Home Blog Page 393

জুলাই সনদ প্রনয়ণ করলে নির্বাচনে এনসিপির দ্বিমত নেই: নাহিদ ইসলাম

এই কমিশনের অধীনে এনসিপি নির্বাচনে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (৬ জুন) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমে এ মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। জনমতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে জুলাই সনদ প্রনয়ণ করলে নির্বাচনে এনসিপির কোনো দ্বিমত নেই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি দলের চাপ প্রয়োগের কারণেই প্রধান উপদেষ্টা এই সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। সব ধরনের নির্বাচনী আশঙ্কা বা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য একটা সম্ভাব্য রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারি গাড়িতেই গরু নিয়ে গেলেন ইউএনও

সভায় যোগ দিতে সরকারি গাড়িতেই রাজশাহী এসেছিলেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা। সভা শেষ করে সোজা হাটে গিয়ে তিনি কোরবানির গরু কিনেছেন। তারপর সেই সরকারি গাড়িতেই তুলে নিয়ে গেছেন গরু। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে আমের কেনাবেচার সময় আড়তদারদের বাড়তি ওজন নেওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি সভা ছিল। এ সভায় এসেছিলেন বাগাতিপাড়ার ইউএনও হা-মীম তাবাসসুম প্রভা। তিনি এখন বাগাতিপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনারেরও (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

তাই উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) ডাবল কেবিন পিকআপ নিয়েই তিনি সভায় আসেন। সভা শেষ হয় দুপুরে। এরপর রাজশাহীর সিটিহাটে গিয়ে তিনি কোরবানির জন্য একটি গরু কেনেন। সেই গরু তিনি গাড়ির পেছনের কেবিনে তুলে নেন। আর সামনের কেবিনে বসেন ইউএনও। এভাবে তিনি সরকারি গাড়িতে রাজশাহী থেকে গরু নাটোর নিয়ে যান।

জানতে চাইলে ইউএনও হা-মীম তাবাসসুম প্রভা বলেন, ‘আমার বাগাতিপাড়া উপজেলায় কোনো পশুহাট নেই। আমাকে বাগাতিপাড়াতেই ঈদ করতে হচ্ছে। একটা কোরবানি তো দিতে হবে। আশপাশে খোঁজ নিয়েও আমি গরু পাইনি। তাই মিটিং শেষ করে আসার সময় দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের মাঝারি আকারের একটা গরু রাজশাহী থেকেই কিনে এনেছি।’

সরকারি গাড়িতে গরু ওঠানো ঠিক হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো গাড়িতে অবৈধ কিছু তুলিনি। একটা গরু, গাড়ির পেছনের কেবিনে জায়গা ছিল। তাই তুলে নিয়েছি। আমরা তো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় অনেক কিছুই জব্দ করে গাড়ির ওই জায়গাটাতে তুলে আনি। কিন্তু গরু আনার কারণে নানা কথা শুরু হয়েছে।’

তবে গাড়িতে গরু পরিবহনের কাজটি ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক না, এটা নিন্দনীয়। এটা আমরা আশা করি না। এ বিষয়ে একটু খোঁজখবর নেব। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এমন না করেন।’

জুলাই মাসে ঘোষিত হবে ‘জুলাই সনদ’: প্রধান উপদেষ্টা

আগামী জুলাই মাসে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী জুলাই মাসেই সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে আমরা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারবো বলে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব ও অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা একটি ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তারা আমাকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানায়। আমি বলেছিলাম, দেশের সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ অন্যদের সঙ্গে নিয়ে সকলে মিলে এ ঘোষণাপত্র দেওয়া ভালো হবে। সেই প্রেক্ষিতেই আমরা ‘জুলাই সনদ’-এর প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তাঁর ভাষ্যমতে, এই ‘জুলাই সনদ’ একটি প্রতিশ্রুতি, যেখানে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যে সংস্কার কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্য থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়েছে, তার তালিকা থাকবে। এই সনদে স্বাক্ষর করে রাজনৈতিক দলগুলো জাতির কাছে সেসব বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী আশু করণীয় সংস্কার কাজগুলো আমরা বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাকি অংশের অনেক কাজও আমরা শুরু করে যেতে চাই। আশা করি, নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাকি কাজগুলো বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে।

বেঙ্গালুরুরে নিহত পরিবার ও আহতদের পাশে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স

বিরাট কোহলিদের ১৮ বছরের স্বপ্নপূরণের একদিন না যেতেই হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সাক্ষী হলো পুরো ভারত। আইপিএলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিজয় উদযাপন করতে গিয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় কর্ণাটকের রাজ্য সরকার ও আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি সমালোচনার মুখে পড়েছে।

তবে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। নিহত হওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। সেই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার জন্য ‘আরসিবি কেয়ারস’ নামে একটি ফান্ড গঠনের কথাও জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

গতকাল বেঙ্গালুরুতে চিন্নাস্বোয়ামী স্টেডিয়ামে সমর্থকদের সঙ্গে ট্রফি নিয়ে উদ্‌যাপন করেছেন কোহলিরা। আর তাতে যোগ দিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১১ জন মারা যান। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন পঞ্চাশের অধিক।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে মামলা করল পুলিশ

বিরাট কোহলি দীর্ঘ ১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেলেন ঠিকই। কিন্তু এই শিরোপার আনন্দ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু করবে কী, উল্টো মামলার মুখে পড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

কোহলিদের দল বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মামলা করেছে তাঁর শহরের পুলিশ। নেপথ্যের কারণটাও সবার জানা। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বোয়ামী স্টেডিয়ামে বিজয় উদযাপন করতে গিয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত অর্ধশতাধিক। এই ঘটনায় কর্ণাটকের রাজ্য ক্রিকেট বোর্ড, ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট ও আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।

এই মামলার দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে মন্ত্রী সভায় আলোচনা চলছে। পুলিশ পাঁচটি ধারায় এই মামলা দায়ের করেছে। কর্নাটক সরকার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে সেই তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে আজ বিকেলে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। নিহত হওয়া প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। সেই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার জন্য ‘আরসিবি কেয়ারস’ নামে একটি ফান্ড গঠনের কথাও জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

এবারও হতাশ করলেন মাহফুজুর রহমান, ঈদে শুনাবেন না গান

বেশ কয়েক বছর ধরে ঈদে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের গান মানেই শ্রোতাদের বাড়তি আগ্রহ। ২০১৬ সাল থেকে শুরু, মাঝে করোনা প্রকোপে সব থেমে গেলেও থামেনি তার গান। তবে ছন্দঃপতন ঘটেছে গত রোজার ঈদ থেকে। গান শোনাননি তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও মাহফুজুর রহমান গান শোনাবেন না বলে জানিয়েছে এটিএন বাংলার জনসংযোগ বিভাগ।

তবে তার গায়কী যতটা প্রশংসিত হয়েছে, তার চেয়েও বেশি হয়েছে ট্রলের শিকার। তবু দমে যাননি তিনি, বছরের পর বছর নিজের গানের আয়োজন করেছেন, নিজের চ্যানেলেই প্রচার করেছেন একের পর এক একক সংগীতানুষ্ঠান।

চ্যানেলটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে বলা হয়, এবার ঈদে ড. মাহফুজুর রহমান গান শোনাচ্ছেন না। তবে কী কারণে গান শোনাবেন না মাহফুজুর রহমান তা জানায়নি চ্যানেলটির জনসংযোগ বিভাগ।

গেল বছর কোরবানি ঈদে দুই ভাষায় গান শুনিয়েছিলেন মাহফুজুর রহমান। সে ঈদের দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এটিএন বাংলায় প্রচার করা হয় তার একক সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘আমার চোখের আলো’। পরদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হয় দ্বৈত গানের সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘ওয়াদা করো’। এতে তার সঙ্গে হিন্দি গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন নীলিমা, ভাবনা আহমেদ ও তাহমিনা।

এটিএন বাংলার পাশাপাশি এটিএন নিউজে প্রচার হয় ড. মাহফুজুর রহমানের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘জড়িয়ে আছি তোমায়’। ওই অনুষ্ঠানটিও বাংলা ও হিন্দি গানে সাজানো হয়েছিল।

ছাড়পত্র পেল সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘তাণ্ডব’

আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে ঢাকাই সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘তাণ্ডব’। বুধবার (৪ জুন) সিনেমাটি বিনাকর্তনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। বিষয়টি সামাজিকমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের তাণ্ডব সম্প্রতি সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা পড়েছিল। এরপর বোর্ডের সদস্যরা সিনেমাটি দেখে একটি মাত্র সংশোধনী দেন। স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সতর্কীকরণ বিধি অনুসারে চলচ্চিত্রে ‘ধূমপান / তামাক সেবন মৃত্যু ঘটায়’ সম্বলিত যে বার্তাটি উল্লেখ থাকে, সেটির ফন্ট সাইজ ‘বড়’ করার পরামর্শ দেন তাঁরা। এবার এই সংশোধনীর প্রেক্ষিতে আনকাট ছাড়পত্র পেল সিনেমাটি।

এদিকে, তাণ্ডব দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য কাজী নওশাবা আহমেদ। তিনি বলেন, ‘‘দুই দিন আগে স্ক্রিনিং হয়েছে তাণ্ডব-এর। ভালো হয়েছে ছবিটি। দারুণ মেকিং। এবারের ঈদের বাকি ছবিগুলোও ভালো হয়েছে। ‘ইনসাফ’, ‘নীলচক্র’, ‘টগর’, ‘এশা মার্ডার’ সবগুলোই দেখা হয়েছে। আশা করছি রোজার ঈদের মতো এবারও সবকটা ছবি ভালো চলবে।’’

প্রসঙ্গত, তাণ্ডব-এ শাকিবের নায়িকা হিসেবে রয়েছেন সাবিলা নূর। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে জয়া আহসানকে। এ ছাড়াও অভিনয় করেছেন ডা. এজাজ, রোজী সিদ্দিকি, এফএস নাঈম প্রমুখ। শোনা যাচ্ছে, ক্যামিও চরিত্রে থাকছেন আফরান নিশো ও সিয়াম আহমেদ।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফী। প্রযোজনায় এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড। সহ-প্রযোজনায় রয়েছে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। সহযোগিতা করেছে দীপ্ত টেলিভিশন।

এবছর হজ করলেন ১৬ লাখেরও বেশি মুসলমান

বিশ্বের ১৭১টি দেশ থেকে এ বছর হজ পালন করেছেন ১৬ লাখের বেশি মুসলমান। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) পালিত হয়েছে পবিত্র হজ। তবে হজের আনুষ্ঠানিকতা আরও কয়েক দিন চলছে।

এ বছর হজের জন্য নিবন্ধন করেছেন মোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩০ জন। এর মধ্যে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিবন্ধিত হাজি ছিলেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৪ জন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হাজির সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন। পুরুষ হাজির সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪১ জন। নারী হাজির সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৯ জন।

এই হাজিদের মধ্যে বিমানে সৌদি আরবে গমন করেছেন ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৭ জন। নৌপথে সৌদিতে গেছেন ৫ হাজার ৯৪ জন। মাইক্রো, কার ও এ জাতীয় পরিবহনে হজ করতে গেছেন ৬৬ হাজার ৪৬৫ জন হজযাত্রী।

আজ সৌদি আরবের আরাফায় পালিত হয়েছে হজের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ফরজ উকুফে আরাফা বা আরাফায় অবস্থান। ভোরে মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশ্যে রওয়া দিয়েছিলেন হাজিরা। আরাফায় হজের খুতবা শুনেছেন তারা। সেখানে একত্রে জোহর ও আসর আদায় করছেন। দোয়াটা সময় আমল-ইবাদত ও দোয়ায় কাটিয়েছেন। সূর্যাস্তের পর আরাফা থেকে মুজদালিফায় যাবেন হাজিরা, সেখানে রাতযাপন করবেন।

হজের খুতবায় বছরের পর বছর ধরে নিপীড়িত ফিলিস্তিনি মুসলিমদের মুক্তি ও বিজয় কামনা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়েছে।

এর আগে পবিত্র সকালে থেকে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান নেন লাখ লাখ লাখ হাজি। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠে আরাফাতের ময়দান।

আল-আকসায় হাজারো ফিলিস্তিনির ঈদুল আজহার নামাজ আদায়

পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। আজ শুক্রবার (৬ জুন) সকাল থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল-আকসা মসজিদে সমবেত হন এবং সুশৃঙ্খলভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেন। (খবর রয়টার্সের)

ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে পরিচিত আল-আকসা মসজিদ ফিলিস্তিনিদের জন্য শুধু ধর্মীয় স্থানই নয়, এটি তাদের রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়েরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ঈদুল আজহার দিনে এখানে নামাজ আদায় করা ফিলিস্তিনিদের জন্য ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী আচার।

ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং এরপর পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদুল আজহার মূল আচার পালন করেন।

আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজের এই বিশাল সমাবেশ ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় ঐক্য এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সমাবেশ তাদের দৃঢ় সংকল্প ও ঐতিহ্যের প্রতি অবিচল থাকার বার্তাও বহন করে।

ঈদ উপলক্ষ্যে আন্দোলন শিথিলের ঘোষণা ইশরাকের

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথের দাবিতে চলমান আন্দোলন আপাতত শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এমন ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শপথের ব্যবস্থা না করলে ফের আন্দোলনে নামবে ঢাকাবাসী।

ইশরাক হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে আজ থেকে আন্দোলন শিথিল থাকবে। তবে দাবি আদায় না হলে আবারও আন্দোলন। অনতিবিলম্বে শপথ আয়োজন করা না হলে ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শপথ আয়োজন করা হবে। মেয়রের চেয়ারে কে বসবে তা নির্ধারণ করবেন দক্ষিণের বাসিন্দারা।

এদিকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে আজও সকাল থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল সংস্থাটির কর্মচারীরা। এর সঙ্গে ঢাকাবাসীর ব্যানারে নগরভবনে একত্রিত হয়েছিলেন ইশরাকের অনুসারীরা। তারা মূল ফটক আটকানোর পাশাপাশি ডিএসসিসির সব বিভাগের অফিস গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখে। ফলে আজও বন্ধ ছিল সব সেবা কার্যক্রম। তাদের আন্দোলনের ফলে গেল ১৫ মে থেকে নগর ভবন থেকে দেওয়া সব নাগরিক সেবা বন্ধ।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়। সেসময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গেল ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে।

এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাকে যেন শপথ পড়ানো না হয় সেজন্য গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গত ১৫ মে থেকে আন্দোলনে নামেন ইশরাক সমর্থকরা। তাদের আন্দোলনের কারণে ডিএসসিসি নগর ভবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু আইনি জটিলতার কথা বলে ইশরাকের শপথের আয়োজন থেকে বিরত থাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এরপর এ রিট মামলার ওপর কয়েক দফা শুনানির পর তা খারিজ করে আদেশ দেন হাইকোর্টের বেঞ্চ।