ঠিত হয় ৫ জুন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট ছিল ২৯ এপ্রিল আর হজযাত্রার শেষ ফ্লাইট ছিল ৩১ মে। এ সময়ের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মোট ২১৯টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১১ জুন)  গাজার চিকিৎসা সূত্র সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এই তথ্য জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ক্ষুধার্ত ত্রাণ প্রত্যাশীরাও রয়েছেন বলে তারা জানান। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দুর্ভিক্ষ পুরো গাজার জনগণকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার আবারও গাজার নেটজারিম করিডোর এলাকায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে আসা সাধারণ জনগণের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে ১২ বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ খালিল আল-আথামনেহ। এছাড়াও, আহত হয়েছেন আরও ২০০ জনের বেশি।

ঘটনাস্থলটি ছিল বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র, যা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে।

গাজা সরকারের পক্ষ থেকে এসব ত্রাণকেন্দ্রকে ‘মানব হত্যা কেন্দ্র’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ২৭ মে থেকে এই সংস্থা কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১,৫০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মিডিয়া অফিস।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গাজার মিডিয়া অফিস অভিযোগ করেছে, জিএইচএফ একটি ‘মরণফাঁদ’ হয়ে উঠেছে—যেখানে ত্রাণের ছদ্মবেশে ক্ষুধার্ত সাধারণ মানুষকে ডেকে নিয়ে হত্যার শিকার করা হচ্ছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে কারফিউ জারি: অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে দেশজুড়ে শুরু হওয়া ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে কারফিউ জারি করা হয়েছে। মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ কার্যকর হবে এবং সম্ভবত এটি আরও কয়েকদিন চলবে।

লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের প্রধান জিম ম্যাকডোনেল তথ্য দিয়েছেন যে, গত চার দিনে শহর থেকে কমপক্ষে ৩৭৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মঙ্গলবারই প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। মেয়র আরও জানান, চার দিনের এই বিক্ষোভে ২৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিমালার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন আর শুধু ক্যালিফোর্নিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। সিএনএন এবং বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ চতুর্থ দিনে প্রবেশ করার পাশাপাশি বোস্টন, হিউস্টন এবং ফিলাডেলফিয়াসহ দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শহরেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত রবিবার (৮ জুন) লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত সৈন্যদের প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা ফেডারেল ভবনের আশপাশে অবস্থান নেওয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভ চলাকালে কংক্রিট ও বোতল ছোড়ার অভিযোগ এনে পুলিশ বেশ কয়েকটি সমাবেশকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আলফাবেটের ওয়েমো কোম্পানির কয়েকটি স্বচালিত গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সহিংসতার মাত্রা নির্দেশ করে।

লন্ডনে ড. ইউনূস-তারেক বৈঠক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে পারে: মির্জা ফখরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই বৈঠককে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ‘নতুন দিগন্তের’ সূচনা হিসেবে দেখছেন।

মঙ্গলবার(১০ জুন ) ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মির্জা ফখরুল এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৩ জুন) সকালে লন্ডনে ড. ইউনূস যে হোটেলে উঠেছেন সেখানেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ড. ইউনূস নিজেই তারেক রহমানকে এই বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করছি যে, বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এই সাক্ষাৎ।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, “সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।”

বিএনপি মহাসচিব এই বৈঠককে একটি “বড় ইভেন্ট, মেজর পলিটিক্যাল ইভেন্ট” হিসেবে উল্লেখ করে আরও বলেন, “এই সাক্ষাৎ হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে, নতুন ডাইমেনশন সৃষ্টি হতে পারে।”

তিনি জানান, গত সোমবার (৯ জুন) বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বৈঠকের বিষয়টি আলোচনা হয়। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বৈঠকে অংশ নেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী ১৩ জুন স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে বলে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে এই বৈঠককে স্বাগত জানানো হয়েছে।