Home Blog Page 395

এনসিপির আর্থিক নীতিমালা ঘোষণা

‘আপনার অনুদান: আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানে দলীয় আর্থিক নীতিমালা ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি দলীয় সদস্যদের চাঁদা, গণচাঁদা, জনগণের দান, কর্পোরেট অনুদানে চলবে। আয়ের জন্য টি-শার্ট, মগ, বই, প্রকাশনা বিক্রি করবে। দলের নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রবাসীরাও অনুদান দিতে পারবেন। donet.ncpbd.org ওয়েবসাইট, ব্যাংক এবং মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে অনুদান দেওয়া যাবে।

১০০ টাকা করে সদস্য ফরম বিক্রি করা হবে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ফরম সারাদেশে পাঠানো হয়েছে। আরও ৫০ হাজার ফরম পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। ফরম বিক্রি এবং সারাদেশের কমিটি সদস্যদের অনুদানে ২ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ তহবিলকে ‘নাগরিক আমানত’ বলছে এনসিপি।

বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে এনসিপি। এতে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান সাইফসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে বিভিন্ন দল গোয়েন্দা সংস্থা, ক্যান্টনমেন্ট, ব্যবসায়ী, বিদেশি শক্তির টাকায় গড়ে উঠেছিল। এনসিপি জনগণকে নিয়ে এগোবে।

আখতার হোসেন বলেন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে আয়-ব্যয় পরিচালনা করা হবে। প্রতি বছর অডিট করে, প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।

এনসিপি কোষাধ্যক্ষ চাঁদা দানের ওয়েবসাইট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক দেখা যাবে কত টাকা অনুদান এসেছে, কোন জেলা থেকে এসেছে। চাঁদাদাতাকে ডিজিটাল রশিদ দেওয়া হবে। পাঁচ হাজার টাকার বেশি অনুদান দেওয়া দাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। তবে প্রয়োজনে প্রকাশ করা যাবে।

এনসিপির নীতিমালায় বলা হয়, কালো টাকা, অন্যায় উৎস, বিদেশি সরকারসহ ছয় খাত থেকে অনুদান নেবে না এনসিপি।

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ঈদের সময় বাস যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি ভাড়ার অভিযোগ থাকে, মালিকপক্ষকে জানাবেন বা শ্রমিকপক্ষকে জানাবেন অথবা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন। তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপদেষ্টা জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে। এছাড়াও ডাকাতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সব যাত্রীর ছবি তুলে রাখা হবে বলেও জানান উপদেষ্টা।

টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন কাউন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং যাত্রীদের সাথেও মতবিনিময় করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

১০ দিন ছুটিতেও কক্সবাজারে মেলেনি পর্যটকের সাড়া!

দেশে প্রথমবারের মতো ঈদুল আজহাতে টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটি পেয়েছেন চাকরিজীবীরা। কিন্তু অন্যান্যবারের মতো সেই ছুটি কাটাতে কক্সবাজারে তেমন পর্যটকের ঢল নামছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্ষা মৌসুমের আগেই টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এখনও সমুদ্র শহর কক্সবাজারের হোটেল মোটেল ও কটেজের ৭০ শতাংশ কক্ষ খালি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পর্যটনসেবীরা। এরপরও ঈদের দুই তিনদিন পরে পর্যটক বাড়তে পারে এমন আশায় বুক বেঁধে কক্সবাজারকে প্রস্তুত করেছেন প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও পর্যটনসেবীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, কক্সবাজার শহরে পর্যটকের রাত্রিযাপনের জন্য ছয়’শর কাছাকাছি হোটেল মোটেল ও কটেজ এবং ফ্লাট রয়েছে। ঈদুল আজহাতে আগত পর্যটকদের বরণে এসব হোটেল মোটেল নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। তবে এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যটকের সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের হোটেল মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বর্ষা মৌসুম হওয়ায় অন্যান্যবারের চেয়ে এবারের ঈদের ছুটিতে এখনও পর্যন্ত আশানুরূপ পর্যটকের সাড়া মেলেনি। আমাদের সমিতির আওতাভুক্ত হোটেল মোটেলের এখনও ৩০ শতাংশ কক্ষ বরাদ্দ হয়েছে।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভ্রমণকে আনন্দমুখর করতে প্রতিবারের মতো এবারও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের সহকারী পুলিশ সুপার নিত্যানন্দ দাশ বলেন, এবারের ঈদে কক্সবাজারের তিন লাখের মতো পর্যটকের আগমন ঘটবে। আমরা তাদের ভ্রমণকে আনন্দমুখর করতে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষণের পাশপাশি সৈকতের প্রতিটি গোলঘরে পুলিশ অবস্থান করবে। একদিকে মোবাইল টিম অন্যদিকে সাদা পোশাকে পুলিশ সমুদ্র সৈকতে ঘুরবেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি বলেন, কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অতিরিক্ত ভাড়া না নেয় এবং রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এসবের বাস্তবায়ন করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

আক্ষেপ ঘুচিয়ে আইপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন কোহলির আরসিবি

দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) শিরোপা জিতলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)।বুধবার(৪ জুন) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এই শিরোপা নিজেদের করে নিলো বিরাট কোহলির দল। এর আগে তিনবার ফাইনালে উঠলেও শিরোপা অধরাই ছিল তাদের।

ফাইনালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯০ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে কোহলির ব্যাট থেকে, যা তিনি খেলেন ৩৫ বলে। এছাড়া, মায়াঙ্ক আগরওয়াল ১৮ বলে ২৪, রজত পাটিদার ১৬ বলে ২৬, লিয়াম লিভিংস্টোন ১৫ বলে ২৫ (২ ছক্কা) এবং জিতেশ শর্মা ১০ বলে ২৪ (২ চার, ২ ছক্কা) রান করেন। রোমারিও শেফার্ড ৯ বলে ১৭ রান যোগ করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাঞ্জাব কিংস ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানে আটকে যায়। দলের টপ অর্ডারের ব্যাটাররা শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ওপেনার প্রিয়াংশু আরিয়া ১৯ বলে ২৪ এবং প্রভসিমরান সিং ২২ বলে ২৬ রান করে আউট হন। তিনে নেমে জস ইংলিশ ২৩ বলে ৩৯ রান করেন।

পাঞ্জাবের পক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান শশাঙ্ক সিং। তিনি ৩১ বলে ৬১ রানের এক অসাধারণ অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ছয়টি ছক্কা ও তিনটি চারের মার। তবে নামান ওধেরার ১৮ বলে মাত্র ১৫ রানের ধীরগতির ইনিংস পাঞ্জাবকে বিপদে ফেলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।

ক্রিকেটের সম্ভাব্য সব শিরোপাই জিতেছেন বিরাট কোহলি, কেবল আইপিএল শিরোপা ছাড়া। অবশেষে সেই অপূর্ণতাও ঘুচলো। ১৮ বছর ধরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলা এই তারকা এবার শিরোপার স্বাদ পেলেন। শিরোপা জয়ের এই বিশেষ মুহূর্তে আরসিবির সাবেক তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্সও উপস্থিত ছিলেন।

যে ১০ আমল করলে হজের সওয়াব পাবেন

হজ মানুষকে আত্মিক প্রশান্তি দেয়। সরাসরি আল্লাহর ঘর দেখার মাধ্যমে বান্দা রবের আরও নিকটবর্তী হয়। কিছু কিছু আমল আছে যা মানুষকে হাজিদের হজের সমান সওয়াব পাওয়ার সৌভাগ্য এনে দেয়।

এমন কিছু আমল তুলে ধরা হলো—

১. ফজরের পর ইশরাক পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করে এবং নামাজের স্থানে বসে থেকে আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকে, সূর্য ওঠার পর দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তার জন্য পূর্ণ হজ ও ওমরার সাওয়াব লেখা হয়। (তাবারানি, আত-তারগিব)

তিনি তিনবার ‘পূর্ণ’ শব্দটি উচ্চারণ করে গুরুত্ব বুঝিয়েছেন।

২. ধর্মীয় ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা।

নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শুধু ভালো কিছু শিখতে বা শেখাতে মসজিদে যায়, তার জন্য পূর্ণ হজের সওয়াব রয়েছে।

৩. জামাতে নামাজ আদায় করা।

নবী (সা.) বলেন, আল্লাহ কি তোমাদের জন্য ইশার জামাতের নামাজকে হজের সমান এবং ফজরের জামাতকে ওমরার সমান করে দেননি? (মুসলিম)

৪. জুমার নামাজে অংশগ্রহণ।

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহ.) বলেন, আমার কাছে জুমার নামাজ আদায় করা নফল হজের চেয়ে অধিক প্রিয়।

৫. ঈদের নামাজ আদায় করা।

একজন সাহাবি বলেছেন, ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা ওমরার সমান এবং ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হজের সমান।

৬. কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করা।

হাসান বসরি (রহ.) বলেন, তোমার কোনো ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করতে যাওয়া একাধিক হজ করার চেয়েও উত্তম।

৭. পিতামাতার আনুগত্য।

নবী (সা.) এক সাহাবিকে বলেন, তোমার মা-বাবার সেবা করো, তাহলে তুমি হজ, ওমরা ও আল্লাহর পথে জিহাদের সাওয়াব লাভ করবে।

৮. জিকির (আল্লাহর স্মরণ) করা

এক সাহাবির সূত্রে বর্ণিত, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ পড়ে, সে যেন ১০০ বার হজ করল!

৯. হারাম কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

সালাফদের (পূর্বসূরী আলেম) কেউ কেউ বলেছেন, একটুকরো গুনাহ থেকে বিরত থাকা ৫০০ নফল হজের চেয়েও উত্তম।

১০. জিলহজের প্রথম ১০ দিনে যেকোনো ভালো কাজ করা।

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের প্রতিটি নেক কাজ অনেক বড় সওয়াব বয়ে আনে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই নেক আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন এবং প্রকৃত হজ বারবার করার সৌভাগ্য দান করুন।

বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের পেছনে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়’

আগামী বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় কাটছাঁট করে ঘাটতি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হলেও সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘বিশেষ সুবিধা’ নাম দিয়ে বরাদ্দ রেখেছে অন্তবর্তী সরকার। অর্থনীতি যখন ‘চাপে’ রয়েছে তখন এই ব্যয়কে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলছেন অর্থনীতিবদরা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬২ শতাংশের সমান।

সোমবার বেলা ৩টায় আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। চলতি অর্থবছরের চেয়ে যা ৭ হাজার কোটি টাকা কম।

তবে প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৭ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা) চেয়ে ৬.১৮ শতাংশ বেশি। টাকার ওই অংক বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১২.৬৫ শতাংশের সমান।

বিদায়ী অর্থবছরে বিগত সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর দেওয়া বাজেটের আকার ছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের ১১.৫৬ শতাংশ বেশি এবং জিডিপির ১৪.২৪ শতাংশের সমান।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় কমানো হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা।

উন্নয়ন ব্যয় কামানোর মধ্যে শুধু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতেই চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়েছে কমেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আর সংশোধিত এডিপির চেয়ে কমেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

বিদায়ী অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। সংশোধন করে তা ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

উন্নয়ন ব্যয় বেশি হওয়া মানেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ে। বাজেটে তা কমিয়ে আনায় কর্মসংস্থান বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় প্রভাব পড়ার শঙ্কা থেকে যায়।

তবে উন্নয়ন ব্যয়ে দুর্নীতি, অনিয়মগুলো সামাল দিতে পারলে কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়বে না মন্তব্য করে সাইফুদ্দিন খান বলেন, “যেকোনোভাবেই হোক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। অনিয়ম না হলে, উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে সমস্যা হবে না।”

মোটা দাগে বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যয় হয় পরিচালন খাতে। আসছে অর্থবছরের বাজেটে তা ২৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না দিলেও তাদের জন্য ‘বিশেষ সুবিধার’ পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, “২০১৫ সালের পর কোনো বেতন কাঠামো না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধার পরিমাণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করছি।”

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “এবারের বাজেটে পরিচালন ব্যয়ে উত্তরাধিকারের প্রভাবটাই সবচেয়ে বেশ, এই ব্যয়টা প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া ব্যয় খাতে কোনো চমক দেখা যায়নি।”

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পেছনে ব্যয় বৃদ্ধির সমালোচনা করেছেন সাইফুদ্দিন খানও। অর্থনীতি ‘স্বাভাবিক ছন্দে’ না ফেরায় কিছুটা ‘সংকট’ তো রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সরকার পরিচালন ব্যয় কমাতে পারতো। এই সময়ে পরিচালন ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল না। দুর্ভোগে তো সবাই আছে, শুধু সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো আরো পরে করা যেত।”

ঈদের ছুটিতেও ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ মোট ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। বুধবার ( ৪ জুন)  জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল আজহার আগের ৭ দিন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরের ৫ দিন অর্থাৎ মোট ১৩ দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক খোলা রাখতে হবে।

এই নির্দেশনার ফলে ঈদে ঘরমুখো এবং ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যানবাহন চলাচলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪

ভারতের উত্তর-পূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। এর মধ্যে কেবল আসামেই ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব রাজ্যে বন্যা ও ভারী বৃষ্টির কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য আসাম, যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ১৭ জনের।

অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে অরুণাচল প্রদেশে ১২ জন, মেঘালয়ে ৬ জন, মিজোরামে ৫ জন, ত্রিপুরায় ২ জন এবং নাগাল্যান্ড ও মণিপুরে ১ জন করে মারা গেছেন। সাত রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগই পানিতে ডুবে, ভূমিধস, পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ঘটনা ও অন্যান্য কারণে মারা গেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসাম ও সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী এবং মণিপুরের রাজ্যপালের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আসামে অন্তত ২১টি জেলায় ৬ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ব্রহ্মপুত্রসহ কয়েকটি প্রধান নদী এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অরুণাচল প্রদেশে অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিজোরামে ভূমিধস ও বন্যায় ৫ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ৩ জন মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থী। গত ১০ দিনে রাজ্যটিতে ৫০০টিরও বেশি ভূমিধস রেকর্ড করা হয়েছে।

ত্রিপুরা, মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও এখনও বহু মানুষ বিপদে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সিরিয়ার অস্ত্রভাণ্ডারে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি অস্ত্রভাণ্ডারে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সিরিয়া থেকে ইসরায়েলের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পর এই হামলা চালানো হয়। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে “সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন” এবং “অঞ্চলকে অস্থির করার চেষ্টা” বলে অভিহিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার (৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সিরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের এই হামলায় “ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি” হয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েলের ভূখণ্ডে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর জন্য সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে দায়ী করা হবে। গত বছরের ডিসেম্বরে আহমেদ আল-শারা বিদ্রোহী বাহিনী নিয়ে বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই ইসরায়েল সিরিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করেছে, মঙ্গলবার সিরিয়া থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের খোলা জায়গায় আছড়ে পড়েছিল, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সিরিয়ার সরকারি বার্তায় বলা হয়েছে, “এই হামলা আমাদের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন এবং এটি গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সিরিয়া কখনও এই অঞ্চলের জন্য হুমকি ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না।”

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, “দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা ও দারা অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ওই এলাকা।” এই এলাকাগুলো ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমির সন্নিকটে অবস্থিত। ইসরায়েল ১৯৭৬ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান দখল করে এবং সেখানে বসতি সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত।

গত মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দামেস্কে সিরিয়ার প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসের কাছে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেসময় তিনি বলেন, “এই হামলার মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি, দামেস্কের দক্ষিণে কোনও বাহিনী মোতায়েন হতে দেওয়া হবে না।” এই বক্তব্যের পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওই হামলাকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে আয় বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ দেখিনি: নাহিদ ইসলাম

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিক্রিয়ায় দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া যে নতুন বাংলাদেশ, যেখানে আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল ধনী-গরীবের আয়ের বৈষম্য কমে আসবে। কিন্তু এই বাজেটে আমরা সেই আয় বৈষম্য কমানোর কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দেয়, তাদের করের আওতায় আনার তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এর ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ অব্যাহত থাকবে। কিছু নিত্যপণ্যে কর কমানো হলেও নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর যে চাপ, তা গুণগতভাবে কমবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, বাংলাদেশের অর্থনীতি তখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ছিল। সবার প্রত্যাশা ছিল এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার একটা রূপান্তর ঘটবে। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার একটা ভিশন, অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটা নীতি এই বাজেটে মধ্যে দিয়ে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাজেটে আগের অর্থনৈতিক কাঠামোরই ছাপ দেখা যাচ্ছে।

বেকার সমস্যা থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, কর্মসংস্থানের আন্দোলন থেকেই কিন্তু এই গণ-অভ্যুত্থানের সূত্রপাত। ফলে তরুণদের ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা ছিল বেকার সমস্যার সমাধান ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ থাকবে। কিন্তু সেটি বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। গত এক বছরে ২৬ লাখ বেকার বেড়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য যে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, সেই নীতি গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এই বাজেট বা অর্থনৈতিক নীতি থেকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হবে অথবা বেকার সমস্যা কার্যকরভাবে নিরসন হবে-এমনটি মনে হচ্ছে না।